ফিলিস্তিন সরকারের পদত্যাগ

ঢাকা অফিস ॥ ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রমি আল-হামদাল্লাহ ও তার নেতৃত্বাধীন ঐক্য সরকার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। পশ্চিম তীরের রামাল্লায় মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের পর মঙ্গলবার এ পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রমি। তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সরকারই দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে সরকারি এক বিবৃতিতে। প্রেসিডেন্ট আব্বাস এখন আালাপ-আলোচনার পর নতুন সরকার ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। রামাল্লায় সরকারের পদত্যাগের এ ঘটনা গাজার হামাস শাসকদের সঙ্গে আব্বাসের ফাতাহ’র  সম্প্রীতির প্রচেষ্টাকে সংশয়ের মুখে ঠেলে দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মাহমুদ আব্বাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেননি। তবে গত রোববার তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফাতাহ’র এক বৈঠকে বর্তমান সরকারের পরিবর্তে নতুন একটি সরকার গঠনের সুপারিশ করেছিল ফাতাহ সেন্ট্রাল কাউন্সিল। হামাসের একজন কর্মকর্তা এর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন,এ পদক্ষেপ দলটিকে ফিলিস্তিনের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং একঘরে করে ফেলারই চেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী রমি হামদাল্লাহকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ‘প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন’(পিএলও) এর ছোট দলগুলোর প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্রদের নিয়ে একটি নতুন সরকার চায় ফাতাহ সেন্ট্রাল কাউন্সিল। রামাল্লায় রমির মন্ত্রিসভাকে বলা হয় ফিলিস্তিনের জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার। কারণ, এ সরকার ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল সংঘাতে লিপ্ত দুই দল ফাতাহ এবং হামাসের সমঝোতার মধ্য দিয়ে। রমি ওই বছর সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে হামাসের সঙ্গে পশ্চিম তীরের ফাতাহ’র সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায়ও নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। গাজায় ২০০৭ সালে শাসনক্ষমতা নেয় ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের দল হামাস। দু’বছর আগে ২০১৭ সালে হামাস এবং ফাতাহর মধ্যে একটি সম্প্রীতি চুক্তিও সাক্ষর হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী  গাজাতেও আব্বাসের ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের শাসন শুরু এবং মিশর-ইসরায়েল ক্রসিং এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এবং ইসরায়েল নীতি নিয়ে মতবিভেদের কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। হামাস-ফাতাহ’র মধ্যে সংকটের সুরাহা না হওয়ায় ফাতাহ নেতারা প্রধানমন্ত্রী রমির সরকারকে আর বহাল রাখার কোনো মানে হয় না বলেই মনে করছেন।

ভেড়ামারা আলিম মাদ্রাসায় দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আলিম মাদ্রাসায় দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায়, মাদ্রাসার দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ এসকেন্দার আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আলিম স্বপন, সাংবাদিক এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী। অনান্যদের  মধ্যে আরোও উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক রবিউল আলম, রফিকুল ইসলাম, জানবার হোসেন, আবু সাঈদ সহ প্রমূখ।

 

ঝিনাইদহে বৈধ মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট প্রদান ও ফুলেল শুভেচ্ছা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে বৈধ কাগজপত্রধারী মোটর সাইকেল চালকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও হেলমেট প্রদান করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে জেলা ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য চালকদের উৎসাহিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। এসময় যেসব মোটরসাইকেল চালকদের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিন্তু হেলমেট ছিল না তাদেরকে হেলমেট প্রদান করা হয়। যাদের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং হেলমেট ছিল তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। এছাড়া যেসকল গাড়ি ও মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এসময় পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক বিলাস সরকার, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু, সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কৃষ্ণপদ সরকার, ডিএসবি ওসি মীর শরিফুল হক, ডিবি ওসি জাহাঙ্গীর আলমসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন- মানুষকে সচেতন করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে জেলার সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা মোটরসাইকেল চালানোর সময়  হেলমেট ব্যবহার করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপকভাবে  হেলমেট পরিধানের বিষয়টি ছড়িয়ে দিতে হবে।

সেনাপ্রণীত সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে সংঘাতে সু চি’র দল

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারে অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধান সংশোধনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করে পার্লামেন্টে সেনা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে। যদিও সংবিধানে কি ধরনের সংশোধন করা হতে পারে সে বিষয়ে এনএলডি কিছু জানায়নি। অর্ধ শতকের সেনাশাসনের অবসান ঘটিয়ে তিন বছর আগে নির্বাচনের মাধ্যমে অং সান সু চির দল মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসে। এনএলডি সরকার এতদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ পরিচালনা করে আসছিল। মঙ্গলবার মিয়ানমারের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন নিয়ে কাজ করার জন্য একটি কমিটি গঠন করার প্রস্তাব রাখে এনএলডি। ওই প্রস্তাব নিয়ে ভোটের সময় সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এমপি’রা ভোট না দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে সু চির দল এনএলডি। পশ্চিমের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ২০১৭ সালে সেনা অভিযানের সময় দমন-পীড়ন ও নির্যাতন নিয়ে মিয়ানমার সরকারের বেসামরিক এবং সামরিক উভয় অংশই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণ সমালোচিত। সেনা অভিযানের সময় প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগে জান্তা শাসনামলে তৈরি মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধনের প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল এনএলডি। নির্বাচনে দলটির বড় জয়ের পেছনে ওই প্রতিশ্র“তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মত অনেকের। কিন্ত ক্ষমতা গ্রহণের পর এনএলডিকে বরং সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিরোধে না জড়িয়ে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই দেখা গেছে। সংবিধান জটিলতায় সু চি দলীয় প্রধান হয়েও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। তারপরও এনএলডি এতদিন সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়নি। তিন বছর এভাবেই পার হয়ে গেলেও ২০২০ সালের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে সু চির দলকে এখন পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। এ কারণে এনএলডি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে মঙ্গলবারের ওই প্রস্তাব রাখে বলে ধারণা রাজনীতি বিশ্লেষকদের। এনএলডির এমপি ইয়ে হতুতও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “এটি নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি।” গত কয়েক সপ্তাহে সু চি দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় সফর করছেন। মিয়ানমারে সংখ্যালঘুদের মধ্যে সু চির জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ইয়াংগন ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হরসেই বলেন, “আগামী ২০২০ সালের নির্বাচনকে ঘিরে মিয়ানমারের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। তাই এনএলডি এ সময়ে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি পূরণে উদ্যোগ নেবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। “একই সঙ্গে এটা যে সেনাবাহিনীর জন্য খুবই সংবেশনশীল বিষয় সেটাও মনে রাখতে হবে। যদিও কমিটি গঠন করার প্রস্তাব থেকে এখনই এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।” মিয়ানমারের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই সু চির এনএলডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। কিন্তু ২০০৮ সালে জান্তা সরকারের তৈরি করা মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর জন্য পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন সংরক্ষিত আছে। সংবিধান সংশোধন করে এই কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হলে ৭৫ শতাংশের বেশি ভোটের প্রয়োজন। যে কারণে সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবে পার্লামেন্টে সেনা প্রতিনিধিদের আপত্তি সব সময়ই কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোটার কারণেই নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

আলমডাঙ্গার আল ইকরা ক্যাডেট একাডেমির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার আল ইকরা ক্যাডেট একাডেমির উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে আল ইকরা ক্যাডেট একাডেমির মুল ভবন চত্বরে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফকির মোহাম্মদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সীমা শারমিন।  স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রভাষক আব্দুল হাই। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্দ আব্দুস শহিদ, আলমডাঙ্গা পুলিশ পরির্দশক তদন্ত লুৎফুল কবির, প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, সদস্য আনারুল করিম, সাবেক সদস্য আলী আকবর। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আব্দুস শহিদের উপস্থাপনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক, শিক্ষক অব্দুল হান্নান, নজরুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান, আব্দুল মাজেদ ভুইয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ভিত্তিক নাটক উপস্থাপনা করেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রাজু আহম্মেদ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

ভেনেজুয়েলায় ‘স্বৈরাচারী’ শাসন চলছে – গুইদো

ঢাকা অফিস ॥ ভেনেজুয়েলার মানুষ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের কবলে আছে বলে মন্তব্য করে ফের নতুন নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। কারাকাসে বিবিসি’ কে গুইদো বলেন,“দেশে অবাধ নির্বাচনের ডাক দেওয়া আমার দায়িত্ব। কারণ, এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে। আমরা  স্বৈরাচারী শাসনের মধ্যে বাস করছি।” তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলায় হয় আমাদেরকে আধিপত্য, দমনপীড়ন এবং নির্যাতন মেনে নিতে হবে নতুবা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং জনগণের সমৃদ্ধির পথ বেছে নিতে হবে।” মাদুরো প্রশাসন ভেনেজুয়েলার রাস্তায় তরুণদের হত্যা করছে বলে গুইদো অভিযোগ করেন। গত ২৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সরকার বিরোধী এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারকে অবৈধ বর্ণনা করে গুইদো নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘অর্ন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর থেকে বিশ্বের বহু দেশ গুইদোকেই ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। ওদিকে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন। রাশিয়া ও চীন মাদুরোকে সমর্থন দিচ্ছে। এর পাশাপাশি মাদুরো দেশের সামরিক বাহিনীর শক্তিও তার হাতে আছে তা দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন গুইদো। দুপক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানে দেশটিতে চূড়ান্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এ অস্থির পরিস্থিতিতে দেশটিতে জাতিসংঘের হিসাবমতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাদুরো এ মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ বাড়ছে।

