পদ্মা সেতুর ১২তম স্প্যান স্থাপন  দৃশ্যমান হলো সেতুর ১৮শ’ মিটার

ঢাকা অফিস ॥ পদ্মা সেতুর ১২তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ১৮শ’ মিটার। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘৫-এফ’ নম্বর স্প্যানটি অস্থায়ীভাবে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের মাঝামাঝি ২০ ও ২১ নম্বর পিয়ারে বসানো হয়। এর আগে পদ্মা সেতুর ১২তম স্প্যান পিয়ারের ওপর বসানোর জন্য আজ মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে পিয়ারের কাছে নেয়া হয়। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রওনা হয়ে স্প্যানটি মাত্র ৪০ মিনিটেই অর্থাৎ ১০টায় পৌছে যায় গন্তব্যে। স্প্যানটি পিয়ারের সামনে পজিশনিং করা হয়। এরপরই দুপুরে পিয়ারের ওপর স্প্যানটিকে স্থাপন করা হয়। স্প্যানটি ৩০-৩১ নম্বর নম্বর পিলারের জন্য তৈরি। কিন্তু পিয়ার দুটি এখনও সম্পন্ন না হওয়ায় এবং কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্প্যান রাখার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এটি অস্থায়ীভাবে ২০-২১ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয়। ৩০-৩১ নম্বর পিয়ার সম্পন্ন হওয়ার পর এটি সরিয়ে নেওয়া হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, ‘৫-এফ’ নম্বর স্প্যানটি গত শুক্রবার বসানোর পরিকল্পনা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে তা বাতিল করা হয়। সোমবার তাই কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটিকে বহন করে নিয়ে যায় ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ নামের ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ। সেতু বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান হয়েছে ১৮০০ মিটার। পদ্মা সেতুর প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুতে ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৬২টি পাইল ড্রাইভ স¤পন্ন হয়েছে। বাকি ৩২টি পাইল ড্রাইভের কাজ চলছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ২৫টি পিয়ারের। বাকি ১৭টি পিয়ারের কাজও চলছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটিতে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে। এরই মধ্যে ১১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তেও একটি ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারের স্প্যানটি পাশের ৪ ও ৫ নম্বর পিয়ার বসানো হয়েছে। এই দু’পিয়ারের কাজ শেষ হলেই এটি সরিয়ে আনা হবে। এছাড়াও পদ্মা সেতুর ১৩ তম স্প্যানটি আগামী ১০মে বসানোর কথা জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা। পদ্মা সেতু প্রকল্পের একটি সূত্র জানায়, এ সেতুর এ পর্যন্ত স্থাপন করা ১২টি স্প্যানের মধ্যে বাকী ১১টির অবস্থান হচ্ছে শরীয়তপুরের জাজিরায় এখন দশটি পিয়ার (৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২) ৯টি স্প্যান দৃশ্যমান আছে। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে দুটি। (১৩, ১৪ ও ৪, ৫) নম্বর পিয়ারে একটি স্থায়ী স্প্যান ও একটি অস্থায়ী স্প্যান বসানো হয়েছে। জাজিরায় স্প্যানগুলোতে রেলওয়ে স্ল্যাব ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছে। সম্পূর্ণ সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি। মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ২২টি স্প্যানের মধ্যে ১১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মূল পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। দু’পাড়ে সংযোগসড়কসহ সেতুটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ বহুমুখী এই সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

 

কঙ্গোতে সড়ক দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরার মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ কঙ্গোতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রৌশন আরা। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, কঙ্গোর স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কিনশাশায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টরের দায়িত্বে থাকা রৌশন জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ ফ্রন্ট পুলিশ ইউনিটের মেডাল প্যারেডে যোগ দিতে শনিবার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে পৌঁছান। বাংলাদেশ ফ্রন্ট পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার (এসপি) ফারজানার গাড়িতে করে রোববার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। একটি লরির সঙ্গে ধাক্কা লেগে গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ৫৭ বছর বয়সী রৌশন আরা। সোহেল রানা জানান, ওই গাড়িতে থাকা ফারজানা এবং গাড়ির চালক নিরাপদে আছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স করে ১৯৮৮ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন রৌশন আরা বেগম। এক মেয়ের মা রৌশনই দেশের পুলিশ বিভাগের প্রথম নারী অফিসার, যিনি পুলিশ সুপারের দায়িত্বে জেলা পুলিশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অতিরিক্ত আইজিপির পদে বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী অফিসার তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের হিসাবরক্ষণ বিভাগের সহকারী কমিশনার, রিজার্ভ অফিস, ট্রাফিক বিভাগ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রশিক্ষণ ইউনিটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন রৌশন। কসোভোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ক্রাইম অ্যানালাইসিস অফিসার, সুদানে আনমিস-আনপোল শান্তিরক্ষা মিশনের চিফ অব স্টাফ হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বের জন্য রৌশন আরা দুইবার আইজিপি ব্যাজ পান এবং বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুলিশ পদক ‘পিপিএম’ অর্জন করেন।

ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ ছাত্র নিহত

সুলতান আল একরাম ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাস্টসাগরা ও পলিটেকনিক এলাকায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ২ ছাত্র নিহত হয়েছে। সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো সদর উপজেলার কাস্টসাগরা গ্রামের সরোয়ার হোসেন মালিতার ছেলে রাব্বুল হোসেন (১৮) ও ঝিনাইদহ শহরের চাকলা পাড়া এলাকার মৃত এলিট হোসেনের ছেলে উল্লাস হোসেন (১৫)। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান জানান, বিকেলে ঝিনাইদহ শহর থেকে  মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিল কলেজ ছাত্র রাব্বুল হোসেন ও তার বন্ধু রিয়াজ মোর্শেদ। পথে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের কাস্টসাগরা এলাকায় পৌঁছালে মোটর সাইকেলটি নিয়ন্ত্রয় হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পরে। তাদের গুরুতর আহত অবস্থা ঝিনাইদহ সদর নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাব্বুল মারা যায়। অপরদিকে বিকেলে একই সড়কের ঝিনাইদহ পলিটেকনিক এলাকায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র উল্লাস নিহত হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

