ভারতে দ্বিতীয় পর্বের ভোটেও উত্তাপ-সহিংসতা-ইভিএম বিভ্রাট

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে শেষ হওয়া প্রথম পর্বের ভোটের মত অনেকটা একই পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে দ্বিতীয় পর্বের ভোটেও।

বিচ্ছিন্ন নানা ঘটনা, অভিযোগ, সহিংসতা, গুলি, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, মাওবাদী হামলা এবং ইভিএম বিভ্রাটের মধ্য দিয়ে চলেছে ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ১১টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৯৫টি পার্লামেন্ট আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এদিন তামিল নাড়–র ৩৮টি লোকসভা আসনের পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভার ১৮টি আসনের নির্বাচনের ভোটও গ্রহণ করা হয়। উড়িষ্যায় লোকসভার পাঁচটি আসনে ও বিধানসভার ৩৫টি আসনে ভোট হয়। এর পাশাপাশি কর্নাটকে লোকসভার ১৪টি আসনে, মহারাষ্ট্রের ১০টি আসনে, উত্তর প্রদেশের আটটি, পাঁচটি করে আসাম ও বিহারে, তিনটি করে ছত্তিসগড় এবং পশ্চিমবঙ্গে, জম্মু ও কাশ্মীরের দুটি ও  মনিপুর ও পুদুচেরির একটি করে লোকসভা আসনে ভোট হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সংঘর্ষ: পশ্চিমবঙ্গে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ করা হয়। এ রাজ্যে ৪২ আসনের ভোট নেওয়া হয়েছে দার্জিলিং, রায়গঞ্জ এবং জলপাইগুড়িতে। সারাদিনের ভোটে বিভিন্নস্থানে সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হওয়ার খবর এসেছে। অশান্তি সৃষ্টির জেরে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, দার্জিলিংসহ অন্যান্য স্থানে সকাল ৭ টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অশান্তি শুরু হয়। উত্তপ্ত হতে শুরু করে রায়গঞ্জ এবং দার্জিলিং আসনের বেশ কিছু এলাকা। দার্জিলিংয়ের চোপড়ায় ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে  ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। এর আগে রায়গঞ্জের ইসলামপুরে একটি এলাকার স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় আরো অনেকে আহত হয়েছেন। তাছাড়া, ইসলামপুরে সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ এসেছে। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ জলপাইগুড়ির ঘুঘুডাঙায় একটি বুথে গোলমালের অভিযোগ আসে। বুথের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছে বলে খবর এসেছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরাই এ গুলি চালিয়েছেন। ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে দার্জিলিঙ কেন্দ্রের চোপড়ায়।  দু-তিনজন ভোটারকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসী ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বাসিন্দারা। উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েও তাদের নিবৃত্ত করতে পারেনি। গোলমালের ৪ ঘণ্টা পর চোপড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছলে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ বন্ধ করে। ধূপগুড়ির বারঘুড়িয়ায় ভোট ঘিরে অশান্তির খবর এসেছে এবং মালবাজারে বিজেপি অফিস ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ এবং দার্জিলিং- এ ৩ টি আসনে  রাজ্যের প্রধান চার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, বামফ্রন্ট এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হামলা: ভোটের মধ্যেই ছত্তিসড়ড়ে রাজনন্দগাঁও কেন্দ্রের কোরাচা-মনপুর রাস্তায় সকাল ১১ টার দিকে একটি টহল ভ্যান লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মাওবাদীরা। এ  ঘটনায় এক জওয়ান সামান্য আহত হয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় ছত্তিসগড়ের তিন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও সেখানে মাওবাদীদের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তরপ্রদেশে উত্তেজনা: বোরখা পরে বুথে আসা ভোটারদের পরিচয় যাচাই না করেই ভোট দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের আমরোহা কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী একটি বুথে গিয়ে অভিযোগ করেন,  বোরখা পরে যারা ভোট দিতে আসছে তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে না।” এ অভিযোগের পরই উত্তেজনা ছড়ায় বুথে। বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টি বহুজন সমাজ পার্টির জোটের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। জম্মু ও কাশ্মীরে সহিংসতা: জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নির্বাচন বয়কটের ডাক দেওয়ায় সেখানে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার খবর এসেছে। শ্রীনগরে পুলিশ বিক্ষুব্ধ লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে। অন্তত ৪০ টি স্থানে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ঊর্ধতন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ইভিএম-ভিভিপ্যাট বিভ্রাট: ভোট শুরু হতেই বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক বুথ থেকে ইভিএম-ভিভিপ্যাট বিকলের এসেছে। তবে সময়মই এর  বিকল্প ভোটযন্ত্রের ব্যবস্থা করছেন নির্বাচন কমিশন। মহারাষ্ট্রের বীড় লোকসভা কেন্দ্রের পাঁচটি বুথে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট বিকল হয়ে পড়ার খবর এসেছে। ভোটের শুরু থেকেই কেন্দ্রের কয়েকটি বুথে  ইভিএম অকেজো হয়ে পড়ে। ওদিকে, ভোট শুরুর কিছুক্ষণ পরই আসামের শিলচরের একটি বুথে ভিভিপ্যাট খারাপ হয়ে যায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা পাল্টানো হয়। এছাড়া, তামিলনাড়ু, বিহার, উত্তরপ্রদেশের দু’-একটি বুথেও ইভিএম ও ভিভিপ্যাটে সমস্যা দেখা দেয়। পশ্চিমবঙ্গে সকালে ভোট দিতে গিয়ে ইভিএম বিভ্রাটের মুখে পড়তে হয় রায়গঞ্জের এক কংগ্রেস প্রার্থীকে। ওদিকে ইসলামপুরের একটি বুথে ভিভিপ্যাট বিকল হয়ে পড়ায় এক তৃণমূলপ্রার্থীকে অনেকক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়। ইভিএম খারাপের অভিযোগ আসে শিলিগুড়ি বুথেও। ফলে ভোট শুরু হতে ১ ঘণ্টা দেরী হয় সেখানেও।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে তল্লাশি, কর্মকর্তা বরখাস্ত

ঢাকা অফিস ॥ নিরাপত্তারক্ষীদের না জানিয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হেলিকপ্টারে তল্লাশি চালানোয় বরখাস্ত করা হয়েছে এক নির্বাচনী পর্যবেক্ষককে। বুধবার (১৭ এপ্রিল) ওড়িষ্যার পশ্চিমাঞ্চলীয় সম্বলপুরে এই ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে তল্লাশি ও ওই নির্বাচনী পর্যবেক্ষককে বরখাস্তের কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এসপিজি নিরাপত্তা বলয়ে থাকা ভিভিআইপিদের সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কর্ণাটক ক্যাডেটের এক কর্মকর্তা। তাই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে’। এর আগে, গত মঙ্গলবার মুহাম্মদ মহসিন নামের ওই আইপিএস কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে তল্লাশি চালান। এরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। এমনকি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্টও পাঠিয়েছেন সম্বলপুরের জেলাশাসক ও ওড়িষ্যার ডিআইজি। নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘ওই পর্যবেক্ষক আচরণবিধি অনুযায়ী কাজ করেননি। আচমকা ওই তল্লাশির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ১৫ মিনিট আটকে থাকতে হয়েছে’। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই ওড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের হেলিকপ্টারও আচমকা তল্লাশি করেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। একই দিন সম্বলপুরে তল্লাশি চালানো হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের হেলিকপ্টারেও।

পর্তুগালে জার্মানির পর্যটকবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ২৯

ঢাকা অফিস ॥ পর্তুগালের ম্যাডেইরা দ্বীপে জার্মান পর্যটকদের বহনকারী একটি বাস খাদে পড়ে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। ক্যানিকো শহরের কাছে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। খবর পর্তুগালের সরকারি বার্তা সংস্থা লুসা ও বিবিসির। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বাসটির চালক রাস্তার একটি মোড়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এটি গভীর খাদে পড়ে যায়। এসময় উল্টে যাওয়া বাসটি আবাসিক ঘরবাড়ির কাছে গিয়ে আছড়ে পড়ে। বাসটিতে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। বাসটির সব যাত্রীই ছিলেন জার্মানির নাগরিক। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মারসেলো রেবেলো ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য ম্যাডেইরো দ্বীপে ছুটে গেছেন। এ ছাড়া, দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তোনিও কস্তা জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলকে সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি সাংসদকে জুতো

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় দলের সাংসদ ও মুখপাত্র জিভিএল নরসিংহ রাওয়ের দিকে হঠাৎই জুতা ছুড়ে মেরেছেন এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবারের এ সংবাদ সম্মেলন রাও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। এ সময় হিন্দুদের বদনাম করার জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করা মাত্রই তার দিকে জুতো ছুড়ে মারেন দর্শকাসনের প্রথম সারিতে বসা ওই ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে জুতোটি নরসিংহ রাওয়ের গায়ে লাগেনি। তা মাইক্রোফোনের সামনে দিয়ে গিয়ে তার পাশে পড়ে। তল্লাশিতে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে। এতে তার নাম লেখা রয়েছে শক্তি ভার্গব। আদতে তিনি কানপুরের বাসিন্দা  পেশায় শল্য চিকিৎসক। ফেইসবুকে মোদী সরকারের সমালোচনায় একাধিক পোস্ট রয়েছে তার। থানায় নিয়ে তাকে জেরা করছে পুলিশ। জুতো ছোড়ার জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন নরসিংহ রাও। কংগ্রেস অনুপ্রাণিত বলেই ওই চিকিৎসক এমন কান্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