সৌদিতে বন্যা, বিপর্যস্ত জনজীবন

ঢাকা অফিস ॥ ভারী বৃষ্টিপাতে সৌদি আরবে বন্যা লেগে গেছে। দেশটির রাজাধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন অঞ্চল তলিয়ে গেছে পানিতে। এছাড়া বেশ কতোগুলো স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিতদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সেইসঙ্গে আবহাওয়া খারাপ বলে সতর্কতাও জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৭ জানুয়ারি) থেকে উপসাগরীয় এ দেশটিতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ধূলিঝড় শুরু হয়। আর এই পানি জমে রিয়াদের প্রধান প্রধান সড়ক তলিয়ে যায়। বিঘœ ঘটে মানুষের চলাফেরায়ও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার এবং সোমবার (২৮ জানুয়ারি) সৌদির উত্তরাঞ্চলীয় এবং পশ্চিমাংশে প্রবল বর্ষণ হয়। তখন মরভূমির বালি উড়ে আকাশচুম্বী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাতে এক রকম অন্ধকার হয়ে পড়ে পুরো অঞ্চল। মরভূমির দেশে আকস্মিক বন্যার কারণে তাবুক, আরার ও আল-জাওয়াফে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এসব শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হচ্ছে মাঝে মাঝে। দেশটির সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মুহাম্মদ মেজর আল হাম্মাদি জানিয়েছেন, রিয়াদ, মক্কা, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল, হাইল, তাবুক, কাশিম, মদিন, প্র“ব প্রদেশ, আসির, জাজান এবং আল-জাওয়াফ বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়েছে। এসব অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ঝুঁকি নিরসনের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন উপত্যকা এবং বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে তাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাবুকের বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই ৬৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুবা থেকে ৩৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব হতে পারে বলে যাত্রীদের নজর রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইট বাতিলেরও আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

 

ঝিনাইদহে নারী দিয়ে খোপ ধরতে গিয়ে নিজেয় খোপে পড়লেন এ এস আই রাজু

ঝিমাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে নারীসহ কলেজের কর্মচারীর আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ক্লোজড দুই পুলিশ সদস্য হলেন, সদর থানার এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ ও কনস্টেবল মুসা তারেক। গত ২৬ জানুয়ারি পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান তাদের বিরুদ্ধে এ আদেশ জারি করলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরের দিকে ঝিনাইদহ সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের মাস্টার রোলের কর্মচারী (এমএলএসএস) মো. আলমগীর হোসেনকে ব্ল্যাকমেইল করতে দুজন অপরিচিত নারী পাঠানো হয়। তারা প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বলে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। ওয়াশরুমের দিকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সেখানে এসে হাজির হন সদর থানার এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ, কনস্টেবল মুসা তারেক ও তাদের সহযোগী সদর থানার সিভিল টিমের মাইক্রোবাস চালক তুষার আহম্মেদ। তারা গিয়েই কলেজের নিচতলার ১০৫ নম্বর রুমের পাশে এমএলএসএস মো. আলমগীর হোসেনকে মারপিট করতে থাকেন। জোর করে পরনের কাপড় খুলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আসা ওই দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন তারা। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, এরপর হাতকড়া পরিয়ে একটি ইজিবাইকে করে থানায় নেয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করতে থাকেন। আলমগীরের ভাগ্য ভালো, তার ডাকচিৎকারে সেখাসে (ক্যাম্পাসে) ছুটে আসেন কলেজ হোস্টেলের এক নারী কর্মচারীসহ এলাকাবাসী। সবার সামনে আলমগীরকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বিপদ টের পেয়ে এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ ও কনস্টেবল মুসা তারেক মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। দুই নারীও সটকে পড়েন। তার আগে আলমগীরের পকেটে থাকা ৩০০ টাকা কেড়ে নেন তারা। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান ওই দিনই তাকে ঘটনা তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ২৬ জানুয়ারি শৃঙ্খলাবহির্ভূত এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সদর থানার এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ ও কনস্টেবল মুসা তারেককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ দেন পুলিশ সুপার। তাদেরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। তদন্ত শেষ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল আলম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এছাড়া বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব না

অভিযোগ দিতে গিয়ে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক পেলো ফুল-মিষ্টি

হাবিবুর রহমান ॥ প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক সাবান মন্ডল (৬৫) থানায় অভিযোগ দিতে গিয়ে শুভেচ্ছা হিসাবে ফুল ও মিষ্টি। অভিযোগ নেওয়ার আগেই পুলিশ সপ্তাহে ঐ প্রতিবন্ধী শুভেচ্ছা হিসাবে হিসাবে এ উপহার পান। ওসি নিজ হাতে তাকে মিষ্টি মুখ করান। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবন্ধী সাবান মন্ডল মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া এলাকার মৃত আলেপ মন্ডলের ছেলে। সে পেশায় একজন ভিক্ষুক। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, সাবান মন্ডল নামের একজন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক তার এলাকার হানিফ মোল্লার নিকট টাকা পায়। হানিফ টাকা না দেওয়ায় ঐ প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক থানায় অভিযোগ করতে আসেন। তিনি বলেন, পুলিশ জনগনের বন্ধু। আমরা চাই প্রত্যেক মানুষকে আইনি সেবা দিতে। সে একজন প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক বলে আইনের সহায়তা পাবে না তা ঠিক না। সে অভিযোগ করতে আসায় তাকে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। সেই সাথে দ্রুত তার অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পুলিশের এমন আচারণে মুগ্ধ হয়ে প্রতিবন্ধী সাবান মন্ডল জানান, পুলিশের কাছে আসলেই নাকি টাকা লাগে এমনটা আমি জানতাম। তবে অভিযোগ করতে গিয়ে আজ আমি পুলিশের পক্ষ থেকে ফুল ও মিষ্টি পেয়েছি। প্রতিবন্ধী ও একজন ভিক্ষুক হয়েও তারা আমাকে সম্মান করেছে। আমার অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক সাবান মন্ডলকে ফুল ও মিষ্টি দেওয়ার সময় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলিম, ডিউটি অফিসার এএসআই খাদিজা এসআই আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। মিরপুর থানা পুলিশের এমন বন্ধুসুলভ আচরণ পুলিশি সেবা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আশা করছেন স্থানীয় সাধারন মানুষ।

আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও নবীনবরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১৯ সালের এস.এস.সি ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও ৬ষ্ঠ  শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী ৷ তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সকলের সন্তানদের মেধা বিকাশ করে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হলে শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিটি অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে ৷ আগামী দিনে কৃতি-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাই সমাজ দেশ ও জাতির কর্ণধর হয়ে উঠবে৷ প্রধান শিক্ষক শওকত আলীর সার্বিক তত্বাবধানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ছাতিয়ান আঃ রাফেত বিশ্বাস কলেজের অধ্যক্ষ আঃ মজিদ, সহকারী অধ্যাপক এস এম শামীম, সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ আমান উল্লাহ, ছাতিয়ান ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি আঃ রশীদ, জাতীয় যুবজেট মিরপুর উপজেলার সভাপতি নাজমুল হোসেন, সহ-সভাপতি রেজাউল হক তুফান, সাধারন সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বিদ্যুৎ প্রমূখ৷ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদুল হাসান টুটুল।

সভাপতি জয় ॥ সম্পাদক রাজ

নিরাপদ চিকিৎসা চাই কুষ্টিয়া কমিটির অনুমোদন

নিরাপদ চিকিৎসা চাই (নি.চি.চা) সংগঠনের চেয়ারম্যান যুবরাজ খান’র অনুমতিক্রমে কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে একাত্তর নিউজ টিভি কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি রেজা আহাম্মেদ জয় এবং সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার ইবি প্রতিনিধি রাজ্জাক মাহমুদ রাজ। “চিকিৎসা  সেবা নিয়ে বানিজ্য বন্ধ করুন, নিরাপদ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করুন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে “নিরাপদ চিকিৎসা চাই”(নি.চি.চা.) এ বিষয়ে সংগঠনটি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উক্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সকলে নিরাপদ চিকিৎসা চাই শ্লোগানে কমিটির পাশে এগিয়ে আসুন। দারিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান সম্মতভাবে সকল মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হওয়া বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে সংগঠনটিকে নিরলস ভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে, কমিটির দায়িত্ব থাকবে ডাক্তার চিকিৎসা দ্বারা রোগীকে সুস্থ করে তুলবে, কোন দালাল চক্র রোগীকে হয়রানী করছে কি না সেই দিকে লক্ষ্য রাখবে, রোগী সঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে কি না, হাসপাতালের পরিবেশ ভালো আছে কি না, উক্ত কমিটিকে এসব বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে প্রয়োজনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা নিতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুমারখালীতে বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতায় কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন এই বিজ্ঞান বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করে। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। সেমিনারের শুরুতে কি-নোট পেপার উপস্থাপন করেন কুমারখালীর আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক (জীববিজ্ঞান) মো: আরিফুজ্জামান। পরে ”বিজ্ঞান শিক্ষায় বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনের নিয়ামক শক্তি” শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর আলোচনা করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আব্দুর রশীদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: রোকনুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: মশিউর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো: হেলাল উদ্দিন, সহকারি প্রোগ্রামার মো: ইশতেয়াক শাহরিয়ার, সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক মো: খলিলুর রহমান, সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আলোচনা শেষে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ নুর এ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগীতা। ১৬টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগীতায় পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন ও কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানার্স আপ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে মুল্যবান বিজ্ঞান বিষয়ক বই ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

আশা প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি

আশা কুষ্টিয়া সদর-  জেলার আশা বাগুলাট ব্রাঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত আশা প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসুচির ত্রৈমাসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ২ দিনব্যাপী আশা বাগুলাট ব্রাঞ্চের উদ্যোগে শিক্ষা সুপারভাইজার ও শিক্ষা সেবিকাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টা হতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়। উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর  জেলার আঞ্চলিক ম্যানেজার মোঃ আমানত উল্লাহ, শিক্ষা সুপারভাইজার মোঃ নাজমূল হোসাইন ও ১৫ জন শিক্ষা সেবিকা। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আলাউদ্দিন আহমেদ, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও মোঃ আনারুল ইসলাম, শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোঃ বাবুল হোসেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসুচিকে শক্তিশালীকরণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য আলোচনা করা হয়। ২০১২ সাল থেকে আশার নিজস্ব অর্থায়নে বাগুলাট ব্রাঞ্চে ১৫টি শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ১৫টি শিক্ষা কেন্দ্রে ১৫ জন শিক্ষা সেবিকা ৪৫০ জন ছাত্র/ছাত্রীকে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও প্রাথমিক পর্যায়ে ঝড়ে পড়ার রোধে কাজ করছেন। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোঃ বাবুল হোসেন বলেন- সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, ঝড়ে পরা রোধে শিক্ষা সেবিকারা যেন সঠিকভাবে শিক্ষা প্রদান করতে পারে সেজন্য আমাদের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা। শ্কিষা প্রশিক্ষন শেষে শিক্ষা সেবিকা মোছাঃ ইতি খাতুন ও মোছাঃ পপি খাতুন বলেন- এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আরো অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম, এতে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করতে পারবো। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেলেন কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান ড: এ এইচ এম কামরুজ্জামান

২০১৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে অসীম সাহসিকতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের রতœগর্ভা মায়ের সন্তান ড: এ এইচ এম কামরুজ্জামান রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে ডিসি ট্রাফিক পূর্ব হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তাঁর সহোদর   ইঞ্জিনিয়ার এ এস এম মুক্তারুজ্জামান। তিনি  বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার  হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেগাটেক ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে  চেয়ারম্যান মোছাঃ সোনিয়া সুলতানা, নির্বাহী পরিচালক   মোছাঃ তানিয়া সুলতানা, প্রকল্প পরিচালক মোঃ জামিরুল ইসলাম তাদের এই কৃতিত্বে শুভেচ্ছা ও  অভিনন্দন জানিয়েছেন।

চৌড়হাসে টুনটুন বাউলের ধামে সাধুসঙ্গ

নিজ সংবাদ ॥ প্রখ্যাত বাউল শিল্প টুনটুন ফকিরের বার্ষিক সাধুসঙ্গ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চৌড়হাস কলোনীপাড়ার সাহস ধামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া শহর আওয়অমী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবু। টুনটুন বাউলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন প্রবীণ বাউল ফকির নহির শাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু হানিফ প্রমুখ। প্রধান অতিথি মীর রেজাউল ইসলাম বাবু বলেন সঙ্গীত মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেক পাড়ায় মহল্লায় পড়া লেখার পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। এথেকে মানুষ সমস্ত অপরাধ বিশেষ করে মাদক দ্রব্যের ভয়াল থাবা থেকে বিরত থাকে। একই সাথে যেকোন ভালো কাজে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। ‘সাহস’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের তরুন নারী বাউল দেবোরা, ১৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল  হক প্রমুখ। আলোচনা শেষে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লালন সঙ্গীতের আসর। এদিকে এই সাধুসঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক বাউল ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। সাধুসঙ্গ উপলক্ষে গ্রামীণ মেলাও বসে। সাধুসঙ্গ আজো চলবে।

হরিনারায়নপুর ইউপির ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের স্থান পূর্ব আব্দালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

আগামী ২ ফেব্র“য়ারী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়নপুর ইউনিয়নের ৪নং ভোট কেন্দ্রের অধীনে ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। হরিনারায়নপুর দোয়ারকাদাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজের পরিবর্তে পূর্বের নির্ধারিত স্থান পূর্ব আব্দালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করা হয়েছে। এ সময় সকল ভোটারগণকে উপস্থিত থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আবু আনছার। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড থেকে হরিনারায়নপুর দোয়ারকাদাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজের দূরত্ব ও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে হরিনারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তে পূর্বের নির্ধারিত স্থান পূর্ব আব্দালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকেই স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কার্যক্রম করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দেড় ঘন্টা সড়ক অবরোধ, শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা

গরীব সিএনজি চালকদের দুঃখ বুঝলেন কামারুল আরেফিন

আমলা অফিস ॥ বুধবার সকাল ১০টা। শিরিনা আক্তার তার দেড় বছরের শিশুকে কোলে করে নিয়ে হাটছেন রাস্তায়। রাস্তার দু’ধারে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি। তার গন্তব্য কুষ্টিয়া জেনারেল হসপিটাল। একমাত্র শিশুটি অসুস্থ্য। ডাক্তার দেখাতে হবে। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা থেকে অটোরিক্সায় চড়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কের ভাঙ্গা বটতলা এলাকায় এসে থেমে যায় অটোরিক্সা। সামনে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে সিএনজি চালক ও মালিকেরা। কোন যাত্রীবাহি যানবাহন চলতে দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য প্রায় ১ কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে তাকে। শুধু তাই নয়, আব্দুর রহিম  দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি থেকে যাচ্ছেন বুকের ব্যথার জন্য হসপিটালে তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে। বাসের যাত্রী ছিলেন তারা। দুজনেই পায়ে হেটে যাচ্ছেন। সকালে স্কুলগামী, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা বাস ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল না করায় ফাঁকা মাঠের মধ্যে পড়ে চরম বিপাকে। কুষ্টিয়া শহরে সিএনজি চলাচলে বাধা দেওয়ায় বুধবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা সিএনজি মালিক ও চালক সমিতির সভাপতি সামসুল আরেফিন অমূল্যের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে সকল প্রকার যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সিএনজি চালক ও মালিকেরা। এদিকে রাস্তা অবরোধ করে রাখায় বিপাকে পড়ে এসব যাত্রীরা। সিএনজি মালিক ও চালকদের দাবী, আমরা যারা সিএনজি চালায় তারা সকলেই গরীব মানুষ। পেটের দায়ে এর গাড়ী চালায়। একদিন সিএনজির চাকা না ঘুরলে আমাদের সংসারের চাকা থেমে যায়। বাস মালিক সমিতিরা আমাদের রাস্তায় চলাচলে বাধা দিচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরে আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। তাই আমরা এ সড়ক অবরোধ করছি। সিএনজি মালিক সামসুল জানান, আমরা বৈধভাবে সিএনজি চালাতে চাই। বাস মালিকরা এভাবে বন্ধ করে দিলে না খেয়ে মারা যাবো। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ সিএনজিই লোন নিয়ে কেনা। আর যদি সরকার আমাদের দুঃখ না বোঝে তাহলে আমাদের সিএনজি সব অর্ধেক দাম দিয়ে নিয়ে নিক। তাও তো শান্তনা পাবো। অবরোধে আটকা পড়া কয়েকজন বাস চালক জানান, কোন ঘোষনা না দিয়েই সিএনজি মালিক-চালকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আমরাসহ বাসের যাত্রীরা বিপাকে পড়েছে। এদিকে খবর পেয়ে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় তিনি সিএনজি চালক ও মালিকদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ^াস দেন। এতে ৫মিনিটেই রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেয় সিএনজি মালিক ও চালকরা। কামারুল আরেফিন জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজি মালিক ও চালকদের সমস্যার কথা শুনে তাদের সমাধানের আশ^াস দিয়েছি। এতে তারা শান্তিপূর্নভাবেই অবরোধ তুলে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা সিএনজি মালিক সমিতির আমলা শাখার সভাপতি খন্দকার আব্দুল রহিম, সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, জেলা কমিটির লাইন সম্পাদক আব্দুল হান্নান, সদস্য রবিউল হক, আমলা শাখার সাধারন সম্পাদক খন্দকার আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, সিএনজি চালক রকিবুল ইসলাম রতন, সিএনজি মালিক আনিচ তালুকদার, নাদিম, সুজাত, বাবু, মিজানুর রহমান মিজান, আশরাফুল ইসলাম, এনামূল হক, হোসেন রানা, সেলিম হোসেন, মাসুদ রানা, লিটন হোসেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা সিএনজি চালক ও মালিক সমিতির সভাপতি শামিম আহম্মেদসহ নেতৃবৃন্দরা। এসময় জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি চালক ও মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে কোচিং সেন্টার বন্ধে ইউএনও’র অভিযান

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোচিং সেন্টার বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলার খলিশাকুন্ডি, দৌলতপুর, রিফায়েতপুর, আল্লারদর্গা, তারাগুনিয়া ও ফিলিপনগরসহ বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযান চলাকালে দৌলতপুরে কোন কোচিং সেন্টার খোলা বা চলমান অবস্থায় পাওয়া যায়নি। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তার জানান, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টার বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে কোন কোচিং সেন্টার খোলা পাওয়া যায়নি বা চোখে পড়েনি। তবে এবিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্ট শতভাগ ঐক্যবদ্ধ – ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শতভাগ ঐক্যবদ্ধ আছে। তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। গতকাল বুধবার বিকেলে মতিঝিলের আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে প্রস্তুতি সভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ আছে কি না, জানতে চান সাংবাদিকরা। কামাল হোসেন বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তো ১০০ ভাগ ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের ঐক্য তো ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে।’ গণফোরামের দুজন সদস্যের শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির সভাপতি বলেন, এসব বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। এ ছাড়া আজ একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল। সংসদ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কামাল হোসেন বলেন, কী হচ্ছে না হচ্ছে তিনি খোঁজ রাখছেন। এসব বিষয়ে পরে আলোচনা করে জানানো হবে। জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় ঐকমত্যে যেগুলো আছে সেগুলো তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় সংগঠনের মাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ঐক্যবদ্ধ হয়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।’ এ ছাড়া জেলায় জেলায় সবাইকে সংগঠিত করা হবে বলেও জানান। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য অটুট আছে বলে দাবি করলেও নিজের দলের নির্বাচিত দুজনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান গণফোরাম সভাপতি। কামাল হোসেন সিঙ্গাপুর থাকাকালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী তার দলের দুই নেতা সুলতান মো. মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান শপথ নেবেন বলে ঘোষণা দেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে জয়ী হন তারা, যে নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করেছে ঐক্যফ্রন্ট ও তাদের শরিক বিএনপি।  ‘নির্দলীয়’ সরকারের অধীনে পুনঃভোটের দাবি জানানো বিএনপির নির্বাচিত ছয় নেতাও শপথ নেবেন না বলে দলটির নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া গণফোরামের দুই নেতার শপথ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন বলেন, “এই ঐক্য তো আমাদের মধ্যে আছেই। এটা আরো সুদৃঢ়। এক নম্বর আমাদের কথা হল-জনগণ ক্ষমতার মালিক, জনগণ জাতীয় সম্পদের মালিক, জনগণ আইনের শাসন চায়- চলেন না আমরা পরীক্ষা করে দেখি সেই ঐক্য আছে কি না। অবশ্যই আছে।” ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে উচ্চস্বরে কথা বললেও দলের নেতারা সদস্য সংসদ হিসেবে শপথ নেবেন কি না, সে প্রশ্ন করা হলে জবাব এড়িয়ে যান গণফোরাম সভাপতি। তিনি বলেন, “এটা এখানে বলার ইস্যু নয়। এ বিষয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলনে পরে বলব। এই মুহূর্তে আমরা জাতীয় ঐক্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কথা বলছি।” কামাল হোসেন যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন চলছিল। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই সংসদের ব্যাপারে সব কিছু জেনে বিচার-বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে আমরা বক্তব্য রাখব।”

গণফোরামের পঞ্চম কাউন্সিল উপলক্ষে বিকালে প্রস্তুতি সভায় বক্তব্যে নেতাকর্মীদের জনগণের সম্পদের ‘পাহারাদার’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান কামাল হোসেন। তিনি বলেন, “দেশের সম্পদ কেউ যাতে আত্মসাৎ করতে না পারে, অপচয় করতে না পারে সেজন্য আমাদের জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। নানা রকমের যেসব অশুভ শক্তি আছে, অশুভ শক্তির তৎপরতা সম্পর্কে আমাদের সজাগ থাকতে হবে, গণবিরোধী শক্তি যারা সম্পদ আত্মসাৎ করতে চায় তাদের ব্যাপারে আমাদের সংগঠিত হতে হবে। “সংগঠিত জনগণকে দিয়ে জনগণের মালিকানা রক্ষা করা যাবে, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে।” তৃণমূল পর্যায় থেবে দলকে সংগঠিত করার আহ্বান জানান গণফোরাম প্রধান। কাউন্সিল নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ঐক্যের লক্ষ্য হল- সবাইকে নিয়ে আমরা শক্তি সঞ্চয় করব, সংগঠনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেব। জাতীয় ঐক্যমত যেগুলো আছে তাকে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলা হবে। “ জেলায় জেলায়, থানায় থানায়, ইউনিয়ন ইউনিয়নে গিয়ে দলকে সংগঠিত করা হবে, জনগণকে সংগঠিত করা হবে।” আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় গণফেরামের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওম শফিকউল্লাহর পরিচালরায় এই প্রস্তুতি সভায় দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ, মোকাব্বির খান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মোস্তাক আহমেদ, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, এসএম আলতাফ হোসেন, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আইয়ুব খান ফারুক, রফিকুল ইসলাম পথিক, রওশন ইয়াজদানি, মাহবুব হোসেন, কাজী হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

দৌলতপুরে ড্রাম ট্রাক বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ড্রাম ট্রাক বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে  আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদের উদ্দোগে ড্রাম ট্রাক বন্ধের দাবিতে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যুব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি কামরান আহাম্মেদের নেতৃত্বে আল্লারদর্গা বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বেপরোয়া গতির ড্রাম ট্রাক বন্ধের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, যুব কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহাম্মেদ, প্রচার সম্পাদক রাকিব হোসেন, সদস্য সুজা উদ্দীন, মুন্না আহাম্মেদ, শেরশাহ, নয়ন আহাম্মেদ ও শাকিল আহাম্মেদ প্রমূখ। এ সময় বক্তারা বলেন বেপরোয়া গতির ড্রাম ট্রাক প্রতিনিয়ত এলাকার প্রায় ৩০টি ইটভাটায় হাই লোড করে মাটি ও বালি পরিবহণ করে চলেছে। যার ফলে ওভার লোডিংয়ে রাস্তা ভেঙ্গে খানাখন্দকে পরিণত হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ড্রাম ট্রাকগুলি প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। দ্রুত গতির এ ড্রাম ট্রাক বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পরে আল্লারদর্গা বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর আইকিউএসি’র সেমিনার কক্ষে গতকাল বুধবার দিনব্যাপী  জাতীয় শুদ্ধাচার  কৌশল বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য দুর্নীতি দমন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এর সভাপতিত্বে দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত ৭টি কমিটি যথাক্রমে নৈতিকতা কমিটি, ওয়ার্কিং গ্র“প, কোর কমিটি, সিটিজেন চার্টার বাস্তবায়ন কমিটি, ইনোভেশন টিম, অভিাযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা কমিটি, এবং বর্ষিক সম্পাদনা চুক্তি টিমের  সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.রাশিদ আসকারী বলেন, বর্তমান সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরেই আজ দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছে। পাশাপাশি যেখানেই চিরায়িত দুর্নীতি হচ্ছে সেখানেই তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়ে গেছে। তিনি বর্তমান সরকার ঘোষিত এমডিজি, এসডিজি এর উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সংকট, সম্ভাবনা, সেশনজট দূরীকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন সহ নানা সমস্যা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা মূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে। এখানে অনিয়মকারী ও দুর্নীতিবাজদের কোন জায়গা নেই। সকলকে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার জায়গাা হতে দল মত নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সদস্য কাজে কর্মে আরো দক্ষ, দায়িত্ববোধসম্পন্ন, সৎ, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান হবে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য দুর্নীতি দমন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন নিশ্চিত শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ ও গঠিত ৭টি কমিটির সদস্যবৃন্দ।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি