কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনীতে শিক্ষাতরীর বরণ-বিদায় অনুষ্ঠান

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ায় ত্রিমোহনীতে শিক্ষাতরীর উদ্যোগে সম্প্রীতি সভা, নবীন বরণ ও প্রবীন বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে জুগিয়াস্থ উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মুরছালিন সনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজী এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যপক ও সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোস্তফা জামাল হ্যাপি। এ সময় তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। দেশের নতুন প্রজন্মের লেখাপড়া শেষে একটি সনদপ্রাপ্ত হয়ে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করাই শুধু শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়, একজন শিক্ষার্থীকে চরিত্রবান, সৎ, দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হোক শিক্ষার মূল লক্ষ্য। সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠীই সমৃদ্ধশীল দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, বিএডিসি’র পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামান, উপ-পরিচালক আম্বিয়াতুন নেছা। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সরফরাজ আহমেদ ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মেরিন রুম্পার যৌথ পরিচালনায় এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ইমরান খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসরার কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক তারভীর সৈকত, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জনি, রক্তদান বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সবুজ, প্রচার সম্পাদক আবু সাঈদ, নারী বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া দোলা, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক উসাঈদ আম্মার রিপন প্রমুখ।

কালুখালী সরকারী কলেজে বাণী বন্দনা

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবীর বন্দনায় গতকাল রবিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালী সরকারী কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বাণীবন্দনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজ আঙ্গীনায় মনোরম পরিবেশে পূজা উদযাপনে পূজা অর্চনা পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক দিবাকর গোস্বামী। এসময় কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ আবুল হাসান সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি এবং উৎসবমূখর পরিবেশে পূজা উদযাপণ করায় সকলকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অন্যান্যের মধ্যে সহকারী অধ্যাপক অমরেশ কুমার সাহা, দিপু পাড়ই, সুশান্ত পাড়ই, নবারুন বিশ্বাস ও প্রদীপ সাহাসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পূজা অর্চনা শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

অর্থনীতিতে যেভাবে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ স্বর্গের মতো কোনো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নয়। কিছুদিন আগেও দেশটি ছিল দরিদ্র ও জনবহুল। তাছাড়া দেশটিতে শিক্ষার হারও ছিল অনেক কম আর দুর্নীতির পরিমাণও ছিল অনেক বেশি। মাঝে মধ্যেই দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সন্ত্রাসবাদ ও গণতান্ত্রিক অবস্থা ছিল প্রহসনমূলক। কিন্তু দেশটি অনেক বছর ধরে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বাংলাদেশই হবে আগামীর ‘এশিয়ান টাইগার’। গত বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক আট শতাংশ। যা নিয়ে টক্কর দিচ্ছে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশ ভারতকে। যেখানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক নিচে পাকিস্তান। তাছাড়া বাংলাদেশের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ যেখানে ৪৩৪ ডলার সেখানে পাকিস্তানের ৯৭৪ ডলার। আর বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন ডলার পাকিস্তানের তা চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলার। আর দেশটির প্রবৃদ্ধির বেশিরভাগটাই হয়েছে রফতানি থেকে। ১৯৭১ সালে শূন্য থেকে শুরু করলেও এখন যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে। পাকিস্তানের সেখানে মাত্র ২৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন। সুতা উৎপাদন না করেও পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, যেখানে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড আইএমএফ তাদের হিসাব অনুযায়ী অনুমান করছে, বাংলাদেশের বর্তমানে ১৮০ বিলিয়ন ডলারের ক্রম অগ্রসরমান অর্থনীতি ২০২১ সালের মধ্যে ৩২২ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে। তার মানে এটা দাঁড়ায় বর্তমানে গড়ে বাংলাদেশীরা পাকিস্তানিদের চেয়ে বিত্তবান। শুধু অর্থনৈতিক নয় অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসাধারণ উন্নতি করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ২০ লাখ আর পশ্চিম পাকিস্তানের ৩ কোটি ৩৭ লাখ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫০ লাখ হলেও পাকিস্তানের তা দাঁড়িয়েছে ২০ কোটিতে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রত্যাশিত গড় আয়ু যেখানে ৭২ দশমিক ৫ বছর সেখানে পাকিস্তানের ৬৬ দশমিক ৫ বছর। জাতিসংঘের শ্রম বিষয় আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএলও’র দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ নারী কাজের সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানে তা ২৫ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের দরিদ্র এই অংশটি কীভাবে এত উন্নতি করছে সেটাই দেখবার বিষয়। কেননা স্বাধীনতা লাভের মাত্র অল্প সময়ে তারা বেশ উন্নতি করেছে। কারণ তাদের এমন কোনো ভূ-কৌশলগত সম্পদ নেই যা যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা সৌদি আরবের কাছে বিক্রি করা যায়। তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তাছাড়া তাদের সেনাবাহিনীর উল্লেখ করার মতো কিছু নেই। আর এমন কোনো বিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা নেই যার ছায়াতলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটাই তাদের উন্নতির কারণ। যদি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয় তাহলে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান এখন দুটো ভিন্ন দেশ। কেননা দুই দেশের জাতীয় আগ্রহ সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশ তাদের ভবিষ্যৎ দেখছে ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে লক্ষ্য রেখে। তারা রফতানি বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো ইত্যাদি বিষয়ের ওপর জোরারোপ করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কিন্তু পাকিস্তানের এসব নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। পাকিস্তানের জন্য এসব বিষয় শিক্ষনীয় হতে পারে। ভারতের সঙ্গে ট্যাংক আর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিজেদের মেলালে চলবে না। এখনই সময় বাস্তববাদী হওয়ার। শুধু ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন আর সৌদি আরবের কর্তৃত্ব মেনে নেয়ার দিন শেষ করতে হবে। কেননা তারা আমাদের শেষ পর্যন্ত কিছেই দেবে না। পাকিস্তানের অবশ্যই যুদ্ধভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে এসে একটা শন্তিপূর্ণ অর্থনীতির দিকে মনোযোগী হতে হবে। আর তা নাহলে অর্থনৈতিক অবস্থা আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।

