গাংনীতে গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপকারী ধর্ষণ মামলার আসামী আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে কু-প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপকারী ও একটি ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামী ইয়াকুব আলী কাজলকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত কাজল গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের গাঁড়াডোব গ্রামের জালাল উদ্দীন ওরফে হাবুর ছেলে ও একটি ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামী। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যেরাতে গাংনী থানা পুলিশের একটিদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের ধলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে কাজলকে আটক করে। এসিড নিক্ষেপের শিকার ওই গৃহবধূ  সাংবাদিকদের  জানান,মাসখানেক ধরে কাজল আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আমি তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে এসিড মেরেছে। গাংনী থানা সূত্র জানায়,গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ধলা গ্রামের এক গৃহবধূ পুকুর থেকে গোসল করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কাজল তাকে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে গৃহবধূর পরিবার পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাজলকে ধলা গ্রাম থেকে আটক করে। এদিকে এসিড নিক্ষেপের শিকার গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) জানান,ইয়াকুব আলী কাজল কয়েক মাস আগে গাঁড়াডোব পোড়াপাড়ার এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এ পর্যন্ত আত্মগোপনে ছিল। এরপর ধলা গ্রামের এক নারীকে কু-প্রস্তাব দেয়। তার কু-প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপ করে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। এসিড নিক্ষেপ করার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। তাকে গতকাল শুক্রবার মেহেরপুর আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকা অফিস ॥ ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুরে ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। “পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোয়াজ্জেম হোসেন আপাতত বেতন-ভাতা ও পদ অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। শুধু নিয়ম অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।” নুসরাত হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত  শেষে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্তত চারজনের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। ডিআইজি এস এম রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের ওই তদন্ত দল গত ৩০ এপ্রিল তাদের প্রতিবেদন দেন। সেখানে ওসি মোয়াজ্জেম ছাড়াও ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার এবং সোনাগাজী থানার উপপরিদর্শক মো. ইকবালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সোহেল রানা বলেন, “সাব ইন্সপেক্টর বা তার নিচের পদের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জেলা পর্যায়ে থেকে। আর এএসপি বা তার উপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।” পুলিশ সদরদপ্তরে একজন কর্মকর্তা বলেন, “ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে। এর অংশ হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।” সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতের গায়ে। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয় সেখানে। কিন্তু অনেকেই এ ঘটনায় সোনাগাজীর পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতি  এবং আসামি ধরতে গড়িমসির অভিযোগ করেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশ ছিল, তারপরও এ রকম ঘটনা কীভাবে ঘটল, দোষীরা কীভাবে পালিয়ে গেল এবং ওই ঘটনার পর আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের কেন তিন দিন সময় লাগল- সেই প্রশ্নও ওঠে। এই পরিস্থিতিতে ১০ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার দায়িত্ব সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইয়ের হাতে। ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। তার ভাইয়ের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি রূপান্তরিত হয় হত্যা মামলায়। তখন অভিযোগ ওঠে, ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাতের মৃত্যুর বিষয়টি ‘আত্মহত্যা’ বলার চেষ্টা করেন। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ওই ঘটনা সারা দেশে ক্ষোভের সৃষ্টি করলেও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর ঘটনার তদন্তে যাথাযথ গুরুত্ব দেননি বলেও অভিযোগ ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে অবহেলার পাশাপাশি সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে ১৩ এপ্রিল পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। ওই তদন্ত দলের সদস্যরা ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল দুই দফর ফেনী গিয়ে তদন্ত করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, দুইজন শিক্ষার্থী এবং ৪/৫ জন সাংবাদিকদেরও বক্তব্য শোনেন তারা। এদিকে নুসরাতের মৃত্যুর পরদিন ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানায় ওসির সামনে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে  যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে অঝোরে কাঁদছেন ওই তরুণী। নিজের মুখ তিনি দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন।সে সময় ওসি মোয়াজ্জেম ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে’। ওই ভিডিও ধারণ এবং তা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন সৈয়দ সায়েদুল হক নামের এক আইনজীবী। ওই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পুলিশকে ২৭ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছে বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল।

সালাম অটো রাইচ ও দাদা অটো রাইচ মিলের অর্থায়নে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

গতকাল সকালে কুষ্টিয়া সদর থানার বটতৈল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের খাজানগর মাদ্রাসাপাড়া সুচনা সংঘের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। খাজানগর সুচনা সংঘের চেয়ারম্রান আলি আযম এর পরিচালনায় আস গ্রহনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানে প্রথমে কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন মিয়া হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাজানগর সুচনা সংঘের সভাপতি মোঃ আবু বক্কার সিদ্দীক রাসেল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালাম অটো রাইচ মিলের চেয়ারম্যান মোঃ সালাম প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাদা অটো রাইচ মিলের সত্বাধিকারী এবং কুষ্টিয়া জেলা চাইল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড এর মেম্বর আবুল কালাম আজাদ, সাবেক মেম্বর আক্কাস আলী মেম্বার, শাহজাহান কারী, মিঞা হোসাইন, মোফাজ্জেল হোসেন মিয়াজী, রমিজ উদ্দিন শেখসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ অনুুষ্ঠানে হত দরিদ্র মানুষের মাঝে সুচনা সংঘের পক্ষ হতে ছোলা ২ কেজি, চাইল ১০ কেজী, খেজুর ১ কেজি, মুড়ী ১ কেজী, চিনি ২ কেজী, আলু ৩ কেজি, পিয়াজ ২ কেজী, তেল ১ কেজী এবং চিড়া ১ কেজী সর্বমোট ২৩ কেজি ওজনের খাবার সামগ্রী ২৫০ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন সংগঠনের পরিচালন ওয়াসিম, নাজমুল হোসাইন, শামীম, ছাইদুর, শরীফ দর্জি, সোহেল এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমসহ সংগঠনের সকল সদস্যবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

