৭৮৭ বোয়িং ড্রিমলাইনার উদ্বোধন

বিমানের ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিমানবহরে প্রথমবারের মতো সংযোজিত ৭৮৭ বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানের উদ্বোধনকালে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংস্থার ভাবমূর্তি উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার ৭৮৭ বোয়িং ড্রিমলাইনার আকাশবীণা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি চাই বিমানে যারা কাজ করবেন তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন, যাতে দেশের কোন বদনাম না হয় এবং দেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল থাকে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে বিদেশী এবং স্থানীয় যাত্রীসা ধারণ সেই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশেরীরা দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে তাদের মালপত্র নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পাদন করতে হবে।’ তিনি এ সময় বিমান কতৃর্পক্ষকে নিরাপত্তার বিষয়টিতেও আরো গুরুত্বারোপ করার আহবান জানান। ২৭১ আসনবিশিষ্ট বোয়িং ৭৮৭ ড্রিম লাইনার উড়োজাহাজটির নাম রাখেন ‘আকাশবীণা’ প্রধানমন্ত্রী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাজাহান কামাল বিশেষ অতিথি হিসেকে উপস্থিত ছিলেন। বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহম্মাদ এনামুল বারী এবং বেসাসরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আমাদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে দু’একটি দেশের আপত্তি থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার একটা বিষয় ছিলো সেটা আপনারা জানেন। কোন কোন সরকার এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তাও আপনারা জানেন। যাই হোক, তারা সেটি প্রত্যাহার করেছে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি এখন উন্নত হয়েছে। তিনি নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাই আমরা একটু সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে যে সম্মান অর্জন করেছিলাম সেটা হারিয়ে গিয়েছিল ’৭৫-এর ১৫ অগাস্টের পর থেকে। সেই সম্মানকে আবার আমরা ফিরিয়ে নিয়ে এসে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে যে উন্নয়ন করা যায়, সেটাও আমরা কিন্তু প্রমাণ করেছি।’ দেশে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই অর্জনটা ধরে রেখেই আমাদের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতার হাত ধরেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকরা মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে ভেবেছিল তাঁদের একটি নিজস্ব এয়ারলাইন্স হবে, যে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন বঙ্গবন্ধু। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় জন্ম নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বিমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ডাকোটা উড়োজাহাজ দিয়ে আর আজকে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার আকাশবীনা’র। ‘আকাশবীনা’র আজকের এই অভিষেকের দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য আরো একটি মাইলফলক, স্বপ্ন পূরণের দিন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ বিমানের প্রতি এতোই আন্তরিক ছিলেন যে, এর লোগো  তৈরি এবং চূড়ান্ত করার কাজ তিনি নিজেই তদারকি করেন। তাঁর সাড়ে তিন বছরের সরকারের সময় ব্যাংকক, কলকাতা, কাঠমান্ডুও দুবাই আন্তর্জাতিক রুট চালু হয়। বিমানের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিমানের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতির পিতা ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল এভিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজকের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নামে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী অতীতে বিমানের দুরাবস্থার কথা স্মরণ করে বলেন, ২০০৯ সালে আমরা সরকার পরিচালনায় এসে দেখি বিমানের অবস্থা খুবই নাজুক। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানকে পরিণত করে দুর্নীতি আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে। তারা নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস, প্যারিস, ফ্রাংকফুর্ট, মুম্বাই, নারিতা এবং ইয়াঙ্গুন রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। চরম লোকসান আর অব্যবস্থাপনায় বিমান মুখ থুবড়ে পড়ে। তিনি বলেন, জরাজীর্ণ বিমান বহর, বিপর্যস্ত শিডিউল, অন্তহীন অভিযোগ। এ সঙ্কট উত্তরণে প্রয়োজনীয় কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করি আমরা। একটু গান শোনার ব্যবস্থা অনেক বিমানে ছিল না, বিমানে বসে থাকলে প্রায়ই পানি পড়তো, টয়লেট টিস্যু বা তোয়ালে দিয়ে পানি আটকাতে হতো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কারণে সরকারে আসার পর পরই আমরা উদ্যোগ নেই। সেই উদ্যোগের ফলেই বিমান বহরে আজ নতুন নতুন আধুনিক বিমান সংযুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের বিমানবন্দরও অনেক আধুনিক হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সত্যিকার অর্থে একটি আধুনিক এয়ারলাইন্স হিসেবে বিমানকে গড়ে তোলার জন্য তাঁর নির্দেশেই বিমান পরিচালনা পর্ষদ বিশ্বখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ছয়টি বিমান। বাকি চারটির প্রথমটি বহরে যুক্ত হলো। তিনি বলেন, আমাদের বিমান বহরে সংযুক্ত হওয়া পালকি, অরুণ আলো, আকাশপ্রদীপ, রাঙ্গাপ্রভাত, মেঘদূত ও ময়ূরপঙ্খী। আমরা নতুন নতুন আঙ্গিকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিযে বিমানগুলোরও নামকরণ করি। আরেকটি ড্রিম লাইনার, বিমানের বহরে যোগ হবে নভেম্বর মাসে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, সে সময়ে আমাদের নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। তখন হয়তো এখানে আসা বা এটা উদ্বোধন করা সম্ভব হবে না। তাই আমি চাই এটা দ্রুত এসে যাক এবং তার কাজ শুরু করুক। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যসমূহে বিমানের যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সরকার গত মাসে কানাডার সঙ্গে ৩টি ড্যাশ-৮ বোম্বারডিয়ার উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাতে করে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগটা আমরা আরো বাড়াতে পারবো। বিমানের উন্নয়নে তাঁর সরকারের নানা উদ্যোগের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এই বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ বলে কিছুই ছিলো না। বিমানবন্দরে নেমে হেঁটে বিমানে উঠতে হতো। আমরা সরকারে এসে এটির আধুনিকায়নের দিকে নজর দেই এবং উন্নত করার ব্যবস্থা নেই।’ তিনি বলেন, ‘কার পার্কিং, বোর্ডিং ব্রিজ, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এই সবগুলো কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতেই হয়েছে।’ বিমানের উন্নয়নে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ করতে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে কক্সবাজার বিমানবন্দরকেও আমরা উন্নত করতে চাচ্ছি। এটাও যেন একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে ওঠে। কারণ, এটি আন্তর্জাতিক বিমান রুটের মধ্যে পড়ায় এটা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, আন্তর্জাতিক বিমানগুলো এটাকে রিফ্যয়েলিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে পারে। ’ সৈয়দপুর, সিলেট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকেও উন্নত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে বাগেরহাটের খান্দাইল বিমানবন্দর করার কথাও জানান । প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বিমান নয়, বিমানবন্দরসমূহ উন্নয়নেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সিলেট বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি এ সময় হজ ফ্লাইট সফল ভাবে সম্পন্ন করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উড়োজাহাজটির একটি মডেল উপস্থাপন করা হয়। পরে বিমান বহরে যুক্ত নতুন এই উড়োজাহাজটি পরিদর্শন করেন তিনি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পর আজ সন্ধ্যায় ‘ড্রিমলাইনার আকাশবীণা’র প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। আকাশবীণায় আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। দু’পাশের প্রত্যেক আসনের পাশে রয়েছে বড় আকারের জানালা। একইসঙ্গে জানালার বোতাম টিপে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। জানালা ছাড়াও কেবিনেও রয়েছে মুড লাইট সিস্টেম। টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম এই ড্রিমলাইনার চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগবে। এটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম। বিমানটির ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই)। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হবে ইলেক্ট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে।

 

কারাগারে আদালত বসানোর প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনি নোটিশ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষে অস্থায়ী আদালত বসানোর প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বিচারের জন্য গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় ওই প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, ‘নিরাপত্তার কারণে’ আদালত স্থানান্তরের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী নওশাদ জমির গতকাল বুধবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সচিব বরাবরে ওই নোটিশ পাঠান। আইনি নোটিশে ওই প্রজ্ঞাপন ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাতিল করে আগের স্থানে (পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন মাঠে) বিচারের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, এতে ব্যর্থ হলে সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনি নোটিশে সংবিধানের ৩৫ (৩) ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ (২) ও ৪ (১) ধারা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী নওশাদ জমির। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হবেন। যেহেতু কারাগারের অভ্যন্তরে বিচার হচ্ছে, তাই একে প্রকাশ্য আদালত বলা যাচ্ছে না, যা একটি রুদ্ধ বিচারের মতোই। তাই ৪ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(২) অনুসারে সরকার চাইলে বিভিন্ন জায়গায় আদালত বসাতে নির্দেশ দিতে পারে এবং ৪ (১) অনুসারে কোথায় আদালত বসতে পারে, তা বলা আছে। তবে কারাগারের অভ্যন্তরে আদালত বসানো বিধিবদ্ধ নয় বরং ওই বিধানের পরিপন্থী। এসব যুক্তিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।’

খালেদার মুক্তির দাবিতে

৮ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন, ১২ সেপ্টেম্বর অনশন করবে বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন করবেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সারা দেশের জেলা ও মহানগর সদরেও এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এ ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ অথবা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রতীকী অনশন করবে বিএনপি। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা ও মহানগর সদরে অনশন কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় জড়িয়ে, নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে সাজা দিয়েও মনের ঝাল মিটছে না। নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে আবারও গোপন বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁকে হয়রানি করতে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে সরকার। খালেদা জিয়ার বিচারকাজ পরিচালিত হবে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে, যা আইনের পরিপন্থী ও স্বাধীন বিচার বিভাগের সর্বজনীন নীতিকে অমান্য করা। কারাগারে লোকচক্ষুর অন্তরালে আদালত ক্যাঙারু কোর্টেরই দৃষ্টান্ত। এ সমস্ত আদালতে গায়েবি নির্দেশ আসে।’ রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, সরকার বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিনা কারণে দমননীতির অংশ হিসেবে মামলা দায়ের করে এবং সে মামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার শুরু করেছে। সরকার অজানা আশঙ্কায় বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগার ভরে ফেলেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক  সৈয়দ এমরান সালেহ, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার ঃ অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রাণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট সিটিকর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের জন্য দিন পাওয়া কঠিন। তবে নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর ঠিক করেছে। সম্ভাবত ২৭ তারিখই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবাধায়ক সরকার বলতে কিছু নেই, হবে অন্তর্বরতীকালীন সরকার। আমার ধারণা ২৫ সেপ্টেম্বরের আগেই এটা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির থাকার কোনো সুযোগ  নেই। কারণ বর্তমান সরকারে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। নির্বাচনকালীন সরকারে সুশিল সমাজের প্রতিনিধিও থাকারও সুযোগ নেই। কারণ অন্তবিরতীকালীন সরকারে নির্বাচীতরাই থাকবে। তিনি আরও বলেন, ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে আইন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ২৫, ২৬ তারিখে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে  দেওয়া  হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, না সংসদ ভাঙ্গা হবে । সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার বিয়ষে সংবিধানে কোনো প্রভিশন নেই। পরবর্তী সংসদ গঠন হলে তখনই সংসদ ভাঙ্গবে। আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এ সংসদের মেয়াদ আছে। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সিলেট সিটিতে যেমন অবাধ নিরোপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনও নিরোপেক্ষ হবে।

আদালতে খালেদা জিয়া

বারবার আসতে পারব না, যত খুশি সাজা দিন

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গতকাল বুধবার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মামলার প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এখানে ন্যায়বিচার নেই। যা ইচ্ছে তাই সাজা দিতে পারেন। যত ইচ্ছে সাজা দিতে পারেন। আমি অসুস্থ। আমি বারবার আদালতে আসতে পারব না। আর এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যাবে। আমার সিনিয়র কোনো আইনজীবী আসেনি। এটা জানলে আমি আসতাম না।’ গতকাল মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ছিল। বিচারক ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। বেলা ১১টার দিকে আদালতে আসেন। খালেদা জিয়াকে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। হুইলচেয়ার বসিয়ে তাঁকে আনা হয়। চেয়ারে বসা অবস্থায় তাঁর পায়ের ওপরের অংশ থেকে নিচ পর্যন্ত সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। আদালতে এসেছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তাফা খান। বিএনপিপন্থী এই আইনজীবী আদালতে খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবী দেখতে না পেয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, ‘আমি এখানে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে এসেছি। খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনা করেনÑ এমন কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হননি। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী কারাগারে আদালত বসবেনÑ এ ধরনের প্রজ্ঞাপন গত রাতে আসামিপক্ষের এক আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এটা যথাযথভাবে আসামিপক্ষকে জানানো হয়নি।’ তাই আদালতকে সার্বিক বিবেচনায় নতুন তারিখ ধার্য করতে অনুরোধ জানান তিনি। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, আজ এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। গত ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়। এরপর থেকে অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে এখন পর্যন্ত আদালতে হাজির করা যায়নি। তাঁর অসুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কারাগারে আদালত বসানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি যথাযথভাবে আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর অন্য আইনজীবীদের ব্যক্তিগতভাবে আজকের শুনানির বিষয়ে জানানো হয়েছে। এমনকি বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন অস্থায়ী আদালত যেখানে বসত সেখানেও তা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আদালতের কার্যক্রম শুরুর আরজি জানান। শুনানি শেষে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আসামিদের জামিন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রেখে সেই দুদিন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালত থেকে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার কোনো সিনিয়র আইনজীবী আদালতে ছিল না। তাদের যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়নি। যে প্রজ্ঞাপন গত রাতে জারি করা হয়েছে, তা সাত দিন আগে কেন করা হয়নি। আদালতকে জানিয়েছি, আমি অসুস্থ, বারবার আসতে পারব না।’

রাজশাহী ও সিলেটের নবনির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরবৃন্দের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ায় এটাই প্রমাণিত হয় দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে নিজস্ব পছন্দের প্রার্থী, সরকারি এবং বিরোধী দলীয় সদস্যকে অবাধে ভোট দিতে পেরেছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকার মানুষ অবাধে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে রাজশাহী এবং সিলেটের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর শপথ বাক্য পাঠ করান এবং এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কাউন্সিলরবৃন্দকে শপথ বাক্য পাঠ করান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং রাজশাহী এবং সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং ৪০ জন কাউন্সিলর এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং ৩৬ জন কাউন্সিলর এ বছর ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল বলেই এই উন্নয়ন সম্ভবপর হয়েছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের লড়াই-সংগ্রামের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁরা তাদের ইচ্ছেমত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাচ্ছে। একটি দেশের উন্নয়নে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছর দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় ছিল বলেই বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত করেছে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে দিন বদলের অঙ্গীকার নিয়েই তাঁর সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে। আজ আপনারা সেই দিন বদল নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন, জনগণ ক্ষুধা থেকে মুক্তি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং এই উন্নয়নের ধারাকে টেকসই রূপ দিতে তাঁর সরকার ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান-২১০০’ নামে আগামী একশ’ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেটে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার কখনই কোন রাজনৈতিক ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দ করে না। অতীতে তাঁর সরকার রাজশাহী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জন্য ব্যাপক বরাদ্দ প্রদান করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কে কোন দলের মেয়র সেটা চিন্তা না করে জনগণের কল্যাণের কথাটাই সরকার আগে চিন্তা করে। ভোট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার আর এই সাংবিধানিক অধিকারের যথাযথ প্রয়োগের ওপরই গণতন্ত্র নির্ভরশীল। আর আমরা জনগণের এই অধিকারকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর এবং যেকোন মূল্যেই তাঁদের এই অধিকারকে রক্ষা করা হবে, বলেন তিনি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শুধু নিজেদের সম্পদ গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করলেই চলবে না জনগণ কিভাবে সম্পদশালী হতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রেখেই কাজ করতে হবে। নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল রকমের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে, সরকার কোন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস এবং অসামাজিক কর্মকান্ড বরদাশত করবে না। তিনি বলেন,‘আমরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।’

বিয়ে নিয়ে যা বললেন সালমান খান

বিনোদন বাজার ॥ ফের একই প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন বলিউডের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর বলে খ্যাত অভিনেতা সালমান খান।প্রশ্নটি হলো- বিয়ে কবে করছেন? নাকি অবিবাহিতই থেকে যাবেন?মঙ্গলবার ভারতের গোয়ায় বিগ বস ১২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পাপারজ্জিদের মাধ্যমে এ প্রশ্ন করেন সালমানের ভক্তরা।উত্তরে সালমান খান প্রশ্নটি কখনও তার পিছু ছাড়বে না মন্তব্য করে হেসে ফেলেন।আর কিছুটা মজার ছলে বলিউড ভাইজান উত্তর দেন, এই প্রশ্নটা আমায় যারা দীর্ঘ বছর ধরে করে আসছেন তাদের প্রায় সকলেই বিয়ে করে নিজের জীবন বরবাদ করে ফেলেছেন। সালমানের এমন উত্তরে উপস্থিত সকলেই হাসিতে ফেটে পড়েন। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরেও ভারতের টিভি পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় ও বিতর্কিত টিভি শো বিগ বস। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয় টিভি চ্যানেলে দেখা যাবে এই শোটি। এর সঞ্চালক ভুমিকায় থাকছেন সালমান খান। সেই শো এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সালমান খানকে এ প্রশ্ন করা হয়।

আতিফ আসলামের ওপর ক্ষুব্ধ কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর

বিনোদন বাজার ॥ ভারতের সুর সম্রাজ্ঞি লতা মঙ্গেশকর পাকিস্তানের শিল্পী আতিফ আসলামের ওপর ভীষণ ক্ষেপেছেন ।আতিফ আসলামের গলায় ‘চলতে চলতে ইঁউহি মিল গ্যায়া থা’ বিখ্যাত গানটির নতুন ভার্সান শুনে রেগে যান ভারত রতেœ ভুষিত এ শিল্পী। খবর জি নিউজের।সম্প্রতি লতা মঙ্গেশকরের ‘চলতে চলতে ইঁউহি মিল গ্যায়া থা’ গানটি নতুন ভাবে উঠে এসেছে পাকিস্তানি গায়ক আতিফ আসলামের গলায়। ‘মিত্রোঁ’ নামে একটি ছবিতে গানটি ব্যবহার করা হয়েছে।১৯৭২ সালে নিজের কণ্ঠে গাওয়া জনপ্রিয় এই গানটির রিমিক্স হওয়ায় মোটেই খুশি নন লতা মঙ্গেশকর।আতিফের গাওয়া গানটি প্রসঙ্গে লতা বলেন, আমি এই গানটি শুনতেই চাই না। পুরনো গানগুলির রিমিক্স করার যে ট্রেন্ড ত আমায় ভীষণই কষ্ট দেয়।তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশ্ন ছুড়েন, এখানে সৃজনশীলতা কোথায়? এখানে সুন্দর ক্লাসিক নোটগুলি পুরোপুরি বদলে ফেলা হয়। অনেকক্ষেত্রে গানের কথাও বদলে ফেলা হয়। কিন্তু কার অনুমতি নিয়ে এসব করা হয়?রিমিক্স গানটিতে শুরু ও শেষে নতুন করে কিছু কথা জুড়ে এমনভাবে বদলে ফেলা হয়েছে যে, এ গানকে ‘চলতে চলতে ইঁউহি মিল গ্যায়া থা’ গানের নকল না বলে বিকৃতরূপ বলছেন কেউকেউ।এ ব্যাপারে ভারত রতেœ ভূষিত শিল্পী লতা মঙ্গেশকর বলেন, বড় বড় কবি, গীতিকারদের লেখা বিখ্যাত গান ও সুরকে কারও বদলে ফেলার অধিকার নেই।প্রসঙ্গত, মীনা কুমারী অভিনীত ‘পাকিজা’ ছবির এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকর। সুর দিয়েছিলেন খ্যাতনামা সুরকার গুলাম মহম্মদ।

তার কারণেই আজ আমি শাহরুখ হয়েছি

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড কিং শাহরুখ খান। বলিউড বাদশা নামেও খ্যাত এই অভিনেতা। বলিউডে শাহরুখ খানের যশ, খ্যাতির পেছনে কে বা কারা রয়েছেন?সে বিষয়ে যাকে স্মরণ করেছেন শাহরুখ খান তিনি হলেন সালমান খানের বাবা সেলিম খান।সম্প্রতি সালমান খানের সঞ্চালনায় ‘দশ কা দম’-৩ এর ফাইনাল রাউন্ডে অতিথি হিসাবে এসেছিলেন শাহরুখ। সেখানেই এ কথা বলেন তিনি।শাহরুখ বলেন, যখন আমি প্রথমবার মুম্বাই এসেছিলাম, তখন আমি একজন সাধারণ এক অভিনেতা ছিলাম। মুম্বাইতে ভালো থাকা খাওয়ারও স্থান ছিলনা আমার। সে সময় সালমানের বাড়িতেই আমি খাবার খেয়েছিলাম। সেলিম খানজী আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছিলেন। বলতে গেলে ওনার সাহায্যেই আজ আমি শাহরুখ হয়েছি।বলিউডে সালমান ও শাহরুখ এ দুই তারকার বন্ধুত্ব সর্বজনবিদিত। বিটাউনে তাদের বন্ধুত্ব করণ-অর্জুন উপাধিতে পরিচিত।সে বন্ধুত্বের বন্ধনকে যেন আরও দৃঢ় করলেন শাহরুখ, আমি এই শোয়ে এসেছি শুধুমাত্র সালমানের জন্য। ও আমাকে যেখানে যেতে বলবে আমি যেতে রাজি।প্রসঙ্গত, সালমান খানের বাবা সেলিম খান বলিউডের একজন খ্যাতনামা চিত্রনাট্যকার। ‘জাঞ্জির’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘শোলে’-র মত ছবির চিত্রনাট্যকার তিনি।

বাংলাদেশে জৈব জ্বালানি এখন সময়ের দাবি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ দিন যাচ্ছে আর জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য মতে, ২০১২-১৩ অথর্বছরে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে মোট জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল ৪১ লাখ ২৯ হাজার ২৬২ টন, আর ২০১৬-১৭ অথর্বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯৮ টনে। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ হচ্ছে ব্যাপকভাবে মোটর যানের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। বিআরটিএর তথ্য মতে, গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোটরযানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৭৯২টি। যা ২০১৪ সালে ছিল ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৪টি। রাজধানী ঢাকা গত অক্টোবর মাসে মোটরযানের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৪টি, যা ২০১০ সালে ছিল ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭টি। জ¦ালানি তেলের চাপ কমাতে সিএনজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে দেশে গ্যাসের পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসে বিকল্প হতে পারে বায়োগ্যাস বা বায়োফুয়েল। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। গত ২০১০ সালে একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল চিনি কলগুলোতে উৎপাদিত চিটাগুড় থেকে বায়োফুয়েল উৎপাদন করা হবে মোটরযান চালানোর জন্য। বছরে ৬০ লাখ টন বায়োফুয়েল উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এই প্রকল্প বা উদ্যোগ থেমে যায়। ২০০৬ সালে চিনিশিল্প করপোরেশনের বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সঙ্গে যৌথ গবেষণা শুরু করেন। তারা চিটাগুড় থেকে মোটরগাড়ি চালানো যায় এমন পাওয়ার ইথানল উৎপাদনে সফল হন। পরে পেট্রোলের সঙ্গে শতকরা ১০ ভাগ পাওয়ার ইথানল মিশিয়ে গবেষণার সফলতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হন গষেকরা। এ সাফল্যের ভিত্তিতে চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা ২০০৭ সালে পাওয়ার ইথানল তৈরির জন্য দশর্না চিনিকলে (কেরু অ্যান্ড কোম্পানি) একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করে। পরে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও খনিজ তেলের ওপর নিভর্রতা কমাতে বিশ্বে এখন বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পাওয়ার ইথানলের সঙ্গে পেট্রোল মিশিয়ে গাড়ি চালানো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে সেক্ষেত্রে তারা সরাসরি সবুজ শস্য ব্যবহার করলেও বাংলাদেশ এই প্রথম কোনো উপজাত থেকে ইথানল তৈরি করছে বলে চিনি ও খাদ্য শিল্পসংস্থা সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশনের মালিকানাধীন দর্শনা চিনিকলের (কেরু অ্যান্ড কোম্পানি) ডিস্টিলারিতে অ্যালকোহল তৈরির জন্য একটি প্ল্যান্ট বসানো হয়। দেশের চিনিকলগুলোতে প্রতিবছর চিনির উপজাত হিসেবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন চিটাগুড় পাওয়া যায়। এর বিশ্বের উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল রেখে বাংলাদেশের চিনি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে চিনিকলগুলোতে চিনি ও গুড়ের পাশাপাশি জৈবজ্বালানি বা ইথানল উৎপাদনের কোনো বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, দেশে যে হারে আখের চাষ দিন দিন কমে যাচ্ছে, তাতে এ শিল্পকে ধরে রাখতে হলে চিনিকলে ইথানল তৈরি করাই সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কৃষক ও চিনিশিল্প বেঁচে থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বে জৈব জ্বালানি হিসেবে মূলত ইথানল ব্যবহার করা হয়। আর আখের রস বা মোলাসেস (চিটাগুড়) থেকে প্রথমে ইথানল তৈরি করা হয়। এই ইথানল গ্যাসোলিন (পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল) এর সঙ্গে ২০-২৫ হারে মিশ্রিত করে অথবা পুরোটাই সরাসরি ইঞ্জিনচালিত যানবাহনে ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে ইঞ্জিনের সামান্য কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। তারা বলেন, গ্যাসোলিনের (পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল) পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে ইথানল ব্যবহার করলে ৯০ শতাংশ কাবর্ন ডাই-অক্সাইড (গ্রিন হাউস গ্যাস) নিঃসরণ কম হয়। এটি ব্যবহারে ইঞ্জিনের শব্দ কম হয় এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বায়ুদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ জন্যই, আধুনিক বিশ্বে ইথানলকে টেকসই জৈব জ্বালানির অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা বলেন, আখ উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিল তার মোট উৎপাদনের ৫৬ শতাংশ আখ জৈব জ্বালানি (ইথানল) উৎপাদনে ব্যবহার করে এবং প্রতিটি ইঞ্জিনচালিত গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে ২০-২৫ শতাংশ ইথানলমিশ্রিত গ্যাসোলিন ব্যবহার করছে ব্রাজিলিয়ানরা। জ্বালানি নিরাপত্তার কথা ভেবে ভারত ২০০৯ সালে জৈবজ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যে নীতিমালায় চলতি ২০১৭ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ইথানলমিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। চীনেও ২০২০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত গ্যাসোলিন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শুধু চীন ও ভারত নয় যেসব দেশে আখ উৎপাদিত হয় যেমন পাকিসস্তান, তুরস্ক, মেক্সিকো, থাইল্যান্ডসহ প্রায় সব দেশই এ পথে হাঁটছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে এখন আখ উৎপাদন করে চাষির পাশাপাশি চিনিকলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দেশেরও বিরাট লোকসান হচ্ছে। তাই এদেশে আখ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ চাষি ও চিনিকলকে অপমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখে অন্যান্য দেশের মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে জৈব জ্বালানি তৈরির বিকল্প নেই। কারণ এক টন আখ থেকে চিনি (রিকভারি ৭.৫০ শতাংশ হলে) পাওয়া যায় ৭৫ কেজি। যার বতর্মান বাজারমূল্য ৩০০০ টাকা। আর ওই আখ থেকে প্রায় ৮৫ লিটার জৈব জ্বালানি (ইথানল) পাওয়া যায়, যার বাজার মূল্য ৮৫০০ টাকা। তাই জৈব জ্বালানি উৎপাদন কৃষকের সমৃদ্ধি বাড়াবে। যেহেতু বায়োফুয়েল উৎপাদনের মূল উপাদান খাদ্যশস্য, তাই এর উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা খাদ্যমূল্যে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ প্রভাব ফেলবে। খারাপ পরিণতির কথা জেনেও মাকির্ন কংগ্রেস ২০০৫ সালে শুধু তাদের প্রয়োজনে বায়োফুয়েল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২২ সাল নাগাদ ১৩ হাজার ৬০০ কোটি লিটার বায়োফুয়েল উৎপাদন করবে বলে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। বাংলাদেশে জৈব জ্বালানি এখন সময়ের দাবি। এমতাবস্থায় চিটাগুড় থেকে বায়োফুলে উৎপাদনের বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।
লেখক ঃ কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন

আবারো সিআইপি হলেন অনন্ত জলিল

বিনোদন বাজার ॥ আবারো কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি) হলেন চিত্রনায়ক ও সফল ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল।সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কর্তৃক প্রদত্ত এ বিশেষ সম্মান পান অনন্ত জলিল।দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তাকে এ সম্মান দেয়া হয়।উল্লেখ্য, অনন্ত জলিল এজে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মুনসুন ফিল্মসের কর্ণধার।দেশের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয়ভাবে সিআইপি পরিচিতি পেয়ে থাকেন।সিআইপিরা সচিবালয়ে প্রবেশ, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণসহ, বিমান, রেল, সড়ক ও জলযানে আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বাণিজ্যিক খাতে জড়িত ব্যক্তিদের এই বিশেষ সম্মান মনোনয়ন করে থাকে।সে প্রেক্ষিতে এবার ২০১৫ সালের জন্য সিআইপি মনোনীত হলেন অনন্ত জলিল। এবার ১৭৮ ব্যবসায়ীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সিআইপি সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ৩ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে ২০১৫ সালের জন্য মনোনীতদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন।উল্লেখ্য এর আগেও সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন অনন্ত জলিল। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

ব্যালন ডি’অর জেতা নিয়ে আশাবাদী গ্রিজমান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা মেলেনি অঁতোয়ান গ্রিজমানের, তবে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড মনে করছেন, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার তিনি ব্যালন ডি’অর জয়ের কাছে আছেন। গত মে মাসে ইউরোপা লিগের ফাইনালে মার্সেইয়ের বিপক্ষে আতলেতিকোর জয়ে জোড়া গোল করেন গ্রিজমান। বড় অবদান ছিল ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়েও। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে একটিসহ মোট চারটি গোল করেন ২৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। গত মাসে আতলেতিকোর হয়ে জেতেন উয়েফা সুপার কাপ। এসব সাফল্যেও ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের তিন জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঠাঁই হয়নি গ্রিজমানের। তালিকায় আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, লুকা মদ্রিচ ও মোহামেদ সালাহ। এই তালিকায় বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের কোনো খেলোয়াড় না থাকাটাকে অস্বাভাবিক লাগছে গ্রিজমানের কাছে। তবে তার বিশ্বাস, এবার অন্য সময়ের চেয়ে ব্যালন ডি’অর জয়ের খুব কাছে আছেন তিনি। দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরো ফাইনালে হেরে এই পুরস্কারের লড়াইয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন গ্রিজমান। ব্যালন ডি’অর নিয়ে গ্রিজমান বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে ভাবি, বিশেষ করে আমি যখন এটার আরও কাছে চলে এসেছি। ২০১৬ সালে আমি যখন তৃতীয় হয়েছিলাম, সেবার দুটি ফাইনালে হেরেছিলাম। এবার আমি তিনটি ফাইনালে জিতেছি।’ “ব্যালন ডি’অর একটা মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। একজন খেলোয়াড়ের জন্য এটা সর্বোচ্চ সীমা। এর চেয়ে আর ভালো কিছু নেই, উচ্চতর কিছু নেই।” “আমি তিনটা ট্রফি জিতেছি। ফল নির্ধারক মুহূর্তগুলোতে আমি গুরুত্বপূর্ণ ছিলাম। তবে এটা আমার ভোট নয়।” ফিফার সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে নিজের বাদ পড়া প্রসঙ্গে গ্রিজমান বলেন, “এটা উদ্ভট। এটা একটা ট্রফি যা ফিফা দেয়, তাই না? আর বিশ্বকাপ ফিফা আয়োজন করে, হ্যাঁ? আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি কিন্তু সেখানে ফ্রান্সের কেউ নেই। এটা পছন্দের ব্যাপার তবে সেখানে কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের না থাকাটা বিস্ময়কর।”

আসিফ-কর্নিয়ার ‘এলোমেলো জীবন’

বিনোদন বাজার ॥ আসিফ আকবর ও কর্নিয়া জুটির প্রথম গান ‘কি করে তোকে বোঝাই’। গানের পাশাপাশি গানের মিউজিক ভিডিও হয়েছিল প্রশংসিত। আসিফের সঙ্গে কর্নিয়ার জুটি ভালোভাবেই নিয়েছিলেন দর্শক-শ্রোতারা।তারই ধারাবাহিকতায় আবারও নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন এই জুটি। গানের শিরোনাম ‘এলোমেলো জীবন’। গানটির কথা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন তরুন মুন্সী। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত নাসির। আর বরাবরের মতো এবারও দর্শক-শ্রোতা আসিফ-কর্নিয়ার রোমান্টিক পারফরম্যান্স দেখতে পাবেন গানের ভিডিওতে। গানটি প্রকাশ করছে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন (ডিএমএস)। ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করবে ‘এলোমেলো জীবন’ গানটির ভিডিও।আসিফ আকবর বলেন, আমাদের জন্য খুশির খবর হলো, আমি আর কর্নিয়া জুটিকে শ্রোতা-দর্শক দারুণ পছন্দ করেছেন। এবার আমরা নিয়ে আসছি ‘‘এলামেলো জীবন’’। ভালোবাসার গান কর্নিয়া অনেক ভালো গায়। আর তরুন মুন্সী এবং সৈকত নাসিরের প্রতি দর্শক-শ্রোতার আস্থা তো আছেই।কর্নিয়া বলেন, আসিফ ভাই, আমার বড় ভাই, তার সঙ্গে কাজ করতে বরাবরই ভালো লাগে। তার কাছ থেকে অনেক উৎসাহ পাই। এবারের গানটিও বেশ ভালো হয়েছে। দারুণ একটি গল্পে চমৎকার ভিডিও নির্মাণ করা হয়েছে।

 

মেসির কথায় বাড়তি চাপে বার্সা – সুয়ারেস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারে বার্সেলোনা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে সমর্থকদের দেওয়া লিওনেল মেসির প্রতিশ্র“তিতে দল বাড়তি চাপে পড়েছে বলে মনে করেন লুইস সুয়ারেস। স্পেনের ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ সফল বার্সেলোনা। গত চার মৌসুমে তিনবার ঘরোয়া ডাবল জিতেছে দলটি। কিন্তু ব্যর্থ হতে হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ২০১৫ সালে সবশেষ ইউরোপ সেরার শিরোপা ঘরে তুলতে পেরেছিল তারা। এরপর থেকে প্রতিযোগিতাটিতে একাধিপত্য তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের। গত তিন মৌসুমেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে মাদ্রিদ শহরের দলটি। আর এই তিন মৌসুমে প্রতিবারই কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে যায় কাতালান ক্লাবটি। গত মাসে বোকা জুনিয়র্সের বিপক্ষে জুয়ান গাম্পের ট্রফিতে লড়াইয়ের আগে সমর্থকদের প্রতি এক বক্তব্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্রসঙ্গে কথা বলেন মেসি। পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার তখন জানান, এ বছর রিয়ালের কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা কেড়ে আনাতেই বার্সেলোনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে। কাতালান ক্লাবটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে তার সতীর্থ সুয়ারেস মজা করে বলেন, “শিরোপার প্রশ্নে মেসি এরই মধ্যে চাপ তৈরি করেছে।” “তবে মাঠে পারফর্ম করার বিষয়টা এখন আমাদের উপর নির্ভর করছে। আমাদেরকে সে যে চাপে ফেলেছে গাম্পের ট্রফির ম্যাচের পর আমরা সেটা নিয়ে কথা বলেছিলাম (হাসি)। তবে এতে বোঝা যাচ্ছে মেসি কেমন, জেতার জন্য সে কতটা মরিয়া। আমি আশা করি, তার ইচ্ছা সত্যি হবে।” এবারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্র“প পর্বে বার্সেলোনার সঙ্গী ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান, ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম ও পিএসভি।

লিটনের সামনে ওয়ানডে দলে জায়গা পাকা করার সুযোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৪৪ ইনিংস খেলেছেন লিটন দাস। দেখা পাননি তিন অঙ্কের। পঞ্চাশ ছুঁতে পেরেছেন মোটে চারবার। দারুণ প্রতিভাবান হওয়ার পরও তাই কোনো সংস্করণেই জায়গা পাকা করতে পারেননি বাংলাদেশ দলে। প্রতিভাবান বলেই সুযোগ থেমে নেই। এবার তার সামনে সুযোগ ওয়ানডে দলে জায়গা পাকা করার। এশিয়া কাপে সুযোগ পাবেন তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস শুরু করার, জায়গাটি নিজের করে নেওয়ার। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডেতেই এখনও পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স সবচেয়ে বিবর্ণ। ১২ ওয়ানডে খেলে ৬ বার দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন, সর্বোচ্চ রান ৩৬। ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ইনিংস বেশ কিছু খেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ রান ২৭৪, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৪৩। কিন্তু সেই সামর্থ্যরে প্রতিফলন দেখাতে পারেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। গতকাল বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে লিটন বললেন, এবার হাঁটতে চান বড় কিছুর পথে।“যারা বড় বড় ক্রিকেটার, তারা ভালো  শুরু করতে পারলে ইনিংস লম্বা করে। এখনও বড়দের কাতারে যেতে পারিনি তো, তাই এখন বড় ইনিংস হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। চেষ্টা করছি যেন বড় কিছু করতে পারি।” বড় ইনিংস না আসার কারণ হতে পারে মনোযোগে সমস্যা। হতে পারে টেম্পারমেন্টে ঘাটতি। দুর্বলতা থাকতে পারে সঠিক বল নির্বাচনেও। লিটন মূল কারণ মনে করছেন শেষটিকেই। ভালো খেলতে খেলতে হুট করে বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন অনেকবারই। বল নির্বাচনে হয়ে উঠতে চান আরও নিখুঁত। “আসলে আউট হতে তো একটি বলই প্রয়োজন। সেটি নিয়েই কাজ করছি, যেন শটগুলোতে পারফেকশন আনা যায়। শুধু উইকেটে পড়ে থাকলে তো হবে না, রানও করতে হবে। রান করতে হলে শট খেলতে হবে, ব্যাট চালাতে হবে। সেই বিষয়গুলোই এখন বিবেচনা করছি যে, কোন শটটি খেললে রান পাওয়া যাবে। সেগুলোই চেষ্টা করছি শতভাগ। বল সিলেকশন ভালো করার চেষ্টা করছি।” তবে নিজের সহজাত ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আপোস করতে চান না খুব একটা। তার এশিয়া কাপ দলে থাকায় বড় ভূমিকা আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩২ বলে ৬১ রানের ইনিংসটির। ওয়ানডেতেও শুরুটায় থাকতে চান এমন আগ্রাসী। “একেক জন ব্যাটসম্যানের খেলার ধরন একেক রকম। আমার খেলার ধরনটিও এমন যে আমি আক্রমণাত্মক খেলতে পছন্দ করি। আমার ধারাবাহিকতা এভাবেই চলবে। আমি এভাবেই ইনিংস শুরু করতে চাই।”

দুই যুগ পর একসঙ্গে সঞ্জয়-মাধুরী

বিনোদন বাজার ॥ প্রায় ২১ বছর পর একসঙ্গে বড়পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা জুটি সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিত। সম্প্রতি ‘কলঙ্ক’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন নব্বই দশকের এই আলোচিত জুটি।গত সপ্তাহে মুম্বাইতে অভিষেক বর্মণ পরিচালিত সিনেমাটির শুটিং হয়েছে। ‘কলঙ্ক’র একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেন, সঞ্জয় ও মাধুরী একসঙ্গে তিন দিন শুটিং করেছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন বরুণ ধাওয়ান ও আলিয়া ভাট।সূত্রটি আরো জানায়, কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই সঞ্জয়-মাধুরী একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে সুন্দরভাবে অভিনয় করে গেছেন।আগামী ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর মাধুরী একই সিনেমার একটি গানের শুটিংয়ে অংশ নেবেন। এতে নাচের কোরিওগ্রাফি করবেন সজুর খান ও রেমো ডি’সুজা।চলতি মাসেই সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ সব দৃশ্যের শুটিং শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পরিচালক চাইছেন নভেম্বরের মধ্যে সিনেমাটির কাজ শেষ করতে।১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আফজাল খান পরিচালিত ‘মহানটা’ সিনেমা দিয়ে শেষবার পর্দায় উপস্থিত হয়েছিলেন সঞ্জয়-মাধুরী জুটি।

মন ভালো নেই আনুশকার

বিনোদন বাজার ॥ সেপ্টেম্বরেই মুক্তি পেতে চলেছে বলিউডের অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা ও বরুণ ধাওয়ানের ছবি ‘সুই ধাগা’। ছবিটির ট্রেলর ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে ভক্তদের মাঝে। তবু মন ভালো নেই আনুশকার। স্বামী বিরাটকে মিস করছেন তিনি।জয়পুরে ‘সুই ধাগা’ ছবির প্রোমোশনে গিয়ে স্বামী বিরাটের জন্য তার মন খারাপের কথা জানালেন নায়িকা আনুশকা।‘সুই ধাগা’-এর প্রচারে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ছবির নায়ক-নায়িকা। জয়পুর বিবেকানন্দ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিতে এ প্রমোশনের আয়োজন করা হয়।ছবির মিউজিক লঞ্চের আগে আনুশকা এই ইউনিভার্সিটিতে গেলে তাকে দেখেই বিরাট কোহলির ভক্তরা বিরাটের নাম ধরে উল্লাস করতে থাকে।স্বামী বিরাটের ভক্তদের দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন আনুশকা। ছাত্রছাত্রীদের উল্লাসের মধ্যেই আনুশকা বলেন, ‘সবাই তাকে খুব ভালোবাসে, আমিও…, সবার মতো আমিও তাকে খুব মিস করি!’আনুশকার মুখে এই কথা শোনামাত্রই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সবাই।বর্তমানে টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। সেখানে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরাট। নিজেদের কাজের সূত্রে দীর্ঘদিন তারা একে অন্যের থেকে দূরে রয়েছেন।

কালুখালীতে উপজেলা পর্যায়ে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন ফুটবল প্রতিযোগীতা শুরু

ফজলুল হক ॥ গতকাল বুধবার রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলাতে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদরাসা ক্রীড়া সমিতি কালুখালীর আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন ফুটবল প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। বেলা ১টায় রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস, কালুখালী থানা এসআই মোঃ সহিদুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম, রাইপুর কেএসএম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, সূর্য্যদিয়া মদাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ জলিল, রতনদিয়া ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম শাহ আজিজ এছাড়াও ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ বাবর আলী, আকরাম হোসেন মুরাদ ও মোখলেছুর রহমান সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিনে ৪টি জোনের মধ্যকার খেলায়  বেলা ১টায় সূর্য্যদিয়া মদাপুর উচ্চ বিদ্যালয় বনাম বিকয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২-১ গোলে সূর্য্যদিয়া মদাপুর উচ্চ বিদ্যালয় বিজয় অর্জন করে। অপরদিকে ২য় খেলায় রাইপুর কেএসএম একাডেমী বনাম খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যকার খেলায় ২-০ গোলে রাইপুর কেএসএম একাডেমী বিজয় অর্জন করে।

গান ও চলচ্চিত্র নিয়ে শাহরিন হকের বহুমুখী ব্যস্ততা

বিনোদন বাজার ॥ শাহরিন জে হক। গান করার পাশাপাশি একাধারে সুর ও কথা লেখেন তিনি। সম্প্রতি তার দুটি গান ইউটিউবে রিলিজ দিয়েছেন তিনি। এরমধ্যে ‘বাবা’ শিরোনামে গানটির মধ্য দিয়ে বেশ সাড়া পেয়েছেন শাহরিন। এছাড়াও মাহমুদ উন নবীর ‘তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো’ গানটির কাভার করেছেন তিনি। গানটির মিউজিক ভিডিও করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এছাড়াও আরো বেশকিছু নতুন গান নিয়ে চলছে শাহরিনের ব্যস্ততা। গানের পাশাপাশি নিয়মিত কবিতা লেখেন শাহরিন। সম্প্রতি কলকাতার একটি প্রতিযোগিতায় নিজের কবিতা আবৃত্তি করে পুরস্কারও অর্জন করেন। মূলত পেশায় একজন ইন্টেরিউর ডিজাইনার শাহরিন। শখের বসে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচরণ তার। এ প্রসঙ্গে শাহরিন বলেন, ‘লেখালেখির অভ্যাসটা অনেকদিন থেকে। ভালোলাগা থেকে কবিতা লিখি। পাশাপাশি গান ও গল্প। যেহেতু পেশা হিসেবে এই জায়গাটায় আমি বিচরণ করি না। তাই নিয়মিত কাজ ও খুব বেশি কাজ করা হয় না। তবে এখন পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছি সেগুলোর সাড়া বেশ ভালো। আমার কাজ যখন মানুষের ভালো লাগে, সেটিই আমার অনুপ্রেরণা।’ গান বা কবিতার পর শাহরিন বর্তমানে পরিকল্পনা করছেন চলচ্চিত্র নিয়ে। চলচ্চিত্রটি গল্প এরইমধ্যে প্রস্তুত। যেটি লিখেছেন শাহরিন নিজেই। এখন তার পরিকল্পনা ছবিটি পরিচালনাও তিনি করতে চান। সেই প্রস্তুতি এরইমধ্যে চলছে। সবকিছু গোছানো হলেই ছবিটি বিস্তারিত গণমাধ্যমে বলবেন তিনি।