হতাশ হবেন না, হতাশার কথাও বলবেন না – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ দলের নেতা-কর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরু ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বিএনপি প্রতিটি সংকটের মুহূর্তে উঠে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘হতাশ হবেন না, হতাশার কথাও বলবেন না।’ গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে শত নাগরিক আয়োজিত ‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ওপর এই গবেষণা গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, যত গুঞ্জনই থাক, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে দল আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে। তিনি বলেন, “আমাদের ৬ জন সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন না। “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের(তারেক রহমান) সঙ্গে বসে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের স্থায়ী কমিটি নিয়েছে। সুতরাং এখান থেকে ফিরে যাওয়ার বা কেনো পরিবর্তনের প্রশ্নই ওঠে না। আজকে এখানেই এ বিষয়টার নিস্পত্তি হয়ে যাওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।” দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল গণফোরাম নেতা কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট বেঁধে- জাতীয় ঐক্রফ্রন্ট গড়ে। কেন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ভরাডুবি হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসন পায় বিএনপি। গণফোরামের দুটি মিলিয়ে ঐক্যফ্রন্ট পায় মোট আটটি আসন। নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে তারা। নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। কিন্তু গণফোরামের সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ায় বিএনপির নির্বাচিতরাও একই পথে হাঁটতে পারেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাও বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানান। সেই আহ্বান নাকচ করে বিএনপি নেতা মওদুদ বলেন, “আজকে তারা আমাদেরকে বলছেন, ‘আসুন আপনারা আসুন’। আমরা তো জানি তাদের নেচারটা কী।” ২০০৯ সালে সংসদের প্রথম সারিতে বিএনপির দাবি অনুযায়ী নয়টি আসন না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি তখন পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, এই সিট দিলে আপনাদের কী সরকারের পতন হবে? এই সংকীর্ণমনা দলের কাছ থেকে কোনো রকম সহনশীলতা, কোনো রকম রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার আামাদের প্রত্যাশা করা উচিত নয়।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তার দৃষ্টিতে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনে কেউ জয়লাভ করেনি, কেউ পরাজিতও হয়নি। “জয়-পরাজয় তো নির্ধারণ করে জনগণ। সেই জনগণ যখন শতভাগ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে নাই, সেই নির্বাচনে নির্বাচিত বলার সুযোগ নাই।” বিএনপির নির্বাচিতদের মধ্যে কারও সংসদে যাওয়ার আগ্রহ থেকে থাকলে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা শুনি, নির্বাচিতরা বলেন, জনগণের ইচ্ছ। কিন্তু তাদের মধ্যে শুনলাম না এই কথা যে অবৈধ সরকারকে বৈধতা দিতে আমরা পার্লামেন্টে যাব না।… উঁকি-ঝুঁকি মারছে নানা চোরাগলি পথ দিয়ে নানা কথা। কোন কথা সত্য কোন কথা মিথ্যা জানি না।” বিএনপির নেতা-কর্মীদের খালেদা জিয়ার মত ‘আপসহীন’ হওয়ার আহ্বান জানান গয়েশ্বর। নির্বাচনে বিএনপির দুই পরাজিত প্রার্থী মওদুদ ও গয়েশ্বর সংসদে না যাওয়ার বিষয়ে জোরালো বক্তৃতা দিলেও বগুড়ায় খালেদা জিয়ার আসন থেকে নির্বাচিত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে অনুষ্ঠনে কোনো কথা বলেননি। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা একটা জিনিস আপনাদের অনুরোধ করতে চাই, হতাশ হবেন না। হতাশার কথা শুনতে চাই না। বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। যারা বলেন যে বিএনপি নিঃশেষ হয়ে গেছে, আমি কোনো দিনই তাদের সাথে একমত নই্।” বিএনপিকে ভেঙে ফেলার বহু চেষ্টা হয়েছে অভিযোগ করে দলের মহাসচিব বলেন, “এবারও দেশনেত্রী কারাগারে একটি মাত্র কারণে, বিএনপিকে নিঃশেষ করা, রাজনীতিকে ধ্বংস করা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। “আমি বলতে চাই, এটা সম্ভব হবে না, হতে পারে না। কারণ বিএনপি ও দেশনেত্রীর রাজনীতি হল এদেশের মানুষের রাজনীতি।” খালেদা জিয়া কারাগারে থাকুন, অথবা বাইরে- তার অনুপ্রেরণায়, তার নেতৃত্বেই বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে’ বলে আশা প্রকাশ করেন ফখরুল। “আমরা জানি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থৃ. তারপরও এতটুকু মনোবল তিনি হারাননি। এই মনোবল আমাদের মাঝে সঞ্চারিত করতে হবে, তরুণদের মাঝে সঞ্চারিত করতে হবে, যুবকদের মাঝে সঞ্চারিত করতে হবে এবং সেই সঞ্চারণের মধ্য দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে, আমাদের গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্ত করতে হবে- এটাই হোক আজকের দিনে আমাদের শপথ।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “একটি কার্যকর আন্দোলন ছাড়া দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব না। সেজন্য সকল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” খালেদার অন্যতম আইনজীবী মওদুদ আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি এবং এখনো করছি। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা চেষ্টা করে যাব। আদালতের যদি এখতিয়ার থাকত এবং স্বাধীনতা থাকত, অনেক দিন আগেই উনার (খালেদা জিয়া) জামিন হয়ে যেত। “আজকে তার জামিনটা আমরা এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারি নাই। আপনাদের বুঝতে হবে- রাজনৈতিক কারণে উনি কারাগারে আছেন তুচ্ছ ও ভিত্তিহীন মামলায়, যার কোনো সারবত্তা নাই। আমি বলতে চাই, তার মুক্তির জন্য আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই।” মওদুদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আজকে আওয়ামী লীগের এই নির্যাতন, এই অত্যাচারের কারণেই বিএনপি আগামী শত বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে। কেন? এই যে লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা কি ভুলে যাবে? তাদের আত্মীয়-স্বজন-ভাই-বোন-ছেলে-মেয়েরা? কোটি কোটি মানুষ, তারা নীরব থাকতে পারে। কিন্তু বিএনপিকে একেবারে স্থায়ীভাবে মজবুত করে দিয়ে গেল আওয়ামী লীগের এই দুঃশাসন।” এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, শত নাগরিক কমিটির জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এছাড়া অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, কৃষিবিদ জিকে মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, গৌতম চক্রবর্তী, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, শফিউল বারী বাবু, সেলিম রেজা হাবিব, মীর নেওয়াজ আলী, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুণ রায় চৌধুরী, হাজী ইউসুফ, নুরুল হুদা ভুঁইয়া নুরু, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির শাহিদুর রহমান তামান্না অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকার মিডিয়ায় কোন ধরনের সেন্সরশীপ আরোপ করছে না – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’-এর প্রতিবেদন নাকচ করেছেন। ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’ কর্তৃক তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ‘প্রেস ফ্রিডম সার্ভে ইনডেক্স’-এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘সরকার মিডিয়ায় কোন ধরনের সেন্সরশীপ করছে না।’ ওই জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ নিচে নেমে ১৫০তম হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘রূপসী বাংলা জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান’-এ যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি ওই প্রতিবেদনের সাথে একমত না এবং আমি মনেকরি বাংলাদেশে গনমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’ বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন (বিপিজেএ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ড. হাছান বলেন, ‘সংগঠনটির সূত্রে, আমি জানি শীর্ষ দশটি দেশে সংবাদ প্রকাশে অনেক বিধিনিষেধ রয়েছে। এমনকি তাদেরকে (গণমাধ্যম) যেকোন ভুল সংবাদের জন্য জরিমানা দিতে হয়। আমি জানিনা তারা কিভাবে জরিপ করেছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং গত ১০ বছরে গণমাধ্যম শিল্পে একটি বিপ¬ব ঘটেছে। সংবাদপত্রের সংখ্যা সাতশ’ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার দুইশ’ হয়েছে এবং ৩৩টি ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্প্রচার চালাচ্ছে।’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, সরকার গণমাধ্যমের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে তিনি বলেন, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি (বেগম জিয়া) এখন কারাগারে। ‘তিনি যদি জামিন প্রার্থনা করেন আদালতই একমাত্র তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে। অন্যদিকে বেগম জিয়া যদি প্যারোলে মুক্তি চান তাহলে তার আবেদনটি সরকার বিবেচনা করবে। এছাড়া তার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।’ বিএনপি’র নির্বাচিত এমপি’দের সংসদে যোগদানের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা যদি সংসদে যোগ দেয় দেশের জনগণ তাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরাও তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো। ড. হাছান বলেন, বিএনপি সংসদে যোগ দিলে তা হবে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। ‘আমি মনে করি তারা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. হাছান ফটোসাংবাদিকতা পেশায় নতুনদের উৎসাহিত করার জন্য প্রতি বছর এধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করার জন্য ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের প্রতি আহবান জানান। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমীর সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান, বিপিজেএ’র সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। পরে মন্ত্রী তিনজন প্রবীণ ফটো সাংবাদিকের (মরনোত্তর) পরিবারের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। এই তিন সাংবাদিক হচ্ছেন এস এম মোজ্জাম্মেল হোসেন, মোশাররফ হোসেন লাল ও জহিরুল হক।