‘স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদলে’ কক্সবাজারে হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদলে তার একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মুজিববর্ষ উদযাপনে বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সভায় মন্ত্রী এ তথ্য দেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে বছরব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে সকল মন্ত্রণালয়, সংস্থা এবং দেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। “মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশি¬ষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন করবে। সরকার এ উপলক্ষে স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদলে জাতির পিতার প্রতিকৃতি তৈরি করবে।” মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গবন্ধুর ওই প্রতিকৃতি তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হবে। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাশে বঙ্গন্ধুর বিশালাকার ওই প্রতিকৃতি স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তারা। মন্ত্রী মোজাম্মেল বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে মিত্র বাহিনী সদস্যদের ৫০০ সন্তানের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাদের বাছাই করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় হাই কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। “পাকিস্তানি শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর কবল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতার ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না। জাতির পিতার জন্ম শতবর্ষ উদযাপন হবে জাতীয় জীবনের এক অনন্য সুন্দর উপলক্ষ।” এর অংশ হিসেবে এযাবৎকালের ‘সবচেয়ে বড়’ মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের আয়োজন করা হবে জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “বছরব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাতীয় দিবসগুলো উদযাপনে জাতির পিতার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মুজিব মেলার আয়োজন করা হবে।” মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এস এম আরিফুর রহমান ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা সভায় ব্ক্তব্য দেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১০২ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে ৬১ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি করে সরকার। এছাড়া জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে আটটি বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিও করা হয়েছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। আসছে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ২০২০ ও ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর এক অনুষ্ঠানে বলেন, এ আয়োজনে সকল বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। শিশু, তরুণ, যুবক- সকলের জন্য আলাদা কর্মসূচি থাকবে। আয়োজনের বিস্তৃতি থাকবে দেশের সকল ওয়ার্ড পর্যন্ত। সেদিন তিনি বলেন, “জাতির পিতা রক্ত দিয়ে ঋণ শোধ করে গেছেন। তার রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।”

মাশরাফিকে নিয়ে চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয় – স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নড়াইলের এমপি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক।” সংসদ সদস্য মাশরাফি গত ২৫ এপ্রিল আকস্মিকভাবে তার নির্বাচনী এলাকায় নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। হাজিরা খাতায় তিন চিকিৎসকের স্বাক্ষর না দেখে তিনি দুজন চিকিৎসককে ফোন করে কথা বলেন। ওই কথোপকথনে মাশরাফির বক্তব্যের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক চিকিৎসক ফেইসবুকে মাশরাফির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ফেইসবুকে কটূক্তি করা ছয় চিকিৎসককে কারণ দর্শাও নোটিস দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সে প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, মাশরাফিকে এদেশের মানুষ একজন ‘হিরো’, একজন দেশপ্রেমিক যোদ্ধা বলে মনে করে। “শুধু একজন ভালো ক্রিকেটার হিসেবে না। মাশরাফির ভিতরে যে চেতনা, সাতবার অস্ত্রোপচারের পরেও সে যেভাবে অসম্ভব শারীরিক কষ্ট সহ্য করে খেলে…।” “এই যে ধৈর্য্য, সহ্য, দেশপ্রেম- সবকিছু মিলিয়ে মাশরাফি। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নড়াইল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। বিপুল ভোটে জিতেছেন। দেশের যে কোনো জায়গায় দাঁড়ালে নির্বাচিত হবেন।” স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সভাপতি থাকেন সংসদ সদস্য। এলাকার হাসপাতালে সমস্যা থাকলে সেটা দেখভালের দায়িত্বও এমপির। “উনি সভাপতি হিসেবে গিয়েছেন, রোগীদের কষ্টের কথা শুনেছেন। ডাক্তার সাহেবদেরকে ওই মুহূর্তে পান নাই। যাকে পান নাই নম্বর নিয়েছেন, কথা বলেছেন। কিছু কথার মধ্যে হয়ত একটু ক্ষোভ প্রকাশ হয়েছে। হতে পারে।” যারা ‘অতি উৎসাহী হয়ে’ ওই ঘটনা ভিডিও করেছেন এবং পরে আবার ফেইসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের ওই কাজ কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত ছিল না বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ডাক্তার সাহেবরা এ বিষয় নিয়ে তাকে (মাশরাফি) খুব বেশি রকম আক্রমণ করা, এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শুধু একজন জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় না, মাননীয় সংসদ সদস্যও বটে। সংবিধানে তার মর্যাদা অনেক।” চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। মানুষের সেবা করা আমাদের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য। হ্যাঁ মাশরাফি ভাই বলেছেÑ আমাকে ওইভাবে বলতে হবে কেন? “মাশরাফির সাথে তো আমাদের ডাক্তারদের কোনো ঝগড়া নাই, বিবাদ নাই। মাশরাফির মত মানুষ যদি একটা কথা বলেই ফেলে, যদি আমার কাছে ঠিক মনে নাও হয়। আমি কোনোদিনই ওইভাবে এটার প্রতিবাদ করতাম না।” ডা. মুরাদ হাসান বলেন, “আমরা সেবা করব মানুষের। সেবা করতে গিয়ে যদি আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করি, অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলি- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটার জন্য তাদের শোকজ করা হয়েছে। সমাধান আমরা বের করব। তাদের সতর্ক হতে হবে, সংশোধন হতে হবে। সম্মানিত কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে এভাবে কেন লিখবে? তাদের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। একজন চিকিৎসক সবচেয়ে মেধাবী। তাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। তারা আরো অনেক ধৈর্য্যশীল সহ্যশীল হবেন- এটাই আমাদের আশা।” চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “জরুরি বিভাগে ২টা পর্যন্ত ডাক্তাররা বেশি থাকে। এরপর ডাক্তারদের সংখ্যা কমে যায়। সারাদেশের সকল হাসপাতালে সকাল ৮টা-৯টা থেকে সকল ডাক্তাররা দুইটা-আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। এরপর শিফটিং। এটা অনেকেই বোঝেন না। প্রত্যেক ডাক্তার যদি ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করেন তাহলে তো তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব না।” মুরাদ হাসান বলেন, দেশে যে ডাক্তারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম, তা তিনিও স্বীকার করেন। ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতারে যতজন ডাক্তার থাকা উচিৎ, বর্তমানে তা নেই। “অতি সম্প্রতি চার হাজার ৭৯২ জন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উপজেলা, জেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী পদায়ন করব। আশা করি সংকট অনেকটাই কমে আসবে।” জেনারেল হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই হাসপাতালের আধুনিকায়ন কিভাবে করা যায়; অবকাঠামো, জনবল সংকট কীভাবে নিরসন করতে পারি- এটা এখন মূল লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ।” অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার নাথ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কবি গুরুর জন্ম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কুঠিবাড়ীতে কুষ্টিয়া মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের অংশ গ্রহণ

