গাংনীর মাথাভাঙ্গা নদী খনন কাজের উদ্বোধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি মাথাভাঙ্গা মরানদী (অংশ-১) পূণঃ খনন কাজের   উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে  উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গাংনী উপজেলা  মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের  কোদাইলকাটি মাথাভাঙ্গা মরানদীর পাড়ে মাটি কেটে খনন কাজের  উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে খনন কাজের  উদ্বোধন করেন,মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য,   সাহিদুজ্জামান খোকন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন,মেহেরপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দীন ইয়াহিয়া, গাংনী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোকশানা খাইরুন নেছা, মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ,  গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান,  গাংনী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক আবুল বাসার,আ.লীগের বিশিষ্ট নেতা মনিরুজ্জামান আতু, মটমুড়া ইউপি আ.লীগের সভাপতি আবুল হাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারীসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। শুরুতে খনন কাজের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনের ফলক উন্মোচন করা হয়। পরে মাটি কাটার মাধ্যমে খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

 

 

ওয়াকার্স পার্টির মেহেরপুর জেলা শাখা আয়োজিত কর্মীসভা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে উপজেলা পরিষদকে একটি স্বাধীন উন্নয়ন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন ছাড়া কোনো ভাবে একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। গতকাল শনিবার সকালে ওয়াকার্স পার্টির মেহেরপুর জেলা শাখা আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে কথাগুলো বলেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড নুর আহমেদ বকুল। মেহেরপুরের গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামে জেলা ওয়াকার্স পার্টি কর্মীসভার আয়োজন করে। ওয়াকার্র্স পার্টির পক্ষে গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রাার্থী জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল মাবুদ ও গাংনী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান পদ প্রার্থী রেকছোনা খাতুনকে বিজয়ী করতে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন,জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল মাবুদ। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন,জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য কমরেড মজনুল হক মজনু,কমরেড হাশেম আলী প্রমুখ। এ সময় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে

কুমারখালীতে স্বাধীনতা কাপ ভলিবল টুর্ণামেন্ট’র বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥  বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্বাধীনতা কাপ ভলিবল টুর্ণামেন্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে এই টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ভলিবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ও টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী ঘোষনা করেন, কুষ্টিয়া- ৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান, পৌর সভার মেয়র মো: সামছুজ্জামান অরুণ, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মুহাম্মদ নুর- এ আলম, অফিসার ইনচার্জ এ, কে, এম মিজানুর রহমান। এ সময় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন, উপজেলা কৃষি অফিসার দেবাশীষ কুমার দাস, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: ওমর ফারুক, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী, শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: সালাহ্ উদ্দিন খান তারেক, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নওশের আলী বিশ্বাস, চরসাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: তোফাজ্জেল হোসেন, জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ফারুক আহমেদ খান, সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল মজিদ, পৌর সভার প্যানেল মেয়র এস, এম রফিকুল ইসলাম রফিক সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বেলুন উড়িয়ে এই টুর্ণামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, সংসদ সদস্য সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে অতিথিবৃন্দ খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন।

টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় কয়া ইউপি-পান্টি ইউপি, যদুবয়রা ইউপি-চরসাদিপুর ইউপি, সদকী ইউপি-নন্দলালপুর ইউপি, চাপড়া ইউপি- শিলাইদহ ইউপি, জগন্নাথপুর ইউপি-বাগুলাট ইউপি, এবং কুমারখালী পৌরসভা- চাঁদপুর ইউপি ভলি দল অংশগ্রহণ করে। আজ রবিবার দ্বিতীয় রাউন্ডের বিজয়ী তিন দলের অংশগ্রহণ করবে। এদের মধ্যে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ দু’টি দল ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করবে।

টুর্ণামেন্ট পরিচালনা করেন, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক মিলন হোসেন, আরজু এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক রেজাউর রহমান।

বিশ্বব্যাংক নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ১৮৫ মিলিয়ন ডলার দেবে

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা ৩১০ মেগাওয়াট যোগ করতে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে ১৮৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তায় অনুমোদন দিয়েছে। এই উদ্যোগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ফেনী জেলায় প্রথম পর্যায়ে ৫০ মেগাওয়াটের বড় ধরনের সৌর জ্বালানি প্যানেল পার্ক নির্মিত হবে। বর্তমানে সরবরাহ গ্রীডে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত হয়। এ প্রকল্পে জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহারের ফলে তা স্বচ্ছ বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন বায়ুমন্ডলের সহায়ক হবে। যা বছরে ৩৭৭০০০ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করবে। বিশ্বব্যাকের বাংলাদেশ ও ভুটানের অ্যাকটিং কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান্ডান চেন বলেন, বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানকার ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সফল অফ-গ্রীড নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি। এর মাধ্যমে জনসংখ্যার ১০ শতাংশের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন সম্প্রসারণের সহায়তা করবে।

এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে সহযোগিতাও জোরদার হবে।

 

ঢাকা উত্তরকে আলোকিত নগরী করার অঙ্গীকার নতুন মেয়রের

ঢাকা অফিস ॥ আগামী এক বছরে ঢাকা উত্তরকে আলোকিত নগরে পরিণত করার অঙ্গীকার জানিয়ে ১০ টি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের কথা তুলে ধরলেন সদ্য নির্বাচিত মেয়র। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সদ্যনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় ঢাকা উত্তরের উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সফল করতে ১০ টি লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উত্তর ঢাকার উন্নয়নে কাজ করতে যে দশটি লক্ষ্য তুলে ধরেন সদ্য নির্বাচিত মেয়র তা হলো-পরিবেশ দূষণ রোধ করা, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নগর অ্যাপকে সক্রিয় করা। এছাড়া কর ও লেনদেন ডিজিটালাইজড ও অটোমেটেড করা, উত্তর ঢাকায় বৃক্ষ রোপন, নগর বনায়ন, নগর কৃষির বিস্তার ও বিকাশের লক্ষ্যেও  কাজ করতে চান তিনি।  কালেক্টিভ পদ্ধতিতে মশা নিধনে ক্রাস প্রোগ্রাম নেওয়া, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও নতুন যুক্ত এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাও আছে এসব লক্ষ্যের মধ্যে। আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ রোধ করা, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নগর অ্যাপকে সক্রিয় করতে চাই। এছাড়া কর ও লেনদেন ডিজিটালাইজড ও অটোমেটেড করতেও চাই।আমাদের একটাই চাওয়া- সুস্থ ও আধুনিক ঢাকা। আর এই চাওয়া পূরণের যাত্রায় দরকার সম্মিলিত অংশগ্রহণ।’ আগামী একবছরের কর্ম-পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে হাতে হাত রেখে কাজ করতে চাই।’ এ সময় উত্তরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ‘সবাই মিলে সবার ঢাকা’- গড়ে তুলতে তার অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা শুধু আমার শহর নয়। এ শহর আপনার-আমার সবার। আমাদের সামান্য সচেতনতা আর একটু সহযোগিতায় কেবল এগিয়ে নিতে পারে এই নগরীকে। তাহলে আমরা আমাদের অতি কাঙ্ক্ষিত আধুনিক গতিময় ও প্রগতিশীল ঢাকা গড়ে তুলতে পারব।’ ‘তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এটি আপনার বা আমার না। আমরা সবাই মিলে প্রাণের ঢাকার জন্য কাজ করব।’ আগামী একবছরে ঢাকা উত্তরকে আলোকিত নগরে পরিণত করার উদ্যোগের বিষয়েও জানান সদ্য নির্বাচিত মেয়র। বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ রোধ করা, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নগর অ্যাপকে সক্রিয় করতে চাই। এছাড়া কর ও লেনদেন ডিজিটালাইজড ও অটোমেটেড করতেও চাই।’ উত্তর ঢাকায় বৃক্ষ রোপন, নগর বনায়ন, নগর কৃষির বিস্তার ও বিকাশে নজর থাকবে বলেও জানান তিনি। প্রতি মহল্লায় উন্মুক্ত পার্ক ও খেলার মাঠ গড়ে তোলার মাধ্যমে সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা হবে বলেও অঙ্গীকার করেন আতিকুল। কালেক্টিভ পদ্ধতিতে মশা নিধনে ক্রাস প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। এ কাজে সেনানিবাস, বসুন্ধরা আবাসিক, বিমানবন্দর, ডিএমপি ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয় আনার চেষ্টা থাকবে। স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি হিসেবে ঢাকা উত্তরের উন্নয়নকে তিন ভাগে ভাগ করার কথাও জানালেন দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন মেয়র। নগরীর দখলে থাকা ফুটপাত বাসিন্দাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্র“তি জানিয়ে আতিকুল বলেন, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। নতুন যুক্ত এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাও করা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের শুরু করা নগর উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্র“তি ধরে রাখব।’ আগামী বর্ষায় ঢাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে প্লাস্টিকের বোতল ও আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গার ফেলতে নগরবাসীর প্রতি  আহ্বানও জানান আতিকুল ইসলাম।

হালসা বাজারের দিন ব্যাপী গণ সংযোগ করেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী, উপজেলা যুব লীগের সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার দিন ব্যাপী হালসা বাজার ও পোড়াদহ ইউনিয়নে দলীয় নেতা কর্মী নিয়ে গন সংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। হালসা বাজারে আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি রাকিব আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক মুকেশ মেম্বরকে সাথে নিয়ে হালসা বাজারের প্রতিটি দোকান-পাট, কাচা বাজার, মিলচাতাল ও হাটের দিন সর্বস্তরের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ভাইস চেয়ারম্যান পদের ভোট প্রার্থনা করেন। হালসা বাজারের সকল পর্যায়ে ব্যাবসায়ী সাধারন মানুষের নিকট যুব লীগের সভাপতি, মিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম ব্যাপক সাড়া পায়। আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারী টুটুল ও সাধারন সম্পাদক মিলন চৌধুরি ও হালসা বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাসান আলী, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি বিজয় কুমার ঘোষ, ভেদামাড়ী পাঁচবাড়ীয়া আলেম মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, আমবাড়ীয়া ইউনিয় যুব লীগের সাবেক আহবায়ক ডা:রাশেদুজ্জামান পলাশসহ সকল মানুষের সাথ কুশল বিনিময় করেন। জেলা ছাত্র লীগের নেতা আনিছুর রহমান যুব লীগের নেতা আব্দুল মোমিন, রাশেদ আহমেদ, বঙ্গ বন্ধু কল্যাণ লীগের নেতা ডা:আল আমিন সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বেতন বাড়ার সম্ভাবনা সরকারি চাকরিজীবীদের

ঢাকা অফিস ॥ চলতি বছরেই ফের বাড়তে পারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের। তবে এবার বেতন স্কেলের কোনো সামগ্রিক পরিবর্তন হবে না। এর পরিবর্তে বিদ্যমান স্কেলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানো হতে পারে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের জন্য এই বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবনাটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রস্তাবনাটি কার্যকর করার জন্য মন্ত্রীসভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাব অনুমোদন করলে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত এই বেতন পাবেন দেশে ১৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি। উল্লেখ, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় তাদের বেতন বেড়েছিল সর্বনিম্ন ৯১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০১ শতাংশ পর্যন্ত। মূল বেতনের পাশাপাশি আবাসান,চিকিৎসা ও উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়েছিল।তবে বর্ধিত ভাতা কার্যকর হয় ২০১৬ সালের ১ জুলাই। বর্তমান বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৮ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।

 

৭ মার্চ শপথ নিতে যাচ্ছেন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির

ঢাকা অফিস ॥ দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মুকাব্বির খান। আগামী ৭ মার্চ শপথ নিতে চান জানিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে তারা জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বলে সুলতান মনসুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কামাল হোসেনের গণফোরামে যোগ দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন সুলতান মনসুর। আর মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে বিজয়ী হন। কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে গত ৩০ ডিসেম্বরের এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পায় বিএনপি। নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে তারা। দলটির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঐক্যফ্রন্ট নেতা কামাল হোসেন শুরুতে তার দলের দুই নেতার শপথের বিষয়টিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখলেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সুর বদলায়। ৩১ জানুয়ারি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কামাল হোসেন বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত উনাদের (দুইজনকে) স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে, এটা (শপথগ্রহণ) করবেন না।” দলের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান মনসুর শনিবার রাতে বলেন, “বাদ দেন তো দলের কথা। যারা ভোট দিয়ে আমাদের জয়ী করেছেন, তাদের প্রাধান্য দেন।”

 গাংনীর জুগিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মাদকের চেয়েও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এ্যানডুয়েড মোবাইলফোন বেশী ক্ষতিকর। তাই এতো ছোটকালে মোবাইলফোন থেকে বিরত থাকতে হবে। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের জুগিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবীন বরণ- অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রদানকালে কথাগুলো বলেন,মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের  জাতীয় সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা সাহিদুজ্জামান খোকন। তিনি শিক্ষার্থী অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শ্রদ্ধেয় মা -বোনেরা আপনারা ছেলেমেয়েদের হাতে দয়া করে এখনই মোবাইলফোন তুলে দেবেন না। আমি প্রতিশ্র“তি দিতে চাই। এই বিদ্যালয়ে মানসম্মত লেখাপড়া হলে আমি অবকাঠামো নির্মাণসহ সব রকমের উন্নয়ন পর্যায়ক্রমে করবো। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও বলেন, জুগিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমের নিবীড় তত্বাবধানে সুদক্ষ পরিচালনা ও দিক নির্দেশনায় আধুনিক মানের বিদ্যাপীঠ হিসাবে ইতোমধ্যেই শিক্ষা অফিসের নজর কেড়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষক মন্ডলীদের আন্তরিকতায় একটি সুন্দর ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে এই বিদ্যালয়টি তার প্রমাণ। এই বিদ্যালয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করে প্রধান শিক্ষক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সংসদ সদস্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরো বলেন,তোমরা ভালোভাবে লেখা-পড়া শিখে,প্রকৃত মানুষ  হয়ে উঠলেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব। একপর্যায়ে তিনি বিদ্যালয়ের ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী  শিক্ষা বোর্ড থেকে বৃত্তি লাভ করায় সাথী খাতুনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। গতকাল শনিবার জুগিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি  হায়দার আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাসার, গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হিজলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান,ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান যথাক্রমে সরোয়ার হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক,ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাফর আলী,গাংনী উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান ও গাংনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলী আজগর প্রমুখ। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালামের সঞ্চালনায়- এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক আবুল বাসার ,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জামান লুইস,জুগিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নিজাম উদ্দীন, জুগিন্দা দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ও প্রবীণ শিক্ষক হাজী সরোয়ার হোসেন,স্থানীয় সমাজ সেবক গোলাম কাউছার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিদ্যালয়ের গুণগত-মানসম্মত শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াতের লক্ষ্যে রাস্তা এবং অবকাঠামো নির্মাণের দাবি তুলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,জুগিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের রজনী গন্ধার ষ্টিক ও  ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে বরণ করা হয়। এর আগে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেয়। এসময় সুসজ্জিত দলে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা বিষয়ক নানা ডিসপ্লে প্রদর্শন করে প্রধান অতিথি ও উপস্থিত অভিভাবক দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নেয়। অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে বিকেলে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালামের উপস্থাপনায়- নাচ, গান, কৌতুক পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের  ছাত্র-ছাত্রীরা।

উপজেলা নির্বাচনে ভোট উৎসবের মধ্য দিয়ে বিএনপির চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে যাবে – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বিএনপি একের পর এক নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তবে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট উৎসবের মধ্য দিয়ে তাদের সব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে যাবে।’ উপজেলার ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে কঠোর থাকার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গমাতা পরিষদ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি ট্রাস্টের সাবেক ট্রেজারার প্রয়াত এ এম রফিকের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জনগণকে বিএনপি ভয় পায়। এ কারণ ভোট বর্জন করে জনগণ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। তবে তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই।’ ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে এসে জনগণের কথা বলার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘ভোট ছাড়া দেশ চলতে পারে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ কখনোই ভোট বর্জনের সংস্কতিতে বিশ্বাস করে না। শত প্রতিকূলতা ও বাধার মুখেও আওয়ামী লীগ অধিকাংশ ভোটে অংশগ্রহণ করেছিল।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের নেত্রীকে জেলে রেখে প্রেস ব্রিফিং ও চক্রান্তকারী দলে পরিণত হয়েছে।’ মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘পচাত্তরের ১৫ আগস্টের স্মৃতি সবার পীড়া দেয়। এখন অগ্নিঝরা মার্চ মাস, স্বাধীনতার মাস। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সূচনার মাস।আওয়ামী লীগ লড়াই-সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছিল।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গ্রামাঞ্চলে উৎসব শুরু হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে বলবো, নির্বাচন উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কঠোরভাবে মনিটরিং করুন। আপনারা নিরপেক্ষ থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর দেখতে চান।’ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র এক সঙ্গে চলছে। তবে গণতন্ত্র-উন্নয়ন ধ্বংস করতে বিএনপি উঠেপড়ে লেগেছে।’ নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক রাজনীতির ধারায় না আসলে বিএনপি ক্রমন্বয়ে রাজনীতি থেকে মুছে যাবে।’ সাংবাদিক এম আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা এমএ করিম, বঙ্গবন্ধু একাডেমির মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজি, নজরুল ইসলাম খানসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

কাশ্মিরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ সদস্য নিহত

ঢাকা অফিস ॥ পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের কুপওয়ারা জেলায় ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে’ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১ মার্চ) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলাকালে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এতে আরও প্রায় ৮ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কুপওয়ারা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিশেষায়িত বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও পুলিশ মিলে একটি এলাকায় যৌথ অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় সিআরপিএফের এক পরিদর্শক, এক জওয়ান এবং দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও ৮ জন। একইদিন সকালে কাশ্মিরেই আরেকটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানায় নিরাপত্তা বাহিনী। উত্তপ্ত কাশ্মিরে গত ১৪ ফেব্র“য়ারি বিকেলে সিআরপিএফের গাড়িবহরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ৪৪ জওয়ান নিহত হন। জঙ্গিদের মদত দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদকে অভিযুক্ত করে এর মোক্ষম জবাব দিতে গত ২৬ ফেব্র“য়ারি ভোরের দিকে পাকিস্তানের বালাকোট শহরে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের আস্তানায় হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এর একদিন পরই বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের দু’টি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ও পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে আটক করে পাকিস্তান। এরপর ভারত তাদের পাইলটকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত দেশটির উপ-হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠায়। এর মাঝেই বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্র“য়ারি) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা দেন, ‘শান্তির স্বার্থে’ শুক্রবার অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়া হবে। তার ঘোষণা অনুযায়ী এখন সীমান্তে অভিনন্দনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আলমডাঙ্গায় সাহিত্য পাতার পাঠক কল্যান পরিষদের সভা অনুষ্টিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা বদ্ধভুমি সংলগ্ন সাহিত্য কল্যান পরিষদের অফিস কক্ষে স্হানীয় পত্রিকার সাহিত্য পাতার পাঠক কল্যান পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টার দিকে সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ওমর আলী মাষ্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সহ- সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃআব্দুল কাদের, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু,সাধারন সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম,যশোর ঝিকর গাছা কাদা মাটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কবি সাইফুল ইসলাম।কবি গোলাম রহমান চৌধুরির উপস্হাপনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গল্পকার পিন্টু রহমান,সাবেক শিক্ষক শিব প্রসাদ সাহা,কবি হাবিবুর রহমান মজুমদার,ডাঃকামাল হোসেন,কবি মিনু রহমান,আসিফ ইকবাল,সোহাগ সুলতান,আব্দুল্লাহ আল মামুন,মৃদুল হোসেন,আব্দুর রশিদ মেম্বার,প্রমুখ।শুধু লিখলেই হবে না,প্রকাশ করতে হবে,শিরোনামে আলচনায় প্রধান অতিথি সহ আলোচক বৃন্দ বলেন, আমরা স্হানীয় পত্রিকায় সাহিত্য পাতায় লেখালেখি করে থাকি,কারো লেখা প্রকাশ পায়,কারো পায় না,এতে মন খারাপের কিছু নেই,লিখতে হবে।লিখতে হবে,এবং পড়তে হবে।ভাল ভাল লেখকের লেখা বই পড়লে জ্ঞান সম্মৃদ্ধ হবে।চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক চুয়াডাঙ্গা,দৈনিক সময়ের সমীকরন,দৈনিক মাথা ভাঙ্গা পত্রিকায় প্রতি সপ্তাহে একদিন,কোন পত্রিকায় দুই দিন সাহিত্য পাতা থাকে।আপনারা লেখা পাঠান এবং পত্রিকা পড়ুন।

গণতন্ত্র হাইজ্যাককারীদের নিয়ে কামাল হোসেন গণতন্ত্রের কথা বলছেন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘গণতন্ত্র হাইজ্যাককারী ও অগ্নিসন্ত্রাসীদের দল বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ড. কামাল হোসেন গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলছেন, যা অত্যন্ত হাস্যকর ও জনগণের সঙ্গে ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। যে দলের প্রতিষ্ঠাতা বন্দুক উঁচিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল, যে দলে ক্ষমতায় আসার জন্য জনগণের ওপরে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে সে দলের সঙ্গে জোট করে মুখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে জাতির সঙ্গে মশকরা করা।’ গতকাল সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের নতুন ঘোষিত কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ’৩০ ডিসেম্বরের আগে জনগণের হাতে ক্ষমতা ছিল ৩০ ডিসেম্বরের পরে ক্ষমতা ছিনতাই হয়েছে- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সভাপতি ড. কামাল হোসেন তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, দেশের ক্ষমতা জনগণের হাতেই আছে। কারণ ৩০ ডিসেম্বরের আগে যেহেতু শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয় দেশের ক্ষমতা আগেও জনগণের হাতে ছিল, এখনো আছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে শেখ হাসিনার হাতে আবারো দেশ পরিচালনার ভার তুলে দিয়েছেন।’ বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করে কষে চপেটাঘাত করেছিল। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এলে আবারো জনগণের চপেটাঘাত খেতে হবে এ ভয়েই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিশ্বের যে কোন স্থানীয় উপ-নির্বাচনের মানদন্ডে অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে এমন মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনদিনের সরকারি ছুটি, বৈরী আবহাওয়া ও নির্বাচনে কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার পরেও যে ৩১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে তা অত্যন্ত সন্তোষজনক।’ ড. হাছান মাহমুদ তার বক্তব্যের শুরুতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিরোধীদলে থাকাকালীন সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম, ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের দ্বারা প্রত্যাখাত হয়ে বিএনপি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টেসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত। এসব অপপ্রচার মোকাবিলায় সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাই।’ সর্ব-ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানের সঞ্চাচলনায় এবং সভাপতি এম. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, বেলজিয়াম, জার্মানিসহ প্রভৃতি দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীবৃন্দ।

মিরপুরে কামারুল আরেফিনের পক্ষে তাঁতী লীগের নির্বাচনী শো-ডাউন

হাবিবুর রহমান ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের পক্ষে নির্বাচনী মোটরসাইকেল শো-ডাউন করেছে উপজেলা তাঁতী লীগ। গতকাল শনিবার বিকেলে মিরপুর পৌর এলাকা থেকে মোটরসাইকেল শো-ডাউন করে উপজেলার বারুইপাড়া, চিথলিয়া, বহলবাড়ীয়া, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন প্রদক্ষিণ শেষে আমলা বাজারে শেষ হয়। উপজেলা তাঁতী লীগের আহবায়ক ওয়াকিবুল ইসলাম লিপসনের নেতৃত্বে এ মোটরসাইকেল শো-ডাউন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আজম, উপজেলা তাঁতী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক হাবিবুর রহমান মাস্টার, শহিদুল ইসলাম মারফত আলী, সজিব আহম্মেদ, আবুল হোসেন, মহির উদ্দিন, সবুজ শেখ, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ওরফে হাসেম মোহরী, সদস্য সাজাহান আলী, জমির উদ্দিন, জামিরুল ইসলাম, শেখ পলাশ উদ্দিন, আক্তারুল ইসলাম, কফিল উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, জাফর উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, ডাক্তার মোয়াজ্জেম হোসেন, রাসেল আলী, সুমন আহম্মেদ, আবুল বাশার, খোশবার আলী প্রমুখ।

 

সহিংসতার শিকার হচ্ছেন অনেক নারী – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার ও সুবিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব আইন নারী ও শিশুর অধিকার এবং তাদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।’ ‘এরপরও নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার বা বিচার পাত্তয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পিছিয়ে আছেন। অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন অনেকে। যা মোটেও কাম্য নয়।’ গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি আইনি সেবার ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, নারীরা শুধু শারীরিকভাবেই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন না, তারা বিভিন্ন উপায়ে মানসিকভাবেও সহিংসতার শিকার। যদিও মানসিকভাবে সহিংসতার শিকারের ঘটনাগুলো সেভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। এমন সহিংসতার কারণে পরবর্তীতে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় এর প্রভাব পড়ছে পরিবারের উপরেই। তিনি আরও বলেন, পরিবার কেন্দ্রিক নারীর প্রতি এসব শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ২০১০ সালে ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন’ এবং ২০১৩ সালে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিধিমালা প্রণয়ন করে। কিন্তু বাস্তবে এ আইনের প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না। তার মানে, এ আইন সম্পর্কে তারা এখনও পুরাপুরি জানেন না। তাই এ আইন সম্পর্কে নারীদের পাশাপশি পুরুষদেরও জানাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি। আইনমন্ত্রী বলেন, পরিবার কেন্দ্রিক সহিংসতার শিকার নারীরা দেশে প্রচলিত আইন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন হলে এবং তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধসমূহ আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করালে, দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা অনেকটাই হ্রাস পাবে। মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সব সময়ই আন্তরিক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সহিংসতার শিকার নারীদের অধিকার ও সুবিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিনা খরচে তাদের সরকারি আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আইনগত সহায়তা প্রদান আইন- ২০০০ অনেকটাই নারীবান্ধব। তাই এ আইনের আওতায় নারী সেবা গ্রহীতার সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সহিংসতার শিকার নারীরা এখন ঘরে বসেই ‘১৬৪৩০’ হেল্প লাইনে ফোন করে সরকারি আইনি সেবা নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এক লাখ ৮৫ হাজার ২৮৬ নারী বিনা খরচে সরকারি আইনি সেবা নিয়েছেন। আনিসুল হক বলেন, সরকার আইনি সহায়তা কার্যক্রম এখন ইউনিয়ন পর্যন্ত নিয়ে গেছে। নারী নির্যাতনের অনেক খবর সরকারের কাছে পৌঁছায় না। তাই বেসরকারি সংস্থাগুলোকে নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগ পেলে তা সরকারি লিগ্যাল এইড অফিসে পৌঁছানোর বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীরা যদি জানে, তার বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি বা সালিশের মাতব্বররাই শেষ ভরসাস্থল নয়, তাদের ভরসার আরও জায়গা আছে, তাহলে তারা লিগ্যাল এইড অফিসে যাবে। এ বিষয়ে নারীদের সচেতন করতে হবে।

 

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের

 ৮জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত

 ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রার্থীদের ২৫০ জনের ভোটার তালিকা জমা নেয়নি

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন প্রার্থীদের ২৫০ জনের ভোটার তালিকা জমা নেয়নি। জমা না নেওয়ায় ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ২জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছে রিটানিং কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী প্রার্থীরা। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচনে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ২জনের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুনের অজ্ঞতা, অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার কারনে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ৬ পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান ও ২ মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান এর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সাথে ২৫০জন ভোটারের এনআইডি নম্বরসহ স্বাক্ষরিত তালিকা সকল কাগজ পত্রের সাথে জমা দিতে গেলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রার্থীদের ভোটার তালিকা জমা না নিয়ে তা ফেরত দিয়ে দেয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, প্রার্থীদের ২৫০ জনের ভোটার তালিকা জমা দেওয়া লাগবে না। এ কারণে প্রার্থীদের জমাকৃত ভোটার তালিকা ফেরত দেয়। গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসারের কার্যলয়ে যাচাই বাচাই এর সময় ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচনে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ৬ জন ও মহিলা  ভাইস চেয়ারম্যান ২জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছে। এ ব্যাপারে ৮ জন প্রার্থী অভিযোগসহ জেলা প্রশসকের নিকট আপিল করেছে। এ ব্যাপারে সুষ্ঠ তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

দৌলতপুরে প্রায়ই ঘটছে অভিনব কায়দায় ছিনতাই

মল ছিটিয়ে অর্থ ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ব থামছে না 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পায়খানার মল গায়ে ছিটিয়ে অর্থ ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ব যেন থামছে না। প্রায়ই ঘটছে অভিনব কায়দায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা। দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি চক্র সোনালী ব্যাংক থেকে অপরিচিত কেউ টাকা উত্তোলন করলে অভিনব কায়দায় তার গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে দিয়ে তাকে তা পরিস্কার করতে বলে কৌশলে তার টাকা ছিনতাই করে নেয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের সোনালী ব্যাংকে ষাটর্দ্ধো মুজিব কোর্ট পরা এক মুরব্বী ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করলে উপজেলা পরিষদের ওই ছিনতাইকারী চক্র তার গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে দেয়। এসময় ছিনতাইকারী চক্র ওই মুরব্বিকে চাচা আপনার গায়ে পায়খানা লেগে আছে বলে তা পরিস্কার করার জন্য মসজিদের ওযুখানায় যেতে বলে। সহজ সরল অসহায় ওই মুরব্বি মসজিদে গিয়ে মল পরিস্কার করার সময় ছিনতাইকারী চক্র তাকে একা পেয়ে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। সেসময় ওই মুরব্বি আর্তচিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে তার সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। এটিই প্রথম ঘটনা না। এরআগে অন্তত ১৫টিরও বেশী একই কায়দায় অভিনব কৌশলে এরকম টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনার ১৫দিন আগে একজন মুক্তিযোদ্ধা সোনালী ব্যাংক থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে আসলে তাকেও একই কায়দায় পায়খানার মল ছিটিয়ে সমুদয় টাকা ছিনিয়ে নেয় ওই চক্র। সেদিন ওই অসহায় মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ ও তার কান্নায় সোনালী ব্যাংক চত্বর ও আশপাশ ভারী হয়ে উঠলেও পাশ থেকে দাড়িয়ে ওইসকল ছিনিতাইকারী চক্র অট্টহাসি হেসে মুক্তিযোদ্ধাকে বিদ্রুপ করেছে। পায়খানার মল ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় একের পর এক অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনা উপজেলা প্রশাসন ও দৌলতপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও অদ্যাবধি কোন ঘটনার কুল কিনারা হয়নি। আর কত মানুষের সর্বনাশ! হলে প্রশাসনের টনক নড়বে তা ভক্তভোগীদের জিঞ্জাসা? তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানিয়েছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরের সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস কেন্দ্রিক একটি চক্র আছে যারা দলিল লেখকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে, মূলত তারাই পায়খানার মল ছিটিয়ে টাকা ছিনতাই কার্যক্রমের সাথে জড়িত। আর এদের সহায়তা করে থাকে দলিল লেখকদের সাথে যোগসাজস করে যারা ব্যাংকে পে-অর্ডার করে থাকে সেসকল দালালচক্র। ব্যাংকে কে কখন কত টাকা উত্তোলন করছে তার খোঁজখবর ওই দালালচক্র ছিনতাইকারীচক্রকে জানালে তারা তাদের কৌশল খাটিয়ে অভিনব কায়দায় এ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এদিকে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা’র নির্দেশে কয়েক মাস ধরে সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে উৎকোচ বিহীন ও অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই দলিল লেখার কাজ ও রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম চলমান থাকায় বেকায়দায় পড়েছে ওইসব চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীচক্র। তাই তারা সংসার ধর্ম পালন ও নিজেদের নেশার অর্থ যোগান দিতে সোনালী ব্যাংককে অর্থ উপার্জনের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর কোন অসহায় বা সহায় ব্যক্তির কষ্টার্জিত অর্থ অভিনব কায়দায় ছিনতাই হওয়ার আগেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষেরও দ্রুততার সহিত নজরে নেওয়া জরুরী।

 

সমন্বয় পরিষদ শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র সাধারণ সভা

জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি এ্যাডঃ অনুপ নন্দীকে সংবর্ধনা

নিজ সংবাদ ॥ সমন্বয় পরিষদ শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র ১৯ ও ২০ তম দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ মার্চ শনিবার বেলা ১১ টায় শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়ায় এ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র সভাপতি জি.এম গোলাম মোস্তফা। এ সময় কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র আজীবন সদস্য এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সেই সাথে শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র সাধারণ সম্পাদক কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বিকে পদোন্নতিজনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, জিপি এ্যাডঃ আ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া চেম্বর অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাবেক সভাপতি বিজয় কুমার কেজরীওয়াল, শিশু সংগঠক আশরাফ উদ্দিন নজু, এ্যাডঃ সুধীর শর্মা, এ্যাডঃ আহম্মদ আলী প্রমুখ। সাধারণ সভা পরিচালনা করেন শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র সাধারণ সম্পাদক কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি। এ সময় শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র কর্মকর্তাবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সাজেদা হোসেন, কাজী রফিকুর রহমান, কৃষ্ণ কমল বিশ্বাস প্রমুখ।  শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন আজীবন সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম। শ্রীশ্রী গীতা থেকে পাঠ করেন শহর সমাজ সেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া’র নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা কৃষ্ণ কমল বিশ্বাস।

ভোট মানুষের পবিত্র আমানত, খেয়ানত যেন না হয় – ইসি কবিতা

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, ভোট মানুষের পবিত্র আমানত- তা যেন কোনোভাবে খেয়ানত না হয়। নির্বাচনে অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে- তা নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার বিকালে উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা সদর কালিরবাজারে নাহিপতেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম টলস্টয়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। এই প্রশিক্ষণ কোর্সে ফুলছড়ি উপজেলার ৪৬টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারসহ মোট ৯৭৮ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নেন। কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত আগামী ১৮ তারিখ যেন একটি সফল তারিখ হিসেবে চিহ্নিত হয়। কোনোভাবেই তাকে ব্যর্থ হিসেবে পর্যবসিত হতে দেয়া যাবে না। কোনো অনিয়ম হলে কোনোভাবেই তা মেনে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো মূল্যে সুশৃঙ্খল রাখতে হবে। যাতে ভোটারদের কোনো ক্ষতি না হয়। কবিতা খানম বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তার দায়িত্ব প্রিসাইডিং অফিসারের। তাকে স্বাধীনভাবে ভোটদানে সুযোগ করে দিতে হবে। কোনো কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ভোট বন্ধ করে রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। রিটার্নিং অফিসার প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ডিসি ও এসপিকে জানাবেন। নির্বাচন কমিশনকেও তা জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্যদের যে ক্ষমতা- তা কোনোভাবেই অপব্যবহার করা চলবে না। যদি কোনো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তাহলে তিনি আইনের আওতার বাইরে থাকবেন না বলেও হুশিয়ারি দেন এ নির্বাচন কমিশনার।

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন দ্রুতগামী ট্রেন – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আগে বলা হতো এটা মালটানা রেলগাড়ির মতো। কিন্তু এখন এটি সম্পর্কে বলা হয় দ্রুতগামী আন্তঃনগর ট্রেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই যে অগ্রযাত্রা সেটি অব্যাহত থাকবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। গতকাল শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘কলেজ পারফরমেন্স র‌্যাংকিং ২০১৬ ও ২০১৭’ অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারাবিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৮ লাখ। এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আগে অনেক নেতিবাচক তথ্য আমরা জানতাম। কিন্তু বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় আজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে মৌলিক বই রচনা করতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে নোট-গাইডের বেশ প্রাধান্য। সেটি আমাদের রোধ করতে হবে। দীপু মনি বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারাবছর কোনো না কোনো পরীক্ষা থাকে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। তাই শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য কেন্দ্র নির্মাণ করা যাতে পারে। যেখানে শুধু পরীক্ষাই হবে। অন্য কোনো কিছু নয়। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যেসব কলেজ আছে সেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষা লাভ করতে পারে সেই উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেকটি বিভাগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস করা যায় কি না সেটা নিয়েও পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষা লাভ করতে পারবে। শিক্ষকদের শুধু চাকরির মানসিকতা নিয়ে পাঠদান করলে হবে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে পাঠদান করতে হবে। শুধু চাকরি হিসেবে কাজ করলে হবে না। বর্তমান সময় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। শিক্ষার্থীদেরকে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তাও শিক্ষা দান করা যায়। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্য চ্যালেঞ্জ ছিল সেশনজট নির্মূল করা, ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সেই সেশনজট দূর করা হয়েছে। বর্তমানে একাডেমি ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেখানে সারা বছরের ভর্তি, পরীক্ষা, ফল প্রকাশসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রমের অগ্রিম দিন-তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা-৪ বাস্তবায়নে আমরা কলেজ র‌্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছি। এতে করে দেশের কলেজগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা খাপার করছে তারাও নিজেদের অবস্থান দেখতে সেসব কলেজেরও পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে। যারা ভালো করছে তাদের অনুসরণ করে তারা নিজেদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এগিয়ে যেতে পারবে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে আর গাজীপুর গিয়ে ভোগান্তি পেতে হচ্ছে না। অনলাইনের মাধ্যমে সকল সুবিধা পাচ্ছেন। আটটি আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শেখাতে আমরা কলেজপর্যায়ে সকল শিক্ষার্থীর জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় নামে একটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭১৮টি স্নাতক (সম্মান) পাঠদানকারী কলেজের মধ্যে জাতীয়ভিত্তিক স্কোরে ২০১৭ সালের ৫টি সেরা কলেজ, ১টি সেরা মহিলা কলেজ, ১টি সেরা সরকারি কলেজ ও ১টি সেরা বেসরকারি কলেজের নাম ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে সেরা অঞ্চলভিত্তিক আরও ৬৮টি কলেজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কলেজকে অ্যাওয়ার্ড, সনদ ও চেক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সারাদেশে পাঁচটি সেরা কলেজ হচ্ছে- রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী (৭২.৯৬), সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বরিশাল (৬৬.১৫), সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া (৬৬.১১), সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা (৬৫.৯৬) ও কারমাইকেল কলেজ, রংপুর (৬৫.৭৯)। জাতীয় পর্যায়ে সেরা মহিলা কলেজটি হচ্ছে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ (৫৯.১০), সেরা সরকারি কলেজ রাজশাহী কলেজ, (৭২.৯৬) ও সেরা বেসরকারি কলেজ হচ্ছে ঢাকা কমার্স কলেজ (৬১.৮৪)। ঢাকা অঞ্চলে সেরা হচ্ছে ঢাকা কমার্স কলেজ (৬১.৮৪), সরকারি সা’দত কলেজ, টাঙ্গাইল, (৬১.৭৮), তেজগাঁও কলেজ (৫৯.৮৯), সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা (৫৯.৬৪), লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, ঢাকা (৫৯.১০), সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ঢাকা (৫৯.১০), সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর (৫৮.৫০), সরকারি গুরুদয়াল কলেজ, (৫৮.৩৮), হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, ঢাকা (৫৭.৯৩) ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা (৫৬.৮৩)। চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেরা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা, (৬২.৪৬), ফেনী সরকারি কলেজ, ফেনী (৬০.০৩), চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম (৫৯.৯৪), সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম (৫৭.২৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ (৫৬.০০), নোয়াখালী সরকারি কলেজ (৫৪.৫৬), হাটহাজারী কলেজ, চট্টগ্রাম (৫৪.৪১), সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম (৫৩.৫২), চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ, (৫৩.০১) ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ (৫২.৩৪)। রাজশাহী অঞ্চলে সেরা হচ্ছে রাজশাহী কলেজ, (৭২.৯৬), সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া, (৬৬.১১), সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা (৬৫.৯৬), ভবানীগঞ্জ কলেজ, রাজশাহী (৫৬.৮৪), সৈয়দ আহমদ কলেজ, বগুড়া (৫৩.৭২), হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম কলেজ, সিরাজগঞ্জ (৫৩.২৪), সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ (৫২.৯৫), দাওকান্দি কলেজ, রাজশাহী (৫২.৬৩), রাজশাহী কোর্ট কলেজ (৫১.৯০) ও এনএস সরকারি কলেজ, নাটোর (৫০.৭৮)। খুলনায় সেরা হচ্ছে সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজ, খুলনা (৬৩.২১), সরকারি এমএম কলেজ, যশোর (৬১.৫৮), কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ (৬১.১৫), সীমান্ত আদর্শ কলেজ, সাতক্ষীরা (৫৭.০৭), যশোর ক্যান্টমেন্ট কলেজ (৫৫.৭৭), ঝিকরগাছা মহিলা কলেজ, যশোর (৫৫.৫৫), এমএসজোহা ডিগ্রি কলেজ, আলমডাঙ্গা (৫২.৩১), কুমিরা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সাতক্ষীরা (৫১.৮১) ও খানজাহান আলী আদর্শ কলেজ, খুলনা (৫১.৬২) ও যশোর সরকারি মহিলা কলেজ (৫১.৫৮)। বরিশাল অঞ্চলে সেরা কলেজ হচ্ছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বরিশাল, ৬৬.১৫, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল (৫১.২৪), সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ, পিরোজপুর (৪৫.৪৮) ও ভোলা সরকারি কলেজ (৪৪.৮৬)। সিলেট অঞ্চলে সেরা কলেজ হচ্ছে সিলেটে এমসি কলেজ, সিলেট, (৫৯.৫১), দক্ষিণ সুরমা কলেজ, সিলেট (৫৩.৫১), মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ (৫২.৪৩), বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ (৫২.১১), সরকারি মহিলা কলেজ, সিলেট (৫০.৩৬), মদনমোহন কলেজ, সিলেট (৪৯.৭৯) ও সরকারি শ্রীমঙ্গল কলেজ, মৌলভীবাজার (৪৮.৫৫)। রংপুরে কারমাইকেল কলেজ, রংপুর, (৬৫.৭৯), দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর (৬০.২৮), রংপুর সরকারি কলেজ, রংপুর (৫৮.৫২), উত্তরবাংলা কলেজ, লালমনিরহাট (৫৭.০২), হাতিবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজ, লালমনিরহাট, (৫৫.৬০), সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, রংপুর (৫৪.৯৩), কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ (৫১.৪৪), লালমনিরহাট সরকারি কলেজ (৫০.৫৬), গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, (৫০.২৭), কেবিএম কলেজ, দিনাজপুর (৪৯.১৬)। ময়মনসিংহে সেরা কলেজ হচ্ছে সরকারি আনন্দমোহন কলেজ (৬৪.৬৮), জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজ (৫৫.০৩), মুমিনুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ (৫২.২১), ইসলামপুর কলেজ, জামালপুর (৫১.৩৫), নেত্রকোনা সরকারি কলেজ (৪৯.১৪), শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ, মুক্তাগাছা, (৪৯.০৭) ও কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর পাবলিক কলেজ (৪৮.৪৫)।

জঙ্গি দমন যেভাবে করেছি তেমনি মাদককে নির্মূল করব – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি জায়গায় জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন, জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল। যেভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন করেছি তেমনি করে মাদককে নির্মূল করব। গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘দৈনিক সময়ের আলো’ পত্রিকার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে গণমাধ্যম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জোরাল ভূমিকা পালন করেছে। মানুষ এখন মাদক থেকে মুক্তি চায়। তাই মাদক নির্মূলেও গণমাধ্যমের অগ্রণী ভূমিকা প্রয়োজন। মাদক নির্মূলে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন’ যথোপযুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জমান খান কামাল বলেন, যেভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন করেছি তেমনি করে মাদককে নির্মূল করব। সবাই সহযোগিতা করছে, গণমাধ্যম এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরো বলেন, একটা মিডিয়া অনেক ধরণের ভূমিকা পালন করতে পারে। গণমাধ্যম দেশের কথা বলবে, সমৃদ্ধির কথা বলবে, বাঙালির ঐতিহ্যের কথা বলবে, দেশকে ভালোবেসে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমিন মোহাম্মদ গ্র“পের চেয়ারম্যান এম এম এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সংসদ সদস্য সাগুপ্তা ইয়াসমিন এমিলি, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বক্তব্য রাখেন।