কালুখালীর অরুণগঞ্জ জিসি টু মৃগী জিসি রাস্তার কার্পেটিং উদ্বোধন

ফজলুল হক ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে অরুণগঞ্জ জিসি টু মৃগী জিসি ৬০৯০ থেকে ৯৭০০ মিটার পর্যন্ত কার্পেটিং কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অন্তর এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক নির্মিত এ কাজ দুপুর ২টার দিকে শুভ উদ্বোধন করেন রাজবাড়ী এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী খান এ শামিম। এসময় কালুখালী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুল হক জোয়াদ্দার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমডি উত্তম কুমার কুন্ডু, মোঃ লাভলু বিশ্বাস এছাড়াও কার্য সহকারী রাকিবুল হোসেন সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহে সড়কের জায়গা দখল করে বালির ব্যবসা, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে জমজমাট বালির ব্যবসা। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। সেই সাথে দুর্ভোগ বেড়েছে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের। ব্যবসায়ীদের যত্রতত্র বালি রাখার কারণে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

শহর ঘুরে দেখা যায়, মশিউর রহমান সড়কে পাগলা কানাই মোড় এলাকা, হামদহ, পুলিশ লাইনস এলাকায় সড়কের জায়গা দখল করে বালির ব্যবসা করছেন, রোজদার আলী, ওয়াজেদ আলী, রবিউল ইসলাম, শরাফত আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম, হাজি মসলেম উদ্দিন ওরফে লাদেন, আবু সাঈদ, সারোয়ার হোসেন, ইসাহাক আলী, আব্দুল কাদের, জাফিরুল ইসলাম, আলো মিয়া, মোশাররফ হোসেন, জামাল হোসেন, রবু মিয়া, নজরুল ইসলাম, সোহাগ হোসেন, বিপুল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন জাকির হোসেন ও আব্দুল লতিফ। এছাড়াও শহরের নানা স্থানে বালি ব্যবসা করছেন অনেকে। অনেকে আবার বাড়ি, দোকান নির্মাণ করার জন্য সড়কের পাশে বালি রেখেছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়কের পাশে বালি রাখার কারণে তাদের চলাচল করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাতাস উঠলেই বালি উড়ে তাদের চোখে মুখে পরে। রাস্তার পাশে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান রেখে বালি আনলোড করার সময় অনেকসময় যানজট লেগে যায়। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, বালি ঢেকে রাখার নিয়ম থাকলেও তা কেউ মানছেন না। যে কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, রাস্তার পাশের বালি অপসারণের জন্য সড়ক ও জনপথকে জানানো হয়েছে। তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ভোগান্তি  থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা সকল প্রকার সহযোগিতা করবে।

হজ নিবন্ধনের সর্বনিম্ন কোটা পূরণে ২০ এজেন্সিকে নোটিশ

ঢাকা অফিস ॥ হজ নিবন্ধনের সর্বনিম্ন কোটা পূরণ করতে বেসরকারি ২০টি এজেন্সিকে নোটিশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।চলতি বছর বেসরকারি ২০ হজ এজেন্সি সর্বনিম্ন ১০০ হজযাত্রী নিবন্ধন কোটা পূরণ করতে পারেনি। সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ শিব্বির আহমদ উসমানী স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৯ অনুযায়ী সর্বনিম্ন কোটা পূরণ না হওয়ায় ওই ২০ হজ এজেন্সিকে সমঝোতা পূর্বক সমন্বয়ের মাধ্যমে লিড এজেন্সি নির্ধারণ অথবা সর্বনিম্ন কোটা পূরণ করে হজযাত্রীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করার অনুরোধ করা হয়। অভিযুক্ত ২০ এজেন্সি হলো-এ আর ট্যুরস এ্যান্ড ট্র্যাভেল, রাশা সারা ওভারসিজ লিমিটেড, মোতাহের ট্র্যাভেলস   ইন্টারন্যাশনাল, খান জাহান আলী হজ ট্র্যাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস, মোবাশ্বিরা ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, সরাইল বি বাড়িয়া ট্র্যাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, ফ্লাই সুন ইন্টারন্যাশনাল ট্র্যাভেল এজেন্সি, তানজিল এভিয়েশন সার্ভিস, রাইয়ান ট্র্যাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, মেরিন ট্যুরস এ্যান্ড ট্র্যাভেলস লিমিটেড, ট্রাইটন ওভারসিজ লিমিটেড, মোহাম্মদিয়া ট্র্যাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস, খান এ্যান্ড সন্স ট্র্যাভেলস, বাংলা এয়ার সার্ভিসেস, শরীফ এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড, বদরপুর ট্র্যাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস, সালাম আবাদ ট্র্যাভেলস, মিম ট্যুরস এ্যান্ড ট্র্যাভেলস, কওমি ট্র্যাভেল এ্যান্ড ট্যুরস ও হিজাজ ট্যুরস এ্যান্ড ট্র্যাভেলস। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন ১০০ জন নিবন্ধনের কোটা পূরণ করতে অক্ষম ২০ এজেন্সির মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৮ ও সর্বনিম্ন চারজনের নিবন্ধন বাকি রয়েছে।

 