নিজ সংবাদ ॥ ২৫ বৈশাখ শিলাইহদের কুঠিবাড়ীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮তম জন্ম উৎসব উপলক্ষে হয়ে গেল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন কুষ্টিয়া মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তি যুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক-সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বহনকারী গাড়ীবহর কবি গুরুর শিলাইদহের কুঠি বাড়ীতে গমন করে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, প্রধান অতিথি দৌলতপুর-১ আসনের সাংসদ আঃকঃম সরওয়ার জাহান বাদশা, বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-২ ওয়াহিদা মুসাররত অনীতা, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.কে.এম জহিরুল ইসলাম, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খাঁন সহ নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ সময় সাংগঠনিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মকবুল হোসেন, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল মাসুদ, সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লিয়াকত আলী নীলা, সহকারী কমান্ডার শেখ আবু হানিফ, কুমারখালীর সাবেক উপজেলা কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু, জাহিদ হোসেন, সোলাইমান হোসেন, শমছের আলী, মকবুল হোসেন, জিল্লুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, আহসান হাবিব দুলাল, যুদ্ধাহত নিজাম শেখ, উম্মত আলী, ইয়াছিন আলী, এজাজ আহমেদ লিন্টু, সিরাজুল ইসলাম, আঃ হাকিম, ডাক্তার মতিয়ার রহমান, সাইদুল ইসলাম সিরাজুল, আতাহার হোসেন, আব্দুল মজিদ, রুস্তম আলী, সালামত আলী, অঅবুল হোসেন সহ প্রায়একশ মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ, শিক্ষক বরখাস্ত

ঢাকা অফিস ॥ নাটোর সদর উপজেলার চন্দ্রকোলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক আবদুল জলিলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের স্ত্রী অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্ত প্রতিবেদন ও শিক্ষককে কারণ দর্শানোর ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। আবদুল জলিল চন্দ্রকোলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ মে কলেজের গভর্নিং বডির সভা হয়। সভায় তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগ ওঠা শিক্ষকের জবাব পর্যালোচনা করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাই কলেজের শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক আবদুল জলিলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মোছা. মৌসুমী পারভীন ৭ মে তাঁকে বরখাস্তের চিঠি পাঠান। গত বৃহস্পতিবার তিনি চিঠি হাতে পান। অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল জলিল তাঁর বিরুদ্ধে আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ। তাই ১২ এপ্রিল থেকে তিনি ছুটিতে আছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ না করায় ষড়যন্ত্র করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার শিক্ষক আবদুল জলিলকে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাঁর কারণে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে, শৃঙ্খলা নষ্ট হয়েছে। তাই নিয়মমাফিক তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

দৌলতপুরে জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ নুর কুতুবুল আলমের ইন্তেকাল

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও কুষ্টিয়া জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নুর কুতুবুল আলম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি..ওয়া রাজেউন)। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার কাজীহাটা গ্রামের নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। গতকাল শুক্রবার বাদ আসর দু’দফা জানাযা শেষে দৌলতপুরের মথুরাপুর হাজী মুজাম্মেল হক দাখিল মাদ্রাসায় বাবার কবরে পাশে নুর কুতুবুল আলমকে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাযা নামাজে ইমামতি করেন জেলা জামায়াতে আমির খন্দকার আলী মহসিন। এসময় প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার, মথুরাপুর পিপুল্স কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু সাঈদ মো. আজমল হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা জামায়াতের আমির এবং স্থানীয় মুসল্লিগন উপস্থিত ছিলেন। দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও কুষ্টিয়া জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নুর কুতুবুল আলমের মৃত্যুতে জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আলী মহসিন ও দৌলতপুর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা শোক প্রকাশ করেছেন। নুর কুতুবুল আলম মথুরাপুর পিপুল্স কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন।

সংগ্রাম করতে হবে, হতাশ হলে চলবে না – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপির তরুণ-যুবাদের কঠোর সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। আমাদেরকে প্রতিটি সুযোগ নিতে হবে, আমাদেরকে পথ বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে- এটা সহজ কাজ নয়।” দলীয় প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার তিন যুগপূর্তি উপলক্ষে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন হয়। খালেদা জিয়ার বিভিন্ন সময়ের শতাধিক আলোকচিত্র সেখানে স্থান পায়। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্নভাবে ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টি’ করা হচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, “আমি বলতে চাই, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করছেন। আর তার নির্দেশে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক রাজনীতির দিকে যাব।”

তরুণদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমি সুস্থ নই। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমাদের সময় তো শেষ হয়ে আসছে। এখন যারা সামনে আসবেন, তাদের শুধু রাজনীতি নয়, এই বাংলাদেশকে বাঁচাতে কাজ করতে হবে। এখানে যারা আছি, আমরা দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছি। তাই আমাদের বয়স হয়েছে এবং আমরা বৃদ্ধ হয়েছি। আর এখন আপনাদের সময়। আপনারা এগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।” বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে একটি ‘অকার্যকর রাষ্ট্রে’ পরিণত করার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকবে কি থাকবে না, বাংলাদেশ নিজস্ব মর্যাদায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কি পারবে না এবং বাংলাদেশ নিজের পায়ের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কি পারবে না- আজকে সেই প্রশ্ন এসে দাঁড়িয়েছে।” নবীন কর্মীদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন ফখরুল। “বেগম জিয়া যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন বাংলাদেশ একটা স্বৈরাচার শাসকের কবলে পড়েছিল। শুধু স্বৈরাচার শাসনই ছিল না, অত্যন্ত সুচারুভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বএবং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করবার নতুন একটা প্রক্রিয়া ও প্রচেষ্টা ছিল। “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পরে স্বৈরাচার এরশাদের রাজনীতিতে আগমন, এটা একই সূত্রে গাঁথা ছিল। সুতরাং এটাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার উপায় নেই।” তখনও বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত’ ছিল মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে সেই দলটিকে বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়ে এসেছিলেন। এটা তার জীবনে ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা বড় অধ্যায়। এদেশে বেগম জিয়াকে বিভিন্নভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তবে আমরা মতে, এশিয়ায় তার মত গণতন্ত্রকামী ত্যাগী নেত্রী খুব কম খুঁজে পাওয়া যাবে।” অনুষ্ঠানে ‘ত্যাগ’ নামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ। সংগঠনের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে ও ছাত্র দলের আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।

