কালুখালীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুর্ধ ১৭ এর খেলায় ট্রাইবেকারে মাজবাড়ী ফাইনালে

ফজলুল হক ॥ গতকাল বুধবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুর্ধ ১৭ এর খেলায় ট্রাইবেকারে ০৩-০১ গোলে মাজবাড়ী ইউনিয়ন বোয়ালিয়া ইউনিয়ন কে পরাজিত করে ফাইনালে উন্নিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার কালুখালীর আয়োজনে বিকাল ৩টায় রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ খেলা উপভোগ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম,  মাজবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম, বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগম, খেলা পরিচালনাকারী জেলা রেফারি এসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদত হোসেন, জার্স হিসেবে নিত্যানন্দী ও জুয়েল সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সূধীজন উপস্থিত ছিলেন। বিজয় শেষে মাজবাড়ী ইউনিয়নের অধিনায়ক মোঃ শরিফ শেখ ও খেলোয়ারবৃন্দ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম, টিম লিডার মোঃ ফারুক আহম্মেদ, সহকারী টিম লিডার আমজাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মোশারফ মেম্বার সহ এলাকার জনসাধারণ চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিভিন্ন আনন্দ উল্লাস করেন।

৯৮ ব্যাচের ফুটবল ফাইনাল খেলায় হালসাকে ৬-০ গোলে পরাজিত হরে পোড়াদহ চ্যাম্পিয়ন

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হালসা হাই স্কুলের ৯৮ সালের এসএসসি ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের আয়োজনে ফুটবল ফাইনাল খেলা বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  উক্ত ব্যাচের ছাত্র, মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সদস্য হাজী আশরাফ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসাবে ফুটবল ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন। খেলায় শক্তিশালী পোড়াদহ ফুটবল দল হালসা ফুটবল দলকে ৬-০ গোলে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম বিশ্বাস, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বিশ্বাস, হালসা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন শিশির, হালসা ফাঁড়ীর আইসি সমির কুমার,  জেলা যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসিরউদ্দীন বিশ্বাস, সাধারন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, আ’লীগ নেতা আহমেদ আলী, তোফাজ্জেল হোসেন ভুট্টো, জাহাঙ্গীর মালিথা, হারুন অর রশিদ, মালিহাদ ইউনিয়ন যুব লীগের সাধারন সম্পাদক সাদিকুর রহমান টুটুল, কুর্শা ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মাহবুব মাস্টার, যুব লীগ নেতা শেখ শামসুজ্জামান শিপন, বামনগাড়ী একতা ক্লাবের সাইফুল ইসলাম রাজা, মিনারুল ইসলাম, মোরাদ  হোসেন, দেলোয়ার ও উজ্জ্বল। খেলা পরিচালনা করেন জেলার সাবেক কৃতিমান ফুটবলার শরিফুল ইসলাম শরিফ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাবেক ফুটবলার, ৯৮ সালের এসএসসি ব্যাচের ছাত্র সোহেল রানা লিটন।

ঝিনাইদহে ইউনিক ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিসের সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ইউনিক ফোর্স প্রাঃ লিমিটেড’র ঝিনাইদহে নতুন শাখার যাত্রা শুরুর লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় শহরের ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন লাকী প্লাজায় অবস্থিত কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ইউনিক ফোর্স প্রাঃ লিমিটেড’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিয়াজ উদ্দীন আহম্মেদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি ঝিনাইদহ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সহ সিকিউরিটি সার্ভিস এবং সাপ্লায়ের কাজ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন সিকিউরিটি সার্ভিসের কার্যক্রম দেশে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে। আর সে লক্ষ্যেই সকলের সহযোগীতায় দেশের অন্যান্য বৃহৎ সিকিউরিটি সার্ভিসের মতো ইউনিক ফোর্স প্রাঃ লিঃ দেশব্যাপী বিস্তার লাভ করবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা চাই। সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর শরিফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ শাখার ম্যানেজার রাজু আহম্মেদ, যশোর জেলার মার্কেটিং অফিসার শরিফুল ইসলাম ও আলাল উদ্দীন আহম্মেদ প্রমুখ।

কালুখালীতে এমপি জিল্লুল হাকিম এমপির পক্ষে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মটর সাইকেল শোভাযাত্রা

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে গতকাল বুধবার উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিমের পক্ষে বিশাল মটরসাইকেল শোডাউন করেছে। বিকাল ৩টায় রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ চত্ত্বরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের থেকে আগত সহস্রাধিক মটরসাইকেল আরোহী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে এ শোডাউন শুরু করে। এসময় উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মনিরুজ্জামান চৌধুরী মবি, যুগ্ম আহবায়ক রাকিবুল ইসলাম লাবু, সোহেল আলী মোল্লা, অন্যতম সদস্য জামির হোসেন জয়, সেলিম উর রেজা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সুমন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর রুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রামানিক, যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা অন্যান্যের মধ্যে রতনদিয়া ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মোঃ রিপন, সাওরাইল ইউপি সভাপতি মোঃ কামাল হোসাইন, মাজবাড়ী ইউপি সভাপতি মোঃ রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম সোহাগ, ইমদাদুল হক। এছাড়াও মিছিলটি প্রাণবন্ত করতে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য খায়রুল ইসলাম খায়ের, মিজানুর রহমান মজনু, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভিন নিলুফা, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব, মৃগী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান সাগর মোল্লা ও বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগম, রতনদিয়া ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম শাহ আজিজসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রাটি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত করে। শোভাযাত্রায় নেতা-কর্মীরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন এবং জিল্লল হাকিম এমপির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

এত রকম আন্দোলনের পরও সচেতনতা নাই

ঢাকা অফিস ॥ নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে পথচারীদের রাস্তায় চলাচলে সচেতন হতে ও আইন মানার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেকটা আক্ষেপের সুরে তিনি বলেছেন, এ রকম একটি আন্দোলনের পরও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়নি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদনেতা শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে পথচারী ও যাত্রীদের দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গাড়িচালকদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেখানে-সেখানে রাস্তা পার হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই দুর্ঘটনা থামবে। না হলে থামবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের একটি অদ্ভুত মানসিকতা আছে, যেখানে-সেখানে রাস্তা পার হতে চায়। ছোট ছোট শিশুদের হাত ধরে রাস্তায় চলে যায়, যেখানে অনবরত গাড়ি চলছে। একটি দ্রুতগতির গাড়ি হাত দেখানোর সঙ্গে সঙ্গেই থেমে যেতে পারে না। কাছেই ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস থাকলেও সেখানে না গিয়ে হুট করে দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হতে চায়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা ঘটলে যারা রাস্তা পারাপার করছে, তাদের দোষ কতটুকু, সেটাও দেখা দরকার।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাস্তা পারাপারের সময় আমি মনে করি সকলকে অন্তত ট্রাফিক আইনটা মেনে চলা উচিত। এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটল, এ রকম একটা আন্দোলন হলো, তারপরও আমরা দেখি, মানুষের মধ্য সেই সচেতনতা নাই। যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা গাড়িতে ধাক্কা লাগলে গাড়ির চালক জীবন বাঁচাতে দ্রুত চলে যেতে চেষ্টা করে। ফলে যার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল, সেও বাঁচে না। কারণ এ ধরনের ঘটনায় আহতকে বাঁচানোর চেয়ে চালককে টেনে নামিয়ে মারধর করার আগ্রহই মানুষের বেশি থাকে। আইন কারও হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। মারধর বন্ধ হলে অনেক দুর্ঘটনা কমে যায়।’ ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে এক বাবার সড়ক প্রতিবন্ধক বেড়া ডিঙিয়ে রাস্তা পারাপারের একটি ছবির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সচেতনতার যথেষ্ট অভাব আমাদের। এত বড় একটা ঘটনার পরও দেখবেন, বাচ্চার হাত ধরে দ্রুত রাস্তা পার হচ্ছে। একটা মিনিট সময় নেবে না অথবা ওভারপাস বা আন্ডারপাস দিয়ে যাবে না। এই বিষয়টা সকলের দেখা দরকার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হতে যাওয়া বা দুটি বাস দাঁড়িয়ে আছে, যেকোনো সময় বাস ছাড়তে পারে, এমন অবস্থায় ফাঁক দিয়ে বের হতে গেলে বাসচালকের পক্ষে তা দেখা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় গাড়ি চলে গেলে দুর্ঘটনা ঘটবে। অথবা গাড়িতে বসার সময় জানালায় হাত ঝুলিয়ে রাখা বা মাথা বের করে রাখলে এ সময় আরেকটা গাড়ি ধাক্কা মারতেই পারে। যেকোনো সমস্যা হতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, এমন অবস্থায় গাড়ির চালককে কীভাবে দোষ দেওয়া যায়? এর আগে নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কসংক্রান্ত ৯ দফা দাবির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত ও কষ্ট পেয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় বাস দুটির চালক, হেলপার ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলাসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ সড়কের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সরকারি দলের এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরের চারপাশে এলিভেটেড রিং রোড করার পরিকল্পনা আছে।

রাজধানীর যানজট নিয়ে স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বড় বড় সব শহরে যানজটের সমস্যা আছে। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি যত হচ্ছে, তাঁরা তত বেশি গাড়ি ব্যবহার করছেন। আর যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আগে যে পরিবারের একটিও গাড়ি ছিল না, এখন তাদের মধ্যে কোনো কোনো পরিবার দুটোও গাড়ি চালাচ্ছে। যাঁর একখানা গাড়ি ছিল তাঁর এখন তিনখানা গাড়ি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যানজট যেমন সমস্যা, তেমনি যানজটে কিন্তু এটাও বুঝায় যে বাংলাদেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নত হচ্ছে। তাদের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে এবং তারা গাড়ি ব্যবহার করতে পারছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ঢাকার যানজট নিরসনে ত্বরিত ব্যবস্থা নিচ্ছে। বেশ কিছু ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে, আরও হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কাজ করতে গেলে নানা ধরনের সমস্যা থাকে। মানুষের বসতি থাকে, মসজিদ থাকে, হাসপাতাল থাকে, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকে। সেগুলোকে স্থানান্তর করে পুনর্বাসন করা সময়ের ব্যাপার। এ জন্যই সময়টা বেশি লেগে যায়।’ সরকারি দলের সাংসদ মো. আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে। সরকারি দলের সাংসদ মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের মানুষ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। সুষ্ঠুভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। সরকার আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

ভারতে ৪০০ কোটি ডলার যাওয়ার তথ্য ভুল – শ্রিংলা

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স হিসেবে বছরে ৪০০ কোটি ডলার ভারতে যাওয়ার তথ্যটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ভারতের রেমিট্যান্সের চতুর্থ বড় উৎস বাংলাদেশ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বস্ত্র খাতের একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার এ দাবি করেন। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের এক বক্তব্যের ভুল ভাঙাতে গিয়ে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা প্রবাসী আয় নিয়ে কথা বলেন। এর আগে শফিউল ইসলাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ভারতের প্রবাসী আয়ের চতুর্থ বড় উৎস বাংলাদেশ। এটা নিয়ে আমরা গর্ব বোধ করি।’ শফিউল ইসলামের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেন, ‘আমি রেকর্ড রাখার জন্য এফবিসিসিআই সভাপতির বক্তব্যটির আংশিক সংশোধনী দিতে চাই। বাংলাদেশ যে ভারতের রেমিট্যান্সের চতুর্থ উৎস, এটা প্রকাশ করেছিল পিউ রিসার্চ। তাদের ওয়েবসাইটে সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে এ তথ্য উঠেছিল, যা পুরোপুরি ভুল। সংবাদটি মিথ্যা।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তথ্যাদি আমরা এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আদানপ্রদান করতে পারি। এ দেশে ভারতীয় নাগরিকদের একটি ছোট দল কাজ করে। এটা অবিশ্বাস্য যে তাদের পক্ষে ৪০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় পাঠানো সম্ভব।’ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে পিউ রিসার্চের বরাত দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বাংলাদেশকে ভারতের রেমিট্যান্স আয়ের চতুর্থ উৎস বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে ভারত বছরে ৪০৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পায় বলে উল্লেখ করা হয়। গত ২ জুলাই আরেকটি পত্রিকায় বাংলাদেশ থেকে ভারত এক হাজার কোটি ডলার আয় করে বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও সেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের বরাত দেওয়া হয়নি। পিউ রিসার্চ গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্বব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে একটি হালনাগাদ ইনফোগ্রাফিকস প্রকাশ করে, যেখানে বাংলাদেশ থেকে ২০১৬ সালে ২০০ কোটি ডলার বা সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স বিদেশে যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ভারতে যায় ১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ ক্ষেত্রে ভারতের ওপরে আছে চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। পিউ রিসার্চের একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত থেকে বাংলাদেশে ২০১৬ সালে ৪০৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আইসিসিবিতে বস্ত্র খাতের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সেমস গ্লোবাল। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সংসদে অর্থমন্ত্রী

ঋণখেলাপিদের কাছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। তাঁদের কাছে অনাদায়ি অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। গতকাল শনিবার সংসদে পিনু খানের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকের সংখ্যা ৮৮টি। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ১৮ হাজার ৬৬২ কোটি, জনতা ব্যাংকে ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৯ হাজার ২৮৪ কোটি, রূপালী ব্যাংকে ৪ হাজার ৯০১ কোটি, বেসিক ব্যাংকে ৮ হাজার ৫৭৬ কোটি, কৃষি ব্যাংকে ২ হাজার ১৭৮ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ২ হাজার ৩৩২ কোটি, পূবালী ব্যাংকে ২ হাজার ১১৬ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকে ৫ হাজার ৭৬ কোটি, ইসলামী ব্যাংকে ৩ হাজার ৫২০ কোটি আর প্রাইম ব্যাংকে ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে। প্রশ্নোত্তরের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল পাঁচটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির মধ্যে রয়েছে ইলিয়াস ব্রাদার্স, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম, রেমিক্স ফুটওয়ার, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস, রুবিয়া ভেজিটেবল ইন্ডাস্ট্রিজ, রাইজিং স্টিল, ঢাকা ট্রেডিং হাউস, বেনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ারা স্পিনিং, ক্রিসেন্ট লেদার প্রডাক্ট, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী নিটওয়্যার, সিদ্দিক ট্রেডার্স, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার, অললপা কম্পোজিট টাওয়েলস, হল-মার্ক ফ্যাশন, মুন্ন ফেব্রিকস, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিকস, সাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েলস, মার্ক ইন্টারন্যাশনাল, সুরুজ মিয়া জুট স্পিনিং মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম, সালেহ কার্পেট মিলস, পদ্মা পলি কটন নিট ফেব্রিকস, এস কে স্টিল, হেলপলাইন রিসোর্সেস, এইচ স্টিল রি-রোলিং, অটবি, বিসমিল্লাহ টাওয়েলস, তাইপে বাংলা ফেব্রিকস, ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট, তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ইউনিট-২. সিক্স সিজন অ্যাপার্টমেন্ট, ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম, রহমান স্পিনিং মিলস, জাপান-বিডি সেক প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপারস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি, সেমাটসিটি জেনারেল ট্রেডিং, এম কে শিপ বিল্ডার্স, কটন করপোরেশন, ন্যাশনাল স্টিল, এম বি এম গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল, সোনালী জুট মিলস, এক্সপার টেক লিমিটেড, ওয়ালমার্ট ফ্যাশন, সাদ মুসা ফেব্রিকস, চিটাগং ইস্পাত, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, হিমালয়া পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, আমাদের বাড়ি লি., ইমদাদুল হক ভুইয়া, চৌধুরী টাওয়েল, চৌধুরী লেদার, আর্থ অ্যাগ্রো ফার্ম, নর্দার্ন পাওয়ার সলিউশন, ম্যাক শিপ বিল্ডার্স, দ্য আরব কনট্রাকটরস, ওয়ান ডেনিম মিলস, লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যার, বিশ্বাস গার্মেন্ট, মাস্টার্ড ট্রেডিং, হিনদুল ওয়ালী ট্রেডিং, সগির অ্যান্ড ব্রাদার্স, গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, অরনেট সার্ভিসেস, জালাল অ্যান্ড সন্স, করোলা করপোরেশন, সাইদ ফুড, অ্যাপেক্স নিট কম্পোজিট, এস এ অয়েল রিফাইনারি, আলী পেপার মিলস, ড্রেজ বাংলা লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ডায়িং, অর্জন কার্পেট অ্যান্ড জুট, ইন্ট্রাকো সিএনজি, ফরচুন স্টিল, ফাইবার শাইন লিমিটেড, দোয়েল অ্যাপারেলস, জাহিন এন্টারপ্রাইজ, মজিবর রহমান খান, কেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটাল, জয়নাব ট্রেডিং, তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ, অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, রিসোর্স ডেভেলপমেন্টে ফাউন্ডেশন, দ্য ওয়েল টেক্স, ডেলটা সিস্টেম, টেলিবার্তা, এম আর সোয়েটার কম্পোজিট, রেপকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মাবিয়া শিপ ব্রেকিং, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, নর্দার্ন ডিস্টিলারিজ, নিউ রাখি টেক্সটাইলস, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শফিস স্টিল, জারিস কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রিজ ও হিলফুল ফুজুল সমাজকল্যাণ সংস্থা। নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার আশ্বাস ছিল ৩৬১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৩৬০ মিলিয়ন এবং অনুদান ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এসব সাহায্যের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৮৭ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৮৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার এবং অনুদান ২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০১৭-১৮ সালে বৈদেশিক কল থেকে ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে। তবে এই আয় গত নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বৈদেশিক কল থেকে সর্বাধিক ১ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে ২০১৩-১৪ সালে। সব মিলিয়ে গত নয় বছরে বৈদেশিক কল থেকে ১২ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।

 

কুমারখালীতে ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কুষ্টিয়ার কুমারখালী শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে বিভিন্ন গাছরে চারা বিতরণ র্কমসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর বুধবার শহরতলীর দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলরুমে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। ব্যাংকরে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আয়োজনে উক্ত চারা বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধণী আনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের কুমারখালী শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গোলাম  মাসুদ। দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সমাজসেবক দীন মোহাম্মদ মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক পিয়ার মোহাম্মদ বিশ^াস ঠান্টু। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার মাহবুবুল আলমের পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল মতিন। বিনামৃল্যে বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ র্কমসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, এবছর  ইসলামী ব্যাংক বাংলাদশে লিমিটেড কুমারখালী শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে প্রায় ৫হাজার বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হবে।

মেহেরপুরে জনতা ব্যাংকের প্রকাশ্যে কৃষি ঋণ বিতরন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে জনতা ব্যাংক লিঃ বামন্দী শাখার উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে প্রকাশ্যে কৃষি ঋণ বিতরন করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে ৯ জন কৃষকের মধ্যে ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার ঋণ বিতরন করা হয়। জনতা ব্যাংক বামন্দী শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ শামসুজ্জোহা এসপিও-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে টাকা তুলেদেন জনতা ব্যাংক লিঃ-র  চুয়াডাঙ্গা এরিয়া অফিসের এজিএম মোঃ হামিদুল্লাহ। আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ ইছাহক আলী প্রিন্সিপাল অফিসার, মোঃ সিরাজুল ইসলাম প্রিন্সিপাল অফিসার চুয়াডাঙ্গা এরিয়া অফিস, মোঃ রফিকুল ইসলাম সিনিয়র অফিসার, মোঃ আব্দুল আজিজ সিনিয়ির অফিসার, মোঃ ফুরকান আলী সিনিয়র অফিসার জনতা ব্যাংক বামন্দী শাখা। জনতা ব্যাংক এরিয়া অফিস চুয়াডাঙ্গার এজিএম হামিদুল্লা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন- কৃষকরা যাতে ঋণ নিতে গিয়ে কোনভাবে হয়রানীর স্বীকার না হয় সেজন্য কৃষকের বাড়িতে গিয়ে ঋণ বিতরন কার্যক্রম হাতে নেয় জনতা ব্যাংক লিঃ। তারই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ্যে কৃষকদের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গায় নাশকতা মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৫ কর্মী আটক

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৫ কর্মিকে আটক করেছে পুলিশ। নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা অভিযোগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাদের আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আটককৃতদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আলমডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে নাশকতার মামলার আসামীদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উপজেলার চরপাড়া গ্রামের দাউদ মালিথার ছেলে বিএনপি কর্মি হায়দার আলী (৪০), বেগুয়ারখাল গ্রামের মৃত নকিম উদ্দিনের ছেলে জামাযাত কর্মি মজিবুল (৫২), একই গ্রামের মৃত হেকমত আলীর ছেলে  বিএনপি কর্মি হারুন (৪২) উপজেলা আসাননগর গ্রামের খতব উদ্দিনের ছেলে বিএনপি কর্মি খলিল (৪৫), খেজুরতলা গ্রামের ছমির উদ্দিনের ছেলে বিএনপি কর্মি ঠান্ডু (৪০), আসাননগর গ্রামের মৃত আওলাদ হোসেনের ছেলে বজলুর রশিদ (৪৬) কে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের নাশকতার মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করা

কবি আজিজুর রহমান’র ৪০তম প্রয়াণ দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

দেশের আধুনিক বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম দিকপাল একুশে পদক প্রাপ্ত কুষ্টিয়ার গর্ব কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমানের ( জন্ম: অক্টোবর ১৮, ১৯১৪, মৃত্যু: সেপ্টেম্বর -১২, ১৯৭৮) এর ৪০ তম প্রয়াণ  দিবস স্মরনে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদের আয়োজনে হাটশ হরিপুর শাখার নিজ কার্যালয়ে স্মরণ সভার আহ্বায়ক বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ, হাটশ হরিপুর শাখার সভাপতি নায়েব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম. মুস্তাক হোসেন মাসুদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বজলার রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ, কুষ্টিযার সভাপতি এম. এ কাইয়ুম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনসার আলী, কবি পরিবারের সদস্য শাহফুজুর রহমান শাকিক প্রমুখ। এসময় কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আজ কবির মৃত্যু বার্ষিকিতে  তার জন্ম ভূমি হাটশ হরিপুরে নেই কোন আয়োজন । উল্লেখ্য কবির প্রায় ৩ হাজারের মত গান এক সময় ছিল মানুষের মুখে মুখে। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে – ভবের নাট্য শালায় মানুষ চেনা দায়, কারো মনে তুমি দিওনা আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে; আকাশের ঐ মিটি মিটি তারার সাথে কইবো কথা নাই বা তুমি এলে; আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের যাদু এনেছি, বুঝি না মন যে দোলে বাশির ও সুরে; পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা আমারই দেশ ভাইরে প্রভৃতি। কবি গীতিকার আজিজুর রহমান ১৯১৪ সালে ১৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম বশির উদ্দিন প্রামানিক , মাতার নাম সবুরুন নেছা । ১৩ বছর বয়সে ১৯২৭ সালে তিনি পিতাকে হারান। উচ্চশিক্ষার  লাভের ভাগ্য না থাকলেও প্রবল ইচ্ছার ফলে বহু বিষয়ক পুস্তকাদি স্বগৃহে পাঠ করে তিনি স্বশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিণত হন।  তিনি একাধারে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নদীয়া ফুড কমিটির সেক্রেটারি, বেঞ্চ  অ্যান্ড কোর্ট ডিভিশনের চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া জেলা বোর্ড ও ডিস্ট্রিক অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্যসের পদও অলঙ্কৃত করেছিলেন। ছাত্র থাকা অবস্থায় মুসলিম ছাত্র আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছেন প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কবি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় ঢাকার পিজি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। এর তিন দিন পর ১২ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে কবি গীতিকার আজিজুর রহমান মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ধসে যাওয়া কুমারখালির শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাধ পরিদর্শন করলেন বেগম সুলতানা তরুণ

কুমারখালি অফিস ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে নির্মানের মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে যাওয়া শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাধ পরিদর্শন করলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা তরুণ। গতকাল বিকালে কয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর সুলতানপুর ভাঙন স্পর্টে তিনি উপস্থিত হলে এলাকার সব বয়সী সর্বস্তরের মানুষ ভিড় জমান। এসময় এলাকাবাসি সুলতানা তরুনকে জানান, বাধ নির্মান সংক্রান্ত বিষয়ে নানা অনিয়মের কথা। সাধারণ মানুষের মাঝে বেগম সুলতানা তরুণ সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। এসময় কয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্র লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, প্রমত্তা পদ্মার ভাঙন থেকে বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুমারখালির শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষায় বাঁধটি নির্মাণ করে সরকার। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি সংলগ্ন এবং এর আশপাশ এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৩ হাজার ৭২০ মিটার বাধ নির্মান কাজ শেষ হয় গত জুন মাসে। মাত্র দু মাসের ব্যবধানে হঠাৎ করেই কয়া ইউনিয়নের কালোয়া অংশে ১শ’ ফুট বাধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ভেড়ামারায় এ্যাডো’র আয়োজনে ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

আল-মাহাদী ॥ পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় অ্যাকশন ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন “এ্যাডো” কর্তৃক জুনিয়াদহ ইউনিয়নে সমৃদ্ধি কর্মসূচি (স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা) কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পরানখালী স্ট্যাষ্টিক ক্লিনিক প্রাঙ্গণে দিনব্যাপি ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প (নাক, কান, গলা ও শিশু) আয়োজন করা হয়। এসময় অতিথি উপস্থিত ছিলেন পরানখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওয়াজেদ হোসেন, সাবেক ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বর  মোঃ নজরুল ইসলাম, ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য  ব্যক্তিবর্গ। সংস্থার ইউনিয়ন সমন্বয়কারী খন্দকার কামরুজ্জামান তার উদ্বোধনী বক্তব্যে জানান, সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য সেবা খাতে প্যাকেজ সেবার ধারাবাহিকতায় এই বিশেষ স্বাস্থ্য  ক্যাম্পের আয়োজন। তিনি আরও জানান, জুনিয়াদহ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সেবা ছাড়াও ৪০টি বৈকালিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝড়ে পড়া রোধে শিক্ষার্থীদের স্কুলের পাঠ সম্পাদন করা সহ শৃংখলাবোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা শিক্ষা প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্য ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন ডাঃ মোঃ রকিউর রহমান (রকিব) এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এম ডি (শিশু), এফসিপিএস (নবজাতক-শেষ পর্ব) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া। আরো রোগী দেখেন, ডাঃ মোঃ নূর ইসলাম এমবিবিএস (ডি ইউ), ডি এল ও (বিএসএমএমইউ) রেজিষ্টার ডিপার্টমেন্ট অফ ই এন টি (সিবিএমসিবি)। এছাড়া চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগীতা করেন, অ্যাক্শন্ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন “এ্যাডো” সংস্থা কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ১৯জন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য সেবিকা এবং ২ জন স্বাস্থ্য সহকারী জুনিয়াদহ ইউনিয়নের দুর-দুরান্ত থেকে আগত ১০৩ জন দরিদ্র নারী এবং ৬৫ জন শিশু, মোট ১৬৮ জন রোগী স্বাস্থ্য ক্যাম্পে বিভিন্ন জটিল রোগের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করেন। দিন শেষে এলাকার জনসাধারণ এবং উপস্থিত নারী-পুরুষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। কার্যক্রমটি পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন, সমৃদ্ধি কর্মসূচির ইউনিয়ন সমন্বয়কারী খন্দকার কামরুজ্জামান এবং সমৃদ্ধি টিম।

কালীগঞ্জে নারী মাদক ব্যবসায়ীর কারাদন্ড

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফয়লা গ্রামে ফরিদা বেগম (৪৫) নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত এ দন্ডাদেন প্রদান করেন। দন্ডিত ফরিদা বেগম ফয়লা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের পরিদর্শক রাসেল আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে ফয়লা গ্রামে মাদক ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত এর নেতৃত্বে  সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫’শ গ্রাম গাঁজাসহ ফরিদা বেগমকে আটক করা হয়। পরে আদালত বসিয়ে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদাণ করেন বিচারক। অভিযানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয় এর পরিদর্শক রাসেল আলী, এএসআই শেখ আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, এএসআই পাপিয়া সুলতানা, সিপাই জিএম শহিদুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ খান, সাইদুল হকসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাজমুল সভাপতি ॥ বিদ্যুত সম্পাদক

মিরপুর উপজেলা যুবজোটের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে যুবজোটের সম্মেলন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা যুবজোটের উদ্যোগে মিরপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা যুবজোটের সভাপতি আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এসময় তিনি বলেন, জাসদকে আরো শক্তিশালী করতে যুবকদের যুবজোটের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে জামায়াত, বিএনপির ভয়াল থাবা থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা জাসদের সভাপতি মহাম্মদ শরীফ, সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান বাহাদুর শেখ, মিরপুর উপজেলা জাসদের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক কারশেদ আলম, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর আলী, কুষ্টিয়া জেলা যুবজোটের সভাপতি মঈনুল হক ডাবলু, সাধারন সম্পাদক মাহবুব হাসান, আমলা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি আজাম্মেল হক, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি সাইদুর রহমান মন্টু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় যুবজোটের সাধারন সম্পাদক শরিফুল কবীর স্বপন। অনুষ্ঠান শেষে সাবেক জাসদ ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল ইসলামকে সভাপতি, তুফান উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন নিশিকে সহ-সভাপতি এবং সিদ্দিকুর রহমান বিদ্যুৎকে সাধারন সম্পাদক করে উপজেলা যুবজোটের কমিটি গঠন করা হয়। এসময় উপজেলার জাসদ, মহিলা জোট, যুবজোট, জাসদ ছাত্রলীগের প্রায় দেড় হাজার নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে যুবজোটের নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দরা মিরপুর উপজেলা শহীদ মিনারে গিয়ে শপথ গ্রহন করে দায়িত্বভার বুঝে নেয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ড. মোফাজ্জেল হকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

সরকারীকরণ হলো দৌলতপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ

নিজ সংবাদ ॥ অবশেষে সরকারীকরণ হলো কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ’। নানা ঘাত প্রতিঘাত, নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে কলেজটি শেষ পর্যন্ত সরকারীকরণ  হয়। বুধবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানাগেছে, ‘সরকারীকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮’-এর আলোকে এবং ৩৭.০০.০০০০.০৭০.০০২.০০৪.২০১৮-৯৮ স্মারকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪টি কলেজ সরকারী করা হলো। আর এ ১৪টি কলেজের মধ্যে ১১নং তালিকায় রয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। এছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে জেলার ভেড়ামারা মহিলা কলেজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব নাছিমা খানম রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বুধবার স্বাক্ষর করে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

কলেজটি সরকারীকরন হওয়ায় উচ্ছ্বাসের শেষ নেই গোটা দৌলতপুর উপজেলাবাসীর মধ্যে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং সরকারীকরনের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে যিনি দৌলতপুরের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কলেজের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সর্বপরি দৌলতপুর উপজেলাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিল দৌলতপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজটি। কিন্তু কলেজটি বঙ্গমাতার নামে হওয়ায় কুদৃষ্টি পড়ে তৎকালীন কুষ্টিয়া-১ আসনের সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী পচামোল¬ার। ২০০১ সালে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন এই কলেজটিতে ভর্তি বাতিলসহ কলেজের কার্যক্রম বন্ধ এবং একই এলাকায় আরেকটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার দেয়া হয় যশোর বোর্ড বরাবর। ওই ডিও লেটারে কলেজটির ভর্তি বাতিলের পাশাপাশি দৌলতপুর মহিলা কলেজ নামে আরেকটি কলেজ প্রতিষ্ঠার আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের ভর্তি কার্যক্রম বাতিল করা হয়। পরে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের পক্ষে ভর্তি কার্যক্রম সচল রাখতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা  হয়। রায়ে পুনরায় কলেজের কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা আসে। সম্প্রতি তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পচা মোল¬ার দেয়া ওই ডিও লেটারটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক প্রধানমন্ত্রী’র দপ্তরে পাঠালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোচরে আসে। এতে বুধবার সারা দেশে সর্বশেষ যে ১৪টি কলেজ সরকারীকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তার মধ্যে এই দৌলতপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের নামও অন্তর্ভূক্ত হয়।

এবিষয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজুল হক জানান কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ায় সর্ব প্রথম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। সেই সাথে শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক’র প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অধ্যক্ষ মফিজুল হক বলেন তৎকালীন সময়ে কলেজটি বন্ধে যখন সব রকম চেষ্টাই চালানো হয়েছিল তখন খুব হতাশ হয়েছিলাম। আর সে সময় ড. মোফাজ্জেল হক আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন হতাশার কিছু নেই। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসলে একদিন ঠিকই সরকারীকরন হবে কলেজটি। শেষ পর্যন্ত ড. মোফাজ্জেল হকের কথাই সত্যি হলো। আজ কলেজটি ঠিকই সরকারীকরণ  হয়েছে।

কলেজটি জাতীয়করণ হওয়ায় খুঁশি কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শায়লা শারমিন জানান আমাদের কলেজটি বঙ্গমাতার নামে হওয়ায় বিগত সময়ে নানাভাবে অবহেলার শিকার হয়। কলেজটি বন্ধের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে একটি মহল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ায় আমরা খুঁশি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সেই সাথে আমাদের কলেজটি সরকারীকরণে সব থেকে বেশি পরিশ্রম করেছেন সেই ড. মোফাজ্জেল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।

একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তারও। তিনি বলেন আজ আমরা অভিভুত। সংশি¬ষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম বলেন কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।

এবিষয়ে কলেজটি সরকারীকরণের পেছন সব থেকে বেশি পরিশ্রম করেছেন, বেশি অবদান রেখেছেন সেই দৌলতপুরেরই কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক বলেন কলেজটি সরকারীকরণ করায় আমি বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কুষ্টিয়া-১  আসনের সংসদ সদস্য পচা মোল¬ার ডিও লেটারে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেই অবৈধ সিদ্ধান্ত সম্বলিত ডিও লেটারটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌছাতে সক্ষম হই। প্রধানমন্ত্রী সেই ডিও লেটারটি হাতে পাবার পর কলেজটি সরকারী করনের নির্দেশনা দেন। এজন্য আমি দৌলতপুরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। শ্রদ্ধাচিত্বে স্মরণ করি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মাহবুবউল আলম হানিফকে। যারা সার্বক্ষনিক দিকে নির্দেশনা এবং পরামর্শে আজ কলেজটি সরকারীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ড. মোফাজ্জেল হক বলেন কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেশ সুনামের সাথেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে বঙ্গমাতার নামে প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণ হওয়ায় এই কলেজের ভাবমুর্তি আরো উজ্জল হলো। একই সাথে কলেজটি উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করবে বলে প্রত্যাশা করি।

দৌলতপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ ছাড়াও সরকারীকরণকৃত অন্যান্য কলেজগুলো হচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সালথা কলেজ, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতি ডিগ্রি কলেজ, ময়মনসিংহর ঈশ্বরগঞ্জের ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত ডিগ্রি কলেজ, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার রাজস্থলী কলেজ, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদাহ মহাবিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চৌহালী ডিগ্রি কলেজ, যশোরের বাঘারপাড়া শহীদ সিরাজ উদ্দিন হোসেন মহাবিদ্যালয়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার এম এ মজিদ ডিগ্রি কলেজ, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আইডিয়াল কলেজ, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ভেড়ামারা মহিলা কলেজ ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ কলেজ।

সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮-এর আলোকে এ কলেজগুলো সরকারি করার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত হলো, যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে কলেজকে সরকারি করা। তারই আলোকে এ কলেজগুলো সরকারি করা হলো। ১৪টি কলেজ নিয়ে এখন দেশে সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬১৭। এখন সরকারি হওয়া শিক্ষকদের অবস্থান, বদলি ও পদোন্নতি বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী।

 

বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনে নাম থাকায় ক্ষোভ

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার তিন সদস্যের প্রতিবাদ

গত ৯ সেপ্টেম্বর রবিবার কুষ্টিয়া স্থানীয় দৈনিক কয়েকটি পত্রিকায় বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন নামে কুষ্টিয়া জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে মর্মে সংবাদটি আমাদের নজরে আসে। ওই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রাম সরকার অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ নূর মোহাম্মদ, দপ্তর সম্পাদক এ্যাড. মো: জাকারিয়া মিলন ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক থ্রীস্টার এগ্রো ইন্ডা: লি:’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লবের নাম দেখে বিষ্মিত হয়েছি।

আমরা বলতে চাই তিন জনই বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখা কমিটিতে রয়েছি। আমাদেরকে না জানিয়ে কে বা কারা নতুন আরেকটি কমিটিতে নাম দিয়েছে। আমরা কখনোই বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাথে ছিলাম না বা নেই। আমরা তিনজনই বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখা কমিটিতে সব সময় রয়েছি। আমাদের না জানিয়ে কমিটিতে নাম দেওয়ায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি, একই সাথে আগামীতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিদের আহবান জানাচ্ছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ট্রাম্পের কাছে তদবিরে বিএনপির নতুন লবিস্ট নিয়োগ

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ‘পলিটিকো’ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তদবির করতে নতুন লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ম্যাগাজিনটি। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে আবদুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিএনপির জন্য তদবির করতে ‘ব্লু স্টার স্ট্রাটেজি’ ও ‘রাস্কি পার্টনার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।’’ লবিস্ট প্রতিষ্ঠান দুটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত ও নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তদবির করবে। চুক্তির আওতায় যোগাযোগ করা হবে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গেও। এছাড়া আন্তজাতিক অর্থ, শ্রম ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং প্রবাসী ব্যক্তিদের সঙ্গে তদবির চালানোর কথাও আছে চুক্তিতে। তদবির কাজের জন্য চলতি বছরের আগস্ট মাসে ২০ হাজার ডলার পাবে লবিস্ট ‘ব্লু স্টার স্ট্রাটেজি’। আগস্টের পর প্রতিমাসে তারা পাবে ৩৫ হাজার ডলার করে। অন্যদিকে ‘রাস্কি পার্টনার্স’ মূলত ব্লু স্টারের সাবকন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করবে। এ প্রতিষ্ঠানটি আগস্টের জন্য ১০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী প্রতিমাসে ১৫ হাজার ডলার করে পাবে। চুক্তিটির মেয়াদ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পলিটিকোর প্রতিবেদনের প্রথমদিকের অংশের তথ্যসূত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা বলা হয়। শেষাংশে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার ওপর আলোকপাত করেন পলিটিকোর প্রতিবেদক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। দলটি ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় রয়েছে।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয় পলিটিকোর প্রতিবেদনে।

প্রতীকী অনশনে বিএনপি নেতারা

খালেদা জিয়াকে ছাড়া একতরফা নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না

ঢাকা অফিস ॥  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। তাঁরা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া একতরফা কোনো নির্বাচন এ দেশে হবে না, হতে দেওয়া হবে না। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের সামনে আয়োজিত এক প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও তাঁর মুক্তির দাবিতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। বিএনপির নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে কর্মসূচি শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে থেকে অনশনস্থল ত্যাগ করা শুরু। এ কারণে অনশনের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিতি একেবারে কমে যায়। বএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অনশন কর্মসূচির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকার যতই ষড়যন্ত্র করুক ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি এ দেশে হবে না। তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। এ ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অন্যায় ও মিথ্যা’ মামলায় খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্র করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাঁর মুক্তি ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, সারা দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশি-বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। আর খালেদা জিয়াকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না।পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের সময় শেষ। মামলা, গ্রেপ্তার করে বিএনপির দাবি আদায়ের আন্দোলন দমন করা যাবে না। পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, আওয়ামী লীগের কর্মচারী না। যাঁরা এখনো আওয়ামী লীগের কথায় কাজ কর ছেন, তাঁদের কিন্তু ভবিষ্যতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন কর   তে হবে। তাই অযথা বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি, গ্রেপ্তার ও মামলা দেবেন না। প্রতীকী অনশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, সামনে এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে, যে কর্মসূচিতে এই সরকারের নৌকা ভেসে যাবে। তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না। আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ। রাজপথে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তাঁকে সুস্থ করতে সরকারের কোনো প্রচেষ্টা নেই। বরং খালেদা জিয়াকে জেলখানায় তিলে তিলে মারার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া যদি দলের কেউ নির্বাচনে যেতে চায়, তাঁদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। প্রতীকী অনশন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পানি পান করিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতীকী অনশন ভাঙান। এ সময় অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত। ১৯৭১ সালে যে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই গণতন্ত্র আজ ভূলুণ্ঠিত। এর থেকে উত্তরণের পথ আগামী জাতীয় নির্বাচন, যে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। কারণ, আমরা আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র হারিয়েছি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভবিষ্যতে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে এসব ফিরে পেতে চাই।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এবং ২০-দলীয় জোটের নেতারা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে কুষ্টিয়ায় প্রতীকি অনশন পালন

বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি অফিসে ও সদর থানা বিএনপি অফিসে পালনের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া প্রশাসনের কাছে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন অনুমতি না পেয়ে তার নিজ বাস ভবনের বাইরে কর্মসূচী পালন করতে যেয়ে প্রশাসনের বাধার কারণে তার বাসার আঙ্গিনায় সংক্ষিপ্ত আকারে প্রতীকি অনশন পালন করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন তার বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবী করেন। সেই সাথে অসাংবিধানিকভাবে অন্য একটি মিথ্যা মামলায় নির্জন কারাগারে আদালত বসিয়ে বিচারের জোর প্রতিবাদ জানান এবং তার সুচিকিৎসার দাবী করেন। সেই সাথে কুষ্টিয়াতে বিনা কারণে নিরাপরাধ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এই নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন। এসব হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী করেন। সেই সাথে কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন অসাংবিধানিকভাবে বহুদিন ধরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিল মিটিং করতে বাধা দিচ্ছে তারও জোর প্রতিবাদ করেন। জনগণকে তাদের মৌলিক অধিকারসহ সকল নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবী জানান। এসময় বিএনপি ও তার অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে বিএনপির এই দাবি ‘মামার বাড়ির আবদার’

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি যত চেষ্টাই করুক, সরকারকে সংবিধান বহির্ভূত কোনো দাবি মানাতে পারবে না বলে জানিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, এটা কি মামা বাড়ির আবদার! তাহলে কাকে বসাব? দেশের দায়িত্বে কি ফখরুল সাহেব বসবে? সংবিধান থাকবে না দেশে? নিয়ম-কানুন থাকবে না দেশে? পৃথিবীর  অন্যান্য দেশে নির্বাচন যেভাবে হয়, বাংলাদেশেও নির্বাচন একইভাবে হবে। আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। গতকাল বুধবার ঢাকার দক্ষিণের নগর ভবনে এক সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন কাদের। বিএনপি নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকার গঠনের পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলেছে, যা বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এসব দাবিতে সরকারের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরে আসছেন বিএনপি নেতারা। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে নিউ ইয়র্ক রওনা হয়েছেন। কাদের বলেন, “তারা তো জাতিসংঘে অবিরাম অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে, নালিশ করছে। জাতিসংঘ কাউকে ডাকলে যাবে। কোনো সমস্যা থাকলে জাতিসংঘ জানতে পারে, কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। সংবিধান বহির্ভূত কোনো প্রেসারের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না।” খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই বলে আবারও জানান মন্ত্রী কাদের। তার মুক্তি আটকাতে সরকার সক্রিয় বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “আদালতে ইতোপূর্বে অন্তত ৩০টি মামলায় জামিন দিয়েছে। আদালতে সরকার হস্তক্ষেপ করলে তিনি এত বার জামিন পেলেন কেমন করে?” মামলা দীর্ঘায়িত করার জন্য বিএনপির আইনজীবীদের দায়ী করে কাদের বলেন, “তার মুক্তির জন্য এত আগ্রহ, এত সিরিয়াসনেস, তাহলে ১০ বছর কেন একটি মামলাকে প্রলম্বিত করেছেন? এই মামলাটি তো অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এখন নির্বাচনের সময় পর্যন্ত গড়াত না। তিনি ১৫৪ দিন অনুপস্থিত থাকবেন, এই দায়িত্ব কে নেবে?” নির্বাচনের সময়ে সংসদের কার্যপদ্ধতি নিয়ে কাদের বলেন, “সংসদের এই অধিবেশনের পরে আরেকটি অধিবেশন হবে, সম্ভবত অক্টোবরের মাঝামাঝি শেষ হবে। এর পর আর সংসদ বসবে না। পরবর্তী অধিবেশনই শেষ অধিবেশন। “এরপর মন্ত্রীরা রুটিন ওয়ার্ক করবে, এমপিদের কোনো পাওয়ার থাকবে না। সংসদ আন্ষ্ঠুানিকভাবে ভাঙাও হবে না, সংসদের কোনো কার্যক্রমও থাকবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদ বসবেও না।”