দেশে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ

ঢাকা অফিস ॥ দেশে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে দশ হাজার ম্যালেরিয়ার রোগী রয়েছে। যদিও ২০১৭ সালের তুলনায় গত বছর ম্যালেরিয়ার রোগী কমেছে ৬৪ ভাগ। তবে সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে একেবারে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা। আগামী ২৫ এপ্রিল বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমকে দেশের ম্যালেরিয়া পরিস্থিতি অবহিতকরণ সভায় এসব কথা বলেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস ভবনে স্বাস্থ্য অধিদফতরর রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এই অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে। সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার নাসিমা সুলতানা, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার সানিয়া তাহমিনাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডাক্তার এম এম আখতারুজ্জামান। এখনো পর্যন্ত দেশের ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। এর মধ্যে মোট ম্যালেরিয়া রোগীর ৯১ ভাগ শনাক্ত হয় তিন পার্বত্য জেলায়।

 

বিএনপি করায় শাহীনকে জীবন দিতে হলো – মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব ও বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংগঠন ও রাজনীতি করায় শাহীনের অপরাধ, তাই তাকে জীবন দিতে হলো। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান খুবই ব্যথিত, মর্মাহত। তাদের নির্দেশেই নিহত শাহীনের পরিবারকে সান্ত¡না দিতে এসেছি।দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাদের সমবেদনা জানানোর পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের ধরমপুর এলাকায় নেতাকর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে আইনের শাসন নেই, ন্যায়বিচার নেই, মানবাধিকার নেই, মানুষের জীবনের মূল্য নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বিএনপি নেতা শাহীনের নৃশংস হত্যাকা-ের প্রমাণ পাওয়া যায়।তিনি বলেন, বিচার ও ইনসাফ না থাকায় দেশে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। তাই দেশের মানুষকে সব অপকর্মে বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, নেত্রী কারাগারে খুব অসুস্থ, হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেলা করতে পারেন না। আর তারেক রহমান দেশের বাইরে আছেন। তিনি তাদের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, আমরা বগুড়াবাসীর পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতে থাকব।নেতাকর্মীদের নিহত শাহীনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো প্রয়োজনে আমরা তাদের পাশে থাকব। তিনি শাহীনের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং ধৈর্য ধরতে বলেন।বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, এ সরকারের আমলে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই, হত্যার বিচার নেই। অবৈধ সরকারের দুঃশাসনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা শাহীনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে শাহীনের খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি করেছেন।বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, শাহীন হত্যার পর থেকে তাদের আন্দোলন চলছে। এ হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।এ সময় অন্যদের মধ্যে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, বিএনপি নেতা আলী আজগর তালুকদার হেনা, সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, আহসানুল তৈয়ব জাকির, এমআর ইসলাম স্বাধীন, সিপার আল বখতিয়ার, শাহ মেহেদী হাসান হিমু, শাহাবুল আলম পিপলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইসি

ঢাকা অফিস ॥ ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গারা যাতে তালিকায় নাম লেখাতে না পারে সে জন্য কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ ছাড়া কাউকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, ৩২ উপজেলায় রোহিঙ্গা রয়েছে। এসব এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ ব্যতীত কাউকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এছাড়া মহিলারা যাতে তথ্য সংগ্রহ ও রেজিস্ট্রেশন করতে পারে সেজন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শুক্রবার থেকে মুসল্লিদের ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনেক মহিলা ছবি তুলতে চান না এ ব্যাপারে ইসলামি ফাউন্ডেশনকে প্রচারণামূলক সভা করে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বলা হয়েছে।তিনি বলেন, আমাদের তথ্য সংগ্রহকারীরা যাতে এক জায়গায় বসে তথ্য সংগ্রহ না করে সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে যারা চেয়ারম্যান, মেম্বর, মেয়র ও কাউন্সিলর রয়েছেন তারা যাতে ভোটারদের আগ্রহ সৃষ্টি করে সেজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ করেছি। এছাড়া ৬৫ দুর্গম এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, যাতায়াত সহজীকরণ এবং তাদের প্রত্যেকের পরিচয়পত্র দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে দশ আঙ্গুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ নেয়া হবে। সচিব বলেন, বিদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে সেজন্য যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করছে ইসি। এবার প্রায় ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে ইসি কর্মকর্তাদের ধারণা। ১৩ মে পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। যাদের বয়স ১৮ হয়নি, কিন্তু ১৬ পেরিয়েছে (২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্ম), তাদের তথ্য নেয়া হবে। ভোটার হওয়ার বয়স হলে তাদের তালিকাভুক্ত করা হবে।

 