 

পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার্থী-অভিভাবক -শিক্ষকদের কৃতিত্ব – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের কৃতিত্ব বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০১৯ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দশ বোর্ডে গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই আপনার (ডা. দীপু মনি) প্রথম ফলাফল। পাসের হার বৃদ্ধি আপনার উপহার কি না-জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাসের হার বেড়েছে এটি আমাদের উপহার -এটা মনে করার কারণ নেই। পরীক্ষার্থীরাই পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল করেছে। আমরা চাই সব শিক্ষার্থী পাস করবে, কিন্তু কোনো না কোনো কারণে অনেক শিক্ষার্থী পাস করে না।’ তিনি বলেন, ‘পাসের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এতে আমাদের মন্ত্রীদের কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্বের ব্যাপার নেই। এটি পুরোপুরি শিক্ষার্থী-অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সম্মিলিত কৃতিত্ব।’ কোনো কোনো বোর্ডে এবার পাসের হার চোখে লাগার মতো কমেছে ও বেড়েছে -এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোথাও কোথাও বেড়েছে, কোথাও কমেছে। যেখানে বেশি বেড়েছে সেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা ছিল না।’ ঢাকা বোর্ডে পাসের হার এক দশমিক ৮৬ শতাংশ কমার কারণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা বোর্ডে গণিতে পাসের হার গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে। মানবিকে গত বছরের তুলনায় কমেছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। যেহেতু মোট পরীক্ষার্থীর ৪০ শতাংশ মানবিকের পরীক্ষার্থী, তার প্রভাব পুরো পাসের হারের উপরে কিছুটা পড়েছে।’ সিলেটে পাসের হার সবচেয়ে কম হওয়ার কারণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সেখানেও গণিতে পাসের হার কম।’ কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার বেশি হওয়ার কারণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথাও যখন কেউ এগিয়ে যাচ্ছে সেটা আমাদের শেখার আছে। ধারাবাহিকভাবে একটি বোর্ড ভালো করলে নিশ্চয়ই ভালো কিছু করছে। এই পরিসংখ্যান থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’ আইসিটি শিক্ষায় পাসের হার কম নিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘আইসিটির শিক্ষক এখনও অপ্রতুল। আমরা শিক্ষক বাড়ানো ও প্রশিক্ষণ দেয়ার চেষ্টা করছি। কারিকুলাম রিভিউ করার ক্ষেত্রে আইসিটি শিক্ষাকেও আরও বেশি দক্ষ করে তুলতে পারি -সে বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় জেলা মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন অব্যাহত বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের বিচারের দাবীতে, সোমবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি সামসুন্নাহারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বোধদয়ের সভাপতি এ্যাডঃ লালিম হক, প্রবীণ হিতেষী সংঘের সদস্য শরিফুল হক, নিত্য গোপাল বিশ্বাস, সমাজ সেবী প্রভাত কুমার মজুমদার, শহিদুল হক, মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তসলিমা খানম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক নিলুফা বেগম রীনা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেফালী আক্তার, আন্দোলন সম্পাদক নাজমা আক্তার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাঈদা হক, অর্থ সম্পাদক শেখ সামসুন্নাহার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফিরোজা খানম, সদস্য শিপ্রা নন্দী সহ বিভিন্ন পাড়া কমিটির নেতৃবৃন্দ।

মেহেরপুরের রাজনগর গ্রামে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মহিলা ও শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

সাহাজুল সাজু ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে ২৪ঘণ্টার ব্যবধানে ভিন্ন দূর্ঘটনায় মহিলা ও শিশুসহ ৩জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়। এর আগের দিন রোববার আরো একজন মারা গিয়েছে। স্থানীয়রা জানান,সোমবার দুপুরের দিকে রাজনগর গ্রামের জহুরুল ইসলামের শিশু ছেলে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ (৪) বাড়ির পাশে একটি ডোবার পাড়ে খেলা করছিল। অসাবধানবশত সে পানিতে ডুবে মারা যায়। এর ৩ ঘণ্টা পর বিকেলে একই গ্রামের  কৃষক আরিফুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন নিজ বসতবাড়ির টিনের ঘরের সাথে টাঙ্গানো তারের সাথে ভেজা কাপড় রাখতে গেলে বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এর আগের দিন রোববার দুপুরে একই গ্রামের সাজু (২৫) নামের এক নির্মাণ শ্রমিক নিজ গ্রামের এক কৃষকের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুত স্পৃষ্টে মারা যান। মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  এদিকে প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই গ্রামের তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদ নেতৃবৃন্দের প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনা

সাপ্তাহিক ইস্পাত পত্রিকার সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরী দীর্ঘদিন রোগে ভূগছেন। তার আশুরোগমুক্তি কামনা করে দোয়া করেছেন বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুরে আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরীর নিজ বাড়িতে এ দোয়া মাহফীল করেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের কুষ্টিয়া  নেতৃবৃন্দ আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরীর সাথে সাক্ষাত করে তার শারিরীক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরী ভাঙাকন্ঠে ও ইশারা করে বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের কুষ্টিয়া নেতৃবৃন্দের কাছে দোয়া চান। উলামা নেতৃবৃন্দ খতমে খাজেগান ও এস্তেগফার পাঠ করে অসুস্থ চৌধুরীর জন্য মহান আল্লাহর কাছে আশুরোগমুক্তি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করেন। দোয়া পরিচালনা করেন বিশিষ্ট তাফসীরকারক দেশবরেণ্য আলেম আলহাজ্ব মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান। উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মাওলানা ফারুক আযম জিহাদী, সাধারণ সম্পাদক সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা খালিদ হোসাইন সিপাহী, বঙ্গবন্ধু উলামা পরিষদের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সোহাগ মাহমুদ, সাংবাদিক রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্য উলামাবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 ॥ মাওলানা মোঃ আব্দুল হালীম শরীফ ॥

