বিএনপির দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকাসহ সারাদেশে অনুষ্ঠিত দলের মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বিএনপি । গতকাল সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আজকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ও গাজীপুর, বাগেরহাট ও মেহেরপুরসহ সারাদেশে শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করতে আসা ও যাওয়ার পথে সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী বিনা উসকানিতে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করেছে। এই গ্রেপ্তারে রক্ষা পায়নি সাধারণ মানুষসহ নেতাদের গাড়ি চালকরাও। “মানববন্ধন কর্মসূচির উপর পুলিশি এই আক্রমণ নৃশংস দস্যুতার নামান্তর মাত্র। তাহলে মানববন্ধন কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিলেন কী ওঁৎ পেতে গ্রেপ্তার করার জন্য? আমরা সরকারকে বলে দিতে চাই, এতে আপনাদের শেষ রক্ষা হবে না। যতই ট্রেন, লঞ্চে চড়ুন না কেন ডুবন্ত নৌকাকে আর ভাসানো যাবে না। “ রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে দলের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুল মতিন, লেবার পার্টির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম, গাজীপুর মানববন্ধন থেকে প্রয়াত নেতা আসম হান্নান শাহের বড় ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান ও স্থানীয় কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু প্রমুখসহ যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দ গ্রেপ্তাকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রিজভী জানান। তিনি বলেন, “আজকে দেখেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ও গাজীপুরে মানববন্ধনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের উন্মত্ততা। মানে ওঁৎ পেতে ছিল- বিএনপির এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার সাথে সাথে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করবে। এটা যেন পুলিশের আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল। “এই পরিকল্পনামাফিক পুলিশ গাজীপুরে নির্বিচারে গুলি করেছে, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করেছে। সেখানে বিনা উসকানিতে পুলিশ আমাদের কর্মসূচি পন্ড করার চেষ্টা করেছে। জেলা সভাপতি ফজলুল হক মিলনকে কিছুক্ষণ আটকিয়ে রেখে পরে ছেড়ে দিয়েছেন। অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এহেন ঘটনা ও গ্রেপ্তারের নিন্দা জানাই।” ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা মহানগর, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের তালিকা তুলে ধরেন অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান রিজভী।খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে এক ঘণ্টার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ে পাঁচ বছরের সাজায় খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, সহ নার্সেস বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরের চিলমারী জুতাশাহী পশুহাট নিজ এলাকায় স্থানান্তরের প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চিলমারী করারী জুতাশাহী স্কুলবাজার সরকারী পশুহাট নিজ সুবিধামত স্থানে স্থানান্তরের প্রতিবাদে চিলমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। গতকাল সোমবার ভূক্তভোগী এলাকাবাসীর গণসাক্ষরিত অভিযোগ দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দেওয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের করারী জুতাশাহী স্কুলবাজার সরকারী পশুহাট থেকে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়ে থাকেন। পদ্মার ভাঙ্গনে পশুহাট স্থানটি ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসী জনস্বার্থের কথা ভেবে নিকটবর্তী ও সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করে পশুহাটের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এরফলে পূর্বের ন্যায় সরকারের রাজস্ব আদায় অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ব্যক্তি স্বার্থে ও অসৎ উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন ভারত সীমান্ত ঘেষা স্থানে স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। যা জনস্বার্থ বিরোধী হবে এবং সেই সাথে সরকারের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান ধারা হ্রাস পাবে। তাই চিলমারীবাসীসহ পশু ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে চিলমারী পশুহাটটি সুন্দর ও সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করা জরুরী বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী চিলমারী এলাকাবাসী। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথা ভেবে পূর্বের পশুহাট সংলগ্ন এলাকায় পশুহাটটি স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

কুষ্টিয়াতে বর্তমান বাংলাদেশ : উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে এমপি হানিফ

বর্তমানে দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার যে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তা আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, স্বাধীন মানচিত্রের চিত্রাকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ অভিন্ন একটি নাম। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যে একটি বাঙালি জাতিসত্তা রয়েছে, তারা সবসময় স্বাধীন হতে চায়। আজ বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়ন পাকিস্তানসহ অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষেরা ছিল সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার, আর সেই বৈষম্য থেকে মুক্তির সনদ ছিল ছয়দফা। যার মধ্যে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন ও মানুষের মুক্তির সনদ। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যার মধ্যদিয়ে এদেশে হত্যা ও বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ পরিচালনায় জননেত্রী শেখ হাসিনার যে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তা আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। জননেত্রী জানেন কিভাবে সীমিত সম্পদের সবোর্চ্চ ব্যবহার করে দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়। প্রধান অতিথি  হানিফ বলেন, যারা এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করে না, তারা এদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানী প্রেতাত্মা। কারণ মহান মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পরেও তারা দেশের এবং দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত হচ্ছে একই মুদ্রার এপিট-ওপিট। এজন্য  বিএনপির শাসনামলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থেমে গিয়েছিল। দেশ হয়েছিল দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন এবং জঙ্গিবাদের আস্তানা। আর সেই জায়গা থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশ আজ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পদ্মা সেতু, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বড় বড় উন্নয়ণমূলক কাজ চলমান রয়েছে, যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বেই সম্ভব হচ্ছে। তিনি যুব সমাজের প্রতি আহবান রেখে বলেন, তোমারাই আগামীতে জাতির ভবিষ্যৎ। তোমাদেরকে  যে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সৎ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। হানিফ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতায় আমি অবহেলিত কুষ্টিয়াকে মডেল কুষ্টিয়ায় পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অবহেলিত কুষ্টিয়ার উন্নয়নে আপনাদের সকলের সহযোগিতায় যে উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে, তাতে আমি তৃপ্ত নয়। কুষ্টিয়ার উন্নয়নে আরও অনেক কিছু করার পরিকল্পনা আছে। আশারাখি সকলের সহযোগিতা পেলে কুষ্টিয়ার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো এবং মানুষের সুখ ও শান্তির ব্যবস্থা করার চেষ্ট করবো।

গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যুবসমাজের আয়োজনে কুষ্টিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে “বর্তমান বাংলাদেশ : উন্নয়ন ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মাহবুবউল আলম হানিফ এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ পৃথিবীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ, বিচক্ষণ ও গতিশীল নেতৃত্বে  আমরা দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মতো বড় একটি সমুদ্র সীমানা পেয়েছি। আমরা মহাকাশে আজ নিজস্ব স্যাটেলাইট “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট” সফলভাবে উৎক্ষেপন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উপচে পড়া ঝুড়িতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার জরীপে দেশের ৬৪% মানুষ আজ দল হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পছন্দ করেন এবং ৬৬% মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পছন্দ করেন। তাতে প্রমাণিত হয় যে, জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার সক্ষমতা ও নেতৃত্ব দানের বিষয়টি আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। জননেত্রী শুধু বাংলাদেশেরই নয়, এশিয়ার মধ্যে মাহাথির মোহাম্মদ। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করার পর প্রতিটি উন্নয়নে হাত দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এদেশে পরিকল্পনা করে কখনই কোন উন্নয়ন হয়নি। আজ তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত পরিবর্তনের সনদ ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলে সাফল্য অর্জন করেছে এবং সার্সটেনএবল গোলে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১৬০০ মার্কিন ডলার। যা উন্নয়নশীল দেশের সূচকের থেকে বেশি। আমরা যেখানে এলডিসি ছিলাম সেখান থেকে আজ উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবো। ডেল্টা পরিকল্পনা এবং ব্লু ইকোনমি রয়েছে আমাদের নেত্রীর মেধা মননে । যার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করে চলেছেন। আর এই উন্নয়ন কাজে তিনি পাশে পেয়েছেন জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফের মতো একজন যোগ্য নেতাকে। তিনি বলেন, আমরা গর্বিত যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ৫শ কোটি টাকার উন্নয়ন মেগা প্রকল্প পেয়েছি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে। এজন্য তাঁর প্রতি আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার কৃতজ্ঞ।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের বাংলাদেশ দিয়েছেন অথচ ১৫ আগস্ট কিছু কুলাঙ্গার সে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করলো। যুব সমাজের কাছে  প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন মানুষকে তোমরা দেখাতে পারবে কি? যে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলো তাঁর পিতা, আদরের ছোট ভাই রাসেলসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। এমন একটি ঘটনা এদেশের আর কারো জীবনে ঘটেনি, শুধুমাত্র ঘটেছে জননেত্রী শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, কি পরিমাণ দেশে প্রেম, দেশের প্রতি ভালবাসা এবং  কি পরিমান বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের শক্তি থাকলে সেই শুন্যস্থান থেকে উঠে এসে নেতৃত্ব হাতে নিয়ে বাংলাদেশকে আজ একটি উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করেছেন যা আমাদেরকে দেখিয়ে দিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ, পোষাক শিল্পসহ সর্বক্ষেত্রে আজ  উন্নয়নের বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ সুমদ্র থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। শুধু তাই নয় আজ বাংলাদেশের মেয়েরা জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলছে, যা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ এখানেই থেমে নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু ২০২১ কিংবা ২০৪১ সালের স্বপ্নই দেখেন না, তিনি আগামী একশ বছরের পরিকল্পনার কথা ভাবেন। তিনি যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতপুর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষে সপ্তাহে। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা। তোমরা যুব সমাজই পার বাংলাদেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করতে। আশারাখি গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে তোমরা  যুব সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সেমিনারে সভাপতির বক্তৃতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে আমারা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু সেই বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে কি কারনে হত্যা করা হলো? কারন পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সহ্য করতে পারেনি। তাই পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের দালালদের গভীর ষড়যন্ত্রে  বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। তাবে এখানে শেষ নয়, তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ষড়ন্ত্রকারীরা চিরতরে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং গণতন্ত্রের চর্চাকে হত্যা করে এদেশকে আবার পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা বুঝতে পেরেছে যে, জননেত্রীকে হত্যা করা ছাড়া এদেশের উন্নয়নকে থামিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এক সময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। যার তলা এখন অটল এবং  অনেক শক্তিশালী যা উন্নয়নে ভরপুর। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষি খাত থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে। প্রতিটি গ্রাম, পাড়া, মহল্লা, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে উন্নয়নের সূচক এখন উর্দ্ধমূখি। প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ এখন স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে। তিনি বলেন, এক সময় মানুষের ঘরে খাবার থাকতো না, এমনকি প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোষাকও থাকতো না। এখন মানুষ পর্যাপ্ত পরিমানে পোষাক পরিধান করে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণ। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। যার ফলে আজ সারা দেশের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ পৃথিবীর বুকে সৎ বিশ্বনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এজন্য আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফকে তোমরা সবাই জনো এবং চেন। তিনি একজন উন্নয়নয়ে অনুপ্রাণিত সামনে এগিয়ে চলা মানুষ। তিনি কুষ্টিয়ার  শেখ রাসেল সেতু, বাইপাস সড়ক, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, আধুনিক সুইমিংপুল, ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি (নির্মানাধীন), আইটি পার্ক (নির্মানাধীন) সহ বহুমুখি উন্নয়ন কাজ অব্যহত রেখেছেন। তিনি বলেন, আইটি পার্কের কাজ শেষে হলে কুষ্টিয়ার হাজার হাজার যুবক-যুবাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এখনো কুষ্টিয়ার উন্নয়নে জননেতা হানিফের আরও  পরিকল্পনা আছে। আর কুষ্টিয়ার উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে হলে আমি মনে করি হানিফ এমপির কোন বিকল্প নেই। তাই আগামী নির্বাচনে জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ তথা নৌকাকে জয়যুক্ত করাতে যুবসমাজসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন এই প্রত্যাশা করি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক ড. মুস্তাফিজুর রহমান (মিঠুন মুস্তাফিজ) এর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বিশেষ অতিথি ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি’র সহধর্মীনি কোয়েস্ট গ্র“পের চেয়ারম্যান  মিসেস ফৌজিয়া আলম। সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিন, বর্তমান প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান ও কুষ্টিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী যুব সমাজের আহবায়ক ইমতিয়াজ সুলতান। জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে সেমিনারের শুভ সূচনা করা হয়।