বাজেটে কাতি প্রতিফলন ঘটছে কিনাএমপিরা খোঁজ রাখতে পারেন – স্পিকার

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) সভাপতি  ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জনগণের আশা আকাক্সক্ষা বাজেটে প্রতিফলিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ বিষয়ে তারা খোঁজ রাখতে পারেন। তিনি বলেন, রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী সরকার পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল, ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন এবং ২০৪১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনের লক্ষ্য অর্জনেও সরকার বদ্ধপরিকর। লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় বাজেট কতটুকু সহায়ক তা বিশ্লেষণ করতে পারেন এমপিরা। বৃহস্পতিবার ঢাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী লিডারশিপ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে তিনি এ কথা বলেন।লিডারশিপ ওরিয়েন্টেশনের সভাপতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের যুব, কর্মসংস্থান ও আইসিটি সম্পর্কিত সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান।স্পিকার বলেন, বাজেট প্রস্তুতকরণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নির্বাহী বিভাগের সব প্রক্রিয়া শেষে বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন এবং পাস হয়। সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বাজেট সম্পর্কে মতামত দেয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গত এক দশকে বাজেটে গুণগত অনেক পরিবর্তন এনেছে। বাজেটের কলেবরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেন্ডার ভিত্তিক বাজেট বিশেষ করে নারীদের জন্য সব মন্ত্রণালয়ে পৃথক বরাদ্দ থাকছে। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্যও পৃথক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বাজেটে।তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন সুবিধা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। এ সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দারিদ্র বিমোচন সহায়ক বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।দুই দিনের ওরিয়েন্টেশনের রিসোর্স পার্সন ছিলেন বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থাযী কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রুস্তম আলী ফরাজী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সিপিডির ডিস্টিংগুইশ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হুসেইন, কমনওয়েলথ সচিবালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সাবেক প্রধান ও র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজেট বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ফিন্যান্সিয়াল ভ্যালুন্টারি ক্রপ্সের পরিচালক মি. অ্যাডওয়ার্ডস সিয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজেট বিশেষজ্ঞ মিস ক্যাথরিন গেস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ ও এপিপিজির সেক্রেটারি জেনারেল শিশির শীল। দুই দিনব্যাপী এ লিডারশিপ কনফারেন্সে ৩০ সংসদ সদস্য অংশ নেন।

নুসরাত হত্যা : সহপাঠী শামীম ৫ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥  ফেনীতে নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তার সহপাঠী মোহাম্মদ শামীমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। এছাড়া এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলাম জানান, বৃহস্পতিবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমেদ শামীমকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।তিনি বলেন, আসামি নূর উদ্দিন ও আবদুর রহিম শরিফের স্বীকারোক্তিতে নুসরাতের সহপাঠী মোহাম্মদ শামীমের নাম এসেছে।“তাকে রিমান্ডে নিলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।”শামীম সোনাগাজী উপজেলার তুলাতলী গ্রামের শফি উল্লাহর ছেলে।তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলাম বলেন, এছাড়া এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদেরকে বুধবার রাতে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, বৃহস্পতিবার আবদুল কাদেরকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।এ মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১২ জন রিমান্ডে রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরিফ।মামলা বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তারা হলেন- মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, সহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম শরিফ ও হাফেজ আবদুল কাদের।এদিকে এ হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফেনীতে মানববন্ধন করেছে একাধিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে এনসিটিএফ নামে একটি সংগঠন ও ফেনী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন শহরের শান্তি কোম্পানি সড়ক এলাকায়। মহিপাল সরকারি করেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মহিপাল এলাকায়।এ সময় ওইসব সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা নুসরাত হত্যায় জড়িত সবার বিচার দাবি করেছেন।গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে মাদ্রাসায় একদল তরুণ-তরুণী তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান।মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে দায়ের করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তাকে হত্যার জন্য আগুন দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

গাংনীতে ঝগড়া ঠেকাতে নিজ সন্তানকে হত্যার চেষ্টা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রামের পোড়াপাড়ায় ঝগড়া ঠেকাতে নিজ সন্তানকে আচড়ে হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। আহত শিশু সন্তান লিজনকে (৭) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হত্যার চেষ্টাকারী ওই বাবা গাঁড়াডোব গ্রামের পোড়াপাড়ায় ট্রাক চালক রিয়াজুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান শিশু লিজন তার চাচার মেয়ে শাহিনা খাতুনের সাথে খেলা করছিল। খেলা নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় নিজ সন্তানকে শাসন করতে গিয়ে বাবা রিয়াজুল তাকে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি আহত লিজনকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত লিজন বর্তমান আশঙ্কজনক বলে জানিয়েছে তার নিকট আত্মীয়রা।

আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ল্যাব, যাদুঘর, সিসিটিভি ও ডিজিটাল হাজিরার উদ্বোধন

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়া জেলার আধুনিক মানের শিক্ষার আলো ছড়াতে কাজ করে যাচ্ছে জেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারস্থ মনোরম পরিবেশে ১৮৯৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে এখন অবধি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধি করতে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানউন্নয়নসহ ডিজিটাল ও আধুনিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার জন্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কিছু উন্নয়ন অব্যহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। তিনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সেই সাথে বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে আধুনিক মানের “রহিমা আফসার ডিজিটাল ল্যাব” এর শুভ উদ্বোধন করেন। সেই সাথে তিনি বিদ্যালয়েরসহ এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বিদ্যালয়ে নবনির্মিত একটি আধুনিক মানের স্মৃতি যাদুঘরের শুভ উদ্বোধন করেন। যা বিদ্যালয়ের প্রাচীন ইতিহাস, সাফল্য এবং ঐতিহ্য সংরক্ষনে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে তা জানানোর জন্য সহায়ক হিসাবে কাজ করবে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস এবং প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরার উদ্বোধন করেন মাহবুবউল আলম হানিফ। এছাড়াও শতভাগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরার উদ্বোধন করা হয়।  উদ্বোধনকালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া-১ আসনের সাংসদ আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খাঁন, সাধারন সম্পাদক আজগার আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, ওয়েষ্ট্রার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির উদ্দিন আহম্মেদ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খাঁন, জেলা পরিষদের সদস্য মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম, পোড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বিশ^াস, আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাহার আলী, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিয়াত আলী লালু, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার জানান, আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিদ্যালয়টি তার সাফল্য ধরে রেখেছে। রহিমা আফসার ডিজিটাল ল্যাব, স্মৃতি যাদুঘর, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ডিজিটাল হাজিরার মাধ্যমে শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধি পাবে। আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে বিদ্যালয়ে যা যা প্রয়োজন, যে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন আমরা তাই করবো। আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে একটি আধুনিকমানের বিদ্যালয় হিসাবে গড়ে তুলবো।

 

ভেড়ামারা প্রতিবন্ধী স্কুলে আলমারি প্রদান করলেন ওসি শামীম উদ্দিন

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের জন্য একটি ষ্টীলের আলমারি প্রদান করলেন ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শামীম উদ্দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভেড়ামারা থানা চত্বরে ভেড়ামারা প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ লাকি আক্তারের হাতে ষ্টীলের আলমারি তুলে দেন ওসি শামীম উদ্দিন। এসময় এসআই আবু তালেব, স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান রাজু, মোঃ শাহিনুর রহমান, মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ মুনজুর রহমান, মোঃ লালন আলী, মোছাঃ মরিয়ম খাতুনসহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ভেড়ামারা প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শামীম উদ্দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। ওসি শামীম উদ্দিন বলেন, আমি ভেড়ামারা প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের পাশে আছি এবং সবসময় পাশে থাকবো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।

ঝিনাইদহে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস কাবাডি প্রতিযোগিতা ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে শেষ হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস কাবাডি প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুড়ান্ত দিনে সদর থানা ও কোটচাঁদপুর থানা কাবাডি দল প্রতিযোগিতা করে। ৩০ মিনিটের এ খেলায় কোটচাঁদপুর থানা দলকে ৪৯-৪৪ পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা জেতে ঝিনাইদহ সদর থানা কাবাডি দল। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জাম। এসময় ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার বিশ্বাস,  কোষাধ্যক্ষ তোফাজ্জেল হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপু, ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান, কোটচাঁদপুর থানার ওসি কাজী কামাল হোসেন, যুবলীগ নেতা বাছের আলম সিদ্দিকীসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন। খেলা পরিচালনা করেন গত ১৪ এপ্রিল সকালে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এতে জেলার ৬ টি থানা কাবাডি দল অংশ নেয়।

চবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা অফিস ॥  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট।পাশাপাশি ওই পদের জন্য নেওয়া সাক্ষাতকার (মৌখিক পরীক্ষা) বাতিল করে আবার পরীক্ষা নিতে চাকরিপ্রত্যাশী মো. এমদাদুল হকের আবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে উপাচার্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভালো ফলাফলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাওয়া এমদাদুল হকের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। গত ২৭ মার্চ প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এমদাদুল।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছানোর পর সাতজন শিক্ষার্থী পথ আটকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের এক কোণে নিয়ে যায় এবং টাকা দাবি করে বলে এমদাদুলের অভিযোগ।তার আইনজীবী বলেন, টাকা না দেওয়ায় ওই মাঠে তাকে এক দফা এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্যাগোডায় নিয়ে আরেক দফা মারধর করা হয়।এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে নিয়ে আবারও মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে বলা হয়, তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টর ও ভিসিকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুলিশ এমদাদুলকে হাটহাজারী থানায় নিয়ে যায়। সেদিন বিকালে ওসি এসে পুরা ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন। থানার ডিউটি অফিসার তাকে একটি শার্ট এনে দেন যাতে তিনি গায়ের ছেঁড়া কাপড় বদলে নিতে পারেন। থানা থেকে ছাড়া পেয়ে এক বন্ধুর বাসায় চলে যান এমদাদুল।

ওই ঘটনার পর ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এমদাদুল। সেখানে তাকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া না পেয়ে হাই কোর্টে এই রিট আবেদনা করা হয় বলে জানান এমদাদুলের আইনজীবী জ্যেতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, “আজকে শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেছে, গত ৩০ মার্চ এমদাদুল হক যে আবেদনটি করেছিলেন ভিসি মহোদয়ের কাছে, সেটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষকের দুটো খালি পদে কোনোভাবেই যেন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না হয়, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।” ময়মনসিংহের গৌরিপুরের আজিজুল হকের ছেলে এমদাদুল হক ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় তিনি ৩.৮৮ সিজিপিএ পেয়ে বিভাগে প্রথম হন। এরপর ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স পরীক্ষায় তার সিজিপিএ হয় ৩.৯৬। ওই ফলাফলের জন্য তাকে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, “১৯৭৩ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই রেজাল্ট আর কোনো শিক্ষার্থী করতে পারেনি। এত ভালো রেজাল্ট করার পরও একজন শিক্ষার্থী যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না পায় এটা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।” শুনানির এক পর্যায়ে আদালত দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান ‘অবক্ষয়ের’ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানান আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, “আদালত যেহেতু দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে, আমরা দেখবো কী হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতকে আমরা এর ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করব এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাইব।” ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার বলেন, “আজকে আদালত এ সংক্রান্ত যে রুল দিয়েছেন তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”

আদালতে হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেই খালেদার মুক্তি সম্ভব – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥  খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্যারোলের নামে সরকার ‘অশুভ’ চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “প্যারোল নিয়ে চলছে একেবারে সরগরম অপ্রপ্রচার। এই অবৈধ সরকার দেশনেত্রীর জীবন হুমকির মুখে ফেলে সুদুরপ্রসারী স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। “আইনজীবীরা বলেছেন, তাকে (খালেদা জিয়া) যে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে তা সহজ জামিনযোগ্য। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তি চান তিনি।” তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বলব, দেশনেত্রীকে নিয়ে মাইনাস ফর্মুলা বন্ধ করুন। প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের যে অশুভ চক্রান্ত চলছে, এই চক্রান্ত করে লাভ হবে না। তার জামিনে আর বাধা দেবেন না। আইনকে তার নিজের গতিতে চলতে দিন। আদালতের উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেই আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসবেন।” গত কয়েকদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘সূত্রবিহীন’ খবর সম্পর্কে বিএনপিনেতা রিজভী বলেন, “সরকারপন্থি কয়েকটি মিডিয়া প্রতিদিন মনগড়া প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রোপাগান্ডাগুলোর সাথে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জড়িত বলে ব্যাপক গুঞ্জন আছে। প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সফল করার জন্য ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে।” বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি শারীরিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত, হাত নাড়াতে পারছেন না, আর্থ্রাইটিসের কারণে পা নাড়াতে পারছেন না। তাকে সুচিকিসা দেওয়া হচ্ছে না। “গতকালও চিকিসকরা বলেছেন তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এই অবস্থায় দেশনেত্রী তার পছন্দ মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চান, গোটা দেশবাসী চায়- এখানে ওইসব গণমাধ্যমে কোনো নিউজ আমরা দেখি না।” ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকা-ের তদন্ত প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “নয়দিন হল নুসরাত মারা গেছেন। অথচ এই দুষ্কর্মের সহযোগিতাকারী সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর সোনাগাজী থানার ওসি নুসরাতকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে লাঞ্ছিত করে, সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেও তার কোনো বিচার হচ্ছে না। “অন্যদিকে যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে, সেই পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকার পুলিশ প্রশাসনের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছে সরকার। এই সরকারের কর্মকা-ে স্পষ্ট হচ্ছে যে, এই বর্বরোচিত হত্যাকা- ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য দোষীদের সাজা দেওয়া হবে বলে অভিনয় করছে।” নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আহমেদ আজম খান, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবে রহমান শামীম, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল খালেক, রফিক হাওলাদার, নাদিম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইবির বিএড ও এমএড কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আই.আই.ই.আর) এর অধীনে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড) ও মাস্টার্স অব এডুকেশন (এমএড) এবং ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী সায়েন্স-এর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ পরীক্ষা অনু্িষ্ঠত হয়। এবছর বিএড কোর্সের আসন সংখ্যা ৭৫, এমএড কোর্সের ৫০, এবং ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী সায়েন্স কোর্সের আসন সংখ্যা ৮০। এবিষয়ে আই.আই.ই.আর’র পরিচালক প্রফেসর ড. মেহের আলী বলেন, ‘অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে বিএড, এমএড ও ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী সায়েন্স’র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (িি.িরঁ.ধপ.নফ) প্রকাশ করা হবে।’

আগামী তিন দিনে বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা

ঢাকা অফিস ॥ গত দু’দিন গরমে অস্থির দেশের জনসাধারণ। তাপমাত্রা উঠেছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। তবে এই গরমে স্বস্তির সংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্য এলাকার আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আগামী তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ হরিনাথ মজুমদার’র তিরোধান দিবসে ডিসি মোঃ আসলাম হোসেন

কাঙালের বস্তুনিষ্ঠ পথ তুলে ধরলে সমাজ সংস্কার পথ সুন্দর হতে পারে

নিজ সংবাদ ॥ সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ কাঙাল হরিনাথ মজুমদার’র ১২৩তম তিরোধান বিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় জেলা প্রশাসকরে সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার উনিশশতকের এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সাহিত্যিসাধক, সাময়িকপত্র-পরিচালক, সমাজ সংস্কারক। ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকা পরিচালনার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন সময়ে জমিদার-মহাজন-নীলকরের অত্যাচার-অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে যে সাহসী ও বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করেছেন তা একটি বিষ্মকর ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। সম্পুন্ন আধুনিক পরিবেশের বাইরে নিভৃত পল্লীতে বসে সংস্কৃতি চর্চ্চার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন তা যথার্থই বিষ্মকর ও তুলনাহীন।  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়ার কাগজ পত্রিকার সম্পাদক-বাসস-ভোরের কাগজ-বাংলাভিশন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি নূর আলম দুলাল, দৈনিক আরশীনগর পত্রিকার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ কাঙাল হরিনাথ মজুমদার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কুন্ডু পাড়ায় মজুমদার-বংশের এক দরিদ্র-শাখায় (বাংলা ১২৪০ সালের ৫ শ্র্রাবন) ইংরেজী ১৮৩৩ সালে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম হলধর সেন ও মাতা হরিনাথ কমলিনী দেবী। অত্যন্ত দারিদ্রতার মধ্যে তাকে বেঁচে থাকতে হয়েছে। এক টুকরো বস্ত্রের জন্য কাঙ্গালকে রাজা রামমোহন রায়ের চুর্ণক’ গ্রন্থটি এক রাতে নকল করে দিয়েছিলেন একজন ধনীব্যক্তিকে। অভিভাবকত্বের অভাব আর দারিদ্রতার কারণেই পরের স্নেহ ও পরের ঘরে খেয়ে, পরে মানুষ হতে হয়েছে বলে উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেননি। কিন্তু নিজে শিক্ষায় শিক্ষিত হতে না পারলেও তাঁর লোক শিক্ষার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ও অনুরাগ ছিল। গ্রামের শিশু-কিশোরদের শিক্ষার জন্য তিনি ১৮৫৪ সালে কুমারখালীতে একটি বাঙ্গলা পাঠশালা স্থাপন করেন এবং ওই বিদ্যালয়ে তিনি বিনা বেতনে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৮৬০ সালে তাঁর বাড়ির চন্ডীমন্ডপে একটি বালিকা বিদ্যালয়ও স্থাপন করেন। হরিনাথের  স্মরণীয় গ্রন্থ বিজয়বসন্ত (১৮৫৯) একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এ ছাড়া পদ্যপুন্ডরীক, দ্বাদশ শিশুর বিবরণ, চারুচরিত্র, কবিতাকৌমুদি, বিজয়া, কবি কল্প, অক্রুরসংবাদ, সাবিত্রি নাটিকা, চিত্তচপলা, একলভ্যের অধ্যাবসায়, কাঙ্গাল-ফকিরচাঁদ ফকীরের গীতাবলী, কৃষ্ণকালী-লীলা, মাতৃ-মহিমা, আত্মচরিত ও হরিনাথ গ্রন্থাবলীসহ অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। কাঙ্গাল হরিনাথ নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। একটি মফস্বল এলাকায় থেকে এত বড় জাগ্রত চিত্তের মানুষ আর দ্বিতীয় জন ছিলনা সে সময়। জমিদার, মহাজন, কুঠিয়াল ও গোরা পল্টনের অত্যাচার ও উৎপীড়ন প্রত্যক্ষ করে তাঁর মনে যে বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাতেই তিনি গ্রামবার্ত্তা প্রকাশের প্রেরণা লাভ করেন। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারতেœর যন্ত্রে মুদ্রিত ও কুমারখালী থেকে প্রকাশিত হতো। চার ফর্মার এই মাসিক পত্রিকাটির মুল্য ছিল পাঁচ আনা। গ্রাম-হিতৈষণার আদর্শ নিয়েই গ্রামবার্ত্তা’র মুলত আত্মপ্রকাশ হয়। মাসিক, পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক হিসেবে কয়েক পর্যায়ে মোট ২২ বছর চলেছিল পত্রিকাটি। গ্রামবার্ত্তা প্রথমে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারত্বের বিদ্যারতœ যন্ত্রে মুদ্রিত হতো। পরে রাজীবলোচন মজুমদারের সহায়তায় ১২৮০ সালের প্রথমদিকে কুমারখালীতে ‘মথুরানাথ যন্ত্র’ বা এম এন প্রেস থেকে গ্রামবার্ত্তা মুদ্রিত হতো। প্রেস স্থাপনের পর হরিনাথ কয়েক বছর গ্রামবার্ত্তা পরিচালনা করে ঋণগ্রস্ত হন, তখন কুমারখালী বাংলা পাঠশালার প্রধান শিক্ষক প্রসন্নকুমার বন্দোপাধ্যায় ও আরো কয়েকজন শুভাকাংখি গ্রামবার্ত্তা’র পরিচালনাভার গ্রহন করেন। তাঁরা কয়েকবছর পত্রিকা প্রকাশ করেন, কিন্তু ক্রমে ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিনাথ পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ করে দেন। পরে ১২৮৯ সালের বৈশাখ মাসে তাঁর শিষ্য জলধর সেন, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, শিবচন্দ্র বিদ্যার্ণবের উদ্যোগে গ্রামবার্ত্তা পুনরপ্রকাশিত হয় এবং ১২৯২ সালের আশ্বিন মাস পর্যন্ত তা চালু থাকে। প্রয়োজনীয় সহযোগীতা ও পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করলে গ্রামবার্ত্তা আরো দীর্ঘকাল পরিচালিত হয়ে জনগণের সেবা করতে পারতো। কিন্তু গ্রাহকদের ‘নেব দেবনা প্রবৃত্তি’ ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতিশ্র“তি সহযোগীতার অভাবেই মুলত এর প্রকাশনা বিঘিœত ও অবশেষে বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবার্ত্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার ক্রমান্বয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পতিত হন।

