টার্কিতে পরিবর্তিত হচ্ছে ভাগ্য

কৃষি প্রতিবেদক ॥ টার্কি একটি বিশেষায়িত বিদেশি পাখি। উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকায় টার্কির চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ব্যাপক। বাংলাদেশে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ছে। এ দেশের আবহাওয়ার সাথে টার্কি সহজেই নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায়ও টার্কির মাংস বেশ উপযোগী। এর মাংসে চর্বি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে বিশেষ করে ব্রয়লারের বিকল্প হিসেবে টার্কি যথেষ্ট উপাদেয় ও সম্ভাবনাময়। আর্থিক দিক বিবেচনায় টার্কি পালনে খরচও কম। এরা নরম লতাপাতা, ঘাস, সবজি জাতীয় খাবার বেশ উৎসাহের সঙ্গেই খেয়ে থাকে। এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। রাণীক্ষেত, ফাউলপক্সসহ কিছু নির্দিষ্ট রোগের টিকা সময়মতো দিলে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ঝুঁকিও অনেক কম এবং লাভও বেশি। খামারে পালনের পাশাপাশি বাড়িতে অল্প কিছু মুক্ত অবস্থায় ও স্বাচ্ছন্দে পালন করা যায়। বর্তমানে অনেক তরুণই আগ্রহ নিয়ে টার্কির খামার গড়ে তুলেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কেউ কেউ শখের বশে অল্প কিছু বাসায়ও পালন করছেন। এতে অনেক বেকার যুবকের ভাগ্য পরিবর্তিত হচ্ছে। অনেক পরিবার স্বচ্ছলতার ছোঁয়া পেয়েছে। নিতান্তই শখের বশে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের নালী গ্রামের আব্দুল আজিজ খানের ছেলে রেজাউল করিম খান এবং রাকিব খান মিলে গড়ে তুলেছেন একটি টার্কি খামার। পেশায় রেজাউল করিম খান স্কুল শিক্ষক এবং রাকিব খান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। তাদের খামারে এখন ছোট-বড় প্রায় দেড়শ’ টার্কি রয়েছে। আশেপাশের এলাকা থেকে আগ্রহী অনেক মানুষ ভিড় জমায় তাদের খামার দেখতে। তাদের দেখাদেখি অনেকেই নতুন করে টার্কি খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। রেজাউল করিম খান বলেন, ‘টার্কি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আগে থেকেই ছিল। রাকিবের পড়াশোনার সুবাদে সহজেই আমরা খামারটি গড়ে তুলতে পেরেছি। মানসম্মত টার্কির বাচ্চা উৎপাদন ও ফার্মিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নিয়েছি।’ এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজ্জাকুল হায়দার বলেন, ‘আমাদের দেশে ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ছে। তাদের মতো অনেকেই টার্কির খামার গড়ে তুলছেন। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই টার্কি শিল্প দেশে ভালো একটা স্থান পাবে।’

গাংনীতে অস্ত্রসহ হাফ ডজন মামলার আসামী রেজাউল আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে অস্ত্র-গুলিসহ হাফ ডজন মামলার আসামী রেজাউল হক (৫৫) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক রেজাউল গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের চুড়িওয়ালাপাড়ার বদির উদ্দীনের ছেলে। সে এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে রেজাউল হককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। এ সময় তার স্বীকারোক্তিতে ১টি ওয়ান স্যুটারগান,১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গাংনী থানার ওসি  হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) জানান, এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী রেজাউল হককে এদিন বিকেলে পুলিশের একটিদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে নিজ বাড়ি থেকে ১টি ওয়ান স্যুটারগান ও ১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটককৃত রেজাউল হকের নামে গাংনী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলা নং-১,তারিখ-০৩/০৯/১৮ ইং। ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার আরো জানান, আটককৃত রেজাউলের নামে এর আগে বিস্ফোরকসহ অন্তত ৬টি মামলা রয়েছে।

বামনগাড়ীতে সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীজীবিদের ঈদ পূর্ণর্মিলনী

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসার বামনগাড়ীতে  সরকারী ও  বেসরকারী চাকুরীজীবিদের উদ্যোগে বামনগাড়ী এতিমখানা হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে ঈদ পূর্ণর্মিলনী মাদরাসার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তাহাজ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া সিটি কলেজের অধ্যক্ষ  কামারুজ্জামান মন্টুর পরিচালনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাছ আলী । বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদরাসার ক্যাশিয়ার আজিজুর রহমান, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বাবু, চাকুরীজীবি পরিষদের সাধারন সম্পাদক বজলুর রহমান, ডাচবাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন- আমরা যত বড় অফিসার হয় না কেন? এলাকায় আসলে মাথা নিচু করে থাকি সিনিয়র ব্যক্তদের দেখে। তাই গ্রামের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে সব সময়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ শরিফুল ইসলাম, খুলনা প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক , প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত  মেধাবী মুখ সাহাবুল ইসলাম, সমাজ প্রধান আলম মন্ডল, সাদ আহমেদ মন্ডল, মাদরাসার সেক্রেটারী নোমাজ আলী, সাবেক মেম্বর নজরুল ইসলাম নায়েব, শাহাদৎ হোসেন, সিদ্দিক মন্ডল। অতিথি ছিলেন বামনগাড়ী এতিম খানা মাদরাসার সুপার মাওলানা ফরিদউদ্দীন, মিরপুর পৌরসভা মাদরাসার সুপার মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি সমাজসেবক মনিরুল ইসলাম, হালসা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, মাওলানা মুফতি আমানত উল্লাহ, সফল পিতা রমজান আলী, ফজলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ আলী, হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান, গোলাপ আলী, রমজেল হোসেন, আবু বক্কার টেংরা মন্ডল, প্রকৌশলি আহাদ আলী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল হক, শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, ডাক্তার আব্দুল হাই, মোরাদ আলী, সারজুল ইসলাম। পবিত্র কুরআন থেকে তেলোয়াত করেন মাওলানা মুফতি সেকেন্দার আলী।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত

জাবালে নূরের মালিকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জাবালে নূর বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনসহ ৬ জনকে আসামি করে আদালতে এই সপ্তাহে চার্জশিট দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। গতকাল সোমবার দুপুরে মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। আবদুল বাতেন বলেন, ৬ জনকে আসামি করে আদালতে এই সপ্তাহে চার্জশিট দেয়া হবে। আসামিরা হলেন, তিনটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ, জুবায়ের ও সোহাগ, দুই বাস চালকের সহকারী এনায়েত ও রিপন এবং ঘাতক বাসের মালিক নূরের শাহাদাত হোসেন। এই ছয় জনের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন চারজন। দুইজন এখনও পলাতক। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল্লাহপুর-মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের রেষারেষিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও একই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম নিহত হন। এ সময় আরও অনেকে আহত হন। ওই ঘটনায় ওই রাতেই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আলমডাঙ্গায় পুলিশী অভিযানে ৮ জন গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাশকতার অভিযোগে ৮জনকে গ্রেফতার করেছে। গত সোমবার দুপুরের দিকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিনোদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে জামায়াত নেতা আব্দুল জলিল (৬৫), গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ইলাহি বিশ্বাসের ছেলে যুবদল নেতা ফরাদ হোসেন, বলেশ্বরপুর গ্রামের মৃত আব্দুর শুকুর বিশ্বাসের ছেলে আইলহাস ইউনিয়নের বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মিনাজ উদ্দিন বিশ্বাস (৫৪), বলিয়ারপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে যুবদল নেতা রকিবুল (৩৫), মাধবপুর গ্রামের মৃত খেলাফত হোসেনের ছেলে জামায়াত নেতা সানোয়ার হোসেন (৪৮), রাইসা গ্রামের মৃত জোয়াদ আলীর ছেলে জামায়াত নেতা লুৎফর রহমান (৬৮), জামজামি গ্রামের মৃত নুরুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে জামায়াত নেতা আলতাফ হোসেন, ভোদুয়া গ্রামের সাহাদৎ হোসেনের ছেলে বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ (৩৮) কে নাশকতা করার প্রস্তুতি গ্রহণ কালে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল তাদের চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গার বাড়াদি ইউপি আ’লীগের কর্মী সমাবেশে এমপি ছেলুন

তৃণমুল নেতা-কর্মীরাই দলের মূল চালিকা শক্তি

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বাড়াদি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল  সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মীসমাবেশে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীরমুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। তিনি বলেন আমাদের সরকার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড করে চলেছে, বিএনপি জামায়াত কথায় কথায় বলে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে এই দেশ ভারত হয়ে যাবে, কিন্তু আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সমুদ্র বিজয় অর্জন করে ভারতের কাছ থেকে হিস্যা বুঝে নিয়েছে, সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু সকলেই উন্নয়নের কথা বলে। আমাদের সরকার কথা দিলে কথা রাখে, পদ্মা সেতু নির্মাণ চলছে, অচিরেই পদ্মা সেতুর কাজ সমাপ্ত হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পুনরায় নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে, তা’নাহলে সমস্ত অর্জন ভূলণ্ঠিত হবে। তৃণমুল নেতাকর্মীরাই দলের মূল চালিকা শক্তি।  বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি প্রশান্ত অধিকারী, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমঙ্গীর হান্নান, মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কাজী খালেদুর রহমান অরুন, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, শাহ্ আলম, জেলা যুবলীগের আহবায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জোহা মল্লিক হাসু, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু মুছা, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিক্ষানুরাগী আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা ইন্দ্রজিত দেব শর্মা, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মোহিদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আহসান উল্লাহ, পৌর যুবলীগের সভাপতি আব্দুল গাফ্ফার, সম্পাদক সোনাহার মন্ডল, যুবলীগ নেতা মোল্লা জাফর উল্লাহ, ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশাবুল হক, সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাছুম, মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী জাহিদা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসিনা বানু, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নয়ন সরকার। এছাড়াও  ১নং ওয়ার্ড সভাপতি মনিরুজ্জামান বল্টু, সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি নজরুল ইসলাম, সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি রেজাউল হক, সম্পাদক আমছার আলী, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি শরিয়ত উল্লাহ, সম্পাদক শ্যামল, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি শামীম হোসেন, সম্পাদক হেফাজ উদ্দিন, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি সানোয়ার হোসেন, সম্পাদক আতিয়ার হোসেন, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি মসলেম উদ্দিন, সম্পাদক খিজিরুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল হান্নান, সম্পাদক আব্দুল হালিম, হাসিবুল হক ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি আমিন উদ্দিন, সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।

৩৬তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিসকদের যোগদান অনুষ্ঠানে নাসিম

মেসি-নেইমার গোল মিস করলেও শেখ হাসিনা মিস করবেন না

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহম্মদ নাসিম বলেছেন, বিশ্বকাপের মাঠে মেসি-নেইমার গোল মিস করতে পারে কিন্তু নির্বাচনের মাঠে শেখ হাসিনা গোল মিস করবেন না। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে ৩৬তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, খেলার মাঠে যেমন নিয়ম আছে তেমনি নির্বাচনের মাঠেও নিয়ম আছে। ইচ্ছে হলেই সেই নিয়ম বদলানো যাবে না। সেই নিয়ম পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ ভোট দেবে। এবারো যদি মাঠ ফাঁকা থাকে তাহলে আমরা ফাঁকা মাঠেই গোল দেব। বিএনপির এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে নাসিম বলেন, ‘বিএনপির এক নেতা বলেছেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না।’ তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমরা পার পেতে চাই না, আমরা সংবিধান মানি। যা করার সংবিধানের আলোকেই করব। যারা সংবিধান মানেন না তাদের পক্ষেই এসব কথা বলা সম্ভব। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মওদুদ বলেছেন সংবিধান ছাড়াও নির্বচান করা সম্ভব। এ কথা তিনিই বলতে পারেন। কারণ তিনি দেশের একটি দল ছাড়া সব দল করেছেন। তিনি সামরিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ করতে চাই না। কিন্তু যখন গ্রেনেড হামলা হলো তখন বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় ছিল। শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গিয়ে আইভি রহমানসহ ২৪ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে। আর তারা আমাদের সঙ্গে তামাশা করেছে। তদন্তের নামে জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সেই হত্যকা-ের বিচার হয়েছে। বিচারের রায়ে অবশ্যই দোষীরা সাজা পাবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের সেবার জন্য তিন বছর গ্রামে থাকতে হবে। সেই দায়িত্ব নিয়েই গ্রামে যেতে হবে। গ্রামে যেন কারো সমস্যা না হয় সে জন্য প্রত্যেককে নিজ জেলায়, নিজ উপজেলায় পদায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। বিবাহিত হলে স্বামী-স্ত্রীকে একই জায়গায় পদায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। আলোকিত হয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আশা করছি গ্রামে থাকে কারো কোনো সমস্যা হবে না। পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে কোনো চিকিৎসককে যেন নির্যাতনের শিকার হতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ জন্য মানহীন অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বড় আইনজীবী ধরে আদালতের মাধ্যমে তারা ভর্তি কার্যক্রম চালিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে আদালতের ছাড় দেয়া ঠিক নয়। বেসরকারি পর্যায়ে এমন মেডিকেল কলেজও আছে যারা গর্মেন্টেস’র পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন বাড়ানো সম্ভব না হলেও সম্প্রতি ৭৫০টি আসন বাড়ানো হয়েছে। এতে আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। দু’এক মাসের মধ্যে আরও ৭ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জামালউদ্দিন চৌধুরী, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা প্রমুখ। এ সময় জানানো হয়, ৩৬তম বিসিএস-এ নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮০ জন চিকিৎসকের যোগদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ১৪২ জন পুরুষ এবং ৫৬ জন নারী সহকারী সার্জন হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে যোগাদান করবেন। যোগদানের আগে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদফতরে তাদের একটি ওরিয়েন্টেশন কোর্সে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ৩৬ তম বিসিএস’র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় এবং লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালে তাদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে এ নিয়োগ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব তিথী উপলক্ষে ইসকন কুষ্টিয়ার বিভিন্ন আয়োজন

নিজ সংবাদ ॥ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব তিথী উপলক্ষে, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) কুষ্টিয়ার আয়োজনে গতকাল সোমবার কুষ্টিয়া শহরের আড়য়াপাড়াস্থ শ্রীশ্রী রাধা শ্যাম সুন্দর ও জগন্নাথ মন্দিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৫টায় কীর্তন, সন্ধ্যা ৭ টায় সন্ধ্যা আরতি, রাত সাড়ে ৮ টায় শ্রীমদ্ভাগবতগীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহা অভিষেক, অভিষেক অন্তে অনুকল্প ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয়। এর আগে রবিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় শোভাযাত্রা বের করা হয়। এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে নন্দ উৎসব। এ উপলক্ষে শ্রীশ্রী রাধা শ্যাম সুন্দর ও জগন্নাথ মন্দির (ইসকন) কুষ্টিয়ার  অধ্যক্ষ বৈষ্ণবানন্দ কৃষ্ণ দাস ব্রক্ষচারী এবং উৎসব উদ্যাপন কমিটি (ইসকন) কুষ্টিয়ার সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বিকাশ চন্দ্র সাহা সকল ভক্তবৃন্দের স্ব-বান্ধব উপস্থিতি কামনা করেছেন।

তালবাড়ীয়ায় বিশ্রাম বেঞ্চ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

নিয়ামুল হক ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের তালবাড়ীয়া গ্রামের মালিথাপাড়া মোড়ের বিশ্রাম বেঞ্চ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ২৪ আগষ্ট বিকেলে তালবাড়ীয়ার মালিথাপাড়া মোড়ে ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত এ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন জাসদ নেতা তালবাড়ীয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক আরিফুল ইসলাম আরিফ। এ সময় আরিফ বলেন, উন্নয়ন কাজ করতে হলে শুধু টাকা থাকলেই হয় না, সদইচ্ছার প্রয়োজন হয় সুস্থ্য মানষিকতার প্রয়োজন হয়। ইউনিয়নবাসী এলাকাবাসীর সহযোগীতা পেলে এমন উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। উদ্বোধন শেষে গ্রামবাসীর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন চাঁড়–লিয়ার কৃতিসন্তান মওলানা আবু কালাম। এ সময় তালবাড়ীয়া ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বর খাদিমুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ডের হাশেম মেম্বর, সাংবাদিক নিয়ামুল হক, শাহাবুল ইসলাম, আজগর মালিথা,আব্দুর রশিদ মন্ডল, রুমজান মালিথা, বাবু মালিথাসহ সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামী হতে পাটিকাবাড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের পদত্যাগ

হালসা প্রতিনিধি ॥ জামায়াতে ইসলামীর সাথে সকল সম্পর্ক ছেদ করে ইউনিয়ন সেক্রেটারীর পদ হতে পদত্যাগ করেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ। তিনি গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ বাড়ীতে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানের এই পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করে বলেন- গনতান্ত্রিক অধিকারের নামে ধবংসাত্বক জ্বালাও পোড়াও সংগ্রাম করে দেশকে ধবংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার রাজনীতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছি। আমি মনে করি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুস্থ্য রাজনীতির বিকল্প নেই। তাই আমি উপস্থিত স্বাক্ষীর সম্মুখে কোন প্ররোচনায় নয় স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে,স্বপ্রনোদিত হয়ে জামায়াতি ইসলামী দলের উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করলাম এবং এখন  থেকে ওই জামায়াতের রাজনৈতিক ও দলের সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক রইল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।

আমলায় ইয়াবা আটক-১

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে ইয়াবাসহ ইমরান আলী (২৫) নামের এক যুবক আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার বিল-আমলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে আমলা পুলিশ ক্যাম্প। আটককৃত, ইয়াবা ব্যবসায়ী ইমরান উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামের মৃত ইদবার আলীর ছেলে। আমলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তেতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে বিল-আমলার জসিমের বাড়ির সামনে থেকে ১০ পিচ ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়।

এজাহারভুক্ত আসামী শিপন মন্ডল কুষ্টিয়ায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ ঢাকা রমনা থানায় দায়েরকৃত এজাহার ভুক্ত আসামী শিপন মন্ডল কুষ্টিয়ায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার আগে কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই আতিক সঙ্গীয় ফোর্সসহ কুষ্টিয়ার লাহিনী বটতলা মোড় এলাকা থেকে শিপন মন্ডল (৩০) কে গ্রেফতার করে। কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই আতিক শিপন মন্ডলকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানাগেছে, কুষ্টিয়া উত্তর লাহিনী এলাকার আজগর আলী মন্ডলের ছেলে শিপন মন্ডল। সে গত ১৫ জুলাই ঢাকায় তার ফুফাতো ভাই মামুনুর রশিদের বাড়িতে বেড়ানোর জন্য যায় ও ১৯ জুলাই পর্যন্ত অবস্থান করে। অবস্থানকালে শিপন মন্ডল বাসা থেকে ব্যাংক এশিয়া লিঃ শান্তিনগর শাখা, ঢাকা যার হিসাব নং-০৩৫৩৪০০৪৬১৩, চেক নং-এসবি-এএ-৪৭৮৬৯৬৫ ও ৪৭৮৬৯৬৭ স্বাক্ষর ছাড়া ব্লাংক চেক ও নগদ ১৭,০০০/= (সতের হাজার টাকা), ১টি ডেল-কোর-আই-৫ ল্যাপটপ যার মূল্য ৪৭,০০০/= (সাতচল্লিশ হাজার টাকা), ১টি আইরিশ লাভা মোবাইল সেট, যার সিম নং-০১৭৯৬-৬১৯৮৯৮ যার মূল্য ১৭,০০০/= (সতের হাজার টাকা) সর্বমোট চোরাইকৃত মালামালের মূল্য ৮১,০০০/= (একাশি হাজার টাকা)। শিপন মন্ডল মামুনুর রশিদের বাসা থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। এদিকে মামুনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে চেক ২টি দেখিয়ে, আসামী শিপন মন্ডল বলে ১০,০০,০০০/= (দশ লক্ষ টাকা) না দিলে চেক দিয়ে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা দিবে বলে হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় গত ১৪ আগষ্ট মামুনুর রশিদ ঢাকা রমনা মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন।  রমনা মডেল থানার মামলা নং ২৬। তারিখ ১৪ আগষ্ট ২০১৮। ধারা ৩৮০/৫০৬।

বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

গতকাল  দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের মজমপুরস্থ বাসভবনে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক, বীরউত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সিপাহী জনতার বিপ¬বের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শহর, গ্রাম-গঞ্জে উল্কার বেগে ছুটে বেড়িয়ে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে সার্বিক কল্যানের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নিজে সকল লোভ লালসা থেকে মুক্ত হয়ে সততার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ গঠনের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার এ গতিশীল নেতৃত্বকে ভয় পেয়ে দেশী-বিদেশীদের চক্রান্তের মাধ্যমে তিনি শাহাদৎ বরণ করেন। বর্তমান শাসক গোষ্ঠি ভোট ডাকাতির মধ্যেমে ক্ষমতায় এসে হত্যা, গুম, লাখ লাখ বিএনপি নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। দেশটিকে আজ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে। গত ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারীর মতো আরেকটি ভোটার বিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসার জন্য দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। বিএনপিসহ সকল বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে কারাগারে পাঠাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়াতে গত কয়েকদিনে বিনা কারণে শত শত নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। আরো শত শত নেতা কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘর ছাড়া করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিশর্ত মুক্তির দাবী জাআচ্ছি। সেই সাথে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কামনাসহ মানুৃষের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যস্ত আমাদের গণতান্তিক আন্দোলন চলবেই। আলোচনা সভা শেষে দেশের মানুষের সার্বিক অধিকার যাতে ফিরে পায় তার জন্য আল¬াহতায়ালার কাছে মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিএনপি ও তার অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট ২০১৮ অনুষ্ঠানে ফখরুল

সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন করার ইচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই

ঢাকা অফিস ॥ জনগণের রায় নেয়ার কোনো ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যে পথে এগোচ্ছেন, সে পথ একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার পথ। এখানে জনগণের রায় দেয়ার কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। জনগণের রায় নেয়ার কোনো ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে ‘ইয়ুথ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট ২০১৮ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন করার ইচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন করার ইচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই। সামনে নির্বাচন অথচ আজ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনিপর এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গোটা জাতিকে হতাশ করেছে। কারণ দেশের এই ক্রান্তিকালে, বিশেষ করে যখন সামনে নির্বাচন, সেই সময় জনগণের যে অধিকারগুলো নিয়ে প্রশ্ন, সেই অধিকারগুলো আর নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ হয়েছে। তিনি বলেন, আজ জাতি আশা করেছিল, জনগণের, দেশের এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী একটি ইতিবাচক কথা বলবেন। সব দলের সমান সুযোগ সৃষ্টি করে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু সেটি তিনি করতে পারেননি। এটির সম্পূর্ণ ব্যর্থতা সরকারের, এর দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এর আগে ২০১২-১৩ সালেও সরকার সংলাপের দাবি উপেক্ষা করেছিল, পরে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন, জনগণের রায় প্রদান, এসব তো বিএনপির দাবি নয়, জনগণের দাবি। জনগণের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে লড়াই করে যাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব চায়, সেটি জনগণেরই দাবি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশে গণতন্ত্র আছে, এটি কোন গণতন্ত্র? যেখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতন করা হবে, আর সরকারি দল নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাবে? এভাবে তো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, দেশে এখন সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে অবাধ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। সমগ্র জাতির দাবি, সমগ্র দেশের মানুষের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন তো সংবিধান অনুযায়ীই হবে। সংবিধান কে তৈরি করেছে? মানুষের তৈরি এই সংবিধান। এমন তো নয় যে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। ইতিপূর্বে যে সংবিধান ছিল, সেটিও সরকারের তৈরি। সেটিকে সরকার অনেকবার পরিবর্তন করে নিজেদের দলের সুবিধামতো করে নিয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশ সেই দেশ, যেখানে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখকের বই আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা হয়, শহিদুল আলমের মতো লোককে কারাগারে থাকতে হয়, যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। নিজের যৌক্তিক দাবি আদায় করতে গিয়ে রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়েছে। আগামীতে দেশের দায়িত্ব যুবকদের নিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজ যারা যুবক আছেন, তারা আগামী প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাবেন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আগামীর বাংলাদেশ হবে সত্যিকারের একটি সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়া হবে না

ঢাকা অফিস ॥ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়া হবে না। এই সংসদ নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত চলবে। আর নির্বাচনকালীন সরকার কবে ঘোষণা করা হবে, সেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানাবেন। গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে নকলনবিশগণের পারিশ্রমিক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অক্টোবরে বর্তমান সরকারের শেষ অধিবেশন হচ্ছে। এরপর কবে নাগাদ সংসদ ভাঙছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, সংসদ ভাঙবে না। সংসদের কার্যকাল পর্যন্ত এই সংসদ চলবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর যে সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন সেটা হবে এই সংসদের শেষ অধিবেশন। আর নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে আমাদের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেবেন। আমি না।’ নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কেমন হবে তা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। তাই নির্বাচনকালীন সরকারের আকার উনিই (প্রধানমন্ত্রী) জানেন। কেননা, সংবিধান অনুযায়ী এটা উনার দায়িত্ব।’ আইনমন্ত্রী বলেন, আরপিও সংশোধনীর ভেটিং ও আইনি মতামতের জন্য ফাইলটা আইন মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছেছে। তবে আমার কাছে এসে পৌঁছেনি। এটি লেজিসলেটিভ শাখায় আছে। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলছেন দেশে গণতন্ত্র নেই, এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, আজকে গণতন্ত্র আছে বলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন হচ্ছে। দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকত তাহলে ইউনিয়ন থেকে সংসদ পর্যন্ত জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকত না। দেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করত না। উপস্থিত নকলনবিশদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি জনগণের প্রতিনিধি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলার জনগণের প্রতিনিধি। আপনারাও সেই জনগণের অংশ। আপনাদের যে সেবা দিতে হবে সেই সেবা থেকে জনগণকে বঞ্চিত করবেন না এবং নিজেরা পিছপা হবেন না। এটা আমার একমাত্র দাবি। আইনমন্ত্রী বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ পাই কেউ ৫ বছর, কেউ এক যুগেরও বেশি সময় যাওয়ার পরও জমির রেজিস্ট্রেশন পান না। এর কারণ জানতে চাইলে আমাকে বলা হলো, বালাম বই নেই, ইনডেক্স নেই, স্লিপ নেই, এ জন্যই দেরি হয়। মন্ত্রী হয়ে তখন আমাকে এ নিয়ে খোঁজ নিতে হলো। মন্ত্রী হওয়ার এক দুই মাসের মধ্যে এসব সমস্যা দূর করতে আমরা টেন্ডার দিয়ে সমস্যার সমাধান করি।

 

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের ৭ বছরের কারাদন্ড

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাত বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। দুই সাংবাদিককে মুক্তি দিতে আন্তর্জাতিক আহ্বানের মধ্যেই ইয়াংগনের জেলা জজ আদালত গতকাল সোমবার এই রায় ঘোষণা করে বলে রায়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। বিচারক ইয়ে লইন তা রায়ে বলেন, সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সো ওর (২৮) গোপন তথ্য সংগ্রহের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ভেঙেছেন। তাদের সাত বছরের কারাদন্ড দেওয়া হল এবং ইতোমধ্যে হাজতবাসের সময় তাদের সাজা থেকে বাদ যাবে। বরাবরই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসা এই দুই সাংবাদিক মামলার বিচারের সময় আদালতকে বলেছিলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ইয়াঙ্গুনের এক রেস্তোরাঁয় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে দুই পুলিশ সদস্য তাদের হাতে কিছু মোড়ানো কাগজ ধরিয়ে দেন এবং তার পরপরই সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রয়টার্স লিখেছে, ওই দুই সাংবাদিককে ধরার জন্য ওই ঘটনা যে সাজানো হয়েছিল, তা মামলার বিচারের সময় প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্যে উঠে এসেছিল। পশ্চিমা কূটনীতিবিদের কেউ কেউ এবং কোনো কোনো অধিকার সংগঠন দুই সাংবাদিকের এই বিচারকে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়ায় থাকা মিয়ানমারের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছিলেন। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, “মিয়ানমারের জন্য, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর জন্য এবং বিশ্বের সব সংবাদমাধ্যমের জন্য আজ একটি দুঃখের দিন।” জরুরি ভিত্তিতে এই রায় সংশোধনের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ২০১৬ সালে রয়টার্সে যোগ দেওয়া সাংবাদিক ওয়া লোন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বিভিন্ন ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আর কিয়াও সো ও গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদক হিসাবে কাজ করে আসছিলেন। ইয়াঙ্গুনে পুলিশ কর্মকর্তাদের এক ডিনারের আমন্ত্রণে যাওয়ার পর গত ১২ ডিসেম্বর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গোপন নথিপত্র ছিল তাদের কাছে। পরে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ও রাখাইনের সেনা অভিযানের সময় এক গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে লাশ পুঁতে ফেলার একটি ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানালেও মিয়ানমার সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। গত ৯ জুলাই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশে বলা হয়, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে অভিযোগ এনেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তারা জাতীয় নিরাপত্তাকে হমকির মুখে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে সামরিক বাহিনীর কর্মকা- সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য ও নথি সংগ্রহ করেছেন।     আসামিপক্ষের আইনজীবী গত ২ জুলাই এ মামলা বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দিতেই ঘটনা সাজিয়ে দুই সাংবাদিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সেদিন আদালতে বলা হয়, রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তাদের কাছে সেনাবাহিনীর গতিবিধির বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত নথি পাওয়া যায়। আর মোবাইলে পাওয়া যায় বিভিন্ন মাত্রার গোপনীয় তথ্য।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে যা বললেন ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন গঠিত রাজনৈতিক জোট ও এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন জোটের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর করা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ড. কামালের হোসেনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

খবরে বলা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন; তিনি যখন গরম বক্তৃতা দেবেন, তখন ধরে নেবেন তার প্লেন রেডি। তার এবং তাদের জোট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্যকে তিনি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এসব নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা যে নতুন জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন সেটা ইতিবাচক। জোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রশ্ন তুলেছেন সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তো ওনার সমর্থনে কিছু করিনি, স্বাধীনভাবে করেছি, তাই এ বিষয়ে তো তিনি প্রশ্ন তুলতেই পারেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, মানুষ এটা ভালোভাবেই জানে যে ২০০৮ সালে আমরা কী করেছিলাম। আমাদের জোটে যারা আছেন, ২০০৮ সালে নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে তাদের কী অবদান সেটা সবাই জানেন। যুক্তফ্রন্টের এই নেতা বলেন, নতুন জোট চাইছে বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। যদি জনমত নেয়া যায় তাহলে দেখবেন যে, ১০০ ভাগ সমর্থন এর পক্ষে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত চার-পাঁচ বছরে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সে রকম কিছুই করা হয়নি। মনোনীত লোকজনদের নিয়ে সংসদ বানানো হয়েছে কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রের নাম গন্ধ কেউ পায়নি। কামাল হোসেন বলেছেন, ২০০৮ সালে আমরা যা করেছি সেটা তো গোপনে করিনি। আমি মামলা করে সব ভুয়া ভোটার বাতিল করলাম, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করলাম- এসব উত্তরপাড়ার কোনো ব্যাপার নয়। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনোদিন সম্পর্ক ছিল না। বিএনপির সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের কোনো রাজনৈতিক ঐক্য হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো কথা হয়নি। তবে এ বিষয়ে নীতিগত ইস্যুতে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। যদি হয় তখন দেখা যাবে।

মন্ত্রিসভায় শ্রম আইনের (সংশোধন) খসড়া অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ শ্রমিকদের জন্য শ্রমবান্ধব এবং সুশৃঙ্খল মালিক-শ্রমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎপানশীলতা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮ এর খসড়ায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিংকালে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ কথা জানান। তিনি বলেন, আইএলও (বিশ্ব শ্রম সংস্থা) ’র কনভেনশন অনুযায়ী এটাকে (শ্রম আইন) আপডেট করার জন্য অর্থাৎ শ্রমবান্ধব পলিসি সব জায়গায় যাতে নিশ্চিত হয় সেজন্য আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সচিব বলেন, আইএলওর পর্যবেক্ষণ আমলে নিয়ে শিল্প কারখানার যেকোন সমস্যার সমাধানে মালিক, শ্রমিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটি আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করে।

একইসঙ্গে খসড়ায় মালিক-শ্রমিকদের যেকোন অসদাচারনের জন্য কঠোর শাস্তির প্রবিধান যুক্ত করা হয়েছে। সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মালিক ও শ্রমিকদের অসদাচরণ বা বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড করা হয়েছে। আগে কারাদন্ডের মেয়াদ ছিল ২ বছর। শফিউল জানান, বলপ্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোনো স্থানে আটক রাখা, শারীরিক আঘাত এবং পানি, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বা অন্য কোনো পন্থায় মালিককে কোনো কিছু মেনে নিতে বাধ্য করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। শ্রমিকরা বেআইনি ধর্মঘটে গেলে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে জানিয়ে শফিউল বলেন, ধর্মঘট করতে আগে দুই তৃতীয়াংশ শ্রমিকের সমর্থনের প্রয়োজন থাকলেও সংশোধিত আইনে ৫১ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন থাকার কথা বলা হয়েছে। বেআইনি ধর্মঘট করলে আগে এক বছর কারাদন্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হত। সংশোধিত আইনে সাজা কমিয়ে ছয় মাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাজা আগের মত পাঁচ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালে প্রথম এই আইনটি করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে এটির অনেক বড় সংশোধন হয়।’ সংশোধিত আইনের খসড়া অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এবং সুযোগ সুবিধাদি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং কোন শ্রমিককে আহার ও বিশ্রামের বিরতি ব্যতিত ১০ঘন্টার অধিক কাজ করানো যাবে না। যদিও এই সংশোধিত আইনের খসড়া অনুযায়ী সরকার বিশেষায়িত শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের কাজের সময় পরিবর্তন করতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খসড়া অনুযায়ী শ্রমিকদের উৎসব ভাতা প্রদান করা ও নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ৮ সপ্তাহ ছুটি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করার তিন দিনের মধ্যে তাঁরা এই ছুটি এবং অন্যান্য সুবিধাদি পাবেন। তাছাড়া, সন্তান সম্ভবা মা’কে মাতৃত্বকালীন ছুটি বঞ্চিত করলে মালিক পক্ষকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডের সম্মুখীন করা হতে পারে বলেও তিনি জানান। সচিব বলেন, কোনো কারখানায় ২৫ জনের বেশি শ্রমিক থাকলে তাদের জন্য পানির ব্যবস্থাসহ খাবার কক্ষ রাখতে হবে, সেখানে বিশ্রামেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে। শফিউল জানান, শ্রমিকরা ইচ্ছা করলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করে পারে তা উৎসব ছুটির সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন। উৎসবের ছুটিতে কাজ করালে এক দিনের বিকল্প ছুটিসহ দুই দিনের ক্ষতিপূরণ মজুরি দিতে হবে। কোন শিশু-কিশোর বা প্রতিবন্ধী শ্রমিককে বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ শব্দটি শ্রম আইন থেকে বাদ দিয়ে সেখানে ‘কিশোর’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে। আগে ১২ বছর বয়সী শিশুরা কারখানায় হালকা কাজের সুযোগ পেত। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোররা হালকা কাজ করতে পারবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী সরকার শ্রম সংগঠনগুলোর রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি আদর্শ কার্যপ্রণালী পদ্ধতি (এসওপি) প্রস্তুত করবে। নির্দিষ্ট ফর্মে রেজিস্ট্রেশনের জন্য শ্রম সংগঠনগুলোর আবেদনের শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মাধ্যমে তা ৫৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে। একটি শিল্প কারখানার একজন শ্রমিক কেবল একটি ট্রেড ইউনিয়নেরই সদস্য হতে পারবেন। একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হলে এক মাসের কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে প্রধান পরিদর্শকের পদকে হালনাগাদ করে মহাপরিদর্শক এবং উপ-প্রধান পরিদর্শকের পদকে অতিরিক্ত প্রধান পরিদর্শক করা হয়েছে। এছাড়া যুগ্ম-মহাপরিদর্শক, উপ-মহাপরিদর্শক এবং সহকারি মহাপরিদর্শক ছাড়াও বেশি কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইভিএম বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধনকালে সিইসি

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদা বলেছেন, সব মহলের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে কি না। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না, সে চিন্তা আরও পরে হবে। আইন প্রণয়ন, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সব মহলের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি না।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ইভিএম বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধনকালে সিইসি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। সরকার যদি আইন করে, পরিবেশ যদি থাকে র‌্যানডমলি কিছু আসনে ইভিএম ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, “ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে উৎকণ্ঠা থাকা স্বাভাবিক। কারণ আমরা এটির ব্যবহার, উপকারিতা সম্পর্কে এখনও তাদেরকে জানাতে পারিনি। পর্যায়ক্রমে তারা সব জানতে পারবেন। আর যেকোনো উদ্যোগ, নতুন আবিষ্কার বা প্রযুক্তি এলে, তা নিয়ে জানার উৎকণ্ঠা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এটিকে আমরাও ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। যারা ভোট দেবেন বা ট্যাক্স হোল্ডারদের টাকা অপচয় হবে কিনা এটা জানতে চাইবেন, এটাও তো স্বাভাবিক বিষয়।” নূরুল হুদা বলেন, প্রযুক্তি এখন আর বাক্সে বন্দি নেই। এটি এখন মানুষের হাতে হাতে। মোবাইলের মাধ্যমেই এখন সব তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হাজার রকমের জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়। চিন্তায় থাকতে হয়, কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় ব্যালট পেপার ছিনতাই হয় কিনা? প্রযুক্তির ব্যবহার হলে এসব চিন্তা দূর হবে। এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনায় ৭০ ভাগ খরচ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য, সেটিও কমে আসবে।’ তিনি বলেন, ইভিএম কেনার কোনো তহবিল নির্বাচন কমিশনের কাছে আসবে না। এটি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সরকার দেখবে। ইটিআইয়’র মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

 

নারী কর্মী নির্যাতন

সৌদি দূতাবাসের ২ কর্মচারী বরখাস্ত

ঢাকা অফিস ॥ এক নারী কর্মীকে নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) ফখরুল ইসলাম সোমবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে ফেরত আসা এক নারী। তিনি দূতাবাসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখে দূতাবাস এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফখরুল বলেন, ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, “সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং যে কোনো কর্মচারীর অনভিপ্রেত কর্মকান্ডের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করবে দূতাবাস।”

নাইকো দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরে পরোয়ানা

ঢাকা অফিস ॥ নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১১ অক্টোবর নতুন তারিখ রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ওইদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবীর সোমবার এ আদেশ দেন। এদিন এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও অন্য মামলায় খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। মামলার অপর দুই আসামি ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম) এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনের পক্ষে সময়ের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী নূরুজ্জামান তপন বলেন, শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেন  । এই শুনানি ‘শেষ বারের মত’ পেছানো হচ্ছে জানিয়ে ১১ অক্টোবর নতুন তারিখ রাখেন বিচারক। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে সেদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য হাজিরা পরোয়না (প্রডাকশন ওয়ারেন্ট) জারির নির্দেশ দেয় আদালত। এ মামলার অন্যতম আসামি বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান গত ৫ মে মারা যাওয়ায় বিষয়টি এদিন আদালতকে অবহিত করা হয়। বার বার পেছানোর পর গত ১১ ডিসেম্বর নাইকো দুর্নীতি মামলার আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের আংশিক শুনানি হয়। বর্তমানে বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এ মামলার কার্যক্রম চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধ আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়ে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।