কালুখালী হতে রাজবাড়ী রেলস্টেশন পর্যন্ত মাহিন্দ্র চলাচলের উদ্বোধন

ফজলুল হক ॥ জনসাধারণের সুবিধার্থে কালুখালী রেলস্টেশন চৌধুরীবাড়ী হতে রাজবাড়ী রেলস্টেশন পুরাতন বেবি ষ্ট্যান্ড পর্যন্ত ধাওয়াপাড়া, কাজিরহাট, বেলগাছি, মহেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ি, হিরু মোল্লার ঘাট হয়ে নিয়মিত মাহিন্দ্র গাড়ী চলাচলের উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কালুখালী চৌধুরী বাড়ীর সামনে থেকে এ গাড়ী চলাচলের উদ্বোধন করেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম খায়ের। এসময় রাজবাড়ী জেলা মাহিন্দ্র সংগঠনের সভাপতি মোঃ আবু বকর (সিদ্দিক) এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা, মাহিন্দ্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ জুয়েল, কালুখালী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মনিরুজ্জামান চৌধুরী মবি, যুগ্ম আহবায়ক সোহেল আলী মোল্লা এছাড়াও আজিজুল ইসলাম শাহ আজিজ, বাপ্পারাজ, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আয়ুব খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর খান ও কৃষ্ণ কুমার, হিলাল উদ্দিন সহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকালে বক্তারা সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এই মাহিন্দ্র গাড়ী নিয়মিত চলাচলের উদ্বোধনে সকলকে শৃঙ্খলার সাথে গাড়ী চালানো এবং জনসাধারনের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার করার জন্য চালকদের বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

খাজানগরে র‌্যাগস্ মটরস্ লিঃ ভলবো আইশার ২০.১৬ ট্রাকের প্রদর্শনী ও মেলা

গতকাল ১২ ফেব্র“য়ারি মঙ্গলবার হতে কুষ্টিয়ায় খাজানগরে র‌্যাগস্ মটরস্ লিঃ এর পক্ষ থেকে ভলবো আইশার ২০.১৬ ট্রাক প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগরস্থ কবুরহাট দোস্তপাড়া ক্লাব মোড়ে আয়োজিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দাদা অটো রাইচ মিলের পরিচালক জয়নাল আবেদিন, ইফাদ অটো রাইচ মিলের ব্যস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউনুচ আলী, প্রভাতী এগ্রো ফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মজিবর রহমান,  নিউ প্রগতি এগ্রোফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন র‌্যাংগস মটরস লিঃ এর জোনাল হেড বশির উদ্দিন, সার্ভিস ইনচার্জ রবিউল হাসান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, সেলস, কাজল চট্রোপাধ্যায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

হজের খরচ বাড়েনি, বেড়েছে সৌদি সার্ভিস চার্জ – প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, সরকার এবার হজযাত্রার খরচ কমিয়ে আনলেও সৌদি আরবের সার্ভিস চার্জ বেড়ে যাওয়ায় মোট খরচ বেড়ে গেছে।  গতকাল মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে হজযাত্রার খরচ নিয়ে এই যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি-২০১৯’ এবং ‘হজ প্যাকেজ-২০১৯’ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ প্যাকেজ-১ এ চার লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর প্যাকেজ-১ এ তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা নির্ধারিত ছিল। সেই হিসেবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এ এবার ২০ হাজার ৫৭১ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ ২৪ হাজার ৬৪৫ টাকা বেশি খরচ পড়বে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেন, “আপনারা দেখছেন গত বছরের তুলনায় প্যাকেজ-১ এ এবার ২০ হাজার ৫৭১ টাকা বেড়েছে। কিন্তু সৌদি সরকার সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য খরচ বাড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯৮০ টাকা।” সৌদি সরকারের বাড়ানো চার্জ কারও কমানোর ক্ষমতা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “প্যাকেজ-২ এ সৌদি সরকার চার্জ বাড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৫ টাকা। কিন্তু গতবছরের তুলনায় বেড়েছে ১২ হাজার টাকার মতো।” তাহলে খরচ কোথায় বেড়েছে সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এবছর প্যাকেজ ১ এর জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১০ টাকা আর প্যাকেজ ২ এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বলুন বেড়েছে কিনা?” তিনি বলেন, “আশা করি এ দু’টি তুলনায় আপনাদের বুঝতে বাকি নেই যে আমরা হজের খরচ কমিয়েছি।” চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ অগাস্ট হজ হতে পারে। এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এ বছর যারা হজে যেতে চান তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২০ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। এবার রমজান মাসের আগেই সৌদিতে বাড়ি ভাড়া করতে হবে। সৌদির বাড়ি ভাড়া এবং সার্ভিস ও ক্যাটারিং চার্জ অনলাইনে জমা দিতে হবে। হজযাত্রীরা সৌদি আরবে যে বাড়িতে থাকবেন এবার থেকে ওই বাড়ির ঠিকানা পাসপোর্টের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে বলেও সোমবার জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

 

‘গায়েবি’ মামলা নিয়ে বাণিজ্য চলছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘গায়েবি’ মামলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘ব্যাপক বাণিজ্য’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মিডনাইট ভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকদিন আগে পুলিশকে বলেছেন দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করতে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে। সারাদেশে থানায় থানায় পুলিশি নিপীড়ন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে যেসব গায়েবি মামলা দায়ের করেছিল সেসব মামলায় চার্জশিট দেওয়ার নাম করে ব্যাপক বাণিজ্য চলছে। বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকায় আদায় করা হচ্ছে।” জামিন পাওয়া নেতাকর্মীদের পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ‘হয়রানি ও অর্থ আদায়’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে এজন্য সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, “গত পরশুদিন তার আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। আমরা তাদের কাছে জেনেছি তার অসুস্থতা আরও বেড়েছে। দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়ারও কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না দেশনেত্রীকে। না দেওয়া হচ্ছে মুক্তি, না সুচিকিৎসা।” তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ রোববার চট্টগ্রামে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই। তার ওই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, “দেশবাসী জানে তো ভিন্ন কথা। দেশবাসী জানে যে, প্রধানমন্ত্রী চাইলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে। এটাই সতসিদ্ধ, এটাই সত্য কথা। কারণ আমরা জানি সব কিছুই প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে।” সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শাহিদা রফিক, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন,আবদুল খালেক, রফিক হাওলাদার, শামসুল আলম তোফা প্রমুখ।

তরুণীকে ‘ধর্ষণ’

দুই পুলিশ গ্রেপ্তার

ঢাকা অফিস ॥ মানিকগঞ্জে এক তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই এএসআইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, রোববার সকাল ৯টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। আসামিরা হলেন ওই থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন এবং এএসআই মাজহারুল ইসলাম। এর আগে সোমবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক তরুণী।  তিনি বাবার সঙ্গে ঢাকার অদূরে আশুলিয়া এলাকায় থাকেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঢাকার আশুলিয়া থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় এসআই সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে আশুলিয়ার এক নারীর পরিচয় হয়। ওই নারীর প্রতিবেশী এই তরুণী। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে পাঁচ-ছয় বছর আগে জমি ব্যবসার জন্য ওই নারী এএসআই সেকেন্দারকে এক লাখ টাকা দেন। পরে জমি বিক্রি করে তার অংশের লভ্যাংশসহ তিনি সেকেন্দারের কাছে তিন লাখ টাকা পাওনা হন। দীর্ঘদিনেও তার সব টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এ কারণে ওই টাকার জন্য তিনি মাঝেমধ্যে সাটুরিয়া থানায় সেকেন্দারের কাছে যেতেন বলে মামলায় বলা হয়। তরুণী বলেন, গত বুধবার বিকালে তিনি পরিচিত ওই নারীর সঙ্গে সাটুরিয়া থানায় যান। থানায় যাওয়ার পর সেকেন্দার তাদের থানার পাশে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে বসে পাওনা টাকার বিষয়ে কথাবর্তা বলার সময় এএসআই মাজহারুল সেখানে উপস্থিত হন। এরপর ওই নারীকে অন্য কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এর পর তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ওই কর্মকর্তারা ইয়াবা সেবন করেন। এ সময় তাকেও ইয়াবা সেবনে বাধ্য করা হয়। ইয়াবা সেবনের পর তিনি অসুস্থবোধ করেন। এর পর থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ওই কক্ষে আটকে রেখে ওই দুই কর্মকর্তা তাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করেন।” এসপি রিফাত রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাতে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এরপর রোববার ওই তরুণী তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এসপি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। “তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাফিজুর রহমান এবং জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দিকী।” হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত করা হয়। তদন্তে ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ দিকে সোমবার রাতেই ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, তিনিসহ চার সদস্য বিশিষ্ট একটি চিকিৎসক দল ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

গলায় সাপ পেঁচিয়ে জেরার ভিডিও ভাইরাল, ক্ষমা চাইল পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ ইন্দোনেশিয়ায় মোবাইলি চুরির সন্দেহে আটক এক ব্যক্তিকে জেরার সময় তার গলায় সাপ পেঁচিয়ে ভয় দেখানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এ কা-ের জন্য পুলিশ ক্ষমা চেয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়া অঞ্চলে ওই ঘটনার ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে হাতকড়া পরানো ভীত-সন্ত্রস্ত ওইব্যক্তির মুখ এবং প্যান্টের মধ্যে সাপ ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেও দেখা গেছে। এমনকী এমন অমানবিক অচরণ করার সময় কর্মকর্তারা হাসছিলেন। স্থানীয় পুলিশ প্রধান এ ঘটনাকে চরম অপেশাদার আচরণ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি তার অধস্তন কর্মকর্তাদের সফাই গেয়ে বলেন, ওই সাপটি পালিত এবং বিষহীন। “ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তারা ওই ব্যক্তিকে সাপের কামড় খাওয়াত না। কর্মকর্তারা নিজেদের মত করে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির স্বীকারোক্তি আদায় করার চেষ্টা করছিলেন।” মানবাধিকার আইনজীবী ভেরোনিকা কোমান টুইটারে ওই ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, পুলিশ সম্প্রতি ‘পাপুয়ার স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারী এক বিচ্ছিন্নতাবাদীকে কারাগারে সাপের’ সঙ্গে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে স্বাধীনতার দাবিতে পাপুয়ায় কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল আন্দোলন করছে। ওই সব দলের কর্মীদের প্রায়ই পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যা মানবতা বিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে মত অনেকের।

জলবায়ু পরিবর্তন বড় হুমকি, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও – জরিপ

