নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধে সরকারকে চিঠি দেবে ইসি

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনকারী রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ভোটের পর অহেতুক হয়রানি ও বদলি না করতে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৪৭তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া চার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর বেশ কয়েকজন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বদলি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। এই বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বৈঠকে নিজেই উপস্থাপন করেন। সূত্র আরো জানায়, সিইসি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করলে এরপর উপস্থিত সবাই তাতে সম্মতি প্রদান করেন। তখন একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, বদলি বা হয়রানির কাজ করছেন সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীরা। তাঁদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করাতে এগুলো করছেন তাঁরা। পরে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হয়রানি ও বদলি না করতে সরকারকে চিঠি দেবে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব সময় কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দিয়ে থাকি। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হলে স্বাভাবিকভাবে তাদের কঠোর হতে হয়। সেই কঠোর হওয়া যদি ক্ষমতাশালীদের বিপক্ষে যায়, তখন তারা হয়রানি করতে চেষ্টা করতে পারে, বদলিও করতে পারে। তিনি বলেন, এসব কারণে গতকাল (গত সোমবার) কমিশন সভায় আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের কোনো কর্মকর্তাকে যাতে অযথা হয়রানি না করা হয়, সেই ব্যাপারে সচিবালয়কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রভাবশালীদের পক্ষে না গেলে তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। পরে ভোট শেষে তাঁরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও বদলি করার চেষ্টা করেন। সে জন্য আমরা জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেব। যাতে তাঁদের কোনোভাবেই হয়রানির শিকার হতে না হয়। চলমান পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের চার ধাপের ভোটে বেশ কয়েকজন ওসি ও এসপিসহ আরো কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছিল ইসি। নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো একটি পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এরপর সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

রাসায়নিক ঠেকাতে আমের বাগানে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ হাই কোর্টের

ঢাকা অফিস ॥ ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োগ ঠেকাতে আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় আম বাগানগুলোতে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। পাশাপাশি ফলের বাজার ও আড়তগুলোতে আমসহ অন্যান্য ফলে রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে কিনা তা নজরদারি করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে টিম গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। আসন্ন আমের মৌসুমকে সামনে রেখে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আবেদনকারী সংগঠনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ পরে বলেন, “আইজিপি, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং) দেশের বড় বড় ফলের বাজার ও আড়তগুলো মনিটরিংয়ে টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আর পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে।” চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কানসাট আম হাটে ক্রেতা বিক্রেতার ভিড়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কানসাট আম হাটে ক্রেতা বিক্রেতার ভিড়। “তাছাড়া রাজশাহী অঞ্চলসহ দেশের যেসব জেলায় বড় আম বাগান রয়েছে, সেখানে পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকে মনিটরিং টিমে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে এ সংক্রান্ত ২০১২ সালের রায়ে।” মনজিল মোরসেদ বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন করে শিল্প সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, খাদ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং), রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োগ রোধে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট ২০১২ সালের ২৯ ফেব্র“য়ারি একটি রায় দিয়েছিল। আইনজীবী মনজিল বলেন, “সে রায়ে মামলাটি চলমান ছিল। কিন্তু এই বছর আমের মৌসুমকে সামনে রেখে গত রোববার আমরা আবার হাই কোর্টে আবেদন করি। যার প্রেক্ষিতে মহামান্য হাই কোর্ট আজকে এ আদেশ দিলেন।”

রাখাইনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘মারা পড়েছে ক্যাপ্টেনসহ পুরো স্কোয়াড’

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারের গোলযোগপূর্ণ রাখাইনে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেন ও তার দলের সব সদস্যের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার উত্তর রাখাইনের বুথিয়াডং শহরের দুর্গম একটি এলাকায় এ সংঘর্ষ হয় বলে বেশ কয়েকটি সামরিক সূত্র ও নিহতদের আত্মীয়-পরিজনদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে থাইল্যান্ডভিত্তিক ওয়েবসাইট ইরাবদী। বিদ্রোহীদের সঙ্গে শুক্রবারের সংঘর্ষে ক্যাপ্টেন চিত কো কোর পাশাপাশি আরও সেনাসদস্য নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন মিয়ানমার সেনাপ্রধানের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ মিন তুন।  সংঘর্ষে নিহত মোট সেনাসদস্যের সংখ্যা বলতে রাজি হননি তিনি। নিহত ক্যাপ্টেনের দীর্ঘদিনের বন্ধু স লুইন স শুক্রবার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টেও চিত কো কোর নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেন। সংঘর্ষে সব মিলিয়ে নিহত সেনাসদস্যের সংখ্যা ২০ জনের বেশি হবে না বলেও ধারণা তার। স লুইন জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বুথিয়াডংয়ের ওয়ার নেট ইয়োন এলাকায় ক্রিয়াশীল আরাকান আর্মি সদস্যদের শায়েস্তা করতে চিত কো কোর নেতৃত্বে ওই দলটিকে পাঠায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিদ্রোহীরা চারদিক থেকে ওই স্কোয়াডটিকে ঘিরে ফেলে হামলা চালায়। চিত কো একটি রকেট-চালিত গ্রেনেডে আহত হয়েছিলেন, সরকারের অন্য বাহিনীর সদস্যরা পরে তার দেহ খুঁজে পায়নি, বলেছেন লুইন। তার বন্ধু সাগাইং এলাকার মনিওয়াতে কর্মরত ছিলেন; তাকে রাখাইনের আন শহরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের ঘাঁটির শক্তি বাড়াতে নিয়ে আসা হয়। চিত কো কো এবং তার দলকে বিদ্রোহীরা ঘিরে ফেলার পর সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোয় ব্যর্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন। শনিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বিষয়ক তথ্যের নতুন সংস্করণেও ওয়ার নেট ইয়োন এলাকার লড়াইয়ের খবর জানিয়েছে আরাকান আর্মি। শুক্রবার তাদের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রায় দেড়শ সদস্যের একটি পদাতিক ব্যাটেলিয়নের সংঘর্ষে ১২ সেনা নিহত হয়েছে বলেও দাবি তাদের। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বুথিয়াডংয়ের পাশাপাশি কেয়াউকতাও ও ম্রাউক-উ শহরেও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। বিদ্রোহীরা চিন প্রদেশের পালেতোয়া এলাকার সীমান্তবর্তী মার্চে বুথিয়াডংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি সাময়িকভাবে দখলে নিয়েছিল বলে জানিয়েছে ইরাবদী।  আরাকার আর্মির সঙ্গে তিন মাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ বেসামরিকও নিহত হয়েছেন বলে গত মাসে নেপিততে সাংবাদিকদের বলেছিলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র উ জ হাতয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্বাচন ও ভারতের কয়েকটি দিক