মেধা‘র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

নিজ সংবাদ॥ মেধা‘র আয়োজনে গতকাল ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহরের মিউনিসিপ্যালিটি মার্কেটে অবস্থিত ফুডজোন চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিল ও আলোচনায় ‘রমজানের তাৎপর্য’ বিষয়ক আলোচনা করেন কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আসাদুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেধা‘র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সালাহউদ্দিন ও সদস্য সচিব শামীম আহমেদসহ মেধা‘র কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য,আজীবন সদস্য,দাতা সদস্য ও বিশিষ্টজনেরা।

পরিবেশ বাঁচাতে আরো ২ বছর বন্ধ মায়া সৈকত

ঢাকা অফিস ॥ অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে নষ্ট হতে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশ বাঁচাতে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত মায়া সৈকত ২০২১ সাল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিকেপ্রিও অভিনীত সিনেমা ‘দ্য বিচ’ এর বেশিরভাগ শ্যুটিং থাইল্যান্ডের ফি ফি লেহ দ্বীপের এই মায়া সৈকতে হয়েছে। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। সেইসঙ্গে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে মায়া সৈকত। গত বছরও গড়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটক মায়া সৈকত ভ্রমণে যেতেন। এত মানুষের চাপে সৈকতের বেশিরভাগ প্রবাল মরে যায়। এ অবস্থায় গত বছরই সাময়িকভাবে মায়া সৈকতে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। সৈকতের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় ওই নিষেধাজ্ঞা আরো দুই বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। গত বছর সৈকত বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানে সমুদ্রে আবারও হাঙরদের সাঁতার কাটতে দেখা যাচ্ছে বলে জানায় বিবিসি। থাই ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাশনাল পার্কের উপদেষ্টা অধ্যাপক থন থামরংনাওয়াসাওয়াত জানুয়ারিতে বিবিসিকে বলেছিলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সৈকতে পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং সৈকত এলাকায় নৌকা চলতে দেওয়া হবে না।”

হাওর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির জন্য ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প – পরিকল্পনামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ হাওর এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সরকার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি টিউবওয়েল দেব, ল্যাট্রিন দেব। হাওর এলাকায় আরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে। হাওর এলাকার যত পুল-কালভার্ট নির্মাণ বাকি রয়েছে, সব আমরা বানিয়ে দেব। বাচ্চাদের স্কুলগুলো আরও সুন্দর করে করব। হাওর এলাকার গরিব মানুষের জন্য আমরা আরও বেশি করে ঘর বানাব।’ গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস এলাকায় যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ বাড়িতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অনেক প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়। আবার কিছু প্রকল্প আছে যেগুলো দেরিতে শেষ হয়। এর কারণও আছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এ রকম হয়, খালি বাংলাদেশে নয়। এসব কারণ আমরা অনেক সময় জানি না। নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না। এর মধ্যে জমি নিয়ে গন্ডগোল অন্যতম। জমির মালিকানা পেতে অনেক সময় লাগে। কোর্ট থেকে যখন সমনের কাগজ আসে, তখনও আমাদের অফিসাররা কাজ করতে পারেন না। এ জন্য সময় লাগে। তবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ প্রকল্প সময়মতোই শেষ হয়। মন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে উন্নয়ন কর্মকান্ডের কাজের গতি আগের তুলনায় অনেক অনেক গুণ বেড়েছে। সামনে কাজের গতি আরও বাড়বে। এ রকম ঘর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও হাজার হাজার তৈরি করে দেবেন।’ শান্তিগঞ্জ এফআইভিডিবি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যার জমি আছে ঘর নেই, তার নিজ জমিতে নির্মিত ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জের রুটিন দায়িত্বরত মোহাম্মদ সফিউল আলম, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী, শিমুলবাক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জিতু। উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৬২টি ঘরের মধ্যে আজ ১৪৫টি পরিবারের মধ্যে বর্ণিত প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৭টি ঘরের কাজ দ্রুতই শেষ করে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ।