পাকিস্তানে বাস থেকে নামিয়ে ১৪ জনকে গুলি করে হত্যা

ঢাকা অফিস ॥ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি মহাসড়কে অন্তত ১৪ যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারের প্রথম প্রহরে রাত সাড়ে ১২ টা থেকে ১টা মধ্যে বেলুচিস্তানের ওরমারা এলাকার মাকরান উপকূলীয় মহাসড়কে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে দ্য ডন। দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর সূত্রগুলো ডনকে জানিয়েছে, সেনা পোশাক পরা প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাত বন্দুকধারীর একটি দল করাচি থেকে গওয়াদরগামী পাঁচ থেকে ছয়টি বাস থামায়। বুজি টপ এলাকায় বন্দুকধারীরা একটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে, তারপর ১৬ জন যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ১৪ জনকে গুলি করে হত্যা করে। দুই যাত্রী কোনোরকমে রক্ষা পান এবং তারাই পালিয়ে গিয়ে নিকটবর্তী আধাসামরিক বাহিনীর চেকপোস্টে খবর দেন। আহত এই দুইজনকে ওরমারা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডন। আধাসামরিক বাহিনী ও অন্যান্য আইনী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তদন্ত শুরু করেন। তারা স্থানীয় নূর বক্স হোটেল থেকে নিহতদের মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি। তখনও পর্যন্ত নিহতদের পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালেও বেলুচিস্তানের মাসটুং এলাকায় একই ধরনের একটি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা করাচিগামী দুটি বাসের প্রায় ২৪ জন যাত্রীকে অপহরণ করে নিকটবর্তী পার্বত্য এলাকায় নিয়ে অন্তত ১৯ জনকে গুলি করে হত্যা করেছিল। গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটায় শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর চালানো এক সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিল।

নুসরাত হত্যায় ‘অংশ নেওয়া’ মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পিবিআই

ঢাকা অফিস ॥ ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ‘সরাসরি অংশ নেওয়া’ সহপাঠী কামরুন নাহার মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, শুক্রবার মনিকে নিয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা মাদ্রাসা ভবনের ছাদ ও বোরকার দোকান পরিদর্শন করেন। হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মনি বুধবার থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে একটি দল মনিকে নিয়ে সোনাগাজী পৌরশহরের মানিক মিয়া প্লাজায় একটি বোরকার দোকানে যায়। সেখানে তারা দোকানমালিকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে নুসরাতকে কিভাবে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার বিবরণ দেন কামরুন নাহার মনি।” মনিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া পুরুষদের ব্যবহৃত বোরকাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। নুসরাত ছিলেন ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। গত ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের পরিবারের দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর লোকজন তার গায় আগুন দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় মামলায় অধ্যক্ষ ও কমিটির সদস্যসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এ মামলায় এজহারভুক্ত আটজনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ১৩ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে রয়েছেন। এছাড়া শুক্রবার সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পিবিআই। তবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না তা তারা এখনও নিশ্চিত করেনি।

আলমডাঙ্গায় কৃষক লীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষক লীগের উদ্যোগে কৃষক লীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালিত হয়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলা কৃষক লীগের অফিসের সামনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহর প্রদক্ষিন শেষে কেক কেটে শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন কৃষক লীগের সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের নির্বাহী সদস্য আজিজুল হক। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষক লীগের সহ- সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক খন্দকার বজলুর করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কৃষক লীগের সদস্য অভিমুন্যু কন্ডু, আবুল কালাম আজাদ, বজলুর রহমান, আব্দুল ওহাব, বজলুল হক। উপজেলা কৃষক লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহাবুলের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগ নেতা  দেলোয়ার হোসেন, হাতেম আলী, খাইরুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম, শহিদুল, সিরাজ, আকালি, সাত্তার আলী, কামাল উদ্দিন, লাল্টু মিয়া, সিরাজ উদ্দিন, ডাবলু মেম্বার, মাহাতাব আলী, স্বপনসহ ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যদিও ক্ষমতাসীন দলের গ্রহণযোগ্যতা সাধারণত বিভিন্ন ক্ষেত্রে হ্রাস পায়, কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা সাধারণত বিভিন্ন ক্ষেত্রে হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ আমরা আমাদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি।’প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা মন্ডলীর যৌথ সভায় এ কথা বলেন।এ সময় শেখ হাসিনা গত জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, গত সাধারণ নির্বাচনে সব শ্রেণি পেশার মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়েছে যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ী সমাজের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং শিক্ষকসহ সব পেশার মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন ও নারী ভোটাররা আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছে। তাই তারা আমাদের সেবা পেতে নৌকার পক্ষে ভোট দিয়েছে।আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এ সময় দলের প্রেসিডিয়াম, নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যদের সমন্বয়ে সদ্য গঠিত আটটি কমিটিকে তৃণমূল পর্যায় থেকে দলের পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ দেন।তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী দলে পরিণত করা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি জামায়াতের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং স্বজনপ্রীতির কারণে জনগণ তাদেরকে বর্জন করায় তাদের অবস্থা হয়েছে পরজীবির মতো।শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি গত সংসদ নির্বাচনে ৩’শত আসনে প্রায় ৭’শত লোককে মনোনয়ন দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।তিনি আরো বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপে গত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিএনপি হয়তো মনোনয়ন বাণিজ্য করতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। উন্নয়নের ছোয়া গ্রামেও লেগেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।প্রধানমন্ত্রী বাংলা নববর্ষ ১লা বৈশাখ উপলক্ষে দলীয় নেতা কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দলমত বর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে জাতি বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১ লা বৈশাখ উপলক্ষে উৎসব ভাতা দিয়েছে। তিনি ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে দলের নেতা কর্মীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, মুজিব বর্ষ উদযাপনে ইতোমধ্যেই সরকার ও জাতীয় পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কনক চৌধুরী রচিত কাব্য গ্রন্থ ‘এই তো সেদিন’র

মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা ও সাহিত্য আড্ডা

নিজ সংবাদ ॥ সুন্দরম ললিত কলা একাডেমি কুষ্টিয়ার পরিচালক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কনক চৌধুরী রচিত কাব্য গ্রন্থ ‘এই তো সেদিন’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। সেই সাথে আলোচনা সভা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সতীর্থ লেখিয়ে বন্ধুরা এর আয়োজনে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়াস্থ ফেয়ার কার্যালয়ে এ কাব্য গ্রন্থ ‘এই তো সেদিন’র মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কাজী আরেফ স্মৃতি সংসদ কুষ্টিয়ার সভাপতি বিশিষ্ট সামাজিক ব্যাক্তিত্ব সাহাবুব আলী।  বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট কবি-লেখক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব নুরুন নাফা, ইবি’র বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ, ইবি’র বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শ.ম. রেজাউল করিম, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নুরুন নাহার, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আনসার হোসেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নুরুদ্দিন, মেহেরপুর সরকারি মুজিবনগর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক স্বপন রায়, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক অজয় বিশ্বাস, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক অজয় মৈত্র, ‘এই তো সেদিন’ কাব্য গ্রন্থে’র লেখক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কনক চৌধুরী, জাসদ নেতা ও  বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কারশেদ আলম, বিশিষ্ট কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাডঃ সুব্রত চক্রবর্তী, বিশিষ্ট কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আব্দুল্লাহ সাঈদ, ডিজিটাল সাহিত্য আড্ডার সভাপতি শ্যামলী ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কামাল হোসেন, মিজান সরকার, দেওয়ান আক্তারুজ্জামান, ডাঃ তাজ উদ্দিন, কাজি সোহান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘এই তো সেদিন’ কাব্য গ্রন্থে’র লেখক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কনক চৌধুরী একজন আলোকিত মানুষ। তিনি বহু গুণের অধিকারী। কনক চৌধুরী একজন সংবেদনশীল মানুষ। তিনি, এগিয়ে চলেছেন, আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। আলোর পথে থেকে তিনি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন।

নুসরাত হত্যা

আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানে সিআইডি

ঢাকা অফিস ॥ ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় আর্থিক লেনদেন ছিল কি না তা যাচাই করা হবে বলে সিআইডি জানিয়েছে।জেলা সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী বিশেষ সুপার শারমিন জাহান গতকাল শুক্রবার বলেন, নুসরাত হত্যাকা-ে মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কি না তা অনুসন্ধানে কাজ করবে সিআইডি।তিনি বলেন “হত্যাকা-ে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিআইডি এই অর্থের উৎস কিংবা অর্থের জোগানদাতা থাকলে তার খোঁজ করবে।”ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত ছিলেন আলিম পরীক্ষার্থী। গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসায় আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের পরিবারের দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর লোকজন তার গায় আগুন দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় মামলায় অধ্যক্ষ ও কমিটির সদস্যসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে নুসরাতে ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এ মামলায় এজহারভুক্ত আটজনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে চারজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ১৩ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে রয়েছেন। এছাড়া শুক্রবার সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পিবিআই। তবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না তা তারা এখনও নিশ্চিত করেনি।

 

কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাজী সাইফুল ইসলাম

ফজলুল হক ॥ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম। ইতোমধ্যে তিনি কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, হাট-বাজার ও জনবসতি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিষয়ে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কালুখালী উপজেলা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব গ্রহণ করি। তারপর থেকে নতুন উপজেলা হিসেবে নতুন নতুন অফিস, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা সহ নানা ধরনের সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। বিগত দিনে ও বর্তমানে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ও আপদে বিপদে পাশে রয়েছি। দলের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন মাঠ পর্যায়ে সম্পূর্ণ করতে আশা করি দল পুনরায় আমাকে মনোনয়ন দিবে। মনোনয়ন পেলে উপজেলার সর্বসাধারণ মানুষের ভালোবাসা আমার সাথে আছে এবং তারা পুনরায় আমাকে ভোট দিয়ে উপজেলার সকল মানুষকে সেবা করার সুযোগ দিবেন।

হরিপুরে জাকিরুলের মাথা গোজার ঠাঁই পুড়ে ছাই

নিজ সংবাদ ॥ তিনটি ঘরই সম্বল। ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ জামাকাপড় সব পুড়ে ছাই। মাত্র ২০ মিনিটেই নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। দিনমজুর জাকিরুল ইসলামে কান্নাজড়িত আর্তনাদ ছাড়া কিছুই করার নেই। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে দশটায় আগুনে পুড়ে তাঁর বসতঘর পুড়ে যায়। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের শালদাহ গ্রামের বাসিন্দা জাকিরুল ইসলামের বাড়িতে ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে দশটার দিকে জাকিরের বাড়িতে হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। এলাকার মানুষ ছুটে এসে দেখে বসত ঘরে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। তারা দ্রুত পানি ও বালি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গিয়ে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই বসতবাড়ির তিনটা ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস  ষ্টেশনের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে যান হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহামুদ। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই আগুন লাগার খবর পায়। দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনকে জানানো হলে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জাকিরুল একজন দিনমজুর। হঠাৎ করে আগুন লেগে তিনি সব হারিয়েছেন।  খোলা আকাশ ও পড়নের কাপড় ছাড়া কোন কিছুই নেই। তার সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, আগুনে বসতবাড়ি পুড়ে যাওয়ার কথা জেনেছি। ওই পরিবারকে প্রশাসন থেকে ঢেউটিনসহ সব সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া শহরের মরা গড়াই খাল তাজা করার উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের মরা গড়াই খাল। একসময় এই খালে নৌকা চলত। খালের পানি মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে খালটি অস্তিত্ব হারায়। সম্প্রতি খালটি উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা। খননকাজও শুরু করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীর গতিতে আগাচ্ছে খননের কাজ। নির্ধারিত সময়ে খনন কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ এলাকাবাসীর। কুষ্টিয়া পৌরসভার নগরপরিকল্পনাবিদ রানভীর আহমেদ বলেন, গড়াই নদী থেকে শুরু হওয়া মরা গড়াই খালটি দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এ জন্য তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরন  (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের উত্তর দিকে ঘেষে গড়াই নদী। পৌরসভার কমলাপুর এলাকায় গড়াই নদীর অংশ থেকে মরা গড়াই খালটি বের হয়েছে। সেটি শহরে কিছু অংশ এলাকার ভেতর দিয়ে আট কিলোমিটার দূরে কবরবাড়ি এলাকায় আরেকটি খালে মিশেছে। যার দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার। এই খাল কোথাও ৮০ ফুট আবার  কোথাও ১০০ ফুট প্রশস্ত ছিল। একসময় নৌকা চলাচল করত এই খালে। কিন্তু ৯০ দশকের পর থেকে স্থানীয় লোকজন খালের দুই পাড় দখল করতে শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে আশপাশের মানুষ খালে ময়লা আবর্জনা ফেলতে থাকে। এমনকি খালের উৎস মুখ উচু হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ কমে যায়। ধীরে ধীরে  আবর্জনা ও লতাপাতা ও গাছগাছালিতে খালটি ভরাট হতে থাকে খালটি। বছরের পর বছর এভাবে দখল আর দূষণে একসময় খালটির অস্তিত্ব হারিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে কয়েক জায়গায় খালের তেমন  কোনো অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। দীর্ঘ খালের বিভিন্ন জায়গায় ডোবার মতো অংশে আবর্জনাযুক্ত পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কচুরিপানায় কিছু জায়গা ভরে আছে। মঙ্গলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ষাটার্ধ্ব আবদুল হামিদ বলেন, ‘একসময় এই খালে নৌকা চলত। স্থানীয় লোকজন নানা গৃহস্থালি কাজে এর পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন সেই খাল দেখে বোঝা মুশকিল, এটা খাল না আবর্জনার ভাগাড়। তবে খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়ায় ভালো লাগছে।’ পৌরসভা সূত্র জানায়, নেশন টেক নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খননের কাজ পেয়েছে। জানুয়ারি মাসে খাল খনন শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যেই খনন শেষ করার কথা রয়েছে। গড়ে ৭০ ফিট প্রশস্তে ও ১৬ ফিট গভীরতায় খনন হবে। ২২ ফুট ঢালের দুই পাড়ে পায়ে হাটার রাস্তা হবে। এবং সেখানে ঘাস লাগানো হবে। খালের পানিতে হাঁস পালনের জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুইপাড়ে খাল খনন শুরুর আগে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে পৌরসভা থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মাইকিং করা হয়েছে। কমলাপুর ও মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে দুটি খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে খালের পাড়ে ফেলা হচ্ছে। ছবি ধারণ করতে গেলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রথমে বাধা দেয়। কমলাপুর এলাকায় শাহিদুল ইসলাম নামে একজন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে জানান, পৌরসভার অনুমতি ছাড়া কোন তথ্য বা ছবি নেওয়া যাবে না। কাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন মঙ্গলবাড়িয়া এলাকায় দুইপাড়ে বেশ কিছু বড় বড় ভবনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। খাল খনন করতে গিয়ে দখলদারদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এলাকাবাসী বলছেন, খাল খননের মাটি খালের ভেতরেই ফেলা হচ্ছে। কোন কোন জায়গায় মাটি  হালকা কেটে ঢাল তৈরি করছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল খনন হয়তো সম্ভব হবে না। বর্ষার পানি চলে আসলে আরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে মাটি খালের ওপরে ফেলায় মাটি আবারও পানিতে ধুয়ে খালে পড়ার সম্ভাবনাও আছে। সেক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে ঠিবাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নাইমুর রহমান কোন মন্তব্য করতে চাননি। নাইমুর ও শাহিদুল কেউই ঠিকাদারের যোগাযোগ নম্বরর দিতে চাননি। ঠিকাদার ঢাকাতে থাকেন এবং পৌরসভায় গিয়ে তথ্য নিতে বলেন তারা। পৌরসভাতে গিয়েও ঠিকাদারের যোগাযাগ নম্বর পাওয়া যায়নি। এজন্য কাজের অগ্রগতির ব্যাপারে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, খালটি খনন শেষ হলে পৌরবাসী অনেক সুবিধা পাবে। বর্ষায় শহরের জলাবদ্ধতা কমে আসবে। বৃষ্টি হবার সাথে সাথেই পানি খাল দিয়ে গড়াই নদে চলে যাবে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা শাখার র‌্যালী

নিজ সংবাদ ॥ জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা শাখা এক বর্নাঢ্য র‌্যালীর আয়োজন করেন। র‌্যালীটি সংগঠনের সভাপতি ডাঃ এ এফ এম আমিনুল হক রতন এর নেতৃত্বে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। র‌্যালীতে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দর সাথে ডাঃ লিজা নার্সিং ইনষ্টিটিউট ও ডাঃ লিজা – ডাঃ রতন ম্যাটসের ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। র‌্যালী শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সংগঠনের সভাপতি ডাঃ এ এফ এম আমিনুল হক রতন, সাধারন সম্পাদক আরাফাত জামান তপন, কোষাধ্যক্ষ ইয়ারুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার একটি স্বাস্থ্য বান্ধব সরকার। প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করাই জননেত্রীর অঙ্গীকার। আর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের পাশপাশি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলিও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় কচুরিপানার ওপর ভাসছিল পলিথিনে মোড়ানো নবজাতক

নিজ সংবাদ ॥ গ্রামের সড়কের ধারে জলাশয়ে কচুরিপাতার ওপর পলিথিনে মোড়ানো এক বস্তু দেখে স্থানীয়রা। সেখান থেকে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছিল। ঝামেলা এড়াতে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। সেখানে ছুটে যান ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা। জলাশয়ের কিনারে তুলে পলিথিন খুলে ভেতরে মৃত নবজাতকের লাশ দেখতে পান। দুর্গন্ধ ছড়ানো দেখে আশেপাশের লোকজন মুখে কাপড় দিয়ে দূরে দাড়িয়ে থাকেন। কিন্তু ওসি নিজেই লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ ব্যাগ (লাশ রাখা ) ভরে মর্গে পাঠান। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের উজানগ্রামে এঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, দুই তিন আগে লাশটি কচুরিপানায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, পলিথিনে মোড়ানো বস্তু কচুরিপানার ওপর থাকার খবর পেয়ে সেখানে যাওয়া যায়। সেখান থেকে অনেক দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছিল। নিজেই পলিথিন খুলে তার ভেতরে নবজাতক দেখতে পান তবে মৃত। নবজাতকটিকে শক্ত করে দড়ি দিয়ে বেধে গোল করা ছিল। যাতে ভেসে না উঠতে পারে। ওসি আরও বলেন, নিজেকেও তো মরতে হবে। সেই ভাবনায় নিজে হাতেই নবজাতককে উদ্ধার করে পুলিশ ব্যাগে তুলে নেন। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় গোপনে তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে।

রিজভী কী বলেন, আর কী বোঝেন- সন্দেহ আছে – আনিসুল হক

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা এবং তার জামিনের বিষয়ে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্যের জবাবে তার বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, “রিজভী নামে এক ভদ্রলোক আছেন, তিনি বেগম জিয়াকে নিয়ে কী বলেন, আর কী বোঝেন এ সম্পর্কে সকলের সন্দেহ আছে। তার সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না।”

গতকাল শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা চত্বরে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে আইনমন্ত্রীর এমন প্রতিক্রিয়া আসে।  দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে গত চৌদ্দ মাস ধরে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাকে ‘রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার’ জন্য ‘মিথ্যা মামলায়’ সাজা দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলব, দেশনেত্রীকে নিয়ে মাইনাস ফর্মুলা বন্ধ করুন। প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের যে অশুভ চক্রান্ত চলছে, এই চক্রান্ত করে লাভ হবে না। “তার জামিনে আর বাধা দেবেন না। আইনকে তার নিজের গতিতে চলতে দিন। আদালতের উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেই আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসবেন।” সাংবাদিকরা শুক্রবার রিজভীর ওই অভিযোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “এতিমের টাকা চুরির জন্য খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেই নিম্ন আদালতে শাস্তির বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাই কোর্টে আপিল করেছিলেন। সেখানে তাকে ৫ বছর থেকে ১০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। এখানে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ দেখা গেল আমি খুঁজে পাই না।” দেশে এখন আইনের শাসন আছে বলেই দুর্নীতির বিচার হচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এমপি আনিসুল হক বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বিএনপির সময় আইনের শাসন ছিল না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যেদিন থেকে সরকার গঠন করেছেন, সেই দিন থেকে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন।“ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে কসবা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর অফিসের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। অন্যদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়ত-উদ-দৌলা খান, কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদুল কাউছার ভূইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিনা ইসলাম এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তারেকের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের নামে ইংল্যান্ডে থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে আদালতের আদেশটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারের আম্বর শাহ শাহী মসজিদে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশে পুলিশের কোনও কর্মকা- থাকলে সেটি ইন্টারপোলের সহায়তায় করা হয়। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার তিনদিনের চীন সফর সম্পর্কেও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের যাতে মিয়ানমার ফেরত নেয়, সে বিষয়ে চীন বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। চীন যাতে রোহিঙ্গাদের ফেরতে ভূমিকা রাখে সে বিষয়ে তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বেইজিং পুলিশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়াও মাদক নির্মূলে চীন তাদের সফলতা দেখিয়েছে। তারাও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। চীন বাংলাদেশকে মাদক নির্মূলে সহযোগিতা করবে।’ এছাড়াও পুলিশ, ফায়ার ফাইটারদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও চীন সহযোগিতা করবে।’

প্রসঙ্গত, তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের ব্রিটেনের একটি ব্যাংকের তিনটি হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের এ বিষয়ে একটি পারমিশন মামলার শুনানি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন। জব্দের আদেশ হওয়া তিনটি ব্যাংক হিসাবই স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ইউকের।

কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র আয়োজনে হেলথ্ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত  

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র আয়োজনে হেলথ্ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপি কুষ্টিয়া  পৌরসভার অডিটোরিয়ামে এই হেলথ্ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। হেলথ্ ক্যাম্পে ঢাকা থেকে আগত প্রায় ২৭ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কুষ্টিয়ার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এ সময় ব্যবস্থাপত্রের সাথে বিনামূল্যে ঔষুধও প্রদান করা হয়। মেডিসিন, কার্ডিওলজি, অর্থপেডিক, গাইনোকলজি, ইউরোলজি, শিশু রোগ, নাক কান গলা, চক্ষুরোগ, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন প্রায় ৫ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। সকালে হেলথ্ ক্যাম্প ২০১৯ এর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার উপদেষ্টা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব কাজী আখতার হোসেন, সমিতির সভাপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ আকতার উজ জামান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান ও সমিতির সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান আতা, সমিতির মহাসচিব মোঃ রবিউল ইসলামসহ কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র নির্বাহী পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার ‘একটি ব্যর্থতার’ কথা জানালেন গয়েশ্বর

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ‘অনেক সাফল্য’ থাকলেও তার একটি ‘ব্যর্থতা’ খুঁজে পেয়েছেন দলের স্থানীয় কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে গতকাল শুক্রবার একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তার সেই ‘ব্যর্থতা’র বিষয়টি গয়েশ্বর বলেছেন।  তার ভাষায়, বিএনপি চেয়ারপারসন তার চারপাশে ‘সৎ ও সাহসী সহযোগী’ তৈরি করতে পারেননি, এটাই তার ‘ব্যর্থতা’। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর বলেন, “আজকে প্রশ্ন আসে, বেগম খালেদা জিয়া যতটুকু আপসহীন, তার দলের মধ্যে যারা… সেইভাবে তারা হয়ত আপসকামী অথবা ভীতু। অর্থাৎ কোনো ঘটনাকে মোকাবিলা করার মত সৎ সাহসের অভাব।” বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, তাদের নেত্রীর জীবনে ‘সফলতার সার্থকতার শেষ নেই’। কিন্তু তারপরও যে এই ‘ব্যর্থতা’ রয়ে গেছে, সে কথা তিনি খালেদা জিয়াকেও বলেছিলেন। “আমি বলেছিলাম, ম্যাডাম আপনি অল্প দিনের মধ্যে সারাদেশে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এবং আস্থা অর্জন করছেন। নিকট ভবিষ্যতে এই আস্থা সীমান্ত ছাড়িয়ে পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে পৌঁছে যাবে। তারপরেও আপনার জীবনে যেন একটা ব্যর্থতা থেকে গেল। তখন তিনি রাগত স্বরে বললেন, ‘কিসের ব্যর্থতা?’, আমি বললাম রাগ করলে বলা যাবে না। আমি যা বুঝি তা আপনার শুনতে হবে।.. আপনি অনেক কিছু জয় করলেন। কিন্তু আপনার আশআশে চতুর্দিকে সিনসিয়ার অনেস্ট পরামর্শ সহায়ক শক্তি তৈরি করতে পারলেন না। তিনি তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে আঙ্গুল দিয়ে কপাল দেখিয়ে বললেন, ‘যা আছে তাই নিয়ে তো চলতে হবে, আমি কিই বা করব’।” বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও পরামর্শকদের সামনে রেখে গয়েশ্বর বলেন, “আজো বলছি, বেগম খালেদা জিয়া ব্যর্থ; অনেস্ট, সিনসিয়ার, সাহসী সহযোগী তিনি সৃষ্টি করতে পারেননি।” ‘খালেদা জিয়া: তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ নামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘শত নাগরিক কমিটি’। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও গবেষক আবদুল হাই শিকদারের সম্পাদিত এই বইটি লেখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৩৬ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে। বইয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলে সংস্কারপন্থিদের তৎপরতার বিষয়টি স্মরণ করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য একটি সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার বাসভবনে। তার আশপাশে বা সংস্কার প্রস্তাবের সাথে যারা জড়িত, তাদের মাতবরি দেখা গেল সেদিন।… সেটা এই গ্রন্থে উল্লেখ থাকলে মন্দ হত না “ সংস্কারপন্থিদের ওই তৎপরতার পাল্টায় বিএনপির আরেক নেতা ‘খালেদা জিয়ার ইচ্ছায়’ আরেকটি বিবৃতি দিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল- বিএনপি চেয়ারপারসন সংস্কারে বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রের বিশ্বাস করেন। দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার হবে, সেজন্য তিনি উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষার কথা বলেছেন। “এই গ্রন্থে লেখা আছে সেই বিবৃতিটি তৎকালীন একজন যুগ্ম মহাসচিব পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই যুগ্ম মহাসচিবের নাই। এখন ভবিষ্যতে যদি আবুল হারিছ চৌধুরী দাবি করেন যে ‘আমি সেই যুগ্ম মহাসচিব ছিলাম’ তাই এ গ্রন্থে সত্য ইতিহাস জানতে চাইলে পাঠক বঞ্চিত হবে।” গয়েশ্বর বলেন, সে সময় খালেদা জিয়া তার সেনানিবাসের বাসায় একপ্রকার অন্তরীণ ছিলেন। সবাই তার বাসায় যেতে পারতেন না। যারা যেতে পারতেন, তাদের কেউ কেউ হঠাৎ করে দলে বড় বড় অবস্থানে চলে গিয়েছিলেন। ওই অবস্থায় ‘দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার স্বার্থে’ মান্নান ভূঁইয়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনকে। “সরকারের সেই ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে বিদেশে পাঠানোর একটা প্রস্তুতি পর্ব শেষ হয়েছে। তিনি টেলিফোন করে কাউকে পান না, যাকে টেলিফোন করেন সে বাথরুম থেকে ফেরে না, যাকে টেলিফোন করেন, তিনি হয়ত পলাতক, যাকে টেলিফোন করেন তার কাছে থেকে উত্তর আসে সেই ব্যক্তি বিদেশে আছেন। আর কিছু লোককে টেলিফোন করা যায়নি তারা জেলখানার অন্ধকারে বন্দি। এই অবস্থার মধ্যে খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি দেশ ছেড়ে যাবেন না।” নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপি নেত্রী সে সময় নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, “উনি আজকে জেলখানায়। নানা ধরনের মস্করা চলছে, ঠাট্টা চলছে, বিদ্রƒপ চলছে। এই প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আনতে পারে কারা? সেদিন (১/১১ সময়ে) যদি তারা মান্নান ভূঁইয়ার সাথে দলে দলে বেগম খালেদা জিয়াকে আঘাত না করত, তারা যদি চুপচাপ বসে থাকত, তাহলে সেদিন জেলখানায় যেতে হত না।” গয়েশ্বর দাবি করেন, জরুরি অবস্থার মধ্যে দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে খালেদা জিয়া তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন সে সময়।   তিনি শত্রু শিবিরের মূল ব্যক্তিকে টার্গেট করেছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সঙ্গী করতে। তিনি বিদেশে শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেছেন, দেশে ফেরত আসার জন্য বলেছেন। শেখ হাসিনা যখন দেশে আসেন, তখন তার বাসভবনে গিয়ে সহানুভূতি জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দারা তাকে যেতে দেয়নি। তখন তিনি একটি অভিনন্দনপত্র শেখ হাসিনার সুধাসদনে প্রেরণ করেন। এটা রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার দুরদর্শিতা ও উদারতার প্রমাণ।”