কালুখালীর হারুয়া-রূপসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে হারুয়া-রূপসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বিকাল ৩টায় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ সামছুল আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুর রশিদ, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুচরিতা সাহা এছাড়াও সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল খালেক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান লাল্টু, মর্জিনা খাতুন এছাড়াও স্থানীয় আঃ মতিন, আজাদ, সেলিম উর রেজা, রিপন, সোহেল, নাঈম, সাকিব ও রাকিবসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রকিউর রহমানের সফলতা

ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্ট্রিবায়টিক ছাড়াই ডায়ারিয়া রোগ থেকে সুস্থ হচ্ছে শিশুরা

আল-মাহাদী ॥ ৭ মাসের শিশু কন্যা মোহনা। প্রচন্ড ডায়ারিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তাকে আনা হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রকিউর রহমান রকিব তার নাড়ি পরীক্ষা করে কোন এন্ট্রিবায়টিক ঔষুধ না দিয়ে সেবন করালেন জিংক, ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং খাওয়ার স্যালাইন। এরপর থেকেই ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন শিশু কন্য মোহনা। শিশুর মাতা শান্তা খাতুন জানিয়েছেন, মোহনাকে খুব খারাপ অবস্থায় আনা হয়েছিল হাসপাতালে। ডাক্তারদের নিবীড় পর্যবেক্ষনে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছে আমার কন্যা। শুধু মোহনা নয় গত ৬ দিনে ভেড়ামারা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, বমি, নিউমোনিয়া রোগ সহ ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা হাসি মুখেই বাড়ি ফিরেছে। এছাড়াও আউট ডোরে প্রায় ১২০ জন শিশু রোগী চিকিৎসা এসময়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত বছর ২২ শে অগাষ্ট ২০১৭ ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রকিউর রহমান রকিব। তার চিকিৎসার দ্রুতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। শিশু চিকিৎসায় অনেক জটিল রোগেরও চিকিৎসা করান এই হাসপাতালে। শিশু ওয়ার্ড ছাড়াও তিনি চালু করেছেন ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার ইউনিট। ২০০০ গ্রাম বা  কেজি’র কম ওজনের শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কাঙ্গারু মাদার কেয়ার ইউনিট মায়েদের কাছে আস্থার একটি ইউনিটে পরিনত হয়েছে। স্বল্প সময়ে প্রায় ৩৫ জন শিশুকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দিয়ে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডাঃ রকিউর রহমান। এ সেবায় সারা বাংলাদেশের মধ্যে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন টপ টেনে। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত ৬ দিনে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে শিশু ভর্তি হয়েছে ২৭ জন। এছাড়াও আউট ডোরে ডাঃ রকিউর রহমানের চিকিৎসাপত্র গ্রহন করেছেন প্রায় ১২০ জন শিশু। ২৭ ফেব্র“য়ারী ভয়াবহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাহাদুরপুর ইউনিয়নের গোসাইপাড়া গ্রামের মিন্টু’র ১ বছরের পুত্র জিসান, জুনিয়াদহের সাহেব আলী’র পুত্র আলমিন, ১৬ দাগ গ্রামের আজিম আলীর পুত্র নাঈম, ২৮ ফেব্র“য়ারী ভর্তি হন মওলাহাবাসপুর গ্রামের করিম’র ৯ মাসের পুত্র সিনহা, বাগগাড়িপাড়ার শ্যামল এর ৯ মাসের কন্যা সাম্মি, মির্জাপুর গ্রামের শহীদুলের সাড়ে ৩ বছরের কন্য জারা। ১ মার্চ ভর্তি হন মিরপুর উপজেলার ফজলু’র ১ বছরের পুত্র ফয়সাল, পারভেজ আলী, সাতবাড়ীয়ার শহীন এর পুত্র সজিব, ২মার্চ জুনিয়াদহ এলাকার রাজুর দেড় বছরের কন্যা নুপুর, লক্ষীধড়দিয়াড় গ্রামের আলী হাসান’র ৩ মাসের পুত্র আল হাদী, মসলেমপুর গ্রামের লালন দাসের চার মাসের পুত্র বিজয় দাস, পাবনা  জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর গ্রামের আবু মইমুন, জুনিয়াদহ গ্রামের ফেরদৌস এর পুত্র ইমাম হোসেন, ধুবইল গ্রামের করিম এর পুত্র জুনাইদ, চরদামুকদিয়ার সোহানুর রহমানের পুত্র মাঈন, ৩ মার্চ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন মিরপুর উপজেলার চক ধুবইল গ্রামের শান্তা খাতুনের কন্যা মোহনা, ১২ মাইল এলাকার বাবু’র কন্যা রুহানী, ভেড়ামারার গোডাউন মোড় এলাকার আব্দুর রশিদ এর পুত্র আল আরাফাত, দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা গ্রামের রতনের পুত্র শফিউল, মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের ওয়াসিম’র পুত্র ওমর ফারুক, ১২ মাইল গ্রামের শরিফুল ইসলামের পুত্র রুহুল আমীন। ৪ মার্চ ভর্তি হয় চন্ডিপুর গ্রামের মারফত আলীর পুত্র জিসান, ধরমপুর গ্রামের জামিরুল ইসলাম’র পুত্র আজিম,  ১২দাগ গ্রামের হামিদুল এর কন্যা অবিদা, দৌলতপুর উপজেলার চক মাদিয়া গ্রামের মুক্তা খাতুনের কন্য সাব্বির, ওবাইদুল ইসলামের কন্যা মৃত্তিকা।  ভেড়ামারা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সেলিনা পারভীন ও সোনিয়া খাতুন জানিয়েছেন, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন শিশু রুগীতে ভরপুর। দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছে নানা রোগে আক্রান্ত শিশুরা। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রকিউর রহমান রকিব’র আধুনিক চিকিৎসা ফর্মুলায় শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছে। আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের সেপট্রিয়াজন ১ গ্রাম অথবা ২ গ্রাম এন্ট্রিবায়টিক ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হতো। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিসহ নানা ঝুঁকি থাকতো। বর্তমানে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের জিংক, ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং খাওয়ার স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শিশুরা ডায়রিয়া থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ শরীরে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রকিউর রহমান রকিব জানিয়েছেন, বাচ্চাদের ওয়াটারি ডায়রিয়া  বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোটা ভাইরাস নামক জীবানু দিয়ে হয়। এই ভাইরাস এর বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিক এর কোন কাজ  নেই। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ৫-৭ দিনে এমনিতেই এ ডায়ারিয়া ঠিক হয়ে যায়। এই ৫-৭ দিন বাচ্চাকে খাবার স্যালাইন খাইয়ে পানি শুন্যতা রোধ করে সুস্থ্য রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন।

কালুখালীতে  প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের মানববন্ধন

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে প্রধান শিক্ষকদের পরের গ্রেডে বেতনের দাবীতে মানববন্ধন করেছে উপজেলার ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দরা। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বেতন বৈষম্যের ঠাই নাই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিকাল ৩টায় উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পরবর্তী সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সহকারী শিক্ষকগণের মধ্যে মোঃ ফিরোজ হায়দার, আক্তারুজ্জামান, সাহিদুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, জাহিদুজ্জামান গগণ, জাহাঙ্গীর হোসেন, জুলফিকুর রহমান টিটু, মোঃ ইসলাম ও ইসহাক প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এসময় বক্তাগণ বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপের গ্রেডে বেতন দেওয়া হত। কিন্তু ২০০৭ সাল হতে বর্তমান পর্যন্ত  সহকারী শিক্ষকদের ১৪ তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হচ্ছে এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে দেওয়া হচ্ছে। সকল সহকারী শিক্ষকদের পূর্বের তুলনায় ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করার জন্য আমাদের এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে দ্রুত কলেরা রোগ নির্ণয় পদ্ধতির উদ্ভাবন

ঢাকা অফিস ॥ কলেরা রোগ সংক্রমণের শুরুতেই দ্রুত এবং কার্যকরভাবে তা শনাক্ত করার লক্ষ্যে একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশসহ যে কোনো দেশে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) এবং ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই কিট উদ্ভাবন করেন। বুধবার (১৩ মার্চ) আইসিডিডিআর,বি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, উভয় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা যৌথ উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কলকিট নামের একটি ডিপস্টিক তৈরি করেছে। তিন বছর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার শেষে সাশ্রয়ী এই দ্রুত রোগনির্ণয় পরীক্ষা (আরডিটি) পদ্ধতি সব চাহিদা ও দিক-নির্দেশনা পূরণ করেছে। এই কিট ভিব্রিও কলেরি চিহ্নিত করতে সক্ষম। এটি এমন একটি পদ্ধতি যা মলের নমুনাযুক্ত টিউবের মধ্যে ডুবালে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যথাযথ ফলাফল (খালি চোখে দৃশ্যমান রঙ্গীন ব্যান্ড) প্রদর্শন করে। আইসিডিডিআর,বি-র সংক্রামক রোগ বিভাগের বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী কলকিট তৈরির কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায় যে, এই অঞ্চল থেকেই বিশ্বের সাতটি মহামারীর সবগুলোর বিস্তার ঘটেছে। কলেরা রোগের দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর এ-রোগের ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে। বর্তমানে কলেরা শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে গবেষণাগারে মলের কালচার পরীক্ষার পাশাপাশি আমদানিকৃত দ্রুত রোগনির্ণয় কিট ব্যবহৃত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন একটি আরডিটি কলকিট রয়েছে, যা দেশের আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করবে এবং ভবিষ্যতে কলেরার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোয় রফতানির সুযোগ তৈরি করবে। এর মধ্য দিয়ে প্রাচীন এই রোগের মোকাবেলা এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কলেরা প্রতিরোধক উপকরণ, যেমন কলেরা টিকা এবং দ্রুত রোগ নির্ণয় করার কিট- এর মাধ্যমে সম্ভব হবে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কলকিটের গবেষণাগার ও মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা-সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল প্লস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায় যে মাঠ পর্যায়ে ভিব্রিও কলেরি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কলকিটের সংবেদনশীলতা ও নির্দিষ্টতা বিদেশি আরডিটি-র মতোই। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মোট ৭ হাজার ৭২০ জন রোগীর মলের নমুনা পরীক্ষা করা হয় যেখানে দেখা গেছে, কলকিটের সংবেদনশীলতা শতকরা ৭৬ ভাগ ও নির্দিষ্টতা শতকরা ৯০ ভাগ। অন্যান্য প্রচলিত আরডিটি-র ক্ষেত্রে এগুলো ছিল যথাক্রমে শতকরা ৭২ ও ৮৬ দশমিক ৮ ভাগ। কলেরা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট মান হলো গবেষণাগারে মল কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ, যা নমুনা তৈরি, পরিবহনে দেরি, দক্ষ কর্মী, সময় (২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা) এবং ব্যয়ের (নমুনা প্রতি ৬ থেকে ৮ মার্কিন ডলার) মতো বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীল। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলেরা একটি অতি প্রাচীন রোগ। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ এ-রোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার সিংহভাগ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ কলেরার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ-রোগটির জন্য প্রধানত ভিব্রিও কলেরি নামের একটি জীবাণু দায়ী, ভিব্রিও কলেরি-র ২শ’র বেশি সেরোটাইপ রয়েছে।

গাংনীতে ২ লক্ষাধিক টাকা ও ইয়াবা-গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২ লক্ষাধিক টাকা, ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ কালাম হোসেন (৪৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত কালাম গাংনী উপজেলার তেরাইল-ওলিনগর গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র‌্যাব-৬ (গাংনী) ক্যাম্পের সদস্যরা ওলিনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে কালামকে আটক করে। র‌্যাব-৬ (গাংনী) ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র‌্যাব সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওলিনগর গ্রামের কালাম হোসেনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কালামকে আটক করা হয়ে। পরে তার ঘর তল্লাশি করে ২লক্ষ ১৪ হাজার ৫শ টাকা, ৮পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও আনুমানিক দেড়শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে টাকা, মাদকসহ কালামকে গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়। গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, আটককৃত কালাম হোসেনের নামে সন্ত্রাসী-মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে গাংনী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কালুখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন

ফজলুল হক ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ২০১৯ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলাকালীন সময়ে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান শিক্ষক মোঃ আয়ুব আলী অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন । নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১০ম শ্রেণীর নুশরাত জাহান তন্নি, সহকারী নির্বাচন কমিশনার এমএম মনিরুজ্জামান ও তাজরিন জাহান সিনথি ও প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে সুবর্ণ জাহান দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ৮টি পদে ১১৮৭ জন ভোটার মধ্যে ৭০৮ টি  ভোট প্রাপ্ত হয়। এদের মধ্যে ৮টি পদে ১৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ৮জন বিজয় অর্জন করে তাদের মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর গ শাখার নাঈমা জাহান ৪০৮ ভোট, ৭ম শ্রেণীর ক শাখার কাজী শাহিদ আফ্রিদি ৩৯৪, গ শাখার সাদিয়া খানম আখি ২৩৭, ৮ম শ্রেণীর খ শাখার নুশরাত ফারহানা শেফা ৪১২, প্রিয়ন্তি শাহা অর্না ৩৪৪, ৯ম শ্রেণীর ক শাখার মোঃ নাফি রশিদ সানি ৪৬০, খ শাখার তাজরিন তামান্না জবা ৩৫৮, ১০ম শ্রেণীর খ শাখার নুসরাত জাহান সেতু ৬৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়। এ নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আয়ুব আলীর সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, এ নির্বাচনের লক্ষ্য হচ্ছে শিশুকাল থেকে গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া সহ কয়েকটি উদ্দেশ্য নিয়ে এ নির্বাচন। তিনি আরও বলেন এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীতে শিক্ষার্থীরা স্কুলের মান বাড়ানো ও আগামী বছরগুলোতে উৎব মূখর পরিবেশে এবং বেশি পরিমাণে শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে বলে আশা করি।

গ্যাসের দাম বাড়ালে আন্দোলনের হুশিয়ারি ড. কামালের

ঢাকা অফিস ॥ এলএনজি ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ না করা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ হুশিয়ারি দেন। বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াবে, জনজীবন, উৎপাদন ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিল্পকারখানা, পরিবহনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও যাতায়াত খরচের ওপরও পড়বে।’ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গণফোরামের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণশুনানির নামে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে একই বিবৃতি দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারে র দাবি জানান গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। গ্যাসের অযোক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গণশুনানির নামে প্রতারণা ও এলএনজি ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধ না করা হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।

ভালো হয়ে যান, আল্লাহর দুনিয়ায় অনেক ব্যবসা আছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি আবারো কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, ‘আবারো বলছি, ভালো হয়ে যান। আল্লাহর দুনিয়ায় আরও অনেক ব্যবসা আছে, সেগুলো করেন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজানে মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে যত ক্ষমতাবানই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেব। বিস্তারিত বলতে চাই না। আপনারা দেখেছেন মাদক ব্যবসায়ীদের পরিণতি কী হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাদক আইন সংশোধন করেছি। শুধু আইন নয়, এর বাইরে আরও অনেক নতুন উপাদান আছে, যা আমরা সামনে মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করবো।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন কী অবস্থার মধ্যদিয়ে আমরা ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলাম। প্রথমে সাঈদীকে চাঁদে দেখা যায় বলে তান্ডব দেখেছি। সারাদেশে প্রায় দেড়শ মানুষ নিহত হয়েছেন। ২৭ জন পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তা দমন করেছি।’ ‘তারপর আমরা জঙ্গিবাদের উত্থান দেখলাম। হলি আর্টিজান, শোলাকিয়ার হামলার ঘটনা দেখেছি। শিয়াদের মিছিলে হামলা হয়েছে। পঞ্চগড়ে ফ্রান্সের এক নাগরিকসহ কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একটা মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছে। ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়েছে, তারপরেও তাকে খুন করা হয়েছে,’-বলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, জঙ্গিদের লাশ গ্রহণ করেনি তাদের পরিবার। আনজুমান মফিদুল ইসলামে দিয়েছি। আপনাদের বলব-ভাই, বোন, ছেলে, মেয়ে কোথায় যায়; কী করে খবর রাখেন। তবেই জঙ্গিবাদ দূর করা সম্ভব।’ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘পুলিশকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ কাওকে হত্যা করেনি।’ রাউজানের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘রাউজান পুলিশের আওতার বাইরে। এটা নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না। রাস্তা দিয়ে আসার সময় পরিষ্কার রাস্তাঘাট দেখেই বুঝতে পেরেছি, আমরা রাউজান পৌঁছে গেছি। তবে শুধু রাউজানকে মাদক বা সন্ত্রাস মুক্ত রাখলে হবে না। আশপাশের রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি থেকে আসা গাড়ি দিয়ে যেন মাদকের চালান যেতে না পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’ রাউজানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম রেজার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন রাউজানের সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবির ও রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল।

 

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ঢাবি কোথাও নেই এটা লজ্জার – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপিসহ যারা বিজয়ী হয়েছে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। নাসিম বলেছেন, আজকে আমাদের দুঃখ লাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়লোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে কোথাও নেই। এটা আমাদের লজ্জা, শিক্ষকদের লজ্জা এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য লজ্জা। তাই ডাকসুতে যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করুন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিবস উপলক্ষে সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোটের উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক করে, আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না। কারণ বাংলাদেশে আন্দোলনের সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন শপথ নিয়ে নাটক না করে, দয়া করে ছাত্রদের জন্য কাজ করার প্রস্তুতি নিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনুন। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক করে কোনো লাভ হবে না। মেয়েদের হলে মেয়েরা যা করতে পেরেছে, আমার ছাত্রবন্ধুরা তা করতে পারে নাই। এটা নিয়ে আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত। বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যারা বিতর্ক করে সেই প্রতিপক্ষ শক্তিকে বলব- সময়মতো প্রতিরোধ করতে পারেন নাই। মাঠ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়। সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোটের চেয়ারম্যান নিয়াজ মুহাম্মদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক এই আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, আওয়ামী লীগ নেতা এমএ করিম, বঙ্গবন্ধু একাডেমির মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।

ঝিনাইদহে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকদের মানববন্ধন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের পিটিআই এর সামনের এ কর্মসূচীর আয়োজন করে ডিপিএইড প্রশিক্ষনার্থী শিক্ষকবৃন্দ। এ মানববন্ধন কর্মসূচীতে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শিক্ষকরা অংশ নেয়। এ সময় জেলার ডিপিএইড প্রশিক্ষনার্থী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিক্ষক নেতা শাহিনুর রহমান ও ফারুক হোসেনসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই ১১তম স্কেলে বেতন নির্ধারন ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ বাতিল করতে হবে। নতুবা পরবর্তীতে নতুন ধরনের কর্মসূচী দেওয়া হবে।

আজ থেকে উদিবাড়ী দায়রাপাকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপি ওরশ মোবারক

রাজন আহমেদ ॥ হযরত খাজা শাহ্ সুফী মনছুর আলী আল্ চিশতী নিজামী এর মাজার পাঙ্গনে আজ শুরু হচ্ছে বাৎসরিক ওরশ মোবারক। কয়েকদিন আগে থেকেই দুর দুরন্ত থেকে আসতে শুরু করেছে ভক্ত-আশেকান। মাজার শরীফের চারপাশ জুড়ে বসেছে সাধু-ভক্তদের হাট। ডুগি তবলা আর  ঢোলের তালে জমে উঠেছে বাউল গানের আসর। আবার অন্যদিকে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে মনছুর সাইজীর বাড়ির খানকা ময়দানে। রাতভর সেখানে তরিকত হকিকত শরিয়ত মারেফত ও এলমে তাসায়াফের উপর ওয়াজ নছিয়াত ও জিকিরে মোসগুল থাকবে তরিকতের ভক্তগন। খাজা মনসুর সাইজীর এ ওরশ উপলক্ষে মাজারের সামনে রাস্তার পাসে বসেছে মেলা। মেলায় বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। হাজার হাজার ভক্ত মুরিদান আর  খোদা তত্ব অনুসন্ধানী প্রেমিকদের পদচারনায় মুখোর উদিবাড়ী দয়রাপাক এলাকা। আগামী রবিবার ফজরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাত ও তবারক গ্রহনের মধ্যদিয়ে ভাঙ্গবে ভক্তদের হাট। আধ্যাত্মিক সাধক মনছুর আলী শাহ্ একাধারে ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক, লেখক, গায়ক ও সুরকার। তার গান তৎকালীন সময় বাংলাদেশবেতারের খুলনা সেন্টার থেকে সম্প্রচার করা হয়। তিনি শরিয়ত ও মারেফতের উপর ২৪টি বই রচনা করেন। তার লেখা গ্রন্থের মধ্যে ছেররোলে কোরআন, আশেকে রাসুল (সাঃ), মুক্তির আলো, মারেফতের চাবুক মনছুরের বাণী উল্ল্যেখযোগ্য। হযরত মনসুর আালী শাহের পিতা ছিলেন হযরত খাজা হাদীদ উদ্দিন এবং মনসুর আলী সাইজীর পীর ছিলেন খাজা  দেওয়ান আব্দুর রশিদ চিশতি সাহেব (মানিকগঞ্জ), তার নিকট থেকে আল-চিশতিয়া, কাদরিয়া তরিকা গ্রহনের মাধ্যমে তিনি পীরত্ব অর্জন করেন। মরোমী এ সাধকের মাজরে প্রতিবৎসর হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী মানুষ ছুটে আসে আত্বশুদ্ধি লাভের আশায়। মাজারের প্রধান খাদেম আব্দুল হাকিম জানান, বৎসরে ৩ বার দায়রাপাকে অনুষ্ঠান হয়। এসময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তরিকতের আশেকান মুরিদ ভক্ত ছুটে আসে আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এর কলমা তালিমের মাধ্যমে তাদের অন্তরে মুরশিদ প্রেম জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে। খাজা মনসুর আলী শাহ্ ১১৭ বৎসর জীবিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালের ৩ রা জানুয়ারী তিনি মৃত্যুবরন করেন।

ইবিতে ‘স্বপ্ন’ সাহিত্য পর্ষদের নেতৃত্বে অনি ও আইনুন

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাহিত্য বিষয়ক সংগঠন ‘স্বপ্ন’ সাহিত্য পর্ষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের (চতুর্থ বর্ষ) অনি আতিকুর রহমানকে সভাপতি এবং একই বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের আইনুন নাহারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংগঠনটির সদ্য সাবেক সভাপতি জি.কে সাদিক অনুমোদিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সহ সভাপতি জি.কে. সাদিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, যুগ্ম সাংগঠনিক তানিয়া শেখ তনু, অর্থ সম্পাদক খাদিজাতুল কোবরা, দফতর সম্পাদক নীলিমা খাতুন, প্রচার সম্পাদক ইমানুল সোহান, পাঠকচক্র সম্পাদক রিফতি রহমাত ও জাহিদ হোসেন, অনুষ্ঠান সম্পাদক আলী আরমান ও তামান্না সাদিয়া রিমি। এছাড়া কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে সাইফুল ইসলাম, সোহেল হক, প্রিয়াংকা কুন্ডু, রিতু দত্ত, হৃদয় পাল ও লতিফা খাতুনকে মনোনীত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচলনা করে আসছে ‘স্বপ্ন’ সাহিত্য পর্ষদ। সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে, ‘শব্দতট’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নির্ভর দেয়ালিকা প্রকাশ, ‘অতন্দ্র’ নামে একটি সাময়িকী পত্রিকা প্রকাশ। এছাড়াও নানামাত্রিক জ্ঞানার্জন ও তরুণ লেখক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়মিত পাঠচক্র ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করে আসছে ‘স্বপ্ন’ সাহিত্য পর্ষদ।

দৌলতপুর উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় সভাসহ পৃথক ৩ সভা অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় সভাসহ পৃথক ৩টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ কুমার পাল। বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী নজরুল ইসলাম, ডা. মো. আবু সাইদ, খলিশাকুন্ডি ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক কবিরাজ ও সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম। সভায় পুষ্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এরআগে দৌলতপুর সমাজসেবা অফিসার মো. ছানোয়ার আলী প্রতিবন্ধীভাতার কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ে উপস্থাপন করেন। এসময় এ সংক্রান্ত সভার আলোচনায় অংশ নেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন। পরে ১৬ মার্চ থেকে ২২ মার্চ জাটকা সংরক্ষন সপ্তাহ পালনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে জাটকা সংরক্ষন সপ্তাহ পালনের করনীয় বিষয় নিয়ে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন, দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ও ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক কবিরাজ। সবশেষে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত।

ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের, আটক ৪

কুষ্টিয়ায় পূজা মন্দিরে প্রতিমার স্বর্ণালংকার লুট

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরের কালী প্রতিমা ও লক্ষী দেবীর প্রতিমা ভাংচুর ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাস বিশু বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করেছে। এদিকে রাতে মন্দিরে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া শহরের প্রাণ কেন্দ্র থানাপাড়া। ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী মন্দির থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির। বুধবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় মন্দিরের কালী প্রতিমা ও লক্ষী দেবীর প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে প্রতিমার স্বর্ণালংকার লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম বার সহ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস সহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি তরুণ কুমার ঘোষ জানান, রাতের কোন এক সময়ে কে বা কারা কালি মায়ের মূর্তি ও লক্ষী দেবীর মূর্তি ভাংচুর করেছে এবং প্রতিমার গায়ের স্বর্ণালংকার লুট করেছে। মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাস বিশু জানান, এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ২০। তারিখ ১৪/৩/২০১৯। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি চাই। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্টের অপচেষ্ঠায় একটি ঘোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, কোন দুষ্ট চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রতী নষ্ট করতে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকবে পারে। ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখে এর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি (পি.পি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী জানান, আমরা সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে একসাথে বসবাস করে আসছি। এধরনের ঘটনা নিন্দনীয়। ঘটনার তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিচার চাই। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী জানান, আমরা একে অপরের সাথে মিলে মিশে বসবাস করি। কোন অশুভ চক্র এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। যেই এঘটনা ঘটিয়ে থাকুক তার শাস্তি দাবী জানাই। যাতে করে এ ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তি আর না ঘটে। কুষ্টিয়া মডেল থনার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমরা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, দোষীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধি সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাস বিশু। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া মডেল থনার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন অর্থ-সম্পাদক দিপঙ্কর দাস। এ সময় কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় কুন্ডু, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক গৌতম কান্তি চাকী, পৌর সভার কাউন্সিলর খন্দকার মাজেদুল ইসলাম ধীমান, এলাকার সমাজ সেবক আয়ুব হোসেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলীর সদস্য তুহিন চাকী, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার নেতা প্রবীর কর্মকার, অসীম পাল, পরিতোষ দাস, থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি তরুণ কুমার ঘোষ, পুরহীত বাবলু বাগচী, সদস্য প্রদীপ কুমার ঘোষ সহ স্থানীয় এলাকাবাসী এবং মন্দির কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন-উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া পৌরসভার বক্সিং দলের ব্র্রোঞ্জ অর্জন

বাংলাদেশ এ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের আয়োজনে ২৩তম জাতীয় জুনিয়র বালক ও ৫ম জাতীয় জুনিয়র বালিকা বক্সিং প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়া পৌরসভার বক্সিং দলের দুই নারী খেলোয়াড় ব্রোঞ্জ অর্জন করেছে। কুষ্টিয়া থানাপাড়ার ব্রোঞ্জ বিজয়ী খেলোয়াড় দীপা খাতুন ও সুরাইয়া আক্তার এবং কোচ ইমন হোসেন গতকাল মেয়র কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মেয়র আনোয়ার আলীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় মেয়র বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার পৃষ্ঠপোষকাতায় একজন কোচ ও তিনজন বালিকাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের জন্য প্রথমত বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় খুলনাতে পাঠানো হয়। খুলনাতে এই দুই নারী খেলোয়াড় চাম্পিয়ন হয়। পরে ঢাকাতে অংশগ্রহন করে ও সেখান থেকে ব্রোঞ্জ অর্জন করে। এই অর্জন শুধু কুষ্টিয়া পৌরসভার নয়, এই অর্জন কুষ্টিয়াবাসীর। মেয়র আরো বলেন, লেখা-পড়ার পাশাপাশি তোমাদের দক্ষতা বৃদ্ধির করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ গ্রহন করে পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জল করতে হবে, এটাই তোমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর এজন্য আমি তোমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করবো।  উল্লেখ্য দিপা ৪৫ কেজি ও সুরাইয়া ৩৮.৫ কেজি ওজন শ্রেনীতে ব্রোঞ্জ অর্জন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র -১ মতিয়ার রহমান মজনু ও কাউন্সিলর সাবা উদ্দিন সওদাগর। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় জাতীয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন ভাতা প্রদান

কুষ্টিয়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীনে জাতীয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে নগর ভিত্তিক নকশীকাঁথা ও সেলাই প্রশিক্ষন প্রাপ্ত নারীদের মাঝে প্রশিক্ষন ভাতা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় মহিলা সংস্থার কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ে প্রশিক্ষনরত ৯০জন মহিলার হাতে ৩ লক্ষ ৬০হাজার টাকা তুলেদেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার মহিলাদের উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এর মাধমে কর্মসংস্থান দেওয়া হচ্ছে। নারীদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সবকয়টি উপজেলায় নারীদেরকে ফ্রি প্রশিক্ষন প্রদান করা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করছে সরকার। জাতীয় মহিলা সংস্থা কুষ্টিয়া  জেলার চেয়ারম্যান জেব-উন-নিসা সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহানাজ সূলতানা বনী, ৫নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. আফিল উদ্দিন, জাতীয় মহিলা সংস্থা কুষ্টিয়া জেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নূরতাজ বেগম, প্রোগ্রাম অফিসার শাহিন উদ্দিন, সহ সেলাই প্রশিক্ষক ইসয়ান হোসেন, আলরোজা খাতুন, নকশীকাঁথা প্রশিক্ষক মারুফা আক্তার, খুরশিদা খাতুন, কম্পিউটর অপোরেটের বকুল হোসেন, অফিস সহকারী আব্দুল বারী, অফিস সহায়ক কেরামত আলী, রিয়াজুল ইসলাম, রাব্বি খানসহ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দ্দার আলমডাঙ্গার ইমরান ও লিটুর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আন্তঃজেলা ডাকাত সিন্ডিকেটের শীর্ষ  নেতা আলমডাঙ্গার ইমরান ও তার সঙ্গী বাদেমাজু গ্রামের লিটুর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার উথলি থেকে ইমরানের লাশ ও একই উপজেলার হাসাদাহ থেকে লিটুর লাশ উদ্ধার হয়। জানা  গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে জীবননগর উপজেলার উথলির মাঠে এক যুবকের ও হাসাদহের মাঠে আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পায় স্থানীয়রা। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে দামুড়হুদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে  পৌছে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকান্ড কারা ঘটিয়েছে এবং কেন ঘটিয়েছে তা বলতে পারেনি। তবে নিহত দু যুবকের পরিচয় জানা গেছে। উথলির মাঠ থেকে উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম ইমরান আহমেদ। সে আলমডাঙ্গা মসজিদপাড়ার প্রয়াত পুলিশ কনসটেবল আব্দুর রহমানের  ছেলে। সে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের শীর্ষ নেতা। অন্যদিকে, হাসাদহের মাঠে গুলিবিদ্ধ লাশটি ইমরানের বডিগার্ড সহযোগী বাদেমাজু গ্রামের আনিচুরের ছেলে লিটুর। গুঞ্জন উঠেছে পুলিশের একটি টিম গত বুধবার সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গার পুরাতন বাজার থেকে ইমরান ও লিটুকে আটক করে। তবে পুলিশ তাদের আটকের কথা স্বীকার করেনি। ইমরান আহমেদ আলমডাঙ্গা বৈদ্যনাথপুরের সাবেক পুলিশ কনসটেবল মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ায় বসবাস করত। ইমরান  জেলার অপরাধ জগতের নটরাজ হিসেবে পরিচিত। উঠতি বয়সি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসি ও আন্তজেলা ডাকাতদলের অন্যতম  নেতৃত্বদানকারি হিসেবে পরিচিত। হাইস্কুলে ভর্তির পর পরই  সে অপরাধ জগতে পা বাড়ায়। বাপের অনুপস্থিতি ও মায়ের অনৈতিক জীবন যাপনের কারণেই সে অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় বলে অনেকের অভিযোগ। ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ তার নামে থানায় ১ ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। ইমরান আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। সে কারণে সে খুব সাবধানে চলাচল করতএবং অপরাধ করত খুব সাবধানে। গত ২০১১ সালের ১৯  ফেব্র“য়ারি র‌্যাব তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করার পর ইমরান আলমডাঙ্গা শহর ত্যাগ করে পুরোপুরিভাবে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। পরে আর কখনই নিয়মিতভাবে আলমডাঙ্গা শহরে বসবাস করে নাই। গত বছর ১ মার্চ দিনগত রাত ১টার দিকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে শহরের পশুহাট এলাকা থেকে আটক করে। আটকের পর তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বীকারক্তি মোতাবেক পুলিশ রাতেই আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের গোডাউনের পেছনের জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছেন, মোটর সাইকেল ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, অস্ত্র ও বিষ্ফোরক মামলাসহ আলমডাঙ্গা, দামুঢ়হুদা, মিরপুর, গাংনী থানা ও কুষ্টিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, তাদের অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্র বৃহত্তর কুষ্টিয়াজুড়ে। শুধুমাত্র আলমডাঙ্গা থানায় তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। বিষ্ফোরক আইনে ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ২টি, ডাকাতি মামলা ২টি, মারামারি মামলা ১টি ও অস্ত্র আইনে ২টি মামলা। সে ইত:পূর্বে ইভটিজিং মামলায় ৯ মাসের জেল  খেটেছে। তার নামে ২০১৪ সালে দুটি চুরি মামলা, ২০১৫ সালে একটি চুরি ও মারামারি মামলা এবং ২০১৬ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রুজু হয়। গত দেড় বছর পূর্বেও নীল রঙের পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে কখনও ফাঁড়ি পুলিশ, কখনও থানা পুলিশ আবার কখনও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গাসহ এর আশপাশ এলাকায় একের পর এক মোবাইলফোন ও মোটরসাইকেল ছিনতাই করে আসছিলো বলেও ওয়াকিবহাল মহলের দাবি। এছাড়া গত বছর ১ ফেব্র“য়ারি দামুড়হুদার দেউলি গ্রামের সামসুল আলম বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, দামুঢ়হুদা পাইলট হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র  দেউলি গ্রামের সামসুল আলমের ছেলে সাইমুনসহ তার দু’বন্ধু জাবেদ ইকবাল ও শিহাব গত ১৮ জানুয়ারি স্কুল শেষে বিকেল ৪ টার দিকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে দেউলি প্রাইমারি স্কুলের সামনে নীল-কালো রঙের একটি পালসার  মোটরসাইকেলযোগে ইমরান ও তমাল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে তোরা মোবাইলফোনে মেয়েদের উত্যক্ত করিস। তোদের এখন ডিবি অফিসে যেতে হবে। সে সময় ডিবির এসআই পরিচয়দানকারী ইমরান তাদের ইভটিজিং মামলায় ফাঁসানোর ভয়-ভীতি দেখায় এবং ওই ছাত্রের কাছে থাকা মোবাইলফোন ৩টি হাতিয়ে নিয়ে ডিবি অফিসে দেখা করার কথা বলে দ্রুত সটকে পড়ে। পরে থানা ও ডিবি অফিসে খোজ নিয়ে জানা যায়, তারা ভূয়া পুলিশ। এ বিষয়ে ছাত্র সাইমুন ওইদিনই দামুড়হুদা থানায় একটি জিডি করেন। দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই ফিরোজ জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন এবং মোবাইলফোন ট্র্যাকিং এবং কললিস্ট  চেক করে তাদেরকে শনাক্ত করেন। এরপর দামুড়হুদা মডেল থানার তৎকালীন ওসি আবু জিহাদের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে গাংনী থেকে তমালসহ এই ইমরানকে  গ্রেফতার করেছিলেন। ইমরানের  সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত তমাল। গোপালগঞ্জ  জেলার হাটবাড়িয়া গ্রামের এসআই বদরুজ্জামান ওরফে বি জামানের ছেলে তমাল। ১০/১১ বছর পূর্বে আলমডাঙ্গা থানায় চাকরি করতেন বি জামান। থাকতেন সপরিবারে আলমডাঙ্গাতেই। সেই থেকে ইমরানের সাথে তমালের বন্ধুত্বের সূচনা। এছাড়া জয়রামপুর স্টেশনের অদূরে পুলিশ পরিচয়ে  মোটরসাইকেলের কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে দুই কিশোরের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

পোড়াদহ ইউনিয়নে দিনব্যাপী নৌকার পক্ষে গনসংযোগে  শেফালী আরেফীন

মিলন আলী ॥ আসন্ন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাচনে  নৌকার প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কামারুল আরেফীনের পক্ষে তার সহধর্মীনি শেফালী আরেফীন দিনব্যাপী পোড়াদহ ইউনিয়নে গনসংযোগ করেন। তিনি পোড়াদহ ইউনিয়নের বালিয়াশিশি, ডাঙ্গাপাড়া, তেঘরিয়া, চিথলিয়া, স্বরুপদহ, গ্রাম  পোড়াদহ, কালিনাথপুর, নতুন বাজারে নৌকার প্রতীকের পক্ষে পথসভা, গনসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করা হয়। পোড়াদহ ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন শেফালী আরেফীন। গনসংযোগ, পথসভা ও ভোট ক্যাম্পিং অনুষ্ঠানে আর উপস্থিত ছিলেন পোড়াদহ ইউনিয়ন  আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক তৈবুর রহমান মন্টু  মেম্বর, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মামুনার রশিদ, মহিলা আ’লীগের মিরপুর থানা সাধারন সম্পাদিকা সখিনা খাতুন, জহুরা খাতুন। পথসভায় শেফালী আরেফীন বলেন বর্তমান সরকারের অগ্রগতি, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এই উপজেলায় অক্ষুন্ন রাখার জন্য  নৌকার প্রার্থী কামারুল আরেফীনকে আবারও ভোট দিয় জয়যুক্ত করুন। তাই দল মত বর্ণ, ধর্ম, নারী-পুরুষ  ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকা প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।

এতিমখানা দুর্নীতি

সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিলের আবেদন

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া ১০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে সাজার রায় স্থগিতের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জামিন চেয়েছেন তার আইনজীবীরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, “হাই কোর্টের ১৭৭ পৃষ্ঠার রায়সহ প্রায় তিনশ পৃষ্ঠার লিভ টু আপিল ফাইল করা হয়েছে। শিগগিরই শুনানি হবে বলে আশা করি।” বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলার রায়ে গত বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দিলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে পাঠানো হয়। জজ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল এবং দুদকের করা রিভিশন আবেদনের শুনানি করে গত ৮ নভেম্বর রায় দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ। তাতে খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এ মামলার মুখ্য আসামি। অন্য আসামিদের যেখানে ১০ বছরের সাজা হয়েছে, মুখ্য আসামি তার চেয়ে কম সাজা পেতে পারেন না। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন সেদিন বলেছিলেন, সাজা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে তারা ‘হতবাক’, খালেদা জিয়া কোথাও ন্যায়বিচার পাননি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ২০০৮ সালে, জরুরি অবস্থার মধ্যে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে জজ আদালতের রায়ে খালেদা জিয়াকে ‘ক্ষমতায় থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলার অপর পাঁচ আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের প্রত্যেককে দশ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

পরিবারের অভিযোগ ওসি রতন শেখ’র ব্যক্তি আক্রোশের শিকার চেয়ারম্যান

পাশের ইউনিয়নে ঘটা নাশকতা মামলায় কারাগারে প্রেরণ

কুষ্টিয়ায় উপজেলার মাসিক সভা শেষে পশ্চিম আব্দালপুর ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন আটক

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদে মাসিক আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় যোগদান শেষে বের হলে আলী হায়দার স্বপন নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে আটক করেছে পুলিশ। আলী হায়দার স্বপন সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আটকের এক ঘন্টার মধ্যেই পাশের ইউনিয়নের একটি নাশকতা মামলায় সন্দেহজনক আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ ইবি থানার ওসি রতন শেখ ব্যক্তিগত রাগ থেকে উপজেলা চত্বর থেকে জোরপুর্বক ধরে মিথ্যা মামলায় চালান দিয়েছে।’

উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শি সুত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মাসিক আইন শৃংখলা বিষয়ক কমিটির মিটিং শুরু হয়। সেখানে আলী হায়দার স্বপনসহ ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অংশ নেন। মিটিং শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সাথে আলাপ শেষে তিনি নিচে নামেন। তার সাথে নেমে আসেন ইবি থানার ওসি রতন শেখও। নিচে নেমে কয়েক পা হাটার পর কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি জোরপুর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান বাঁধা দেয়। পরে তাকে টেনে হেঁচড়ে মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

চেয়ারম্যানের সাথে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শি একজন জানান, নিচে নামার পর পরই চেয়ারম্যানকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন সাদা পোশাকধারী। এ সময় পাশেই ওসি রতন শেখ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

চেয়ারম্যানকে আটক করে পুলিশ লাইনে ডিবি অফিসে বসিয়ে রেখে আধাঘন্টার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্র“য়ারি পাশের উজানগ্রাম ইউনিয়নে মারামারি সংক্রান্ত একটি মামলার সন্দেহজনক আসামী হিসেবে কোর্টে প্রেরণ করে। কোর্ট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। যে মামলায় চেয়ারম্যান স্বপনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে একই মাললায় উজানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নিরীহ লোকজনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাও জেলে আছে একই মামলায়। মামলাটির বাদি ইবি থানার এসআই বাবুল হোসেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, আজ (গতকাল) মিটিং ছিল। আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপনও উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তিনি বের হওয়ার পর তাকে ধরে নিয়ে কিছু লোক। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ডিবি পুলিশ তাকে আটক করেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক অবহিত করেছি।’

কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের ( ডিবি ) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  সিকদার আক্কাস আলী বলেন, উজানগ্রাম ইউনিয়নের একটি মারামারির মামলায় সন্দেহজনক আসামী হিসেবে তাকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার বাদি ইবি থানার একজন এসআই।

আলী হায়দার স্বপনের পিতা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। তার আরেক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন,‘ সম্প্রতি এলাকার তিনটি হাট সরকারকে বেশি রাজস্ব দিয়ে ডেকে নেন স্বপন চেয়ারম্যানের লোকজন। ওসি রতন শেখের অনুগত কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা হাট না পাওয়ায় চেয়ারম্যানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন তিনিসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতারা। ওইসব নেতাদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত রাগ মেটাতে ওসি উপজেলা চত্বর থেকে ধরে এনে মিথ্যা মামলায় চালানা দিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি স্বপন চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই মইনুদ্দিনকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার মোস্তাফার লোকজন। ওই মামলায় মোস্তফাজন অন্যরা জেলে রয়েছে। মোস্তফার অনুগত অন্য নেতাদের সাথে ওসির ভাল সম্পর্ক থাকায় তারা টাকা পয়সা দিয়ে চেয়ারম্যান স্বপনকে নাজেহাল করছে।

আলী হায়দার স্বপনের পিতা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ইসহাক আলী মাষ্টার বলেন, পাশের ইউনিয়নের একটি মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে আটক করে হয়রানীর চেষ্টা করা হচ্ছে। ওসি ব্যক্তিগত আক্রশ থেকে আমার ছেলেকে আটক করে মামলা দিয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ বলেন, তার সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। পাশের ইউনিয়নের একটি মামলায় জড়িত সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ। তারা যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন।’

পোড়াদহে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই জনের কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াাদহে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। গাঁজা রাখার দায়ে এই দুই জনকেই তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। পোড়াদহ রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, থানার অফিসার ইনচার্য সলেমান হোসেন  মোল্লার নেতৃত্বে রেলে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পোড়াদহ রেলওয়ে থানার এ এস আই জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনের ৩নং প্লাট ফর্মে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানার আন্দলবাড়িয়া খাঁপাড়া গ্রামের মৃত আরজে আলীর ছেলে ফারুক আলী(৪০) কে আটক করা হয়। তার দেহে তল্লাশী চালিয়ে কোমর থেকে ৫০গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। পরে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম জামাল আহমেদ  ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আটককৃতকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। অপরদিকে গত পরশু বুধবার বেলা ১টার সময় পোড়াদহ  রেলওয় জংশন ষ্টেশনের ১নং প্লাটফর্মে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালায় থানার এস আই গোবিন্দ। অভিযানে ১০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয় কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার আইনুদ্দিন শেখের ছেলে  রেজাউল শেখ (৪০) কে। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস এম জামাল আহমেদ ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে গাঁজাসহ আটককৃতকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।