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বের বৃহত্তম নির্বাচন হিসেবে পরিচিত ভারতের লোকসভা নির্বাচনের বাকি আছে আর মাত্র একদিন। ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে কয়েক পর্বে ভোট গ্রহণ করা হবে। লোকসভা নির্বাচনের আগে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় এনডিটিভির প্রতিবেদনে অনুযায়ী তুলে ধরা হল। বিশাল জনসংখ্যা : জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনের পর ১৩০ কোটি জনসংখ্যার ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল দেশ। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৪ সালের মধ্যে জনসংখ্যায় ভারত চীনকে ছাপিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ভারতের প্রশাসনিক রাজধানী নয়া দিল্লি ও বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই, এই দুটি শহরেরই বাসিন্দার সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি। ভোটারের এই সংখ্যা এ নির্বাচনকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক যজ্ঞে পরিণত করেছে। অর্থনৈতিক শক্তি : বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং চলতি বছর ব্রিটেনকে পেছনে ঠেলে দিয়ে পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আভাস দিয়েছে।  ২০১৯ সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) । এই প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় কম যা দেশটির কর্মক্ষম লোকজনের জন্য যথেষ্ট চাকরির যোগান দিতে ব্যর্থ হবে বলে বিশ্লেকষদের মত। ফেব্র“য়ারিতে ফাঁস হওয়া সরকারি এক প্রতিবেদন দেখিয়েছে, ২০১৭-১৮ সময়পর্বে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ১ শতাংশ ছিল এবং যা গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকারিভাবে এই প্রতিবেদন কখনোই প্রকাশ করা হয়নি। ভারতের মোট কর্মজীবীদের অর্ধেক কৃষিখাতে নিয়োজিত, কিন্তু চাকরির বাজার ক্রমেই পণ্য উৎপাদন ও সেবা খাতের দিকে সরে যাচ্ছে, এর মধ্যে আইটি আউটসোর্সিং প্রধান শিল্পে পরিণত হয়েছে। এখনো কোটি কোটি মানুষ দরিদ্র : অর্থনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ভারতের কোটি কোটি মানুষ এখনও চরম দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে ভারতের ১৭ কোটি ৬০ লাখ লোক চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল, মাথাপিছু দৈনিক দুই ডলারেরও কম আয়ে তাদের জীবনধারণ করতে হতো। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেক দারিদ্র্য সীমার নিচে আছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর আন্তর্জাতিক তালিকার শীর্ষে আছে ভারত। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১৫টি শহরের মধ্যে ১৪টি ভারতে এবং নয়া দিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী শহর। সামরিক শক্তি : জনসংখ্যার ব্যাপক অংশ দারিদ্র সীমার নিচে থাকলেও ভারত ইতোমধ্যে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রশক্তি অর্জন করেছে। উল্লেখযোগ স্থল ও নৌশক্তির পাশাপাশি দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও অগ্রগতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা শক্রপক্ষের গোয়েন্দা উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতাও অর্জন করেছে দেশটি। চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট : চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা বিবেচনায় ভারত বিশ্বের বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্পের দেশে পরিণত হয়েছে। এ শিল্প খাত থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, দেশটিতে প্রতি বছর ২০টির বেশি ভাষায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। ক্রিকেট দেশটির আরেকটি আবেগের নাম। আসছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতকে অন্যতম ফেভারেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।  ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) যে কোনো খেলার অন্যতম সবচেয়ে সম্পদশালী লিগে পরিণত হয়েছে। গত বছর এই লিগ থেকে আয় ৬৩০ কোটি ডলার ছড়িয়ে গেছে।

বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতি জোর দিয়েছে সরকার – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতি জোর দিয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের বর্তমান মামলা জট কমাতে ও প্রাতিষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আস্থা ধরে রাখতে স্বল্প খরচে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সঠিক ব্যবস্থাপনাসহ বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা এবং জার্মান সহযোগিতা সংস্থা- জিআইজেড বাংলাদেশ আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মোঃ আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হক, জিআইজেড’র বাংলাদেশ রুল অভ্ ’ল বিভাগের প্রধান প্রমিতা সেন গুপ্ত প্রমুখ বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কাছে সরকারি আইনগত সহায়তার সুফল পৌঁছে দিতে জেলা আইনগত সহায়তা প্রদান কমিটির পাশাপাশি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। লিগ্যাল এইডসহ অন্যান্য মামলা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন যাতে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুততর সময়ে মামলার চূড়ান্ত ফলাফল পায় এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে লিগ্যাল এইডের প্রতি আস্থাশীল হয়। তাই স্থানীয় র্পর্যায়ে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ অনুসারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারকে এডিআর এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণের কল্যাণে সরকার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসকে এডিআর কর্নার বা ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে কাজে লাগাতে আগ্রহী।’ জেলা পর্যায়ে কর্মরত লিগ্যাল এইড অফিসার, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ আইনগত সহায়তা প্রদানকারী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনকালে মন্ত্রী স্বঃপ্রণোদিত, কার্যকর এবং দ্রুততর আইনগত সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারীত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। কর্মশালার শুরুতে ২০১৬ জিআইজেড পরিচালিত বাংলাদেশ জাস্টিস অডিটের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, মাত্র ১৩ শতাংশ বিচারপ্রার্থী আনুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থী হিসেবে বিচার প্রার্থনা করে। ৮৭ শতাংশ বিচারপ্রার্থী স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সচেষ্ট থাকে।

