গ্যাসের দাম বাড়ালে আন্দোলনের হুমকি

ঢাকা অফিস ॥ গৃহস্থালিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘প্রতিবাদী নাগরিক’দের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরকারকে এই হুমকি দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ। আবুল মকসুদ বলেন, “অন্যায্যভাবে, রান্না করার গ্যাসের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। যদি গ্যসের দাম বাড়ানোর, সরকারের এই চেষ্টা অব্যাহত থাকে, তবে এর বিরুদ্ধে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে।” গ্যাসের দাম নিয়ে বিইআরসি আগামী ১ মার্চ যে গণশুনানির উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে গৃহস্থালিতে দুই চুলার গ্যাসের মাসিক বিল ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন সমাবেশের বক্তারা। গ্যাসের দাম এখনই ‘অনেক বেশি’ দাবি করে মকসুদ বলেন, “মানুষ এখন গ্যাসের যে দাম দিচ্ছে, তার অর্ধেক ব্যবহার করতে পারছে। মানুষ টাকা দিচ্ছে কিন্তু গ্যাস পাচ্ছে না। আমি আমার নিজের বাড়িতে দেখেছি, ধানমন্ডি এলাকায়, সেখানে ভাত রান্না যায়, তরকারি রান্না করা যায় না।” কর্মসূচিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন তাদের ঘরের চুলায় গ্যাস না পাওয়ার কথা জানান। অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, “তেলের দাম থেকে সরকার মুনাফা করে। সরকার বলে, মুনাফা দিয়ে গ্যাস খাতের উন্নয়ন করবে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল তৈরি করবে। আমরা জানি জ্বালানি উন্নয়ন তহবিল একটা আছে। কিন্তু এই তহবিল ব্যবহার করা হয়নি। গ্যাস উন্নয়নের জন্য করতে গিয়ে এই তহবিলে নয়-ছয় হচ্ছে।”

বাপেক্সকে বাদ দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাপেক্স ছয়টি কূপ এবং ৯টি উন্নয়ন কূপ খনন করেছে। তারপরে এক বিদেশি কোম্পানিকে খননের জন্য দেওয়া হল। দেখা গেল, তারা তিন গুণ বেশি খরচ করল। এই দুর্নীতির ঘানি কেন আমরা টানবো?” এই কর্মসূচিতে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি নেতা হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, লুনা নূর বক্তব্য রাখেন। তারা গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের শাস্তি দেওয়া, দেশের শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করে সমুদ্র বক্ষের গ্যাস উত্তোলনের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

ধ্বংসের পথে বিধ্বংসী রাজনীতিতে ঐক্যফ্রন্ট – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “ধ্বংসের পথে তাদের বিধ্বংসী রাজনীতি। ছদ্মবেশী, বিধ্বংসী যে রাজনীতি তারা করে, সেই বিধ্বংসী রাজনীতি ধ্বংসের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।” গতকাল শনিবার শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্বাচনের ইতিহাস বলে, যারা বয়কট করবে, তাদের কিন্তু জনবিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক ভাগ্য অনিবার্য হয়ে গেল। বিএনপিকেও এ কথা বলি, গত সাধারণ নির্বাচনে জনমতের হাওয়াটা যদি তাদের অনুকূলে থাকত, তাহলে এর প্রভাবটা তাদের ফলে পড়ত। জনমত যেদিকে থাকে, নির্বাচনের ফল সেদিকেই টার্ন করবে, এটা নির্বাচনের ইতিহাস।” বিএনপির বর্জনের মধ্যে উপজেলা নির্বাচন কেমন হবে- এই প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “উপজেলা নির্বাচন একেবারে পারফেক্ট হবে, এটা আমি মনে করি না। পারফেক্ট বিষয়টি ভিন্ন বিষয়। কোনো বিষয়কে পারফেক্ট বলা ঠিক না, ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাই। গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগে কিছু কিছু ভুলত্রুটি আমাদের অতিক্রম করতে হবে। এটা থাকবে এবং এটা নিয়ে এগোতে হবে। নির্বাচন করতে করতে এক সময় দেখা যাবে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র রূপ নিয়েছে।” উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে কাদের বলেন, “ঢাকা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে অনেকের আশঙ্কা ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর সংঘাত-সহিংসতা হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোথাও কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেনি। ৩৬টি ওয়ার্ডের কোথাও কোথাও ১০ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তবুও কোথাও কোনো সংঘর্ষ হয়নি।” সক্রিয় রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলামকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “হয়ত নেতা ছিলেন না, সমর্থক ছিলেন। আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন, অন্য কোনো দল কখনও করেননি। তিনি বিজিএমইএ নির্বাচন করতেন, সেখানেও আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র আনিসকেও তো মনোনয়ন দিয়েছিলাম, তিনিও তো আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন না।” সিটি করপোরেশন নির্বাচন জাতীয় পার্টি ‘শক্তিশালী ভুমিকা’ রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে অঙ্গীকার করেছিল, সিটি নির্বাচনে সেটির কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বিরোধী দল যদি শক্তভাবে বিরোধিতা করত, তাহলে নির্বাচনটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হত। সংসদের ভেতরে ও বাইরের উভয় রাজনৈতিক দলকে আমরা শক্তিশালী দেখতে চাই।” সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন ছিলেন।

 

কুষ্টিয়া আবৃত্তি পরিষদ’র সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

টেগরলজে সঙ্গীত পরিবেশন করলেন অতিরিক্ত সচিব রাম চন্দ্র দাস

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া আবৃত্তি পরিষদ’র আয়োজনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ মার্চ শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়াস্থ কুষ্টিয়া টেগরলজে এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী রাম চন্দ্র দাস (অতিরিক্ত সচিব)। তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া আবৃত্তি পরিষদ’র সভাপতি ও জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিষদ কুষ্টিয়ার সভাপতি বিশিষ্ট কবি আলম আরা জুঁই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া আবৃত্তি পরিষদ’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান, নাসিরনগর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জামিল ফোরকান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব এম.এম আব্দুর রহমান। সূচনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন শফিকুর রহমান জুয়েল ও মৌসুমী বিশ্বাস। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী অশোক সাহা, আকলিমা খাতুন ইরা, কহিনুর খানম, স্বপন দত্ত প্রমুখ। আবৃত্তি করেন ড. সরওয়ার মুর্শেদ, জামিল ফোরকান, বিজাউল করিম, রেজাউল করিম প্রমুখ।

আইইবি’র ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পরিবেশ সুরক্ষার কথা মনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে 

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজের মান বজায় রেখে এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি যতœশীল থেকে উন্নয়ন পরিকল্পনসমূহ গ্রহণের জন্য তাঁদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের গুরুভার আপনাদেরই (প্রকৌশলীদের)। কাজেই আমি চাইব, আপনারা পরিবেশ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই যে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (আইইবি) আইইবি’র ৫৯তম কনভেনশনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। কনভেনশনে দেশের প্রাকৃতিক অবস্থা বিবেচনা এবং মিতব্যয়ী হয়ে সব সময় উন্নয়ন পরিকল্পনা করার জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের জলবায়ু, ভৌগলিক অবস্থান, আমাদের মাটি-পানি সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে মাটি ও মানুষের কথা ভেবে সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। ‘যেভাবে খুব মিতব্যয়ী হয়ে, চাষের জমি অপচায় না করে, স্বল্প খরচে সর্বোচ্চ উন্নতি দেশের জন্য যা করতে পারা যায়- সেই কথা সব সময় চিন্তা করতে হবে’, যোগ করেন তিনি।  আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুর সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ ও ঢাকা কেন্দ্রের সভাপতি প্রকৌশলী মো. ওয়ালিউল্লাহ সিকদার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। ঢাকা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন শিপলু ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী তিনজন প্রকৌশলীকে আইইবি স্বর্ণপদক ২০১৮তে ভূষিত করেন। স্বর্ণপদক প্রাপ্তরা হচ্ছেন- প্রকৌশলী দিপক কান্তি দাস, প্রকৌশলী মো. কবির আহমেদ ভূইয়া এবং মরহুম প্রকৌশলী মো. খিজির খান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কৃতিত্বের জন্য  শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা কেন্দ্র, শ্রেষ্ঠ উপকেন্দ্র হিসেবে পানা উপকেন্দ্র, আইবি শ্রেষ্ঠ ওভারসীজ চ্যাপ্টার হিসেবে অষ্ট্রেলিয়া এবং শ্রেষ্ঠ প্রকৌশল বিভাগ হিসেবে আইইবি’র কম্পিউটার কৌশল বিভাগকে পুরস্কৃত করেন। গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, গবেষণার মধ্যে দিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে আমাদের দেশের মাটি, মানুষ, জলবায়ু, আবহাওয়া সব কিছুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিভাবে আমরা উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের নিজেদেরই কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭০ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যখন জাতির পিতা গড়ে তুলছিলেন সেই সময় মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে তিনি আমাদেরই প্রকৌশলীবৃন্দের সহায়তায় এই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ তিনি গড়ে তোলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতায় সেই হার্ডিঞ্জ ব্রীজ, রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা থেকে শুরু করে সমগ্র বাংলাদেশ তখন একটি ধবংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু জাতির পিতার নেতৃত্বে অত্যন্ত দ্রুত তখন আমাদের প্রকৌশলীরা দেশের এই অবকাঠামোতে পুনর্গঠন করেন। আর এখনো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রকৌশলীবৃন্দ সার্বিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের অ্যাডহক ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, তাঁর সরকারের ৫ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণের ফলেই দেশ আজকে এতটা এগিয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন আজকে সমগ্র বিশ্বের কাছে দৃশ্যমান এর পেছনে যে ম্যাজিকটা সেটা জানার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের তাঁর কাছে জানতে চাওয়ায় সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখানে অন্য কোন কিছু নয় একটি রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থাকতে হয়। বিশেষ করে জনগণের কাছে করা ওয়াদা রক্ষার জন্য।’ পূর্বের চেয়ে তাঁর সরকার দেশের বাজেট প্রায় ৭ গুণ বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশের উন্নয়ন বাজেট বাস্তাবায়ন করা প্রকৌশলীদের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর সরকার গেলবারে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছে। যার মধ্যে উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। আর এই উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের প্রকৌশলীদের।’ প্রকৌশলীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বলেই তাঁর সরকারের পক্ষে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে উল্লেখ করে দেশের প্রকৌশলীদের এ সময় তিনি ধন্যবাদ জানান। প্রকৌশলীদের কল্যাণে তাঁর সরকার গৃহীত পদক্ষেপের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের এই ভবন যে জায়গাটায় সেখানকার প্রায় ১০ বিঘা জমি তাঁর সরকার ইনস্টিটিউশনকে প্রতীকী মূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে দেয়। শুধু তাই নয়, এই ভবন তৈরীর টাকাও সরকার দিয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া সরকার মেঘনা নদীর তীরে প্রকৌশলীদের স্টাফ কলেজ নির্মাণের জন্যও ৭২ বিঘা জমি প্রতীকী মূল্যে এবং সেই কলেজ নির্মাণেরও জন্যও ৪৬ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করে। ‘এছাড়াও আমরা চট্টগ্রাম, খুলনা, ফরিদপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র এবং উপকেন্দ্র নির্মাণেও সরকার অর্থ ও জমি বরাদ্দ দিয়েছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকৌশলীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সেসব অত্যন্ত মনযোগ সহকারে শুনেছেন এবং যার অনেকগুলো তিনি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করেছেন এবং অনেকগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য চিহ্নিত করে রেখেছেন। একইসঙ্গে প্রকৌশলীদের ৭টি পদ যেগুলো আগে গ্রেড ওয়ান পদ ছিলনা সেগুলোকে গ্রেড ওয়ানে উন্নীত করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর গত মন্ত্রিসভায় তিনি স্থপতি সহ প্রায় ৫ জন প্রকৌশলী মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানের প্রায় ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানে প্রকৌশলীদের রেখেছেন বলেও জানান। বিশ্বে নতুন নতুন প্রযুক্তির যে বিকাশ তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে এবং ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট সেন্টার করে স্যাটেলাইট নিয়ে দেশেই গবেষণা করা হবে যাতে করে আমরা আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট নিজেরাই উৎক্ষেপণ করতে পারি সেদিকেই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কারো কাছ থেকে পিছিয়ে থাকতে চাই না, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ তাঁর সরকার ধীরে ধীরে ই-টেন্ডারে চলে যাওয়ায় আগের মত এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে এখন বাকী আছে সেখানেও দ্রুত আমাদের ই-টেন্ডারে যেতে হবে যাতে করে দুর্নীতিমুক্তভাবে আমরা কাজ করতে পারি। উন্নতভাবে কাজ করতে পারি এবং কাজের মান যেন ঠিক থাকে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে শিল্পায়ন যেন দ্রুত হয় সেজন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প গড়ে তোলার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কৃষি জমি যাতে নষ্ট না হয়। জলাধারের যেন ক্ষতি না হয়। নদী ও খালবিল বাঁচাতে হবে। এতে পরিবেশ সুন্দর থাকে। তিনি এ সময় জলাধার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমাদের জলাধার রক্ষা করা দরকার। রাস্তা বা কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় এটি খেয়াল রাখতে হবে। ঢাকা শহরে খাল-পুকুর এখন পাওয়া যায় না। আগুন লাগলে পানি পাওয়া যায় না। চকবাজারের অগ্নিকান্ডে  জেলখানার পুকুর থেকে পানি সাপ¬াই দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।’ আমাদের ভূখন্ড খুব সীমিত এবং লোকসংখ্যা বিশাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই জনগণকে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। সাথে সাথে তাদের জীবন-মান যেন উন্নত হয় সে প্রচেষ্টাও তাঁর সরকারকে অব্যাহত রাখতে হবে। এ কারণেই তাঁর সরকার বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কারিগরি বিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি এ সময় কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এ সংক্রান্ত গবেষণার ওপরও জোর দেন। শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নতুন গবেষণার ফলে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধান, শাক-সবজি চাষ হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়েও আমরা বাইরে রফতানি করতে পারছি। এ কারণে ভবিষ্যতে আমরা কৃষিজাত শিল্পের দিকে গুরুত্ব দিতে চাই। কারণ পৃথিবী যতদিন থাকবে খাদ্যেরও ততদিন প্রয়োজন আছে। খাদ্যের চাহিদা কোনো দিন ফুরাবে না। তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেনের রাস্তার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে দ্রুতগামী রেল যোগযোগ (বুলেট ট্রেন) স্থাপন এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার অবদি সরাসরি রেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর সরকার উদ্যোগ নেবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ সময় আঞ্চলিক যোগযোগ স্থাপনের জন্য বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত নেপাল) এবং বিসিআইএন-ইসি (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর) যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। আমাদের এ অগ্রযাত্রা কেউ প্রতিহত করতে পারবে না।’ ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’

এক দশক পর করনের সিনেমায় কারিনা

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের অভিষেক পরিচালক করন জোহরের হাত ধরে না হলেও করনের অনেক জনপ্রিয় ছবির অভিনেত্রী তিনি। তবে মাঝে পড়েছিল প্রায় এক দশকের বিরতি। গেল দশ বছরেরও বেশি সময় করনের কোনো ছবিতে কারিনার কাজ করা হয়নি। অবশেষে সেই বিরতি ভাঙতে চলেছে। করনের পরিচালনায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে চলেছেন কারিনা। ছবির নাম ‘তখত’। যদিও ছবির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। তবে যেটুকু প্রকাশ পেয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে ছবিটি মুঘল আমলের প্রেক্ষাপটে তৈরি। অর্থাৎ পিরিয়ড ছবি। কারিনা কাপুর সম্প্রতি ছবিটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ছবিটি অন্যসব পিরিয়ড ছবির চেয়ে আলাদা হবে। আমি নিজে এ রকম ছবি দেখিওনি, করিওনি। ছবিতে নিজের চরিত্রকে যথাযথ করতে বর্তমানে ভাষার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কারিনা। কারিনার কথায়, আমার চরিত্রটির একটা সামাজিক ভূমিকাও আছে। খুবই জোরালো চরিত্র। করনের সঙ্গে এর আগে ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এ পুয়ের চরিত্রের জন্য দর্শক আমাকে মনে রেখেছেন। এবার ‘তখত’-এর জন্যও মনে রাখবেন আশা করি। এই মুহূর্তে অবশ্য করনের ছবি করছেন কারিনা। ছবির নাম ‘গুড নিউজ’। তবে পরিচালনা না, ছবিটি প্রযোজনা করছেন করন।

প্রকাশ হলো ন্যান্সিকন্যা রোদেলার ‘প্রজাপতি’

বিনোদন বাজার ॥ প্রকাশ হলো ন্যান্সিকন্যা মার্জিয়া বুশরা রোদেলার ‘প্রজাপ্রতি প্রজাপতি’ গানটি। বৃহস্পতিবার রাতে রোদেলার নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশিত হয়েছে গানটি। কাজী নজরুলের জনপ্রিয় এ গানটি নতুন রিমেকে সংগীতায়োজন করেছেন মীর মাসুম। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গানটি রেকডিং করে রোদেলা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি। তিনি নিজেও এ গানে হামিং দেন। গান প্রকাশিত হওয়ার পর ন্যান্সি বলেন, আমার বড় মেয়ে রোদেলা নজরুলের একটি গান করেছে। গানটি নতুনভাবে সংগীতায়োজন হয়েছে। দর্শকরা নতুনভাবে আবারও গানটি শুনতে পাবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিশুদের উপযোগী গানের অভাব। শিশুদের কথা মাথায় রেখেই গানটি করা হয়েছে। আশা করি গানটি সবার ভালো লাগবে।শিশুদের উপযোগী রোদেলার আরও বেশ কিছু গানের কাজ চলছে জানিয়ে ন্যান্সি বলেন, রোদেলার এখন ১১ বছর বয়স। তার কণ্ঠ খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়ে যাবে। এর আগেই আরও ভালো কিছু গান করতে চাই।রোদেলার নিয়মিত গানের আপডেট পেতে তার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার জন্য দর্শকদের অনুরোধ জানান ন্যান্সি।প্রথম রেকর্ডিংয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে রোদেলা বলে, এটি আমার জীবনের প্রথম রেকর্ডিং, অনেক ভয়ে ছিলাম। কি হয় না হয়। মাসুম আংকেল (সংগীত পরিচালক) আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, সাহস জুগিয়েছেন। আপনারা সবাই আমার গানটি শুনবেন, আমাকে উৎসাহিত করবেন। আশা করি গানটি সবার ভালো লাগবে। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন মায়ের মতো বড় শিল্পী হতে পারি।এদিন রোদেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ন্যান্সি বলেন, রোদেলা যে গান করে সেটি আমি কখনও টের পায়নি। তবে হঠাৎ করে দেখি, একা একা আমার গান বা অন্য কারও গান যে গানগুলো তার ভালো লাগে সেই গান রেকর্ড করে রেখে দেয়। তো কাকতালীয়ভাবে একদিন এই রেকর্ডগুলো আমার হাতে পড়ে। দেখলাম সেই ফোনে তার রেকর্ড করা অনেক গান। সে থেকেই বুঝলাম আসলে গানের প্রতি তার একটা আগ্রহ আছে। তখন আমি তার গানের প্রতি একটু মনোযোগ দিই। এর পর গান নিয়ে তার সঙ্গে বসা শুরু করলাম।ন্যান্সি বলেন, শিশুদের উদ্দেশ করে নজরুলের বিখ্যাত গান ‘প্রজাপ্রতি প্রজাপতি’ গানটি আবার নতুন রিমেকে করেছে রোদেলা। শিশুদের উপযোগী একটা গান। একটি শিশুর গান যখন আরেকটি শিশুর কণ্ঠে শুনবে, তখন কিন্তু সবার ভালো লাগবে। তো সে জন্যই মূলত গানটি করা। ন্যান্সি বলেন, রোদেলার গান বা নাচ নিয়ে আমি তাকে কখনও প্রেশার দেয়নি যেটি আমার বাবা-মা আমাকে দিয়েছে। আমাকে শিখতেই হবে, করতেই হবে। রেওয়াজ করো। তবে একটা বিষয় সত্যি যে ও যদি নিজ থেকেই গান করে তা হলে আমার ভালো লাগবে। রোদেলার কণ্ঠের মূল্যায়ন করে ন্যান্সি বলেন, এটি মূল্যায়ন করবে দর্শক। তবে আমি মনে করি রোদেলার কণ্ঠ খুব ভালো। তার মধ্যে আমার একটা ছোঁয়া আছে। রোদেলার এখন যে বয়স এই বয়সের যে টোনটা তা অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পরিবর্তন হবে। এই শিশুসুলভ কণ্ঠটি আর থাকবে না। তিনি বলেন, এই সময়টি মনে করি তার জন্য এটা পারফেক্ট টাইম। এই সময়ের মধ্যে ৮-১০টা গান তার কণ্ঠে রেকর্ড করব। যেন রোদেলার গানগুলো থেকে অন্য শিশুরা শিখতে পারে, শুনতে পারে।

 

৬৬ প্রেক্ষাগৃহে চলছে ‘প্রেম আমার-২’

বিনোদন বাজার ॥ শুক্রবার বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে পূজা অভিনীত চতুর্থ ছবি ‘প্রেম আমার-২’। ছবির সহপ্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে পাওয়া তথ্য মতে, দেশের ৬৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি। যদিও এর আগে গেল সপ্তাহে নামমাত্র একটি হলে ছবিটি মুক্তি দেয়া হয়েছিল। যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটিতে পূজার বিপরীতে অভিনয় করেছেন টালিগঞ্জের আদৃত। এর আগে ‘নুরজাহান’ ছবিতেও তারা দুজন অভিনয় করেছিলেন। সে হিসেবে এই জুটির দ্বিতীয় ছবি এটি। বিদুলা ভট্টাচার্য পরিচালিত ছবিটি ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের সুপারহিট ছবি ‘প্রেম আমার’ এর দ্বিতীয় কিস্তি। প্রথম কিস্তি পরিচালনা করেছিলেন রাজ চক্রবর্তী, আর অভিনয় করেছিলেন সোহম ও পায়েল সরকার। সিক্যুয়াল ছবিতে পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী বদলে গেলেও রাজ চক্রবর্তী সিক্যুয়ালে সহপ্রযোজক হিসেবে আছেন। ‘প্রেম আমার-২’ এর দ্বিতীয় দফায় মুক্তি উপলক্ষে গত বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে ছবির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন ছবিটির নায়িকা পূজা চেরী। সেখানে পূজা বলেন, প্রথম যখন ছবিতে শুটিং করছিলাম তখন তেমন কিছু ভাবিনি। তারপর যখন ডাবিং, পোস্টার শুটের সময় পরিচালক থেকে শুরু করে ইউনিটের সবাই প্রশংসা করছিলেন তখন বুঝতে পারি ভালো কিছু হয়েছে। সে কারণে এই ছবি নিয়ে আমার প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। এদিকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল ‘প্রেম আমার-২’। তবে ছবিটি প্রথম কিস্তির মতো সফলতা পায়নি।

জমকালো আয়োজনে সিয়ামের বিয়ে

বিনোদন বাজার ॥ জমকালো আয়োজনে বউকে ঘরে তুলছেন ‘পোড়ামন টু’ নায়ক সিয়াম আহমেদ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমক ভাবে হয়েছে তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। শুক্রবার সন্ধ্যায় হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। হঠাৎ করেই বিয়ের ঘোষণা দিয়ে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর শাম্মা রুশাফী অবন্তীর সঙ্গে আকদ সেরে ফেলেন তিনি। সিয়াম আহমেদ জানান, ‘প্রায় দেড় হাজার অতিথি থাকবেন তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে। আর অনুষ্ঠান শেষে অবন্তীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলবেন তিনি।’ তবে এখনো হানিমুনের পরিকল্পনা করেননি তারা। সিয়াম আরও বললেন, ‘ ইচ্ছে আছে হানিমুনটা দেশের বাইরেই করবো। এখন হাতে অনেক কাজ। তাই কয়েক দিন পর থেকেই শুটিং শুরু করবো। আর একটু গুছিয়ে দুজন মিলে পরিকল্পনা করব, কোথায় হানিমুনে যাওয়া যায়।

শহীদদের পরিবারের জন্য ১৫ কোটি টাকা দিলেন শাহরুখ

বিনোদন বাজার ॥ কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় ভারতের কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) ৪৬ সদস্য নিহতদের ঘটনায় ফুঁসছে পুরো দেশ। ওই হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে বিমান হামলা চালিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। এদিকে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর শহীদ সেনাদের পরিবারের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন বলিউড তারকারা। এ তালিকায় রয়েছেন সালমান খান, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমারসহ আরো অনেক তারকা। আর সর্বশেষ জানা গেল, বলিউডের আরেক তারকা কিং খান জঙ্গি হামলায় শহীদদের পরিবারের জন্য ১৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। সম্প্রতি এক টুইটে জানা যা, পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার ঘটনায় শহীদদের পরিবারের জন্য ১৫ কোটি টাকা দিয়েছেন শাহরুখ খান। কংগ্রেস নেতা সালমান নিজামি এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। বিষয়টি ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও উঠে এসেছে।

গরু মোটাতাজাকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশে কোরবানির মূল উপাদান হচ্ছে গরু। আর সেটা যদি হয় মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস তবে আনন্দের সীমা থাকে না। এ উপলক্ষকে সামনে রেখে যারা গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। এটি কখন ও কিভাবে করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় তার বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো- অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২-৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দারিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য থেকে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা।
গরু মোটাতাজাকরণের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের পশু বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাফফর হোসেন জানান-
প্রয়োজনীয় উপাদান, পদ্ধতি ও মোটাতাজাকরণের সঠিক সময়: বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৪-৬ মাসও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।
স্থান নির্বাচন ঃ খামার স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচনে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে। খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে। সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেমন- পানি, মলমূত্র, আবর্জনা ইত্যাদি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকতে হবে।
গরু নির্বাচন ঃ উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। ২-২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভালো। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সঙ্গে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভিজা ভিজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাঁজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাঁড়া সোজা হতে হবে।
বাসস্থানের গঠন ঃ গরুর বাসস্থান তৈরির জন্য খোলামেলা উঁচু জায়গায় গরুর ঘর তৈরি, একটি গরুর জন্য মাপ হতে হবে কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর ওপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। গরুর সামনের দিকে চাড়ি এবং পেছনের দিকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে ওপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়।
খাদ্য ঃ খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয় ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো-
শুকনা খড় ঃ ২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানিঃ চিটাগুড়=২০:১।
কাঁচা ঘাস ঃ প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।
দানাদার খাদ্য ঃ প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো-
গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি।
উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস বক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভুসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।
রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ঃ প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে। গোশালা ও পার্শ¦বর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বাজারজাতকরণ ঃ মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভালো মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজার মূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয় মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় গরুর মূল্য অত্যাধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময়। স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি।
কিন্তু প্রচলিত এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের তুলনায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। সুতরাং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশের কৃষকরা যদি ওই পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারে তাহলে প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় গরু আমদানি কমানো সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশ আর্থিকভাবে বিরাট সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।

এবার ক্যাটরিনার বিয়ে!

বিনোদন বাজার ॥ একের পর এক বিয়ের সানাই বেজেই চলেছে বলিউড পাড়ায়। আনুশকা-সোনমের পর সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন আলিয়া। এবার নাকি বাজবে ক্যাটরিনা কাইফের বিয়ের সানাই। বলিপাড়ায় ছড়িয়েছে ক্যাটরিনা কাইফের বিয়ের গুঞ্জন। বর্তমানে সাবেক প্রেমিক সুপাস্টার সালমান খানের সঙ্গে ‘ভারত’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আবারও তাদের পুরোনো প্রেম জোড়া লেগেছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। কিন্তু বিয়ে? সালমান খানকেই কি বিয়ে করবেন ক্যাটরিনা। কিছুদিন আগে সিনেমার সেটে বিয়ের সাজে সেজেছিলেন সালমান-ক্যাটরিনা। সেটা ছিল সিনেমার প্রয়োজনেই। কিন্তু বাস্তবে কার গলায় মালা পরাবেন ক্যাট। এর সত্যতা জানা যায়নি এখনো। তবে শোনা যাচ্ছে চলতি বছরেই নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন এই নায়িকা। এর আগে প্রেমিক রণবীর কাপুরের সাথে বিয়ের খবর প্রায় চূড়ান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ২০১৯ সালে কী কী চান? সেখানেই ক্যাট উত্তর দেন, একটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড চাই, নিজের প্রোডাকশন হাউজ চাই ও আর সিঙ্গেল থাকতে চাই না। সেই থেকে বলিউড পাড়ায় গুঞ্জন রটেছে এ বছর বিয়ে করছেন ক্যাটরিনা। এরপর থেকে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাকে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ক্যাটরিনা বলেন, ‘এ বছরের এখনো অনেকটা সময় আছে। এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে চাই না। বিয়ে যদিও হয় সেটি সবাই জানবে।’

তাইজুলকে ছাড়িয়ে বাজে রেকর্ড গড়লেন মিরাজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ হ্যামিল্টন টেস্টে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৪৯ ওভার বল করে ২৪৬ রান দিয়ে বাজে রেকর্ড গড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এক ইনিংসে অতীতে এত রান দেননি বাংলাদেশের আর কোনো বোলার। মিরাজের এই রেকর্ডের কারণে লজ্জা থেকে মুক্তি পেলেন তাইজুল ইসলাম। তিনি গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ৬৭.৩ ওভার বোলিং করে খরচ করে ২১৯ রান। টেস্টের এক ইনিংসে রান খরচে ডাবল সেঞ্চুরি করা বোলারের তালিকায় বাংলাদেশে তাইজুল-মিরাজ ছাড়া আর কেউ নেই। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই তালিকায় মিরাজ ছয়ে এবং তাইজুল আছেন ১৭তম পজিশনে। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান খরচ করে সবার ওপরে আছেন চাক ফ্লিউড স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ার এই চায়ামান ম্যান বোলার ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৭ ওভারে ২৯৮ রান খরচ করেন। ভারতের অফ স্পিনার রাজেশ চৌহান, ১৯৯৭ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৭৮ ওভারে খরচ করেন ২৭৬ রান। তাইজুলের খরুচে বোলিংয়ের ওই ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ৭১৩ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। আর চলমান হ্যামিল্টন টেস্টে মিরাজের বোলিং লাইনআপ ভেঙে চুরমার করে ৬ উইকেটে ৭১৫ রানে ইনিংস সমাপ্ত করে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসন ডাবল সেঞ্চুরি করে ইনিংস ঘোষণা করায় মুক্তি পান মিরাজ। না হয় আরও বেশি রান খরচ করতে হতো বাংলাদেশ দলের অফ স্পিনারকে। হ্যামিল্টেন টেস্টে বাংলাদেশের করা ২৩৪ রানের জবাবে এক ডাবল এবং দুই সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭১৫ রান সংগ্রহ করেছে নিউজিল্যান্ড। ৪৮১ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৭৪ রান। এখনও ৩০৭ রানে পিছিয়ে আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৩৪/১০ (তামিম ১২৬, লিটন ২৯; ওয়াগনার ৫/৪৭, সাউদি ৩/৭৬)। এবং ২য় ইনিংস: ১৭৪/৪ (তামিম ৭৪, সৌম্য ৩৯*, সাদমান ৩৭, মাহমুদউল্লাহ ১৫*)। নিউজিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭১৫/৬ (উইলিয়ামসন ২০০*, লাথাম ১৬১, রাভেল ১৩২, গ্রান্ডহোম ৭৬*, নিকোলাস ৫৩)।

মিয়ানমারকে হারিয়ে মূল পর্বে বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মনিকা চাকমার একমাত্র গোলে মিয়ানমারকে তাদের মাঠেই হারিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে উঠেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। মিয়ানমারের মানডালার থিরি স্টেডিয়ামে শুক্রবার বাছাইয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের ‘বি’ গ্র“পের ম্যাচে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপিন্সকে ১০-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। আজ রোববার শেষ ম্যাচে গ্র“প সেরা হওয়ার লড়াইয়ে চীনের মুখোমুখি হবে দল। মিয়ানমারকে হারানো চীন শুক্রবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ফিলিপিন্সকে ৭-০ গোলে হারিয়ে মূল পর্বের টিকেট নিশ্চিত করে। দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে গ্র“পে বাংলাদেশের ওপরে আছে তারা।

চতুর্দশ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডারের জন্য ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি তহুরা খাতুন। ফিলিপিন্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ডের দুর্বল শট সোজা জমে যায় গোলরক্ষকের প্লাভসে। ২৩তম মিনিটে মনিকার শট ফেরান মিয়ানমার গোলরক্ষক। গোলশূন্য প্রথমার্ধেও পর আর তেমন কোনো আক্রমণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে স্বাগতিকদের ডি-বক্সে আক্রমণ শানাতে দেয়নি আঁখি-নাজমা-আনাইয়ে সাজানো রক্ষণভাগও। ৬৩তম মিনিটে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দুর্বল শটে দলের হতাশা বাড়ান আনুচিং মোগিনি। একটু পর মিয়ানমারের আক্রমণে ফিরিয়ে দলের ত্রাতা গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। ৬৭তম মিনিটে মনিকার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে নেওয়া এই মিডফিল্ডারের কর্নার বাঁক খেয়ে লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষকের প্লাভসে ছুঁয়ে জালে জড়ায়। বাকিটা সময় এ গোল আগলে রেখে জয়ের উৎসব করে বাংলাদেশ। চীনের কাছে প্রথম ম্যাচে ৫-০ গোলে হেরেছিল মিয়ানমার। টানা দুই হারে মূল পর্বে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে তাদের। বাছাইয়ের প্রথম পর্বে ৬ গ্র“পের চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ, চীন, লাওস, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। সেরা দুই রানার্সআপ ভিয়েতনাম ও ফিলিপিন্স। তবে থাইল্যান্ড স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি মূল পর্ব খেলবে বলে তাদের বদলে ওই গ্র“প থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ মিলেছে ইরানের। এএফসির এবারের নিয়ম অনুযায়ী এই আট দল নিয়ে দুই গ্রুপে হচ্ছে দ্বিতীয় রাউন্ড। দুই গ্র“পের থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল যাবে থাইল্যান্ডে মূল পর্বে।

রিয়ালের বিপক্ষে মেসির কাছে আরও চান বার্সা কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কোপা দেল রে সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে নিজের নামের প্রতি তেমন একটা সুবিচার করতে পারেননি লিওনেল মেসি। চির প্রতিদ্বন্দীদের বিপক্ষে এবার হতে যাওয়া লিগ ম্যাচে তাই দলের সেরা খেলোয়াড়ের কাছে বেশি প্রত্যাশা করছেন বার্সেলোনা কোচ এরনেস্তো ভালভেরদে। গত বুধবার রিয়ালের মাঠে ম্যাচ জুড়ে বিবর্ণ ছিলেন ক্লাসিকোয় রেকর্ড গোলদাতা মেসি। পাশাপাশি সুযোগ তৈরির দিক থেকে স্বাগতিকদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল বার্সেলোনা। তবে লুইস সুয়ারেসের জোড়া গোলে ম্যাচটি ৩-০ ব্যবধানে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১এ এগিয়ে ফাইনালে ওঠে কাতালান ক্লাবটি। ফেব্র“য়ারিতে কিছুটা ফিটনেস সমস্যায় থাকা মেসি গত সপ্তাহে লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি সতীর্থের অপর গোলেও অবদান রাখেন। চার দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ক্লাসিকোর আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ভালভেরদে বলেন, “আমার মনে হয়, সে ভালো অবস্থায় আছে, খুব ভালো অবস্থায়। আপনি সবসময় আপনার খেলোয়াড়দের কাছে অনেক চাইবেন, মেসিসহ। সে সবসময় পারফর্ম করে, যদিও সে কিছু ম্যাচে অন্যদের চেয়ে কিছুটা কম ভালো খেলে।” স্প্যানিশ কাপে শেষ চারের ফিরতি লেগে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন ভালভেরদে। ওই ম্যাচে গোলের উদ্দেশে রিয়ালের ১৪ শটের বিপরীতে বার্সেলোনা নিয়েছিল মাত্র চারটি। “এটা সত্যি যে ওই ম্যাচে কিছু সময় ছিল যখন আমরা ভালো খেলিনি। তারা বারবার আমাদের সীমানায় উঠে আসছিল এবং বিপজ্জনক মনে হচ্ছিল। আমরা মাত্র দুই-তিনটা সুযোগ তৈরি করেছিলাম। লক্ষ্য হলো উন্নতি করা এবং অনেক সুযোগ তৈরি করা।” সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে দুইটায় শুরু হবে রিয়াল-বার্সা ম্যাচ। ২৫ ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫৭। ৭ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। তিন নম্বরে থাকা রিয়ালের পয়েন্ট ৪৮।

এপ্রিলেই অর্জুন-মালাইকার বিয়ে!

বিনোদন বাজার ॥ সালমান খানের ভাই আরবাজ খানের সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন মালাইকা অরোরা। কিন্তু নানা দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালে ডিভোর্স হয়ে গেছে এই দুই তারকার। সাবেক স্বামী আরবাজ খানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পরেই মালাইকা অরোরা এবং অর্জুন কাপুরের সম্পর্ক সামনে আসে। বলিউডের মোস্ট আলেজেড কাপলদের মধ্যে আপাতত শিরোনামে আছেন তারা।

শোনা যাচ্ছে, আগামী এপ্রিল মাসেই বিয়ে করতে যাচ্ছেন তারা। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম বলছে, ‘মালাইকা ও অর্জুন এপ্রিলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খ্রিস্টান ধর্ম মতে নাকি বিয়ে করবেন তারা। গেল বছর ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের সময় অর্জুন-মালাইকার প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয় । ফ্যাশন শোতে দুজনকে পাশাপাশি দেখা যায়। পরে মালাইকার জন্মদিনে মিলানেও হাজির হন অর্জুন। মুম্বাইয়ে ফেরার সময় মিলান বিমানবন্দরে এ জুটিকে হাত ধরা অবস্থায় দেখা গেলে তাদের প্রেমের গুঞ্জন বাড়ে। এখানেই শেষ নয়, আবু জানি ও সন্দীপ কোসলার দীপাবলীর পার্টিতেও একসঙ্গে গিয়েছিলেন তারা। সঞ্জয় কাপুরের স্ত্রী মাহীপ কাপুরের পার্টির একটি ছবিতেও অর্জুন-মালাইকাকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করন’ টক শোয়ের সেরা এন্টারটেইনারকে তা নির্বাচনের জন্য কিরণ খের, মালাইকা আরোরা, বীর দাশ ও কমেডিয়ান মল্লিকা দুয়াকে একটি পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন করন জোহর। এ পর্বের একটি প্রোমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রোমোতে দেখা যায়-করন জোহর জুরিদের কাছে এ সিজনের সেরা পারফর্মারের (পুরুষ) নাম জানতে চাইছেন। জবাবে কিরন খের অর্জুন কাপুরের নাম বলেন। তখন পাশ থেকে মালাইকা বলেন, ‘আমি অর্জুনকে পছন্দ করি, সেটা এভাবে হোক অথবা অন্যভাবে।’ করন জোহরের ‘কফি উইথ করন’ টক শোতে হাজির হয়েছিলেন অর্জুন। সঙ্গে ছিল তার বোন জানভি কাপুর। এক পর্যায়ে অর্জুনকে সঞ্চালক করন জিজ্ঞেস করেন, তিনি বর্তমানে সিঙ্গেল কিনা? জবাবে ইশকজাদে অভিনেতা বলেন, ‘না, আমি সিঙ্গেল নই।’ বিয়ের জন্য প্রস্তুত কিনা, জানতে চাইলে অর্জুন বলেন, ‘হ্যাঁ, আগে ছিলাম না। এখন প্রস্তুত।’

উইলিয়ামসনের ডাবল-সেঞ্চুরিতে ইনিংস হারের শংকায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ডাবল ও দুই ওপেনার জিত রাভাল ও টম লাথামের জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যামিল্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৭১৫ রানের পাহাড় গড়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামন অপরাজিত ২০০, লাথাম ১৬১ ও রাভাল ১৩২ রান করেন। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৩৪ রানে অলআউট হয়। ফলে প্রথম ইনিংস থেকে ৪৮১ রানের লিড পায় নিউজিল্যান্ড। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান করেছে বাংলাদেশ। ইনিংস হার এড়াতে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ৩০৭ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। জিত রাভালের ১৩২, টম লাথামের ১৬১ ও অধিনায়ক উইলিয়ামসনের অপরাজিত ৯৩ রানের কল্যাণে নিজেদের প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ৪৫১ রান করে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় দিন নিল ওয়াগনারকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন উইলিয়ামসন। দিনের শুরুতেই ৭১ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে ২০তম সেঞ্চুরি তুলে নেন কিউই অধিনায়ক। সেঞ্চুরির পর দলের সংগ্রহ বাড়ানোর সাথে সাথে নিজের রানকেও বড় করতে থাকেন উইলিয়ামসন। তাকে ভালোই সঙ্গ দেন ওয়াগনার। বেশ মারমুখী মেজাজে দ্রুত রান তোলার কাজটি করছিলেন তিনি। ওয়াগনারকে স্ট্রাইক দেয়ার কাজটা সহজেই করছিলেন উইলিয়ামসনও। তবে হাফ-সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে থাকতে ওয়াগনারকে বিদায় দেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের পেসার এবাদত হোসেন। ৬টি চার ও ৩টি চারে ৩৫ বলে ৪৭ রান করে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামেন ওয়াগনার। উইলিয়ামসনের সাথে ৬০ রানের জুটির মধ্যে ওয়াগনারেরই ছিলো ৪৭ রান। এরপর উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিং জুটি বাঁধেন উইলিয়ামসনের সাথে। এই জুটিতে রান তোলায় পারদর্শীতা দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। ৬২ রান করেন তিনি। তবে ৩১ রানে থেমে যান ওয়াটলিং। বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হবার হন তিনি। এই জুটি যোগ করেন ৯৬ রান। ওয়াটলিং-এর বিদায়ে ক্রিজে উইলিয়ামসনের সঙ্গী হন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। নিজের ইনিংসের শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজ ধারণ করা গ্র্যান্ডহোম ৩৮তম বলেই হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে বলের সাথে পাপ্লা দিয়ে রান তুলছিলেন উইলিয়ামসন। ১৬৩তম ওভারের শেষ বলে চার মেরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল-সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেন উইলিয়ামসন। তার প্রথম ডাবল-সেঞ্চুরিটি ছিলো ২০১৫ সালে। ওয়েলিংটনে শ্রীলংকার বিপক্ষে অপরাজিত ২৪২ রান করেছিলেন উইলিয়ামসন। নিজের ডাবল-সেঞ্চুরির পরই ৬ উইকেটে ৭১৫ রানে ইনিংস ঘোষনা করেন উইলিয়ামসন। এই প্রথমবারের মত সাতশ রানের কোটা স্পর্শ করে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহে রেকর্ড গড়লো নিউজিল্যান্ড। বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে করে উইকেট নিয়েছেন সৌম্য সরকার ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪৯ ওভার বল করে ২৪৬ রান খরচ করেন মিরাজ। এছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন এবাদত ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৪৮১ রানের লিড নিয়ে চা-বিরতির আগে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষনা করে নিউজিল্যান্ড। ফলে রানের পাহাড়ে পিষ্ট হয়ে নিজেদের দ্বিতীয় শুরু করতে হয় বাংলাদেশকে। এবারও শুরুটা ভালো ছিলো বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলামের। প্রথম ইনিংসে ৫৭ রানের জুটি গড়া তামিম-সাদমান জুটি এবার করেন ৮৮ রান। তামিম-সাদমান জুটিতে ভাঙ্গন ধরান নিউজিল্যান্ডের পেসার ওয়াগনার। ৩৭ রান করা সাদমানকে শিকার করেন প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া ওয়াগনার। ৫টি চারে ৭১ বলে ৩৭ রান করেন সাদমান। সাদমান ফিরে যাবার আগেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৬তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন প্রথম ইনিংসে ১২৬ রান করা তামিম। সাদমানের ফিরে যাবার পর ক্রিজে গিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা প্রদর্শন করেছেন মোমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিথুন। মোমিনুল ৮ ও মিথুন ০ রান করে আউট হন। এরপর মনসংযোগ হারিয়ে ফেলা তামিম আউট হন ৭৪ রানে । ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৬ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি। তামিম যখন ফিরেন তখন দলের স্কোর ৪ উইকেটে ১২৬ রান। তবে দিনের শেষভাগে আর কোন বিপদ হতে দেননি সৌম্য ও মাহমুদুল্লাহ। অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানের জুটি গড়েন তারা। সৌম্য ৩৯ ও মাহমুদুল্লাহ ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট ৫৩ রানে ২ উইকট নেন। এরপর উইকে- স্কোর কার্ড (তৃতীয় দিন শেষে) :

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৩৪/১০ ৫৯.২ ওভার (তামিম ১২৬, লিটন ২৯, সাদমান ২৪, ওয়াগনার ৫/৪৭)।

নিউজিল্যান্ড ইনিংস প্রথম ইনিংস (আগের দিন) ৪৫১/৪, ১১৮ ওভার, উইলিয়ামসন ৯৩*, ওয়াগনার ১* :

জিত রাভাল ক খালেদ ব মাহমুদুল্লাহ ১৩২

টম লাথাম ক মিথুন ব সৌম্য ১৬১

কেন উইলিয়ামসন অপরাজিত ২০০

রস টেইলর এলবিডব¬ু ব সৌম্য ৪

হেনরি নিকোলস বোল্ড ব মিরাজ ৫৩

নিল ওয়াগনার ক লিটন ব এবাদত ৪৭

বিজে ওয়াটলিং ক লিটন ব মিরাজ ৩১

কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম অপরাজিত ৭৬

অতিরিক্ত (লে বা- ৭, নো-২, ও-২) ১১

মোট (৬ উইকেট, ডি., ১৬৩ ওভার) ৭১৫

উইকেট পতন : ১/২৫৪ (রাভাল), ২/৩৩৩ (লাথাম), ৩/৩৪৯ (টেইলর), ৪/৪৪৯ (নিকোলস, ৫/৫০৯ (ওয়াগনার), ৬/৬০৫ (ওয়াটলিং)।

বাংলাদেশ বোলিং :

জায়েদ : ৩০-৫-১০৩-০,

এবাদত : ২৭-৪-১০৭-১ (ও-১, নো-১),

খালেদ : ৩০-৬-১৪৯-০ (নো-১),

সৌম্য : ২১-১-৬৮-১ (ও-১),

মিরাজ : ৪৯-২-২৪৬-২,

মাহমুদুল্লাহ : ১-০-৩-১,

মোমিনুল : ৫-০-৩২-০।