মাহে রমজান ও জ্বলন্ত আত্মায় আনন্দের ঢেউ

দয়াময় আল্লাহর করুনা অপার ঃ সৌর বছরের চেয়ে এগার দিন পূর্বেই শুরু হয় চান্দ্র বছর। অগ্রসর হয় ধর্মীয় সাংস্কৃতির অমোগ ধারা। মাহে রমজান তারই এক উজ্জল দৃষ্টান্ত নয় কি? মানুষ এক স্রষ্টার দাসত্বে স্বীকৃতি দিয়ে দৃঢ প্রত্যয়ের সাথে সুবহে সাদিক হতে লাল সূর্যটি ডুবে যাওয়া পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকে। সরে দাড়ায় কামভাব চরিতার্থ করা হতে। হস্ত পদ, চক্ষু কর্ণ ও জিহ্বা সামাল দেয়। কুচিন্তা হতে মুক্ত রাখে মস্তিস্ক। থামিয়ে দেয় গর্হিত পথে পদচারণা। এক আল্লাহতে বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশা হয় তার লক্ষ্যস্থল। পার্থিব ব্যাস্ততা পরিহার করে পারলৌকিক কর্মে নিবিষ্ট হয়। তখন সেই মানষটি আতœপ্রকাশ করে বেহেশতি মানুষ রূপে। ইতিপূর্বেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সিয়াম সাধনায় পাপাতœার তাড়না। খুলে গেলো তার অভ্যর্থনার নিমিত্তে জান্নাতের সমস্ত ফটক, বন্ধ হল জাহান্নামের সব কটি দরজা। পায়ে বেড়ী পরিয়ে দেওয়া হল বিতারিত শয়তান কে, যেন ঐ স্বর্গীয় মানুষটিকে ধোকার জ্বালে ফেলতে না পারে। আকাশের পথ বেয়ে নেমে এল অসীম রহমত। পাপাতœা তখন রূপ নেয় স্বর্গীয় আতœার। আনন্দের ঢেউ বইতে থাকলো তার সকল অঙ্গে, প্রত্যন্ত শাখায়। ফুলে ফলে সুশোভিত প্রবাহিত ঝর্ণাধারায় পরিবেষ্টিত রাইয়্যান দ্বার থাকে সেই মোমিন রোজাদারের জন্য সুরক্ষিত। বান্দা তখন ভাবতে থাকে ঃ আমিতো সিয়াম পালন করেছি, ক্বিয়াম করেছি, ক্বদরের রজনীতে বন্দেগী করেছি, তাই আমার ছোট খাটো যাবতীয় গোনাহ মাফ হয়ে গেলো। আমার এ রোযা আল্লাহ তারই জন্য নির্দ্ধারন করে নিলেন। তাই মহান সত্বাই আমার পুরস্কার। সে পুরস্কার তার স্বীয় হস্ত হতে লাভ করবো। আমার মুখের গন্ধ মহান শাহানশাহের কাছে সুগন্ধির বস্তু হয়েছে। যেন উহা মেশক আম্বার।

পবিত্র রোজা ও কোরআন তেলাওয়াত আমার নাযাতের লক্ষ্যে সুপারিশ করবে এবং তা গৃহীতও হবে। এ মাসের একটি নফল ইবাদত ভিন মাসের একটি ফরজ ইবাদতের সমান আর একটি ফরজ ভিন মাসের ৭০টি ফরজের সমান পূণ্য এনে দেয়। বেহেশত আমার জন্য, কারণ আমি সহ্যের পরিচয় দিয়েছি, সহমর্মিতা দেখিয়েছি। ঈমানদারের রুজি বৃদ্ধির মাস। দুধের মিকসার/একটি খোরমা/না হয় অন্তত ঃ পানি দিয়ে ইফতার করালে তিনটি পুরস্কার ঃ গোনাহ মাফ, জাহান্নাম থেকে নাযাত এবং ঐ রোজাদারের রোজার সমান সওয়াবের মালিক হওয়া গেলো। আর পেট পুরে খাওয়াতে পারলে রাসুল (সাঃ) এর হাউজে কাউছার হতে পান করবে এমন শরবত যে, জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত পিপাসার কোন বালাই থাকবে না। রাসুল (সাঃ) এর মধুর বাণী ঃ সাহরী খাও তাতে বরকত রয়েছে। প্রতি দশ দিন যথা ক্রমে করুণা, ক্ষমা ও মুক্তির সওগাতবাহী মাহে রমজান। চাকর চাকরানির কাজের বোঝা কমিয়ে দিলে গোনাহ মাফ ও দোযখ মুক্তি। বান্দা কি চায়, তা দেখার জন্য আল্লাহ হাজির। বেহেশত রাখা হয় সুসজ্জিত করে রমজানের জন্য একটি বছর ধরে। মাসের প্রথম দিনে বইতে থাকে আরশের নিচে সুশিতল সমিরণ জান্নাতের বৃক্ষের পত্ররাজি দুলিয়ে কুচকুচে কালো আখিঁবিশিষ্ট হুর দের গায়ের উপর দিয়ে। তারা তখন বলতে থাকে প্রভো, তোমার বান্দা যারা, হোক যে সাথি মোদের তারা, মোদের দেখে মন জুড়ায়, তাদের দেখেও মন জুড়াই। রমজানের শেষ রজনীতে রাসুলের (সাঃ) উম্মত ক্ষমা পেয়ে গেলো। তবে কি কদরের রাতে? কখনই নয়। কাজ যখন শেষ হয়, মুজরী তখনই পায়। এ সকল আশার বাণী ঐ মানুষটির জন্য প্রযোজ্য, যে দহন করতে পেরেছে তার সকল কু প্রবৃত্তি কে। তা না হলে নয়। যে মিথ্যে বচন ও সেরূপ কর্ম ছাড়তে পারেনি, আল্লাহর নিকট কোন প্রয়োজন নেই তার নিছক পানাহার বর্জন করে রোজা রাখার। হারাম ভক্ষন করলে, উপার্জন অবৈধ হলে এমন প্রকৃতির রোজার দরকার নেই। প্রিয় রাসুল (সাঃ) বলেন ঃ বহু রোজাদার এমন রয়েছে যার রোজা শুধু উপবাস, এ ভিন্ন আর কিছুই নয়। আর এমন নামাজী আছে যাদের নামাজ রাত্রী জাগরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

সিয়াম সাধনা কে যদি মজবুত ঢাল সরূপ ব্যবহার ই না করা গেলো তা হলে এমন রোজা দিয়ে এত বেশি সম্মানের দাবী করা কি যুক্তি যুক্ত যে আমার রোজা আমার কু প্রবৃত্তির প্রজ্জলন আর আমি হতে পারি স্বর্গীয় আনন্দ ভোগী আল্লাহর দাস?।

লেখক ঃ সাবেক উপাধ্যাক্ষ, কুওয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসা, কুষ্টিয়া এবং খতিব, কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ।

কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান আব্দুল লতিফ বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন বিএফএ পরিচালনা পরিষদের পরিচালক নির্বাচিত হলেন

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ মেয়াদে পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান ও বিএফএ এর কুষ্টিয়া জেলা ইউনিটের বার বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। তিনি সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

এসএসসির ফলাফলে কুষ্টিয়া জেলা

কুষ্টিয়ায় শীর্ষে সরকারী বালিকা বিদ্যালয় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন শিক্ষার্থী

নিজ সংবাদ ॥ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জেলার মধ্যে শীর্ষ স্থান লাভ করেছে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। গতবার থেকে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল । জানা গেছে, এবছর কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ৩৪৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫  পেয়েছে মাত্র ১৯০ জন। এ গ্রেড পেয়েছে ১২৭ জন শিক্ষার্থী। গতবছর এই প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ছিলো ১২৩ জন। জিপিএ-৫ বৃদ্ধিতে মুঠোফোনে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম সন্তোস প্রকাশ করেন। অন্যদিকে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বছর ৩১০ জন পরীক্ষায় অংশ  নেয়, কৃতকার্য ৩০৫ জন পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১৬১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। গতবছর এই প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ছিলো ১৪৬ জন। কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর ১৪৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে। জিপিএ-৫  পেয়েছে ৪৪ জন শিক্ষার্থী। অপরদিকে বোর্ডের মধ্যে গত বারের ৫ম কুষ্টিয়া জেলা এবার ৬ষ্ঠ। এ জেলা থেকে ২৪ হাজার ৪২৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১৮ হাজার ৫২৬ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

রমজানুল মোবারক

রমজানে মুসলিম সমাজের সর্বময় কল্যাণ নিহিত

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ আলহামদুলিল্লাহ। বছর ঘুরে আমাদের মাঝে শান্তির পয়গাম, পুণ্যের আহ্বান, জান্নাতের হাতছানি, বরকতের সওগাত, রহমতের আশ্বাস, মুক্তির প্রতিশ্র“তি, বদরের গৌরব, কদরের সম্মান সর্বময় কল্যাণ নিয়ে সমুপস্থিত মহীয়ান মাহে রমজান; মুমিনের প্রতীক্ষিত ও কাক্সিক্ষত মাস রমজানুল মোবারক। আমাদের প্রাণ আজ উদ্বেল, উচ্ছল, সেহরির অনন্য স্বাদ, দিনময় অনাহারের অপার আনন্দ, ইফতারের অপূর্ব তৃপ্তি, তারাবির আকর্ষণ, ঈদের বিমল হাসি খুশিপূর্ণ শিহরণ জেগেছে বিশ্বব্যাপী মুসলিম হৃদয়ে; তাই পলে পলে উঠেছে গুঞ্জন-খোশ আমদেদ মাহে রমজান, আসসালামু আলাইকুম ইয়া শাহরাস সিয়াম। প্রতিবারের ন্যায় এবারো ‘রমজানুল মোবারক’ শিরোনামে আমাদের ধারাবাহিক লেখার আয়োজন থাকবে। পাঠক আশা করি আপনারা আমাদের ‘রমজানুল মোবারক’ প্রতিদিনের লেখাটি পাঠ করবেন এবং তাতে রমজান বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন তথ্য জানতে পারবেন। আজ রমজানের প্রথম রোজা। রোজা মুসলমানদের কাছে বহুল পরিচিত ও পালনীয় ফরজ ইবাদত। এ সময় মুসলিম উম্মাহ পুরো এক মাস  রোজা পালন করে। রমজান হিজরি সালের নবম মাস। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজ’ থেকে এসেছে। ‘রমজ’ অর্থ দহন বা  পোড়ানো। এ মাসে রোজা পালন করলে মানুষের মধ্য থেকে  লোভ-লালসা, পাপ-পঙ্কিলতা ও হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত হয়। আগুন যেমন কোনো জিনিসকে পুড়িয়ে ফেলে, ঠিক তেমনি  রোজাও মানুষের অসৎ কাজকে পুড়িয়ে ফেলে। রোজা পালনকারী রমজানে তার সব পাপ মুছে ফেলার সুযোগ লাভ করে। এ অর্থে রোজার মাসকে মাহে রমজান বলা হয়।  রোজা ফারসি শব্দ, এর অর্থ উপবাস। আরবিতে রোজাকে বলা হয় সওম। সওমের বহুবচন সিয়াম, এর অর্থ বিরত থাকা। তাই শরিয়তের পরিভাষায় রোজা বলতে বোঝায়- সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাসসহ আল্লাহর নিষিদ্ধ সব কাজ থেকে বিরত থাকা। রোজা শুধু হজরত মুহাম্মদ সা:-এর উম্মত মুসলমানদের ওপরই ফরজ করা হয়নি, এর আগেও রোজা পালনের বিধান ছিল। পৃথিবীতে  প্রথম মানুষ আমাদের আদি পিতা নবী হজরত আদম আ:, তিনিও রোজা পালন করতেন। হজরত নূহ আ:-এর সময় প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার প্রথা প্রচলিত ছিল। হজরত দাউদ আ: তার শিশুপুত্রের অসুস্থতার সময় সাত দিন  রোজা পালন করেছেন বলে জানা যায়। হজরত মূসা আ: ও ঈসা আ: ৪০ দিন করে রোজা রেখেছেন। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা: রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে মহররমের নবম ও দশম তারিখে রোজা রাখতেন। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষ (৬২৩ ঈসায়ী) রোজাকে ফরজ করে আল্লাহপাক কোরআনের আয়াত নাজিল করেন। ‘রমজান মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি সঠিক পথের সন্ধানদাতা, চলার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনাবলি, হক ও বাতিলকে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনকারী। এখন থেকে  তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটি পাবে সে পুরো মাস ধরে  রোজা রাখবে। যে ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে যায় বা সফরে (ভ্রমণে) থাকে, সে যেন অন্য দিনগুলোয় রোজার মাসের পরে অবশিষ্ট  রোজার সংখ্যা পূর্ণ করে নেয়। আল্লাহ তোমাদের সাথে  কোমল নীতি অবলম্বন করতে চান, কঠোর নীতি অবলম্বন করতে চান না।’ – আল বাকারা। আর রমজান মাসের একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের একটি ফরজের শামিল, একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের ৭০টি ফরজের শামিল। তাই আমাদের এই বরকতময় ও কল্যাণময় মাসকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা জানি সেনাবাহিনীতে কেউ যোগ দিলে প্রথমে তাকে ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ নিতে হয়। আর রমজানের রোজাও মুসলমানদের জন্য ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ স্বরূপ। এ মাসের  রোজা রাখার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেহরি ও ইফতার করতে হয়। সারা দিন প্রচন্ড গরমের মধ্যে না খেয়ে ও পানাহার না করে গরিবরা কী ধরনের কষ্ট অনুভব করে, তা অনুভব করিয়ে দেয় রোজা। আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা  রোজার মাধ্যমে পাওয়া যায়। যেমন অন্যান্য ইবাদতে মানুষকে দেখানো ‘রিয়া’ অথবা কোনো কোনো সময় অহঙ্কার এসে যায়। কিন্তু রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য। কেননা  গোপনে যদি কিছু খেয়ে নিই তা তো একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর  কেউ দেখেন না। কিন্তু আমরা খাই না শুধু আল্লাহর ভালোবাসার টানে ও ভয়ে। জীবনকে কুরআনের আলোয় গড়তে আল্লাহ আমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন। হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ। ঢাল  যেভাবে শক্রর আক্রমণ থেকে কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করে, অনুরূপ রোজাও ব্যক্তিকে শয়তানি হামলা থেকে রক্ষা করে। সুতরাং  রোজাদার অশ্লীল কথা বলবে না ও জাহেলি আচরণ করবে না। কোনো লোক তার সাথে ঝগড়া করতে উদ্যত হলে বা গালমন্দ করলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার।’ রাসূল সা: এ কথা দুইবার বলেছেন, ‘ওই স্বত্তার শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহতায়ালার কাছে মিশক আম্বরের চেয়েও অতীব সুগন্ধময়। কেননা রোজাদার কেবল আমার সন্তুষ্টির জন্যই দিনের বেলা পানাহার ও অন্যান্য বিষয় ত্যাগ করে। রোজা আমার জন্য এবং আমি বিশেষভাবে রোজার পুরস্কার প্রদান করব। আর নেক কাজের পুরস্কার ১০ গুণ পর্যন্ত দেয়া হয়ে থাকে। তাই রোজার ১০ গুণ পুরস্কার দেয়া হবে।’ রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজানের মাস উপস্থিত হলে রহমতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে এবং শয়তানগুলোকে আবদ্ধ করা হয়।’  রোজার মাধ্যমে আমরা অন্যায়, গুনাহ ও পাপাচার থেকে মুক্ত থাকতে পারি। কেননা এ মাসে শয়তানদের আবদ্ধ রাখা হয়। কিন্তু শয়তানের অনুসারী খারাপ মানুষদের তো বেঁধে রাখা হয় না, তাই তাদের থেকে বাঁচার জন্য আমাদের চেষ্টা করতে হবে। রাসূল সা: আরো বলেছেন, ‘ যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা ও অশালীন আচরণ থেকে বিরত থাকল না তার ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কষ্ট পাওয়াতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন  নেই।’

১০৭ প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

ঢাকা অফিস ॥ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর দেশের ১০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ পরীক্ষায় গত বছর ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। সেই হিসেবে এবার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছ দুটি। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার  ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। এবার বরিশাল বোর্ডের দুইটি এবং দিনাজপুর, রাজশাহী ও যশোর বোর্ডের একটি করে প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে এবার এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোডের ৫৯টি ও কারিগরি বোর্ডের ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসএসসিতে ২০১৭ সালে ৯৩টি এবং ২০১৬ সালের ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করে। ২০১৫ সালে ৪৭টি এবং ২০১৪ সালে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল।

২৫৮৩ স্কুলের সবাই পাস

ঢাকা অফিস ॥ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার সারা দেশে ২ হাজার ৫৮৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এ পরীক্ষায় এক হাজার ৫৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এই হিসাবে এবার শতভাগ পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১ হাজার ৯টি। গতবছর ২৮ হাজার ৫৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর এবার মোট ২৮ হাজার ৬৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। ২০১৭ সালে ২ হাজার ২৬৬টি, ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৭৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। ২০১৫ সালে ৫ হাজার ৯৫টি এবং ২০১৪ সালে ৬ হাজার ২১০টি প্রতিষ্ঠানের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল মাধ্যমিকে। এবার ঢাকা বোর্ডে ১৪৬টি, রাজশাহী বোর্ডে ৪৩১টি, কুমিল্লা বোডের ১৩২টি, দিনাজপুর বোর্ডের ১৩৮টি, সিলেট বোর্ডের ২২টি, যশোর বোর্ডের ২৭৫টি, বরিশাল বোর্ডের ৫০টি এবং চট্টগ্রাম বোর্ডের ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের ১ হাজার ২৬৩টি এবং কারিগরি বোর্ডের ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন।

এসএসসি পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ

ঢাকা অফিস ॥ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে অথবা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকে ফল জানতে পারবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গতবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল; জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৫ জন।এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন।পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২ জন ছাত্র এবং ৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৯৫ জন ছাত্রী।অন্যবার বোর্ড চেয়ারম্যানরা এসএসসি ও সমানের পরীক্ষার ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকায় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা।পরে লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো একটি লিখিত বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনান শিক্ষামন্ত্রী। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীও কথা বলেন।কৃতকার্য সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা কৃতকার্য হতে পারেনি আবার প্রস্তুত হয়ে পরীক্ষা দিলে ভালো করতে পারবে।

“মনে রাখবে তোমরাই আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার। তোমাদেরই এদেশের জনগণ এবং বিশ্বাবাসীর সেবায় নিয়োজিত হতে হবে। এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আয়ত্তের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক এবং মানবিকতায় পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে।”সময়মত ফল ঘোষণা করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।এবার আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪ হাজার ৫৫৬ জন।গতবার আটটি সাধারণ বোর্ড থেকে ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৩৫ জন।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিলে এবার ৮৩ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ২৮৭ জন।গতবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৩৭১ জন।এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৫১ জন।এই বোর্ডে গতবার পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ৪১৩ জন।ফল পুনঃনিরীক্ষারাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে।ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইযেন্টিফিকেশন নম্বর) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

আমি রাজা হতে আসিনি –  জি এম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে জি এম কাদের বলেছেন, রাজা বা জমিদার হতে নয়, দলকে ‘সঠিক পথে’ পরিচালনা করাই হবে তার প্রধান কাজ। গতকাল সোমবার ঢাকার বনানীতে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতির এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই কাদেরের এমন বক্তব্য আসে। তিনি বলেন, দলে এ মুহূর্তে ভাঙ্গনের আশঙ্কা তিনি দেখছেন না। ঐক্য ধরে রাখতে তিনি দলের সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর শিকদার লোটনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁও এসেছিলেন। জি এম কাদের বলেন, “আমি রাজা বা জমিদার হতে আসিনি। কারও ওপর কর্তৃত্ব করতে আসিনি। দলের বড় দুঃসময়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি, যখন দলকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল সরকারি মেশিনারি। আমি রাজনীতিতে লাভবান হতে আসিনি। আমি সবাইকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি, এটাই আমার লক্ষ্য।” জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের বয়স এখন নব্বই ছুঁই ছুঁই। গত জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে নিজের চেয়ার ছোট ভাই কাদেরকে একপ্রকার উইল করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেশে ফেরার পর মার্চ মাসে জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার জায়গায় আনেন স্ত্রী রওশনকে।  এরপর দুই সপ্তাহ না গড়াতেই দলের কো চেয়ারম্যানের পদে ছোট ভাইকে ফিরিয়ে আনেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ। পরে গত শনিবার রাতে এরশাদ নিজের বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদে আসীন করেন। জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। দলের নীতিনর্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তগুলো চেয়ারম্যান একা নেন বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কেউ কেউ। তাদের উদ্দেশে জি এম কাদের সোমবারের অনুষ্ঠানে বলেন, “এখন থেকে দলের কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হবে না। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দু-একজন যারা আছেন, তারাও নিশ্চয় অনুধাবন করবেন যে আমি তাদের উপর কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি। আপনারা আসবেন।দলের ভালোর জন্য আপনারা মতামত দেবেন। আপনাদের কথা মত আমি দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেব।” জিএম কাদের প্রতিশ্রুতি দেন, দলে কারও কিছু পাওয়ার থাকলে তিনি থাকবেন সবার পেছনে। কাউকে ছোট করার জন্য তিনি নেতৃত্ব করবেন না। দলের রাজনীতিতে তিনি ‘গুণগত পরিবর্তন’ আনবেন। দলের নেতাকর্মীদের একতা ধরে রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলার বিষয়েও সতর্ক করেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “দল ভেঙে পড়ার বিষয় এখানে আসেনি। যদিও শৃঙ্খলার বিষয় এখানে থাকে, সেটা যে কোনো সময় হতে পারে। নিয়ম শৃঙ্খলার ভেতরে যারা থাকবে না, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আলমগীর শিকদার লোটন দলের ‘ত্যাগী’ নেতাকর্মীদের ‘বঞ্চনার কথা’ অনুষ্ঠানে তুলে ধরলে জি এম কাদের বলেন, “যারা দলে জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন ও আনুগত্য প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সেভাবে সম্মান পাননি, আমি তাদের সামনে নিয়ে আসব।” হুট করে উড়ে এসে কেউ দলের প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “হুট করে কেউ এসে দলে ঢুকে পড়লে সেটা দলের জন্য মোটেও মঙ্গলজনক হবে না। এটা আর হবে না।” ভুলভ্রান্তি শুধরে নিয়ে এবার দলের সাংগঠনিক দিক মজবুত করার প্রত্যয় জানান দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। তিনি বলেন, “এখন দলকে রিকভারি করার সময় এসেছে। মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, আওয়ামী লীগের অবস্থাও আগামী পাঁচ বছরে আরও খারাপ হবে। সুতরাং দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। নিজেদের ভুল ত্রুটিগুলো আমার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এসে বলব। কিন্তু কানামাছি খেলা যাবে না। অন্য কিছু করার ছল করা যাবে না।” অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, সাঈফুদ্দিন মিলন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া ও যুগ্ম মহাসচিব নুরুল আলম নুরু সভায় বক্তব্য দেন।

এসএসসি উত্তীর্ণদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন, অনুত্তীর্ণদের জন্য সাহস

ঢাকা অফিস ॥ এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা ভালো করেছে, তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনে অবস্থান করা প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার পাঠানো এক বাণীতে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনুত্তীর্ণদের আগামীতে ভালো ফল করার সাহসও যুগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সকালে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার যে ফল ঘোষণা করেছেন, তাতে পাসের হার এসেছে ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গতবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল; জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫ হাজার ৩৫ জন। ফল ঘোষণার এই আয়োজনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো বাণী পড়ে শোনান শিক্ষামন্ত্রী। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীও কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারনি, আমি তোমাদের ধৈর্য্য ধরে, মনোযোগ সহকারে আবার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আগামীতে ভালোভাবে উত্তীর্ণ হতে পার। “মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। একাগ্রতা, অধ্যবসায় এবং পরিশ্রম যেকোনো অসাধ্যকে সাধন করতে সহায়তা করতে পারে। তোমরা যারা যেকোনো কারণেই হোক উত্তীর্ণ হতে পারনি, তোমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখন থেকে চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই তোমরা এ বাধা অতিক্রম করে ভাল ফল অর্জন করতে পারবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ বছর রেকর্ড ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ শিক্ষার্থী এসএসসি, দাখিল এবং সমমানের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। যেসব শিক্ষার্থী ভাল ফল করেছ, তোমাদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও ভাল ফল করতে হবে। “মনে রাখবে তোমরাই আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার। তোমাদেরই এদেশের জনগণ এবং বিশ্বাবাসীর সেবায় নিয়োজিত হতে হবে। এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আয়ত্তের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক এবং মানবিকতায় পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে।” শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আগামী প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” প্রতি বছরের মতো এবার ফল ঘোষণার সময় উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির অতি কৌশলের বলি মির্জা ফখরুল -তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সংসদে যোগ না দিয়ে সংসদ সদস্য পদ হারানো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলটির অতি কৌশলের বলি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এবার সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নিজেই স্বীকার করলেন। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির বহু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তারা প্রকৃতপক্ষে আজকে একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে রূপান্তরিত হয়েছে।’ ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল বিএনপিকেই দিতে হবে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির ৫ জন শপথ গ্রহণ করেছে তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব শপথ গ্রহণ করেননি। বিএনপির অতি কৌশলের বলি হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবকিছুই একটু দেরিতে বুঝে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বলেছেন, সংসদে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সে সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। বিএনপি আসলে এরকম বহু ভুল সিদ্ধান্ত গত কয়েক বছরে নিয়েছে।’ ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি, তা ছিল তাদের জন্য একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। আত্মহননের মতো সিদ্ধান্ত। অনেক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপি জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।’ বলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের উপর পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করাসহ হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি যে আন্দোলন করেছে এতে দলটি আসলে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিএনপি প্রথমে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না, সেই সিদ্ধান্তহীনতার শেষ পর্যায়ে গিয়ে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও যেন করেনি।’ ‘বিএনপি যদি গত নির্বাচনে প্রথম থেকে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিত, অংশগ্রহণ করার পর তারা যে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে সেটি যদি না করত এবং নির্বাচনে যেভাবে প্রস্তুতি নেয়ার দরকার ছিল সে প্রস্তুতি যদি তারা নিত, আমি মনে করি নির্বাচনে তাদের ফলাফল আরো ভালো হতে পারতো।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাঁচজন যেখানে শপথ নিয়েছেন সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন শপথ নেননি তা তিনিই বলতে পারেন। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বিএনপির অতি কৌশলের বলি হয়েছেন।’ গণফোরামের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণফোরাম কখনো গণমুখী দল হয়ে গড়ে উঠতে পারেনি। তাদের সাম্প্রতিক পরিবর্তনে আমি মনে করি এতে বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন হবে না। গণমুখী মানুষ ব্যাতিরেকে দলকে গণমুখী করা যায় না। গণফোরাম অতীতে যেমন গণমুখী দল হতে পারেনি এই পরিবর্তন গণফোরামের কোনো পরিবর্তন আনবে না বরং গণফোরাম আরো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কিনা সেটি দেখার বিষয়।’

চুয়াডাঙ্গায় পানিতে ডুবে দুই ভাইবোনের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ॥ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কবিখালী গ্রামে পানি ডুবে দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে কবিখালী গ্রামে বাড়ির পার্শ্বে একটি গর্তের মধ্যে পড়ে গিয়ে এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাঁরা দুজনেই ফুফাতো-মামাতো ভাইবোন। নিহতরা হলো, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কবিখালী গ্রামের মহসিন আলীর মেয়ে মোহনা খাতুন (৯)। মোহনা পাশ্ববর্তী কাথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেলীর ছাত্রী এবং সদর উপজেলার হানুরবারাদী গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে রিমন আলী (৭)। রিমন গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণীর ছাত্র।  মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য ও তাদের স্বজন ছানোয়ার হোসেন জানান, রিমন আলী তাঁর নানা মোশারফ হোসেনের বাড়ীতে বেড়াতে আসেন। এসময় রিপন মামাতো বোন মোহনার সাথে বাড়ির পার্শ্বে একটি আমবাগানে আম পাড়তে গিয়ে পাশের একটি গর্তে পদে যায় এবং রিমন ও মোহনা পানিতে ডুবে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সাতগাড়ী নামক স্থানে তাদের মৃত্যু হলে স্বজনরা তাদেরকে বাড়ী নিয়ে যায়। পরে রিমনকে গ্রামের বাড়ী হানুরবারাড়ী নিয়ে যাওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনে ইবিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ-২০২০ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সম্মেলন-কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী)’র সভাপতিত্বে গতকাল এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মহতী উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের অংশ হিসাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও মুজিববর্ষ-২০২০ ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় বছরব্যাপী ব্যাপক আড়ম্বরপূর্ণ, ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টি আকর্ষক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুজিববর্ষ-২০২০ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আয়োজনগুলোর মধ্যে থাকবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত বই নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা, রচনা-বক্তৃতা-কুইজ প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু কাপ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বাংলা ও ইংরেজিতে স্মারকগ্রন্থ ও বুলেটিন প্রকাশ, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, কবিতা উৎসব, আবৃত্তি, নাটক মঞ্চায়ন ইত্যাদি। এসব অনুষ্ঠান সার্থকভাবে আয়োজনের জন্য ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় প্রোগ্রামের পাশাপাশি প্রত্যেকটি হল, বিভাগ, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি ও প্রগতিশীল সংগঠন আলাদা-আলাদাভাবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়্জোন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ড. শামসুজ্জামান খান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফসহ ডিনবৃন্দ, সভাপতিবৃন্দ, প্রোভস্টবৃন্দ, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, সহায়ক কর্মচারী সমিতি, সাধারণ কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ মহতী উদ্যোগ সফল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

  স্বাগত মাহে রমজান

নিজ সংবাদ ॥ বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র রমজান মাস। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের পবিত্র মাহে রমজান। রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। দেশের   ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ  গত রাতে সেহ্রি খেয়ে রমজানের সিয়াম সাধনা শুরু করেছেন। গতরাত থেকেই শুরু হয়েছে মসজিদে মসজিদে তারাবিহ্। আজ সন্ধ্যায় ইফতারের মাধ্যমে পূর্ণ হবে প্রথমদিনের সিয়াম। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রমজানকে ঘিরে আয়োজন করা হবে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের। রমজান ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র একটি মাস। এই মাসে সিয়াম সাধনার পর উদযাপিত হবে মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রোজাকে আরবি ভাষায় সিয়াম বা সাওম, আর ফার্সিতে রোজা বলা হয়। সাওম অর্থ বিরত থাকা। আর শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ রোজা রাখার নিয়তে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জিহ্বা অর্থাৎ কোনো কিছু পানাহার এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোজা। মহান আল্লাহ্পাক রাব্বুল আলামীন মুমিন বান্দাদিগকে তাঁর কাছে টেনে  নেয়ার জন্য এই পবিত্র মাসের রোজাকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশ দিন দোজখ  থেকে মুক্তির জন্য। আল্লাহ্ পাকের নির্দেশে আকাশের মেঘমালা বছরের প্রথমে যে বারিধারা বর্ষণ করে থাকে, তাতে মৃত জমিন যেমন সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা হয়ে পৃথিবীকে নবশক্তিতে বলিয়ান করে থাকে। অনুরূপভাবে মাহে রমজানের রোজা মুমিন বান্দাদের আত্মাকে নবশক্তিতে বলিয়ান করে। ইসলামের প্রথম স্তম্ভ নামাজ যেমন মুমিনদেরকে শিক্ষা দেয় শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তী হওয়ার তেমনি মাহে রমজানের রোজা শিক্ষা দেয়, তাক্ওয়া, সহিষ্ণুতা ও সংযম। এক মাস সংযম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহে নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দ আর সুখের বার্তা। এদিকে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন রাজধানীসহ সারা  দেশে মিছিল করে। প্রথম তারাবিহ উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজধানীর রাস্তাঘাট কিছুটা ফাঁকা হয়ে আসে। এরপর সেহ্রির আগে রাত জাগানিয়া দল বিভিন্ন এলাকায় স্লোগান দিয়ে রোজাদারদের ঘুম ভাঙায়। মাইকে মাইকে মসজিদের ইমামের আহ্বান-বয়ান ও সাইরেনে ঘুম ভাঙে অনেকের। এরপর পরিবারের সঙ্গে সেহ্রি গ্রহণ করে রোজা রাখেন। রোজাদারগণ যাতে নির্বিঘেœ সিয়াম সাধনা করতে পারেন সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমসূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো মাস ধরেই বন্ধ থাকছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান  খোলা থাকবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে গ্রাহক  লেনদেন চলবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। আজ সন্ধ্যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে।

দৌলতপুর সীমান্তের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লাবুসহ ১১৭ জনের আত্মসমর্পন

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লাবুসহ ১১৭ জন আত্মসমর্পন করে নিজেরা আলোর পথে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়ামে মাদক বিরোধী ও সম্প্রীতি সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে। দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলামের সার্বিক তত্বাবধানে ১১৭জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক পাচারকারী মাদকের অন্ধকার পথ পরিহার করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্থি ফিরেছে। সেইসাথে দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে। দৌলতপুরের আত্মসমর্পনকারী মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের মধ্যে শুধুমাত্র প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামের রয়েছে ৫৮জন। এরমধ্যে ভারতে ১৪বছর কারাভোগ শেষে বাংলাদেশে ফেরা দুই সহোদর ফয়সাল ও ফামিদ রয়েছে। যারা আত্মসমর্পন করেছে তাদের মধ্যে ১৭জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়না থাকায় তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে আর বাঁকী ১০০জন কালিমামুক্ত হয়ে নিজ নিজ বাড়ি ফিরেছে। সীমান্তের মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পনে প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আশরাফুজ্জামান মুকুল মাষ্টারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে সীমান্তের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক পাচারকারীদের আত্মসমর্পনে মাদক ব্যবসা ও পাচারের নেপথ্যের গড ফাদার ও থানার চিহ্নিত কতিপয় দালালদের মাথায় হাত পড়েছে। তাদের অনৈতিক বানিজ্য বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৌশলে আবারও আত্মসমর্পনকারীদের দিয়ে মাদক ব্যবসা ও পাচার করানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সীমান্তের একাধিক সূত্র অভিমত প্রকাশ করেছে। বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে রাখা জরুরী বলেও তাদের অভিমত।