ঝিনাইদহে বিড়ির উপর কর প্রত্যাহার ও কুটির শিল্প ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ বিড়ির উপর বৈষম্যমুলক অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার ও ভারতের ন্যায় বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প ঘোষনার দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের আরাপপুরে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই’র বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে বিড়ি ভোক্তা পক্ষ। এসময় ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়। ঘন্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বিড়ি ভোক্তা পক্ষ বৃহত্তর ঝিনাইদহ অঞ্চলের সভাপতি বজলু শেখ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজ্জাক হোসেন, জীবন দাস, সোহেল রানা, নওরোজ, মিজানুর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।এসময় বক্তারা, বিড়ি শিল্পের উপর থেকে সকল প্রকার কর প্রত্যাহার ও নতুন করারোপ বন্ধ করার দাবি জানান। এ দাবি মানা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন তারা। মানববন্ধন শেষে ৭ দফা দাবি সম্বলিত সংসদ সদস্য আব্দুল  হাই’র হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

ফাতেমা জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ

নিজ সংবাদ ॥ মোছাঃ ফাতেমা খাতুন কুষ্টিয়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফাতেমা ইতিপুর্বে ৫ম শ্রেনী ও ৮ম শ্রেনীতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। ফাতেমার পিতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম রতন কেএসএম ঢাকা-মিনাপাড়া কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক এবং মাতা পারুল বেগম গৃহিনী। সে ভবিষ্যতে উচ্চতর ডিগ্রী গ্রহনে আশাবাদি। ফাতেমা সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছে।

গাংনীতে উজ্জীবক প্রশিক্ষণের সমাপনী

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের চিৎলা গ্রামে ৪দিন ব্যাপি উজ্জীবক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চিৎলা মৎস্য সমবায় সমিতির সভাকক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর গাংনী এলাকা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন জাতীয় কন্যা শিশু এডভোকেসি ফোরামের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ভিটিআর ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সিরাজুল ইসলাম স্যার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর প্রশিক্ষক তুহিন আফসারী, প্রশিক্ষক  ও গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মহিবুর রহমান মিন্টু, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর ধানখোলা ইউনিয়ন সমন্বয়কারী গোলাম আম্বিয়া প্রমুখ।

ভেড়ামারায় অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করতে অভিযানে নেমেছেন ইউএনও

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শাপলা চত্বর থেকে বক চত্বর পর্যন্ত সড়কের দু’পাশের অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে যারা রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন সেই সকল অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করতে অভিযান চালিয়েছে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন এর নির্দেশে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শামীম উদ্দিনসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় ২১টি সিএনজি ও আটো রিকশা মালিককে ২,১০০/- টাকা জরিমানা করা হয়। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জনসাধারনের চলাচলের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচলনা করা হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্ন সময়ে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও কিছু দোকানি সড়কের ফুটপাত থেকে পণ্য সরিয়ে নেননি তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। ইউএনও আরোও বলেন, কেউ নতুন করে ফুটপাত দখল করার চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালী সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় হবে – স্পিকার

ঢাকা অফিস ॥ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ-ইতালী সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন ও উভয় দেশের সংসদ সদস্যদের সফর বিনিময় দু’দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় করবে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে তার সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালীর রাষ্ট্রদূত এনরিকো নানজিয়াটা সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইতালীর দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এ সময় তারা সংসদীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় চর্চা ও কার্যক্রম, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, টেকসই উন্নয়ন, তৈরি পোশাক শিল্প, এবং ইতালীতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে দু’টি অধিবেশন শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যই বর্তমানে জনগণের পক্ষে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ছাড়াও একজন ব্যতীত বিএনপির সকল সংসদ সদস্য সংসদে যোগ দিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের উপস্থিতি সংসদীয় কার্যক্রমকে অর্থবহ করে তোলে। প্রথম অধিবেশনই ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিটিগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখছে। আন্তঃসংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের উপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দু’দেশের সংসদের সম্পর্কের মাঝে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ নতুন মাত্রা যোগ করবে। ইতালীতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে তৈরী পোষাক শিল্পে বাংলাদেশীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইতালীর সেন্ট্রাল ব্যাংকের গতবছরের তথ্য অনুযায়ী ইতালী থেকে বাংলাদেশে ৭মিলিয়ন ইউরো রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের ভূমিকা ইতিবাচক, বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে মর্মে অবহিত হয়ে এনরিকো নানজিয়াটা বলেন, এ সফলতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক শিল্পসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের যেকোন প্রশ্নে ইতালী বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এ সময়ে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কোনো ধরনের চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কোথাও কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হলে একবার সাহস করে আমাদের জানান। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ধরনের চাঁদাবাজকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। আমরা চাই চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশে সবাই ব্যবসা করবেন। ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পণ্য কিনবেন। সরকারের প্রত্যাশা, সর্বদা সব জায়গায় শান্তি থাকবে। মঙ্গলবার রমজান উপলক্ষে রাজধানীর কাওরান বাজারে বাংলাদেশ ও ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির যৌথ আয়োজনে পরিমিত ক্রয় ক্যাম্পেইন প্রোগ্রাম-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এক সময় রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় প্রায় সময়ই মানুষ খুন হতো, ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারতেন না। আজ ব্যবসায় শান্তি ফিরে এসেছে, ক্রেতার টাকাও ছিনতাই হয় না। তবে এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে, এটা ব্যবসায়ীদের ব্যর্থতা। তারা যদি প্রশাসনকে না জানান, তাহলে কিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র (ডিএনসিসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের সব জায়গায় রমজান এলে পণ্যের দাম কমে, কিন্তু আমাদের দেশে বেড়ে যায়। আবার এই রমজানে খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা লাগে। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরোনোর সময় এসেছে। এখন রমজান মাস আসা মানেই পণ্যের দাম কমতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে কারওয়ান বাজার থেকে বাজার স্থানান্তর করতে চাই। এ বাজারের কয়েকটি মার্কেট শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণ ঝরে যাক এটা আমরা চাই না। পরিমিত ক্রয় ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামে মাত্র ১৫০ টাকায় দুই দিনের ইফতারের কাঁচা বাজার পাওয়া যাবে। যার মধ্যে রয়েছে শসা ৫শ’ গ্রাম, বেগুন ৫শ’ গ্রাম, লেবু ৪টি, আলু ১ কেজি, পেঁয়াজ ১ কেজি, কাঁচা মরিচ ৩শ’ গ্রাম, টমেটো ৫শ’ গ্রাম এবং গাজর ৫শ’ গ্রাম।

আব্দালপুর মহাশশ্মানে পূজা উদ্যাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের মহানাম শ্রবণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর মহাশশ্মানে কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ মহানাম শ্রবণ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবক সভাপতি এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বে আব্দালপুর মহাশশ্মানে মহানাম শ্রবণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল, সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার, সহ-সভাপতি ডাঃ উৎপল সেন গুপ্ত, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিপ্রজিৎ বিশ্বাস খোকন, বাবলু কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ রায় নাড়–, প্রচার সম্পাদক বাপ্পী বাগচী, অমিত বাগচী প্রমুখ।

আমাদের মতো দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা কারও নেই – মোজাম্মেল

ঢাকা অফিস ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সন্তোষ প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশের মতো এত তড়িৎ গতিতে দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা আর কারও নেই। লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এই ঝড়ের সময় ‘নির্ঘুম’ রাত কাটিয়েছেন বলেও তথ্য দিয়েছেন তিনি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ভারতের ওড়িশ্যা ঊপকূলে আঘাত হানার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে শনিবার বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ঝড়টি দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করে বলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়। সরকারি হিসাবে এই ঝড়ে পাঁচ জনের প্রাণহানি, ২১ হাজার ৩৩টি ঘরবাড়ি, ২২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প¬াবিত হয়েছে ৫৯টি গ্রাম। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূণিঝড় ফণী পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পর্কে পর্যালোচনা সভায় মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  দুর্যোগ মোকাবেলায় সু-সমন্বিত ব্যবস্থা থাকায় সফলতার সাথে ফনী মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের বড় দুর্যোগ মোকাবেলায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় গৃহীত সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে নজিবুর রহমান বলেন, “ভবিষ্যতে দেশে যত বড় স্থাপনা করা হবে সেখানে দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সমন্বিতভাবে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করতে গেলে সার্বিক কর্মকা- গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে।” মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, “ফণী মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন। আমাদের মতো তড়িৎ গতিতে দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা কারও নেই। “আমাদের সাইক্লোন সেন্টারগুলো আরও মজবুত করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাই স্কুল, মসজিদকে আরও শক্তিশালী ও মজবুত করে তৈরি করে সেগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। প্রাণিসম্পদ রক্ষার জন্য আরও মুজবুত কেল্লা তৈরি করতে হবে।” কতজন লোক থাকবে সেই বিবেচনা থেকে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরামর্শ দিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, দুর্যোগের সময় সোলার সিস্টেমটা নিশ্চিত করতে হবে। ওই সময় কমিউনিটি রেডিওকে কাজে লাগানো যেতে পারে। রাস্তার পাশের বহু বছরের পুরনো অপ্রয়োজনীয় গাছ কেটে নতুন গাছ লাগাতে হবে, যেন দুর্যোগে গাছ পড়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষতি করতে না পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে আরও জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। দুর্যোগ নিয়ে সংবাদ জানানোর ক্ষেত্রেও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। “একই সময়ে একেক গণমাধ্যম বিভিন্ন ধরনের সংবাদ দেয়। এক্ষেত্রেও সমন্বয় করে কাজ করতে হবে,” বলেন মন্ত্রী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, “এবার দুর্যোগে গণমাধ্যম অত্যন্ত সচেতন ভূমিকা রাখায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে খুব ভালোভাবে কাজ করেছে।” তিনি বলেন, “খুলনা, সাতক্ষীরা পরিদর্শনে গেলে সেখানকার জনগণ বলে, আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা বেড়িবাঁধের সংস্কার চাই। ভবিষ্যতের জন্য এগুলোর সংস্কার করে আরও উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এজন্য যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব আমাদের বরাদ্দ দিতে হবে।” ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, যোগাযোগ হলো সমন্বয়ের মূল হাতিয়ার। এবার ‘অত্যন্ত সফলতার’ সাথে দুর্যোগ মোকাবেলা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দুর্যোগে বিদ্যমান কমিউনিকেশন সিস্টেমে সমস্যা হলে বিকল্প ব্যবস্থাটা রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগেই বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ ভেঙে প¬াবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। “দেশের কমিউনিকেশনে সমস্যা হলে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যালেটাইটকে ব্যবহার করতে পারি। এছাড়াও ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু স্যালেটাইট-২ হলে সেটাকে আমরা আবহাওয়া স্যাটেলাইট হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।”  পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, “আমরা যতই ব্যবস্থা নেই না কেন মজবুত করে বাঁধ নির্মাণ করা না গেলে দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে। বাঁধের সংস্কারের জন্য যত দ্রুত বরাদ্দের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে ততই দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।” এছাড়াও সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমপি ছেলুনের আলমডাঙ্গা হারদী এম এস জোহা কলেজ ও বদ্ধভূমি পরিদর্শন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা হারদী এম এস জোহা ডিগ্রী কলেজে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ গভর্ণিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নিং কমিটির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক  জোয়ার্দার ছেলুন। সভায় কলেজের উন্নয়নে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। অধ্যক্ষ ওমর ফারুকের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হারদী ইউপি  চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সদস্য মজিবর রহমান, সালাউদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক, ওমর খৈয়াম, মহিনুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ নিয়ামত আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক, জেসমিন আরা প্রমুখ। সভায় কলেজের মুল গেট নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকল্পে আগামী সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ ছাড়াও কলেজের অভ্যন্তরীন অডিট কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে এমপি ছেলুন আলমডাঙ্গা বদ্ধভূমি পরিদর্শনে আসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমারি ইউপির চেয়ারম্যান আবু সাইদ পিন্টু, জেলা যুবলীগ সদস্য  পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালমুন আহম্মদ ডন, যুবলীগ নেতা সাইফুর রহমান পিন্টু, ছাত্রলীগ  নেতা সাকিব, হাসান, সুরুজ, রকি, হাসান, সজিব, পিয়াস, রোমান প্রমুখ। এ সময় এমপি ছেলুন বলেন বদ্ধভূমির পাশ দিয়ে যে রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নির্মান কাজ করার জন্য নির্দেশ দেন। এবং সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠাননকে তদারকি করতেও নির্দেশ দেন। তা না হলে ঐ রোডে মানুষ চলাচলসহ বিভিন্ন পরিবহন চলাচলে সমস্য হচ্ছে বলে জনিয়েছেন।

কুষ্টিয়ায় ৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহে বর্ণাঢ্য র‌্যালি

নিজ সংবাদ ॥ ৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি করা হয়েছে। “জীবন বাঁচান, আওয়াজ তুলুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কুষ্টিয়া সার্কেল এর যৌথ আয়োজনে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে এ বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালীটির উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেল এর সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমান এর সার্বিক পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক ওমর ফারুক, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্র“পের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক নান্টু, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়ার প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা, জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয় (খুলনা-৭২) এর সভাপতি মাহাবুল আলম ,সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, জেলা ট্রাক-ট্যাংকড়ী-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ খুলনা-১১১৮) এর রানা সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে দুর্যোগ আক্রান্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে দূর্যোগ আক্রান্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ করা হয়েছে। গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩২ জন অসহায় পরিবারের হাতে পরিবার প্রতি ১ বাইন্ডিল করে  ৩২ বাইন্ডিল ঢেউটিন ও ৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৯৬ হাজার টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ত্রাণ ও পুণর্বাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় ঢেউটিন ও চেক বিতরণ করে। গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ঢেউটিন ও চেক প্রদান করেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। এ সময় অন্যান্যদের  মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী  নিরঞ্জন চক্রবর্তী , কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা, বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু, সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ, আ.লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আতুসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের পুরুষ ও মহিলা সদস্যবৃন্দরা।

 ॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

বারো শরীফের ইমাম (রঃ)

পবিত্র ৬ই রমজান। ১২ শরীফের  মহান ইমাম-রাসূল বংশের এ শ্রেষ্ঠসন্তান, বর্তমান সময়ের মোজাদ্দেদ বা সংস্কারক হযরত শাহ্ সূফী মীর  মাস্উদ হেলাল (রঃ) এরÑ৩৪Ñতম ওরশ শরীফ। সাধকের মৃত্যুই মিলন তার প্রভু আল্লাহর সাথে। তাই এই দিন ওরশ হয়ে থাকে। সূফী সেই যিনি কঠোর সাধনার দ্বারা নিজেকে পবিত্র করেছেন। আল্লাহর নিকট শাহিদী দরজা বড় প্রিয়। তিনি তার হাবীব (সাঃ) কে তাই এ দরজা দান করেছেন। ১২ শরীফের ইমাম (রঃ) রাসূল প্রেমে মোহাম্মদী প্রচারে আজকের এ পবিত্র দিনে শহীদ হন। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহর রাস্তায় যারা শহীদ হন তাদের মৃত মনে কর না, আল¬াহর দৃষ্টিতে তারা জীবিত ও রিযিক প্রাপ্ত।” (আল-কোরআন) “বারো শরীফের ইমাম” এটা উনার নিজের নেয়া সম্মান সূচক উপাধি নয় কঠোর সাধনা ও গভীর রাসূল প্রেমের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূল কর্তৃক এ সম্মানে সম্মানীত হন। বারো শরীফের জন্ম রাসূল (সাঃ) এর জন্মের সাথে জড়িত, তাই ১২ই রবিউল আউয়াল ১২ শরীফের হৃদয়। এটাই এ দরবারে বড় অনুষ্ঠান। ১২ শরীফ শেষ জামালার মানুষের শাস্তি ও মুক্তির জন্য একটা সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠÑ তরীকা বা পথ। যা রাসূলের নিজস্ব বিষয়। দীর্ঘ বছর শরীয়ত মেনে উনি দেখলেন আল¬াহকে পাওয়া গেল না। তখন ওছিলা স্বরূপ মুরিদ হলেনÑএকজন কামেলÑহযরত শেখ খলিল উদ্দিন (রঃ) এর নিকট। কারণ আল¬াহ বলেন; “তোমরা ঈমাম আনার পর আমাকে পাবার জন্য ওছিলা অন্বেষণ কর এবং এ পথে প্রাণপন চেষ্টা কর।” মুরিদ হবার পর উনার ইবাদতের পদ্ধতি পরিবর্তন হলো। প্রকৃত সাধনা শুরু হলো। নিজ মুর্শিদের প্রতি ভালোবাসা, গভীর রাসূল প্রেম ও কঠোর সাধনা এবং আল্লাহর দয়ায় কামেলিয়াতের উচ্চস্বরে আরোহন করেন। আল্লাহ কর্তৃক ওলী আল¬াহ উপাধী প্রাপ্ত হন। আল্লাহ বলেন, জেনে রেখ নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওলী (বন্ধু)র কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। আরো বলেনঃ আল্লাহর ওলীরা আদৌ মরে না। তাই তারা মারাযাবার পরও তাদের দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। বিখ্যাত ইমাম গাজ্জালী (রঃ) বলেছেন; “আউলিয়া কেরামগণ আল¬াহর বন্ধু, তাদের মাযার জিয়ারত করে ইহকালেও পরকারের উপকার অর্জন করতে পারবে।” (দ্রঃ ফতয়ায়ে শামী) বিখ্যাত সূফী সাধক মাওলানা রুমী (রাঃ) বলেছেনঃ উচ্চ স্তরের কামেলদের সাথে সাধারণের  তুলনা করো না। যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে একই রূপ দেখা যায়।ঃ (দ্রঃ মসনবী) আল¬াহ বলেন; ‘যে ব্যক্তি আমার ওলীর সাথে শত্র“তা পোষন করে; তাঁর প্রতি আমার যুদ্ধ ঘোষণা”। (বুখারী ও মুসলিম)

এসব ওলীদের মধ্য থেকে কেহ হন জামানার মোজাদ্দেদ। এদের সম্পর্কে রাসুল বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর প্রারম্ভে এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যিনি ইসলাম ধর্মের সংস্কার সাধন করবেন” (আবু দাউদ শরীফ)। আজ এ শেষ জামানায় পথভ্রষ্ঠ মানুষের জন্য বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য আল্লাহ ও রাসূল কর্তৃক একজন আধ্যাত্মিক নেতার আবির্ভাব হবে। তিনিই হবেন শেষ জামানার মহানায়ক হযরত ইমাম মাহ্দী (আঃ)। ইসলাম ধর্মের জ্ঞানী ও চিন্তাশীলদের মতে ১৪০০ হিজরীর পর ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হবে; ইসলাম ধর্মের সংস্কার সাধন করতে ইসলাম বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে। বারো শরীফের ইমাম (রাঃ) বলেছিলেনঃ মাহ্দী সেই যিনি রাসূল কে অনুসরণÑঅনুকরণ করবেন; যিনি রাসূলকে ভালবাসবেন, আর রাসুল ও যাকে প্রতিনিধি মনোনীত করবেন। ইমাম মাহদীর পরও তার খেলাফত চলতে থাকবে। এক একজন এক এক দিকে এগিয়ে যাবে। তবে প্রথম যিনি “ মোহাম্মদী” প্রচার করবেন তিনিই ইমাম মাহ্দী। তার উপর রাসূলের রাহানী সমর্থন থাকবে এবং খেলাফত পাবেন। রাসূলকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইব্রাহিমী কতদিন চলবে? উনি তখন চাঁদের দিকে তার শাহাদত অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। সেদিন ছিল চাঁদের  ১৪ তারিখ। অর্থাৎ ১৪শ হিজরী পর ইব্রাহিমী বিদায় নিবে। রাসূলকে দ্বীন ইসলামের মধ্যে থেকে ইব্রাহিমী প্রচার করতে বলা হয়। তাই আমরা যেসব ফরজ এবাদত করে থাকি এ সবই ইব্রাহিমী বিষয়। তাইতো রাসূল মক্কা ছেড়ে মদীনায় রয়ে গেলেন। ১২ শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকা ছিল সময়ের বিষয়। অতীতে কেবল বড় পীর সাহেব কিছুদিন ১২ শরীফ করেন পরে রাসুল উনাকে এটা বন্ধ রাখতে বলেন সময় হয় নাই বলে। ১২ শরীফের ইমাম (রঃ) এর গভীর রাসূল প্রেম ও কঠোর সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ ও রাসুল তাকে ১৯৭৫ এর ২৫শে আগষ্ট ৮ই ভাদ্র ১৬ শাবান সোমবার বারো শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকা দান করেন।