দেবিদ্বারে তরুণীকে সিনেমা স্টাইলে গণধর্ষণ, ধর্ষক ইউপি সদস্য আটক

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক তরুণীকে (২০) সিনেমা স্টাইলে পালাক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। ওই ইউপি সদস্য হলো উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নবীরুল ইসলাম নবী (৩০)। সে সূর্যপুর গ্রামের মৃত মো. সামসুল হকের ছেলে। ওই তরুণী শুক্রবার দুপুরে দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় ওই ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তরুণী লিখিত অভিযোগে জানান, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দুপুরে তিনি তার স্বামীকে নিয়ে ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুরের রাস্তা দিয়ে স্বামীর বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার প্রান্তি গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের নেতৃত্বে শামিম, আকাশ, পাখিসহ অজ্ঞাত আরও ৮/৯ জন তাদের গতিরোধ করে। তারা তরুণীর স্বামীর পরিচয় জানতে চায়। তারা দুজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে ইউপি সদস্য নবীরুল তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান। পরে ওই তরুণীর স্বামী বিয়ের কাগজপত্র দেখালে ওই ইউপি সদস্য ওই কাগজপত্র দেখে ভূয়া কাগজপত্র বলে আখ্যায়িত করে এবং বলে ওই কাগজপত্রে হবে না। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে নবীরুলের সঙ্গে থাকা আকাশ নামে এক যুবক ওই তরুণী ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা দিলে তা সমাধান করে দেবে বলে প্রস্তাব করে। পরে ওই তরুণীর স্বামী টাকার ব্যবস্থা করার জন্য স্ত্রীকে ইউপি সদস্য নবীরুলের হেফাজতে রেখে চলে যান। ওইদিন সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে আসেন তরুণীর স্বামী। ২০ হাজার টাকা নেওয়ার পর স্ত্রীকে রেখে স্বামীকে নিজের বাড়ি প্রান্তি গ্রামে চলে যেতে বলেন ওই ইউপি সদস্য। তার হেফাজতে রেখে ওই তরুণীর বাড়ি কুমিল্লার ছোটরায় এলাকায় পৌছে দিবে বলেও জানায় ওই ইউপি সদস্য। পরে স্বামী প্রাণভয়ে তার নিজের বাড়ি চলে গেলে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম শামিম, পাখি, আকাশসহ আরও কিছু অজ্ঞাত যুবকের হাতে ওই তরুণীকে তুলে দেয়। তারা তরুণীকে ওই রাতেই বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ভানী ইউনিয়নের ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আকাশ। ফোনে তরুণীসহ তাদের অবস্থানের জায়গার নাম জানানো হয় ইউপি সদস্য নবীরুলকে। পরে ইউপি সদস্য নবীরুল জঙ্গলে এসে ওই তরুণীকে দুইবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ইউপি সদস্য নবীরুল ভুক্তভোগী তরুণীকে পাখি, আকাশ ও শামীমদের হাতে তুলে দিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে ৭/৮ জন যুবক ওই তরুণীকে পুনরায় পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে ওই তরুণীকে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন, ‘মেম্বারসহ মোট ৯জন ধর্ষণকাজে জড়িত ছিলো। আমি তাদের মুখে একে অপরকে ডাকার নাম শুনে ২/৩ জনের নাম জানতে পেরেছি। বাকিদের নাম বলতে পারবো না।’ ওই তরুণী আরও বলেন, ‘আমি চিৎকার করার চেষ্টা করলেও করতে পারেনি। তারা আমার হাত-মুখ চেপে ধরে রেখেছে। এর আগে আমার স্বামীর অনুপস্থিতেতে আমার হাতে কনডম দিয়ে আমাকে খারাপ মেয়ে বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়।’ এ ব্যাপারে ভানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর জানতে পারলাম। নিশ্চয়ই এখানে কোন চক্রান্ত লুকিয়ে আছে। ওই তরুণী এতদিন কেন কালক্ষেপণ করলেন? সত্যিকারে যদি এ কাজে জড়িতের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।’ এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, ‘ইউপি সদস্য নবীরুলকে আটক করা হয়েছে। এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল রিপোর্টের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের ৭ ফ্লাইট বাতিল

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারের ইয়াংগুন বিমানবন্দরে বুধবার একটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ার পর উড়োজাহাজ সংকটে জটিলতায় পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এ দুর্ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ রুটের সাতটি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তারা। বিমানের জনসংযোগ শাখার জিএম শাকিল মেরাজ গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে একটি উড়োজাহাজ বিকল। আগামী সোমবার পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, সিলেট, যশোর ও রাজশাহী রুটে সাতটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বিজি-০৬০ ফ্লাইটটি বুধবার বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। মিয়ানমারের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে ফ্লাইটটি ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এতে ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কানাডার কোম্পানি বম্বার্ডিয়ারের তৈরি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি। বিমানটিতে আগুন না ধরলেও অবয়ব ভেঙে তিন টুকরো হয়েছে জানিয়ে এভিয়েশন সেইফটি নেটওয়ার্ক বলেছে, ফরোয়ার্ড প্যাসেঞ্জার ডোরের পেছনে এবং রিয়ার সার্ভিস ডোরের ঠিক পেছনে কাঠামো ভেঙে গেছে। উড়োজাহাজের তলাও ফেটে গেছে। ডান পাশের ডানও জোড়া থেকে ভেঙে গেছে। ঈদের সময় অভ্যন্তরীণ রুটে বাড়তি ফ্লাইট চালায় বিমান বাংলাদেশ। তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল, যশোর, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে এবং বোয়িং ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ উড়োজাহাজ দিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট চালানো হয়। কাজেই নতুন করে এমন সংকটে বাড়তি ফ্লাইট পরিচলনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শাকিল মেরাজ বলেন, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটো উড়োজাহাজ ভাড়া আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, আলাফকো এভিয়েশন লিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য দুটি বোয়িং ৭৩৭ এয়ারক্রাফট লিজ নেয়া হচ্ছে। এর একটি শুক্রবারই বিমান বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। ১০ জুন হবে আরেকটি। ‘এ দুটো উড়োজাহাজ দিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও যশোরে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।’ বিমানের জনসংযোগ শাখার জিএম আরও বলেন, তখন এয়ারক্রাফটের সংকট আর থাকবে না, যাত্রীদেরও অসুবিধা হবে না। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের বহরে বর্তমানে ১৩টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০, চারটি ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ-৮। এর মধ্যে একটি বোয়িং ৭৩৭ মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড। আর মিয়ানমারে দুর্ঘটনায় একটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ অকেজো হয়ে গেছে।

তারাবিহ : স্বস্তির নামাজ

আ,ফ,ম নুরুল কাদের ॥ গতকাল রমজানের ১ম জুম্মা অতিবাহিত হলো। রমজানের জুম্মাবার আমাদের জন্য অনেক গুরুত্ববহন করে। ইতিমধ্যে রোজা রাখার মাধ্যমে এই মাসের প্রকৃত হাকিকত এবং বরকতের সময় অতিবাহিত করছি। রমজানের প্রথামাংশ রহমত আমরা সেই সময় পার করার মুহুর্তে এই মাসের আমল গুলোর বিষয়ে একটুখানি ধারনা নেয়া উচিত। রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরপর দু’দিন একাকী তারাবি নামাজ পড়েছেন। সাথে শরিক ছিলেন সাহাবায়ে কেরামও। তৃতীয় কিংবা চতুর্থ দিন হুজুর আর হুজরা থেকে বের হননি। প্রিয় উম্মতের ওপর এটি আবার ফরজ হয়ে যায় কি না সে আশঙ্কায়। নববি ও সিদ্দিকী যুগ পেরিয়ে ওমরি শাসনামলের সূচনাকাল নাগাদ তারাবির নামাজের এ রীতিই (একা একা নামাজ আদায় করা) বহাল থাকে যথারীতি। রমজানের কোনো এক রাতে উমর রা: মসজিদে নববিতে তাশরিফ নিয়ে যান এবং দেখতে পান যে, মসজিদের কোথাও একাকী নামাজ হচ্ছে। আবার কোথাও ছোট ছোট জামাত হচ্ছে। তিনি চিন্তা করলেন, সব নামাজিকে এক ইমামের পেছনে একত্র করা উচিত। তখন সাহাবিদের ইজমা বা ঐকমত্যের আলোকে জামাতবদ্ধভাবে ২০ রাকাত তারাবির আদেশ জারি করেন এবং উবায় ইবনে কা’ব রা:-কে ইমাম নিযুক্ত করেন। রমজানের আরেক রাতে বেরিয়ে দেখলেন, মুসল্লীরা সাহাবি উবায় ইবনে কা’ব রা:-এর ইমামতিতে জামাতবদ্ধভাবে তারাবি পড়ছে। ফলে তিনি দারুণ খুশি হলেন এবং আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন, ‘বাহ বড় চমৎকার এ কাজটি!’ হজরত উসমান রা:-এর যুগেও ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়া হতো। আর তখন নামাজ এতই দীর্ঘ হতো যে, মুসল্লিরা ক্লান্ত হয়ে লাঠিতে ভর করতেন। সাহাবা, তাবেঈন, তাবয়ে তাবেঈনের স্বর্ণযুগ পেরিয়ে দেশে দেশে কালে কালে শীর্ষস্থানীয় বুজুর্গ ওলামায়ে কেরাম তারাবি আদায় করেছেন এ পদ্ধতিতেই- ধীরে-সুস্থে আর শান্ত শিষ্টে। কালজয়ী মনীষী হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবি রহ: রমজান কাটাতেন ভারতের থানা ভবনে। তারাবির নামাজের ইমামতি করতেন তিনি নিজেই। ১৫ রমজান নাগাদ সোয়া পারা, এরপর থেকে এক পারা করে পড়তেন প্রতিদিন। ফরজ নামাজে যেমন ধীরে ধীরে কেরাত পড়তেন তারাবিতেও তা বজায় থাকত যথারীতি। কখনো কখনো দ্রুত পড়ার প্রয়োজন দেখা দিলেও ধীরে সুস্থে পড়ার সময় শব্দ উচ্চারণের যে মান ছিল তাই বিদ্যমান থাকত। প্রতি চার রাকাত অন্তর অন্তর বিশ্রামের সময় ২৫ বার দরুদ শরিফ পড়তেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এ কালেও বিশ্বের প্রায় সব রাষ্ট্রে তারাবিহ হয় আস্তে। সুন্দর সুস্পষ্ট তেলাওয়াতে। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যবাহী দুই মসজিদ- মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে তারাবি হয় ফরজ নামাজের মতোই ধীরে ধীরে। সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। সিঙ্গাপুরে আট রাকাত তারাবিতে সময় যায় এক ঘণ্টা। মালয়েশিয়ায় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট। কেনিয়ায় প্রায় সব মসজিদেই ২০ রাকাতে দেড় কি সোয়া ঘণ্টা সময় লাগে। ব্যতিক্রম কেবল প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এখানকার অনেক মসজিদেই তারাবি হয় বেজায় দ্রুতগতিতে এবং এতটাই অস্পষ্টভাবে যে, সহসা কিছু বুঝে ওঠা যায় না। এমনও মুসল্লি আছে, যাদের দৃঢ়বিশ্বাস যে হাফেজ যত দ্রুত তারাবি পড়ান, তিনি তত দক্ষ ও কুশলী হাফেজ। আবার এমন মুসল্লির সংখ্যাও কম হবে না, যারা ভাবেন তারাবি মানে তাড়াতাড়ি ও দ্রুত অর্থাৎ তাড়াতাড়ির নামাজ, দ্রুতগতির নামাজ। জানেনই না এ যে দীর্ঘ বিশ্রামের নামাজ, ধীরে সুস্থের নামাজ। এ ধরনের নামাজ, এ রকম তেলাওয়াত কেবল ক্ষতিই বাড়ায়। সওয়াব তো বহু দূরের বিষয়। ক্ষতিগুলো হলো ১. তারাবি অতি দ্রুত পড়লে কুরআনের অক্ষর ও শব্দের বিকৃতি ঘটে। ফলে নামাজ ফাসেদ হয়ে যায়। ২. তেলাওয়াতের রূহ বা প্রাণশক্তি বিনষ্ট হয়ে যায়। দ্রুতগতির মহাভুল থেকে বেরিয়ে ধীরগতির নামাজে মনোযোগী হই। অল্প পড়ি তবুও বিশুদ্ধ তেলাওয়াতে পড়ি। মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির কাছে তারাবির হাকিকত ও বাস্তবতা তুলে ধরি। দরদ ও আন্তরিকতাভরে বুঝাতে থাকি যে, তারাবি শব্দটি নির্গত হয়েছে রাহাতুন শব্দ থেকে। আর রাহাত অর্থ আরাম, শান্তি অর্থাৎ তারাবি হলো আরামের নামাজ, শান্তির নামাজ। দীর্ঘ সিয়ামে, মিষ্টি তেলাওয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে তুষ্ট করার জন্যই তারাবির নামাজের দীর্ঘ নান্দনিক এ আয়োজন। আল্লাহপাক তারাবিহ নামাজের যাবতীয় কল্যাণ আমাদের মাঝে দান করুন- আমিন।

ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরছেন ১৩ মে

ঢাকা অফিস ॥ সব ঠিক থাকলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরছেন ১৩ মে। শরীরকে ঠিক রাখতে ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত করে ব্যায়াম করছেন তিনি। ওবায়দুল কাদের দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন আগেরকার মতো ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বাসটার্মিনালগুলো পরিদর্শন করতে পারেন, ঘুরমুখো যাত্রীদের খোঁজখবর নিতে পারেন। এর আগে গত ৩ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ওবায়দুল কাদেরকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয়। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। এক মাস চিকিৎসা শেষে গত ৫ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার বিশেষ সভা

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত দুই নির্বাহী সদস্যকে সংবর্ধনা প্রদান

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ মে ২০১৯ তারিখ শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গনে এ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী’র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ সুধির শর্মা। সভায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলী সুজন কুমার কর্মকার এবং সংগঠনটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচনে নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ায় তাদেরকে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। একই সময় সংগঠনটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিহির চক্রবর্তী বাংলাদেশ ব্রাম্মণ সংসদ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হওয়ায়, প্রচার সম্পাদক পরিতোষ দাস চড়ক পূজা সন্নাসী সংঘের কোষাধ্যক্ষ হওয়ায়, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বাপ্পী বাগচী বাংলাদেশ ব্রাম্মণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হওয়ায়, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক রমেশ চ্যাটার্জী বাংলাদেশ ব্রাম্মণ সংসদ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায়, সহ-সম্পাদক পলাশ শর্মা চড়ক পূজা সন্নাসী সংঘের প্রচার সম্পাদক হওয়ায় তাদেরকেও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়াও এ সময় নব গঠিত ছাত্র ঐক্য পরিষদ ইসলামীয়া কলেজ শাখা ও খোকসা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিশেষ এ সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত। এ সময় সংগঠনটির উপদেষ্টা অজয় সুরেকা, তারাদাস ভৌমিক, উত্তম সাহা, সভাপতি মন্ডলী গণেশ জোয়ার্দ্দার, তুহিন চাকী, রাজিব সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক অসীম পাল, দপ্তর সম্পাদক প্রবীর কর্মকার, গণ-সংযোগ সম্পাদক সুজন বিশ্বাস, যুব বিষয়ক সম্পাদক কৌশিক রঞ্জন পাল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ আশুতোষ কুমার পাল দেবাশীষ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তি রানী ঘোষ, সহ-সম্পাদক গৌতম কর্মকার, সঞ্জয় আগরওয়াল, অলোক ঘোষ সাজু, বিপুল সিকদার, প্রতাপ কুমার শর্মা, মানব চাকী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে মত প্রকাশ করেন। এ সময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক দেবাশীষ বাগচী। বক্তারা বলেন, দেশ উন্নয়নে এগিয়ে চলেছে। আমাদেরকেও দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

ঢাকা অফিস ॥ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে ইমন হোসেন (২৫) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কেপটাউন শহরের ফেলিকনপার্ক এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন হোসেন নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও কালিতারা এলাকার আবু তাহের মাস্টারের ছেলে। নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, জীবিকার তাগিদে গত তিন বছর আগে ইমন দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে কিছু দিন চাকরি করার পর এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় কেপটাউন শহরের ফেলিকনপার্ক এলাকা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করেন। কিছুদিন আগ থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তার কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করলে ইমন টাকা দিতে অপারগত প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মুখোশ পরা নিগ্রো সন্ত্রাসী দল ইমনের দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করতে থাকে। এ সময় ইমন বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ইমন নিহত হন। ইমনের নিহতের খবরটি শুক্রবার সকালে তার বন্ধু মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর মাধ্যমে জানতে পারে পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় ইমনের পরিবারে বইছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ইমনের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

অবৈধ স্যালো ইঞ্জিন চালিত ষ্টিয়ারিং বন্ধের দাবি

দৌলতপুরে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্রীসহ নিহত-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুলছাত্রীসহ ২জন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ও সকালে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেহালা মাদ্রাসার সামনে এবং রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া চুনিয়ামোড় এলাকায় পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় দুইজন নারী নিহত হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলের পেছন চড়ে উষা (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রী তার চাচার সাথে যাওয়ার সময় শেহালা মাদ্রাসার নিকট স্যালো ইজ্ঞিন চালিত অবৈধ ষ্টিয়ারিং গাড়িকে অভারটে করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে। এসময় স্যালো ইজ্ঞিন চালিত ষ্টিয়ারিং গাড়ি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই উষা মারা যায়। সে মথুরাপুর এলাকার আব্দুল্লাহর মেয়ে এবং দশম শ্রেণীর ছাত্রী। এঘটনায় নিহতের চাচা আফিম উদ্দিন (৩২) আহত হয়েছেন। তিনি একজন সেনা সদস্য। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার এসআই তানভির সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে এবং ঘাতক ষ্টিয়ারিং গাড়ির চালক সোহাগ (৩০), হেলপার রুবেল (২৫) ও রাজ্জাক (২৩) কে আটক করেছে। আটক চালক ও হেলপারদের বাড়ি পার্শ্ববতী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামুন্দি হোগলবাড়িয়া গ্রামে। অপরদিকে দৌলতপুরের ঝাউদিয়া চুনিয়ামোড় এলাকায় স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ ষ্টিয়ারিং গাড়ির চাপায় জহুরা খাতুন (৪৫) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে দৌলতপুর-মিরপুর সড়কের ঝাউদিয়া চুনিয়ামোড় এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধু উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের চুনিয়া মোড় গ্রামের মান্নু সর্দারের স্ত্রী। দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে চুনিয়া মোড় এলাকার দারুল কোরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসার পুকুর খননের মাটি ইটভাটায় স্থানান্তরের সময় স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ ষ্টিয়ারিং গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে জহরা খাতুন নামে এক পথচারী ষ্টিয়ারিংয়ের তলে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। ঘটনার পর পরই স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ ষ্টিয়ারিংয়ের চালক পালিয়ে যায়। অপরদিকে দুপুর দেড়টার দিকে শেহালা মাদ্রাসার নিকট স্যালো ইজ্ঞিন চালিত ষ্টিয়ারিংয়ের চাপায় উষা নামে এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এসময় ষ্টিয়ারিং গাড়ির চালক ও দু’জন হেলপারকে আটক করা হয়েছে। এদিকে একইদিন স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ ষ্টিয়ারিংয়ের চাপায় স্কুছাত্রীসহ দু’জন নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী যত্রতত্রভাবে স্যালো ইঞ্জিন চালিত অবৈধ ষ্টিয়ারিং গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশি ৫৬ পাসপোর্টসহ ২৪ রোহিঙ্গা আটক

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) নিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টাকালে ২৪ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর খিলক্ষেত মধ্যপাড়া এলাকার কহিনুর ভিলা নামে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। ওই বাড়ি থেকে বাংলাদেশি ৫৬টি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিকের ছেলে কাজল ও আইয়ুব নামে এক দালালকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ডিবির উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোখলেসুর রহমান বলেন, আটককৃতদের কাছ থেকে ৫৬ টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তারা দালালের মাধ্যমে ঢাকার ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে মালেয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র তাদেরকে ঢাকায় এনেছে। তিনি বলেন, এসব রোহিঙ্গারা কিভাবে পাসপোর্ট পেল তার তদন্ত চলছে। এখানো যারাই জড়িত থাক তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পাসপোর্টগুলো সঠিক বা জাল কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, আটক ২৪ রোহিঙ্গা সদস্যকে গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ঢাকায় এনে খিলক্ষেতের একটি তিন তলা বাড়িতে রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এই বাড়িটিই বেছে নিয়েছিল তারা। তাদেরকে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র এখানে এনে রেখেছিল। মালেয়েশিয়া পাঠানোর আগে এই বাসাতে তাদেরকে বাংলা ভাষা শেখানোর চেষ্টা চলছিল। মুলত তাদেরকে শিগগিরই মালেয়েশিয়া পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ভোর রাতে ডিবির একটি টিম মধ্যপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালায়। এর আগে তারা থানা পুলিশকে অভিযানের বিষয়টি জানায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুসহ ২৪ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে আটক করেছে। এসময় সেখান থেকে আইয়ুব নামে এক দালালকে আটক করে ডিবি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাসার মালিকের ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে মিয়ানমার থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে তাদেরকে নিয়ে নানান ভয়ঙ্কর খেলা খেলছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিশেষ করে এসব রোঙ্গিদের মাদক কারবারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি জঙ্গিবাদেও জড়ানোর চেষ্টা রয়েছে চক্রের। এর আগে এমন অনেক রোহিঙ্গা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব।

কবিগুরুর ১৫৮তম জন্মবার্ষিকীর সমাপনীতে ডিসি আসলাম হোসেন

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাঙালি জাতিসত্বার অংহকার

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, একটি দেশের পরিচয় তার জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় সঙ্গীতই বিশে^র বুকে একটি জাতিগোষ্ঠি ও দেশের পরিচয় করিয়ে দেয়। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসী” একটি গর্বের ফসল ও অহংকার করার মত বিষয়। আর এই জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সত্যিকার অর্থেই বিশ্বের কবি ছিলেন তিনি। তাঁর লেখা আমাদের জাতীয় জীবনে দারুনভাবে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীকে যুগিয়েছে সংগ্রামের সাহস। রবীন্দ্রনাথ আধুনিক ও স্বদেশী হবার যে প্রেরণা পেয়ের্ছিলেন, তা এই শিলাইদহ থেকেই। শিলাইদহের অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ রবীন্দ্রনাথকে বার বার এখানে ফিরে আসতে আকৃষ্ট করেছে। তিনি তৎকালিন সময়ের জাতি ভেদা-ভেদ ভূলে এই এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করেছেন। গতকাল শুক্রবার কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্য সৌধের কালজয়ী প্রতিভা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮ তম জন্মবার্ষিকীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার, ডিডিএলজি মৃণাল কান্তি দে, জেলা জাসদের সভাপতি আলহাজ¦ গোলাম মহসীন, সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সভাপতি রাশেদুল ইমলাম বিপ্লব প্রমুখ।    প্রধান অতিথি আরো বলেন, অধিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ছাড়া রবীন্দ্রনাথকে খুজে পাওয়া যাবেনা। তাই রবীন্দ্রনাথকে পরিপূর্ণ ভাবে পেতে চাইলে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। শান্তির সম্প্রীতির দেশ গড়তে রবীন্দ্র সঙ্গীত ও তাঁর রচনাকে বেশি বেশি কওে বুকে ধারন করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার বাইরে কখনো স্বপরিবারে কোথাও একটানা না থাকলেও এই শিলাইদহে কবি স্বপরিবারে থেকেছেন টানা দুটি বছর। তিনি পারিবারিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে এখানে গৃহ শিক্ষালয় গড়ে তোলেন। পদ্মা নদী নিয়ে লেখা যেন মহাকাব্য ছিন্ন পত্রাবলী। কবিগুরু বাধা-ধরা ধর্মরিতী থেকে বেরিয়ে এসে মানব ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। বাউল সংস্কৃতি, বাউল সুর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আতস্থ করেছিল। কুষ্টিয়ার মাটির গন্ধ মেখে তিনি বাউল সেজেছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে শিলাইদহ দিয়েছেন অনেক। শিলাইদহকেও কবিগুরু উজাড় করে দিয়েছেন। তাইতো শিলাইদহ আজ এত বিখ্যাত। জেলা প্রশাসক তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতে সুন্দর ও সফল অনুষ্ঠান করার আহবান জানান।  দ্বিতীয় পর্বে বিকেলে আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা  পর্যন্ত। অন্যদিকে গ্রামীণ মেলায় স্টলগুলোতে হস্ত ও কুটির শিল্প ছাড়াও বিভিন্ন সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। বেচাকেনা তুঙ্গে। এতে গ্রাম-বাংলার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র আর হস্ত ও কুটির শিল্পসহ রয়েছে রকমারী পণ্যের সমাহার। শিলাইদহের এসব আয়োজনকে ঘিরে সমাপনী দিনেও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। উৎসবের আমেজে দুর-দুরান্ত থেকে আগত এসব নারী-পুরুষের পদচারনায় মুখরিত হয়ে আছে কুঠিবাড়ী চত্বর। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে কবিগুরুর ১৫৮ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের ৩দিনব্যাপী মূল অনুষ্ঠানের শেষ হলেও কুঠিবাড়ী চত্বরে গ্রামীণ মেলা চলবে আরো একদিন।