আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জামিরুল ইসলামের জন্মদিন পালিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক, শিক্ষক ও কবি খান মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম (জামিল)’র ৩৫তম জন্মদিন আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়েছে। তিনি বর্তমানে আলমডাঙ্গার বৈদ্যনাথপুর-হারদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। উল্লেখ্য ১৯৮৪ সালের ২রা ফেব্র“য়ারিতে তিনি সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম জালাল উদ্দিন খান ও মাতা মরহুমা হালিমা খাতুনের তিনি সেজো পুত্র। তিনি এক পুত্র সন্তানের জনক। তিনি তার জন্মদিনে সকলের নিকট দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করেছেন। শনিবার রাত ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা কলেজ রোডে অবস্থিত পদ্মা কম্পিউটার এডুকেশনে’র হলরুমে ওই জন্মদিন পালন করা হয়েছে। জন্মদিন অনুষ্ঠানে কবি হাবিবুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধ খন্দকার শাহ্ আলম মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন  প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, সাংবাদিক ও পদ্মা কম্পিউটার এডুকেশনের পরিচালক জ্যোতি উজ্জামান রহিম খান, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি এম.আজিজুল হক,  কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক সাহাবুল হক, সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৌমেন্দ্রনাথ সাহা, লক্ষণ, মানিক সুমন প্রমুখ।

সদরপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সন্তোষের দাফন সম্পন্ন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আব্দুল হকের বড় ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন সন্তোষ বিশ্বাস ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না….রাজিউন)। গতকাল রবিবার ভোরে সদরপুর ইউনিয়নের গোয়াবাড়ীয়াস্থ তার নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় গোয়াবাড়ীয়া বিশ্বাসপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিকেলে জানাযা নামাজে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামসুল আরেফিন অমূল্য, সদরপুর পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রহমত আলী রব্বান, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, প্যানেল চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন ভদু, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ডিন ড. জাফিরুল ইসলাম প্রমুখ। জানাযার নামাজে মহিউদ্দিন সন্তোষ বিশ্বাসের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তার এ মৃত্যুতে আমলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন।

 

জাপা কোনো পাতানো খেলায় নেই – জি এম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় জাতীয় পার্টি কারও ‘পাতানো খেলায়’ অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। গতকাল রোববার ঢাকার বনানীতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি কারো পাতানো খেলায় অংশ নেবে না। সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দল হতে যাবে না কখনোই। সংসদীয় গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী জাতীয় পার্টি প্রতিটি অধিবেশনে ভূমিকা রাখবে।” টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবার ২২টি আসন পেয়েছে জাতীয় পার্টি। আসন সংখ্যায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হওয়ায় এবারও জাতীয় পার্টি বসেছে প্রধান বিরোধী দলের আসনে। পার্টির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এবার মহাজোট সরকারে যোগ দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার তার সরকারে শরিকদের কাউকে রাখেননি। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঘোষণা দেন, তার দল এবার প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকাতেই থাকবে। আর তিনি নিজে হবেন বিরোধী দলীয় নেতা। দশম সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জাতীয় পার্টির তিন নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। এ কারণে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ আখ্যা পেতে হয়েছে এরশাদের দলকে। রোববারের অনুষ্ঠানে জি এম কাদের বলেন, সংসদে মাত্র ২২টি আসন পেলেও বিরোধী দল হিসেবে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে যাবেন। “সদস্য সংখ্যা কোনো বিষয় নয়, আমরা কতটা ভূমিকা রাখতে পারব সেটাই বড় কথা।” গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মাত্র আটটি আসন পাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারচুপির অভিযোগ এনে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে জি এম কাদের বলেন. “বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনাস্থা দিয়ে সরকার বদল করা যাবে না, শুধু নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন সম্ভব। তাই বিরোধী দলে ভূমিকা রেখেই রেখেই, জাতীয় পার্টি সাধারন মানুষের আস্থা অর্জন করবে। যাতে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।” জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁও দলের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালে সুরকার আলাউদ্দিন আলীকে দেখতে গেলেন ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ অসুস্থ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলীকে হাসপাতালে গিয়ে দেখে এসেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এই প্রখ্যাত সুরকার। বেলা ২টার দিকে বিএনপি মহাসচিব গুরুতর অসুস্থ আলাউদ্দিন আলীর শয্যার পাশে কিছু সময় অবস্থান করে তার চিকিৎসার খবর নেন। সুরকারের স্ত্রী ও মেয়ের সাথেও কথা বলেন তিনি। এ সময়ে সুরকার মনিরুজ্জামান মনির, কন্ঠশিল্পী মনির খান, চিত্রনায়ক হেলাল খান, জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন উপস্থিত ছিলেন। শ্বাসকষ্টে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২২ জানুয়ারি আলাউদ্দিন আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে ইউনিভার্সাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আলাউদ্দিন আলীর মেয়ে কণ্ঠশিল্পী আলিফ আলাউদ্দিন সেদিন বলেছিলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর তাৎক্ষণিকভাবে তার বাবাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া ফুসফুসে সমস্যা ছাড়াও রক্তে সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়াও আছে এই সুরকারের। ডা. দেলোয়ার হোসেন ও জাকির হোসেন সরকারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলীর জন্ম ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে। প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের গানে সুর দিয়েছেন তিনি।

আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস আজ সোমবার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে ও কাল দিবসটি পালিত হবে। ক্যান্সার রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এই রোগ প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই হবে দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ি, বাংলাদেশে বর্তমান ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় দু’লাখ লোক ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত এবং প্রায় দেড় লাখ লোক মারা যাচ্ছে। দিবসটি পালনে বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘আই এম এ- আই ওয়েল’। বিশ্ব্যব্যাপী ক্যান্সার রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমগ্র বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। প্রতি বছর ৪ ফেব্র“য়ারি এই দিবসটি পালিত হয়। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উদযাপন উপলক্ষে আজ মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান, এমআরআই, লিকুইড অক্সিজেন প¬্যান্ট এবং ডে-কেয়ার কেমোথেরাপির কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-এর উদ্বোধন করা হবে। এছাড়াও বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার এ- জেনারেল হাসপাতাল দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় এএমসিজিএইচ মিরপুর হাসপাতাল থেকে এক শোভাযাত্রা বের করা হবে। এছাড়াও পরেদিন একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

খোকসায় মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা ও মতামত বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য অফিসার রাসেদ হাসান। সভায় অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভৃুমি) সাদিয়া জেরিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বেতবাড়ীয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাবুল আখতার, মৎস্য চাষী মুহম্মদ আলী, সাবেক খোকসা ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন বাটু, খোকসা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও মৎস্য চাষী শেখ সাইদুল ইসলাম প্রবীন, লালন প্রমূখ। এছাড়াও উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষী, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মর্জিনা খাতুনের গণসংযোগ

হাবিবুর রহমান ॥ আসন্ন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন সুনামধন্য ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক জাতীয় স্বর্ণপদক প্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ, জাতীয় সাঁতার কোচ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মধু মন্ডলের মেয়ে মর্জিনা খাতুন। তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। গতকাল রবিবার দিনব্যাপি তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মিরপুর উপজেলার আমলা, সদরপুর, মালিহাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণমানুষের সাথে মতবিনিময় করেন এবং দোয়া ও সমর্থন চান। মতবিনিময়কালে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মর্জিনা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি সাধারন মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমার পিতা একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার আদর্শে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হয়ে আগামীতে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। বিশেষ করে অবহেলিত জনগনসহ মহিলাদের অধিকার আদায়ের লক্ষে কাজ করতে চাই। তৃণমূলে রয়েছে মর্জিনা খাতুনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এখন পর্যন্ত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনি মিরপুর উপজেলায় রয়েছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।  মর্জিনা খাতুন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকাবাসীর দোয়া ও জনমত সৃষ্টি করতে দিনব্যাপী গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

ভুয়া জন্মদিন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদের মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৯ ফেব্র“য়ারি

ঢাকা অফিস ॥ মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামি ১৯ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর আসামি পক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এর আগে গত বছরের ৩১ জুলাই এই দুই মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় খালেদা জিয়া এখন কারাগারে রয়েছেন। আদালতকে এ তথ্য জানিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়াউদ্দিন। শুনানি শেষে বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামি ১৯ ফেব্র“য়ারি দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদারএ তথ্য জানান। উলে¬খ্য, যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন এবং এ মামলায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন আদালত। অন্যদিকে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন

আওয়ামীলীগের দলীয় ৫ প্রার্থীর নাম প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে !

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যোগ্যতার দৌড় ঝাপ শুরু হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই ইতিমধ্যেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সর্বমোট ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ উপজেলায় সাধারণ জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তার আসনে একটি মাত্র উপজেলা। উপজেলা নির্বাচন ঘোষনার পর থেকেই আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হবার জন্য ডজন খানেক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হবার ঘোষনা দিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের প্রধান কার্যালয়ে মিটিংয়ের পরে অনেকেই প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ান। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ জনগনের নিকট সর্বাপেক্ষা গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনীত করলে দলীয় মনোনয়নের গ্রহনযোগ্যতা আসবে। সূত্রে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের তৎপরতায় পাঁচজনের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন- জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আমিনুল হক রতন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুক-উর-জামান, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এবং কুষ্টিয়া কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা চেয়ারম্যান ফোরামের জেলা ও সদরের সভাপতি বটতৈল ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মমিন মন্ডল। যোগ্যতা ও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তিনি দীর্ঘ ৪ বছর  কুষ্টিয়া শহর ও সদর উপজেলার সর্বস্তরের জনগনের নিকট সর্বাপেক্ষা গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি। সমাজের সর্বস্তরের সাধারণ জনগনের দুর্ভোগ ও দূর্দশার সমাধান দিয়েছেন তিনি। সদর উপজেলার প্রতিটি এলাকার সংগঠনকে তিনি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করেছেন। তিনি শত ব্যস্ততার মাঝেও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাধারণ জনগন যেখানে ডেকেছেন তিনি সেখানেই ছুটে গিয়েছেন। কুষ্টিয়ার সকল সাধারণ মানুষের অভিভাবক হিসাবে  দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও অন্যান্য চার প্রার্থীর যোগ্যতার জরিপ চলছে। আতাউর রহমান আতার পরে আলোচনার রয়েছেন বটতৈল ইউপি চেয়ারম্যান এম এ মমিন মন্ডল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

হাই কোর্টের রায়

নদী দখলকারীরা নির্বাচনের অযোগ্য, ঋণও পাবে না

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার তুরাগ নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘মাইলফলক’ এই রায়ে নদী দখলকারীদের নির্বাচন করার ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে সরকারকে। পাশাপাশি জলাশয় দখলকারী ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের তালিকা প্রকাশ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে হাই কোর্টের রায়ে। তুরাগ নদী রক্ষায় একটি রিট মামলার বিচার শেষে গতকাল রোববার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে ঐতিহাসিক এ রায় দেয়া হয়। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদারদের নাম ও স্থাপনার তালিকা হাই কোর্টে দাখিল করেছিল বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি। ওই তালিকায় আসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা পরে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট গত বুধবার নদী রক্ষায় রায় ঘোষণা শুরু করে। সেদিনই তুরাগ নদীকে ‘লিগ্যাল পারসন’ বা ‘জুরিসটিক পারসন’ ঘোষণা করা হয়, যা দেশের সব নদ-নদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে রিটকারীপক্ষের আইনজীবী জানান। পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়নি তুরাগ নদী। নদীর কালো পানি সে কথাই জানান দিচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়নি তুরাগ নদী। নদীর কালো পানি সে কথাই জানান দিচ্ছে। আইনের চোখে ব্যক্তি দুই ধরনের- নেচারাল পারসন ও লিগ্যাল পারসন। একজন মানুষ ‘নেচারাল পারসন’ হিসেবে যেসব আইনি সুবিধা ভোগ করেন, ‘লিগ্যাল পারসন’ এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি অধিকার প্রযোজ্য হয়। জীবন্ত সত্তা হিসেবে মানুষ যেমন সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করে, আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করায় নদীর ক্ষেত্রেও তেমন কিছু মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হবে। এ মামলার অবশিষ্ট রায় গত বৃহস্পতিবারই ঘোষণা করার কথা থাকলেও জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন বা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে রায়ের নির্দেশনা যেন সাংঘর্ষিক বা পরস্পরবিরোধী না হয়, সে জন্য সময় নেয় আদালত। এরপর রোববার বিস্তারিত নির্দেশনা সহ রায় ঘোষণা করা হয়। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ মামলার শূনানি করেন মনজিল মোরসেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পূরবী রানী শর্মা ও পূরবী সাহা। আদালত বলেছে, দেশের সকল নদ-নদী খাল-বিল জলাশয় রক্ষার জন্য ‘পারসন ইন লোকো পেরেনটিস’ বা আইনগত অভিভাবক হবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। এর ফলে দেশের সকল সকল নদ-নদী খাল-বিল জলাশয়ের সুরক্ষা, সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, শ্রীবৃদ্ধিসহ সকল দায়িত্ব বর্তাবে নদী রক্ষা কমিশনের ওপর। নদী রক্ষা কমিশন যাতে কার্যকর একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পাবে, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে চার দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নদ-নদী, খাল-বিল জলাশয় দখলের অপরাধে ‘কঠিন সাজা ও জরিমানা’ নির্ধারণ করতে হবে। সে অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারের আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। এসব বিষয় যুক্ত করে ২০১৩ সালের নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধন করে ছয় মাসের মধ্যে তা হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করতে হবে। আদালত বলেছে, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের অবস্থান চিহ্নিত করে একটি ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি করতে হবে। সেই ডেটাবেইজ দেশের সকল ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভাগে নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। দুই তীরেই গড়ে উঠেছে বালু-পাথরের ব্যবসা; এখন যেন নদীর চেহারা হারাতে বসেছে এক সময়ের প্রমত্তা তুরাগ। নদী ও জলাশয় দখল বন্ধ করতে কিছু প্রতিরোধমূলক নির্দেশনাও আদালত দিয়েছে। নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের নামের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। নদী বা জলাশয় দখলকারী বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীরা ব্যাংক ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। ঋণ দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় বা স্থানীয়- কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নদী দখল বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ থাকলে তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। দেশের সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে একদিন এক ঘণ্টা ‘নদী রক্ষা, সুরক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ’ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস নিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। দেশের সকল শিল্প কারখানার সকল শ্রমিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে প্রতি দুই মাসে এক দিন এক ঘণ্ট সচেতনতামূলক সভা বা বৈঠক করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভাগে প্রতি তিন মাসে একবার নদী বিষয়ে দিনব্যাপী সভা-সমাবেশ করতে হবে। সরকারকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ‘তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদার’ হিসেবে নাম আসায় যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এই রিট মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছিলেন, তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে বিবাদীরা স্থাপনা সরিয়ে না নিলে সরকার বিবাদীদের খরচেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করবে। বিবাদীদের মধ্যে কেউ সরকারি ইজারার মাধ্যমে নদী তীরের জমি দখল করে স্থাপনা তৈরি করে থাকলে সেই ইজারাও বাতিল বলে গণ্য হবে।  হাই কোর্ট রায় ঘোষণা করলেও তুরাগ নদী নিয়ে এই রিট মামলা একটি চলমান মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে যেন আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়ন সময় সময় পর্যালোচনা করা যায়। রায়ের একটি অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠাতে বলেছে আদালত, যাতে এ রায়ের ভিত্তিতে তিনি অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

 

মিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

চিথলিয়া ইউনিয়নে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কাশেম জোয়ার্দ্দারের ব্যাপক গনসংযোগ

মিরপুর অফিস ॥ গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়ার পাহাড়পুর গ্রামে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠান সাবেক মেম্বার মোঃ আক্কাস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার। গতকাল সকাল থেকে তিনি মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালান। সন্ধ্যায় চিথলিয়া ইউনিয়নে পাহাড়পুর গ্রামে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে ছুটে চলছে  ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কুশল বিনিময় করছে সকল শ্রেণির মানুষের সঙ্গে। পাহাড়পুর গ্রামের গন্যমান্য  ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনেক ভোটার বলেন  তরুণ প্রজন্মসহ  উপজেলার সকল শ্রেণির জনগণ নিয়ে সুন্দর আগামী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ভাইস চেয়ারমান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা যায়। কাশেম জোয়ার্দ্দারের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা তার সফর সঙ্গী ছিলেন মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বিশ্বাস, সহ-সভাপতি সাইফুর রহমান নাজিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান মোর্শেদ ও সোহাগ আহম্মেদ , ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মোস্তাক, সহ-সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস,  চিথলিয়া ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। যুবলীগ নেতা মাসুম, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আজ পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আজ সোমবার থেকে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। এ কর্মসূচি চলবে ৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। সোমবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনের সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশের প্যারেডের মধ্যদিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সারাদেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত পতাকাবাহীদলের নয়নাভিরাম কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে ৩৪৯ জন পুলিশ সদস্যকে তাদের সাহসিকতা, অপরাধ দমন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দক্ষতা, সততা এবং শৃঙ্খলার জন্য মেডেল প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৯ জানুয়ারি এক গেজেটে জানায়, গত বছরের (২০১৮) সার্ভিসের ওপর ভিত্তি করে ৪০জন পাবে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ৬২জন পাবে প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম), ১০৪ জন পাবে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) এবং ১৪৩ জন পাবে প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)। এবছর(২০১৯) পুলিশ পদক যারা পেতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে উলে¬খযোগ্য হচ্ছে- র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো: আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার এবং কাউন্টার টেররিজম এ- ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো: জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মীর শহিদুল ইসলাম, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাইনুর রহমান চৌধুরী, ইকবাল বাহার, ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং সিটিটিসি’র ডেপুটি কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার। এছাড়া জঙ্গি ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের নিহত ইন্সপেক্টর মো. জালাল উদ্দিন ও ডিএমপির কনস্টেবল মরহুম মো. শামীম মিয়া পাবে মরণোত্তর বিপিএম এওয়ার্ড।

কাউন্সিলরের পিতার মৃত্যৃতে মেয়র আনোয়ার আলী’র শোক

কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম’র পিতা মোজাম্মেল বিশ^াস (মাদার) মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। শোকবার্তায় মেয়র আনোয়ার আলী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। মৃত্যকালে তিনি চার ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অসখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। এছাড়া কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম’র পিতা মোজাম্মেল বিশ^াস (মাদার) আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন কুষ্টিয়া পৌরসভা এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সভাপতি গোলাম ছারয়ার, সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক ও যুগ্ম-সম্পাদক আমান উল্লাহ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সাংবাদিক সুজন কর্মকার’র ৩২তম জন্মদিন আজ

নিজ সংবাদ ॥ সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার এর ৩২তম জন্মদিন আজ ৪ ফেব্র“য়ারি সোমবার। সুজন কর্মকার ১৯৮৭ আজকের এই দিনে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বিনয় কর্মকার এবং মাতা মিনতী রানী কর্মকার। তিনি কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ার এসসিবি রোডের বাসিন্দা। ২০০৩ সালে তিনি কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়াস্থ দিনমণি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। বিএসএস পাশ করার পর বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্স’ এ অধ্যায়নরত আছেন। সম্প্রতি সুজন কর্মকার জাতীয় পত্রিকা দৈনিক ‘আজকের বিজনেস বাংলাদেশ’র কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।  তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় ২০০৬ সালের ফেব্র“য়ারিতে নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে পরিচয়পত্র পান। বর্তমানে পত্রিকাটির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। এছাড়া তিনি জাতীয় পত্রিকা দৈনিক ‘সকালের সময়’ এবং দৈনিক ‘তৃতীয় মাত্রা’ পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে ‘ডেইলি বাংলাদেশ’ এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি। তিনি কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য। এছাড়াও সুজন কর্মকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত রয়েছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি, আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির ও ১৭ হাত উচ্চতা বিশিষ্ট কালি পূজা মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক, শিলাইদহ শ্রীশ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির প্রচার সম্পাদক, আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কুষ্টিয়া জেলা সংসদের প্রচার সম্পাদক, সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড এডুকেশন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-প্রচার সম্পাদক উল্লেখযোগ্য।

কর্মজীবনে সুজন কর্মকার কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব বনমালী ভৌমিক স্বাক্ষরিত এক নিয়োগপত্রে, গত ১২ নভেম্বর ২০১২ থেকে কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ’ কুষ্টিয়ায় হিসাব রক্ষক পদে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন এবং কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়ার সাবেক অধ্যক্ষ মিসেস রেহানা সুলতানা তাকে লেখালেখি করার অনুমতি প্রদান করেন। কুষ্টিয়ার আরেক সাবেক জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান সাংবাদিকতার উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করায় সুজন কর্মকারের হাতে সনদপত্র তুলে দেন। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে জীবনের এই ৩২তম বছরে পা রাখলেন সুজন কর্মকার। ৪ ফেব্র“য়ারি সোমবার তার জন্মদিন। তিনি সকলের দোয়া/আর্শিবাদ ও ভালোবাসা প্রার্থনা কামনা করেছেন। সেই সাথে জীবনের এই ৩২ বছরের মধ্যে অজান্তে বা জীবনে চলার পথে যদি কারো মনে কোন প্রকার কষ্ট বা আঘাত দিয়ে থাকেন তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। সেই সাথে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সকল ভালো মানুষের জন্য সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন …

আলমডাঙ্গা রেল ষ্টেশনের অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবীতে আলোচনা সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা রেল ষ্টেশনের অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবীতে ভলেন্টিয়ার অব আলমডাঙ্গার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার আলমডাঙ্গা রেল ষ্টেশন চত্বরে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম।  প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আতিয়ার রহমান মুকুলের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তফছীর আহমেদ লাল, জেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য পৌর কাউন্সিলার মতিয়ার রহমান ফারুক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলার আলাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা তুহিন, আলমডাঙ্গা কলেজীয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামীম রেজা, সাবেক ছাত্রনেতা শাহীন রেজা, সাবেক কাউন্সিলার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম রিফাত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লিমন মল্লিক, আমাদের আলমডাঙ্গা পেজের এডমিন আসাদুজ্জামান শাহীন, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত বিশ্বাস, আলমডাঙ্গা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক মামুনুর রহমান, যুবলীগ নেতা সাইফুর রহমান পিন্টু, রোকনুজ্জামান, শিমুল খন্দকার, রাকিব হুসাইন, তরিকুল ইসলাম, রানা আহমেদ লাভলু, টুটুল মিয়া, বকুল আহমেদ, তানভীর আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, সজল দত্ত, নুর আলম সিদ্দিক, রাসেল, নাহিদ হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ হারুন বাদশা প্রমুখ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আলমডাঙ্গা রেল ষ্টেশন রক্ষা আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। মতিয়ার রহমান ফারুককে আহবায়ক, কাউন্সিলার আলাল উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ শামীম রেজা, লিমন মল্লিককে যুগ্ম আহবায়ক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহবায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ্ আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, সাবেক চেয়ারম্যান তফছীর আহমেদ লাল, শরিফুল ইসলাম রিফাত, সোহেল রানা শাহীন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আতিয়াার রহমান মুকুল, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত বিশ্বাস, সাইফুর রহমান পিন্টু, রোকনুজ্জামান, আসাদুজ্জামান শাহীন, মাসুদ রানা তুহিন, মামুনুর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম।