সাংবাদিকদের ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ৩০ অক্টোবরের পর যে কোনো দিন তফসিল

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হওয়ার পর যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। গতকাল সোমবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সচিব বলেন, “৩০ অক্টোবরের পর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে। ৩০ অক্টোবরের পর যেকোনো সময় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনই এ নিয়ে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেবে।” সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। [সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ৩ এ (সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে) বলা হয়েছে- (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নববই দিনের মধ্যে; এবং  (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নববই দিনের মধ্যে বর্তমান দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সে হিসাবে বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। আর ভোটের ৯০ দিনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে ৩০ অক্টোবর থেকে। ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটের সময় ধরে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার কথা ইসি সচিব এর আগে জানিয়েছিলেন। ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে সোমবার হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রায় দুই লাখ ভোটকক্ষ থাকবে। এক্ষেত্রে ৪০ হাজার প্রিজাডিং অফিসারসহ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিয়ে কয়েক লাখ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হতে পারে। “জাতীয় নির্বাচন অনেক বড় একটি কাজ। আমি আগেও বলেছি তফসিল ঘোষণার আগে যেসব কাজ থাকে তার ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রনয়ণ করা এবং তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।” ভোট কেন্দ্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের ২৫ দিন আগে কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকার গেজেট প্রকাশ করা হবে।

ভেড়ামারায় উদ্বোধন হলো ভারত থেকে আমদানীকৃত ৫’শ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ২য় ব্লক ষ্টেশন

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ ভারত থেকে আরো ৫’শ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানীর লক্ষ্যে হাইভোল্টেজ ডিরেক্ট কারেন্ট (এইচভিডিসি)’র ২য় ব্লক ষ্টেশন উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদী। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গতকাল সোমবার বিকাল পৌণে ৫টায় দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে এ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেছেন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রীডে আরো ৫’শ মেগাওয়াট বিদ্যুত সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এসময় একটি সূধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীদ্বয় বক্তব্য রাখেন। এর আগে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর  ১ম বারের মতো ভারতের রহরামপুর থেকে ভেড়ামারা পর্যন্ত টানা সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ৫’শ মেগাওয়াট বিদ্যুত আসে বাংলাদেশে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাস্থ উপকেন্দ্রে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  উপস্থিতি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ,  কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম উদ্দীন, এডিসি তরফদার সোহেল রহমান (সার্বিক), কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিদ্যুতের অব্যহত ঘাটতি মোকাবেলায় ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুত আমদানীর বিষয়ে ভারত সরকারের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রায় ১২’শ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর ধরে নির্মান করা হয় প্রথম উপকেন্দ্রটি। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইচ টিপে বাংলাদেশ-ভারত ৯৮ কিলোমিটার বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন এবং হাই ভোল্টেজ ব্যাক টু ব্যাক সাব-ষ্টেশন উদ্বোধন করেন।

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু আকিফার মৃত্যু

আকিফার বাড়িতে তদন্ত টিম

আদালত থেকে জামিন পেল গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক ও ড্রাইভার

নিজ সংবাদ ॥ একদিকে সরকারি তদন্ত টিমের সদস্যরা যখন চৌড়হাস মোড়ে ঘটনাস্থল তদন্ত করছে ঠিক একই সময়ে আকিফাকে ধাক্কা দেয়া সেই গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক ও ড্রাইভারকে জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক ওই দুই আসামীকে জামিন দেন। এর আগে রোববার ফরিদপুর থেকে বাসের মালিক জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে কুষ্টিয়ায় এনে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আর ড্রাইভার মহিদ মিয়া ওরফে খোকন  সোমবার সকালে আদালতে এসে আত্মসমর্পন করে জামিন চান।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, নিহত আকিফার বাবার দায়ের করা মামলায় গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক জয়নাল আবেদীনকে ফরিদপুর থেকে  গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা। রোববার বিকেলে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার সকালে বাস মালিকের পক্ষে তার আইনজীবীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এম এম মোর্শেদের আদালতে জামিন আবেদন করেন। একই সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ড্রাইভার মহিদ মিয়া ওরফে খোকন। পরে আদালত দুইজনকে জামিন দেন।

আসামীদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশরাফ বলেন,‘ নতুন আইন এখনো গেজেট হয়নি। তাই পুরাতন আইনে আসামীদের জামিন আবেদন করা হয়। সবদিক বিবেচনা করে আদালত আসামীদের জামিন দিয়েছেন।

এদিকে আসামীরা জামিন পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে আকিফার বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, যে প্রকাশ্যে আমার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করা হলো, সেখানে আসামীরা এসেই জামিন পেয়ে গেল। এতে বোঝায় যায় এদের সঠিক বিচার হবে না।

এদিকে আকিফা হত্যার ঘটনায় গঠিত সরকারি একটি তদন্ত টিমের সদস্যরা গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়ায় আসেন। তারা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার চৌড়হাস মোড়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ১০ সদ্যেসের একটি দল। এর মধ্যে ঢাকার ৬ জন ও বাকিরা স্থাণীয়। তদন্ত টিমের সদস্যরা আকিফার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও মা’র সাথে কথা বলেন। এছাড়া স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শিদের সাথেও কথা বলেন তারা।

তদন্ত টিমে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম, বিআরটিএ পরিচালক (অপারেশন) সিতাংশু শেখর বিশ্বাস, বুয়েটের সহযোগি অধ্যাপক ও দুর্ঘটনা গবেষনা প্রতিষ্ঠানের সদস্য কাজী মোহাম্মদ সাইফুন নেওয়াজ, নিরাপদ সড়ক চাই এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন, সাংবাদিক অশোক চৌধুরী। এছাড়াও স্থানীয় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও বিআরটিএ বিভাগীয় পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত শেষে সড়ক পরিবহন ও সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন শিশু আকিফার মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক। প্রাথমিকভাবে যেটি মনে হয়েছে চালকের অদুরদর্শিতার কারনেই শিশু আকিফার করুন মৃত্যু ঘটেছে। এই দুর্ঘটনার দায় চালক এড়াতে পারেননা। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আকিফার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সাথেও কথা বলেছি। দুর্ঘটনার যে ভিডিও চিত্র সেটিও আমরা সংগ্রহ করেছি। আশা করি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এর প্রতিবেদন দিতে পারব।

গত ২৮ আগষ্ট মায়ের কোলে চড়ে নানী বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তার পার হওয়ার সময় কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড়ে থেমে থাকা গঞ্জেরাজ পরিবহনের একটি বাস তাদের ধাক্কা দেয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে মারা যায় আকিফা। এ ঘটনায় বাসের মালিক, ড্রাইভারসহ তিনজনের নামে মামলা করে আকিফার বাবা হারুন অর রশিদ।

২১ সেপ্টেম্বর পবিত্র আশুরা

ঢাকা অফিস ॥ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পবিত্র আশুরা পালিত হবে। গতকাল সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয় এতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে গতকাল কোথাও ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ না পাওয়ায় আজ ১১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার পবিত্র জিলহজ্জ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আগামী বুধবার থেকে পবিত্র মুহাররম মাস গণনা শুরু হবে বিধায় আগামী ২১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। গতকাল সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান। সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জহির আহমদ, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ওয়াক্ফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহ্মাদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ আবুল হাসনাত, ঢাকা জেলার এডিসি (জেনারেল) মো. শহিদুজ্জামান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব ক্বারী আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও কনফারেন্সে বিদ্যুত ও রেল যোগাযোগের তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন

ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী হোক , হাসিনা আজ থেকে আমরা আরো কাছে এলাম ঃ মোদি

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একযোগে বিদ্যুৎ ও রেল যোগাযোগের তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫শ’ মেগাওয়াট এইচভিডিসি (২য় ব্লক) প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন’ ও ‘আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)’। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়াদিল্লীস্থ তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং বাংলাতেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কোলকাতা থেকে এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আগরতলা থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ই-সুইচ টিপে দুই প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী একযোগে প্রকল্প তিনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খরিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অন্বেষায় সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী হোক আমরা সেটাই চাই। যার ফলে দুদেশ আরো একসঙ্গে কাজ করে দু’দেশের জনগণের উন্নতি সাধন করতে পারবে। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে, আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় অনেক সাফল্যগাঁথা আগামীতে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হবে যা আমরা উদযাপন করতে পরবো। ভারত- বাংলাদেশ স্থল সীমানা সমস্যার সমাধান হয়েছে। ভারতের সকল সংসদ সদস্যদের এ জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কারণ তাঁরা সকলে এক হয়ে এই স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন। ভারত বাংলাদেশের বিষয়ে সব সময় যে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয় এখানে সেটিই আবার প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পাশাপাশি আমরা আমাদের অন্যান্য সমস্যাগুলোরও সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি। কাজেই আমি আশাকরি, আমাদের এই বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। আমি আশকরি ভবিষ্যতে আরো সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আমরা দুই দেশের জনগণের সামনে উপস্থিত হতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাত আমাদের দুই দেশের মধ্যেকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে ভারত থেকে আমরা ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ভারত থেকে আরও ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত সাড়ে ৯ বছরে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।’ আমরা ১৩ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ৫৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি। তবে, আমাদের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য আরও বিদ্যুৎ প্রয়োজন উল্লেখ করেন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এমন ধারণা ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশকে আরো ৫শ’ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রদানের সামর্থ পশ্চিমবঙ্গের রয়েছে এবং কেন্দ্র অনুমতি দিলে সেই বিদ্যুৎ তারা বাংলাদেশে রপ্তানী করতে চায়। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরো ৫শ’সহ মোট এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানীর আগ্রহ অনুষ্ঠানে ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে মমতা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, পরবর্তী নির্বাচনে আপনি জিতুন, তখন আমি বাংলাদেশে যাবো। রেলওয়ে খাতেও আমাদের দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে মালামাল পরিবহনের জন্য আমরা ১৯৬৫-পূর্ব রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমরা শীঘ্রই লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারতীয় অর্থায়নে যৌথভাবে ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যে ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণের ভিত্তিফলক স্থাপন করতে পারব।’ প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতার শুরুতেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও সেদেশের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে আমরা সব সময়ই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। এটি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চিরদিনই একটি মাইলফলক হিসাবে বজায় থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দু’দেশের মধ্যে প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ব্লু-ইকনোমি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণার মত নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলোতেও কাজ আমরা শুরু করেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভাষণে ১৯৬৫ সালের পূর্বে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বিদ্যমান রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন, ‘আখাউড়া-আগরতলা রেল কানেকটিভিটির কাজ পুরো হলে আমাদেও আন্তঃদেশীয় সংযোগের ক্ষেত্রে আরেকটি যোগসূত্র স্থাপিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যে মহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন- ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা,তাঁর লক্ষ্য সফল করার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করতে পারাটা একটি গর্বের বিষয়। মোদী বলেন,‘ আমি বিশ্বাস করি যেভাবে আমরা আমাদের সম্পর্ককে দৃঢ় করবো এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে হৃদ্যতা শক্তিশালী করবো, সেভাবেই আমরা উন্নতি এবং সমৃদ্ধির নবদিগন্ত উন্মোচিত করতে সক্ষম হব।’ এরপর তিনি বাংলায় উচ্চারণ করে বলেন, ‘আজ থেকে আমরা আরো কাছে এলাম, আমাদের সম্পর্ক আরো গভীর হলো।’ প্রধানমন্ত্রী পরে আখাউড়া, ভেড়ামারা এবং কুলাউড়ার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এবার ব্যবসায় নামছেন মাহি

বিনোদন বাজার ॥  গেল ঈদে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির দুই ছবি মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে একাধিক সিনেমা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময়ই পার করছেন তিনি। এবার নতুন পরিচয়ে সামনে আসছেন এই নায়িকা।এবার ব্যবসায় নাম লেখাতে চলেছেন মাহিয়া মাহি। আগামী মাসেই ‘ভারা’ নামে একটি ফ্যাশন হাউজ খুলতে যাচ্ছেন তিনি।এ বিষয়ে মাহিয়া মাহি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ফ্যাশন হাউজ ব্যবসার প্রতি বেশ টান ছিলো। একটা প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন দেখতাম। যেখানে নারীরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারবেন। সেই ভাবনা থেকেই ফ্যাশন হাউসের পরিকল্পনা করি। এখন আমার সে স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, আগামী ২৭ অক্টোবর জন্মদিনেই উদ্বোধন করব এই ফ্যাশন হাউজ। এটার জন্য এখন আমাকে একটু সময় দিতে হচ্ছে। নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য পোশাক থাকবে এখানে। আর এগুলো তৈরি করবেন স্থানীয় নারী কর্মীরা।

ভাগ্নেকে ছবি আঁকা শেখাচ্ছেন সালমান

বিনোদন বাজার ॥  ভাগ্নে আহিলকে ছবি আঁকা শেখাচ্ছেন বলিউড ভাইজান সালমান খান, এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ইতিমধ্যে ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা দেড় লাখ পেরিয়ে গেছে।ভিডিওটি আহিলের মা অর্পিতা খান শর্মা তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন- ক্যানভাসে আহিলের প্রথম ছবি আঁকা, যার নাম মামার সঙ্গে পলায়ন।ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে- রঙে ডুবে আছে ছোট্ট আহিল। আর তাকে কীভাবে ছবি আঁকতে হয় খেলাচ্ছলে তা শেখাচ্ছেন মামা সালমান খান।আঁকাআঁকির একপর্যায় সালমান খান মেঝেতে শুয়ে স্ক্রলিং করছেন ও আহিলকে তার অনুকরণ করতে বলছেন।ভক্তদের অনেকেই হয়তো জানেন না যে, ছবি আঁকতে জানেন সালমান খান। একসময় ছবি একেই দিন পার করতেন তিনি। অনেক ছবি এঁকেছেন সল্লু।এসব ছবির কিছু কিছু আবার নিলামে বিক্রিও হয়েছিল। আবার কিছু ছবি তিনি বন্ধুদের উপহার হিসেবে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ‘বজরাঙ্গি ভাইজান’ সিনেমার শুটিং চলাকালে সালমান খান সহঅভিনেত্রী কারিনা কাপুরকে একটি ছবি এঁকে দিয়েছিলেন, যা সেই সময় খুব প্রশংসিত হয়।

সুইজারল্যান্ডে তৈরি হচ্ছে শ্রীদেবীর মূর্তি

বিনোদন বাজার ॥  বলিউডের ‘চাঁদনী’ প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবী। তার অনুপস্থিতি এখনও বিটাউনে দৃশ্যমান। বেদনার দাগ মুছেনি শ্রীদেবীর ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয় থেকে।এর মধ্যে যে খবরটি শ্রীদেবীর ভক্তদের উচ্ছ্বসিত করবে, তা হল ভূস্বর্গ সুদূর সুইজারল্যান্ডে তৈরি হতে যাচ্ছে শ্রীদেবীর মূর্তি। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।উদ্যোগটি নিয়েছে খোদ সুইজারল্যান্ড সরকার। তাদের এমন উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ১৯৮৯ সালের প্রেক্ষাপট।সেই সময় শ্রীদেবী অভিনীত ‘চাঁদনী’ ছবিটি সুপার-ডুপার হিট হয়। শ্রীদেবীর অভিনয়ে মুগ্ধ হন সিনেমাপ্রেমী দর্শক।আর এ ‘চাঁদনী’ ছবির সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রয়েছে বিশেষ একটি সম্পর্ক।কারণ ছবিটির পরিচালক যশ চোপড়া এ ছবিটির বেশিরভাগ শুটিং সে দেশে করেছিলেন।সেই সময় ছবির শুটিংয়ের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের পর্যটনশিল্পের জন্য বহুবার প্রমোশনও করেছিলেন শ্রীদেবী।আর সে কথা মাথায় রেখেই এবার বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে সুইজারল্যান্ড সরকার।সুইজারল্যান্ডের পর্যটনশিল্পে বলিউড এ কিংবদন্তির ভূমিকাকে সম্মানার্থে সে দেশের মাটিতে শ্রীদেবীর মূর্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানায় দেশটির এক সরকারি মুখপাত্র।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক যশ চোপড়ার মূর্তিও সুইজারল্যান্ডে তৈরি করেছে সে দেশের সরকার।

সময় যে কীভাবে কেটে যায় টেরও পাই না – পপি

বিনোদন বাজার ॥  ১৯৯৫ সালে একটি ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মিডিয়ায় আগমন ঘটে সাদিকা পারভীন পপির। কথা ছিল সালমান শাহের বিপরীতে একটি ছবিতে অভিনয় করার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটবে। কিন্তু ওই সময়ের সেরা নায়কের অকাল মৃত্যুর কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। যদিও সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ ছবিতে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন। প্রথম ছবি দিয়েই দর্শক হৃদয়ে ঝড় তোলেন।নিজের দক্ষ অভিনয়ের জন্যই একাধিকবার পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। গতকাল ছিল তার জন্মদিন। দিনটি পারিবারিক আবহেই কাটান বলে জানিয়েছেন পপি।জন্মদিন প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘ক্যারিয়ারে দুই দশক অতিক্রান্ত হল। অথচ মনে হচ্ছে এই তো সেদিনই এফডিসিতে পা রেখেছি। জন্মদিনটাও সেরকম। কীভাবে সময় কেটে যাচ্ছে! এ দিন উপলক্ষে আমি সবার কাছে দোয়া চাই, যেন আরও ভালো কিছু কাজ উপহার দিয়ে যেতে পারি।’

রুনা খানের ডাকে তারকামেলা

বিনোদন বাজার ॥  অভিনেত্রী রুনা খানের নিমন্ত্রণে সম্প্রতি তার বাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে আড্ডা এবং ভোজনে মেতেছিলেন তিনি।উপস্থিত শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন ডলি জহুর, শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সেলিম, সাবেরী আলম, তানভীন সুইটি, করভী মিজান, বিজরী বরকত উল্লাহ, ইন্তেখাব দিনার, জয়া আহসান, শারমিন শিলা, ফারজানা চুমকি, সজল, দীপা খন্দকার, রিচি সোলায়মান, তাহমিনা সুলতানা মৌ, অপি করিম, রুমানা, জিতু আহসান, জেনি, মৌসুমী নাগ, তুষ্টি, বাঁধন, ভাবনা, মনিরা মিঠু ও নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, রহমতুল্লাহ তুহিন, সকাল আহমেদ প্রমুখ।এ প্রসঙ্গে রুনা খান বলেন, ‘আমরা সবাই যে একই পরিবারের তা নতুন করে আবারও প্রমাণিত হল। আমার নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সবাই যে এসেছিলেন তাতেই সন্তুষ্ট। এজন্য সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সবার সঙ্গে এভাবে দেখা হওয়া ও আড্ডা দেয়া হয়ে উঠে না। সময়টা বেশ ভালোই কেটেছে।’আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষ কোনো কারণ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরেই ভাবছি সবাইকে নিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটাব। সেই ভাবনা থেকেই এ আয়োজন। তাছাড়া রিচিও দীর্ঘদিন পর দেশে এসেছেন। তার চলে যাওয়ার আগেই আয়োজনটি যাতে করতে পারি সেই ইচ্ছে ছিল।’

ড্যানিয়েল ক্রেগ অভিনয়ের টানেই ছাড়েন ঘর

বিনোদন বাজার ॥  জেমস বন্ড নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠেন নীল চোখের অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেগ। জেমস বন্ড পরিচয়ের বাইরেও যে তার পরিচিতির ব্যাপ্তিটা বিশাল। জন্ম ও শিক্ষাজীবন : ১৯৬৮ সালের ২ মার্চ ইংল্যান্ডের চেষ্টারে জন্মগ্রহণ করেন জেমস বন্ড খ্যাত এই অভিনেতা। তার পিতা টিমোথি জন ওয়ার্টন ক্রেগ এবং মাতা ক্যারোল অলিভিয়া। মাতা অলিভিয়া ছিলেন একজন আর্ট শিক্ষক। ছোটবেলায় বিভিন্ন স্কুলে কেটেছে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন। এর মধ্যে রয়েছে হলি ট্রিনিটি প্রাইমারি স্কুল, হিলবে হাই স্কুল, ক্যালডি গ্রাঞ্জ গ্রামার স্কুল। অবশেষে ১৯৯১ সালে তিনি বারবিকানের গিল্ঢল স্কুল অফ মিউজিক এন্ড ড্রামা থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।অভিনয়ের শুরু : শৈশব থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে সখ্য ড্যানিয়েল ক্রেগের। ছোটবেলায় ক্রেগ তার মা ও বোনের সঙ্গে থিয়েটার দেখতে যেতেন। মা অলিভিয়ার থিয়েটারে অভিনয় করে এমন অনেক বন্ধু ছিল। ফলে এই জগৎটাকে আরো কাছে থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি। সেখান থেকেই মূলত অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা জন্মায় ক্রেগের। ১৬ বছর বয়স অভিনয়ের টানে ঘর ছাড়েন ক্রেগ। চলে আসেন লন্ডন শহরে, যোগ দেন ন্যাশনাল ইয়ুথ ক্লাব নামক নাট্যদলে। আর এভাবেই থিয়েটারের মাধ্যমে ড্যানিয়েলের অভিনয় জীবনের শুরু।চলচ্চিত্রে অভিষেক এবং টিভি সিরিজের মাধ্যমে জনপ্রিয় : ১৯৯২ সালে ক্রেগ পাওয়ার অফ ওয়ান নামক মুভিতে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম বড় পর্দায় হাজির হন। মুভিটিতে তিনি অভিনয় করেন একজন আফ্রিকান সৈন্যের চরিত্রে। এর পর পর ড্যানিয়েল বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন। ১৯৯৩ সালে ড্যানিয়েল ছোট পর্দায় হাজির হন জিরো নামক একটি টিভি সিরিজ নিয়ে। তিনি দুটি এপিসোডে অভিনয় করেন। কেননা বড় পর্দার মাধ্যমে অভিষেক হলেও ড্যানিয়েল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ছোট পর্দার মাধ্যমে। ১৯৯৮ সাল যেন ড্যানিয়েলেরই ছিল। কেননা এই বছরটা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাফল্যমন্ডিত বছর। এ বছরই মুক্তি পায় তার অভিনীত লাভ ইজ ডেভিল চলচ্চিত্রটি। এ যেন এক অভূতপূর্ব অর্জন ড্যানিয়েলের ক্যারিয়ারের! লাভ ইজ ডেভিলের পর তিনি হেঁটেছেন এলিজাবেথ, দ্য ট্রেঞ্চ, সাম ভয়েসেস, হোটেল সেপ্লনডিড, আই ড্রিমড অফ আফ্রিকা নামক চলচ্চিত্রগুলোর হাত ধরে সাফল্যের সাঁকো বেয়ে। এর মধ্যে দ্য ট্রেঞ্চ এবং এলিজাবেথের কথা না বললেই নয়। দ্য ট্রেঞ্চ ড্যানিয়েল ক্যারিয়ারের ব্লকবাস্টার হিট ছবিগুলোর একটি। আর এলিজাবেথ ঐতিহাসিক একটি বায়োপিক যা তাকে একজন মেধাবী অভিনেতা হিসেবে প্রশংসা এনে দেয়। একাবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই ড্যানিয়েল আসেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে জুটি বেঁধে লারা ক্রাফট : টম্ব রাইডার মুভিতে। এর পরের বছরই ড্যানিয়েল অভিনয় করেন রোড টু পার্ডিশন নামক মুভিতে। এই চলচ্চিত্রটিও তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে সেই সঙ্গে ড্যানিয়েলও সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে আরেক ধাপ ঊর্ধ্বে উঠে যান। এ ছাড়া দ্য মাদার মুভির সফলতা এবং এতে তার অনবদ্য অভিনয় আরো একবার প্রমাণ করে দেয় ড্যানিয়েলের যে বিজয় রথ এগিয়ে চলেছে তা আর থামার নয়। আর এই রথে চড়ে সামনে যেতে যেতে ক্রেগের সঙ্গী হয় লায়ার কেক, এনডিউরিং লাভ, দ্য জ্যাকেট মুভিগুলো। দ্য জ্যাকেট তো বক্স কাঁপিয়ে ব্লক বাস্টার হিটের কাতারে পৌঁছে যায়। ড্যানিয়েল ক্রেগের অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা তাকে জায়গা করে দেয় বিশ্ববিখ্যাত সেই জেমস বন্ড সিরিজে। তাও আবার ছোটখাটো কোনো চরিত্রে নয়, স্বয়ং জেমস বন্ড হিসেবে। ২০০৬ সালে তিনি প্রথম জেমস বন্ড হিসেবে আসেন ক্যাসিনো রয়েল মুভিটিতে। এরপর ২০০৮ সালে আবার তিনি জেমস বন্ড হিসেবে আসেন কোয়ান্টাম অফ সোলাস নামক চলচ্চিত্রে। দীর্ঘ চার বছর বিরতি নিয়ে ড্যানিয়েল ২০১২ সালে আবার জেমস বন্ড রূপে আসেন স্কাইফল মুভিতে। স্কাইফলের আয় পৌঁছে যায় মিলিয়ন ছাড়িয়ে বিলিয়নের ঘরে। ১.১ বিলিয়ন আয় করে আন্তর্জাতিকভাবে রেকর্ড সৃষ্টি করে ড্যানিয়েলের স্কাইফল।এরপর আবার তাকে জেমস বন্ড রূপে দেখা যায় ২০১৫ সালে স্পেক্ট্রা চলচ্চিত্রে। সিনেমাপ্রেমীরা হট কেকের মতো লুফে নেয় স্পেক্ট্রাকে। জেমস বন্ড তাকে ব্যাপক সফলতা এনে দিলেও ড্যানিয়েল কিন্তু জেমস বন্ডের গ-িতেই আবদ্ধ থাকেননি। জেমস বন্ডের বাইরেও বিভিন্ন চরিত্রে বিভিন্ন মুভিতে হাজির হয়েছেন তিনি। নিজের মেধা দ্বারা ফুটিয়ে তুলেছেন তার অভিনীত চরিত্রগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর কথা বলতে গেলে ফ্লাশব্যাক অফ এ ফুল, দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু, কাউবয়েস এন্ড এলিয়েনস, এ স্টেডি রেইন মুভিগুলোর কথা বলতেই হয়।অর্জন : সেরা অভিনেতা হিসেবে তিনি নিজের ঝুলিতে সাজিয়েছেন এডিনবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অ্যাওয়ার্ড, ব্রিটিশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস, লন্ডন ফিল্ম ক্রিটিকস সার্কেল অ্যাওয়ার্ডস, এম্পায়ার অ্যাওয়ার্ডস, ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড ব্রিটশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, সেন্ট জর্দি অ্যাওয়ার্ডস এবং ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডস।

কলঙ্কে মাধুরী !

বিনোদন বাজার ॥ ঘোষণার পর থেকেই ‘কলঙ্ক’ ছবি নিয়ে আলোচনা চলছে। করণ জোহরের নতুন সিনেমা হওয়াতে সবার নজর এদিকেই। তাছাড়া ছবিটির খবরাখবর রাখার মতো যথেষ্ট কারণও আছে। এই ছবিতে অভিনয় করছেন নতুন পুরনো জনপ্রিয় অনেক তারকা। সিনেমার গল্পও তৈরি করা হয়েছে নতুন আর পুরনো সময়কে এক সুতোয় গেঁথে। তবে দর্শক-ভক্ত সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখছেন মাধুরী দীক্ষিত ও সঞ্জয় দত্তের দিকে। এই দুই জনপ্রিয় বলিউড তারকাও নাকি অভিনয় করছেন কলঙ্ক ছবিতে। বলিউড হাঙ্গামা জানাচ্ছে, দুই দশক পর এই দুই তারকাশিল্পী আবার একসঙ্গে অভিনয় করছেন। গত দুই-তিন দিন ধরে চলছে তাদের অংশের দৃশ্যধারণ। শুরুতে তাদের নাটকীয় সব দৃশ্যের শুটিং চলে। গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে মাধুরীর একটা মুজরা নাচের দৃশ্যেও অংশ নেন। এই অংশে মাধুরী পান তার প্রিয় নৃত্যপরিচালক সারোজ খান ও রেমো ডি’সুজাকে। ‘ধাক-ধাক’ গার্ল খ্যাত মাধুরী আর ‘খলনায়ক’ সঞ্জয় দত্ত, নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো জুটি। বলিউডে যেমন তাদের জুটির নাম-ডাক ছিল, তেমন ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা কম ছিল না। প্রেমের সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন এই দুই তারকা। তবে একটা সময় সম্পর্কের অবনতি হয় তাদের। তারপর থেকেই আর একসঙ্গে অভিনয় করেননি তারা। ছবিতে আরো অভিনয় করছেন বরুণ ধাওয়ান, আলিয়া ভাট, আদিত্য রায় কাপুর, সোনাক্ষী সিনহা। অল্প সময়ের জন্য অভিনয় করতে দেখা যাবে কুনাল খেমু ও কাইরা আদভানিকে। ‘কলঙ্ক’ ছবিটি পরিচালনা করছেন অভিষেক বর্মণ। ছবিটি আগামী বছরের এপ্রিলে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।