কালুখালীতে গান্ধিমারা যুব ও ক্রীড়া সংঘের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

ফজলুল হক ॥ গতকাল রবিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে গান্ধিমারা যুব ও ক্রীড়া সংঘের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বিকাল ৪টায় গান্ধিমারা বাসষ্ট্যান্ড মোড়ে সংঘের অফিস কার্যালয় থেকে এলাকার ১৬০ জন অসহায় দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শৃংখলার সাথে এ কম্বল বিতরণকালে সংঘের সভাপতি সাকিব হাসান সাচ্চুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক ও মদাপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবিএম রোকনুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ইউসুফ হোসেন শেখ, মদাপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি ইউসুফ হোসেন মাষ্টার, সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, মদাপুর ইউপি সদস্য ও সংঘের উপদেষ্টা মোঃ জিলাল মোল্লা,  সুশীল কুমার বিশ্বাস, মোঃ আনোয়ার হোসেন, সৌদি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম মানিক, সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, সহ-সভাপতি এস এ সেলিম, মোঃ আজাদ মন্ডল, সহ সাধারণ সম্পাদক রফিক খান, সদস্য শরিফুল ইসলাম,  মোঃ রাসেল, লিমন, প্রল্লাদ, লিটন, নয়ন ও মিঠু সহ সংঘের অন্যান্য সদস্য ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কম্বল বিতরণ শেষে সভাপতি সাকিব হাসান সাচ্চু তার সমাপনী বক্তব্যে এ কম্বল বিতরণের আর্থিকভাবে সাহায্য করা ব্যক্তিদের বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামাীতে এলাকার অসহায় দরিদ্রদের মাঝে এর থেকে বেশি পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করার অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঝিনাইদহে আড়ম্বরে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে আড়ম্বরে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার সকাল থেকেই জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও  মন্দিরগুলোতে ভীড় জমাতে থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বলীরা। জ্ঞান লাভের আশায় মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা। চলে হাতে খড়ি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও চলে পূজা। পূজা চলাকালীন সময় উলু ও শঙ্খ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে প্রতিটি পূজামন্ডপ। শেষে ভক্তদের মধ্য বিতরণ করা হয় প্রসাদ। এ বছর জেলা শহরসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লায় ছোট-বড় অন্তত ১ হাজার মন্ডপে একযোগে এই সরস্বতী পূজা পালিত হচ্ছে।

ইবি ভিসির শোক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এক শোকবার্তায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ খসরুল আলম মানিকের মাতা তোতা বিবি’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি, মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। অপর পৃথক পৃথক শোকবার্তায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ খসরুল আলম মানিকের মাতা তোতা বিবি’র মৃত্যুতে  গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। প্রেরিত শোকবার্তায় তাঁরা, মরহুমার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রুমা সীমান্তে মিয়ানমারের দেড়শ বৌদ্ধ শরণার্থী

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী দেড় শতাধিক মানুষ এক সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের সীমান্তে অবস্থান করছে। গত ৪ ফেব্র“য়ারি তারা সীমান্তের চইখ্যং পাড়া এলাকায় ৭২ নম্বর পিলার বরাবর শূন্যরেখায় অবস্থান নেন বলে রুমা উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক  শৈহ্লাচিং মারমা জানান। তখন থেকে তারা শূন্যরেখায় তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে রয়েছে রাখাইন, খুমি ও খ্যও সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ ও শিশু। খোলা জায়গায় তীব্র শীতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। বাংলাদেশের স্থানীয় বম সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী উগ্রপন্থি বৌদ্ধদের নিপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে রাখাইন রাজ্যের মুসলমানরা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে। সে থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি মুসলমান এখানে আশ্রয় নিয়েছে। ওই সময় তাদের সঙ্গে কয়েকশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী এলেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোক আসেনি। পালিয়ে আসা লোকজনের ভাষ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের ‘চিন’ ও ‘রাখাইন’ রাজ্যে সেখানকার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাত চলছে। সংঘর্ষের মাঝে থাকায় প্রাণ ভয়ে তারা এখানে পালিয়ে আসে। চিন রাজ্য থেকে আসা চহ্লামং রাখাইন সাংবাদিকদের বলেন, “চিন রাজ্যে কান্তালাং পাড়ার কাছে খুব যুদ্ধ চলছে। ভয়ে আমরা পালিয়ে এসেছি।” একই রাজ্যের খামংওয়া পাড়ার বাসিন্দা মংছেংশে রাখাইন বলেন, “আমাদের এলাকায় সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্র, হেলিকপ্টার দিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। এ কারণে ২২ পরিবারের ৮০ জনের বেশি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসেছি।” রুমার স্থানীয় সাংবাদিক শৈহ্লাচিং মারমা বলেন, পালিয়ে আসা লোকজনের মধ্যে বেশি আছে রাখাইন সম্প্রদায়। রাখাইন ২৩ পরিবারে রয়েছে পুরুষ ৩৩ জন, নারী ৩৫ জন ও শিশু ২৩ জন। নয় পরিবার খুমি সম্প্রদায়ের রয়েছে পুরুষ ৯ জন, মহিলা ১০ জন ও শিশু ১৬ জন। খ্যও সম্প্রদায়ের ছয় পরিবারের রয়েছে ৮ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা ও ২০ জন শিশু। রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়াডের্র সাবেক সদস্য রামতাং বম বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক মিয়ানমরের নাগরিক পালিয়ে এসে চইখ্যং পাড়ার পাশে ৭২ নম্বর পিলারের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। আপাতত তাঁবু খাটিয়ে আছে তারা। তবে শীতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রামতাং বম আরও জানান, রুমা উপজেলা সদর থেকে কেওক্রাডং পর্যন্ত যেতে হয় জিপ বা মোটরসাইকেলে। সেখান থেকে সীমান্তের চইখ্যং পাড়ার দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। এই দূরত্ব যেতে হয় হেঁটে, যাতে সময় লাগে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। “স্থানীয় বম সম্প্রদায়ের লোকজন এক সপ্তাহ ধরে তাদের খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।” এ প্রসঙ্গে রুমা ইউএনও শামসুল আলম বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের করার কিছু নেই। বিষয়টি বিজিবি দেখবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার জহিরুল হক বলেন, আশ্রয় নেওয়া লোকজনের সঙ্গে বিজিবির কথা হয়েছে। সংঘাতময় এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা কয়েক দিনের মধ্যে চলে যাবে। তবে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

 

হুইল চেয়ারে সংসদে এরশাদ

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদে পৌঁছানোর পর হুইল চেয়ারে বসে তিনি সংসদে প্রবেশ করেন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে সংসদের উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির কো- চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরও বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। এরপর ৩ জানুয়ারি দলের নির্বাচিত অন্যান্য সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও অসুস্থতার কারণে শপথ নিতে পারেননি জাপা চেয়ারম্যান। পরে ৬ জানুয়ারি তিনি শপথ গ্রহণ করেন। অসুস্থতার কারণে এতদিন অধিবেশনে তিনি যোগ দিতে পারেননি। এর মাঝে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

ভিটামিন ‘এ’ খেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়নি – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে যে শিশুটির মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে সে গলায় ভাত আটকে মারা গেছে। গতকাল রোববার রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) আইএসও সনদ অর্জন এবং দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবারের মান সম্পর্কিত গবেষণাকাজের ফলাফল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাহিদ মালেক বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) দেশব্যাপী পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে সোয়া দুই কোটি শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়েছে। ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় যে শিশুটির মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে তার মৃত্যু ভিটামিন এ ক্যাপসুলে হয়নি। শিশুটি টিকা খেয়ে বাড়ি গিয়ে চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার পর শিশুটির মা খাবার খাওয়ানোর সময় খাবার গলায় আটকে মৃত্যু হয় তার।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাপতি প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক নির্মল সেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর বমি ও পাতলা পায়খানায় সুনিত নামের এক শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়। এতে আরও পাঁচ শতাধিক শিশুর আক্রান্ত হওয়া এবং তারে একটি অংশ হাসপাতালে ভর্তি বলে বলা হয়। স্বজনরা জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে সরিষাবাড়ীর গণময়দান এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে ১৫ মাসের সুনিতকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। বাড়ি ফেরার পর তার বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকাল চারটার দিকে মারা যায় সে। শিশুটি এই হাসপাতালের এক কর্মচারীর সন্তান বলে জানান জামালপুরের সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় কিং ব্র্যান্ড সিমেন্টের “রাজসভা”

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় দেশ সেরা বসুুন্ধরা গ্র“পের কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট এর পরিবেশক, রিটেলার ও রাজমিস্ত্রিদের নিয়ে “রাজসভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাব অডিটোরিয়ামে কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলার পরিবেশক, রিটেলার ও রাজ মিস্ত্রিদের নিয়ে “রাজসভা” অনুষ্ঠিত হয়। রাজসভায় কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট কুষ্টিয়া বিশ^াস ট্রেডার্সের সত্ত্বাধীকারি তহিদুর রহমান বেলালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনার ডিভিশনাল সেল্স ম্যানেজার মো. নূরুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করে তার সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছে। কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে মজবুত ও শক্ত নির্মাণে কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট সেরা। তিনি আরো বলেন, আপনারা যারা রাজমিস্ত্রী আছেন তারা আমাদের কোম্পানীর এক এক জন অ্যাম্বাসেডর। আপনাদের উপরেই নির্ভর করে আমাদের বাজার। আপনাদের সহযোগিতায় কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট আরো এগিয়ে যাবে। বসুন্ধরা গ্র“পের পক্ষ থেকে রাজমিস্ত্রীদের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্র“প দূর্ঘটনা কবলিত রাজমিস্ত্রীদের জন্য কল্যাণ ট্রাষ্টের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা করে থাকে। আপনাদের সুখে-দুঃখে বসুন্ধরা গ্র“প সব সময় পাশে আছে এবং ভবিষ্যতও থাকবে। রাজ সভায় রাজমিস্ত্রীদের পক্ষ থেকে রাজমিস্ত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট দিয়ে নির্মান কাজ করে আসছি। কিং ব্র্যান্ড সিমেন্ট আমার মতো হাজার হাজার রাজমিস্ত্রীর আস্থা অর্জন করেছে। আমরা নিবিঘেœ এ সিমেন্টের উপরে ভরসা করি। রাজ সভায় কিং ব্র্যান্ড সিমেন্টের সিনিয়ার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মো. কাওসার হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম, কুষ্টিয়া শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গণেষ চন্দ্র, কিং ব্র্যান্ড সিমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার রবিউল আওয়াল, রিট্রেলার শরিফুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন  প্রমুখ। অনুষ্ঠানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কিং ব্র্যান্ড সিমেন্টের সিনিয়ার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মো. কাওসার হোসেন। এসময় কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলার কিং ব্র্যান্ড সিমেন্টের সেলস কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭০জন রাজমিস্ত্রি ও  রিটেলার্সসহ শতাধিক লোক অংশ  নেয়। অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র এর মাধ্যমে ১০ জন রাজমিস্ত্রিদের পুরস্কৃত করা হয়।

রিজার্ভ চুরি

আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ সিআইডি

ঢাকা অফিস ॥ রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়ের করা মামলায় সিআইডি আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পিছিয়ে গেছে তারিখ। তদন্ত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ১৩ মার্চ নতুন তারিখ পড়েছে।  বুধবার সিআইডি প্রতিবেদন না দেওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী নতুন দিন ঠিক করেন। আদালত পুলিশের কর্মকর্তা এসআই জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, এ নিয়ে ৩১ বারের মতো পেছাল প্রতিবেদন জমার সময়। সব শেষ গত ৯ জানুয়ারি একই বিচারক তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়ে ১০ ফেব্র“য়ারি রেখেছিলেন। সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে রিজার্ভের অর্থ চুরির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৪ ও ৩৭৯ ধারায় করা মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করা এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দিন ধার্য করে দিয়েছিল আদালত। ২০১৬ সালের ফেব্র“য়ারিতে সুইফট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপিন্সের রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকে। ওই অর্থ স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধারের বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তারও কোনো হদিস মেলেনি। ওই অর্থ উদ্ধারে গত ৩১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা উগ্রবাদকে উৎসাহিত করতে পারে, যা গোটা অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হয় তাহলে তা উগ্রবাদের পরিস্থিতি সৃষ্টিকে উৎসাহিত করতে পারে এবং তা শুধু মিয়ানমার ও বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।’ গতকাল রোববার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় যৌথভাবে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ ও মানবাধিকার’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। ড. মোমেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদেরকে অবশ্যই যততাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টিতে রোহিঙ্গা নিধন হচ্ছে মিয়ানমারে ‘নৃতাত্ত্বিক নির্মূল অভিযান-এর ক্ল্যাসিক্যাল উদাহরণ’ এবং অন্যদের দৃষ্টিতে এটা ‘গণহত্যা’। জঘন্যতম এই মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় তৎপরতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নয়, এই সংকটটিকে তার উৎস মূলে (মিয়ানমার) সমাধান কবার জন্য বিশ্ব নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে।’ ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি শত শত বছর যাবৎ মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে এবং রাষ্ট্র হিসাবে মিয়ানমার তার নিজের জনগনের জন্য বাধ্যবাধকতা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। মিয়ানমারের প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাসিন্দা বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, যত শিগগির সম্ভব তাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করানো প্রয়োজন। মিয়ানমার এই সংকটের সৃষ্টি করেছে এবং এটা সমাধান করা তাদেরই দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের নির্যাতিত জনগণকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বদনাম ও কলঙ্ক থেকে রক্ষা করেছেন।’ এই নির্যাতিত জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মানবতার রোল মডেল’ এবং ‘মানবাধিকার ও মূল্যরোধ রক্ষায় বিশ্বের নেতা’য় পরিনত হয়েছেন। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো পুনরায় বিপুলভাবে ভোট দিয়ে বাংলাদেশকে সংস্থাটির মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নির্বাচিত করেছে। তিনি সুশীল সমাজ, আমলা, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, গনমাধ্যম সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ও ‘মানবাধিকারের সংস্কৃতি’র বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মানবাধিকার রক্ষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার আহবান জানান। বাংলাদেশের নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সকল নাগরিকের মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো।

গাংনীতে ডিএডি-কে জিম্মী করে চিৎলা ফার্মের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিক নেতা আলম

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলা ভিত্তি পাট বীজ খামারের ডিএডি-কে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মী করে ফার্মের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় শ্রমিক আলম  হোসেন। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার করে প্রতিদিনই ফার্মের কর্মকর্তাসহ শ্রমিকদের সাথে কথা কাটাকাটি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে। ১৫ /২০ বছর যাবত কর্মরত (নিয়োজিত) মাঠ শ্রমিকদের সাথে প্রায়শঃ খারাপ আচরণ করছে আলম নামের লেবার মেম্বর। গতকাল রোববার সকালে কর্মরত শ্রমিকদের উত্তর ব্লক থেকে  কোন কারণ ছাড়াই জোরপূর্বক ফার্ম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাংবাদিকরা তাড়িয়ে দেয়া শ্রমিক খোকন, সোহেল ও আজিজুলের সাথে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সেই দুর্ধর্ষ আলম রাগান্বিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনেই সোহেলকে হাতে থাকা নিড়ানী দিয়ে কুপিয়ে খুন করতে উদ্যত হয়। সে বার বার বলতে থাকে সাংবাদিকদের সামনে কোন কথা বলবি না। এখান থেকে চলে যা নইলে তোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এইভাবে হুমকি দিতে থাকে। দলীয় নেতার পরিচয় জানতে চাইলে সে সাংবাদিকদের জানাবে না জানায়। পরে তার সহোদরের কাছে জানা গেল এই আলম গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের ফার্মপাড়ার (দক্ষিণপাড়া) মৃত নফর আলীর ছেলে। এমপির সুপারিশ পেয়ে সে এখন ধরাকে শরা জ্ঞান করছে বলে জানা গেছে। শ্রমিক খোকন ও সোহেল জানায়, আমরা ১০/১২ বছর ধরে এই ফার্মে শ্রমিক হিসাবে কর্মরত আছি। এই উত্তর ব্লকে ৫০ জন লেবার থাকে সিজিনাল ও ২০ জন লেবার থাকে পার্সনাল । নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও প্রভাব বিস্তার করতে হঠাৎ দলীয় প্রভাব দেখিয়ে নবনির্বাচিত এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে নতুনভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত লেবার সর্দার আলম মেম্বর আমাদের কাজ করতে নিষেধ করে।সাথে সাথে ফার্মের উত্তর ব্লকের সমস্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। মধ্য ও দক্ষিণ ব্লকের কাজ চললেও উত্তর ব্লকের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানালে তিনি দম্ভভরে ডিএডি মোমিনুল হক ভুঁইয়াকে শাসিয়ে দেন এবং বলেন এই ফার্মে আমি যা বলবো সেভাবে চলবে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, উক্ত ফার্মের উত্তর ব্লকের লেবার মেম্বর চিৎলা গ্রামের জয়নাল আবেদীনকে অপসারণ করে সম্প্রতি আলম লেবার সর্দারের দায়িত্ব পায়। সে নতুনভাবে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের প্রভাবশালী রহিদুল, খোকন ও রাজ্জাককে (সম্পদশালী) লেবার হিসাবে অন্তর্ভক্ত করার জন্য এই চক্রান্ত করছে। এ ব্যাপারে উত্তর ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএডি মোমিনুল হক ভুঁইয়া জানান, আমি নতুন এসেছি। আলম একজন খারাপ লোক। সে সবার সাথে খারাপ আচরণ করে ফার্মের পরিবেশ নষ্ট করছে। দলীয় প্রভাব বিস্তার করে লেবারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিদিনই ফ্যাসাদ করছে। ফলে ফার্মের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে গমের ব্লাষ্ট প্রতিরোধে প্রতিষেধক ¯েপ্র করা, গোল আলু তোলার প্রস্তুতি, আলু ক্ষেতের গাছ কেটে মাটি  চাপা দেয়া, ধান রোপন ইত্যাদি উৎপাদন কার্যক্রম  বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন নিরুপায়। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে আমি জানিয়েছি। এনিয়ে কথা বলতে চাইলে ফার্মের জেডি নাজমুল হুদা ছুটিতে থাকায় বার বার মোবাইল ফোনে  যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

খয়েরপুরে ৩ দিনব্যাপি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খয়েরপুরে তিন দিনব্যাপী ১৩তম বাৎসরিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আমলা ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে খয়েরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৩ দিনব্যাপী এ তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনের উদ্বোধন করেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা। আমলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা। এসময় তিনি বলেন, আমাদের সকলের উচিৎ মুসলমান হিসাবে ইসলামী বিধান ও আইন কানুন মেনে জীবন যাপন করা। হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সকলে একসাথে বসবাস করা। গরীব দুখিদের পাশে গিয়ে দাড়ানো। পিতা মাতার সেবা করা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন, ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য বকুল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা রমজান আলী, হাজ¦ী মোজাফ্ফর হোসেন, আব্দুস কুদ্দুস মোল্লা, মোবারক হোসেন মুরাদ, আমলা ইউনিয়ন জাসদের সহ-সভাপতি একরামুল হক ফকু, ব্যরিষ্টার রাশিবুল ইসলাম বিদ্যুতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তিনদিন ব্যাপি এ তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে প্রধান তাফসির কারক হিসাবে তাফসির পেশ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মোফাচ্ছেরে কোরআন মাওলানা মোহাঃ একরামুল হক। বিশেষ তাফসির কারক হিসাবে তাফসির পেশ করেন মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ মিরাজ। তাফসির শেষে দেশ ও জাতীর কল্যানের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঝিনাইদহের ২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন এখনো শিশু !

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন “শিশু” কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারে। তার স্থান এখনো মায়ের কোলে। হাটতে পারে না। বয়স বাড়লেও বাড়েনি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। নেই শরীরের কোন পরিবর্তন। যে বয়সে পড়ালেখা বা বিয়ের রঙ্গিন স্বপ্ন থাকার কথা সেই বয়সেও চম্পা মানুষের কোলে চেপে বসে থাকে। বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধি হিসেবে সমাজসেবা থেকে তার নাম নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং ১৯৯৯৪৪১১৯৮৯৯৮৯৭৯০-১১) হলেও এখনো ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড। চম্পা খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের বংকিরা গ্রামের হাসেম মোল্লার মেয়ে। চম্পা খাতুনের মা মিনুয়ারা বেগম জানান, ১৯৯৯ সালের ২৮ এপ্রিল চম্পা খাতুনের জন্ম। জন্মের পর থেকে সে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধি। আচরণ করে শিশুর মতো। কোন কথা বলতে পারে না। কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারে। সারাক্ষন মানুষের কোলে কোলেই তার দিন কাটে। বড় বোন ময়না খাতুন জানান, ২০ বছর বয়স হলেও চম্পা এখনো শিশুর মতোই রয়ে গেছে। তার পিতা হাসেম মোল্লার মেয়েকে চিকিৎসা করানোর মতো সঙ্গতি নেই। এ জন্য তারা চম্পার জন্য একটি প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা সমাজসেবা থেকে ২০১৬ সালে প্রতিবন্ধি হিসেবে চম্পার নাম নিবন্ধিত হলেও সেখানে মোছাঃ চম্পার খাতুনের স্থলে ভুলক্রমে মোঃ চাকমা খাতুন লেখা হয়েছে। নাম সংশোধনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও ময়না খাতুন জানান। প্রতিবন্ধি ভাতা না হওয়া প্রসঙ্গে এলাকার ইউপি মেম্বর এনামুল হক ডালু বলেন, বছরে দুইটি কার্ড পায়। কার রেখে কার দেব ? তবে পর্যায়ক্রমে চম্পা খাতুনকেও দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন এখনো “শিশু” থাকার বিষয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও ঝিনাইদহের প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অলোক কুমার সাহা জানান, এই রোগটিকে বলে হাইপো থাইরয়েডিজম চিকিৎসা করালে রোগটি ভাল হতে পারে। হয়তো অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে তারা পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন ঝিনাইদহ জেলায় নানা বয়সী এমন রোগী আছে। থাইরয়েড পরীক্ষার পর এই রোগের চিকিৎসা শুরু করতে হয় বলেও তিনি জানান।

 

সাংবাদিক রিজু’র বড় ভাই শাহজাহানের ইন্তেকাল

নিজ সংবাদ ॥ দীর্ঘ ৭ দিন মৃত্যু’র সাথে পাঞ্জা লড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন শাহজাহান আলী (ইন্না লিল্লাহি.. রাজেউন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার সম্পাদক হাসিবুর রহমান রিজুর বড় ভাই। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা সময় ঢাকার জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডসশীপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শাহজাহান আলী গত সোমবার ব্রেইনস্ট্রক করলে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় ঢাকাতে প্রথমে সমরিতা হাসপাতাল, পরে ঢাকার পিজি হাসপাতাল ও সর্বশেষ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডসশীপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঢাকাতে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শাহজাহান আলীর মৃত্যুর সংবাদে তার শুভাঙ্খীরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিভিন্ন মাধ্যম শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে সহ বহু আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। তার মেয়ে ডাঃ আরিফা আক্তার সজনী, ডাঃ উম্মে ঝুমান আরিফা মৌসুমী, ডাঃ আরিফা আক্তার জ্যামি ও ছেলে ডাঃ আল আউলা চিশতী।

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

নিয়ামুল হক ॥ কুষ্টিয়ায় ২দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০১৯ এর উদ্বোধন করা হয়েছে । গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, জেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী। এসময়  জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ৫ শতাধিক ক্রীড়া প্রেমিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। টুর্নামেন্টে জেলার ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। আজ ১১ ফেব্র“য়ারি  সোমবার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায় আছেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও দিশা।

কুমারখালীতে গৃহবধু ফাতিমার আত্মহত্যার নেপথ্যে

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ পারিবারিক কলহের জেরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী  পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাটিকামারা গ্রামের রাজুর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি চক্র। এ ঘটনার প্রকৃত কাহিনী উদঘাটনে নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে প্রকৃত সত্য ঘটনা। অথচ মিথ্যা পরকিয়ার নাটক সাজিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে ফাতিমার স্বামী রাজু। আর এই কাজে সহযোগিতা করছে তার নেশার সঙ্গীরা। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে  নেশাগ্রস্ত রাজু তার স্ত্রী ফাতিমাকে মরধরসহ যৌতুক দাবি করে আসছিল। একসময় এই দুই পরিবারে সম্পদ থাকলেও বর্তমানে  পৈত্রিক বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। রাজুর বেকার জীবনে দুই সন্তানের ভরণপোষনে হিমসিম অবস্থা। এরপর আবার নেশার টাকা জোগাড় করতে আরো বেকায়দায় পড়তে হয়। একারণে তাদের সংসারে বিবাদ লেগেই থাকতো। আর তার স্ত্রী ফাতিমার বাবা একসময় বড় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর এখন তেমন  কোনো সম্পদ-সম্পত্তি নেই। এরপরও নেশাগ্রস্ত রাজুর টাকার আবদার পূরণ করতে না পেরে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। কারণ ভাইদের সংসারে ফাতিমার মা থাকেন। তারাও নিরুপায়। এই বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এরইমধ্যে রাজুর ভাবি আন্নার উষ্কানিতে বেশ কয়েকবার ফাতিমাকে বের করে  দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিরুপায় ফাতিমা নির্যাতন সহ্য করেই শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। একই বিরোধে ৯ ফেব্র“য়ারি শনিবারও তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। এরপর রাজু বাড়ি থেকে বের হয়ে  গেলে ফাতিমা দুই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে রান্না শুরু করেছে। ভাত-ডাল-ভাজি রান্নার পর বড় জা আন্না তার সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। এক পর্যায়ে ফাতিমা বাড়িতে থাকা হারপিক পান করে। এ ঘটনার পরপরই তাকে কুমারখালী হাসপাতাল এবং পরে কুষ্টিয়া  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মারা যায়। এরপর নিজেকে রক্ষা করতে পারিবারিক বিরোধ এবং নির্যাতনের বিষয়টি আড়াল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে রাজু। তার সঙ্গে যোগ দেয় দীর্ঘদিনের নেশার সহযোগিরা। হাসপাতালেই ফাতিমার ছোট বোন এবং মাকে জোরপূর্বক লিখে নেয়ার চেষ্টা করে, পরবর্তিতে তারা রাজুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করবে না এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই মরদেহ হাসপাতাল থেকে বের করার  চেষ্টা চালায়। কিন্তু ফাতিমার দুই ভাই তখনও হাসপাতালে না  পৌঁছানো এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে। এরপরও এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজনকে দিয়ে তৎপরতা চালাতে থাকে। তবে তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে পোস্টমর্টেম শেষে রোববার বিকেলে বাটিকামারা কবরস্থানে ফাতিমাকে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে, জেল-হাজত খাটা রাজুর নেশার সঙ্গীরা ফাতিমার ছোট  বোনের জামাইয়ের সঙ্গে পরকিয়ার নাটক সাজিয়েছে। তারা সঙ্গে নিয়েছে সাংবাদিক নামধারি কয়েকজনকে। যারা ফেসবুক এবং ইউটিউবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। জানা গেছে, স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে এরআগেও বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ফাতিমা। এবার আত্মহত্যার আগে স্বামী রাজু এবং বড় জা আন্নাকে দায়ি করে একটি চিরকুটও লিখে যায় বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে। তবে, ফাতিমাকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই রাজু এবং তার ভাবি আন্না  সেই চিরকুট গায়েব করে দেয়। এও জানা গেছে, ফাতিমাকে বাড়ি ছাড়া করা গেলে পুরো সংসারের কর্তৃত্ব পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে নানা উষ্কানিমূলক কথা বলে রাজুর কান ভারি করে আসছিল তার ভাবি আন্না। রাজুর পাশের বাড়ির এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফাতিমাকে মাঝেমধ্যেই মারধর করতো রাজু। আর বাড়িতেই স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে নেশার আড্ডা বসাতো। ফাতিমা ভাল মেয়ে ছিল বলেই এতোদিন সংসার করেছে। তার ভাবি আন্না এবং রাজুর কুটচালেই ফাতিমা আত্মহত্যা করেছে বলে জানান তিনি। তিনি এও জানান, দেখলাম রাজু এবং তার নেশার সঙ্গীরা এখন খুব তৎপর। যারা সন্ধ্যার পর ওদের বাড়ির আঙিনায় নেশার আড্ডা বসায়। তারাই এখন নেশার অন্যতম সঙ্গী রাজুকে রক্ষা করতে পরকিয়ার নাটক সাজিয়েছে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন- “কেউ পরকিয়া করলেই কি আত্মহত্যা করে? ” প্রকৃত অপরাধী রাজু এবং তার ভাবি আন্না। এই দু’জনের বিচার হওয়া উচিত। আর যারা ফেসবুক-ইউটিউবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়ায়ে অনেকের মানহানি করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হওয়া উচিত। পারিবারিক কলোহের জেরে একজন গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। তার পেছনে বা আগে ঘটনা যাই থাকুক তার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করাই একজন সংবাদ কর্মির কাজ হওয়া উচিত। কিন্তু তা না করে এক পেশে প্রকৃত তথ্যকে বাদ দিয়ে মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করা প্রকৃত সাংবাদিকতার পরীপন্থি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।

পৃথিবীটা ক্ষণিকের কিন্তু কর্মফল অনন্তকালের, এখনও সময় আছে এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে বাইরে রাখার ‘উদ্দেশ্য হাসিলের’ পর এবার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, “মিথ্যা দন্ড দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার সাধ পূর্ণ করলেন, এবার মুক্তি দিন। প্রধানমন্ত্রী আপনি দেয়ালের ভাষা পড়–ন, চারিদিকে মানুষ চোখে-মুখে কী বলছে, বোঝার চেষ্টা করুন। পৃথিবীটা ক্ষণিকের, কিন্তু কর্মফল অনন্তকালের। এখনও সময় আছে, এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন।” দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবাসের বছর পূর্ণ হওয়ার দুদিন পর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন রিজভী। জিয়া এতিমখানা ও দাতব্য ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের দুটি মামলায় দন্ড নিয়ে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। ফৌজদারি মামলায় দন্ডিত হওয়ায় তিনি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। আদালতকে ব্যবহার করে তাদের নেত্রীকে জেলে রাখা হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তার কর্মফল ভোগ করছেন এবং এক্ষেত্রে আদালতের উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আপনি অনুগ্রহ করে ফেরাউন-নমরুদ-হিটলার অথবা কল্পরাজ্যের হিরকের রাজাকে টেক্কা দেওয়ার প্রতিযোগিতা করবেন না। দুই কোটি টাকার মিথ্যা মামলায় তাকে একবছর কারারুদ্ধ করে রাখা অন্যায়, অবিচার ও জুলুম।” সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাধবায়ক সরকার আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন তার মাথার উপর ১৫টি দুর্নীতি মামলা ছিল। সেগুলো আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। “আর বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলোকে চলমান রেখে এখন সাজা দেওয়া হচ্ছে আইন-আদালতকে কব্জা করে। উদ্দেশ্য তাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।” কারাঅন্তরীণ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, “তার অসুস্থতা দিনে দিনে বাড়লেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে। চোখে প্রচন্ড ব্যথা, পা ফুলে গেছে, হাঁটতে পারছেন না। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার পূর্বের অসুস্থতা এখন আরও গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। “এইরকম শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও অমানবিকভাবে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ছোট্ট অপরিসর কক্ষের ক্যাংগারু আদালতে তাকে ঘন ঘন হাজির করা হচ্ছে। চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার জিঘাংসা চরিতার্থ করে চলেছে সরকার।” খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার একবছর পূর্তিতে শনিবার চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা এবং বরিশালের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিনকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান রিজভী।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটে অনিয়মের ঘটনায় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রিজভী। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কথা-বার্তা হচ্ছে, এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মামলায় যাব কী যাব না, কীভাবে যাব, সব আসন থেকে যাব কি না, এটা আলাপ-আলোচনার মধ্যেই আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেব।” ভোটের পর বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা দিয়েছিল, তারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আসনভিত্তিক মামলা করবে। শনিবার বিকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন আসনের প্রায় ৩০/৪০ জন ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, সেলিম রেজা হাবিব।

‘জলবায়ু মোকাবেলায় সক্ষমতা না বাড়ালে বিপদ’

ঢাকা অফিস ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে বিপদের আশঙ্কা করেছেন তারা। এ ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ না নিলে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাইরের সহযোগিতার দিকে না তাকিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শও দেন তারা। রোববার ঢাকার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত ‘এসডিজি ১৩: জলবায়ু কার্যক্রম’ বিষয়ক এক সেমিনারে তারা এই অভিমত দেন।  গণমানুষের কণ্ঠস্বর: বাংলাদেশে ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্লাটফর্ম আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন। বক্তব্য দেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিন। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’ এসডিজির এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিবেশ মন্ত্রণালয় সরাসরি কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সব অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত কার্যকরভাবে মোকাবেলায় বেসরকরি সংস্থার উদ্যোগসমূহে স্থানীয় সরকারকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় এখনই উদ্যোগ নেয়া না হলে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ, অভ্যন্তরীণ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত ও স্থানীয় পর্যায়ে তা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি এসব কাজের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, যথাযথ সমন্বয় এবং নিরবচ্ছিন্ন তদারকি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাগত বক্তব্যে আবদুল করিম জলবায়ু বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে পিকেএসএফ। পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে এসডিজি অর্জনে সক্ষম হবে। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের দিকে না তাকিয়ে নিজেদেরকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।

ঢাকা উত্তরে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচনে প্রতীক পেলেন প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ প্রার্থী। সেই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণের সম্প্রসারিত ৩৬টি  সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম তার এলাকার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। দক্ষিণের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং রকিব উদ্দিন মন্ডল। ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম নৌকা, জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ  লাঙল, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান আম, স্বতন্ত্র আব্দুর রহিম টেবিল ঘড়ি, পিডিপির শাহীন খান বাঘ প্রতীকে লড়বেন। শনিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঢাকা উত্তরে একজন মেয়র প্রার্থী এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন মোট ৬৮ জন প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আবুল কাসেম বলেন, “প্রতীক পেয়েই প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা। ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচার প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।” অর্থাৎ ২৬ ফেব্র“য়ারি রাত  ১২টা নাগাদ সবাই প্রচার চালাতে পারবেন। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটির ৯ ও ২০ নম্বর ওয়াডেঅর কাউন্সিলর মারা যাওয়ায় এ দুটিতে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মুজিব সরোয়ার মাসুম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে যাওয়ায় এ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। উত্তর দক্ষিণে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আড়াই শতাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন।