বিশ্বব্যাংকের সহায়তা আরো বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমানে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের যে টিম আছে তারা বাংলাদেশের চাহিদা বোঝেন। সামনে বাংলাদেশের সব ধরনের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক সহায়তা বাড়াবে। গতকাল বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একথা বলেন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান সাক্ষাৎ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সময় ভালো যাচ্ছে। তবে মাঝে কিছুদিন এই সংস্থার সঙ্গে খারাপ সময় পার করেছিলম। এই অবস্থা এখন আর নেই। এখন ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের ভালো টিম রয়েছে। আশাকরি প্রকল্পের ঋণ সহায়তাসহ সব ধরনের সহায়তা বাড়াবে বিশ্বব্যাংক। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা পূরণ করছে। তাই সবাই ঋণ দিতে চায়। এসময় বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের নবনিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর বব সাউম উপস্থিত ছিলেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৬ ফেব্র“য়ারি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামি ২৬ ফেব্র“য়ারি এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ রুহুল আমিন এই দিন নির্ধারণ করেন। এই আদালতে অভিযোগ গঠনের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। কিন্তু মামলার আসামি ব্যারিস্টার আমিনুল হকের আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল এই মামলায় হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সময়ের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই মামলার অপর আসামিরা হলেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক কৃষিমন্ত্রী এম কে আনোয়ার, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হোসাফ গ্র“পের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মুঈনুল আহসান, সাবেক জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি শাহবাগ থানায় খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ওই বছরের ৫ অক্টোবর পুলিশ তদন্ত করে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

সবার সমান অধিকার রক্ষা করা সরকারের লক্ষ্য -প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার রক্ষা করা সরকারের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে এদেশে সকলের সমান অধিকার থাকবে। আমরা সেটাই নিশ্চিত করতে চাই এবং সেটাই আমরা নিশ্চিত করব। এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, সারা বাংলাদেশের সর্বশ্রেণির মানুষের উন্নয়ন আমরা চাই। এখানে বেদে, হিজড়া, চা শ্রমিক, দলিত শ্রেণি-সকলেরই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অর্থাৎ তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাবলম্বিতা অর্জন করা, সেই সাথে তাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো। শিক্ষাদীক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সকল জনগোষ্ঠী যেন সমান সুযোগ পায়, কেউ যেন অবহেলিত না থাকে, কেউ যেন দূরে পড়ে না থাকে- এই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নিজেকে কিন্তু এটা মনে করলে চলবে না আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা আমরা অবহেলিত। সেটা কেউ ভাবলে চলবে না। সবাইকে ভাবতে হবে এদেশের নাগরিক সবাই এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার। সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ২০ জন শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির পোশাক পরে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিক্ষাবৃত্তির চেক নেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রশংসাও করেন। আমার খুব ভালো লাগলো আমাদের ছেলেমেয়েরা, যারা আমার কাছ থেকে বৃত্তির চেক বুঝে নিল, তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ পোশাক পরিধান করে যে সুন্দরভাবে এসেছে, খুবই সুন্দর লেগেছে। ভালো লেগেছে। এই যে নিজস্ব স্বকীয়তা…কাজের প্রয়োজনে মানুষ পোশাক পড়বে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি ও স্বকীয়তাও প্রয়োজন। তাতে মানুষ দেখতে পারে বৈচিত্রটা কত চমৎকার। নিজস্ব স্বকীয়তাটা ধরে রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার টাকা করে এক কোটি ২৫ লাখ টাকার বৃত্তির চেক দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে ২০০০ জন শিক্ষার্থীকে আরো পাঁচ কোটি টাকা বৃত্তি দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

৬ ফেব্র“য়ারি কালো ব্যাজ ধারণ এবং ২৪ ফেব্রয়ারি গণশুনানির কর্মসূচি ঐক্যফ্রন্টের

ঢাকা অফিস ॥ কামাল হোসেনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতাদের সঙ্গে বসার পর নির্বাচনে ‘কারচুপির’ প্রতিবাদে কর্মসূচি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকালে এই বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আগামী ৬ ফেব্র“য়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভোট ডাকাতির’ প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ এবং ২৪ ফেব্র“য়ারি গণশুনানির কর্মসূচি দিয়েছেন তারা। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হযেছে ৩০ ডিসেম্বর যে ভোট ডাকাতির প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে এর প্রতিবাদে আগামি ৬ ফেব্র“য়ারি বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থী ও ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণে গণশুনানি হবে। এর স্থানটা পরে জানানো হবে। গত বুধবার একাদশ সংসদের যাত্রা শুরুর দিন প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ‘নির্দলীয়’ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে ফেরার পরদিন গত বুধবার গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ‘শতভাগ অটুট আছে’ বলে মন্তব্য করার পরদিন এই বৈঠক হল। দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে গণফোরামসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াত নেতাদের প্রার্থী করা ‘ভুল’ ছিল। তাছাড়া বিএনপি থেকে তাদের মনোনয়ন দেওয়ার কথা তাকে জানানো হয়নি। শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের এই বক্তব্যের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির কোনো নেতা ছিলেন না। এরপর ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এদিকে ওই বৈঠকের পর কামাল হোসেন চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলে তার দল থেকে নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ঘোষণা দিলে ঐক্যফ্রন্টে মতভিন্নতার গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলে। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, তার দলের নেতারা সাংসদ হিসেবে শপথ নেবেন না। তবে কয়েক দিন আগে শপথ গ্রহণের আগ্রহ জানানো সুলতান মো. মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান এই বৈঠকে ছিলেন না। বিকালে এই বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নতুন নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নতুন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নৌবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে যান বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষাতের সময় নৌবাহিনী প্রধান তার বাহিনীর সার্বিক কর্মকা- সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ এ সময় দেশে নৌসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীর পেশাগত দক্ষতার প্রশংসা এবং সার্বিক কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নৌবাহিনী বর্তমানে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রধানের নেতৃত্বে নৌবাহিনী আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নয়নে ‘ব্লু ইকোনমিকে’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। নতুন নৌবাহিনী প্রধান তার দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চাইলে আবদুল হামিদ তাকে আশ্বস্ত করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হুমকির মুখে পরিবেশ

দৌলতপুরে ইটভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানী কাঠ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী চিমনির ইটভাটাগুলোতে অবাধে চলছে জ্বালানী হিসেবে কাঠপোড়ানোর মহা উৎসব। সরকারী ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন না মেনে উপজেলার প্রায় ৩০টি ইটভাটায় দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পরিবর্তে জ্বালানী কাঠ বা কাঠের গুড়ি। এরফলে উজাড় হচ্ছে সবুজ বৃক্ষ। উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকাধীন বনাঞ্চল থেকে গাছ কিনে এসব অসাধু ভাটা মালিকরা জ্বালানী হিসেবে কাঠের ব্যবহার করছে। আর এসব ইটভাটাগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হয়ে পড়ছে চারপাশের পরিবেশ। এতে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অপরদিকে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে হুমকির মুখে। দৌলতপুর উপজেলার হাসপাতাল রোডের সরকারী শেখ ফজিলাতুনেছা মুজিব মহিলা কলেজ সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠা ৪টি ইটভাটাসহ কল্যানপুর, ডাংমড়কা, মানিকদিয়াড়, সাদীপুর, রিফায়েতপুর, চকদৌলতপুর, ঝাউদিয়া, সংগ্রামপুর, বড়গাংদিয়া, বোয়ালিয়া, স্বরুপপুর ও প্রাগপুর এলাকার সব ইটভাটায় হাজার হাজার মন গাছের গুড়ির ¯ুÍপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ছোট-বড় ৯টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার চুল্লিগুলিতে ১২০ ফুট উচু স্থায়ী চিমনির পরিবর্তে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ ফুট উচু ড্রাম চিমনী ব্যবহার করে পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের সবুজ বৃক্ষ। দৌলতপুর উপজেলার সদরে স্বরুপপুর, মানিকদিয়াড় ও সাদীপুর এলাকার ইটভাটাসহ সব ইটভাটাতে অবাঁধে কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন লতিবমোড়ে প্রতিদিন প্রকাশ্যেই ট্রাকভর্তি জ্বালানী কাঠ ওজন দেওয়া হচ্ছে। আর এসব নিষিদ্ধ ইটভাটায় ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে সেই মাটি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে ইট।  প্রতিটি ভাটায় এক রাউন্ড ইট পোড়াতে সময় লাগে ১২-১৫ দিন। সে হিসেবে একটি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড ইট পোড়ানো সম্ভব। এক রাউন্ড ইট পোড়াতে ১০ থেকে ১২ হাজার মন জ্বালানী কাঠের প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ইটভাটায় এক মৌসুমে (০১) এক লক্ষ মণ জ্বালী হিসেবে সবুজ বৃক্ষ বা কাঠ পোড়ানো হলে ৩০টি ভাটায় ৩০ লক্ষ মনেরও বেশী। এছাড়াও ইটভাটাগুলো সরকারী নিয়ম নীতি না মেনে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মত উর্বর ফসলী জমি ও জনবসতি এলাকায় গড়ে উঠায় ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও স্বাস্থ্যহানী ঘটছে, পরিবেশ হচ্ছে বিপর্যস্থ। সেই সাথে আবাদী জমি ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বর শক্তি হারাচ্ছে। তবে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বেশ কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জ্বালানী কাঠ পোড়ানোর দায়ে অর্থদন্ড ও ভাটা মালিকদের সতর্ক করলেও ভাটা মালিকরা তা না মেনে অবাধে পূর্বের ধারাবাহিকতায় কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন বলে ভূক্তভোগীদের দাবি। একই সাথে পরিবেশ ও আবাদী জমি রক্ষায় এসব অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী চিমনির ভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী বলে সচেতন মহলের দাবি।

বিমান বাহিনী প্রধান ও নৌ প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌ বাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল আবু মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিমান বাহিনী সদর দফতরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। সাক্ষাতকালে তারা পারস্পরিক কুশলবিনিময় করেন এবং কিছু সময় অতিবাহিত করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিমান বাহিনী সদর দফতরের পিএসও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নৌ বাহিনী প্রধান বিমান বাহিনী সদর দফতরে এসে পৌঁছালে একটি চৌকস কন্টিনজেন্ট তাকে গার্ড অব অনার দেন। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি বিমান বাহিনী সদর দফতর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন ও বিমান সদরে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিসর বেড়ে ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হতে যাচ্ছে এবছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। আজ শুক্রবার বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু, ভারতীয় কবি শঙ্খ ঘোষ, মিশরীয় লেখক-গবেষক মোহসেন আল আরিশি। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী। আয়োজকরা জানাচ্ছেন, বইমেলা এবার পরিসরে বেড়েছে; সেইসঙ্গে বেড়েছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতবার ২ লাখ ৭৫ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে বইমেলার আয়োজন হয়েছিল, এবার তা বিস্তৃত হয়েছে ৩ লাখ বর্গফুটে। এবারের গ্রন্থমেলার প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে ‘বিজয়: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভকেও এবার মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে রাখা হয়েছে। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এবার অংশ নিচ্ছে ৪৯৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান; গতবার যার সংখ্যা ছিল ৪৬৫টি। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা বইমেলা সবার জন্য খোলা। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং একুশে ফেব্র“য়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯ এর আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক (বিপণন) জালাল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে এবার গ্রন্থমেলার বিস্তৃতি বেড়েছে ২৫ হাজার বর্গফুট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার অংশকে এবার চারটি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবার। এর মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান ১৫০টি ইউনিট নিয়ে তাদের বইয়ের পসরা সাজাবে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬২০টি ইউনিট নিয়ে হবে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের স্টল। বহেরা তলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটল ম্যাগাজিনকে ১৫৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে এবার। এর মধ্যে ২৫টি স্টলে দুটি করে লিটল ম্যাগাজিনকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। অন্য ১৩০টি ম্যাগাজিন একক স্টল পেয়েছে। একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করছেন, তাদের বই বিক্রি বা প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির একটি প্যাভিলিয়ন এবং চারটি ইউনিটের দুটি স্টল থাকবে। এবারও মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে ‘শিশু চত্বর’। এই কর্নারকে শিশুকিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সাজানো হচ্ছে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও প্রতি শুক্র ও শনিবারে একটি সময়কে ঘোষণা করা হবে ‘শিশু প্রহর’। খুদে লেখকদের জন্য এবার শিশু চত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে একটি নতুন আয়োজন থাকছে, যেখানে খুদে লেখকরা তাদের বইয়ের প্রচারণা করতে পারবে। এবার গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। বিকাশের চিফ মার্কেটিং কর্মকর্তা মীর নওবাত আলী সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিকাশে বইয়ের মূল্য পরিশোধ করলে ওই ২৫ শতাংশ ছাড়ের পর আরও ১০ শতাংশ মূল্য ছাড় পাবেন ক্রেতারা। টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের দিকে হচ্ছে গ্রন্থমেলার মূল দুই প্রবেশপথ। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ঢোকা আর বের হওয়া যাবে তিনটি পথ দিয়ে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মোট ছয়টি পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমি ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। গ্রন্থমেলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে থাকবে আর্চওয়ের ব্যবস্থা। এ ছাড়া ৩ শতাধিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় চলবে নজরদারি। সমগ্র মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতাস্তম্ভ এবং আশপাশের এলাকাকে এবার গ্রন্থমেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে স্বাধীনতা স্তম্ভের আলোক বিচ্ছুরণে মেলা প্রাঙ্গনও আলোকিত হবে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এবার বইমেলা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের আয়োজন। মহান দুই আয়োজন নিয়ে এই বইমেলা থেকেই জাতিকে বার্তা দিতে চাই আমরা। তাই মেলার নান্দনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। এবারও মেলার নান্দনিক দিক দেখভাল করছে নিরাপদ মিডিয়া। ইলিয়াস কাঞ্চনের এই ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবারই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। তবে বাংলা একাডেমি টানা তৃতীয়বারের মত তাদের ওপরই ভরসা রাখছে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে ‘মান বিচারে’ সেরা গ্রন্থের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০১৮ সালে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে থেকে ‘শৈল্পিক বিচারে’ সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেবে বাংলা একাডেমি। এছাড়া ২০১৮ সালে মান বিচারে সর্বাধিক বই প্রকাশের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং স্টলের নান্দনিক শৈলীর বিচারে ‘শ্রেষ্ঠ’ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এ বছর থেকেই গ্রন্থমেলায় শুরু হচ্ছে নতুন মঞ্চ ‘লেখক বলছি’। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জলাধারের পাশে এই মঞ্চে প্রতিদিন পাঁচজন লেখক যোগ দেবেন। তারা কথা বলবেন তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে; পাঠকের প্রশ্নের জবাবও দেবেন। মেলার বাংলা একাডেমি অংশ একজন ভাষা শহীদের নামে, এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চারজন ভাষা শহীদের নামে মোপ পাঁচটি চত্বর থাকছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ এবং স্বাধীনতা স্তম্ভ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বসানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, এতে গ্রন্থমেলার মূল থিম যেমন প্রতিফলিত হবে, তেমনি নব প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা মেলায় আরও বেশি করে নিজেদের যুক্ত করতে এবং বায়ান্ন ও একাত্তরের চেতনায় ঋদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। ২ ফেব্র“য়ারি থেকে ২৮ ফেব্র“য়ারি প্রতিদিন বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে হবে সেমিনার। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমকালীন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হবে সেখানে। এছাড়া বাঙালি মনীষার জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তাদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা হবে মূলমঞ্চে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠ।পাশাপাশি শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা এবং সংগীত প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি।

 

মিরপুরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে মতবিনিময় সভায় আসলাম হোসেন

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠি

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ঝরে পড়া রোধ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশ বান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে মিরপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। এসময় তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। সরকার ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। ঝরে পড়া রোধ করার লক্ষ্যে ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষ হতে ১ম শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত সবস্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে। বৃত্তি-উপবৃত্তি দেয়া সম্প্রসারণ করা হয়েছে, মিড ডে মিলের মতো ব্যাপক ব্যয়বহুল কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। যার ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে জেন্ডার সমতা অর্জিত হয়েছে, ঝরে পড়ার হার পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য শিক্ষকদের আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান তিনি। উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে মোবারকের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাহার আলী প্রমুখ।  পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিতকরণে করণীয় বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার। সভায় মিরপুর উপজেলার ৬০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পঁচিশজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, দুইজন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও বিভিন্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ক্যাবিনেটের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। পরে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন মিরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তার আগে তিনি মিরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লীন ক্যাম্পাস গ্রীন ক্যাম্পাসের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেল আফরোজ, সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান, ফারজানা জামান, আরিফুল ইসলাম, ফসিয়ার রহমান, বিলাল হোসেন, শফিউল ইসলাম, জয়শ্রী পাল, কামরুজ্জামান, আসাদুজ্জামান, সেলিনা আক্তার প্রমুখ।

 

বইমেলায় এবার শানুর উপন্যাস

বিনোদন বাজার ॥ লেখক হিসেবে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন রয়েছে অভিনেত্রী শানারেই দেবী শানুর। ২০১৭ সালে একুশে গ্রন্থমেলায় তার প্রথম কবিতার বই ‘নীল ফড়িং কাব্য’ প্রকাশিত হয়। প্রথম কবিতার বই দিয়েই বেশ সাড়া ফেলেন শানু। সে বছরই কবিতার বই লিখে ‘সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন তিনি। পরের বছর শানুর অনন্যা থেকে ‘লাল এপিটাফ’, চৈতন্য থেকে ‘অসময়ের চিরকুট’ এবং তা¤্রলিপি থেকে ‘ত্রিভূজ’ কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। গত বছরের শেষপ্রান্তে এসে তিনি একটি উপন্যাস লেখার কাজে নিজেকে মগ্ন রাখেন। আসছে একুশে গ্রন্থমেলায় শানুর লেখা প্রথম উপন্যাস ‘একলা আকাশ’ পাঠকের হাতে তুলে দিচ্ছে তা¤্রলিপি প্রকাশনী। তবে এবারের বইমেলায় যে তার উপন্যাসই যে শুধু প্রকাশ হচ্ছে এমনটি নয়। ‘একলা আকাশ’র পাশাপাশি শিশুতোষ গল্পের বই ‘শানারেই ও তার জাদুর লেইট্রেইন’ প্রকাশ পাচ্ছে গ্রন্থমেলায়। এটি প্রকাশ করছে অনন্যা। শানারেই দেবী শানু বলেন, আমার লেখালেখরি অনুপ্রেরণা আমার বাবা। সবসময়ই আমার ইচ্ছে হতো বাবার মতো লিখতে। তবে কখনো ভাবনা ছিল না যে লেখালেখি করতে পারব। কিন্তু অবশেষে যখন লেখালেখি শুরুই করে দিয়েছি তখন বাবার পথটা অনুসরণ করে নিজেকে অনেক দূরে নিয়ে যেতে চাই এই লেখালেখির ভুবনে। অবশ্যই সবার আশীর্বাদ কামনা করি সবসময়। এবারের গ্রন্থমেলায় রোমান্টিক গল্পের উপন্যাস একলা আকাশ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য বইটি নিয়েও আশাবাদী আমি।

নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আগামীকাল ২ ফেব্র“য়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। এবারে এই দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সুস্থ্য সবল জাতি চাই, পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই’। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কিন্তু পুষ্টি নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। পুষ্টিকর খাবারের জোগোনের মাধ্যমে আমরা এটি অর্জন করতে পারি। এ জন্য খাদ্যশস্য আর প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে আমাদের আরো মনোযোগী হতে হবে। পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। তবেই আমরা স্বাস্থ্যবান জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব। এ জন্য প্রথমেই আমরা কি খাচ্ছি এবং সেটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু দরকারি, সে খাবার থেকে কতটুকু পুষ্টি অথবা শক্তি পাব সেটি ভাবতে হবে। কারণ খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিÑ এই তিনটি শব্দ একটি আরেকটির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ মনের জন্য প্রতিদিন পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে হলে একজন ব্যক্তির জন্য সুষম খাদ্য নিবার্চন, খাদ্যের সহজলভ্যতা ও পুষ্টিমূল্য বজায় রেখে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা, খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির ওপরও পুষ্টি অনেকটাই নির্ভর করে। খাদ্যের কয়েকটি উপাদান যেমন- শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই হলো সুষম খাবার। শর্করা শরীরে শক্তি ও কার্যক্ষমতা জোগায়। চাল, গম, যব, আলু, মিষ্টি আলু, কচু, চিনি, মধু, গুড় ইত্যাদিতে প্রচুর শর্করা পাওয়া যায়। প্রতিগ্রাম শর্করা থেকে ৪ কিলো-ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। প্রোটিন হলো দেহ গঠন ও ক্ষয় পূরণকারী খাদ্য। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, বিভিন্ন ডাল, বরবটি, শিম, মটরশুঁটি ইত্যাদি দেহ গঠনে সহায়তা করে। প্রতিগ্রাম প্রোটিন থেকে ৪ কিলো-ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। চর্বি বা ফ্যাট দেহের কর্মদক্ষতা বজায় রাখে এবং ত্বক সুন্দর ও মসৃণ রাখে। সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, তিলের তেল, ঘি, মাখন, চর্বিযুক্ত মাছ, মাংস, ডিম ও কলিজা ইত্যাদি চর্বিযুক্ত খাদ্য। প্রতি গ্রাম চর্বি থেকে ৯ কিলো-ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। পানি শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। দিনে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা দরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন ফলের রস, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা দরকার। আঁশ দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, অন্ত্রনালির সুস্থতা বজায় রাখে। খাদ্যের আঁশ উদ্ভিজ খাদ্য থেকে পাওয়া যায়। যেমন-লালা আটা, যব, ভুট্টা, যবের ছাতু, শিম, শিমের বিচি, ডাল ও ডালজাত খাদ্য, খোসাসহ ফল যেমন-কালোজাম, আঙুর, পেয়ারা, আপেল, নাশপাতি ও সব ধরনের শাক-সবজি। খনিজ লবণ যেমন-ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, জিংক যা দেহ গঠন, ক্ষয় পূরণ, পরিপোষণ, দেহের শরীরবৃত্তীয় কাজ করে। আয়োাডিন গলগন্ড রোগ প্রতিরোধ করে। লৌহ রক্তস্বল্পতা দূর করে; হাত ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। জিংক মানসিক বৃদ্ধি ও হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ভিটামিন এ, ডি, ই, কে, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, সি-সব রকমের সবুজ ও রঙিন শাক-সবজি, ফল, টকজাতীয় ফল, ডিম, দুধ, কলিজা, ছোট মাছ,লেবু চা ইত্যাদি খাদ্যে ভরপুর এবং রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য। ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন ‘ডি’ রিকেট রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ত্বকের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন ‘সি’ স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। শিশুর জন্য জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধই যথেষ্ট এবং ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী অধিক পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার দিতে হবে। সেই সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে খাদ্য পরিবেশন করা হয়। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু, মা ও বৃদ্ধরা পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক ও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনে। শিশু মৃত্যুর কারণ হিসেবে পেটের অসুখ, হাম, নিউমোনিয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর মধ্যে দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি না ঘটার কারণে আত্মকেন্দ্রিকতা, অবসাদ, ব্যক্তিত্বহীনতা দেখা যায় এবং মেধাশক্তি বিকশিত হতে পারে না। ফলে এসব ছেলেমেয়ে অলস ও উদাসীন, পরনিভর্র নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে। সঠিক রান্নার পদ্ধতি, নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা সবই স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে প্রভাবিত করে। মারাত্মক পুষ্টিহীন শিশুদের শুধু ডাল, আলু, সবুজ তেল দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি খাইয়ে অতি অল্পসময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো সম্ভব। শিশুর পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ন্ত ও কৈশোর বয়সের ছেলে-মেয়েদের পুষ্টির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। শারীরিক, মানসিক, সামাজিক সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন চূড়ান্ত। তাই পুষ্টির চাহিদাও এ সময়ের পরিবর্তনের ওপর নিভর্রশীল। এ বয়সে মেয়েদের অপুষ্টি বেশি দেখা যায়। কিশোর-কিশোরীদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ক্যালোরির চাহিদা পূরণ করতে হয়। পরিমিত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, বিশুদ্ধ পানি, নিয়মিত শারীরিক শ্রম, বিশ্রাম, খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়ের ওপরও নজর দিতে হবে। মায়ের পুষ্টি শিশুর তুষ্টি। অর্থাৎ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবতী মা-ই কেবলমাত্র স্বাস্থ্যবান সন্তানের জন্ম দিতে পারে। পুষ্টিহীন মায়ের সন্তানের জন্মকালীন ওজন কম এবং অসুস্থ, হাবাগোবা, রুগ্ন হয়ে জন্মায়। পরে নানা রোগে ভোগে। প্রসূতি মায়েদেরও নানা রকম জটিলতা দেখা যায়। গভর্বতী ও স্তন্যদাত্রী অবস্থায় মায়েদের খাবারের প্রয়োজন সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি থাকে। এ সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড, আয়োডিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রন, জিংকসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। অনেক সময় পুষ্টি সম্পর্কে ধারণা না থাকার ফলে পুষ্টির অভাবে নিজের চাহিদার ঘাটতির সঙ্গে সন্তানও পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ঘাটতি নিয়ে জন্মায়। মাকে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, বিভিন্ন রঙিন শাকসবজি, ফল, টকজাতীয় ফল, পানি ও পানিজাতীয় খাবার প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে হবে। তা ছাড়া এ সময় চিন্তামুক্ত ও আনন্দভাব নিয়ে থাকতে হবে। অনেক সময় কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা মায়ের অপুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে বৃদ্ধ বয়সেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পুষ্টির চাহিদা রয়েছে। বয়স বাড়লে খাবারের চাহিদা, হৃৎপিন্ডের কাযর্ক্ষমতা, পরিপাকতন্ত্রের কাযর্ক্ষমতা, চেনতন্ত্রের কাযর্ক্ষমতা কমে যায়। রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। দাঁত-হাড়ের সমস্যা ও বাত-ব্যাধি দেখা দেয়। এ বয়সে সাদা আটা, চাল, চিনি ময়দা ইত্যাদি খাবার কম খেতে হবে। তেল, চর্বি, লবণ, মিষ্টি ক্যাফেন সমৃদ্ধ খাবারও কম খেতে হবে। এ সময়ে পানি ও পানিজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্যরোধক, বাত ও ওজন নিয়ন্ত্রক খাবার খেতে হবে। লাল আটা, বিভিন্ন আঁশজাতীয় শাক-সবজি, ফল, চর্বিহীন মাছ-মাংস ইত্যাদি খাবার খেতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত হাঁটতে হবে। না হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, বাত, চোখের রোগ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। বয়স চল্লিশের পর থেকে ডিমের কুসুম, ঘি, মাখন, অতিরিক্ত চবির্যুক্ত মাছ, মাংস, শকর্রাজাতীয় খাওয়া কমাতে হবে। বৃদ্ধবয়সে ক্যালসিয়াম ও লৌহের অভাব বেশি দেখা যায়। সর তুলে দুধ, দুধের তৈরি খাবার, পনির, পায়েস ইত্যাদি খাওয়া যায়। পুষ্টির সমস্যার জন্য অজ্ঞতা ও অসেচতনতাও দায়ী। বাজারের টিন ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে বাড়িতে তৈরি খাবার অনেক বেশি পুষ্টিকর। যে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির অবস্থা যত ভালো, সে দেশ তত বেশি উন্নত। সুষম পুষ্টিকর খাবারই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে। সরকার সুষম খাবার, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে যে জোর দিয়েছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব একমাত্র সাধারণ জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে। জাতীয় গণমাধ্যমগুলো সাধারণ জনগণের মধ্যে পুষ্টি বিষয়ক এই তথ্যসমূহ যথাযথ প্রচারের মাধ্যমে সঠিক যোগাযোগের একটি সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
লেখক ঃ দেবাশিস সরকার দেব, সহকারী অধ্যাপক, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

কোনো প্রতিযোগিতাই ছেড়ে দেয় না বার্সেলোনা – মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথম লেগে হারার পর দ্বিতীয় লেগে বড় ব্যবধানে জিতে স্প্যানিশ কাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার পর বার্সেলোনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি জানিয়েছেন, তার দল কোনো প্রতিযোগিতাই ছেড়ে দেয় না। বুধবার ঘরের মাঠে সেভিয়ার বিপক্ষে কোপা দেল রের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি পর্বে ৬-১ গোলের জয় পায় লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৩ গোলে জিতে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। বার্সেলোনার পক্ষে জোড়া গোল করেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ফিলিপে কৌতিনিয়ো। একটি করে গোল করেন ইভান রাকিতিচ, সের্হিও রবের্তো, লুইস সুয়ারেস ও মেসি। ম্যাচের পর বার্সা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিন প্রতিযোগিতাতেই মনোযোগ ধরে রাখার কথা জানান ৩১ বছর বয়সী মেসি। “বলা হচ্ছিল যে আমরা কাপ ছেড়ে দিয়েছি বা আমরা এটা চাই না। অথবা মৌসুমের শুরুতে আমার বলা কথাটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।” “দল তিনটা প্রতিযোগিতাতেই লড়তে চায়, প্রতি বছর যা বার্সেলোনার লক্ষ্য থাকে।  আমরা কোনোটিতেই আশা ছাড়ি না।”

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সিরিজ শুরুর আগে ফাফ দু প্লেসি এগিয়ে রেখেছিলেন পাকিস্তানকে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তার দলই মেলে ধরল শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। শেষ ম্যাচে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে নিল সিরিজ। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৫ ম্যাচের সিরিজ জিতে নিয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। কেপ টাউনে বুধবার দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ২৪০ রানে আটকে রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়ায় দুর্দান্ত এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন কুইন্টন ডি কক। এরপর ফাফ দু প্লেসি ও রাসি ফন ডার ডাসেনের জুটি দলকে জিতিয়ে দেয় ১০ ওভার বাকি রেখেই। টস জিতে বোলিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুরুতেই বড় উইকেট এনে দেন ডেল স্টেইন। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে ফিরিয়ে দেন সিরিজের সফলতম ব্যাটসম্যান ইমাম-উল-হককে। সেই ধাক্কা অবশ্য সামাল দিয়েছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন ফখর জামান ও বাবর আজম। ২৫ বলে ২৪ করে আউট হয়ে যান বাবর। পাকিস্তানের ইনিংস দিক হারায় মাঝপথে। ১০ চারে ৭৩ বলে ৭০ রান করা ফখরকে ফিরিয়ে দেন আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো। এই অলরাউন্ডার ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ হাফিজকেও। পরে থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি শোয়েব মালিক, শাদাব খানরা। আটে নেমে ইমাদ ওয়াসিমের ৩১ বলে ৪৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত যেতে পারে ২৪০ পর্যন্ত। শেষ বলে ছক্কায় ইনিংস শেষ করেন ইমাদ। তবে বল হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি ইমাদ। পারেনি তার সতীর্থরাও। হাশিম আমলাকে ১৪ রানে ফিরিয়েছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। কিন্তু ডি ককের ব্যাটের ধারে কচুকাটা হতে থাকেন পাকিস্তানের বোলাররা। তিনে নেমে কার্যকর ইনিংস খেলেছেন রিজা হেনড্রিকসও। এই দুজনের ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে যায় সহজেই। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩ বলে ৩৪ করে ফেরেন হেনড্রিকস। ডি ককের বিধ্বংসী ইনিংস শেষ হয় উসমান শিনওয়ারিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে। তবে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৮ বলে ৮৩ করে ততক্ষণে দলকে জয়ের পথে তুলে দিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। বাকি পথটুকু অনায়াসেই পাড়ি দিয়েছেন দু প্লেসি ও রাসি ফন ডার ডাসেন। চতুর্থ উইকেটে ৯৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে গেছেন এই দুজন। ঠিক ৫০ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করেছেন দুজনই। শাদাব খানকে ছক্কায় দলের জয় ও নিচের ফিফটি একসঙ্গে ছুঁয়েছেন ফন ডার পাসেন। অভিষেক সিরিজে চার ইনিংসে তিনটি ফিফটি করলেন ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। সিরিজের সর্বোচ্চ রান করে অবশ্য সিরিজ সেরা পাকিস্তানের ইমাম। দুই দল এখন খেলবে তিন ম্যাচের টি- টোয়েন্টি সিরিজ। কেপটাউনেই সিরিজ শুরু হবে শনিবার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৪০/৮ (ইমাম ৮, ফখর ৭০, বাবর ২৪, হাফিজ ১৭, মালিক ৩১, রিজওয়ান ১০, শাদাব ১৯, ইমাদ ৪৭*, আমির ৬, শাহিন শাহ ০*; স্টেইন ১/৫১, তাহির ০/৩৬, রাবাদা ১/৪৩, প্রিটোরিয়াস ২/৪৬, মুল্ডার ১/২০, ফেলুকওয়ায়ো ২/৪২)। দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪০ ওভারে ২৪১/৩ (ডি কক ৮৩, আমলা ১৪, হেনড্রিকস ৩৪, দু প্লেসি ৫০*, ফন ডার ডাসেন ৫০*; উসমান ১/৪৩, শাহিন শাহ ১/৩৪, আমির ১/৪০, শাদাব ০/৭৮, হাফিজ ০/৭, ইমাদ ০/৩৮)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-২ ব্যবধানে জয়ী।  ম্যান অব দা ম্যাচ : কুইন্টন ডি কক। ম্যান অব দা সিরিজ : ইমাম-উল-হক।

বিপিএল

হেলসও চলে যাচ্ছেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কাঁধের ইনজুরির কারণে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসর শেষ না করেই দেশের ফিরে যাচ্ছেন রংপুর রাইডার্সের ইংলিশ খেলোয়াড় আলেক্স হেলস। গেল মঙ্গলবার চট্টগ্রামে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে কাঁধে ব্যাথা পান তিনি। পরবর্তীতে জানা যায়, হেলসের ইনজুরিটি বড় আকারের। তাই পুরো আসর শেষ না করেই দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে হেলসকে। আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর রাইডার্সের কোচ টম মুডি। হেলসের চলে যাওয়া নিয়ে মুডি জানান, ‘আমরা গত রাতে খবরটি পেয়েছি। তাকে লন্ডনে ফিরে যেতে হবে বাঁ-কাঁধের চিকিৎসার জন্য। গত ম্যাচে সে বাঁ-কাঁধে ব্যাথা পেয়েছিলো। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) অনুরোধ করেছে, হেলসকে দেশের পাঠিয়ে দিতে এবং সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। দেশে ফিরলে তার কাঁধের এমআরআই করানো হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার টুর্নামেন্টটি শেষ হয়ে গেছে। দলের মধ্যে তার গুরুত্ব বুঝিয়েছিলো সে। তবে আমাদের বেশ ক’জন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে যারা টপ অর্ডারের অভাব পূরণ করবে।’ বিপিএলের এবারের আসরে রংপুর রাইডার্সের জার্সি গায়ে ৮ ম্যাচে ১টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১৬৭ স্ট্রাইক রেটে ৩০৪ রান করেছেন হেলস। লিগ পর্বের খেলা শেষে দেশের ফিরে যাবেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্সও। ডি ভিলিয়ার্সের ফিরে যাবার দুঃসংবাদের পর হেলসের বিদায় বড় ধাক্কাই বটে রংপুরের জন্য।

 

মৃত্যুঞ্জয়-তানজিদ নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির বোলিং ও তানজিদ হাসানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় এক ম্যাচ বাকী রেখেই ইংল্যান্ডের (অ-১৯) বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো বাংলাদেশের যুবারা। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় ইংল্যান্ড। উপরের সারি চার ব্যাটসম্যানই রানের দেখা পান। তাই বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিলো সফরকারীরা। কিন্তু ইংল্যান্ডের পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। তাই বড় স্কোর গড়তে না পারলেও ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৬ রানের লড়াকু স্কোর পায় ইংলিশরা। চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৯১ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন লুইস গোল্ডওর্দি। এছাড়া জ্যামি স্মিথ ৪৮ ও উইল সামিদ ৪৩ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ৮ ওভারে ৫০ রানে ৪ উইকেট নেন মৃত্যুঞ্জয়। জবাবে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদের মারমুখী ব্যাটিং-এ ১২ দশমিক ২ ওভারে ৮৮ রানে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। আরেক ওপেনার প্রান্তিক নওরোজ নাবিল ৩১ রান করে ফিরেন। তবে হাফ- সেঞ্চুরি তুলে দলের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় মাত্র ৪৬ বলে ৭০ রান করেন তানজিদ। তানজিদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের পথ পরিস্কার করেছেন মাহমুদুল হাসান জয় ও অধিনায়ক আকবর আলী। দলপতি ৫৭ রানে থেমে গেলেও ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশ ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের স্বাদ দেন জয়। ১৩ বল বাকী রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন তানজিদ। ২ ফেব্র“য়ারি একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

সালমানের প্রথম প্রেমিকার মেয়ে এখন বলিউডে

বিনোদন বাজার ॥ সায়েশা সেইগাল। বলিউডের অন্যতম সুন্দরী অভিনেত্রী বলা হচ্ছে তাকে। তার সঙ্গে বলিউডের একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। একটি গয়না বিপণীর বিজ্ঞাপনের কারণে ইতোমধ্যেই ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ তিনি। বলিউডে আবারও নতুন ছবিতে তাকে দেখা যেতে পারে খুব তাড়াতাড়ি। অজয় দেবগনের ‘শিবায়ে’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সায়েশা। মুম্বাইয়ের ইকোলে ম-লে স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি।কোনো দিন ৯০ শতাংশের কম নম্বর পাননি সায়েশা। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই এ কথা জানিয়েছিলেন তিনি।সায়েশার প্রথম ছবি তামিল। ছবির নাম ছিল অখিল। সেটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে সায়েশার সঙ্গে বলিউডের নিবিড় যোগ রয়েছে। সায়েশার মা শাহিন বানুও ছিলেন একজন অভিনেত্রী। শাহিন বানু অভিনেত্রী শায়রা বানুর ভাই সুলতান আহমেদের মেয়ে, অর্থাৎ শায়রা ও দিলীপ কুমারের নাতনি শায়েষা।অন্যদিকে সায়েশার বাবা সুমিত সেইগালও একজন বলিউড অভিনেতা। তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সুমিত বিয়ে করেন অভিনেত্রী ফারাহ নাজকে। সেদিক থেকে ফারাহ নাজ হলেন সায়েশার সৎমা।তবে সায়েশার সঙ্গে সালমান খানেরও এক অন্যরকম সম্পর্ক রয়েছে। সেটা তার মায়ের দিক থেকে। সালমান খানের কলেজ জীবনের প্রথম প্রেমিকা ছিলেন শাহিন। শায়রা ও দিলীপ কুমারের সঙ্গে সালমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা ছিল সেই সময়। সেই শাহিনেরই মেয়ে সায়েশা। সালমান তাই এই অভিনেত্রীকে নাকি বলিউডে অভিষেক ঘটাতে চেয়েছিলেন।১৯ বছর বয়সেই শাহিনের সঙ্গে সালমানের পরে ব্রেক আপ হয়ে যায়। তার পর শাহিন বিয়ে করেন সুমিতকে। সেই সুমিত আর শাহিনেরই মেয়ে সায়েশা। সালমান অত্যন্ত খেয়াল রাখেন সায়েশার। এক পার্টিতে দেখাও গেছে তাদের। সালমান নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে এও বলেছেন, সায়েশাকে দেখলেই অল্প বয়সের শাহিনের কথাই তার মনে পড়ে যায়। সূত্র: আনন্দবাজার।

জীবনে পুরুষ বলতে কেবল বীর : সারা আলী খান

বিনোদন বাজার ॥ আমার জীবনে পুরুষ বলতে কেবল বীর। ওকেই আজ পর্যন্ত ডেট করেছি, আর কারও সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আমার ছিল না।নিজের প্রেম সম্পর্কে এমনটিই জানিয়েছেন সাইফ আলী খান তনয়া সারা আলী খান। প্রথমে ‘কেদারনাথ’ পরে ‘সিম্বা’Ñ দুটি ছবিই বলিউড বক্স অফিসে সাফল্য দেখেছে।নিজের প্রেম সম্পর্কে ফেমাসলি ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক জিতেশ পিল্লাইয়ের সঙ্গে একটি ওয়েব সিরিজে এ কথা জানান সারা।মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী সঞ্জয় পাহাড়িয়ার ছেলে বীর পাহাড়িয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার। ভারত মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডের দৌহিত্র বীর পাহাড়িয়া।বলিউডে পা রাখার আগেই বীর পাহাড়িয়ার সঙ্গে প্রেম করতেন সারা।তিনি বলেন, আমার জীবনে পুরুষ বলতে কেবল বীর। ওকেই আজ পর্যন্ত ডেট করেছি, আর কারও সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আমার ছিল না।আর এটি স্বীকার করতে আমি বাধ্যÑ বীর কোনো দিন আমায় কোনো রকম আঘাত দেয়নি, এখনও আমার হৃদয়ে অক্ষত রয়েছে, নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন এ বিষয়ে।প্রসঙ্গত রুপালি পর্দায় পা রাখার আগে বলি অভিনেতা অনিল কাপুরের ছেলে হর্ষবর্ধনের সঙ্গে বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠে সারার।তবে বছরের শুরুতে চ্যাটশো ‘কফি উইথ করণ’-এ সারা জানিয়েছিলেন কার্তিক আরিয়ানকে বেশ পছন্দ তার।

এক যুগ পর এক ছাদের নিচে সালমান-ঐশ্বর্য, অতঃপর

বিনোদন বাজার ॥ বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের প্রেমকাহিনী পুরনো। একটা সময় সবার মুখে মুখে ছিল এই প্রেম উপাখ্যান। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এ তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সম্পর্ক থাকাকালে নাকি ঐশ্বর্যকে একাধিকবার অপমান করেছেন সালমান খান। গায়েও হাত তুলেছেন।বিচ্ছেদের পর সালমানের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ তুলেছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী। সালমান অবশ্য এর পরও সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করলেও ঐশ্বর্য তাতে রাজি হননি।বিচ্ছেদের পর অভিষেককে বিয়ে করেন ঐশ্বরিয়া। তাদের বিয়েরও দশক পূর্তি হয়ে গেছে। বিচ্ছেদ-বিয়ের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সালমান খানের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন ঐশ্বর্য।এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সালমান খানের মুখোমুখি হননি ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। কিন্তু এবার এক অনুষ্ঠানে আসেন দুজন। সুভাষ ঘাইয়ের জন্মদিনের পার্টিতে এক ছাদের নিচে আসেন দুই সুপারস্টার।

ভালো কাপড় পরতে রোজগার করতে হবে তৈমুরকে!

বিনোদন বাজার ॥ জন্মের পর থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্টার কিড তৈমুর আলী খান। বলিউডে স্টার কিডদের তালিকায় অনেক জনপ্রিয় সে।তবে এই স্টার কিড স¤র্কে তার মা কারিনা যা জানালেন তাতে অবাক সবাই।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কারিনার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোথা থেকে তিনি তৈমুরের পোশাক কেনেন?এমন প্রশ্নের জবাবে কারিনা জানান, এখন পর্যন্ত তৈমুরকে কোনো ব্র্যান্ডেড পোশাক কিনে দেননি তিনি।কারণস্বরূপ তিনি জানান, তৈমুর নিজে রোজগার করে না। আমাদের অনেক কষ্ট করে রোজগার করতে হয়। আমাদের টাকায় কেন সে এত আয়েশ করবে।সে যখন নিজে রোজগার করতে শিখবে, তখন ইচ্ছে হলে ব্র্যান্ডেড পোশাক পরবে, তার আগে নয়। কারিনা আরও বলেন, আমি নিজেও রোজগার করার আগে সাধারণ পোশাকেই অভ্যস্ত ছিলাম। আমার বাবা-মাও আমাকে সাধারণভাবে মানুষ করেছেন। তাই আমিও চাই আমার ছেলেও সেভাবেই বড় হোক।

রাহাত ফতেহ আলী খানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিল ভারত

বিনোদন বাজার ॥ পাকিস্তানের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খানের বিরুদ্ধে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে দুই কোটি ভারতীয় রুপি নেয়ার ক্ষেত্রে বৈদেশিক লেনদেন নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে।ভারতীয় পত্রিকা দা হিন্দুর বরাতে ডনের খবরে এ তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত তদন্ত শেষ হয়েছে। এর পর বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনা আইনের অধীনে তাকে শোকজ নোটিশ দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তাকে এ নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে ২০১১ সালে রাহাত ফতেহ আলী খান ও তার ব্যবস্থাপক মারুফ আলী খানকে আটকান ভারতীয় শুল্ক গোয়েন্দারা।তখন তিনি এক লাখ ২৪ হাজার ডলার ও অন্যান্য বিদেশি উপকরণ বহন করছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।পরে ২০১৪ সালের পর তিনি ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসব অর্থ বহন করে ভুল কিছু করেননি বলে দাবি করেন রাহাত আলী খান। এ সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি। পাকিস্তান ও ভারতীয় দুই দেশের চলচ্চিত্রেই তার জনপ্রিয়তা শীর্ষে থাকে।

‘ফাগুন হাওয়া’ দেখবেন রাষ্ট্রপতি

বিনোদন বাজার ॥ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’। এটি নির্মাণ করেছেন তৌকীর আহমেদ। ছবিটি আসছে ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে প্রচারণায় নেমেছে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবির টিম। ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করছেন নির্মাতা তৌকীর। সেখানে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত সোমবার বিকেলে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের কর্ণধার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি এতে সম্মতি জানান। এ সময় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। ভাষার মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। তৌকীর আহমেদ জানান, ওই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবির প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন রাষ্ট্রপতি। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ। এতে আরো অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, আফরোজা বানু, ফারুক হোসেন, সাজু খাদেম, আজাদ সেতু, হাসান আহমেদ প্রমুখ।