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনকে এখনো সবচেয়ে বড় হুমকি হিসাবেই দেখছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও প্রভাব নিয়েও তাদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালিত নতুন এক জনমত জরিপ থেকে। এতে দেখা গেছে, ২৬ টি দেশের মধ্যে ১৩ টি দেশের মানুষই জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মত দিয়েছে। ৮ টি দেশ ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর সন্ত্রাস এবং চারটি দেশ সাইবার হামলাকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মত দিয়েছে। আর ১০ টি দেশের মানুষই বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিশ্বের জন্য বড় হুমকি। পিউ রিসার্চ সেন্টার রোববার এক প্রতিবেদনে জরিপের এ ফল প্রকাশ করেছে। এতে সাধারণভাবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েই মানুষের নিরাপত্তা উদ্বেগের চিত্র ধরা পড়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মানুষের উদ্বেগ যে আগের থেকে বেড়েছে তাও স্পষ্টই ধরা পড়েছে এ জরিপে। ২০১৩ সাল থেকে মানুষের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ অনেক বেড়েছে। ২০১৮ সালের মে থেকে অগাস্টের মধ্যে ২৭ হাজার ৬১২ জনের ওপর চালানো এ জরিপে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং কেনিয়াসহ অন্যান্য দেশগুলোর ৭৩ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ২০১৭ এবং ২০১৩ সালের পিউরিসার্চ জরিপে যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, তার চেয়ে এখন অনেক বেশি মানুষ এ দেশটিকে বিশ্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মত দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ জাপানে ৬৬ শতাংশ এবং মেক্সিকো- যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেই- সেখানে ৬৪ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে বড় হুমকি বলে মত দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াতেও ৬৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে একই মত পোষণ করেছে। অথচ ২০১৩ সালে জরিপ চালানো ২২ টি দেশের মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি হিসাবে দেখত। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৭ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ শতাংশে। আর এরপর ২০১৮ সালে তা দাঁড়ায় ৪৫ শতাংশে। জলবায়ু এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে উদ্বেগের পরই জরিপে আরেক বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসাবে উঠে এসেছে সাইবার হামলা। সব দেশ মিলে ৬১ শতাংশ মানুষই সাইবার হামলাকে মারাত্মক উদ্বেগজনক বলে মত দিয়েছে। ২০১৭ সালে এ হার ছিল ৫৪ শতাংশ। এছাড়াও, আইএস এর সন্ত্রাসকে বড় হুমকি হিসাবে দেখেছে ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মানুষেরা। ওদিকে, কোনো কোনো দেশের মানুষ রাশিয়ার প্রভাবকে বড় হুমকি বলে মত দিয়েছে। আবার অন্য কয়েকটি দেশের মানুষ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিকে বিশ্বের জন্য হুমকি বলে মত দিয়েছে। আর চীনের উদীয়মান শক্তি ও প্রভাব হুমকি হিসাবে স্থান পেয়েছে তালিকার একেবারে নিচে।

 

মিরপুরে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দারের পৌর এলাকায় গনসংযোগ

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে মিরপুর উপজেলার মিরপুর  পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের জনগণের সাথে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করলেন ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবুল কাশেম  জোয়ার্দ্দার। তিনি প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও নির্বাচনী গনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। সকাল থেকে  তিনি মিরপুর  পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাপক নির্বাচনী গনসংযোগ চালিয়েছেন ছুটে চলছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।  কুশল বিনিয়ম করছে সকল শ্রেণির মানুষের সাথে।  অনেক ভোটার বলেন উপজেলার সকল শ্রেণির জনগণ নিয়ে সুন্দর আগামী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন তিনি, আমরাও আশাবাদী তার উপর যে তিনি এলাকার জনগণের আশা আকাংখা পূরন করবেন।বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় ইতিমধ্যেই তিনি গনসংযোগ করে সাধারণ জনগণের সাথে মিশে মানুষের মন জয় করেছেন এবং জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তার নির্বাচনী গনসংযোগ কালে সময় মিরপুর উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বিশ্বাস, সহ সভাপতি সাইফুর রহমান নাজিম, মীর আবু সাজ্জাদ সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আহম্মেদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মোস্তাক, উপজেলা যুবলীগ সহ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য ফিরোজ মন্ডলসহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ফেনসিডিলসহ তরিকুল হাওলাদার (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চিলমারী ইউপি’র সীমান্ত সংলগ্ন আতারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অভিনব কায়দায় দেহে আটকানো অবস্থায় ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে করে উদয়নগর বিওপি’র টহল দল। বিজিবি সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ী তরিকুল হাওলাদার অভিনব কায়দায় দেহে ফেনসিডিল আটকিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় যাচ্ছে এমন গোপন সংবাদ পয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ উদয়নগর বিওপি’র নায়েক সুবেদার সঞ্জুর নেতৃত্বে বিজিবি’র টহলদল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী তরিকুল পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে বিজিবি। পরে তার দেহ তল¬াশী করে ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে ওই রাতেই তাকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করে। এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। আটক মাদক ব্যাসায়ী তরিকুল হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সে আতারপাড়া গ্রামের ইউনুচ হাওলাদারের ছেলে।

 

 

ঝিনাইদহে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রধান মাধ্যম কৃষি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জোরদার অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে কৃষি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সফরে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল রবার্ট মিলার। সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরিনাথপুর গ্রামে কৃষকদের ভূট্টা  ক্ষেত পরিদর্শন করেন তিনি। পরে স্থানীয় ভূট্টা চাষীদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে সাংবাদিকদের আরও বলেন, এ অঞ্চলে ভ্রমণের এটি আমার দ্বিতীয় দিন। বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক। আর এ দুইয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কৃষি। তিনি বলেন, গৌরিনাথপুর গ্রামের ভুট্টা চাষ দুই দেশের সম্পর্কের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এখানে চাষ করা ভুট্টা বিশ্বমানের। আমেরিকার উদ্যোগকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এখানকার কৃষকেরা বাস্তব রূপ দিয়েছেন। পরিদর্শণকালে ইউএসএআইডি’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর জেইনা সালাহী, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ইবি কর্মকর্তা জমির উদ্দীনের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ্ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা মোঃ জমির উদ্দীন গতকাল মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। মরহুমের প্রথম জানাযার নামাজ বাদ যোহর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফ, দাওয়া এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। জানাযার নামাজ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম কাম খতিব ড. আসম সোয়াইব আহমদ। জানাযার নামাজ শেষে মরদেহ তাঁর নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া ইবি থানার শান্তিডাঙ্গা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইবি ভিসির  শোক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এক শোকবার্তায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ্ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা মোঃ জমির উদ্দীনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি, মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। অপর পৃথক পৃথক শোকবার্তায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ্ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা মোঃ জমির উদ্দীনের মৃত্যুতে  গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। প্রেরিত শোকবার্তায় তাঁরা, মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও দাওয়াহ্ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা মোঃ জমির উদ্দীনের মৃত্যুতে রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দূল লতিফ, দাওয়া এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান এবং কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহা ও সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি, টাকাসহ মালামাল উদ্ধার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পিতা-পুত্রকে আটক করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হল পৌর এলাকার মজুমদার পাড়ার শুভ দাস (২২) ও তার পিতা সুশান্ত কুমার দাস। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, গেলরাতে শৈলকুপা উপজেলার ৩ নং দিগনগর ইউনিয়নের জনৈক দুই ব্যক্তিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে এনে উপজেলা শহরের কবিরপুর মোড়ের শৈলকুপা শিশু ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা লুটে নিয়ে ছেড়ে দেয়। এসময় ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে সন্ধায় উপজেলা শহর থেকে শুভ দাস ও সুশান্ত দাসকে আটক করে পুলিশ। শৈলকুপা থানার ওসি আয়ূবুর রহমান জানান, ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তে কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদেরও আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিডিএফ’র আঞ্চলিক সম্মেলনে পিকেএসএফ এমডি

ক্ষুদ্রঋণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে

নিজ সংবাদ ॥ পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম বলেছেন ক্ষুদ্রঋণ মানুষকে ঠকায়না, বরং বেকার কর্মহীন মানুষের আলোর দিশারী। ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সারা দেশে এভাবেই তাদের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান সরকারের ভিষণ বাস্তবায়নে সহায়ক ভুমিকা রেখে চলেছে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার দিশা অডিটোরিয়ামে সিডিএফ’র আঞ্চলিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সিডিএফ’র চেয়ারম্যান মুর্শেদ আলম সরকারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন দেশে ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেকার ও অসহায় মানুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ নয়, স্বাবলম্বি হয়ে অনেকেই নিজেকে সাফল্যের শীর্ষে উঠেছেন। অথচ ক্ষুদ্রঋণপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কতইনা ভ্রান্ত ধারণা দেয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে দেশ ও দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল এধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দ্যর্থহীন ভাষায় বলেন ক্ষুদ্রঋণপকারণকারী এসব প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে যা স্বীকৃত ব্যাংকের চেয়েও সহজ। পরিশেষে তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে সকল প্রতিষ্ঠানকে কাজ করে যাবার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন দিশা’র নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দিশা’র সহযোগিতায় সম্মেলনের আয়োজন করে সিডিএফ। সম্মেলন অনুষ্ঠানে খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

বিশ্ব ইজতেমায় থাকছে ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মী

ঢাকা অফিস ॥ টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমার প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ১৪ ফেব্র“য়ারির আগেই মাঠের সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, আগামী ১৫ ফেব্র“য়ারি ফজরের নামাজের পরই আম বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। অন্যান্য বছরের চেয়ে ইজতেমার নিরাপত্তা আরো বেশি জোরদার করা হয়েছে। এবারের ইজতেমার নিরাপত্তায় এবার ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। তিনি বলেন, এবার ইজতেমা বিরতি না দিয়ে দুই পক্ষের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম পক্ষ মাওলারা যোবায়ের অনুসারীদের আগামী ১৫ ফেব্র“য়ারি শুরু হয়ে ১৬ ফেব্র“য়ারি আখেরি মোনাজাত শেষে রাতের ধ্যেবা ময়দান ছেড়ে দিতে হবে আর সাদ অনুসারীদের ১৭ ফেব্র“য়ারি শুরু করে ১৮ ফেব্র“য়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। হুমায়ুন কবীর বলেন এবার যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৩৮টি ট্রেনের ব্যবস্থা করবে এবং বিআরটিসি ৩০০ বাস সার্ভিস সেবা দিবে। মুসল্লিদের পয়ঃনিষ্কাশন এর জন্য ৮ হাজার পাকা টয়লেট ও ১ এক হাজার অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওজু গোসলের জন্যও সুব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য বারের চেয়ে এবছর সিসি ক্যামেরাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এ পর্যন্ত প্যান্ডেল তৈরির কাজ ৭০ শতাংশ হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে।

 

শিশু আসামির পরিচয় প্রকাশ

গণমাধ্যমকে সতর্ক করল হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ শিশু আদালতে বিচারাধীন মামলায় আটক, বন্দি, অভিযুক্ত, আসামি বা সাক্ষী শিশুর ছবি, নাম, ঠিকানা ও পরিচয় প্রকাশ যে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, তা মনে করিয়ে দিয়ে ইংরেজি  দৈনিক ডেইলি স্টারসহ সকল সংবাদ মাধ্যমকে সতর্ক করে দিয়েছে হাই কোর্ট। একটি রিট মামলার শুনানি শেষে এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রজিক আল জলিলের হাই কোর্ট মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণসহ এ রায় দেয়। গোপালগঞ্জের শিশু আদালতের একটি রায়ের বিষয়ে গত নভেম্বরে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে হাই কোর্টে এই রিট মামলা করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, “প্রকাশিত খবরে শিশুর নাম, ঠিকানা, পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে এবং খবরে সঠিক শব্দ চয়ন না করে ডেইলি স্টার বেআইনি কাজ করেছে।” আদালত বলেছে, যেহেতু বিষয়টি নতুন, তাই কোনো সাজা বা জরিমানা না করে সতর্ক করা হল, যেন ভবিষ্যতে এমনটা আর না ঘটে। পাশাপাশি বিচারাধীন শিশুর ছবি, নাম, পরিচয়, প্রকাশ পায় বা শিশুকে চিহ্নিত করা যায়, এমন প্রতিবেদন যাতে ভবিষ্যতে কোথাও ছাপা না হয়, সে বিষয়ে সকল সংবাদ মাধ্যমকে সতর্ক থাকতে বলেছে হাই কোর্ট। রায়ে বলা হয়, “শিশু আইনের মূল উদ্দেশ্য কোনো মামলার বিচারের ক্ষেত্রে তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করা, যা বিচারপূর্ব, বিচার চলা ও বিচার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বোঝায়। এ ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে, যাতে তারা সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ পায়।” গত বছরের ৫ নভেম্বর ডেইলি স্টারে ‘বয় গেটস টেন ইয়ার্স ফর কিলিং ক্লাসমেট’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দন্ডিত শিশুটির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়। এভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ ২০১৩ সালের শিশু আইনের ২৮ ধারার লঙ্ঘন জানিয়ে গত বছর ১৮ নভেম্বর হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। শিশু আদালতে বিচারাধীন যে কোনো মামলার শিশু আসামি বা অভিযুক্তর নাম, পরিচয়, ঠিকানা, ছবিসহ তার পরিচিতি সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরা বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয় সেখানে। পাশাপাশি এভাবে পরিচয় প্রকাশ বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- সেই প্রশ্নে রুল চাওয়া হয় ওই রিট আবেদনে। আইন সচিব, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন-আদালত-মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টোর্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদককে এ মামলায় বিবাদী করা হয়। শিশু আইনের ২৮ ধারায় ‘শিশু-আদালতের কার্যক্রমের গোপনীয়তা’ অংশে বলা হয়েছে- ১. শিশু-আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো শিশুর ছবি বা এমন কোনো বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটে প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না যা সংশ্লিষ্ট শিশুকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে। ২. উপ-ধারা ১ এ যাই থাকুক না কেন, শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশ করা শিশুর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে না মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হলে ওই আদালত সংশ্লি¬ষ্ট শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশের অনুমতি দিতে পারবে। ওই রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট। সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় দিল। আদালতে রিটকারী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাগুফতা তাবাসসুম আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান। ডেইলি স্টারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম। রায়ের পর আইনজীবী সুমন সাংবাদিকদের বলেন, শিশু আইনে বা কিশোর আদালতে কোনো মামলা যদি থাকে এবং এই মামলায় কোনো শিশু বা কিশোর জড়িত থাকলে তার নাম, ঠিকানা, পরিচিতি ব্যবহার করা যাবে না কোনো মিডিয়াতে। “ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্যে ডেইলি স্টারসহ সকল গণমাধ্যমকে সতর্ক করার পাশাপাশি আইন সচিব, তথ্য সচিব ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরামকে তদারকি করতে বলা হয়েছে রায়ে।”

মাদক-অস্ত্র মামলার তদন্তকারীদের চোখে রাখার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত যারা করছেন, তাদের সময় বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাজের উপর নজর রাখতে বলেছে উচ্চ আদালত। মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে এক মাসের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে তা শেষ করা না গেলে সংশ্লিষ্ট আদালতের কাছে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাজ পর্যবেক্ষণে উচ্চপদস্থ একজন পুলিশ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রতিটি জেলায় ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক ও সব পুলিশ সুপারকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাই কোর্ট বেঞ্চের দেওয়া আদেশে। মাদক মামলায় নরওয়ে প্রবাসী ড. নুরুল ইসলাম শেখের আগাম জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার আদালত এসব আদেশ দেয়। আদালত এই মাদক মামলার বাদী গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার এসআই মো. আব্দুল হালিমকে সতর্ক করে ওই থানা থেকে তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করতে গাজীপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে নুরুল ইসলাম শেখের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী। এসআই হালিমের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল। মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলে তদন্ত কর্মকর্তাদের দেরির বিষয়টি তুলে ধরে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, “অনেক মাদক মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ লম্বা সময় নেয়। কিন্তু এই মামলায় পুলিশ লম্বা সময় নেয়নি। পুলিশ ইচ্ছে করলে ১৫ দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে। “তারপরও অনেক মামলায় দেখা যায় মাসের পর মাস, এমনকি কিছু মামলায় বছরের পর বছর চলে যায়। কিন্তু অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় না। এ অবস্থায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতার প্রয়োজন।” তদন্ত দ্রুত শেষ না হলে বিচার শুরুতে দেরি হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে আদালত। পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যরা বলছেন মাদক মামলা ও অস্ত্র মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এজন্য তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সম্পন্ন করার কোনো বিকল্প নেই। “তদন্ত কর্মকর্তারা যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, তবে মামলা প্রমাণ করাও সহজ হয়। কারণ, মামলার সাক্ষীদের সহজেই পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বিলম্ব হলে অনেক সাক্ষী অস্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে চলে যায়।” গত বছরের ২৯ নভেম্বর জয়দেবপুর থানার এসআই হালিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ১০টি ইয়াবাসহ রাজু আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাজুর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নরওয়ে প্রবাসী এবং বাংলাদেশ নরওয়ে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ড. নুরুল ইসলামসহ তিনজনকে মামলাটিতে আসামি করা হয়।

তখন নুরুল ইসলাম শেখ আগাম জামিন নিতে হাই কোর্টে আসেন। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর হাই কোর্ট এ মামলায় তাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়। একই সঙ্গে আদালত গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চায়, কীভাবে নুরুল ইসলাম শেখকে এ মামলায় জড়ানো হল? বিষয়টি তদন্ত করে ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলে। সে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে মামলার বাদী এসআই হালিমকে তলব করে আদালত। মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানির পর রায় দিল হাই কোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট বলেছে, এত দ্রুত পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিল করাটা অবশ্যই প্রশংসার বিষয়। কিন্তু তদন্তকালে কোনো সাক্ষীই নুরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেননি। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যে পার্থক্যের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত বলেছে, এখানে মামলার বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নুরুল ইসলামের নাম জড়িয়েছেন। এ বিষয়টি তদন্তকারী এড়িয়ে গেছে। বাদীকে প্রশ্ন করা হলে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবে বলে কথা দিয়েছেন।

ধারে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য দেওয়া হচ্ছে – খাদ্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য ধারে খাদ্য সরবরাহ করছে বলে জাতীয় সংসদকে তথ্য দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জাতীয় পার্টির সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মধ্যে সমঝোতা স্মারকের আওতায় রোহিঙ্গাদের ধারে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য এই বাড়তি চাপে দেশে আপাতত খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা নেই।” মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা কয়েক দশক ধরে আশ্রয় নিয়ে আছে কক্সবাজারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিতও হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) হিসাবে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলারের খাবারের প্রয়োজন। এর মধ্যে কী পরিমাণ খাদ্য বাংলাদেশ ‘ধারে’ দিচ্ছে সে তথ্য খাদ্যমন্ত্রী সংসদে দেননি। চলতি বছর রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য যে ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে খাদ্য সহায়তা বাবদ ৪.৭ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে। নেত্রকোণার এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার জানান, দেশের খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮২২ মেট্রিক টন। বর্তমানে খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৩১৭ মেট্রিন টন। এর মধ্যে ধান এক হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন, চাল ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন ও গম এক লাখ ৭৫ হাজার ৫২৬ মেট্রিক টন। কুষ্টিয়ার সেলিম আলতাফ জর্জের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “সরকারের নিবিড় তদারকির ফলে চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে চালের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করায় তা প্রতিরোধসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”নেত্রকোণার এমপি অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এখনো পাওয়া যায়নি। তবে টিকফা চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ময়মনসিংহের আনোয়ারুল আবেদীন খানের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের পক্ষে শ্রম কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানান, বিদেশ ফেরত কর্মীদের জন্য আলাদা ডেটাবেইজ  তৈরির একটি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নারায়ণগঞ্জের নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে জি টু জি (সরকারিভাবে) প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় নয় হাজার ৯৩৩ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় এক লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন। এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গতবছর মোট সাত লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এক বছরে ১৫ হাজার ৪৯৭ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। জাতীয় পার্টির এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী সারা দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক বা তার চেয়ে বেশি ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা ১০ লাখ ৪৩ হাজার, যা মোট বেকারের ৪০ শতাংশ। বিকাল সাড়ে ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে দিনের বৈঠক শুরু হয়।

রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের পরে গ্রামে বাস করবেন শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের পরে তিনি তাঁর গ্রামে বাস করবেন। তিনি বলেন, ‘যখনই আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব,আমি আমার গ্রামে চলে যাবো এবং এটিই আমার সিদ্ধান্ত।’ গতকাল সকালে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে একথা বলেন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা পার্টি’র (ভিডিপি) ৩৯তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাদের পারফরমেন্স প্রদর্শন করেন। আনসার ও ভিডিপি লেকে আনসার সদস্যদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৌকায় উঠে দুই শিশুর নৃত্য দেখে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে বলেন, নৌকায় এই দৃশ্য দেখে তাঁর কিশোর বেলার স্মৃতি স্মরণে আসছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘আমার পিতামহের একটি বিরাট পানসি নৌকা ছিল, এটিতে দুইটি কক্ষ ও জানালা ছিল । আমি যখন এটিতে উঠতাম, জানালার কাছে বসে আমার হাত দিয়ে পানি স্পর্শ করতাম।’ তিনি বলেন, ‘ নৌকায় অন্যরাও থাকতো বিশেষ করে আমার ভাই (শেখ) কামাল, সে নৌকার ছাদ থেকে লাফ দিত এবং নৃত্য করতো। যখন আমি নৌকা দেখি, আমার কিশোরী বেলার স্মৃতি স্মরণে আসে।’ প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করার তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রামের লোকদের কাছে শহরের সকল সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেয়া, যাতে তারা উন্নত জীবন পায় এবং সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আজকের শিশুদের আরো উজ্জ্বল এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই পাশাপাশি তারা প্রযুক্তিভিত্তিক হয়ে উঠুক। আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলা। ‘আমাদের অঙ্গীকার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। আমরা ক্ষুধা দূর করেছি এবং উল্লেখযোগ্য হারে দারিদ্র্য কমিয়ে এনেছি। দারিদ্র্য হার আরো কমিয়ে আনবো, বাংলাদেশ আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে, এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা প্রতিটি গ্রামে পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ এবং আমাদের মাতৃভূমি গঠনে আমাদের সবাইকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে আমাদের মাথা সমুন্নত রাখতে পারি, আমাদের অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। আমরা নিজস্ব সম্পদে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবো।’ মন্ত্রীবৃন্দ, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, কূটনীতিকবৃন্দ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

কারাগারে চিকিৎসায় ব্যক্তিগত চিকিৎসক চান খালেদা জিয়া

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডিত হয়ে পুরনো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিএনপিনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। শারীরিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় কারাগারে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার নাইকো মামলার শুনানি শেষে আদালতে এই আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। কারাগারে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে বিএনপিনেত্রীর চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো মামলার শুনানি হয়। দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। ১২টা ২৮ মিনিটে বিচারক তার এজলাসে আসার পর শুনানি শুরু হয়। ২টা ৫ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়। শুনানিকালে প্রায়  ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে বসেছিলেন। শুনানি শেষে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। শুনানিতে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার চিকিৎসার একটি আদেশ দেন। এরপর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসার শেষ না করেই উনাকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়।’ ‘বর্তমানে উনার (খালেদা) শারীরিক অবস্থা ভালো না। উনার শারীরিক সমস্যাগুলো বাড়ছে। এখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হোক।’ বিচারক বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশটি আদালতে দাখিল করেন। আমি দেখে পরে আদেশ দেবো।’ শুনানিতে খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, বোরহান উদ্দিনসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা অগ্নিকাল্ডে  ক্ষতিগ্রস্থ হয় ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার কারণে নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা। নাইকোর গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা হয়েছে বলে বাপেক্সের তদন্তে উঠে আসে। এদিকে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় নাইকো। এ বিষয়ে তাদের কোনও গাফিলতি হয়নি বলে দাবি করে নাইকো। এই ক্ষতিপূরণ দেবে না বলে নাইকো লন্ডনে বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (ইকসিড) মামলা করে। একইসঙ্গে বাপেক্সও এই ক্ষতি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বিশেষ জজ আদালত ৯-এ বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে খালেদার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামসহ আরো বেশ কয়েকজন আসামি রয়েছেন।

 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন নারী প্রার্থীরা

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জমা পড়া ৪৯টি মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে সবগুলোকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যত আসন, ততগুলোই মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় সব প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম। মঙ্গলবার সংরক্ষিত আসনের সব মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করার সময় এ কথা বলেন এ রিটার্নিং কর্মকর্তা। আবুল কাসেম বলেন, ‘সংরক্ষিত আসনে আমরা ৪৯টি মনোনয়নপত্র বাছাই করেছি। বাছাইয়ে কোনো মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। এ কারণে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬ ফেব্র“য়ারি, ওই দিন কেউ যদি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে, তাহলে ১৭ তারিখেই আমরা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করব।’ এ রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যতগুলো সংরক্ষিত আসন ছিল, আমাদের প্রার্থী সংখ্যাও ততজন। সে কারণে তাদের আমরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করব। এরপর তা নির্বাচন কমিশনে পেশ করব। নির্বাচন কমিশন তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।’ জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। ৪৯টি আসনের বিপরীতে একটি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও আরও একটি আসন ফাঁকা রয়েছে। সেই আসনটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাতজন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় দলটির জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে বিএনপি একজন প্রার্থী দিতে পারবে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা যদি শপথ গ্রহণ না করেন, তাহলে এ সাতটা আসন নির্বাচন কমিশন শূন্য ঘোষণা করবে। পরবর্তীতে এই আসনগুলোতে নির্বাচন হবে। তাতে যারা এ আসনগুলো পাবে, সেই ভিত্তিতে একটি নারী আসনের ভোট হবে।’ যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের স্বাক্ষর না দেয়াসহ ‘ছোটখাট’ ভুল-ক্রটি আমলে নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৈধ হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত ৪৩ জন, জাতীয় পার্টির চারজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন এবং স্বতন্ত্র একজন রয়েছেন। বৈধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেন- ঢাকার শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা, সুবর্ণা মুস্তাফা ও নাহিদ ইজহার খান, চট্টগ্রামের খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম, কক্সবাজারের কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ির বাসন্তি চাকমা, কুমিল্লার আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুরের শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী, বরগুনার সুলতানা নাদিরা, জামালপুরের মিসেস হোসনে আরা, নেত্রকোনার হাবিবা রহমান খান ও জাকিয়া পারভীন খানম, পিরোজপুরের শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইলের অপরাজিতা হক ও খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, সুনামগঞ্জের শামীমা আক্তার খানম, মুন্সীগঞ্জের ফজিলাতুন্নেছা, নীলফামারীর রাবেয়া আলী, নংরসিদীর তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জের নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহের মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহের খালেদা খানম, বরিশালের সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালীর কানিজ সুলতানা, খুলনার এডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, দিনাজপুরের জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালীর ফরিদা খানম সাকী, ফরিদপুরের রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়ার সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজারের সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহীর আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরীয়তপুরের পারভীন হক শিকদার, রাজবাড়ীর খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুরের তাহমীনা বেগম, পাবনার নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোরের রতœা আহমেদ। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি মনোনীত অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, এডভোকেট সালমা ইসলাম, অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার, ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী লুৎফুন নেসা খান ও স্বতন্ত্র সেলিনা ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন-২০১৯ এর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ১১ ফেব্র“য়ারি। ১২ ফেব্র“য়ারি সকাল ১০টার দিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৬ ফেব্র“য়ারি।

প্রধানমন্ত্রীর আবুধাবি সফরে প্রাধান্য পাবে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শ্রমবাজার

ঢাকা অফিস ॥ আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া প্রদর্শনীতে যোগদানের জন্য আবুধাবি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সামরিক মহড়া প্রদর্শনী দেখার পাশাপাশি দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন রাশিদ আল মোকতামের সঙ্গে বৈঠকের কথাও রয়েছে তার। দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশে দেশটির বিনিয়োগ বাড়ানো। পাশাপাশি দেশটিতে আরও রফতানির সুযোগ সৃষ্টি এবং সেখানে বাংলাদেশীদের জন্য শ্রমবাজার কতটা বড় করা যায় তা নিয়েও আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও সফরে বেসামরিক বিমান চলাচল, পর্যটন, স্বাস্থ্য, সামরিক সহযোগিতাসহ আরও কিছু বিষয় আলোচনার টেবিলে উঠতে পারে বলে আশা করছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সফরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়টিকে প্রাধান্য  দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটির মনোযোগ আকর্ষণে প্রয়োজনে আমিরাতের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে দেয়ার আশ্বাসও দেবেন তিনি। বাংলাদেশে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ রয়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার। সরকার মনে করে, তেল সমৃদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচুর তরল অর্থ আছে। আর বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশও তাদের আরও বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী। এ বিষয়ে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুবাই পোর্ট (ডিপি) ওয়ার্ল্ড এর বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ প্রস্তাব আছে যেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’ বাংলাদেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে এবং আবুধাবি ইচ্ছ করলে এর একটি শুধু তাদের বিনিয়োগকারীদের জন্য  পেতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, তারা সেমিকন্ডাক্টর বানানোতে দক্ষতা অর্জন করেছে এবং এই খাতে বিনিয়োগ করলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। এছাড়া তারা পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে এবং বাংলাদেশে পর্যটন স্পট তৈরি করতে পারে। প্রসঙ্গত: বাংলাদেশে সিরামিক, সার, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে গত অর্থবছরে ১.২ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এর মধ্যে তৈরি কাপড়, সবজি ও অন্যান্য পণ্য রয়েছে। এর বিপরীতে আমদানি করেছে মূলত পেট্রোলিয়াম পণ্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যা রফতানি করি এবং যা আমদানি করে তারমধ্যে পার্থক্য অনেক। তবে আমরা রফতানি আরও বাড়াতে চাই।’ সম্প্রতি দেশটিতে থাকা অবৈধ নাগরিকদেও বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেখানে থাকা প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশী বৈধ হওয়ার সুযোগ নিয়েছে। আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশটিতে আবার লোক পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গৃহস্থালি কাজের জন্য বর্তমানে ১৯টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে লোক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।  বাংলাদেশ এই বাজার দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য  খোলার অনুরোধ করেছে দেশটিকে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়টির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গৃহস্থালি কর্মকান্ডের জন্য ড্রাইভার, মালী, বাবুর্চি, হাউস-মেইড ইত্যাদি কাজের জন্য লোক পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।’ এছাড়াও আমিরাতের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশটিতে কারাদ-প্রাপ্ত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে নেয়া এবং সে দেশে শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জেনে নেয়া বিষয়ে দুটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ‘এই দুটি চুক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি ছিল এবং আমরা সেটি স্বাক্ষর করেছি এবং আমরা আশা করি তারা তাদের শ্রম বাজার বাংলাদেশীদের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করবে।’ আমিরাতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী রয়েছে। মাঝে মাঝে নেতিবাচক কারণেও আলোচনায় আসে তারা। কারাভোগও করে। বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমিরাতে জেলে একটি ভালো সংখ্যক বাংলাদেশী আছে। এ কারণে আলোচনার সময়ে আমাদের অস্বস্তিকর পরিবেশে পড়তে হয়।’ বাংলাদেশে আরও বেশি পরিমাণে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে চায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে আমিরাতের পতাকাবাহী এমিরেটস ও ফ্লাই দুবাই  এর কার্যক্রম আছে। তারা তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়াতে চায়।’ এছাড়া তারা বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতে চায়। বাংলাদেশ সরকারেরও বিষয়টিতে সম্মতি আছে। এর জন্য বাংলাদেশ নাহিয়ান ট্রাস্টকে চট্টগ্রামে এ একটি জমি’র ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে  যুদ্ধ বহির্ভূত সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় আগ্রহী বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দেশটির সম্মতি আছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, তথ্য আদান-প্রদান, প্রশিক্ষণ, মহড়াতে অংশগ্রহণ এবং এ ধরনের সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দু’পক্ষে কথাবার্তা চলছে।