 

 

টেকসই ব্যবসা অনুসরণ করে দেশ ৮ শতাংশ জিডিপি অর্জনে সক্ষম হয়েছে- শিল্পমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥  শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, টেকসই ব্যবসা অনুসরণের ক্ষেত্রে কোন ধরণের আপস না করে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আজকের স্থায়িত্ব, আগামী দিনের উন্নত ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশে অবস্থিত নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনসিসিআই) এ সেমিনার আয়োজন করে।এনসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চারলোটা স্কালাইটার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেন এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল বে¬কেন বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পানি পরিশোধন ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিজাতকরণ এবং অনলাইন সেফটি বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন।শিল্পমন্ত্রী বলেন, নরডিক অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক  ক্রমেই উন্নয়ন সহযোগী থেকে বাণিজ্যক অংশীদারিত্বে রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে নরডিকভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, হাইটেক সামগ্রি, আইটি পণ্য ও সেবা রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে বলে তিনি জানান।তিনি বলেন, এদেশের অনেক কারখানা ইতোমধ্যেই ব্যবসায়িক স্থায়ীত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কারখানাগুলো বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানি সাশ্রয়ী রং, রাসায়নিক ও নবায়ণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের মত পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজকের সেমিনার বাংলাদেশে টেকসই বিজনেস প্রাকটিস গড়ে তুলতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।সেমিনারে টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের শিল্পায়নে স্থায়ীত্ব এবং ব্যবসায়ে নৈতিকতার চর্চা জোরদারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘ন্যাশনাল সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্টিং’ চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেন, শিল্প কারখানায় প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ও বিজনেস প্রাকটিস পরিবর্তন করে কোন ধরণের খরচ ছাড়াই উৎপাদনশীলতা এবং স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে তারা সরকারি পৃষ্ঠাপোষকতায় শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্য সেবা এবং শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার তাগিদ দেন।সেমিনারে বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাকখাতে বাংলাদেশের ৬৮টি কারখানা ইতোমধ্যে গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি পেয়েছে। আরও ৩শ’টি কারখানা এ স্বীকৃতির তালিকায় রয়েছে। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবেশ, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক নৈতিকতার ক্ষেত্রে ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন এসেছে। তারা নরডিক অঞ্চলের দেশগুলোর পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের অন্যান্য শিল্পখাতে গুণগত পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন।

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না – বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥  বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, ‘চাহিদার তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অনেক বেশি মজুত রয়েছে, তাই আসন্ন রমজান মাসে পণ্যের দাম বাড়বে না’। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরর সম্মেলন কক্ষে আসন্ন রমজান নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর টিসিবির মাধ্যমে শিগগিরই বিক্রি করা শুরু হবে। আমাদের ধারণা যে, রমজানে পণ্যের দাম তেমন বাড়বে না। কারণ মজুতসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের আছে। আমাদের কাছে যা রিপোর্ট আছে তাতে প্রয়োজনের তুলনায় নিত্যপণ্যের মজুত অনেক বেশি। তবে চিনিতে হয়তো এক-দু টাকা বাড়তে পারে। কারণ চিনির উৎপাদন খরচ বেড়েছে’।বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, ‘মনিটরিংয়ের সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও বাজার মনিটর করবে। কোনো ব্যবসায়ী রমজানকে কেন্দ্র করে সুযোগ নিচ্ছে কি না সে বিষয়টি আমরা নজরে রাখছি। সার্বিকভাবে আমরা পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি’।তিনি বলেন, ‘পণ্য আনা-নেয়ার পথে যেন চাঁদাবাজি না হয় সে বিষয়টি আমরা শক্তহাতে দমন করবো। শিগগিরই পণ্য আনা-নেওয়ার রাস্তায় যেনো কোনও ধরনের চাঁদাবাজি না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হবে। চাঁদাবাজিটা হয়তো শতভাগ বন্ধ করা যাবে না। তবে এ বিষয়টি আমরা শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো’।

 

 

দৌলতপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৫ : আটক-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পাওয়া টাকা চাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১জনকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২জনকে আটক করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নাটনাপাড়া বাজারে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে শেহালা এলাকার আনারুলের মোটরসাইকেল নাটনাপাড়ার আলাউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী আটকিয়ে রাখে। এরই জের ধরে গতকাল বিকেলে দুইপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে নাটনাপাড়া এলাকার রাজু আহমেদ (২৮), নজরুল (৩৫), জহুরুল (৩২), শেহালার মমিন (৩৫) ও আনারুল (৩০) আহত হয়। আহতদের মধ্যে রাজু আহমেদের অবস্থা গুরুতর হলে তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। বাঁকী আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে এবং সংঘর্ষে আহত মমিন ও আনারুলকে আটক করে থানায় নেয়।

জড়িত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু বোঝায় ট্রলার নিয়ে আসতে ঘাটে ঘাটে চাঁদা গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের টাকা না দিলেই মারধর

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদী থেকে বালু বোঝায় নৌকা থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন ২৪ঘন্টায় পালাক্রমে জোরপুর্বক এ চাঁদা করা হচ্ছে। সারা দিনে শতাধিক নৌকা বালু আনা হয় বলে জানা গেছে। কুষ্টিয়া ঘেঁষা পাবনা জেলার সীমান্ত পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা এ বালি কিনে নিয়ে আসছেন। দুটি স্পটে চাঁদা নিচ্ছে নেতাদের মনোনীত লোকজন। আর টাকা না দিলে মারধর করা হচ্ছে মাঝিসহ শ্রমিকদের। এ টাকার ভাগ স্থাণীয় থানা পুলিশসহ অনেকের পকেটে যাচ্ছে।

বালু ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ এলাকাটি পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত। ওপারে পাবনা জেলা। পাবনার জেলার সীমান্ত তারাপুর এলাকার পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী বড় ট্রলার নিয়ে এসে বালু কিনে নিয়ে যান। এখানকার মোটা বালু কদর রয়েছে আশেপাশের বিভিন্ন জেলায়।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পাবনার এ বালু মহাল থেকে প্রতিদিন দেড় শতাধিক ট্রলার ও কার্গোতে ভর্তি বালু বিভিন্ন জেলায় যায়। বিশেষ করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া ধুলট মহলের ব্যবসায়ীরা পাবনার এ ঘাট থেকে বালু কেনেন বেশি। প্রতিদিন এ ধুলট মহালেই শতাধিক ট্রলার বালু আসে। এ ধুলট মহল থেকে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, রাজবাড়ি এমনকি খুলনাতেও ট্রাক বোঝায় হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পাবনা থেকে বালু বোঝায় দিয়ে নিয়ে আসার সময় পদ্মা নদীর কুমারখালী ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা হয়ে মিরপুরে ঘাটে আসতে হয়। শিলাইদহ ঘাটে স্থানীয় প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার ক্যাডাররা সব সময় পাহারা দেয়। তাদের কাছে দেশী অস্ত্র থাকে। শিলাইদহ ঘাটে বড় ট্রলার থেকে ২ হাজার ও ছোট ট্রলার থেকে ১ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে প্রতিদিন। এ ঘাটে ১০ থেকে ১৫জন ক্যাডার পালাক্রমে চাঁদা আদায় করে। নদীতে ট্রলার নিয়ে পাহার দেয় এরা। বালু বোঝাই ট্রলার মাঝ নদীতে আসলেই এরা ট্রলার নিয়ে ওইসব ট্রলার আটকে দেয়। এরপর টাকা নিয়ে ছাড়ে। না দিলে মারপিট করে।

একইভাবে সদর উপজেলার হরিপুর স্পটে টাকা তোলা হচ্ছে। এখানে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসীর আরাফাতসহ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জড়িত। এখানে ক্যাডাররা বসে থেকে নিয়মিত  অর্থ আদায় করছেন বলে বালু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

রানাখড়িয়া এলাকার বালু ব্যবসায়ী সুমন এন্টারপ্রাইজের মালিক ইমরান হোসেন বলেন, তার দুটি ট্রলার আছে। প্রতিদিন পাবনা থেকে বালু নিয়ে আসেন এ দুটি ট্রলারে। বালু নিয়ে আসতে শিলাইদহ ও হরিপুর দুটি স্পটে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের লোকজন এ টাকা তুলছে। টাকা না দিলে মাঝিদের মারধর করা হয়। ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না।’

বালু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, এমনিতেই বালুর দাম বেশি। তারওপর প্রতিদিন চাঁদা দিতে গিয়ে বালুর দর বেড়ে যাচ্ছে। সাধারন মানুষকে বেশি অর্থ দিয়ে এসব বালু কিনতে হচ্ছে। ৪ থেকে ৫ বছর ধরে এসব টাকা তোলা হচ্ছে।

জেলা যুবলীগের একজন নেতা বলেন, দলেরই কয়েকজন নেতা এসব অপকর্ম করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে তারা এসব করছে। বিষয়টি দলের নেতারা জানলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি প্রশাসনের লোকজনও জানে। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না চাঁদাবজি।

আশা নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তার চারটি ট্রলার থেকে প্রতিদিন চাঁদা নেয়া হচ্ছে। বড় ট্রলার থেকে ২ হাজার ও বাকিগুলো থেকে এক হাজার করে চাঁদা নেয়া হয়। এতে তারই প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা চাঁদা নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। দুই দিন চাঁদা দিতে না চাইলে আমার মাঝিদের ব্যাপক মারপিট করা হয়েছে।’

স্থাণীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ টাকার মত চাঁদা উঠছে। মাসে যার পরিমান ৩০ লাখ টাকা। এ অর্থের বড় একটি অংশ যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার পকেটে। বাকি টাকা মাসোহারা হিসেবে নেয় বিভিন্ন সংস্থা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফত তুষারের সাথে কথা হলে বলেন,‘ আমি কোন বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত নেই। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। কারা টাকা নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপান।’

কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান বলেন,‘ বিষয়টি আমার কানেও এসেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। কেউ যদি অভিযোগ দেয় বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া, প্রয়োজনে দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে।’

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ নিয়েও আসেনি। তারপরও চাঁদাবাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’