চলে গেলেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আনিস

ঢাকা অফিস ॥ চলে গেলেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান, ছোট ও বড় পর্দায় যিনি ‘আনিস’ নামে ব্যাপক জনপ্রিয়। সাবলীল হাস্যরসাত্মক অভিনয়ে দীর্ঘ সময় দর্শকদের মাতিয়ে রাখার পর ৭৮ বছর বয়সী এই অভিনেতা রোববার রাত ১১টায় রাজধানীর টিকাটুলিতে নিজের বাসায় মারা যান। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বরেণ্য এই কৌতুক অভিনেতার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যর্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন আনিস। মিশা সওদাগর জানান, সোমবার দুপুরে জানাজা শেষে এই অভিনেতার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি জন্মস্থান ফেনীর ছাগলনাইয়ার বল্লবপুর গ্রামে নেওয়া হবে। সন্ধ্যায় সেখানকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এর আগে টিকাটুলী জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা হয়। ১৯৬০ সালে ‘বিষকন্যা’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে পা রাখেন আনিস। যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি। আনিস অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এই তো জীবন’ মুক্তি পায় ১৯৬৩ সালে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আড়াই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেও তিনি অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি মঞ্চেও অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে গোলাম হোসেন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি মঞ্চে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।

গাংনীতে শিশু অধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে নারী-শিশু স্ট্যান্ডিং কমিটির কর্মশালা এবং সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় ইউনিয়ন স্ট্যান্ডিং কমিটি,এসএমসি, শিক্ষক-ঈমাম, এনসিটিএফের সদস্যসহ সুশীল সমাজের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেভ দ্যা চিলড্রেন ও পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন এনসিটিএফ এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাইপুর ইউনিয়ন সিবিও’র সভাপতি ডাক্তার শরিফ উদ্দীন ঠান্ডু। প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন,রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান আজাদ। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল জাব্বার,সদস্য ইসমত-আরা, সমাজ সেবক আসাদুজ্জামান, রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর সাত্তার, মিনহাজুল হক মাস্টার, সাংবাদিক সাহাজুল সাজু, এনসিটিএফ সদস্য দিশা ও মুক্তা প্রমুখ। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রকল্পের ইউনিয়ন সমন্বয়কারী মাহাবুবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সমাজ সেবক সাইফুল ইসলাম পিনু, পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রকল্পের এফএফ যথাক্রমে রোজিনা খাতুন ও হাফিজা খাতুন প্রমুখ।

আলমডাঙ্গায় জন্মগত ঠোটকাটা ও তালুকাটা রোগির চিকিৎসা ক্যাম্প

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় জন্মগত ঠোটকাটা ও তালুকাটা রোগির চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলমডাঙ্গার আল আরাফা প্রাইভেট হাসপাতালে জন্মগত ঠোটকাটা ও তালুকাটা রোগির চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা পাওয়া প্রতিটি ব্যক্তির নাগরিক অধিকার। আমাদের রাষ্ট্র সকল জনগণের চিকিৎসাসেবা প্রদানে সক্ষমতা অর্জন করে উঠতে পারেনি। সে কারণে সমাজের সক্ষম ব্যক্তিদের সেবার মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। সমাজের কোন অংশকে অবহেলা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশকে উন্নত বিশ্বের দুয়ারে পৌঁছে দিতে হলে সমাজের সুষম উন্নয়ন প্রয়োজন। এ চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করায় তিনি আল নূর ফাউন্ডেশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাম্প্রতিকী ডট কম ও উই ফর অল সংগঠণকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি জন্মগত ঠোটকাটা ও তালুকাটা রোগিদের চিকিৎসার মহান ব্রত নিয়ে ঢাকা থেকে আগত মেডিকেল টিমকে ধন্যবাদ জানান। দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার ব্যুরো প্রধান ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাম্প্রতিকী ডট কম’র সম্পাদক রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নব-নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেন, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম মন্টু, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাক্তার আসলাম আল মেহেদী, অধ্যাপক ডাক্তার সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ, ডাক্তার ইমরুল কায়েশ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ, উই ফর অল’র আলমডাঙ্গা পরিচালক খন্দকার রিয়েল, স্বপ্নঘর ফাউন্ডেশন আলমডাঙ্গার কর্মসূচী বাস্তবায়ন অফিসার সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম রোকন, আল আরাফা হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, হারুন অর রশিদ, মামুন রেজা। ডাক্তার আতিক বিশ্বাসের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তৌহিদ ইসলাম, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান শেখ স্বপন, সাংবাদিক সুজন ইভান, জামাল হোসেন, মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

আলমডাঙ্গায় স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় এ কর্মশালা উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাহাত মান্নান। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে পৌছে গেছে, টেকসই উন্নয়নের লক্ষে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে। সে লক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে ২০২১ সাল, ২০৩০ সাল ও ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা ধাপে ধাপে উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করব। এক সময় মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিশ্বাস করত না, প্রধানমন্ত্রী করে দেখিয়েছেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রুপ লাভ করেছে, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মান হবে আমরা ভাবতে পরেছি, সেটাও হয়েছে।২০২০ সালের মধ্যে  বৈশ্বিকভাবে সকল প্রকার উন্নয়ন স্থানীয় ভাবে অগ্রাধীকার হিসেবে লক্ষমাত্রা টার্গেট করে কাজ করতে হবে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলার নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কাজী অরুণ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জীবন নগর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান। কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামিম রেজার উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজম, সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, মৎস্য কর্মকর্তা কারুন্নাহার আঁখি, বিআরডিবি কর্মকর্তা সায়লা শারমিন, সিদ্দিকিয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক রহমান মুকুল, শরিফুল ইসলাম, শাহাবুল হক প্রমুখ।

দেশের অর্থনৈতিক সূচকসমূহ সন্তোষজনক -অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চলতি অর্থ বছরের বাজেট বাস্তবায়নের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, আমদানি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক সূচকসমূহ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। বাজেট ২০১৮-১৯ জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সমষ্টিক অর্থনৈতিক বিশে¬ষন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি গতকাল সোমবার সংসদে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে প্রবাস আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মুদ্রা বিনিময় হারসহ সমষ্টিক অর্থনেতিক সুচকসমূহ সঠিক পথেই রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত অর্থ বছরের বাজেটের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের বাজেটের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এনবিআর কর রাজস্ব আদায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সরকারি ব্যয় বিগত একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অর্থবছরের এ সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ১১.৯ শতাংশে দাড়িয়েছে। তিনি আরো জানান, গত অর্থ বছরের এ সময়ের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। বিগত অর্থ বছরে একই সময় এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। আমদানি খাতে গত অর্থ বছরের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। একই সময়ে বিগত অর্থ বছরের তুলনায় ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। বিগত অর্থ বছরের এ সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারে দাড়িয়েছে, যা গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল ৩১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, অর্থ বছরের জুলাই- ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমে ৫ দশমিক ৫ এ দাড়িয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

কুষ্টিয়ায় পুরস্কার প্রাপ্ত মাছ চাষীর অর্ধকোটির টাকার মাছ লুট করেছে দূর্বৃত্তরা, থানায় মামলা

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জেলার শ্রেষ্ঠ এক  মৎস্যচাষীর লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। উপজেলার চন্দনা নদীর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন পুরষ্কারপ্রাপ্ত মৎস্যচাষী মোঃ আনিসুর রহমান। তার অভিযোগ, নদীর দখল নিতে প্রভাবশালী ওই চক্রটি তার মাছ ধরে নিচ্ছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় জনসেবা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্য মৎস্য চাষী আনিসুর রহমান। ২০১৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী হিসেবে তিনি পুরস্কার পান। গত ৫ বছর আগে সরকারের নিয়মনীতি মেনে জনসেবা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই চন্দনা নদীটি লিজ নিয়ে মাছের চাষ শুরু করেন আনিসুর রহমান। ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকার লোন নিয়ে চলতি বছরে নতুন করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ সাদা জাতীয় মাছের চাষ শুরু করেন। আগের মাছসহ বর্তমানে নদীতে প্রায় ৬০লক্ষ টাকার মাছ ছিল। মাছ চাষী আনিসুর রহমান বলেন,  রোজার ভেতর এই মাছ বিক্রি করে তিনি লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে শনিবার থেকে চন্দনা নদী পারের বাসিন্দা মজিবর, সুরুজ, সেলিম মালিথা ও জালাল উদ্দিন ওই প্রভাবশালী চক্রটি দলবল সাথে করে নদীতে বেড় জ্বাল, কারেন্ট জ্বাল ও হুইল ফেলে মনকে মন মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় কতিপয় দুবর্ৃৃত্তরা মাছ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। এদের ইন্ধন দিচ্ছে এলাকায় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। আমার সব শেষ হয়েছে। লাভতো দুরের কথা এখন লোকসান গুনতে হবে। থানায় মামলা দিয়েছি। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। এলাকার লোকজন বলছেন, পুলিশ আসলে তারা পালিয়ে যাই, পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার তারা মাছ ধরা শুরু করেন। এখন নদীতে তেমন আর মাছ নেই। সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় মৎস্য চাষী সরকারের কাছে এর বিচার দাবী করেছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও এই ঘটনার সুষ্ঠ  বিচারের দাবী করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মজিবর ও সেলিমসহ আরও কয়েকজনের সাথে কথা হলে জানান,‘ মাছ মারা সাথে তারা জড়িত নয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ ভেড়ামার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পরামর্শে গত রোববার রাতে ৭জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভুগী মৎস্যচাষী। চাঁদ গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন বলেন, অবৈধভাবে প্রভাবশালী একটি চক্র মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।  বিষটি খুবই দুঃখজনক, ন্যাক্কারজনক। তিনিও এর সুষ্ট বিচার দাবী করেন। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহলে মারুফ বলেন, মাছ ধরার বিষটি জানার পরপরই চন্দনা নদী এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভেড়ামারায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অজ্ঞাতনামা (৪৫) এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে পদ্মা নদীর ধারে ভাসমান অবস্থায় তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শামিম উদ্দিন জানান, মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক (৪৫) বছর। লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ইবিতে স্কাউটিং সংক্রান্ত ২য় পিএইচ.ডি. সেমিনার অনুষ্ঠিত

ইবি প্রতিনিধি ॥  কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে “ইসলামে শিক্ষাদান পদ্ধতি ও স্কাউটিংয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি: একটি সামঞ্জস্যতা পর্যালোচনা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে পি.এইচ.ডি. গবেষক ঈসা মোহাম্মদ প্রবন্ধ পাঠ করেন। এটি পিএইচ.ডি. গবেষণা কর্মের ২য় সেমিনার। পিএইচ.ডি. গবেষণা শিরোনাম : “ইসলাম ও স্কাউটিংয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতির তুলনামূলক পর্যালোচনা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়”। গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ড. আ.ব.ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দীকী। আল-কুরআন এ- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে, বিভাগীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ লোকমান হোসেন এর সভাপতিত্বে, সকাল ১০:০০ টায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি- প্রফেসর ড. আ.ফ.ম. আকবর হোসেন, ডীন, থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ। বিশেষ অতিথি- প্রফেসর ড. আ.ব.ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দীকী প্রফেসর, আল-কুরআন এ- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইবি। পিএইচ.ডি. গবেষক স্কাউটার ঈসা মোহাম্মদ-এর প্রবন্ধ উত্থাপনের পরপরই নির্ধারিত আলোচকগণ প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন। প্রধান আলোচক ছিলেন- প্রফেসর ড. এইচ.এ.এন.এম. এরশাদুল্লাহ, আল-কুরআন এ- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইবি। বিশেষ আলোচক ছিলেন প্রফেসর ড. এস.এম. মোস্তফা কামাল, ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, অধ্যাপক, গণিত বিভাগ, ইবি এবং প্রফেসর ড. মোঃ কামরুল হাসান, অধ্যাপক, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইবি। নির্ধারিত আলোচকগণের আলোচনার পর পরই উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সিনিয়র প্রফেসর। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন- আল-কুরআন বিভাগের প্রফেসর ড. এয়াকুব আলী ও প্রফেসর ড. রাশেদুজ্জামান। দাওয়াহ বিভাগের প্রফেসর ড. ওয়ালীউল্লাহ এবং আল-হাদিস বিভাগের প্রফেসর ড. মঈনুল হক, প্রফেসর ড. আশরাফুল আলম ও প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান প্রমুখ। পিএইচ.ডি. গবেষক ঈসা মোহাম্মদ এর প্রবন্ধ পাঠ, নির্ধারিত আলোচকগণের আলোচনা এবং উন্মুক্ত পর্বের পর বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথি আলোচনা পেশ করেন। বিভাগীয় সভাপতি সেমিনারে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদানের জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। চট্টগ্রাম ন্যাশনাল পাবলিক কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ, প্রবন্ধ উপস্থাপক (পিএইচ.ডি. গবেষক) স্কাউটার ঈসা মোহাম্মদ ‘গবেষণায় তথ্য-উপাত্য’ প্রদান এবং সহযোগীতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন ম্যাচ মিডিয়ার সাংবাদিকগণকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।

দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ৯৪বোতল ভারতীয় জেডি মদ উদ্ধার হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের মালিক বা জড়িত কেউ আটক হয়নি। রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন মরারপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে এ মাদক উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ চিলমারী বিওপি’র নায়েক মো. আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে বিজিবি’র টহল দল মরারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন ৯৪বোতল ভারতীয় জেডি মদ উদ্ধার করে।

বসিলায় ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অন্তত দুইজন নিহত

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বিস্ফোরণে দু’জন জঙ্গি সদস্য নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে টিনশেড ওই বাড়ি ঘিরে অভিযানের পর র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষের মধ্যে অন্তত তিনটি পায়ের অংশ পাওয়া গেছে। অন্তত দুজন সেখানে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা। নিহতরা কোনো জঙ্গি দলের সদস্য বলে জানালেও তাদের পরিচয় বা তারা কোন সংগঠনের সদস্য সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বেনজীর। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, বিধ্বস্ত ওই বাড়ির ভেতরে অবিস্ফোরিত আইইডি থাকতে পারে। র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে তল্লাশি করছে। তাদের কাজ শেষ হলে তারা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন। জঙ্গিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার জন্য ওই বাড়ির মালিক ওয়াহাব, কেয়াটেকার সোহাগ, তার স্ত্রী মৌসুমী এবং পাশের মসজিদের ইমাম ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, জঙ্গিদের অবস্থানের খবর পাওয়ার পর রোববার রাত ৩টার দিকে মেট্রো হাউজিংয়ে ৮ নম্বর রোডের শেষ মাথায় ওই টিনশেড বাসাটি ঘিরে ফেলে র‌্যাব সদস্যরা। অভিযান শুরুর পরপরই ওই বাসার ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলি হয় সেখানে। ভোর পৌনে ৫টার দিকে বড় একটি বিস্ফোরণে ওই বাসার টিনের চাল উড়ে যায়। সকাল ৯টার পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ওই বাড়িতে ঢোকে। ওই সময়ও সেখান থেকে কয়েক দফা গুলির শব্দ পাওয়া যায়। পরে ড্রোন উড়িয়ে ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে মহিউদ্দিন ফারুকী জানান।ওই বাড়ির কেয়ারটেকার সোহাগ র‌্যাব কর্মকর্তাদের বলেছেন, চার কক্ষের ওই টিনশেড বাসার একটি ঘর চলতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া নেয় দুই যুবক। ওই বাসার পাশে কিছুদিন আগে একটি মসজিদ গড়ে তোলা হয়। আটক ইউসুফ ওই মসজিদেরই ইমাম। র‌্যাব কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর বলেন, র‌্যাব সদস্যরা অভিযানের আগে ডাকাডাকি করলেও জঙ্গিরা দরজা খোলেনি। এক পর্যায়ে বাসার ভেতর থেকে র‌্যাব সদস্যদের দিকে গুলি ছোড়া হয়। অন্যদিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকেও অন্তত দেড়শ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভেতরে যে মৃতদেহ আছে সেগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সেগুলো চেনা যাচ্ছে না। কতজন সেখানে আছে সেটা বলা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাজ। যেহেতু সেখানে মৃতদেহগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে তাই সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে সেখানে যেহেতু তিনটি পা দেখা গেছে তাই ধারণা করা যাচ্ছে অন্তত দুইজন সেখানে ছিল।” যারা জঙ্গিবাদে ঝুঁকেছে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বেনজীর বলেন, “লোকজন যদি জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হয় সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। এরা দেশের দুশমন ও ইসলামের দুশমন। মুসলমানের দুশমন।”

কুমারখালিতে নারী ও কন্যাদের অধিকার ও নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প উদ্বোধন

কুমারখালি অফিস ॥ কুমারখালিতে নারী ও কন্যাদের অধিকার ও নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এর আয়োজন করে মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা। এতে মুক্তির নির্বাহী পরিচালক মমতাজ আরা বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান। আলোচনা করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেরিনা আক্তার মিনা, কুমারখালি প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু জোয়ারদার, সদকী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, জেলা পুঁজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জয়দেব বিশ^াস, মুক্তির প্রকল্প সমন্বয়ক জায়েদুল হক মতিন অন্যান্যরা। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

কালুখালীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী

ফজলুল হক ॥ গতকাল সোমবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০১৯ উদযাপনে সমাপনী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১ টায় এ উপলক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কালুখালীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)  ডাঃ খোন্দকার মো. আবু জালালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কালুখালী থানা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ সহিদুল ইসলাম। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তনয় চক্রবর্তী শম্ভু, গাইনি কনসালটেন্ট ডাঃ নাজনীন সুলতানা, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আব্দুর রহমান, তুষার কান্তি রায়, রতনদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম শাহ আজিজ এছাড়াও স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুশিল কুমার রাহা, সেনেটারি ইন্সপেক্টর তালেবুর রহমান, ইপিআই টেকনোলজিষ্ট শম্ভুনাথ বেদনাথ সিনিয়র স্টাফ নার্স মল্লিকা বানু, ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল করিম ও শেখ মোহাম্মদ ফারুকসহ অন্যান্য কর্তকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ খোন্দকার মো. আবু জালাল বলেন বয়সের দিক বিবেচনা করে পুষ্টি খাবার খাওয়াতে হবে। সব সময় মৌসুমি ফল খেতে হবে। বিশেষ করে তিনি অতিরিক্ত তেল মসলা খাওয়া থেকে সকলতে বিরত থাকতে বলেন।

গাংনীতে ফেনসিডিলসহ কুষ্টিয়ার মরিয়ম আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী শহরে পুলিশের অভিযানে মরিয়ম বেগম (৪৫) নামের এক মহিলাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আটককৃত মরিয়ম কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকার আমির হোসেনের স্ত্রী। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর ডিবি পুলিশের ওসি ওবাইদুর রহমানের নেতৃত্বে বামন্দী শহরে অভিযান চালিয়ে মরিয়ম বেগমকে আটক করা হয়। মেহেরপুর ডিবি পুলিশের ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, বামন্দী শহর থেকে কুষ্টিয়ার দিকে একটি মাদকের চালান যাবে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বামন্দী শহরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মরিয়মকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

মেহেরপুরে ইয়াবাসহ শিক্ষক আটক

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে ইয়াবাসহ প্রদীপ্ত কুমার সাহা ওরফে সজল (৪০) নামের এক সাবেক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত সজল মেহেরপুর জেলা শহরের মল্লিকপাড়ার গোপাল সাহার ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সজলকে আটক করে সদর থানা পুলিশ মেহেরপুর সদর থানার এসআই হাসান শাহরিয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটিদল সজলকে আটক করে। পুলিশ সূত্র জানায়, কামদেবপুর গ্রামের মিয়ারুল ইসলামের বাড়িতে মাদক  কারবারীরা অবস্থান করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটিদল অভিযান চালায়।  এ সময় অন্যান্য মাদক কারবারীরা পালিয়ে গেলেও সুদীপ্ত সাহা ওরফে সজলকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৪০পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সে একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী।

দৌলতপুরে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন ও অভিষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন ও অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কর্মশালার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার কুষ্টিয়া’র উপরিচালক মৃনাল কান্তি দে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন ও অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন’ বিষয়ে উপস্থাপন করেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মশালা পরিচালনা করেন, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান। ১০টি গ্র“পে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিগণ বিষয় ভিত্তিক নিজ নিজ গ্র“পের বিষয়ে উপস্থাপন করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ছাত্ররা অংশ নেয়।

চাকরির বয়সসীমা ৩৫ না করা হলে সারাদেশে অবরোধ

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা ৩৫ বছর না করা হলে আসন্ন রমযানের পর সারাদেশে অবরোধের মতো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যা য়ের সাংবাদিক সমিতির কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ। ‘চাকরিতে যোগদানের বয়স ৩৫ করা যাবে না’, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের এমন বক্তব্যকে ‘ডাহা মিথ্যা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চাকরিতে যোগদানের বয়স ৩৫ বছর করা যাবে না বলে জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি অযৌক্তিক ও ‘ডাহা মিথ্যা’ ছাড়া আর কিছু নয়’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার বক্তব্য প্রত্যাহার ও চাকরিতে প্রবেশের বয়স ন্যূনতম ৩৫ করার আহ্বান জানাচ্ছি। যদি আগামী রোজার ঈদের আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, তাহলে ঈদের পর অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে’। এ সময় সারাদেশে অবরোধের দীর্ঘ ও কঠোর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩৫ প্রত্যাশীদের মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

কম খরচে হয়রানিমুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কম খরচে হয়রানিমুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি গতকাল সোমবার নগরীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ কমিউনিটি অফথ্যালমোলজিক্যাল সোসাইটির ৭ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ভাষণকালে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে হয়রানির শিকার হয়ে রোগীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি চিকিৎসা পেশাকে অত্যন্ত সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখবো রোগীদের প্রতি আরো বেশি আন্তরিক ও ব্রতী হোন। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যে পরিমাণ ফি আদায় করেন তা সাধারণ মানুষের ক্ষমতার বাইরে। তাই আপনাদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন মানুষ বিভিন্ন রোগ থেকে আরোগ্য লাভের জন্য সৃষ্টিকর্তার পরই ডাক্তারদের উপর ভরসা করে থাকেন। তাই, তাদের আস্থার জায়গাটি অক্ষুণœ রাখা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব। তাছাড়া আপনারা আজকে যে অবস্থানে আছেন, সেখানে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষের অবদানও কিন্তু কম নয়। কারণ তাদের ট্যাক্সের টাকায়ই মেডিক্যাল কলেজের খরচ জোগানো হয়। তাই, তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দেয়া আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি।’ চিকিৎসা মানুষের অন্যতম প্রধান একটি চাহিদা। জনগণের এ চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকারের সর্বাত্মক প্রয়াসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, ডাক্তার-নার্স নিয়োগ, উন্নত যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সার্বিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জেলা সদরের বাইরে, এমন কি ঢাকা বা বিভাগীয় শহরের বাইরে পদায়ন হলেই ডাক্তার-নার্সগণ বদলীর তদবির শুরু করেন। আর বদলী হতে না পারলে কোন রকমে সময় পার করার চেষ্টা করেন। এতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনগণ কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা নিয়েই আমাদের দেশ। আপনাদের অনেকেই গ্রাম থেকে এসেছেন। তাই গ্রামের সাধারণ মানুষের কথা ভুলে গেলে চলবে না। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। যাকে যে জায়গায় পদায়ন করা হবে সে জায়গায় দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং তা আন্তরিকতার সাথে করতে হবে। হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে যতটুকু সেবা দেয়া সম্ভব তা সবটুকু দিতে হবে। চিকিৎসা নিতে আসা জনগণ যাতে অহেতুক কোন হয়রানির শিকার না হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন এলক্ষ্যে কাযকর অবদান রাখতে পারে বলে আমি মনে করি।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চক্ষু চিকিৎসা প্রদানের জন্য চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা একটি উল্লেখযোগ্য ও জনপ্রিয় মাধ্যম। কিন্তু এ ধরণের ক্যাম্পে চোখ অপারেশনের পর বেশ কিছু রোগী অন্ধত্বের শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অপ্রত্যাশিত। এ ধরণের ক্যাম্প পরিচালনায় আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে মনিটর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘অন্ধত্ব মানব জীবনের একটি চরম অভিশাপ। অন্ধত্ব এখন শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। সমাজের এই হতভাগ্য দৃষ্টিহীন মানুষদের অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে বাংলাদেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞগণের মহামিলন ঘটেছে। আমি মনে করি এই সম্মেলন তাঁদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে নিজেদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে। আমি আশা করি এই সম্মেলনের আলোচনা ও উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ থেকে আপনারা যেমন উপকৃত হবেন তেমনি আমাদের দেশের চক্ষু চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। রোগ নির্নয় ও প্রযুক্তিগত কৌশলের ক্ষেত্রেও নতুন নতুন দিকনির্দেশনা বেরিয়ে আসবে। চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে আমাদের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে।’ রাষ্ট্রপতি সম্মেলনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে আশা প্রকাশ করেন যে, ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করতে দেশের সকল নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি, অফথ্যালমোলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ, অল ইন্ডিয়া অফথ্যালমোলজিক্যাল সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. দেবাশীষ ভট্টাচার্য, প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ইনামুর রহমান চৌধুরী অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি (২০১৯-২০২০) গঠন করা হয়। গতকাল সোমবার কর আইনজীবী মিলনায়তনে কুষ্টিয়া জেলা আয়কর আইনজীবী সমিতির ১৬ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি ও ২ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও দানবীর আলাউদ্দীন আহমেদ ও সদস্য মোঃ নূরুল ইসলাম। কার্য নির্বাহী কমিটির সভাপতি আহমেদ আলী, সহ-সভাপতি মাহদী হাসান মুকু, শ্রী নীল রতন কুন্ডু, শ্রী বিপ্রজীৎ কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক এম. মাহফুজ হোসেন (মুকুল), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু জাফর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর তপন, কোষাধ্যক্ষ আসফ ইকবাল রানা, দপ্তর সম্পাদক জীবন কুমার প্রামাণিক, লাইব্রেরী সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন দোলন, নির্বাহী সদস্য কাজী সাইফুদ্দিন বাপী, মোঃ জিয়াউর রহমান মৃধা, মোঃ হাসানুল আসকার, মোঃ সাঈদুল ইসলাম খান (খোকন) ও মোঃ রাশিদুল হক।

কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি উপ-কমিটির সভা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি উপ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়াস্থ জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপ কমিটি যুগ্ম- আহবায়ক ও সহ-সভাপতি জিল¬ুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব আহবায়ক উপ-কমিটির এইচ এম মতিউর রহমান। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আমজাদ আলী খান। ১ মে সকাল সাড়ে ৮ টায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের  সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর র‌্যালি করা হবে। র‌্যালিটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে আসবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম (জিপি), সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামান বিশ্বাস, শহর আ’লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান প্রমুখ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন  যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, মো পলাশ মিয়া, সহ-সাধারন সম্পাদক বাদশা আলমগীর, সাংগঠনিক  সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, তরিকুল  হাসান মিন্টু,  জহির রাহায়ন, দেওয়ান মাসুদুর রহমার স্বপন, মাহাবুব হোসেন, মটর শ্রমিকলীগের আইযুব আলী, সদস্য সচিব মানিক মিয়া, সিদ্দীকুর রহমান, হাফিজুর রহমান, আমিন, শফিকুল ইসলাম, আসাদুল হক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারসহ অনুষ্ঠানে যোগদান করা জন্য আহবান জানান।

শ্রীলঙ্কার হামলার পর উগ্রবাদীরা আরও  বেশি উত্তেজিত ঃ মনিরুল ইসলাম

ঢাকা অফিস ॥ ‘শ্রীলঙ্কার গির্জায় হামলার পর ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আরও বেশি উত্তেজিত’ বলে দাবি করেছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) আয়োজিত ‘বিশ্ব সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। সিটিটিসি প্রধান বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পর ‘উগ্রবাদীরা প্রতিশোধ নেবে’- এমন চিন্তা-ভাবনা আমরা বেশকিছু লোকের মধ্যে দেখেছি। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। শ্রীলঙ্কার ঘটনার পর তারা বেশ উত্তেজিত হয়েছে। ‘তারা পারলে আমরা কেন পারব না- এমন একটা ধারণা তাদের মধ্যে তৈরি হয়। ফলে ঝুঁকিটা আগের চাইতে বেড়েছে। দুই মাস আগে আমাদের ঝুঁকির যে মাত্রা ছিল সেটা এখন একটু বেশি। তবে এটা নিয়ে বিশেষভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ নিউজিল্যান্ডের ঘটনার পর ওই লোকগুলো কিছুটা উত্তেজিত হয়েছে- দাবি করে মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, শ্রীলঙ্কা খুব কাছের দেশ। একেবারে আঞ্চলিক জোটের একটি দেশ, ফলে এরা আরও বেশি উত্তেজিত হয়েছে। যেহেতু তাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে, সেহেতু তারা হামলা করার চিন্তা করতে পারে। আমাদের চিন্তায় সেটা আছে, আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের এ আশঙ্কা নস্যাৎ করে দিতে পারব। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের একটা অপচেষ্টা হয়েছে (সম্ভবত জঙ্গি হামলার)। আমরা সবটা বলিও না, কারণ বললে মানুষ আতঙ্কিত হবে। হলি আর্টিজানের ধাক্কা কিন্তু আমরা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এখনও অনেক বিদেশি জিজ্ঞাসা করেন, কোন রেস্টুরেন্টে যাওয়া যাবে, কোনটাতে যাওয়া যাবে না। কথায় কথায় ট্রাভেল অ্যালার্ট ইস্যু হয়। কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিদের জন্য ৩০টি দেশে ট্রাভেল অ্যালার্ট ইস্যু করে। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় ছিল না। ‘নিউজিল্যান্ডের হামলার পর আমরা দেখেছি, জঙ্গিবাদের পেছনে যে একটা শক্তি আছে তা কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়নি। কারণ হামলার চিন্তা করার মতো লোকজন এখনও অনেক আছে কিন্তু হামলা বাস্তবায়নের জন্য যে সক্ষমতা দরকার সেটা অনেক কমে গেছে।’ সাংবাদিকদের একটা দায়িত্ব আছে উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, একটা দেশের ঘটনা, সেটা দেশের মানুষকে প্রভাবিত করে। ফলে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু শব্দের ব্যবহার নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মীয় কিছু শব্দ আছে সেসব শব্দের ব্যাখ্যা আছে। এরা কেউ মুজাহিদ না, এরা জিহাদ করছে না। তাদের সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে শহীদ হিসেবে আখ্যা করলে- এই কথাগুলো ধর্মপ্রাণ কেউ কেউ হয়তো উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। তাই লাদেন কিংবা আমাদের দেশের তামিম- এদেরকে এমনভাবে চিত্রায়িত করা যাবে না যে তাদের অনুকরণীয় মনে করা যায়। এ দায়িত্ব মিডিয়ার। ইমাম-ওলামা-মাশায়েখদের একটা দায়িত্ব আছে। ওনারা যতই প্রচার করবেন, যতই কথা বলবেন, ততই উগ্রবাদ মাথা থেকে নেমে যাবে। বোয়াফ সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান, লেখক ও কলামিস্ট মাসুম বিল্লাহ নাফি প্রমুখ।

পদ হারানোর ভয়ে ফখরুল শপথ নিচ্ছেন না – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিবের পদ হারানোর ভয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাসংসদ হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। গতকাল সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খুলনা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। হানিফ বলেন, “দুটি কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিচ্ছেন না। এর একটি হচ্ছে যেই দলে কোনো গণতন্ত্র নেই, লন্ডন থেকে পরিচালিত হয়, সেই দলের বিরুদ্ধে গিয়ে শপথ নিলে পদ হারাবেন। মূলত পদ হারানোর ভয়েই মির্জা ফখরুল ইসলাম শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আরেকটি কারণ হলো, বগুড়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উনার নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকলেও বগুড়ার ভোটার, এমনকি জনগণের প্রতি উনার কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই তিনি শপথ নিচ্ছেন না।” সম্প্রতি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদ। এজন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাহিদ ছাড়াও বিএনপির আরও পাঁচজন নেতা নির্বাচিত হন। তারা হলেন- বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হারুনুর রশীদ, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তার। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপির বাকি নির্বাচিতরা শপথ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মাহবুব-উল আলম হানিফ। “আমরা আশা করি আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে বিএনপির বাকিরা শপথ নিয়ে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে শপথ নিয়ে সংসদে এসে কথা বলুন।” আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রত্যেক জেলা উপজেলায় দলকে সুসংগঠিত করতে তাগিদ দেন হানিফ। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থি কয়েকজন নেতার হাত ধরে গঠিত নতুন মঞ্চের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “খোলস পাল্টে, অর্থাৎ জার্সি পাল্টে নতুনভাবে জামায়াত আসছে। এদের চরিত্র কিন্তু পরিবর্তন হবে না। এরা আওয়ামী লীগের মসৃন পথ রুদ্ধ করতে চাইবে।” আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ¬ব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুন অর রশিদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক মীজনুর রহমান বৈঠকে অংশ নেন।