এ প্রসঙ্গে ইমাম (রঃ) বলেছিলেনঃ “বলা হল এটা রাসূল এর আওয়াজ। ১৯৭৫ এর ২৫শে আগষ্ট ১৬ই শাবান ৮ই ভাদ্র সোমবার তাহাজ্জুদ পড়ে ঘড়ে বসে একটু তন্দ্রাভাব তখন স্পষ্ট আওয়াজ এলো, রাসুল (সাঃ) বললেন; “এখন থেকে মোহাম্মদ রাসুল আল¬াহ বলো, মোহাম্মদী প্রচার করো, আর যখন যা প্রয়োজন আমার কাছে চাও।” মাত্র তিনটি কথা।” (ডাইরী -৯-৬-৮২)। যে বিষয়ে যার বলার হক এবং দায় বর্তায় সেই বিষয়ে তার চেয়ে অন্য কোন ব্যক্তির গ্রহণ যোগ্যা থাকে না। তাই এরপর হতে তিনি এ তরীকায় বায়াত করতে থাকেÑ১২ শরীফ প্রচার করতে থাকেনÑ১২ শরীফ দরবার ও জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্ব ধর্মের মানুষকে তিনি এ তরীকার দাওয়াত দিতেন। মানুষকে ভাল বাসতেন। বিশেষ  করে দরিদ্র অসহায় মানুষকে। এ তরীকার মূল মন্ত্র রাসূলকে সর্বাপেক্ষা বেশী ভালবাসা এবং রাসূলের নিজস্ব  বিষয়গুলোকে ভালবেসে আত্মার শান্তি ও মুক্তি পথ করে যাওয়া। বেশী করে দরুদ পড়ার জন্য বলতেন। আল¬াহ নিজে দরুদ পড়েন এর চেয়ে উত্তম আর কি হতে পারে? তাই হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, “যদি আল¬াহর জিকির ফরজ না হতো তা হলে আমি সব এবাদত বাদ দিয়ে কেবল দরুদ পাঠ করতাম।” (বুখারী) বড় পীর সাহেব (রঃ) বলেছেনঃ “দরুদ পাঠের জন্য আমি গাওছুল আযম হযেছি।” তাই তার কাব্য ‘দেওয়ানে গাওছিয়া’ তে বলেছেনঃ কবরে আমার দেহ যখন ধূলিকণায় পরিণত হবে। তুমি সেই প্রত্যেকটি ধুলিকণা থেকে দরুদ শুনতে পাবে।” গোড়ামী ধর্মান্ধতা-কুসংস্কার এসব গুলো পছন্দ করতেন না। কোরান হাদীসের যুগধর্মী ব্যাখ্যা দিতেন। আধুনিক শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষার  সমন্বয় এর জন্য বলতেন। রাসূল প্রেম সৃষ্টি করতে বলতেন। মানুষকে ভালবাসতে বলতেন। তাই বলেছিলেনঃএ দরবার সব ধর্মের মানুষের জন্য খোলাÑকেবল পরিস্কারÑপরিচ্ছন্ন হয়ে আসতে হবে। বর্তমান সৌদি ওয়াহিবীরা যে ধর্মের কতটা ক্ষতি করেছে তা বর্তমান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সোলমান ওয়াশিংটনে এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, ৭০ এর দশক হতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ মাদ্রাসায় অর্থ ঢেলে ওয়াহাবি মতাদর্শ প্রচার করা হয়। যার ফলে এসব আলেম ওলামাদের মধ্যে মিলাদ-মাহফিল, দরুদ ও ওলী আল¬াহ বিদ্বেষ; নামাজের পর মোনাজাত; ঈদে মিলাদুন্নবী পালন এসব বিরোধীতা দেখা দেয়। (দ্রঃ ৩০-৩-২১০৮ দৈ প্রথম আলো ও ইনকিলাব)

আসেন আমরা যেন ভুল না করি। রাসূলকে ভালোবেসে ১২ শরীফের পতাকা তলে আশ্রয় নেয়। ইমাম (রঃ) বলেছিলেনঃ যতদিন না মুসলমানরা মোহাম্মদীতে না আসবে তত দিন একত্রিত হতে পারবে না। একমাত্র মোহাম্মদী পারবে বিশ্বশান্তি আনতে। তাই ইব্রাহিমী থেকে মোহাম্মদীতে আসতে হবে।

পরিশেষে ইমাম (রঃ) এর স্মরণে ঃ

“হে মহাসধাক! নূরে মোহাম্মদীর/উজ্জ্বল আলোয় তুমি আলোকিত/সত্যের মহাসাধক তুমি/রাসূল প্রেমের সীরজা তুমি/তৌহিদের আলোয় তোমার হৃদয় যে পূর্ণ/মানবতার কল্যাণে নিজেরে করেছো আজদান।

আপনাদের প্রতি রইলো মোহাম্মদী তরীকার দাওয়াত। আল¬াহ আমাদের দয়া করুন।

অনুষ্ঠান সূচী

খাস্ মিলাদ মাহফিল  ঃ ৬ রমজান ১২ মে রবিবার ভোর রাত্রি ৩.০০ টা।

রওজাপাক জেয়ারত  ঃ ৬ রমজান বাদ ফজর।

কোরআন খানি   ঃ ৬ রমজান বাদ যোহর।

আম মিলাদ মাহফিল ও পবন্ধ পাঠ ঃ ৬ রমজান বাদ আছর।

শিশু নিহাকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন

কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া ৫নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রী ফুটফুটে জান্নাতুল ফেরদৌস নিহা কিডনি জনিত অসুখে আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ দিন যাবৎ ঢাকা পিজি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তার ২টা কিডনীতেই নষ্ট হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে সহায় সম্বল বিক্রি করে প্রায় ২লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয় করেছে এই দরিদ্র পরিবার। প্রতিদিন ডায়লোসিস করা হচ্ছে। জান্নাতুল ফেরদৌস নিহার দরিদ্র  পিতা নাসির উদ্দিন নাদিম ও মা মনিরা বেগম সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।

সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ

জেসমিন ফয়সাল জেসি

হিসাব নং-১৬৮১০১১৪৭৫০৮

ডাচ বাংলা ব্যাংক, কুষ্টিয়া শাখা

মোবাইল :-০১৭৬৮-২৫৭৮৮২।

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদন্ড কৃষক হত্যায় ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কবরবাড়ি এলাকায় কৃষক ডাবলু হত্যা মামলায় ৭ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এ আদেশ দেন।

অন্যদিকে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে একই উপজেলার বালিয়াশিশা গ্রামে স্বামীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন  জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মোঃ মশিয়ার রহমান। রায় প্রদানের সময় সব আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক ডাবলু হত্যা মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ৭ জুন কবরবাড়ি এলাকার জি কে ক্যানেলের পাশ  থেকে ডাবলুর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই আতর আলী ৮জনকে আসামী করে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ডাবলুর পরিবারের অভিযোগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পুকুরের লীজ এবং হাটের টোল আদায়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আসামীদের সাথে শক্রতা ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় ডাবলুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৮ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষণা করেন। মামলায় আসামীরা হলেন, কবরবাড়ি এলাকার মকছেদ আলী প্রামানিকের ছেলে জালাল প্রামানিক, মৃত  খেজের আলী বিশ্বাসের ছেলে আতর আলী, মৃত  গোলাম জিলানীর ছেলে জামান হোসেন, আনছার আলী মোল্লার ছেলে আসাদুল মোল্লা, কেরামত আলীর ছেলে মেহের আলী মালিথা ও সাতগাছি গ্রামের কেরামত মালিথার ছেলে রুবেল মালিথা, মৃত রিফাজ উদ্দিন মালিথার ছেলে আসলাম মালিথা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী বলেন, আসামীদের উপস্থিতিতে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড সাথে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬মাস করে সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

স্ত্রী হত্যা মামলার এজাহার সূত্র জানায়, আসামী আজাদ মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তুলি খাতুনকে মারধর করতো। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের ১৮ মে রাতে ২লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তুলি খাতুনকে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে বাড়ির পাশে আমগাছে ঝুলিয়ে রাখে স্বামী আজাদ মন্ডল। এই ঘটনায় নিহতের বাবা আলী হোসেন মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর চার্জশীট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামীর উপস্থিতিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১১(ক) ধারা  মোতাবেক এই রায় দেন।

 

রমজানুল মোবারক

রমজান ধৈর্য ও ছবরের মাস

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রমজানের পুরো এক মাস তিনটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম ১০ দিন রহমত, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০ দিনকে নাজাতের সময় বলা হয়। এ মাসে আমরা আল্লাহর কাছ থেকে অশেষ রহমত ও করুণা লাভের সুযোগ পাই। আমাদের অতীতের গুনাহগুলো মাফ করে দেয়ার সুযোগ দিয়েছেন বিশ্বজাহানের প্রতিপালক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এক মাস রোজা পালনের মাধ্যমে আমরা আমাদের আখেরাতের জীবনে শান্তি লাভের পথ প্রশস্ত করতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা রমজানের রোজাকে সব মুসলমান নরনারীর ওপর বাধ্যতামূলক করার আদেশ করেছেন হিজরি দ্বিতীয় সালে। কুরআন পাকে সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- ‘হে ঈমানদারগণ!  তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ পরে রাসূলে করিম সা: নিজেও  রোজা পালনের গুরুত্ব এবং ফজিলত সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে এবং এমনিভাবে রাতে ইবাদত করে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘রমজান মাস ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের বিনিময় হচ্ছে বেহেশত।’ অপর এক হাদিসে রাসূল সা: বলেছেন, ‘মাতৃগর্ভ থেকে শিশু যেমন নিষ্পাপ হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়, রমজানের  রোজা পালন করলে মানুষ ঠিক তেমন নিষ্পাপ হয়ে যায়।’  রোজার দিনে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মতো জামাতের সাথে আদায় করার পরও রাতে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করতে হয়। নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত বেশি বেশি করা হয়। তারাবি  রোজার মাসে বাড়তি ও বরকতময় ইবাদত। তারাবির নামাজ আমাদের সবার জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। খতম তারাবিতে বাড়তি সওয়াব, যদি সম্ভব না হয় সূরা তারাবি পড়তে হবে। এ মাসে দিনের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়লে অনেক গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। প্রত্যেক নেক আমলের পুরস্কার ১০ গুণ থেকে ৭০ গুণ পর্যন্ত দেয়া হবে। আমলের মান অনুযায়ী নামাজের মানকে যাতে উন্নত করা যায় সে বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। পবিত্র এ  রোজা-রমজানের দিনে আমরা সারা দিন উপবাস থেকে সিয়াম সাধনা করি এবং  শেষ রাতে উঠে সেহরি খাই। রোজার দিনে আমরা ইচ্ছা করলেই বেশি দান-খয়রাত করার  চেষ্টা করতে পারি। এ সময়ের দানকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বরকতময় বলা হয়েছে। এভাবে মাসব্যাপী কমপক্ষে রোজার মাসে মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের যে চেষ্টা আমরা করব তাতে আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, মমত্ববোধ ও সহানুভূতির গুণ সৃষ্টি হবে। আর এ গুণ আমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ও সুন্দর মানুষে পরিণত করতে সহায়তা করবে। এভাবেই আমরা আল্লাহর পছন্দনীয় বান্দা হিসেবে গণ্য হবো। রমজান মাস আত্মরক্ষার মাস। এ মাস ধৈর্য ও সহনশীলতার মাস। এ মাস ইবাদতের মাস। রমজান সমাজের অন্যান্য মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বোঝা ও লাঘব করার মাস। সর্বোপরি, মাহে রমজান পবিত্রতা অর্জন করে আখেরাতে মুক্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাস। তাই আসুন, সবাই মিলে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি। এ মাসকে নিজেদের গড়ে তোলার প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে  গ্রহণ করি, যাতে সেই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে বাকি ১১ মাস চলতে পারি। যাতে ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত হয়।

সুবীর নন্দী আর নেই

ঢাকা অফিস ॥ বাংলা গানের ভুবনে বহু জনপ্রিয় গান উপহার দেয়া কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শিল্পীকে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সুবীর নন্দীর দরদী কণ্ঠে ‘দিন যায় কথা থাকে’, আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’র মত বহু গান শ্রোতার হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। ৬৬ বছর বয়সী এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিতভাবে তার ডায়ালাইসিস করতে হত। এর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে গত ১৪ এপ্রিল তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) ভর্তি করা হয়। ১৮ দিন পর তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, “সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তার ফের হার্ট অ্যাটাক হয়। তাকে চারটি রিংও পড়ানো হয়েছিল। কিন্তু আজ ভোরে সব শেষ হয়ে গেল।” এই শিল্পীর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন। ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় সুবীর নন্দীর জন্ম। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশব কেটেছে চা বাগানে। পরিণত বয়সে গানের পাশাপাশি চাকরি করেন ব্যাংকে। প্রাইমারিতে পড়ার সময় মা পুতুল রানীর কাছে সংগীতের হাতেখড়ির পর ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন সুবীর নন্দী। সিলেট বেতারে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে। এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। রেডিওতে তার প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে আসেন সুবীর । ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমানের অশিক্ষিত। সেই সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ধীরে ধীরে তার কণ্ঠের রোমান্টিক আধুনিক গান ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছ’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কইন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’র মত গানগুলো সুবীর নন্দীকে পৌঁছে দিয়েছে ভক্ত-শ্রোতাদের হৃদয়ে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দেওয়া সুবীর নন্দী চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও চারবার বাচসাচ পুরস্কার পেয়েছেন। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছরই তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে। ‘প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’, সুরের ভুবনে, ‘গানের সুরে আমায় পাবে’ ছাড়াও ‘প্রণামাঞ্জলী’ নামে একটি ভক্তিমূলক গানের অ্যালবাম রয়েছে তার। মরদেহ দেশে আসবে আজ প্রয়াত সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মরদেহ আজ বুধবার সকালে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হবে। তবে তার শেষকৃত্য কোথায় হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় সুবীর নন্দীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রথমে নেওয়া হবে তার গ্রিন রোডের বাসায়। এরপর বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনেও নেওয়া হবে তার কফিন। সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিতভাবে তার ডায়ালাইসিস করতে হত।

রাফসানের সন্ধান চাই

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার অন্তর্গত হাতিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রাফসান হোসেন নিখোঁজ হয়েছে। ১৪ বছর বয়সী এই কিশোর গত ২মে কুষ্টিয়া শহরের র‌্যাব গলির শাহীন ম্যানশন থেকে সকাল ৮টার দিকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার কোন হদিস নেই। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে পরদিন অর্থাৎ ৩মে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। যার নং-১১২।

রাফসানের শারীরিক বর্ণনা, গায়ের রং শ্যাম বর্ণ, মুখমন্ডল গোলাকার, গড়ন মিডিয়াম, উচ্চতা ৫ফুট ৩ইঞ্চি। বাড়ি থেকে বের হবার সময় পরনে ছিল প্রিন্টের শার্ট ও গ্যাবাডিন প্যান্ট। বিজ্ঞপ্তি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে হাজী হাসেম ও গোলবাহার  নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ  থেকে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ১ মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার  ফ্রেশ এগ্রোফুড প্রোডাঃ লিমিটেডে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন  আজকে পহেলা রমজান তাই সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানায়। হাজী হাসেম ও গোলবাহার  সমাজ কল্যাণ সংস্থার এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ইবাদতের মধ্যে পড়ে। এভাবে যদি সমাজের সকল বিত্তবান শ্রেণীর মানুষেরা এগিয়ে আসতো তাহলে হয়তো আজ কোন মানুষ না খেয়ে রোজায় থাকতো না বা ইফতারটা একটু ভালোভাবে করতে পারতো। এসময় তিনি আলহাজ্ব মোঃ জামসের আলী ও হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান পৃষ্ঠপোষক  হাজী ওমর ফারুককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন আজকের এই আয়োজন যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে। খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার  চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান (আতা)। ফ্রেশ এগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এর পরিচালক ও উক্ত সংস্থার  প্রধান পৃষ্ঠপোষক হাজী ওমর ফারুকের পরিচালনায় ও প্রগতি এগ্রোফুড প্রোডাঃ লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ জামসের আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আরো উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন,  বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মমিন মন্ডল, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মারুফ, বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলামসহ স্থানীয়  ব্যক্তিবর্গ। এসময় প্রায় ৬০০ গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে জন প্রতি ১৫ কেজি চাউল, ১ কেজি তেল, ডাউল, মুড়ি, খেজুর সহ প্রায় ২৭ কেজি করে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থা বিভিন্ন সময় শিক্ষা সামগ্রী, বৃত্তি প্রদান সহ নানা ছোট ছোট উন্নয়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত থেকে সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে।

 

  দৌলতপুর সীমান্তে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ ভারতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ ভারতীয় ৫০৪০ পিস ট্যাবলেট ও ২০ জারিকেন তরল ভিটামিন উদ্ধার হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটের মালিক বা জড়িত কেউ আটক হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন মরারপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ট্যাবলেট ও তরল ভিটামিন উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ চিলমারী বিওপি’র হাবিলদার মো. নুরে আলমের নেতৃত্বে বিজিবি’র টহল দল মরারপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন গরু মোটাতাজাকরণ ভারতীয় ৫০৪০ পিস ট্যাবলেট ও ২০ জারিকেন তরল ভিটামিন উদ্ধার

কুষ্টিয়ায় বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বোরো চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর গোডাউনে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন। এ সময় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ, চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদ, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আব্দুস সামাদ, কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ও  ফ্রেস এগ্রোফুডের কর্ণধার ওমর ফারুক,  চালকাল মালিক সমিতির নেতা জয়নাল আবেদিন সাধুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ বছর প্রতিকেজি ৩৬ টাকায় সংগ্রহ করছে সরকার। ৩৩৬ মিল মালিক চাল সরবরাহ করছে। জেলায় ২৯ চলতি বছর ২৯ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন কেনা হচ্ছে। আর সদরেই কেনা হচ্ছে ২৩ হাজার ৯১১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা-এতিমদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ইফতার

ঢাকা অফিস ॥ প্রথম রোজায় এতিম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের সদস্য, আলেম এবং বঙ্গভবনের কর্মচারীদের সঙ্গে ইফতার করলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এই ইফতার অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সাইফুল কাবীর। ইফতার অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট আলেম, বিভিন্ন এতিমখানা খানা থেকে আসা শিশু-কিশোর এবং বঙ্গভবনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন টেবিলে ঘুরে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদসহ রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরা ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন।