ভুটানকে হারিয়ে সাফ শুরু বাংলাদেশের

ঢাকা অফিস ॥ ভুটানকে হারিয়ে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শুভসূচনা করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার ‘এ’ গ্র“পে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে বাংলাদেশ। এই জয়ে ২০১৬ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ওঠার প্লে-অফে ভুটানের কাছে ৩-১ গোলে হারের প্রতিশোধও নিল দল। সাফে ভুটানের ওপর আধিপত্যও ধরে রাখল বাংলাদেশ। এ নিয়ে ছয়বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয় ৫টি, অন্যটি ড্র। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে শ্রীলঙ্কাকে ৪-২ গোলে হারানোর পর এই প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ। কিক অফের পর প্রথম আক্রমণেই কর্ণার পায় বাংলাদেশ। ওয়ালী ফয়সালের কর্নারে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় সাদউদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তৃতীয় মিনিটে তপুর সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সপ্তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত। মাশুক মিয়া জনির বাড়ানো বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা সুফিল ঠিকঠাক চিপ করতে পারেননি। বল গোলরক্ষকের গায়ে লাগে। অষ্টাদশ মিনিটে মিনা ওয়াংদির হেড জমে যায় শহীদুল আলম সোহেলের গ্লাভসে। ২৫তম মিনিটে ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশার ভুলে ডি-বক্সের ভেতরে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন চেনচো গাইয়েলতসেন। ভুটানের এই ফরোয়ার্ডের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। একটু পর বিপলু আহমেদের প্রচেষ্টাও হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। বাঁ দিক দিয়ে সুফিল বল নিয়ে আক্রমণে ওঠেন। তার থেকে পাওয়া বলে বিপলুর শট ফিস্ট করে ফেরান গোলরক্ষক। একটু পর কর্নারে আতিকুর রহমান ফাহাদের হেড ঠিকানা খুঁজে পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফরোয়ার্ড চেনচোকে তুলে নিয়ে মিডফিল্ডার চিমি দর্জিকে নামান ভুটান কোচ ট্রেভর মরগ্যান। ৪৭তম মিনিটে দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুফিল। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বলে এই ফরোয়ার্ডের ভলি চোখের পলকে জালে জড়ায়। ১০ মিনিট পর জামাল ভুইয়ার শট হেডে ফেরাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়াতে বসেছিলেন ভুটানের এক খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সে যাত্রায় কোনো বিপদ হয়নি। বাকিটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জেমি ডের দল।

খুলনা-৪ আসনে উপনির্বাচন

সালাম মুর্শেদী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত

ঢাকা অফিস ॥ খুলনা-৪ আসনের (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ফুটবলার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সালাম মুর্শেদীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। ওই আসনের উপনির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। যদি একক প্রার্থী থাকেন, তাহলে পরদিন অর্থাৎ আজ বুধবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার কথা ছিল। জানতে চাইলে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, যেহেতু আর কোনো প্রার্থী ছিল না, তাই নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী এক দিন আগেই সালাম মুর্শেদীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের সব কাগজপত্রও নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়মের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। সালাম মুর্শেদীর বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলায়। তিনি বাংলাদেশে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইএবি) সভাপতি, এনভয় গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগ খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে শূন্য ঘোষিত খুলনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। ওই উপনির্বাচনে অংশ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুস সালাম মুর্শেদী, জাতীয় পার্টির এস এম আনিসুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ হাবিবুর রহমান। দিন শেষে সালাম মুর্শেদী ছাড়া আর কেউই মনোনয়ন পত্র জমা দেননি। সালাম মুর্শেদী কখনোই খুলনার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তবে গত ৩ মার্চ খুলনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে খুলনাবাসীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর থেকেই সবাই ধরেই নিয়েছিলেন সালাম মুর্শেদী আওয়ামী লীগের হয়ে খুলনার যেকোনো আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন।

আলোকচিত্রী শহিদুলের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত হাই কোর্ট বেঞ্চ

ঢাকা অফিস ॥ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত বোধ করেছে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, আদালত বিষটি শুনতে বিব্রত বোধ করছে। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন, শাহদিন মালিক ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। পরে সারা হোসেন বলেন, “আমি জানতে চেয়েছিলাম, বিষয়টি কয়েকদিন কার্যতালিকায় থাকার পর আজ কেন বিব্রত বোধ করছেন? আদালত বিব্রত বোধ করার কারণ বলেননি। এভাবে বিব্রত বোধ করা সত্যিই অস্বাভাবিক।” তিনি বলেন, “আমরা আজ আদালতের কাছে বলেছি, আমাদের যে জামিন আবেদনটি আছে সেটি শুনানি করা হোক। সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। আমরা শুনানির সুযোগ চাই। এটা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। আমরা কারণ জানতে চেয়েছি কেন আমাদের আবেদন শোনা হবে না। পাঁচদিন ধরে আমাদের আবেদনটি কার্যতালিকায় রয়েছে। কোনো না কোনো কারণে শুনানি করা যায়নি। এক পর্যায়ে আমাদের বলা হল, বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা তখন আদালতে বলেছি, বাস্তবতা কি এটাই যে, একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো যাবে, তাকে আটকে রাখা হবে। তার জামিন চাইতেই দেওয়া হবে না, এটাই কি আমাদের বাস্তবতা?” এই আইনজীবী বলেন, “আমি জানি সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকারের সুরক্ষা পেতে এই আদালতে আসতে হবে। এখানে আসার পর যদি ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে কোথায় যাব সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।” এখন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য নতুন একটি বেঞ্চে পাঠাবেন। নতুন বেঞ্চে যেন দ্রুত শুনানি হয় সে জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হবে বলে জানান সারা হোসেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৫ আগস্ট রাতে পুলিশ দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে ‘উসকানিমূলক ও মিথ্যা’ অপপ্রচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এ মামলা করে পুলিশ। ঢাকার হাকিম আদালত শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ করে দিলে তার আইনজীবীরা ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে যান। বিচারক আবেদনটি ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য রাখলে তারা শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার জন্য আরেকটি আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক তা গ্রহণ না করলে ২৬ আগস্ট শহিদুল আলমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে ওই আদালতেই ফের আবেদন করা হয়। আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ না করায় গত ২৮ আগস্ট শহিদুলের জামিন আবেদন নিয়ে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে আসেন। কয়েক দিন আটকে থাকার পর সোমবার আবেদনটি বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চের কার্য তালিকায় আসে। কিন্তু ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় সময়ের আবেদন করে আদালতকে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই এ শুনানিতে থাকতে চান। এরপর আদালত বিষয়টি মঙ্গলবার শুনানির জন্য রাখে। কিন্তু মঙ্গলবার আদালত বিব্রত বোধ করায় শহিদুলের জামিন শুনানি আরও পিছিয়ে গেল।

 

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার

হেলমেট না থাকলে তেল নয় মটর সাইকেলে

ঢাকা অফিস ॥ কোনো মটরসাইকেল চালকের হেলমেট না থাকলে তার গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সেপ্টেম্বর জুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে প্রত্যেক পেট্রোল পাম্পকে অনুরোধ করেছি যে হেলমেট পরিধান করা না থাকলে কোন মটর সাইকেলে যাতে জ্বালানি সরবরাহ না করে। এটা ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরে চালু হয়েছে। হেলমেট না থাকলে ট্রাফিক আইন না মানলে কোনো পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।” সেপ্টেম্বর জুড়ে ঢাকা মহানগরীতে বিশেষ ট্রাফিক কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এই কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আমাদের লক্ষ্য হলো, ট্রাফিকের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং যানজট কমানো এবং সকলে যেন আইন মেনে চলে সেবিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা। এই একমাসে বিভিন্ন সুধী সমাজকে নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করব। এই কাজে পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউট থাকবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, প্রতি পালায় ৩২২ জন রোভার স্কাউট সদস্য থাকবেন।” গত দেড় বছরের ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজার মামলা হয়েছে। গত একবছরে ভিডিও দেখে ঢাকা মহানগরে ৯৯ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কমিশনার। ঢাকা মহানগরের ১২১টি বাস স্টপেজ চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সব স্টপেজে সাইনবোর্ড লাগানোর কাজ চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ হবে। “ সেখানে সেখানে বাস যাতে না থামায় সেটা আমি নিশ্চিত করব।” ট্রাফিক সুবিধা নেওয়ার জন্য অনুপযুক্ত যেসব গাড়িতে ফ্লাগ স্ট্যান্ড লাগানো হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।  সেপ্টেম্বর থেকে জাহাঙ্গীর গেইট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মডেল করিডোর চালু করা হবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, “ সেখানে অটো সিগনালের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে এবং সব ধরনের শৃঙ্খলা ও নিয়ম প্রতিপালনের মধ্যদিয়ে এই মডেল করিডোর করা হবে।” পরে আস্তে আস্তে পরবর্তী মাস থেকে এটা অন্যান্য সড়কেও চালু করা হবে বলে তিনি জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরের বাসগুলোকে ৬টি কোম্পানির মাধ্যমে চালানোর ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মূখ্য সচিবসহ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ভৌত অবকাঠামোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হযেছে।

কালুখালীতে কয়েকশত বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে উপজেলার ১নং রতনদিয়া ইউপির চর এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। রাজবাড়ী সেনা ক্যাম্প নামক পিলার হতে সোয়া কিলোমিটার এসবিবি ইটের রাস্তার কিছু অংশ ও সাদার বাজার সম্পুর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও লস্করদিয়া নারায়নপুর গ্রামের কয়েকশত বাড়ীঘর নদীভাঙ্গনের কবলে বিলীন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পরিদর্শন করেন কালুখালী উপজেলা প্রকৌশলী ননী গোপাল দাস ও উপ সহকারী প্রকৌশলী আজাদুর রহমান। বিগত ২ বছর আগে রাজবাড়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য চর এলাকায় ৩৫শত ১৪ একর জমির মধ্যে ১৪ শত একর অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এবং যাতায়াতের জন্য ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার এসবিবি রাস্তা মেরামত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই রাস্তার বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে এবং বাকি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ঐ ইট অন্যত্র সরিয়ে আনার জন্য উপ সহকারী প্রকৌশলী এসএম আজাদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। এসময় রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান হিটু, সাবেক ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম, সাবু ও কুদ্দুস সহ চর এলাকার অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন। সাদার বাজারের কালের স্বাক্ষী শতবছরের বট গাছটি গতকাল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি এলাকাবাসীর সাথে ইউপি চেয়ারম্যান অবলোকন করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন রাজবাড়ী জেলার মধ্যে কালুখালী উপজেলার ১নং রতনদিয়া ইউনিয়নে চর এলাকায় ২০/২২ হাজার লোকের বসবাস। ইতিমধ্যেই কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীণ হওয়ায় ঐ গ্রামের মানুষেরা অসহায় জীবন যাপণ করছে। যেভাবে নদীভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে সরকারী ভাবে পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা দেখা দেবে। এছাড়াও তিনি বলেন বর্তমানে এই অসহায় মানুষের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ত্রানের ব্যবস্থা করলে তারা উপকৃত হবে। এ ব্যাপারে কালুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, পাংশা হাবাসপুর উজান পয়েন্টে ডিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে নদীতে ড্রেসিং করে পাবনার অংশ বালু ফেলার  কারণে এ ভাঙ্গণের সৃষ্টি হচ্ছে। অতিসত্তর সরকারীভাবে এর প্রতিকারের পদক্ষেপ না নিলে কালুখালীর ১০টা মৌজা এবং প্রস্তাবিত রাজবাড়ী সেনানিবাসের সম্পুর্ন জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। যার ভয়াবহতা কালুখালী উপজেলায় আঘাত আনবে।

দৌলতপুরে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা লিফলেট বিতরণ করলেন ড. মোফাজ্জেল হক

নিজ সংবাদ ॥ দৌলতপুরের সাধারণ জনগণের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের বার্তা লিফলেট বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ খুলনা বিভাগীয় শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. মোফাজ্জেল হক। ড. মোফাজ্জেল হক গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বড়গাংদিয়া, রেফায়েতপুর, আল্লারদর্গাসহ দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকার  সাধারণ জনগণের মাঝে “যে কারণে দরকার শেখ হাসিনার সরকার” শিরোনামে সরকারের উন্নয়নের বার্তা লিফলেট বিতরণ করেন। উন্নয়নের বার্তা লিফলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শিক্ষা খাত, পদ্মা সেতু তৈরী, বাজেট, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরা হয়।

এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক জহুরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দিন, আব্দুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাঁর সাথে ছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ওই সময়ে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা। পরে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার পাশাপাশি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ধরে রাখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। ৯ বছর একটানা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম আওয়ামী লীগ সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের  দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ  থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে গড়ে তোলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। দেশে ১৩ কোটি  মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরুণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭  কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার  কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক চার-আট বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে  রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির অর্জিত হয়েছে।

১৯৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি আমলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ যখন দায়িত্ব ছাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি’র সময় মূল্যস্ফীতি আবার ৭ দশমিক এক-ছয় শতাংশে পৌঁছে। ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যষ্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে। বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সাথে ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য   কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার। এ সময়ে ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হয়। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ, কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ  প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে। গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। দেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে সরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ। সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার।

 

গাংনী পৌর কৃষকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী পৌর কৃষকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন,গাংনী পৌর কৃষকলীগের  আহবায়ক ও গাংনী পৌরসভার কাউন্সিলর বদরুল আলম বুদু। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন-মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন দোদুল। সম্মেলনে উদ্বোধক হিসাবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মাহাবুব-উল-আলম শান্তি। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। মেহেরপুর জেলা কৃষকলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান পলাশের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ। এ সময় বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, গাংনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আ.লীগ নেতা আহম্মদ আলী, কুষ্টিয়া জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক এম মোমিন মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষকলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কবির, মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট মিয়াজান আলী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সালাম। এ সময় বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আ.লীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও তাঁতীলীগের নেতৃবন্দ। সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ধানখোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওবাইদুর রহমান। পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিবৃন্দ। পতাকা উত্তোলন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে  দেবার লক্ষে মেহেরপুর জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন-এর লেখা ১৫ মিনিটের একটি গান উপস্থাপনা করা হয়। সবশেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইবি ভিসি’র শোক

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এক শোকবার্তায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমানের পিতা মহিউদ্দিন মোল্লার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত  কামনা  এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও পৃথক-পৃথক শোকবার্তায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমানের পিতা মহিউদ্দিন মোল্লার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। তাঁরাও মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমানের পিতা  মহিউদ্দিন মোল্লা  গতকাল সোমবার রাত ১১টায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও  ছেলেসহ  অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বাদ জোহর ঝিনাইদহ জেলার  হরিনাকুন্ড থানার ভায়না গ্রামে নামাযে জানাযা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া অপর এক শোকবার্তায়  রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস.এম আব্দুল লতিফ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমানের পিতা মহিউদ্দিন মোল্লার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। অপর এক বিবৃতিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমানের পিতা  মহিউদ্দিন মোল্লার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সমিতি। সমিতি সভাপতি সামছুল ইসলাম  জোহা ও সাধারন সম্পাদক মীর মর্শেদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত  কামনা  এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত-৫

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামে শরিকানা জমি দখল নিয়ে দু’ভাইয়ের লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর হলেন-হাড়াভাঙ্গা গ্রামের শেখপাড়ার হারুন-অর রশীদ (৫৫) তার বড় ছেলে সোহেল রানা, ওই গ্রামের খাত্তাব আলী (৫০),মহিউদ্দীন (৫৭)। স্থানীয়রা আহত হারুন-অর-রশীদ ও খাত্তাব আলীকে উদ্ধার গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে আহত সোহেল রানার চোখে কোপ লাগায় তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় কিচিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাড়াভাঙ্গা গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান,হাড়াভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা হারুন-অর-রশীদ ও মহিউদ্দীন তারা দু’ভাই। কয়েক বছর ধরে তাদের মধ্যে শরিকানা জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল।  গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হারুন-অর-রশীদ দ্বন্দ্বকৃত জমিতে কলাই বপন করতে গিয়েছিলেন। এ সময় খবর পেয়ে তার ভাই মহিউদ্দীন বাঁধা সৃষ্টি করেন। এনিয়ে দু’ভাইয়ের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।

আলমডাঙ্গার কুমারী ইউপি আ’লীগের কর্মী সমাবেশে এমপি ছেলুন

দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজের কাজ করতে হবে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কুমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে এক কর্মীসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। তিনি বলেন দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজের কাজ করতে হবে। প্রতিটা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাড়িয়ে তাদের দুঃখ দুর্দশা দেখতে হবে। সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ কারো নিজেস্ব দল নই। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু আদর্শের দল, তাই দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রশান্ত অধিকারী, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমঙ্গীর হান্নান, মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, এ্যাড. বেলাল হোসেন, জেলা যুবলীগের আহবায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জোহা মল্লিক হাসু, সদস্য হাফিজুর রহমান হাফু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু মুছা, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিক্ষানুরাগী আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মজিবর রহমান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ইন্দ্রজিত দেব শর্মা, সৈয়দ সাজেদুল হক মুনি, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মোহিদ, উপপ্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা তুহিন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আহসান উল্লাহ, জেলা যুবলীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলার মতিয়ার রহমান ফারুন, সাইফুর রহমান পিন্টু, পৌর যুবলীগের সভাপতি আব্দুল গাফ্ফার, সম্পাদক সোনাহার মন্ডল, জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহাবুল হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মেহেদি হাসান হিমেল, কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা আবু সাইদ পিন্টু, কুমারী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি রানা উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান টুটুল, ছাত্রলীগের সভাপতি অটল আলী, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শাহানারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক জাহানারা খাতুন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নয়ন সরকার। এছাড়াও  ১নং ওয়ার্ড সভাপতি শামীম আহমেদ, সম্পাদক জমসেদ আলী, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সম্পাদক শাহীন আলী, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি এমদাদুল হক দোলন, সম্পাদক ঝান্ডা মিয়া, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুর রশীদ, সম্পাদক সাজেদুল হক, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি আইনাল হক, সম্পাদক এনামুল হক ভাদু, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি শুকুর, সম্পাদক ইউনুছ আলী, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল হক, সম্পাদক আশরাফুল হক, ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি দাউদ আলী, সম্পাদক আজাদ আলী প্রমুখ।

ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে ১০ বিএনপি-জামায়াত নেতকর্মীসহ ৫১ জন গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীসহ ৫১ জন গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, রাতভর জেলার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস, নাশকতা ও মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়। এসময় সদর থেকে ২ বিএনপি, শৈলকুপায় থেকে ৫, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর থেকে ৩ জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এছাড়াও অন্যান্য মামলায় ৬ উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয় আরও ৪১ জনকে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

নন্দ উসবের মধ্যদিয়ে ইসকন কুষ্টিয়ার ৩ দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপনী

নিজ সংবাদ ॥ নন্দ উৎসবের মধ্যদিয়ে ইসকন কুষ্টিয়ার আয়োজনে ৩ দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব তিথী উপলক্ষে, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) কুষ্টিয়ার আয়োজনে, কুষ্টিয়া শহরের আড়য়াপাড়াস্থ শ্রীশ্রী রাধা শ্যাম সুন্দর ও জগন্নাথ মন্দিরে ৩ দিনব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে নন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নন্দ উৎসব শেষে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। এ সময় শ্রীশ্রী রাধা শ্যাম সুন্দর ও জগন্নাথ মন্দির (ইসকন) কুষ্টিয়ার  অধ্যক্ষ বৈষ্ণবানন্দ কৃষ্ণ দাস ব্রক্ষচারী সহ শত শত ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নন্দ উৎসবের মধ্যদিয়ে ইসকন কুষ্টিয়ার আয়োজনে ৩ দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়।

হরিণাকুন্ডুতে হত্যা মামলায় ৪ জন গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার মান্দিয়া গ্রামে ক্যানেলের পাশে তোয়াজ উদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের জামাই আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামী করে হরিণাকুন্ডু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।  গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নিহত তোয়াজ উদ্দিনের ২য় স্ত্রী কুটিলা বেগম (৪০), রঘুনাথপুর গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে লিটন হোসেন (৩০), মান্দিয়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে ঠান্ডু লস্কর (৩৪) ও আনজের আলীর ছেলে ইসরাফিল ওরফে সম্রাট।  ঝিনাইদহের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) তারেক আল মেহেদি জানান, রাতে ক্যানেলের পাশে মাছ ধরছিল তোয়াজ উদ্দিন। এ সময় তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় নিহতের জামাই আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামী করে হরিণাকুন্ডু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত একটি রক্ত মাখা দা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, একই স্থানে তিন বছর আগে সর্বহারা গ্র“পের হক আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর মাটিতে পুতে রাখা হয়েছিল। সেই মামলার ২ নম্বর আসামী ছিল এই তোয়াজ উদ্দিন। উলে¬খ্যঃ সোমবার (৩সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মান্দিয়া গ্রামে ক্যানেলের পাশে রাত ১১ টার দিকে তোয়াজ উদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত তোয়াজ উদ্দিন উপজেলার কালাপাহাড়িয়া আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা ও দরাপ মন্ডলের ছেলে।

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে শহিদুজ্জামান (৩০) নামের এক হাজতি নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কারাগারের নবগঙ্গা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শহিদুজ্জামান জানান, ৪ মাস আগে মাদক মামলায় ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে আসেন তিনি। এরপর থেকে কারাগারের অন্যান্য আসামীরা তার সাথে খারাপ ব্যবহার ও কটুক্তি করে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুরে বে¬ড দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এসময় কারাকর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা: ফাল্গুনী রানী সাহা জানান, শহিদুজ্জামান অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।

সুমাইয়া স্কুলে গেলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় আর আসতে হবে না

ছাতিয়ানে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রেমিকের প্রতারনার কারনে গলাই ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করা স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া’র আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় আটিগ্রাম মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে সুমাইয়ার বাবা শফিকুল ইসলাম ও মা বিলকিস বানু সন্তানের আত্মহত্যা প্ররোচনাকারী জমজম আলী ও তার পিতা আব্দুল্লাহ’র ফাঁসির দাবী জানান। সেই সাথে আর কোন সুমাইয়াকে যাতে হারাতে না হয় সেজন্য আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবী করে সাধারন শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠিরা। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাম্মদ খেলাফত হোসেন, ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এম এ মমিন মল্লিক, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল হালিম, আহসান উল্লাহ, সহকারী প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক, সহকারী শিক্ষক আব্দুল আলিম, মামুন-অর-রশিদ, আনিছুর রহমান, শাহাবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম,  শিল্পী খাতুন, রুমানা খাতুন, আটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নিলুফা ইয়াসমিন, কামরুল ইসলাম প্রমুখ। গত শনিবার সন্ধ্যায় গলাই ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে সুমাইয়া খাতুন। পরেরদিন রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে। নিহত সুমাইয়া মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। নিহত সুমাইয়ার মা বিলকিস খাতুন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখায় জমজম। পরে আর বিয়ে করতে রাজি হয়নি। সে আমার মেয়েকে ফোন দিয়ে বলে তার কাছে ছবি আছে যা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে। কোন স্কুলেই তাকে ভর্তি নেবে না। সমাজেও মুখ দেখাতে পারবে না। এজন্য সে শনিবার সন্ধ্যায় ওড়না পেচিয়ে মারা যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। সুমাইয়ার বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, আমার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ছেলেটি বড়। সুমাইয়া ছোট হওয়ায় একটু বেশিই আদরের। কিন্তু বখাটে শাহরিয়ার আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না। তার অশোভন আচরণের কারণেই মেয়ে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, সুমাইয়া পড়ালেখায় বেশ ভাল। তাতে আগ্রহও বেশি। অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে সুমাইয়া মানষিকভাবে কিছুদিন ভেঙে পড়েছিল। তাই সপ্তাহখানেক সে স্কুলে যেতে পারেনি। পরে সুমাইয়া স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে সাফ জানিয়ে দেয় তাকে আর স্কুলে আসতে হবে না। এতে আমার মেয়ে সুমাইয়া আরো  ভেঙে পড়ে। আর নানা কারণেই  মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মেয়ের এমন করুণ মৃত্যুর জন্য শাহরিয়ার ও তার পরিবারকে দায়ী করেন তিনি। আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান, আমি বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক জানি না। তবে স্কুল থেকে কেন বের করা দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষক জানে। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই সুমাইয়া স্কুলে আসে না। আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাম্মদ খেলাফত হোসেনের মুঠোফোনে জানান, আমরা তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়নি। ঐ স্কুল শিক্ষার্থীর শোকে তার পরিবারের লোকজন পাগল হয়ে গেছে। এজন্য ভুল তথ্য দিচ্ছে সুমাইয়ার বাবা। মিরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) লাল চাঁদ জানান, কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম. আ রহিম’র ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী ৭ সেপ্টেম্বর

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম.আ রহিম’র ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য পারিবারিক উদ্যোগে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাদ আসর কুষ্টিয়া শহরস্থ আড়–য়াপাড়া ছাখাবী মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজান করা হয়েছে। উক্ত মিলাদ মাহ্ফিলে উপস্থিত থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য পৌরবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্যক্তি জীবনে অমায়িক সজ্জন ও সদালাপী ম. আ রহিম ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জন নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি তিনি কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক জেহের আলী মন্ডল ও ময়জান নেছার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি সমাজ সেবামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে সক্ষম হন। পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি মোহিনী মিল রঙ্গমঞ্চ ও পরিমল থিয়েটারের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু নাটকেও তিনি সফলভাবে অভিনয় করেন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি “পাকিস্তান যাদুকর পরিষদ” এর রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি ছিলেন (কুষ্টিয়া তখন রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ছিল)। সে সময় পাকিস্তানের খ্যাতনামা যাদুশিল্পী আলাদীনের ছাত্র হিসাবে তিনি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মঞ্চে ম্যাজিক প্রদর্শন করেন। ১৯৬০-৬১ সময়ে তিনি পাঠাগার, সাংস্কৃতি ও সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে “মিতালী পরিষদ” প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া ট্রান্সপোর্ট সিন্ডিকেট এর সাধারণ স¤পাদক এবং ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিসি-র খুলনা বিভাগীয় পাবলিক ডাইরেক্টর ছিলেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি একাধিক মেয়াদে পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনারে ছিলেন। এছাড়াও ১৯৬৪’র ফেব্র“য়ারি থেকে ১৯৭১ এর মার্চ পর্যন্ত তিনি মিলপাড়া ওয়ার্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং দুই দফায় ১৯৭৪ থেকে ১৯৮২ পর্যন্তকুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকার পি.জি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র, দুই কন্যা রেখে যান। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র  মোঃ আখতারুজ্জামান ব্যবসায়ী ও পরিচালক, দি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং মন্ডল ফিলিং স্টেশন এর মালিক। কনিষ্ট পুত্র হাসান জামান লালন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস ছিলেন এবং তিনি ১৯৯৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের দার্জিলিংয়ের এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর সাবেক পরিচালক মোঃ রাকিবুজ্জামান সেতুর দাদা।

 

আজ কুষ্টিয়ার বংশীতলা যুদ্ধ দিবস

এবারো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি শহীদ মোবারক আলী

আরিফ মেহমুদ ॥ আজ ৫ সেপ্টেম্বর বুধবার। কুষ্টিয়ার বংশীতলা সম্মুখ যুদ্ধ দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরত্বে গাঁথা এক ইতিহাসের দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বংশীতলায় পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। জীবনের মায়া ত্যাগ করে মা মাটি ও দেশের মানুষকে সেদিন মুক্ত করতে কুষ্টিয়ার দামাল ছেলেরা লড়েছিল চির শক্র পাকবাহিনীর সাথে। কয়েক ঘন্টা ধরে চলে পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমনের মুখে পাকহানাদাররা তাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়েও অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়। বংশীতলার এ যুদ্ধে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, ৮ জনের লাশের দাফন স্থানীয়রা করেন দূর্বাচারাসহ বিভিন্ন জায়গায়। ৩ জনের লাশ নিয়ে যায় পাকহানাদাররা। পর দিন আরো ২ জনের লাশ পাওয়া যায় এখানকার মাঠের জঙ্গলে। কারো কারো মতে আরো বেশি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও এই যুদ্ধে নিহত শহীদ মোবারক আলী  মোল্লা রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি আজো। অন্য দিকে ১৩ শহীদ পরিবারের তেমন একটা খোঁজ রাখেনি কেউ। নাম মাত্র ভাতা আর বিজয় দিবসে কিছু উপঢোকন ছাড়া কিছুই পায়নি শহীদ পরিবারগুলো। নানানভাবে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে এ যুদ্ধে শহীদদের নিয়ে। যুদ্ধের পরের দিন বংশীতলা  থেকে উদ্ধারকৃত শহীদ মেজবার আলীর লাশ এবং দাফনকৃত কবরের জায়গা দখল নিয়ে হয়েছে নানা নাটকীয়তা। পাকবাহিনীর ভয়ে ও ঝড়-বৃষ্টির কারনে পিয়ারপুর মাঠের মধ্যে দাফন করা কবরটি এক সময় অজ্ঞাত দেখানো হলেও উপযুক্ত দাবীদার না থাকায় কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে শহীদ মেজবার আলীর কবর আবিস্কার কাহিনী। এমন স্বাক্ষ্যই দিয়েছেন লাশ উদ্ধার এবং আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তরকারী শহীদ মোবারক আলী মোল্লার ছেলে লিয়াকত আলী মোল্লা ও কুষ্টিয়া  জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহমেদ। শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্মিত স্মৃতি সৌধে বরাবরই ১১ জনের নামের তালিকা থাকলেও কয়েক বছর আগে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডা কর্তৃক নতুন করে  মেজবার আলী, সুরুজ লাল ও চাঁদ আলী সহ ১৪ জন শহীদের নামের তালিকা ঠাই  পেয়েছে। এজন্য শহীদ পরিবার, যুদ্ধে অংগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহমেদ সহ সকল কমান্ডারকে সাধুবাদ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার ইতিহাসের এই বীরত্বে গাঁথা দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কোন বড় ধরনের কর্মসূচী না থাকলেও স্থানীয়ভাবে শহীদ পরিবারের পক্ষে শহীদ  মোবারক আলী মোল্লার ছেলে আলতাফ হোসেন মোল্লা, জেলা ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ এলাকাবাসী শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও মাগফেরাত কামনা করে প্রতি বছরই এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মৃতিসৌধ চত্বরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করে থাকেন। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বাদ জহুর বংশীতলা স্মৃতিসৌধ চত্বরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।  এতে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

ইতিহাস অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মাচ ভাষণের পর ৬ দফা ও ১১ দফা দাবী আদায়ের সংগ্রামকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে সারা দেশের ন্যায় বৃহত্তর কুষ্টিয়াতেও সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠন করে প্রতিবাদ সভা, মিছিল, অসহযোগ আন্দোলন, প্রতিরোধ যুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিরোধ যুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় (মুজিবনগরে) অস্থায়ী রাজধানী থাকায় এ জেলা প্রতিরোধ যুদ্ধে ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২৫ মার্চ রাতে ২৫০ জন পাক সৈন্য আকষ্মিকভাবে কুষ্টিয়ায় প্রবেশ করে। তারা শহরে প্রবেশ করেই কারফিউ জারী, ধর পাকড়, অত্যাচার, নির্যাতন ও যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়ে ধর্ষণ শুরু করে। এ সংবাদ সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক নেতা, কর্মী জনসাধারণ সবার মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রতিকার ও প্রতিরোধের আগুন জ্বলে ওঠে সবার মধ্যে। এ কারনে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে। এ দলের বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন কুষ্টিয়া সদর থানার দামাল ছেলেরা। কুষ্টিয়া শহরের আশপাশ ছিল এদের গন্তব্যস্থল। ১ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে কুষ্টিয়া সদর থানার বৃত্তিপাড়া হতে পাক  সৈন্য ও মিলিশিয়া পুলিশ বাহিনীর একটি দল দহকুলা গ্রামের মধ্যে দিয়ে আলামপুর গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলার জন্য আসে। পরদিন অনেক পাক সৈন্য ও মিলিশিয়া পুলিশ আলামপুর গ্রামে আসে। তারা এ গ্রামের অনেক বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয় এবং আলামপুর গ্রামের কয়েকজন সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই ৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর থানার বংশীতলা ও দূর্বাচারা গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা পাক  সৈন্যের হামলা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে খুব সকালে প্রস্তÍুতি গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন স্থানে সুবিধামত জায়গায় অবস্থান নিয়ে পাক সৈন্যের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সকাল ১০ টা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা কোন পাক সৈন্যে দেখতে না পেয়ে তারা মনে করেন আজ আর পাক  সৈন্য আসবে না। তাই তখন মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই যে যার মত নাস্তা খেতে যান এবং কেউ কেউ এদিক সেদিক ঘোরাফেরার মধ্যে ছিলেন। আর এ দলের মুক্তিযোদ্ধা ও লাইট মেশিন গানম্যান আব্দুল কুদ্দুস তার সহকারী সেকেম আলীকে নিয়ে বংশীতলা গ্রামের চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে আমগাছের গুড়ির পাশে অবস্থান নেয়। এমন সময় তারা দেখতে পান যে পাক সৈন্যরা পায়ে হেটে দূর্বাচারার দিকে আসছে। পাক সেনারা যখন আব্দুল কুদ্দুসের খুব কাছাকাছি চলে আসে তখন আব্দুল কুদ্দুস লাইট মেশিনগান দিয়ে তাদের উপর বিরামহীনভাবে ব্রাশ ফায়ার করতে শুরু করে। হটাৎ করে খুব কাছ থেকে পাক সৈন্যের উপর লাইট মেশিন গানের ব্রাশ ফায়ার শুরু হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আক্রমনের সুযোগ পায়নি। রাস্তার দু‘ধারে অথৈ পানি থাকায় অবস্থান নিতে ও পালাতে পারেনি। আব্দুল কুদ্দুসের ব্রাশ ফায়ারে ঘটনাস্থলেই অনেক পাক সৈন্য আহত ও নিহত হয়।

বিরামহীনভাবে গুলিবর্ষণের ফলে লাইট মেশিনগানের ব্যারেল গরম হয়ে ফায়ার বন্ধ হয়ে যায় এবং এ সময়ে পাক সৈন্যের একটি গুলি এসে আব্দুল কুদ্দুসের পায়ে লাগে। এ ফাঁকেই পাক সৈন্যরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। অবস্থা বুঝে আব্দুল কুদ্দুস ও সেকেম আলী পাক সৈন্যের নাগালের বাইরে চলে যায়। এ সময় দূর্বাচারা গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা গোলাগুলির শব্দ শুনে অগ্রসর হয়ে বংশীতলা গ্রামের কাছে চলে যায়। পাক সৈন্যরা বংশীতলা গ্রাম হতে দূর্বাচারা গ্রামের দিকে অগ্রসর হবার প্রাক্কালে মুক্তিযোদ্ধা ও পাক সৈন্যের মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। এখানেও বেশ কিছু পাক সৈন্য আহত ও নিহত হয়। পাকিসত্মান বাহিনী পিছন থেকে তাদের আর্টিলারি গ্র“প ২ ও ৩ মর্টার এবং রকেট ল্যান্সারের গোলা মুক্তিযোদ্ধাদের উপর  নিক্ষেপ করতে শুরু করে এবং বংশীতলায় হতে অনুমান ৩ মাইল দুরে কুষ্টিয়া টেক্সটাইল মিলে স্থাপিত পাক সৈন্যের ক্যাম্প হতেও যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে লক্ষ্যহীনভাবে হেভিগানের গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় দূর্বাচারার মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে পাক সৈন্যের অফিসার ক্যাপ্টেন জামিলকে হত্যা করেন। তাজুল ইসলাম এখান থেকে তার দলের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ফেরার সময় অন্য গোলার মুখে টিকতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পাক সৈন্যও চলে যায়। কয়েক ঘন্টা ধরে যুদ্ধ হয়। বংশীতলার যুদ্ধে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা কম-বেশি আহত হন এবং ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা পাক সৈন্যের হাতে ধরা পড়েন। এ ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের বাড়ী ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানায়। বাকী ২ জনের বাড়ী হরিণাকুন্ড থানায়। বংশীতলার যুদ্ধে পাক সৈন্যের সঙ্গে ১২ জন রাজাকার এসেছিল। তার মধ্যে ৬ জন যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে পালিয়ে যায়। বাকী ৬ জন রাজাকার পাক  সৈন্যের সঙ্গে ক্যাম্পে ফিরে যায়। পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী বংশীতলা যুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে চরম ভাবে পরাজিত হয়। বংশীতলার এ যুদ্ধে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, ৮ জনের লাশের দাফন স্থানীয়রা করেন দূর্বাচারা সহ বিভিন্ন জায়গায়। ৩ জনের লাশ নিয়ে পাকহানাদাররা। পর দিন আরো ২ জনের লাশ পাওয়া যায় এখানকার মাঠে জঙ্গলে। কারো কারো মতে আরো বেশি। শহীদরা হলেন-তাজুল ইসলাম, খোরশেদ আলম দীল, সেখ দিদার আলী (বীরপ্রতিক), ইয়াকুব আলী, গোলাম মোস্তফা রাজ্জাক, চাঁদ আলী মোল্লা,  মোবারক আলী মোল্লা, আব্দুল মান্নান, মিরাজুল ইসলাম, সুরুজ লাল, মেজবার আলী, সাবান আলী ও কিয়ামুদ্দিন। এখানে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা গুরুতর আহত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে দূর্বাচারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়। এখানে তাদের কবর রয়েছে। শহীদদের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে জানিয়েছে, প্রতিবছর বংশীতলা দিবস ও বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের কবরে সম্মান জাননো হয়। বিশেষ দিনেই শহীদরা শ্রদ্ধা পায়, তাছাড়া অন্য কোন সময় তাদের কথা কেউই মনে রাখেনা। শহীদদের পরিবারের লোকজন আক্ষেপ করে বলেন, যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীন দেশ, অথচ তাদের প্রতি অবহেলা আর অবজ্ঞা ছাড়া কিছুই জোটেনা।

মৌলভীবাজারে সুধী সমাবেশে মোহাম্মদ নাসিম

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হবে

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হবে। কোন শক্তি এ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো ফিরে আসবে না। সাহস থাকলে মাঠে আসুন, মাঠে হবে খেলা, মাঠ ছেড়ে পালাবেন না। না হলে খালি মাঠে গোল দেয়া হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ নেই, সে সময় সারা বাংলাদেশে ক্যামেরা থাকবে, সাংবাদিক থাকবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে এবং আগামী নির্বাচনে জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষতায় আনবে। হুইপ মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মতিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান, জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশানআরা মিলি। পরে তিনি বড়লেখা উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আরেকটি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স-এর উদ্বোধন করেন।

আরিফুর রেহমান আলভি পাকিস্তানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট

ঢাকা অফিস ॥ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন আরিফুর রেহমান আলভি। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রার্থী। গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। আলভি ৪৩০ ভোটের মধ্যে পেয়েছেন ২১২ ভোট। ডন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গোপন ব্যালটে এ ভোট গ্রহণ চলে। আলভির পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির আইতজাজ আহসান এবং মুসলিম লীগের (নওয়াজ) সমর্থিত মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমলের প্রধান ফজলুর রেহমান। ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসাইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপরই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন শুরু করবেন ড. আলভি। নির্বাচিত হওয়ার পর আলভি বলেন, ‘আমি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ যে পিটিআই আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে সফল হলাম। আমার ওপর এত বড় দায়িত্ব অর্পণের জন্য আমি ইমরান খানের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’

বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক

দৌলতপুরে নিখোঁজের ৫ মাস পর মানসিক প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ফেরত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিখোঁজের ৫মাস পর শিউলি খাতুন (৪০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যম ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ফেরত দেয় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

বিজিবি সূত্র জানায়, উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন চল্লিশপাড়া গ্রামের দিদারুল ইসলামের স্ত্রী মানসিক প্রতিবন্ধী শিউলি খাতুন গত ৫ এপ্রিল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে বাড়ি সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ওই গৃহবধূ ভারতে চলে যেতে পারে এমন আশংকা করে স্থানীয় বিজিবি পত্র মারফত বিষয়টি বিএসএফকে জানায়। এরই সূত্র ধরে গতকাল সকালে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার জলঙ্গী ক্যাম্পের বিএসএফ একজন মানসিক প্রতিবন্ধী নারী তাদের হেফাজতে থাকার বিষয়টি পত্র মারফত বিজিবিকে জানায়। পত্র পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় চল্লিশপাড়া সীমান্তে অনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই গৃহবধূকে ফেরত দেয় বিএসএফ। ৮৫/১০(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন নোম্যান্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন জলঙ্গী বিএসএফ ক্যাম্পের অধিনায়ক এসি দুলু এবং বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিজিবি ক্যাম্পের অধিনায়ক নায়েক সুবেদার ফজলুর রহমান।

 

আসন্ন অধিবেশনই সরকারের শেষ অধিবেশন ঃ কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনই হবে এই সরকারের শেষ অধিবেশন। এরপর আর কোনো অধিবেশন নেই। তবে সংসদ ভাঙবে না। কিন্তু অধিবেশনও হবে না। সাংসদদের ক্ষমতাও আর থাকবে না। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সভায় বক্তৃতার একপর্যায়ে এই কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আসন্ন শেষ অধিবেশনেই প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনটি পাস হতে পারে বলে আশা করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই অধিবেশনের জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। আইনটি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে উত্থাপন করবেন। এরপর সেটা যাবে সংসদীয় স্থায়ী কমটিতে। কমিটির চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞদের ডাকতে পারেন, পরামর্শ শুনতে পারেন। কাজেই এখনই আইনটি চূড়ান্ত নয়। সংসদে এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আইনটি গ্রহণযোগ্য না হলে এবং বাস্তবায়ন না হলে আইনের সুফল আসবে না বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরীরা আন্দোলন করেছিল বলেই এই আইনটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।