মেহেরপুরে কীটনাশক ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা; আহত অবস্থায় উদ্ধার

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে খাইরুল ইসলাম ওরফে গোলাপ (২৮) নামের এক কীটনাশক ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাকে এলাকাবাসি উদ্ধার করে। আহত গোলাপ জেলার গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আযান গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে ও একটি কীটনাশক কোম্পানীর প্রতিনিধি। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে গাংনীর পোড়াপাড়া-আযান গ্রামের মধ্যবর্তি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, রাতে খাইরুল ইসলাম গোলাপ তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলযোগে গাংনী উপজেলা শহর থেকে পোড়াগ্রাম হয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ৫-৭ জনের একটি অপহরণকারী দল তাকে গতিরোধ করে। পরে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে অপহরণ করার চেষ্টা করে। এ সময় গোলাপ চিৎকার দিলে অপহরণকারী দলের সদস্যরা তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এলাকাবাসি চিৎকারের আওয়াজ শুনে ওই স্থানে ছুটে আসলে, অপহরণকারী ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, আহত খাইরুল ইসলাম গোলাপের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ত্রিমোহনী হতে মঙ্গলবাড়ীয়া মরা গড়াই পর্যন্ত ড্রেনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন মেয়র আনোয়ার আলী

গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের বারখাদা ত্রিমোহনী হতে মঙ্গলবাড়ীয়া মরা গড়াই পর্যন্ত আর সিসি ড্রেনের নির্মান কাজের উদ্বোধন করলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। এডিবি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে ৩.৬ কিঃমিঃ ড্রেনের উদ্বোধনকালে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, এই ড্রেনের নির্মান কাজ শেষ হলে অত্রাঞ্চলের মানুষের জলাবদ্ধতা কিছুটা কমে যাবে। আপনাদের সহযোগীতা পেলে ক্রমান্বয়ে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, এ.কে.এম সামসুজ্জামান, ১৩ নং আওয়ামীলীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম, রমজান, হাজী তোফাজ্জেল  হক, আবুল হোসেন , ইউডিসি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আশরাফ আহমেদ রতন ও মুর্শিদুল হক। উদ্বোধন শেষে পবিত্র দোয়া পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া পৌরসভা জামে মসজিদের পেশ ঈমাম আবুল কালাম আজাদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ এসোসিয়েশনের আলোচনায় ডা. এস আর খান

জনসচেতনতার মাধ্যমে হৃদরোগে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব

বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় “আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যু” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি ও মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতালের সহযোগীতায় গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান হয়। টেলিকনফারেন্সে মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পদক এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডা.এস এ মালেক। বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ এসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রিয় যুগ্ম সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত হৃদ রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন প্রফেসর ডাঃ এস আর খান। তিনি বলেন,  দেশে বর্তমানে প্রধান মরণব্যাধি হচ্ছে হৃদরোগ। প্রাপ্ত বয়স্ক ৮০ ভাগ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয় এবং তাদের আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তিনি বলেন, নিয়মিত হাঁটুন, শারীরিক ব্যায়াম করুন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন, ধুমপান বর্জন করুন, তবেই সুস্থ থাকবেন। তিনি আরো বলেন, জনসচেতনতার মাধ্যমে হৃদরোগে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তে চাবি কমানো, দুশ্চিন্তা না করে আমরা সুস্থ থাকতে পারি। ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রফেসর ডা. এস আর খান বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ তাই হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এশিয়ান কম্পিউটিং কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফী, বিএমএ কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আমিনুল হক রতন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নাসিমুল বারী বাপ্পী, কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতি ও মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতালের যুগ্ম সম্পাদক মোশফেকুর রহমান টরলিন, মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ লাল মহম্মদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা শামসুর রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম

সিনেমা হলের টিকিট মাস্টার থেকে প্রধান শিক্ষক

কাঞ্চন কুমার ॥ সাঈদ আলী পেশায় এখন একজন শিক্ষক। এক সময়ের সিনেমার টিকিট মাস্টার আলাদিনের প্রদীপের মতো বনে গেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামুন্দী ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামের মৃত কায়েম উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়ার  দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এর আগে খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সভাপতিকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে বেশ ভালোভাবেই জালিয়াতি করেই তিনি স্কুলের প্রধান হয়েছেন। জানা যায়, ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত টানা দুই বছর তিনি মেহেরপুরের বামুন্দীর রানা সিনেমা হলের টিকিট মাস্টার ছিলেন তিনি। এর আগে থেকেই তিনি বিএনপি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। বিএনপি নেতা হওয়ার সুবাদে বেশিদিন টিকিট কাউন্টারে মাষ্টারী করতে হয়নি তাকে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে গাংনী উপজেলার কুমারীডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী নেন। এদিকে বিএনপি’র ক্ষমতাকালে তিনি অলিনগর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপরে টাকার বিনিময়ে খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১৪ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। এরই মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলেন খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলামের সাথে। গত ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হকের পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পান সাঈদ আলী। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি কাগজপত্রে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাগজপত্র সই না করে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসাবে সই করেন। নিজে প্রধান শিক্ষক হিসাবে সই করে গত ২ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কোন সদস্য, শিক্ষক প্রতিনিধি, সাধারন শিক্ষকসহ এলাকাবাসী কেউই জানেন না। এমনকি প্রকাশিত পত্রিকা ঐদিন এলাকায় আসেইনি। আর যে সকল প্রার্থীরা প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র জমা দেন তারা সকলেই ছিলো গাংনী উপজেলার এবং সাঈদ আলীর সাজানো প্রার্থী। তাদের আবেদনের যাবতীয় খরচ সাঈদ আলী বহন করেন। এবং গত ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার নিয়োগ বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা দেন। এর পরে ২৭ জানুয়ারি খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পরে বিদ্যালয়ের সকলে জানতে পারে যে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার নিয়োগের ব্যাপারে কোন কিছুই জানেন না বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি ফারুক হোসেন জানান, শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে কোন আলোচনা বা মিটিংই বিদ্যালয়ে হয়নি। আমাকে একদিন বলেছিলো বিদ্যালয়ে মাদক বিরোধী কমিটি করা হচ্ছে সেখানে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসাবে স্বাক্ষর করতে হবে। আমি সেখানে স্বাক্ষর করি। এখন দেখছি সেটা মাদক বিরোধী কমিটির জন্য না সেটা নাকি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ছিলো। আমি সই করার সময় সাদা কাগজ দেখে সই করতে চাইনি। মাদক বিরোধী কমিটির কথা বলে আমার সই নিয়েছে। আরেকজন শিক্ষক প্রতিনিধি আসলাম হোসেন জানান, আমাকে সভাপতি বললো সই করতে, আমি কিছু না দেখেই সই করে ক্লাসে গিয়েছিলাম। এছাড়া আমি কিছু জানি না। আরেকজন শিক্ষক প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা জানান, আমাকে সভাপতি সাদা রেজুলেশন বইতে সই করতে বলেছিলো। কিন্তু আমি সেটা জানতে চাই কেন সাদা রেজুলেশনে সই করবো। সে জানাতে অনিহা প্রকাশ করলে আমি সেখানে সই করিনি। এ সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়োগের সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সাঈদ আলী জানান, নিয়োগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। সব সভাপতি জানে। সভাপতিই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলো। আর আমি পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবেই নিয়োগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ সকল কাজ নিয়ম অনুযায়ীই হয়েছে। এখানে কোন দুর্নীতি আর অনিয়ম হয়নি। আর রেজুলেশন খাতা বিদ্যালয়ে নেই সেটা আমার কাছেই থাকে। কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান জানান, বিষয়টি আমিও শুনেছি। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সুনামধন্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কারণে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সাধারন মানুষ দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে।

ভেবেছিলাম কামাল হোসেন বিএনপিকে সৌজন্য শেখাবেন – হাছান

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা প্রধানমন্ত্রীর চায়ের দাওয়াতে না যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন বিএনপির সঙ্গে জোট করার পর দলটির নেতাদের ‘সৌজন্য শেখাবেন’ বলে আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু এখন দেখছেন হয়েছে তার উল্টোটা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনীতিকদের শনিবার গণভবনে চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগকারী ঐক্যফ্রন্ট নেতারা প্রধানমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এই প্রসঙ্গ তুলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। ‘নেতিবাচক’ রাজনীতির কারণে বিএনপি নেতারা ওই অনুষ্ঠানে যাননি দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে সৌজন্য শেখাবেন। এখন দেখা যাচ্ছে ড. কামাল হোসেন তাদের সাথে যাওয়ার পর তার নিজের মধ্যে যে সৌজন্য ছিল সেটাও হারিয়ে গেছে। তিনি তাদের শেখানোর পরিবর্তে তাদের মধ্যে যে অসৌজন্যমূলক আচরণ সেটি দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন।” শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না দাবি করে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এবার গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ভোটে অংশ নিয়েছিল। তবে ওই ভোটে ভরাডুবি হওয়ার পর তারা বলেছে, তাদের পাঁচ বছর আগে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তই ঠিক ছিল। গত কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র হরণের’ অভিযোগ করে আসা বিএনপি নেতারা এখন বলছেন, রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান ‘ধ্বংস করে দিয়েছে’ তারা। এই প্রেক্ষাপটে রাজনীতির মাঠে একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখলেও রাজনীতিকদের মধ্যে সৌজন্য রক্ষার জন্য বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনে এক সভায় কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনে এক সভায় কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তিনি বলেন, “অনেক বিরোধী দলীয় নেতাকে দেখি, যারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অনেক সময় সামাজিকতা রক্ষা করেন না। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, সামাজিক সৌজন্য, সমাজিক ভদ্রতা আমাদের রক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকবেই। রাজনীতির মাঠে একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবে। “কিন্তু আমাদের মধ্যে সৌজন্য বোধ থাকা প্রয়োজন। এখনকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সেটি এখন লক্ষ করি না, যেটি সমীচীন নয়।” নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান। তিনি বলেন, “আজকে কাগজে দেখলাম আ স ম রব সাহেব বলেছেন, কর্নেল অলি সাহেব বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবও বলেছেন- আর কোনো নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না। “কারণ কোনো কিছুর উপরই তাদের আস্থা নেই। পুলিশের উপর তাদের আস্থা নেই, নির্বাচন কমিশনের উপর তাদের আস্থা নেই, আমাদের সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কারো উপর তাদের আস্থা নেই। আসলে তাদের নিজেদের উপর তাদের আস্থা নেই। তারা নিজেদের উপর নিজেরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।” বিএনপি নেতাদের প্রতি আগামী নির্বাচনগুলোতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে বিজয় অর্জন করেছে, তাতে বিএনপি জনগণ থেকে বহু দূরে সরে গেছে। বিএনপি থেকে জনগণের যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সেটি একমাত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। তাদেরকে অনুরোধ জানাব, নির্বাচন বর্জন এবং নির্বাচন প্রতিহত করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন, তাহলে আপনাদের রাজনীতিটা টিকবে।” আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। জোটের কার্যকরী সভাপতি এ টি এম শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানার সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, মিজানুর রহমান বিটু বক্তব্য রাখেন।

সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলীর পাশে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী আলাউদ্দীন আলীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য আর্থিক অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে গণভবনে আলাউদ্দীন আলীর স্ত্রী ফারজানা মিমি ও তাঁর ছোট মেয়ে আদ্রিতা আলাউদ্দিন রাজকন্যাকে ডেকে নিয়ে এই অনুদান দেন। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আর্থিক অনুদান পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলাউদ্দীন আলীর স্ত্রী ফারজানা মিমি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতা ও মহানুভবতায় কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমাদের পরিবারের জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীর অসুস্থতার খবর শুনে নিজ উদ্যোগে যোগযোগ করেছেন, আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের অনেকক্ষণ সময় দিয়েছেন। আলাউদ্দিন আলীর শারীরিক অবস্থার সবকিছু মন দিয়ে শুনেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, কোনো ধরনের চিন্তা না করতে।’ আলাউদ্দীন আলী ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণ সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি তাঁর ক্যানসারের চিকিৎসাও চলছে। অবস্থা জটিল আকার ধারণ করলে গত ২২ জানুয়ারি তাঁকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখন এই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৫ জানুয়ারি সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। আলাউদ্দীন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন। তিনি একই সঙ্গে সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার। গান লিখে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। লোকজ ও ধ্র“পদি গানের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা আলাউদ্দীন আলীর সুরের নিজস্ব ধরন বাংলা সংগীতে এক আলাদা ঢং হয়ে উঠেছে প্রায় চার দশক ধরে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের বহু স্বনামধন্য শিল্পী তাঁর সুরে গান গেয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছেন।