গবাদিপশুর বৃদ্ধি ও গঠনে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম

কৃষি প্রতিবেদক ॥ গবাদিপশুর সুষম খাদ্য বলতে বুঝায় যে খাদ্যে আমিষ, শর্করা, স্নেহ বা চর্বি, খনিজ লবণ, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ ও পানি সঠিক অনুপাতে থাকে। গবাদিপশুর বৃদ্ধি ও গঠনে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। সুষম খাদ্যের অভাবে পশুর অপুষ্টি দেখা দেয় এবং বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আক্রমণ হয়। আমিষ ঃ আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য অন্ত্রে পরিপাক হয়ে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। পরে তা অন্ত্রে শোষিত হয়ে রক্তে মিশে এবং দেহের ক্ষয় পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে। এ কারণে সব বয়সেই দেহে আমিষের প্রয়োজন থাকে। তবে বাড়ন্ত বয়সে এ চাহিদা থাকে আরো বেশি। আমিষের সহায়তায় দেহের ভেতরে জৈব অনুঘটক এনজাইম তৈরি হয়। যেমন- পেপসিন, ট্রিপসিন ইত্যাদি। এসব এনজাইম খাদ্যের প্রোটিন, লিপিড ও শর্করাকে ভেঙে সহজপাচ্য পুষ্টিতে রূপান্তরিত করে যা কোষ সহজেই শোষণ ও সদ্ব্যবহার করতে পারে। পশুর দেহের রক্ত, পেশী ও সংযোজক কলার প্রধান অংশই প্রোটিনে গঠিত। খাদ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন পশু দেহের শক্তি ও চর্বির উৎস হিসেবে কাজে লাগে। শর্করা ঃ শর্করা পশু দেহে কর্মশক্তি যোগায়। শর্করা খাদ্যান্ত্রে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় যা অন্ত্রে শোষিত হয়ে রক্তে মিশে কার্যসম্পাদন করে। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেনরূপে জমা থাকে এবং খাদ্যে শর্করার অভাব হলে প্রয়োজনে সেই গ্লাইকোজেন কর্মশক্তি যোগায়। স্নেহ বা চর্বি ঃ স্নেহ প্রাণী দেহের টিস্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গবাদি পশুর প্রধানত তাপ ও শক্তির উৎস হিসেবে সঞ্চিত থাকে। সাধারণত গবাদি পশুর দানাদার খাদ্যে শতকরা ৪ ভাগ চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকা প্রয়োজন। খনিজ লবণ ঃ খনিজ পদার্থ বাড়ন্ত পশুর নতুন অস্থি ও টিস্যু সৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উপাদান কঙ্কালের আকৃতি ও দৃঢ়তা বজায় রাখে। পশুর লোম, ক্ষুর ও শিং গঠনে খনিজ পদার্থ প্রয়োজন।  খনিজ পদার্থ যেমন- লৌহ রক্তে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করতে সহায়তা করে। আবার পটাসিয়াম পশুর দেহের তরল পদার্থের অ্যাসিড বেসের সমতা রক্ষা করে। ভিটামিন ঃ যেসব জৈব যৌগ খাদ্য উপাদান হিসেবে অল্প পরিমাণ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক তাদের ভিটামিন বলা হয়। প্রাণী দেহের জন্য পর্যাপ্ত আমিষ, শর্করা স্নেহ ও খনিজ পদার্থ খাদ্যের সাথে সরবরাহ করেও ভিটামিন ছাড়া জীবন চালনা সম্ভব হয় না। স্বাভাবিক টিস্যুর বৃদ্ধি, দৈহিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিন অত্যাবশ্যক। পশুখাদ্যে যদি ভিটামিন না থাকে অথবা সুষ্ঠুভাবে ভিটামিন শোষিত না হয় কিংবা দেহে ভিটামিন সদ্ব্যবহার না হয় তবে সুনির্দিষ্ট রোগ হয়। যেমন- ভিটামিন ‘এ’ -এর অভাবে রাতকানা, জনন কর্মক্ষমতা হারানো, ভিটামিন ‘কে’ -এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হয় এবং ভিটামিন ‘ই’ -এর অভাবে জনন অকৃতকার্যতা পরিলক্ষিত হয়। পানি ঃ পশুদেহের শতকরা ৭০ থেকে ৯০ ভাগ পানি। সাধারণত দানাদার খাদ্যে শতকরা ১০ ভাগ ও খড় জাতীয় খাদ্যে শতকরা ১৫ ভাগ পানি থাকে। আবার সবুজ ঘাসে পানির পরিমাণ শতকরা ৯০ ভাগ। পশুখাদ্যে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকা সত্ত্বেও পশুকে পৃথকভাবে পানি সরবরাহ করতে হয়। কারণ পানি দেহের কোষের কাঠিন্য ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। এতে প্রাণিদেহের কাঠামো ঠিক থাকে। পানি ছাড়া দেহে যেকোনো ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটা সম্ভব নয়। পানি দেহের এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে বিভিন্ন পুষ্টিকারক পদার্থ সরবরাহ করে। তাছাড়া পানি দেহের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে। আবার পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবেও কাজ করে

নেশন্স লিগে পর্তুগাল দলে ফিরছেন রোনাল্ডো

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নেশন্স লিগের ফাইনালকে সামনে রেখে পর্তুগাল জাতীয় দলে ফিরে আসছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। কোচ ফার্নান্দো সান্তোস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৬ সালে এই সান্তোসের অধীনেই পতুগাল ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপ জয় করেছিল। এটাই ছিল পর্তুগালের প্রথম বড় কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়। আসন্ন নেশন্স লিগের ফাইনালকে সামনে রেখে সান্তোস বলেছেন, ‘আগামী ২৩ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে, অবশ্যই এই দলে ফিরছেন সিআর সেভেন। গ্র“প পর্বে তার বাদ পড়ার বিষয়টা ইতোমধ্যেই ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এবং এর কারনও সকলেই বুঝতে পেরেছে।’ আগামী ৫ জুন নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে পর্তুগাল সুইজারল্যান্ডের মোকাবেলা করবে। এই ম্যাচে জিততে পারলে তিন বছরের মধ্যে আরো একটি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করবে পুর্তগীজরা। লিগের আরেক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড। ইতালি ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে নেশন্স লিগের গ্রুপ পর্বে ৩৪ বছর বয়সী রোনাল্ডো অংশ নেননি। তবে ইউক্রেন ও সার্বিয়ার বিপক্ষে বছরের শুরুতে ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বে তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ড পর্তুগালের জার্সি গায়ে ১৫৬ ম্যাচে ৮৫ গোল করেছেন।

২০১৯ বিশ্বকাপ মিস করা ২০১৫ আসরের পাঁচ অধিনায়ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এই মুহূর্তের সব ওয়ানডে ম্যাচই মূলত ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে। আসন্ন বিশ্বকাপের ডামাডোলও চলছে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে। যে কারণে আগামী বিশ্বকাপের সঠিক কম্বিনেশন বেছে নিতে দলগুলো একটি ওয়ানডে সিরিজ হারতেও প্রস্তুত। এ ছাড়াও আগের আসর বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপ বড় একটি পরিবর্তন দেখবে। কেননা আগেরবারের অনেক তারকা এবারের বিশ্বকাপে থাকছেন না। পূর্ববর্তী আসরে নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দিলেও এবার থাকছেন না বেশ কিছু তারকা অধিনায়ক। ২০১৫ বিশ্বকাপে দলের নেতৃত্ব দিলেও এবারের আসরে থাকছেন না এমন পাঁচ অধিনায়ক। মাইকেল ক্লাক (অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ২০১৫ বিশ্বকাপ): ‘পাপ’ হিসেবে অধিক পরিচিত মাইকেল ক্লার্ক ছিলেন অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তার শুরুর দিকে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়া অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়া দলের অংশও ছিলেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ দিকে অসি দলের অধিনায়ক হিসেবে রিকি পন্টিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হন ক্লার্ক। যদিও রিকি পন্টিংয়ের ন্যায় কিংবদন্তী খেতাব পাননি তিনি। তার চেয়ে বরং অনেক বেশি রুচিসম্মত একজন অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দলকে পুনর্গঠিত করে ২০১৫ বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করেন। ২০১৫ রূপকথার বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব  দেন ক্লার্ক। যার মাধ্যমে রেকর্ড চতুর্থবার বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে অসিরা। মজার বিষয় হচ্ছে ২০১৫ বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ক্লার্কের  শেষ ওয়ানডে ম্যাচ। একইভাবে সে বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফর্মেট থেকে অবসর নেন পাপ। একজন অধিনায়ক হওয়া ছাড়াও তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন ব্যাটসম্যান যিনি বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। সুতরাং ২০১৫ সালে অবসর নেয়ায় ২০১৯ বিশ্বকাপ মিস করা গত আসরের যে ক’জন অধিনায়ক আছেন তাদের একজন হচ্ছেন ক্লার্ক। ২ উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড(আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক ২০১৫ বিশ্বকাপ) বিশ্ব ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের অবস্থানটা খুবই সাধারণ মানের। তবে আয়ারল্যান্ড দল নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অবশ্যই গুটি কয়েক নাম নিয়ে আমাদের কথা বলতে হবে। নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে একজন হলেন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। প্রকৃতিগতভাবেই অধিনায়কত্ব ছিল তার মধ্যে বিশেষ কিছু। বিশ্বকাপে তার অধিনায়কত্বে আয়ারল্যান্ড অসাধারন নৈপুন্য প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে ২০১১ তারা ইংল্যান্ডকে পরাজিত সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়া ২০১৫ বিশ্বকাপেও এর কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। তারা প্রায় নক আউট পর্বে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে রান রেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়টা ভাল যাচ্ছেনা আইরিশদের। দলটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ মিস করা কয়েকজন অধিনায়কের মধ্যে একজন পোর্টারফিল্ড। ৩ মিসবাহ উল হক(পাকিস্তান অধিনায়ক ২০১৫ বিশ্বকাপ):

পাকিস্তানী লিজেন্ড মিসবাহ উল হক। দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক। ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে বিশেষ পরিচিত পাওয়া এ অধিনায়কের রয়েছে বিশেষ অর্জন। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারানো যে গুটি কয়েক অধিনায়ক রয়েছেন মিসবাহ তাদেরই একজন। যার মাধ্যমে তার অধিনায়কত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

তার ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারটা ছিল খানিকটা ভিন্ন ধর্মী। তবে বোর্ডের সমর্থন পাওয়ার পর ক্রিকেটের সব ফর্মেটেই অসাধারন কিছু ফল এনে দিয়েছেন মিসবাহ। দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ভাল সাপোর্ট পেয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে মিসবাহর পাকিস্তান। অবশ্যই সেখানে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্কের ন্যায় বিশ্বকাপ ম্যাচ ছিল মিসবাহর শেষ ওয়ানডে। কেননা ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন মিসবাহ। তবে তারপরও কয়েক বছর টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন মিসবাহ এবং দলকে প্রথমবারের মত টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে তুলেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপ মিস করা এমনই একজন অধিনায়ক মিসবাহ। ৪ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম(নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ২০১৫ বিশ্বকাপ): নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম নিঃসন্দেহে বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ক্রিকেটার। নিউজল্যান্ড ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়কদের মধ্যে একজন হিসেবে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ম্যাককালাম। ভিন্নধর্মী কৌশল এবং হাতের শক্তির কারণে বিশ্ব ক্রিকেটে এ যাবতকালের সবচেয়ে আগ্রাসী ব্যাটসম্যানেদের একজন হিসেবেও পরিচিত তিনি। খুব স্বাভাবিক নিয়মে অধিনায়কত্ব পাননি তিনি। তবে সময়ের সাথে সাথে একজন অসাধারণ নেতায় পরিণত হয়েছেন তিনি এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন এক নতুন উচ্চতায়। বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে উঠানো নিউজিল্যান্ডের প্রথম অধিনায়কও ম্যাককালাম। ম্যাককালামের নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে নিউজিল্যান্ড। তবে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তস্ট থাকতে হয় ম্যাককালামদের। বিশ্বকাপ শেণে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি। যে কারণেই আসন্ন বিশ্বকাপে দেখা যাবে না এ তারকাকে। ৫ এবি ডি ভিলিয়ার্স(দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ২০১৫ বিশ্বকাপ: ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা আগ্রাসী ব্যাটসম্যানদের একজন এবি ডি ভিলিয়ার্স ‘মি: ৩৬০ ডিগ্রি’ হিসেবে জনপ্রিয়। মোক্ষম অস্ত্র ধারালো শটের ব্যটিং দক্ষতা দিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন ডি ভিলিয়ার্স। ক্রিকেটের সব শট খেলতে সক্ষম এ তারকার অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারও ছিল বেশ রুচি সম্মত। ২০১৫ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। তবে তারপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফর্মেট থেকে অবসর নেন ডি ভিলিয়ার্স। সমগ্র বিশ্বের অনেক ভক্তকে কাঁদিয়ে তারকা এ ব্যাটসম্যান বলেন,‘ ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে এবং ৭৮টি টি-২০। সময় এসেছে অন্য কারো দায়িত্ব নেয়ার। সত্যি কথা বলতে আমি ক্লান্ত’। ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে। তবে সেখানে যৌথ আয়োজক নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্টে থেকে বিদায় নিতে হয়। ২০১৫ বিশ্বকাপে ৬৬ বলে ১৬২ রানের(ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) রেকর্ড গড়েন তিনি। যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তিনি অবসর নিয়েছেন তাই আসন্ন বিশ্বকাপে ডি ভিলিয়ার্সের নায়কোচিত ব্যটিং দেখা যাবে না।

 

লিভারপুলের বিপক্ষে উপভোগ্য ফাইনালের অপেক্ষায় পচেত্তিনো

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দুই দলই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে উঠছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। লিভারপুলের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের লড়াইটা তাই উপভোগ্য হবে বলে প্রত্যাশা করছেন টটেনহ্যাম কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনো।

বুধবার রাতে শেষ চারের ফিরতি পর্বে আয়াক্সের মাঠ দুই গোল খাওয়ার পর ৩-২ গোলে জিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠে টটেনহ্যাম। গত সপ্তাহে টটেনহ্যামের মাঠে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতেছিল আয়াক্স। প্রথম সেমি-ফাইনালে বার্সেলোনার মাঠে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারের পর ঘরের মাঠে ৪-০ গোলের জয়ে ফাইনালে পা রাখে লিভারপুল। আগামী ১ জুন মাদ্রিদের ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হতে যাওয়া ‘অল ইংলিশ’ ফাইনালের অপেক্ষায় আছেন পচেত্তিনো। “আমি ইয়ুর্গেন ক্লপ ও লিভারপুলের সব খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাই, কারণ আমি মনে করি, তারা দুর্দান্ত ছিল।” “বার্সেলোনার বিপক্ষে তাদের সেমি-ফাইনালের লড়াই আমরা খুব উপভোগ করলাম। তারাও সবাই নায়ক এবং অবশ্যই দুই ইংলিশ দলের মধ্যে দারুণ একটা ফাইনাল হবে যা আমরা নিশ্চিত করেই উপভোগ করব।”

 

  মউরার হ্যাটট্রিকে রূপকথার জন্ম দিলো টটেনহ্যাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বার্সেলোনার বিপক্ষে লিভারপুলের অবিশ্বাস্য জয়ের রেশ কাটতে না কাটতে আরেকটি শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জিতে আসা আয়াক্স ফিরতি পর্বের প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে বসে, কোণঠাসা হয়ে পড়ে টটেনহ্যাম হটস্পার। ওখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। লুকাস মউরার হ্যাটট্রিকে অসাধারণ এক জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে ইংলিশ ক্লাবটি। ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনায় বুধবার রাতে শেষ চারের ফিরতি পর্বের ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতে মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল। অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থাকায় ফাইনালের টিকেট পায় তারা। গত সপ্তাহে টটেনহ্যামের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল আয়াক্স। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ‘অল ইংলিশ’ ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীরা। এর আগে ২০০৭-০৮ আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসি। আগামী ১ জুন মাদ্রিদের ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় শিরোপা লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা লিভারপুলের মুখোমুখি হবে টটেনহ্যাম হটস্পার। বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিকল্পনায় নামা আয়াক্স ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোল আদায় করে নেয়। হতে পারতো আগের মিনিটেই। দুসান তাদিচের নিচু শট ইংলিশ ডিফেন্ডার কিরান ট্রিপিয়ারের পায়ে লেগে উঁচু হয়ে জালে ঢুকতে যাচ্ছিল। ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক উগো লরিস। ওই কর্নারেই দারুণ হেডে দলকে এগিয়ে দেন মাতাইস দি লিট।