আওয়ামী লীগের প্রচার উপকমিটির সভায় ড. হাছান মাহমুদ

আইনের স্বার্থেই তারেককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আইন ও আদালতকে সমুন্নত রাখার স্বার্থেই তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার, এখানে প্রতিহিংসার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, তারেক রহমান যদি মনে করেন তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন, তাহলে তো তার নিজেরই দেশে চলে এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা। কিন্তু তার দুর্নীতি ও হত্যা মামলার অপরাধ এত সুস্পষ্ট যে, তার সে সৎসাহস নেই।’ তথ্যমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের প্রচার উপকমিটির সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা‘ এমন মন্তব্যের জবাবে একথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন, সুভাষ সিংহ রায়, সদস্য আকতার হোসেন, শাহ মোস্তফা আলমগীর ও সুজাদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র বলেন, ‘তারেক রহমানের দুর্নীতি বাংলাদেশ সরকার উদঘাটন করেনি, করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই। আর একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তার অপরাধ সাক্ষ্য-প্রমাণে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে তিনি একজন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী। বিএনপি’রই উচিত ছিলো তাকে বাদ দেয়া। কিন্তু তা না করে তারা একজন দুর্নীতি ও ফৌজদারী হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেবার অপচেষ্টা করছে।’ বিএনপি এখনও তাকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনীতির জন্য বিএনপির এ ধরনের কর্মকান্ড যেমন দু:খজনক, তেমনি দেশের সুশাসনের জন্যও তা বড় অন্তরায়। ‘দুর্নীতি বা ফৌজদারী মামলায় দন্ড হলে যেসব দেশের সাথে চুক্তি আছে, সেখান থেকে আসামীদের ফিরিয়ে আনা হয়, কিন্তু যুক্তরাজ্যের সাথে চুক্তি নেই বলে সরকার সেদেশে চিঠি দিয়েছে’ ব্যাখ্যা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখানে প্রতিহিংসার কোনো কারণ নেই, আইন ও আদালতকে সমুন্নত রাখার স্বার্থেই তা করা হয়েছে।’ ‘সরকার দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে হাছান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদেরসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ও দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করে দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা (বিএনপি) বিরোধীদলে থাকার সময় সরকার পতনের আন্দোলনের নামে নিরীহ মানুষকে পেট্রলবোমা মেরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেল। তারাই দেশের রাজনীতিতে ভয়ের রাজনীতির সংযোজন করেছিলেন। বন্দুকের নলে জন্ম নেয়া বিএনপিই এ উপমহাদেশে ভীতিসঞ্চারের রাজনীতি প্রচলন করেছিল বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি। দেশে বাক-স্বাধীনতা নেই, বিএনপির নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে হাছান বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতা রয়েছে বলেই তারা সকালে বিকেলে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে পারছেন। ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের জন্য বিএনপি তার সহগযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের জন্য বৈঠক করছে’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করতে বিএনপির দশ বছর কেটে গেছে। এ কৌশল নির্ধারণে তাদের আরো কত বছর লাগে সেটাই দেখার বিষয়। মির্জা ফখরুলের দায়িত্ব কমিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে পাঁচ সদস্যকে যৌথ দায়িত্ব দেয়া হলেও সেখানে সিনিয়র নেতারা স্থান পাননি- এ বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি’র মধ্যে যে প্রচন্ড দ্বন্দ্ব-সন্দেহ-অবিশ্বাস বিরাজ করছে, এ থেকে সেটাই প্রমাণিত হয়। মহাসচিবের ক্ষমতা খর্ব করা এবং ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠকে তার একা অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞাই নিজেদের এই অবিশ্বাসের বহি:প্রকাশ।’ পরে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটিরও সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে উপ-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পদ্মাসেতুর দশম স্প্যান বসছে আজ

ঢাকা অফিস ॥ মুন্সিগঞ্জে পদ্মাসেতুর মাওয়া প্রান্তে দশম স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) বসছে আজ বুধবার। সেতুর ১৩ ও ১৪ নম্বর পিলারের ওপর তিন-এ স্প্যানটি বসানো হবে। দূরত্ব কম হওয়ায় একদিনেই স্প্যানটি বসানো হবে বলে আশবাদী প্রকৌশলীরা। পদ্মাসেতুতে দশম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে ১৫০০ মিটার (১.৫ কিলোমিটার)। গতকাল মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী বলেন, মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে পিলারের দূরত্ব কম। আবহাওয়াসহ সবকিছু অনুকূলে থাকলে সকাল থেকেই স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হবে। পদ্মাসেতুর কাজ শুরুর দিকে মাওয়া প্রান্তেই প্রথম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মাওয়া প্রান্তে পিলারগুলোতে সয়েল কন্ডিশন ভালো না থাকায় কাজ পিছিয়ে পড়ে। এরপর কাজ চলতে থাকে জাজিরা প্রান্তে। জাজিরায় সেতুর ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ নম্বর পিলারে বসেছে আটটি স্প্যান। এ ছাড়া মাওয়া প্রান্তে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর অস্থায়ীভাবে একটি স্প্যান বসানো আছে। পদ্মাসেতুর নবম স্প্যানটি বসে ২২ মার্চ। আর দশম স্প্যানটি বসছে ১৯ দিনের মাথায়। তিনি আরো জানান, প্রস্তুত হয়ে আছে ১৩ ও ১৪ নম্বর পিলার। চলছে খুঁটিনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সকালেই ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের এই স্প্যানটিকে নিয়ে যাবে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেন। দুপুরের মধ্যেই স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো যাবে বলে আশাবাদী প্রকৌশলীরা। এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয় ৬ নম্বর পিলারের পাইল ড্রাইভিং। জাজিরা প্রান্তে স্প্যানগুলোতে বসানো হচ্ছে রেলওয়ে স্ল্যাব ও রোডওয়ে স্ল্যাব। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতুতে মোট ২৯৪টি পাইল আছে। যার মধ্যে নদীতে ২৬২টি পাইল বসবে। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৪৭টি পাইলের কাজ শেষ হয়েছে। সেতুতে সম্পন্ন হয়েছে ২২টি পিলার। উল্লেখ্য, পদ্মাসেতুতে ৪২টি পিলারের স্প্যান বসানো হবে ৪১টি। দশম স্প্যানটি বসানো হলে স্প্যান বসানো বাকি থাকে ৩১টি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হয় পদ্মাসেতুর। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে চীনেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা অফিস ॥ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো গত রোববার তিন দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান ড. এ কে আবদুল মোমেন। নিউইয়র্কে ১২ ঘণ্টা অবস্থানের পর সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত সোমবার দিনের প্রথম কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্টে বৈঠক। প্রায় ৫০ মিনিট দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেন। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ফিরে যান বাংলাদেশ হাইকমিশনে। সেখানেই ব্যাখ্যা করেন আলোচনার বিষয়গুলো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রোহিঙ্গা ইস্যু। এই ইস্যুতে সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার স্বীকার করেছিল যে তাদের লোককে তারা নিয়ে যাবে। কিন্তু এখনো তারা নিয়ে যায়নি। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাই। তিনি আরো বলেন, আমরা বলেছি দ্বীপে কিছু মানুষ (রোহিঙ্গা) নিয়ে যাচ্ছি। আগামি মৌসুমে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তাতে অনেক ভূমিধস হতে পারে। তাদের উন্নত জীবনের জন্যই আমরা সেখানে সরাচ্ছি। উনি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বললেন, সে ক্ষেত্রে আপনারা একটু চেক করে দেখেন যেখানে নিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে ভালো থাকে কি না। যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দেবে ২০ দল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জোটগতভাবে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দল। গত সোমবার রাতে জোটের এক বৈঠকের পর সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, আজকের (গতকাল মঙ্গলবার) সভায় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সুচিকিৎসার স্বার্থে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে। এই দাবিতে জোটগতভাবে এবং জোটের শরিক দলগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কী কর্মসূচি হবে, তা পরবর্তী বৈঠকে ঠিক করা হবে বলে জানান নজরুল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে কোনো টানাপড়েন নেই। আমরা পাশাপাশি আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাব। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। তার আগে গত ৩১ জানুয়ারি জোটের বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে মাওলনা নুর হোসেইন কাসেমী, মাওলানা মহিউদ্দিন একরাম, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের, বিজেপির আবদুল মতিন সউদ উপস্থিত ছিলেন।

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার আখাউড়া-সিলেট ডুয়েল গেজে রূপান্তর প্রকল্পের অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে পরিবর্তন করার লক্ষ্যে ১৬ হাজার ১ শ’ ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক  বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ব্রিফিং এ জানান, একনেক বৈঠকে ১৮ হাজার ১ শ’ ৯১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মোট ৭ টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনকৃত প্রকল্প ব্যয়ের ৬ হাজার ৬ শ’ ২২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এবং অবশিষ্ট ১১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বিদেশী সাহায্য হিসেবে যোগান দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। অনুমোদিত সাতটি প্রকল্পই নতুন প্রকল্প। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-সিলেট অঞ্চলের রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করণ প্রকল্পটি আগামী ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এটি বাস্তবায়নে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে জি টু জি এর আওতায় ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা চীন থেকে নেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান ২২৫ কিলোমিটার আখাউড়া-সিলেট অঞ্চলের মিটার গেজ রেলপথ ২৩৯ দশমিক ১৪ কিলোমিটার ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করা হবে। পাশাপাশি, অপর প্রধান প্রকল্পের আওতায় ৪৯ টি বড়, ২৩৭ টি ছোট রেলসেতু, ২২ টি স্টেশনের সিগনালিং ব্যবস্থা, ১৬৬৯০ বর্গমিটার আবাসিক ভবন নির্মাণ, ব্যারাক ও ডরমিটরি এবং ২ শ’ দশমিক ৩০ একর ভূমি অধিগ্রহণ রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-সিলেট অঞ্চলের রেলপথটি অর্থনৈতিক বিবেচনায়, পর্যটন, আন্তঃ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৪৭.২৪ শতাংশ। এ সময়ে ৮৩,৪৩২ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে। এর আগের বছরে এই একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৫.৬৫ শতাংশ। এ সময়ে ৭১,৯৪০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যাতে তাদের কাজে পূর্ণ মনোনিবেশ দিতে পারেন, এ জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগে পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান, বারান্দা এবং ভ্যান্টেলিটার সিস্টেম, ফায়ার ইস্টিংগুইশিং সিস্টেম রাখা এবং পুকুর ও জলাধার রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেন। তবে এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে নদীর ড্রেজিং অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। একনেক সভায় দেশে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৯১৯.৮৫ কোটি টাকার ভারতীয় অর্থনৈতিক জোনের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এটি বাস্তবায়নে ভারতের তৃতীয় ক্রেডিট লাইন থেকে ৯১৯.৮৫ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। এই প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভারতীয় ডেভলোপার কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করাসহ সে দেশের বিনিয়োগকারীদের সুবিধা প্রদানে ভারতীয় অর্থনৈতিক জোনে অবকাঠামো উন্নয়ন করা। পাশাপাশি ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় জনগনের জীবন মান উন্নয়নে সেখানে তাদের শিল্প ইউনিট স্থাপনে ভারতীয় ব্যবসায়িদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রায় ১৫২ লাখ কিউবিক মিটার ভূমি উন্নয়ন, পানি সরবরাহ ও ড্রেজিং নিশ্চিত করতে ফেনি নদী থেকে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইন স্থাপন, দশ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক স্থাপন, একটি পাম্প স্টেশন স্থাপন, একটি জলাধার, ইন্টারনাল লিংকেজ, বর্হিড্রেন লাইন নির্মাণ, ৫ হাজার মিটার সীমানা দেয়াল নির্মাণ, ১৬৮০ বর্গমিটার প্রশাসনিক ভবন, ২০৬০৩ বর্গফিট নিরাপত্তা শেড ও অপটিকেল ফাইবার স্থাপন। অন্যান্য প্রকল্পসমূহ হচ্ছে, ২৪৪.৩১ কোটি টাকা ব্যায়ে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপে¬ক্স নির্মাণ প্রকল্প, মাগুরা-শ্রীপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণ, ১৩৯.৪৬ কোটি টাকা ব্যায়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন অফিস ভবন নির্মাণ এবং ৮৯ কোটি টাকা ব্যায়ে বিসিএসআইআর’র ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন।

 

ইবি’তে “ভিশন ২০৪১ এন্ড বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২১০০ এ্যান ওভারভিউ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিতইসলামী বিশ্

ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে মঙ্গলবার ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে “লিডারশিপ “ভিশন ২০৪১ এন্ড বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২১০০ এ্যান ওভারভিউ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাসিম বানুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, বাংলাদেশ সরকার যে সুদৃর প্রসারী পরিকল্পনা ও ডেল্টা প্রজেক্ট নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলছেন তাতেই অচিরেই আমরা আমাদের উন্নয়নের অভিস্ট লক্ষে পৌছাতে পারবো। বর্তমানে দেশে ভিশন ২০-২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়িত হলে দেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌছে যাবে। এছাড়া যে সতেরটি ডেভোলপমেন্ট গোলসহ সাচটেইনএ্যাবল গোলের আলোকে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে তা বহিঃবিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান এর বক্তব্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ নতুন করে অনুপ্রাণিত ও উজ্জিবীত হলো। তিনি উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোশে বলেন, তোমাদের সকলকে দেশ গড়ার কাজে উদ্দ্যোগী হতে হবে। প্রতিভা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আজকের দিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনন্য, বিরল একটি দিন। কারন আজকের সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান “ভিশন ২০৪১ এন্ড বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান ২১০০ এ্যান ওভারভিউ” শীর্ষক সেমিনারের প্রবন্ধ উপস্থাপন করলেন যা জ্যোতি ছড়িয়ে আমাদের জানার পরিধিকে আরো বাড়িয়ে দিল। প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিকেই এগিয়ে নিয়ে যাননি তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অর্থনীতির বিকাশে গুরত্বপূর্ণ ভুৃমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো যে এত সহজভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে তা প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান এর প্রানবন্ত বক্তব্য না শুনলে বোঝা যেত না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পদ্মাসেতুর দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা যেভাবে ঘুরছে তাতে আগামী ৩০ বছরে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। তিনি সকলকে  দেশপ্রেমে উদ্ভদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে হাতে হাত রেখে কাজ করবার আহবান জানান। সেমিনারে প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে আমরা সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। যা বাস্তবায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর সুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে। তিনি বলেন, তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ হতে বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাড়িয়েছে, মঙ্গা আজ দেশ হতে পালিয়ে গেছে। কারন বাংলাদেশে এখন এমন কেউ নেই যে না খেয়ে থাকে। আজ প্রযুক্তির সেবা  পাচ্ছে সমাজের সকল শ্রেণীর পেশার  মানুষ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে আজ কৃষকের সন্তানেরা। ১৯৭২ সালে দেশে ১ কোটি চাল উৎপাদিত হতো। সেই কৃষকেরা গত বছরে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টন চাল উৎপাদন করেছেন। বর্তমানে সারা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে গেছে কৃষকের সন্তানেরা। তাঁরা সেই মুভুমির দেশগুলো থেকে ১৫শত বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এ দেশে পাঠাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে ৪০-৫০ লক্ষ কৃষকের সন্তানেরা গার্মেন্টস শিল্প ও রপাšীÍ শিল্পে কাজ করে ৩৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। আমাদের দেশের মানুষের হাতগুলো আজ দ্ক্ষ হাতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দ্রুত পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা  করেন। সেমিনারে  উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান, সাবেক প্রক্টর ও  সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. মামুন, প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন, প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান, প্রফেসর ড. অরবিন্দু সাহা প্রমুখ ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক এ এইচ এম নাহিদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

গাংনীতে ট্রাক্টর উল্টে চালক নিহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে ট্রাক্টর উল্টে নাঈম হোসেন (২৫) নামের এক চালক নিহত হয়েছেন। নিহত নাঈম চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড়-বোয়ালিয়া গ্রামের নাসির উদ্দীনের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের দিকে গাংনী-হাটবোয়ালিয়া সড়কের বাথানপাড়া নামক স্থানে ট্রাক্টর উল্টে নিহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবক শিপন আলী জানান, নাঈম গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের ইকুড়ি গ্রামের শহিদ আলীর ট্রাক্টরের ড্রাইভার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের দিকে নাঈম বাথানপাড়া গ্রামের মাঠে জমি চাষ করছিল। এ সময় আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়। নাঈম দ্রুত ট্রাক্টর চালিয়ে মাঠ থেকে গাংনী-হাটবোয়ালিয়া প্রধান সড়কে উঠতে যায়। এ সময় ট্রাক্টরটি পিচ্ছিলে পাশের একটি পুকুরে পড়ে। নাঈম ওই ট্রাক্টরের নিচে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে কুষ্টিয়া নেয়ার সময় পথে মধ্যে মারা যায়।রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু নাঈম হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ্যাড. সিরাজ প্রামাণিক’র এম.ফিল ডিগ্রি লাভ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও আইনগ্রন্থ প্রণেতা পি.এম. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ প্রামাণিক) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একাডেমিক কাউন্সিলের ১১৫তম সভার সুপারিশক্রমে এবং ৫ এপ্রিল’২০১৯ইং তারিখের সিন্ডিকেটের ২৪৪তম সভায় এ ডিগ্রি অনুমোদন করা হয়। তার গবেষণার বিষয় ছিল “ জরমযঃ ঃড় খরভব ধহফ চবৎংড়হধষ খরনবৎঃু রহ ইধহমষধফবংয রিঃয ঝঢ়বপরধষ জবভবৎবহপব ঃড় ঊীঃৎধ-ঔঁফরপরধষ করষষরহম” তার এই গবেষণা কর্মের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ডিন প্রখ্যাত স্কলার প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান মন্ডল। পরীক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহম্মাদ জাফরউল্লাহ তালুকদার ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ করিম খান। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা মালিগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জুবিলি ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ডিরেক্টর মোন্তাজ প্রামাণিক ও হাসিনা মোন্তাজের ঘরে দশম সন্তান হিসেবে ২৮/১১/১৯৮২ ইং তারিখে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর সার্টিফিকেট নাম পি.এম. সিরাজুল ইসলাম; কিন্তু আইন পেশা ও সংবাদ মাধ্যমে তিনি সিরাজ প্রামাণিক নামেই পরিচিত। তাঁর গবেষণার বেশির ভাগ অংশজুড়েই ছিল মানুষের জীবনের অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেক নাগরিক সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী। আইন অনুযায়ী ব্যতীত কাউকে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাক্স্বাধীনতা থাকবে। সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতাও একটি মৌলিক অধিকার। পুরো গবেষণাপত্রে এ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি কেস স্টাডি বর্ণনা করেন সিরাজ প্রামাণিক।  দেশী ও আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক জার্নালে তাঁর ২০টির বেশি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এখন তাঁর অভিসন্দর্ভটি বই আকারে প্রকাশের কাজ চলছে। তিনি নিয়মিত আইনবিষয়ক কলাম লিখে চলেছেন ‘দি ডেইলী অবজারভার’সহ একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায়। প্রকাশিত আইন গ্রন্থের সংখ্যা আঠাশটি। আইন বিষয়ক কলাম লেখায় ২০১১ সালে পান দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা পদক, শিশু অধিকার নিয়ে রিপোর্ট করায় ২০১৫ সালে পান ‘জাতীয় শিশু পদক’ ও মানবাধিকার নিয়ে কলাম লেখায় ২০১৬ সালে পান ‘এজাহিকাফ পারফরমেন্স এ্যাওয়ার্ড’। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো যথাক্রমে-পকেট আইন, আইনে আপনার যত অধিকার, ২১টি আইনের সহজ পাঠ, জমি ক্রয়-বিক্রয় আইন, জমি জমার আইন-কানুন ও আলোচনা, রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্ট এন্ড ডিড রাইটিং উইথ মডেল, রিমান্ড আইন, বিয়ে-তালাক-দেনমোহর-যৌতুক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, সংবাদপত্র বিষয়ক আইন, কমন ক্রিমিনাল প্র্যাকটিস, বীকন এ্যাডভোকেটশীপ গাইড, ফৌজদারী মামলা পিটিশন পদ্ধতি, জামিন, জেরা ও যুক্তিতর্কের কলাকৌশল, দোষ স্বীকারোক্তি, পারিবারিক আইন ও উত্তরাধিকার আইন, লিগ্যাল নোটিশ ও এ্যাফিডেভিট করার পদ্ধতি, যৌনাচার, অত্যাচার বনাম আইনগত প্রতিকার, প্রাত্যহিক জীবনে আইন, ওয়াকফ বিষয়ক আইন প্রভৃতি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সদরপুরে নব-নির্বাচিত মিরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে সদ্য অনুষ্ঠিত ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকবৃন্দের উদ্যোগে আজমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এসময় মিরপুর উপজেলা পরিষদের পূনরায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন, নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠানে সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নিয়াত আলী লালু ও যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রুহুল আলমের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান বিশ^াস মজনু, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নওদা আজমপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ সহিদুল ইসলাম, কে.এম আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান, আজমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসম পারভেজ, কাকিলাদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান, কেএম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান, কেবিএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম, সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শেখ মহিউদ্দিন আহম্মেদ, রাধাবিনোদ পাল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের পরিচালক রফিকুল ইসলাম, সদরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার, কাতলামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন সুলতানা, হিদিরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেন, বড়বাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক, আজমপুর পুরাতনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জিলানী, পুরাতন আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক, নওদাআজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ.হ.ম মমিনুর রহমান, জি এম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন, চৌধুরীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাইরুল আলম, কাকিলাদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম, কাকিলাদহ মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ, চক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম, শ্রীরামপুর পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খাইরুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

দৌলতপুরে ২ স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা 

বাঁধা দিতে গিয়ে বখাটেদের হামলায় অটো চালকসহ আহত-২  

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ২ স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে। উত্যক্তকারী বখাটেদের বাঁধা দিতে গিয়ে তাদের হামলায় অটো চালকসহ ২জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কোলদিয়াড় টলটলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। দৌলতপুর থানা পুলিশ ও স্কুল ছাত্রীদের পরিবার সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বালিরদিয়াড় হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর দুই ছাত্রী আখি (১৫) ও সুমাইয়া (১৫) আল্লারদর্গা এলাকায় প্রাইভেট পড়ে অটো যোগে বালিরদিয়াড় গ্রামে নিজ বাড়ি ফিরছিল। কোলদিয়াড় টলটলিপাড়া এলাকার আকাশ, সাগর, সাচ্চু, হৃদয় ও স্বাধীন ৫ বখাটে তাদের অটোরিক্সার গতিরোধ করে দুই ছাত্রীকে অটো থেকে জোর করে নামানোর চেষ্টা করে। ছাত্রীরা অটো থেকে নামতে না চাইলে ওইসকল বখাটে তাদের উত্যক্ত ও শ্লীলতা হানির চেষ্টাা করলে অটোর চালক মহিনুর ও অটোর যাত্রী সুন্নত আলী বখাটেদের বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বখাটেরা অটোর চালক ও যাত্রীকে মারপিট করে আহত করে পালিয়ে যায়। বখাটেদের হামলায় আহতদের বাড়ি বালিরদিয়াড় গ্রামে। এ ঘটনায় গতরাতে দৌলতপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

ভেড়ামারায় রেলওয়ের ২শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় রেলওয়ের জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ২শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইউনুস আলী’র নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, র‌্যাব, পুলিশ এবং রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা অংশ নেয়। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে রেলওয়ের কর্মকর্তারা ষ্টেশন মাষ্টারের কার্যালয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ’র নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিঠু, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, রেল বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু দাউদ, কলেজ বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম ডাবলু, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল ফিরোজ আলী মৃধা প্রমুখ। পরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ভেড়ামারা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কসমেটিকস পট্টি, দক্ষিন রেলগেট, মাইক্রোবাস ষ্ট্যান্ড, কোচষ্ট্যান্ড, বেবি ট্যাক্সি ষ্ট্যান্ড এলাকার অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। হঠাৎ এ উচ্ছেদ অভিযানে হাহাকার চলছে ভেড়ামারায়। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক মানুষ। দোকান মালিক জাহিদুল ইসলাম জানান, টাকার বিনিময় কেন রেলওয়ের জমিতে লীজ দেয়া হয়। লীজের টাকা নেওয়ার পর তারা কেন দোকানগুলো ভেঙ্গে দিলো। আবার এই কর্মকর্তারাই টাকার বিনিময়ে উক্ত স্থানগুলোতে লিজ দিবে। এসব কর্মকর্তাদের আগে প্রতিহত করতে প্রয়োজন।

মিরপুরে মা সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শোন্দাহ-নফরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মা সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শোন্দাহ নফরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জামাল আহমেদ। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আশারত আলীর সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বুলবুলি খাতুনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম প্রমুখ। পরে কৃতি শিক্ষার্থীর মা, জেলার শ্রেষ্ঠ কাব শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

স্বল্প সময়ে অল্প লাকড়ীতে রান্না !

কুমারখালীতে ধোঁয়ামুক্ত লাকড়ীর উন্নত চুলা উদ্বোধন ও প্রশিক্ষণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ সাধারন চুলার তুলনায় উন্নত চুলায় (লাক্সার কুক স্টোভ) অর্ধেকের কম সময়ে রান্না করা যায় তাই সময়, শ্রম এবং টাকা সাশ্রয় হয়। সহজে বহনযোগ্য বলে যেখানে খুশি রান্না করা যায়। স্বল্প সময়ে অল্প লাকড়ীতে রান্নার জন্য লাক্সার কুক স্টোভ ম্যাজিক চুলা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ধোঁয়ামুক্ত লাকড়ীর উন্নত চুলা উদ্বোধন ও চুলার ব্যবহার বিধি সম্পর্কিত এক প্রশিক্ষণ প্রদান অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান এই উন্নত চুলার (লাক্সার কুক স্টোভ) উদ্বোধনী ও প্রশিক্ষণ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। বেসরকারি সংস্থা আলোর দিশা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফারুক আহমেদ খোকনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মেরিনা পারভীন মিনা, লাক্সার গ্রীণ এনার্জী লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মঈন উদ্দিন। প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন, লাক্সার গ্রীণ এনার্জী লিমিটেডের পরিচালক (অর্থ) মো: মাইনুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেছেন, রান্নার ধোঁয়ায় আমাদের নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়তই শরীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তবে এই ক্ষতির কবল থেকে রেহাই পেতে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশে রান্নার ব্যবস্থা করতে বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা উন্নত চুলার পদ্ধতি চালু করেছে। তবে লাক্সার গ্রীণ এনার্জী লি: এর লাক্সার কুক স্টোভ নামের ধোঁয়ামুক্ত লাকড়ীর উন্নত চুলা যদি অন্যান্য চুলার চেয়ে অধিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিয়ে থাকে এবং সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ী হয়ে থাকে তাহলে সাধারন ভোক্তারা এই চুলা গ্রহণ করবে। অন্যদিকে, লাক্সার গ্রীণ এনার্জী লি: এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মঈন উদ্দিন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সবুজ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য আমরা এই লাক্সার কুক স্টোভ (উন্নত চুলা) মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌছে দিতে কাজ শুরু করেছি। স্বল্প সময়ে এবং অল্প লাকড়ীতে রান্না সম্পন্ন হওয়ায় ইতোমধ্যেই ব্যবহারকারীদের মাঝে এই চুলাটি ম্যাজিক চুলা হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। আর তাই এর চাহিদাও অনেক। উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে উন্নত চুলার (লাক্সার কুক স্টোভ) ব্যবহার বিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।   এতে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।

সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারসহ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতে তাদের পরিবারকেও সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকের কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টি নজরে আসায় তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওই নির্দেশনার পাশাপাশি দরিদ্রদের জমি অধিগ্রহণের বিষয়েও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সুযোগ থাকলে অল্প জমির মালিক, বর্গাচাষীসহ এই ধরনের মানুষের জমি অধিগ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং তা নিতে বাধ্য হলে বর্তমান বাজার মূল্যের অন্তত তিনগুণ অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান। তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সরকারি কর্মকর্তাদের স্বপরিবারে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালকদেরতো থাকতেই হবে।” তিনি জানান, অনেক প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প এলাকায় থাকেন না, তেমনি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারাও কর্মস্থলে থাকেন না। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ৮টি উপকমিটি

ঢাকা অফিস ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে আটটি বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত সোমবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এসব কমিটি করা হয় বলে রাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আলোচনা সভা আয়োজন; আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজন, প্রকাশনা ও সাহিত্য, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও অনুবাদ, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, মিডিয়া, প্রচার ও ডকুমেন্টেশন এবং চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র শিরোনামে উপ-কমিটিগুলো করা হয়েছে। তবে এসব উপ-কমিটিতে কে কে রয়েছেন সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু জানানো হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে গত ১৪ ফেব্র“য়ারি প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১০২ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে ৬১ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি করে সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২০ মার্চ জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির যৌথসভা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কার্যালয় স্থাপন করে সেখানে কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত বছরব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন করা হয়। উপ-কমিটিগুলোকে দ্রুততম সময়ে তাদের স্ব স্ব বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বাজেট নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। আসছে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। আর ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ২০২০ ও ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছর এক অনুষ্ঠানে বলেন, এ আয়োজনে সকল বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। শিশু, তরুণ, যুবক- সকলের জন্য আলাদা কর্মসূচি থাকবে। আয়োজনের বিস্তৃতি থাকবে দেশের সকল ওয়ার্ড পর্যন্ত। সেদিন তিনি বলেন, জাতির পিতা রক্ত দিয়ে ঋণ শোধ করে গেছেন। তার রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে গত সোমবার বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্মুদ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্রিয়ার আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, মো. জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সভায় উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও অ্যারোমা দত্ত; তথ্য সচিব আবদুল মালেক, ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান, সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, সংস্কৃতি সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ কর্মকর্তা লে. জে. মো. মাহফুজুর রহমান, মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীও ছিলেন এই সভায়। চলচ্চিত্র শিল্পী সারাহ বেগম কবরী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুন অর রশীদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলীও সভায় অংশ নেন। বীরপ্রতীক কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন, সাংবাদিক আবেদ খান, নাট্যশিল্পী সারা যাকের, শিল্পী রফিকুন নবী, কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, মাছরাঙা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী, লেখক-সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন, চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, সাংবাদিক স্বদেশ রায়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে ইবি’তে “লিডারশিপ ডেভোলপমেন্ট এন্ড ফিন্যান্সসিয়াল ইনকুলেশন ইন এ ডিজিটাল এরা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে মঙ্গলবার অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে “লিডারশিপ ডেভোলপমেন্ট এন্ড ফিন্যান্সসিয়াল ইনকুলেশন ইন এ ডিজিটাল এরা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, বর্তমান পৃথিবী চতুর্থ রেভুলেশনের দিকে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশও কোন দিকে দিয়ে পিছিয়ে নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে বর্তমানে প্রযুক্তির ছোয়া জীবন ও জগতের প্রতিটি বিষয়ের উপর পড়ছে। তাই পরিবর্তনশীল বায়োলজিক্যাল ও সোশ্যাল রেভুলেশনের সাথে সুসমন্বয় করে পৃথিবীকে আমাদের বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও চৌকস নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ প্রতিদ্বন্দিতা করে একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে আনছে। অচিরেই ভিশন ২০-২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়িত হলে দেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌছে যাবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আজকের দিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনন্য, বিরল একটি দিন। কারন আজকের সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান “লিডারশিপ ডেভোলপমেন্ট এন্ড ফিন্যান্সসিয়াল ইনকুলেশন ইন এ ডিজিটাল এরা” শীর্ষক সেমিনারের প্রবন্ধ উপস্থাপন করলেন যা জ্যোতি ছড়িয়ে আমাদের জানার পরিধিকে আরো বাড়িয়ে দিল। প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিকেই এগিয়ে নিয়ে যাননি তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো যে এত সহজভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে তা প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান এর প্রাণবন্ত বক্তব্য না শুনলে বোঝা যেত না। সেমিনারে প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা সম্ভব হয়নি কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে আজ কৃষকের সন্তানেরা। ১৯৭২ সালে দেশে ১ কোটি চাল উৎপাদিত হতো। সেই কৃষকেরা গত বছরে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টন চাল উৎপাদন করেছেন। বর্তমানে সারা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে গেছে কৃষকের সন্তানেরা। তাঁরা সেই মরুভুমির দেশগুলো থেকে ১৫শত বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এ দেশে পাঠাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে ৪০-৫০ লক্ষ কৃষকের সন্তানেরা গার্মেন্টস শিল্প ও রপান্তী শিল্পে কাজ করে ৩৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। আমাদের দেশের মানুষের হাতগুলো আজ দ্ক্ষ হাতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দ্রুত পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা  করেন। সেমিনারে  উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান, সাবেক প্রক্টর ও  সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. মামুন, প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন, প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান,  প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রফেসর ড. অরবিন্দু সাহা প্রমুখ ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেমিনারটি উপস্থাপনা করেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মিথিলা তানজীল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি