কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের পশ্চিম পাশের ড্রেন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করলেন মেয়র আনোয়ার আলী

কুষ্টিয়া শহরের কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের পশ্চিম পাশে মজমপুর রেল গেট হতে চৌড়হাস জিকে ক্যানেল পর্যন্ত ড্রেনের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) প্রকল্প ফেস-৩ এর অতিরিক্ত অর্থায়নে ০১টি প্যাকেজের অধিনে এই নির্মাণ কাজের মাটি কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। উদ্বোধনকালে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, এই ড্রেন নির্মাণ শেষ হলে, নতুন এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা সমস্যা থাকবে না। এ নির্মাণ কাজে আপনারা সহযোগিতা করবেন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে আগামীতেও অনেক উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর সামসুন্নাহার (মায়া), পারভীন হোসেন, খান. এ. করিম অকুল, সাইফ-উল-হক মুরাদ, শাহ জালাল, মীর রেজাউল ইসলাম বাবু, এজাজুল হাকিম, সমাজসেবক মকবুল হোসেন লাবলু, এস.এম. কাদেরী শাকিল, নুরুল ইসলাম, নুরুজ্জামান, কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, পরামর্শ সংস্থার প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, একেএম সামসুজ্জামান, তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ  প্রকল্প (সেক্টর) ফেস-৩ এর সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিমাদ্রী বিশ্বাস, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নবীন ইমামদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবউল আলম হানিফ এ মন্তব্য করেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, তফসিল ঘোষণার পরই মনোনয়ন কারা পাচ্ছেন, তা চূড়ান্তভাবে বলা যাবে। আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। ইতিমধ্যে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে তৃণমূলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দলের সভানেত্রী বিভিন্ন উইংস থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এই তালিকাও মোটামুটি প্রস্তুত আছে, আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা প্রায় চূড়ান্ত করে  ফেলেছে। নির্বাচনে আগে বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকার গঠন নিয়ে বিএনপির দাবির বিষয়ে হানিফ বলেন, বিএনপি কী করবে না করবে, সেটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। হানিফ আরও বলেন, আদালতের রায়ে দন্ডপ্রাপ্ত কোনো কয়েদিকে রাজনৈতিকভাবে মুক্তি দেওয়ার  কোনো সুযোগ নেই। একমাত্র রাষ্ট্রপতিই পারেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে। এ বিষয়ে হানিফ আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তাহলে রাষ্ট্রপতি হয়তো বিবেচনা করতে পারেন। এর বাইরে রাজনৈতিকভাবে তাঁকে মুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। খালেদা জিয়াকে আইনের মাধ্যমেই মুক্ত করে আনতে হবে। বিএনপির দাবি নিয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, এই দাবির মধ্য দিয়ে জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে, খালেদা জিয়া যে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন, এই ব্যাপারে তাঁর দলের নেতারা সুনিশ্চিত। এ কারণে বিএনপি ধরে নিয়েছে, তাঁরা আদালতে খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন না। তাই রাজনৈতিকভাবে মুক্তির  চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, রাজপথের আন্দোলনের হুমকির মধ্য দিয়ে বিএনপি দলের চেয়ারপারসনের দুর্নীতি ও অপকর্মকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির দাবির প্রতিক্রিয়ায় হানিফ বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি,  কোনো রাজনৈতিক দলের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর সব কর্মকান্ড হয় না। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বৈঠক করে এবং সবার পরামর্শের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।  সেই নির্বাচন কমিশন কারও ইচ্ছা-অনিচ্ছায় যখন-তখন ভেঙে  দেওয়া বা পুনর্গঠন করার দাবি যৌক্তিক নয়।’

কুষ্টিয়ায় জন্মাষ্টমী’র অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে মোস্তাক আহমেদ

দেশ ও জাতির কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়ায় সরকারীভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব তিথী শুভ জন্মাষ্টমী পালন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে শুভ জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে, জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাষ্ট ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সনাতন ধর্ম আলোচনা, পূজা, প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল রবিবার বিকেল ৪ টায় কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডস্থ শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাক আহমেদ। হাতি, জয় ঢাকসহ বিভিন্ন বাদ্য-বাজনার তালে তালে এবং ব্যানার, ফেস্টুনসহ বিভিন্ন সাজ-সজ্জায় সজ্জিত শোভাযাত্রাটি কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে শেষ হয়। সাজ-সজ্জায় সজ্জিত এ শোভাযাত্রাটির নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাক আহমেদ। শোভাযাত্রা শেষে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাক আহমেদ বলেন বাংলাদেশ শান্তির দেশ। এদেশে যুগ যুগ ধরে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। তাই জাতি-ভেদাভেদ ভুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ সুধির কুমার শর্মা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ড. মোফাজ্জেল হক প্রমুখ। সার্বিক পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস। আরো বক্তব্য রাখেন ও নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এ.বি.এম আরিফুল ইসলাম, এম.এ. মুহাইমিন আল জিহান, মোঃ আবু রাসেল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অজয় সুরেকা, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চিত্তরঞ্জন পাল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দন স্যন্নাল পলাশ, যুগ্ম-সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার, গৌতম চাকী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গণেশ জোয়ার্দ্দার, আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শংকর মজুমদার, সহ-আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শীলা বসু (এজিপি),  কোষাধ্যক্ষ নন্দ কিশোর, সহ-কোষাধ্যক্ষ পরেশ রায় নাড়–, দপ্তর সম্পাদক বিপ্রজিৎ বিশ্বাস খোকন, সহ-দপ্তর সম্পাদক কৃষ্ণ কমল বিশ্বাস, সহ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মিহির চক্রবর্তী, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতা ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলী তুহিন চাকী, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতা ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত, পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও  হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার নাগ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার ঘোষ, ডাঃ বিশ্বনাথ পাল বিশু,  তারাদাস ভৌমিক, প্রবীর কর্মকার, অসিম পাল, মৃনাল কান্তি সাহা, বাপ্পী বাগচী, পরিতোষ দাসসহ সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শত শত ভক্তবৃন্দ বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে ব্যানার-ফেস্টুনসহ অংশ গ্রহণ করেন। এদিকে রাত সাড়ে ৯ টায় শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১২ টা ১ মিনিটে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মলগ্ন ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে, বর্ণ্যাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন মন্দিরগুলির মধ্যে সাজ-সজ্জায় সজ্জিত যাচাই-বাছাই করে মিলপাড়া সার্ব্বজনীন পূজা মন্দিরকে প্রথম স্থান, মিল লাইন মন্দিরকে দ্বিতীয় স্থান ও ধোপাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরকে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে বলে ঘোষণা করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী। তিনি জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে এ তিনটি মন্দিরকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এ কেমন চেয়ারম্যান!

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ সারা দেশ যখন মাদক বিরোধী অভিযানে তটস্থ তখন এক মাদক কারবারীকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিতে তার মায়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাঙবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ বাবলু। ভাঙবাড়ীয়া এলাকা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট আলমডাঙ্গা থানার এএসআই মোস্তফা ওই ইউনিয়নের বড়বোয়ালিয়া গ্রামের মরহুম খোদা বক্সের ছেলে শিপনকে ৫৬টি ইয়াবাসহ আটক করে। ছেলেকে ছাড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে শিপনের মা কামরুন নাহারের কাছ থেকে পুলিশকে দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু । পরদিন পুলিশ শিপনকে না ছেড়ে আদালতে সোপর্দ করে। চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়েও পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে না পারায় শিপনের মা জনসম্মুখে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে টাকা ফেরত চান। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকেন। এ প্রসঙ্গে আলমডাঙ্গা থানার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর। মাদক কারবারীকে মুক্ত করতে পুলিশকে দেয়ার নাম করে জনপ্রতিনিধির টাকা গ্রহন রীতিমত লজ্জাজনক। এ বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এটা প্রমানিত হলে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

ইবিতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমীর আলোচনা সভায় ড. রশিদ আসকারী

সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৌহ করে কল্যান ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, ধর্ম যার যার দেশটা সবার। এখানে সকল ধরনের অন্যায়, অবিচার, পাপাচার, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে কল্যান ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে  দেশ স্বাধীন করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা একটি সংবিধান পেয়েছি, যার অন্যতম প্রধান মূলনীতি হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতা। তিনি বলেন, যে কোন গবেষণাই বলিনা কেন, ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করে কোন সামাজিক সুন্দর জীবন হতে পারে না। তাই বাংলাদেশের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় সকল কিছুর উর্ধ্বে থেকে সকলকে সমাজ বির্নিমানে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ  সহাস্য  ধরাধামে আর্বিভাব হয়েছিলেন এবং হাসির মধ্যদিয়ে ধরাধাম থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। যেকোন মানুষের দিনের শুরুটা যদি হাসির মাধ্যমে হয় তবে এতে করে পরিবার সমাজ ও দেশের অনেক উপকার হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে টি.এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায়  প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। ব্যবস্থাপনা  বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. ধনঞ্জয় কুমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন সকল ধরনের পাপাচার, অধর্ম, অকল্যান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হিসাবে এবং তৎকালীন বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন, মানব কল্যান ও ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য তাঁর পথ ছিল কন্টকাকীর্ণ। তিনি সকল প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সকল ধর্মের মর্মবাণী যে এক এবং অভিন্ন এই কথাটি আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্রদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং বার বার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে হবে।  অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষদের নিয়ে আমাদের দেশ। আমরা যেন কেউ কোন প্রকার বৈষম্যের শিকার না হই সেদিকে সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং আমাদের নিজেদের মধ্যে মানুষের জন্য প্রেম ভালোবাসা ও মায়া মমতার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন  প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা। বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তপন কুমার রায়। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমীর উপর ধর্মালোচক হিসাবে প্রাণবন্ত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের সদস্য ডঃ মিলন কুমার বসু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমান, প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, প্রফেসর ড. আজগর হোসেন, ড. আলতাফ হোসেন, রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস.এম আব্দুল লতিফ, লিটন বরন শিকদারসহ হিন্দুধর্মাবলম্বী সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গোপনীয় দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকীতে স্কুল ছাত্রীর আত্মহনন

নিজ সংবাদ ॥ আপত্তিকর ম্যাসেজ এবং গোপনীয় দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকী প্রেমিকের। আর স্কুল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয় তাকে আর স্কুলে আসতে হবে না। এসব কারণে ভেঙ্গে পড়েন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আটিগ্রামের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন। বেছে নেয় আত্মহননের পথ। প্রেমিকের এমন আচরণ সইতে না পেরে শনিবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরের ডাবে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সুমাইয়া খাতুন। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন ঘটনার জন্য প্রেমিক ও তার পরিবারের লোকজনকে দায়ি করা হলেও পুলিশ বলছে ঘটনা যাই হোক অভিযোগ পেলে নেয়া হবে ব্যবস্থা।

স্থানীয়রা জানায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নতুন আটিগ্রাম এলাকার নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পাশর্^বর্তী পুরাতন আটিগ্রাম এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে শাহরিয়ার আসিফ জমজমের। নানা কারনে ভাঙাগড়ার মধ্যদিয়েই চলছিল তাদের সম্পর্ক। শনিবার সন্ধ্যায় শাহরিয়ার আসিফ জমজম সুমাইয়ার মায়ের মোবাইলে আপত্তিকর ম্যাসেজ পাঠায়। একই সাথে তাদের দু’জনের গোপনীয় দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকীও দেয় শাহরিয়ার। এসব কারনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সুমাইয়া। এরই কিছুক্ষণ পর সুমাইয়া তার নিজ কক্ষে ওড়নাতে ঝুলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

সুমাইয়ার মা বিলকিস খাতুন জানান, শাহরিয়ার বখাটে প্রকৃতির। বেশ কিছুদিন ধরেই সুমাইয়ার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। মাস চারেক আগে শাহরিয়ার তাদের বাড়িতে এসে মেয়ের সুমাইয়ার কক্ষে প্রবেশ করে। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়াই। এনিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দু’জনের বিয়ের বিষয়ে কথা হয়। কিন্তু শাহরিয়ার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মেনে না নেয়ায় তাদের দু’জনের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সুমাইয়া। ওই ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর সুমাইয়া যে স্কুলে পড়ত সেই আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ স্কুলে আসতে বারণ করেন। এমতাবস্থায় মানসিকভাবে চরমভাবে ভেঙে পড়ে সুমাইয়া। শনিবার রাতে শাহরিয়ার পুনরায় সুমাইয়ার সাথে এমন আচরণ করলে বাধ্য হয়েই আত্মহননের পথ বেছে নেয় সুমাইয়া।

এবিষয়ে সুমাইয়ার বাবা শফিকুল ইসলাম, জান্নাজড়িত কন্ঠে জানান আমার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান। ছেলেটি বড়। সুমাইয়া ছোট হওয়ায় একটু বেশিই আদরের। কিন্তু বখাটে শাহরিয়ার আমার মেয়েকে বাঁচতে দিলনা। তার অশোভন আচরনের কারনেই মেয়ে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, সুমাইয়া পড়ালেখায় বেশ ভাল। তাতে আগ্রহও বেশি। অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারনে সুমাইয়া মানসিকভাবে কিছুদিন ভেঙে পড়েছিল। তাই সপ্তাহ খানেক সে স্কুলে যেতে পারেনি। পরে সুমাইয়া স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে সাফ জানিয়ে দেয় তাকে আর স্কুলে আসতে হবে না। এতে আমার মেয়ে সুমাইয়া আরো ভেঙে পড়ে। আর নানা কারনেই মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মেয়ের এমন করুন মৃত্যুর জন্য শাহরিয়ার ও তার পরিবারকে দায়ি করেন তিনি।

সুমাইয়ার বান্ধবী নূপুর খাতুন জানান সুমাইয়া খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে। শাহরিয়ারের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাঝে তাদের মধ্যে সম্পর্কের ঘাটতি হয়। শনিবার শাহরিয়ার মোবাইল ম্যাসেজে আপত্তিকর কিছু লেখা এবং গোপনীয় কিছু ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকীতে সুমাইয়া আত্মহত্যা করে। এজন্য তিনি শাহরিয়ারের কঠোর শাস্তি দাবী করেন।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে যা মনে হয়েছে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শাহরিয়ার নামে এক ছেলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও করা হবে। তবে মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ধর্মকে ব্যবহার করে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিরুদ্ধে আরো সতর্ক থাকার আহবান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ধর্মকে ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা গ্র“প যাতে সামাজিক শৃঙ্খলায় বিঘœ ঘটাতে না পারে সে জন্য সকল ধর্মের লোকদের আরো সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে গতকাল রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ধর্ম মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখায়, জনকল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। কোন ধর্মই জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ অথবা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না।’ যদি কেউ আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের লোকরা অংশ নেয়ায় বিজয় ত্বরাম্বিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে সমাজে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব আরো জোরদারে সকল ধর্ম বিশ্বাসের লোকদের প্রতি আহবান জানান। বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী উদ্যাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বলেন, সকল ধর্মীয় উৎসবই আনন্দ উল্লাসের, কিন্তু প্রতিটি উৎসবই সকলের অংশগ্রহণে সর্বজনীন হয়ে ওঠে। আবদুল হামিদ বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাঝে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত ঐক্য যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহানুভবতার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তিনি এসময় হিন্দু সম্পদায়ের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সমাজ থেকে সকল ধরনের অবিচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও সংঘাত দূর করে জনগণের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করাই ছিল শ্রী কৃষ্ণের মূল মতাদর্শ। রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজে ধর্ম ও ভালো লোককে রক্ষায় সকল ধরনের অপশক্তি নির্মূলে সমাজে শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। এ সময় অভ্যর্থনায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু ধর্মীবলম্বীর ব্যক্তিবর্গ, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগণ। এ সময় তারা রাষ্ট্রপতিকে জন্মাষ্টমীর ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার, হিন্দ্র ধর্মাবলম্বী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ বঙ্গভবনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় অতিথিবৃন্দকে বঙ্গভবনের দরবার হলে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। রাষ্ট্রপতি অতিথিদের কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপির সঙ্গে আর কখনও সংলাপে বসার সম্ভাবনা নেই

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সঙ্গে আর কখনও সংলাপে বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে গতকাল রোববার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “নির্বাচন হবে, এটা ঠেকানোর মতো শক্তি কারও নেই।” শেখ হাসিনাকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি পাওয়া-না পাওয়া আদালতের বিষয় বলে এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। খালেদা জিয়াকে আমি গ্রেপ্তার করিনি; রাজনৈতিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সে গ্রেপ্তার হয়েছে এতিমের টাকা চুরি করে। তারা আন্দোলন করুক। ডাক দিচ্ছে, হুঙ্কার দিচ্ছে খুব ভাল কথা। আবার বলছে নির্বাচন করবে না। কে নির্বাচন করবে- না করবে, সেটা সেই দলের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কী করার আছে? তাদের দল যদি মনে করে (নির্বাচন) করবে না, করবে না। যদি মনে করে করবে, করবে। এটা বিএনপির সিদ্ধান্ত, তারা কী করবে, না করবে। এখানে তো আমাদের বাধাও দেওয়ার কিছু নেই বা দাওয়াত দেওয়ারও কিছু নেই। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়ার ছেলের মৃত্যুর পর সান্ত¡না জানাতে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তার সঙ্গে আর কখনও কোনো আলোচনায় বসতে অনাগ্রহের কথা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি গেলাম, আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঢুকতে দিল না। সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর তো ওদের সঙ্গে আমি অন্তত বসব না। আর কোনো আলোচনা হবে না। প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা যে যাই বলেন। ক্ষমতাই থাকি, না থাকি, আমার কিচ্ছু আসে যায় না।” শেখ হাসিনা বলেন, “তখন তো গ্রেপ্তার করিনি। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারত। তখনই গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল। তখন আমি সহনশীলতা দেখিয়েছি।” জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে খালেদা জিয়া কারাগারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মামলাটি আমরা দিইনি। আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তাকে মুক্ত করতে হলে বিএনপির এত নামী-দামি আইনজীবী, ব্যরিস্টার, হোমড়া-চোমড়া সবাই, তারা কেন পারল না প্রমাণ করতে যে, খালেদা জিয়া নির্দোষ। তারা যেটা চাচ্ছে; খালেদা জিয়ার মুক্তি। তাদের তো কোর্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আর যদি দ্রুত চায় তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবে।” ১০ বছর ধরে দুর্নীতির মামলাটি চলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা যদি বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করতাম, করতে চাইতাম, তাহলে কি ১০ বছর লাগত? তাহলে এখানে আমাদের দোষ দিয়ে লাভটা কী?”  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে নতুন নতুন জোট হোক, তাহলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি ভোট করা যাবে।’ সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। বাবা-মার কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হবে। সুদখোর, ঘুষখোরদের কেন মানুষ নির্বাচিত করবে? একটি কথা আছে, ফাঁকা হাঁড়ি বাজে বেশি। রাজনৈতিক জোট হোক, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। নির্বাচন হবে, নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই। ষড়যন্ত্র আছে, থাকবে। তাই বলে ভয় করে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। মৃত্যু লেখা থাকলে, হবে। হয়তো গুলি, বোমা খেয়ে মরতে হবে। বিমানের বল্টু খুলে গেল, মরি নাই তো। যত দিন বেঁচে থাকব, কাজ করে যাব।’ জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া দেখিয়েছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের অন্যতম হলো খন্দকার মোশতাক। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েও এই জঘন্য অপরাধ সে করেছে। কিন্তু এই মোশতাকের কতটুকু বিশ্বস্ত ছিল জিয়াউর রহমান? সায়েম সাহেবকে অস্ত্র দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়াউর রহমান।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির কোন প্রক্রিয়ায় জন্ম হয়েছে, সেটি তারা খুঁজে দেখুক। বিএনপি বৈধ সূত্রে বা কোন লগ্নে জন্ম নিয়েছেÑ শুভ না অশুভ লগ্ন থেকে বিএনপি জন্ম নিয়েছে, সেটি আগে বিএনপি দেখুক।’ ড. কামাল হোসেন ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জোটের বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই মিলে একটি জোট করেছে। দেশে তো দুটি দল। একটি আওয়ামী লীগ, অপরটি অ্যান্টি আওয়ামী লীগ।’ তিনি বলেন, ‘একটি ভালো জোট হোক, আবার একটি ভালো নির্বাচন করি। একটি বিকল্প তো থাকতে হবে। যাঁরা জোট করেছে, তাঁদের সাধুবাদ জানাই। আমাদের দেশে কিছু হলেই উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমিও তো মৃত্যুর মুখে আছি। সফলভাবে দেশ চালিয়ে দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছি, এতটুকু করতে পেরেছি, তাতেই খুশি। আমরা পারি, তা প্রমাণ করেছি।’ ড. কামাল হোসেন ‘নির্বাচন হবে কি না’ এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (কামাল হোসেন) আদৌ নির্বাচন চান কি না? কামাল হোসেন ও গংয়েরা নির্বাচন চান কি না? অসাংবিধানিক গোষ্ঠী ক্ষমতা নিলে তো তাঁরা একটি পতাকা পাবেন, ক্ষমতা পাবেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও চক্রান্ত করা হয়েছিল। ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের কথা বলা হয়। কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে সংবিধানেই বলা আছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার কথা।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনকের আসন থেকে ড. কামাল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই তিনিই আবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বিরুদ্ধে কথা বলেন, নিজেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেন।’ গণমাধ্যমে বিএনপিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি, ঘুষ নেওয়ার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির সৌভাগ্য মিডিয়া তাদের সাহায্য করে। আমি তো তিন-চার নম্বরে। মিডিয়ায় তারা প্রাধান্য পায়। সংসদে বিরোধী দল থাকার পরও বিএনপিকে বিরোধী দল হিসেবে ধরে প্রাধান্য দেওয়া হয়।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আজও দেখলাম আমি তিন-চার সিরিয়ালে।’ খালেদা জিয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর তো ওদের সঙ্গে কথা বলব না। তারা (খালেদা জিয়া) আমার বাড়িতে এসে বসে থাকত, তারা আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আমার তো একটা আত্মসম্মানবোধ আছে। আমি বারবার অপমানিত হতে কেন যাব?’ বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশে সব রকমের সরকার ব্যবস্থার অনুশীলন দেখেছি। কোনোটিই কাজে লাগে না। আর একবার কেউ ক্ষমতায় বসলে ক্ষমতা কেউ ছাড়তে চায় না। কেয়ারটেকার, মার্শাল লÑ সবই তো দেখা হয়েছে। কোনোটিই কাজ করে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।’ তিনি বলেন, ভারতে নির্বাচনের সময় পার্লামেন্ট বহাল থাকে। আগামী মে মাসে ভারতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার দুই মাস আগে তাদের নির্বাচন করতে হবে। সেখানে তো পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হয় না।

মিয়ানমার জঘন্য কাজ করেছে

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রকাশিত একটি বইয়ে ভুয়া ছবি প্রকাশ করে যেভাবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তাকে ‘জঘন্য কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “মিয়ানমার যা করেছে অত্যন্ত জঘন্য কাজ করেছে। নিজেরাই নিজেদের সম্মানটা খারাপ করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেরাই নিজেদের অবস্থান খারাপ করেছে।” রোহিঙ্গা সঙ্কটের ‘আসল সত্য’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গত জুলাই মাসে একটি বই প্রকাশ করে, যেখানে তিনটি ভুয়া ছবি ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭১ সালে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পর দুই বাংলাদেশির লাশ উদ্ধারের একটি ছবি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বইয়ে ক্যাপশনে বলা হয়েছে- সেটা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হাতে নিহত স্থানীয় বৌদ্ধদের ছবি। মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে গতবছর অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আর গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও গত দশ মাসে প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। এর দায়ও বাংলাদেশের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী সাত দেশের জোট বিমসটেকের সদস্য হলেও দেশটির নেত্রী সু চি এবার বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যাননি। তার বদলে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট।

চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতেই রোববার সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে একজন সাংবাদিক জানতে চান, বিমসটেক সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সম্মেলনে সাধারণত দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো আনা হয় না। তবে রিট্রিট সেশনে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে আমাদের সাথে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। তারা বলেছেন, তারা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। এটুকু বিষয়ে তার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আমি কথা বলেছি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কখনও চায়নি প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো সংঘাতপূর্ণ অবস্থা তৈরি হোক। “রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে আমরা সবসময় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। মিয়ানমার কখনও আপত্তি করে না। বলে নিয়ে যাবে। এটা ঠিক, বাস্তবতা হল- তারা বলে, কিন্তু করে না।” আর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বইয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভুয়া ছবি দিয়ে অপপ্রচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা মনে করিয়ে দেন। তারা ছবিটা নিয়ে যেটা করল, এটা আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, আমাদের এখানেও কিন্তু এরকম হয়েছে। প্রশ্নটা হল এরা শিখল কার কাছ থেকে।” ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি জোটের আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভুয়া ছবি আসার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্মরণ করাতে চাই, জামাত-বিএনপি মিলে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল।”

ইভিএমের সীমিত ব্যবহারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী

আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “এটা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ এটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। আমাদের পরীক্ষামূলক করে দেখতে হবে।” ২০১০ সালে বাংলাদেশে চালুর পর এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেই কেবল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পরীক্ষামূলক ব্যবহার হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ইসি ইতোমধ্যে নির্বাচনী আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। এক-তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম ব্যবহারের একটি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ পেলেও সিইসি বলেছেন, তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ইসির আকস্মিক পদক্ষেপের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম ইভিএম নিয়ে। বিএনপি এর বিরোধিতা করে বলেছে, ভোটে ‘ডিজিটাল কারচুপি’ করতে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা হচ্ছে। রোববার গণভবনে নেপাল সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নে ইভিএমের পক্ষেই নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “ইভিএমে ভোট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই হয়। ইভিএমটা নিয়ে আসার জন্য আমিই কিন্তু সবসময় পক্ষে ছিলাম। এখনও পক্ষে আছি।” “আমরা চাচ্ছি, কিছু কিছু জায়গায় শুরু হোক, সীমিত আকারে এটা দেখুক। প্রযুক্তির যদি কোনো সিস্টেম লস হয় কি না, সেটা দেখা যাক। সেটা হলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। এটা এমন না যে এটাই শেষ কথা। আমরা সীমিত আকারে শুরু করি, প্রযুক্তির ব্যবহার।” বিএনপি বলছে, বিশ্বের ৯০ ভাগ দেশেই ইভিএম চালু নেই, কয়েকটি দেশ চালু করার পর আবার পিছু হটেছে। শেখ হাসিনা পাল্টা বলেন, কারচুপি করতে পারবে না বলে বিএনপি ইভিএমে আপত্তি জানাচ্ছে। কারণ তাদের জন্মটাই কারচুপির মাধ্যমে। তারা আবার কারচুপির কথা বলে।  ইভিএম হলে সেই কারচুপিটা করতে পারবে না। একের বেশি ভোট দিতে পারবে না, সিল মারতে পারবে না- সেজন্য তারা আপত্তি জানাচ্ছে। এটা স্পষ্ট। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবেই ভোট দেওয়ায় ইভিএম প্রবর্তনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সবচেয়ে সুবিধা হল, যেই মানুষটা যাচ্ছে, একটা টিপ দিয়ে ভোট দিয়ে আসছে এবং সাথে সাথে রেজাল্টটা পেয়ে যাচ্ছে।” নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি আমলে ভোট কারচুপির কথাও বলেন শেখ হাসিনা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ভোটে যে কারচুপির রাজনীতি, সেটা তো জিয়াউর রহমানই প্রথম এনেছে এদেশে। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, সেটাকে বৈধ করতে চেয়েছে সে। “আজকে বিএনপি যখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে। তারা তাদের জন্মস্থানটা খোঁজ করুক। কোথায়, কীভাবে হয়েছে দেখুক। তাদের জন্মের সূত্রটা, লগ্নটা মনে করুক। শুভ না অশুভ লগ্ন নিয়ে তারা জন্ম নিয়েছে।” খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনের কথা স্মরণ করে  শেখ হাসিনা বলেন, “১৫ ফেব্র“য়ারির ভোটের কথা যদি কারও মনে থাকে, তারা কী করেছিল। ঘোষণা দিয়েছিল দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী। ১৫ দিনও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। জনগণ চাইলে তো থাকতে পারত। কারচুপি করে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল বলে বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে।”

‘অসময়ে নীরব, সুসময়ে সরব, তিনি হলেন আ স ম রব’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী হাস্যরসাত্মকভাবে বলেন, ‘অসময়ে নীরব, সুসময়ে সরব, তিনি হলেন আ স ম রব’। সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি জোট গঠনের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ওই জোট এবং জোটের শরিকদের সম্পর্কে সরস মন্তব্য করেন তিনি। ড. কামাল হোসেনদের জোট নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন জাতির পিতার ছেড়ে দেয়া সিটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশে একটা শ্রেণি বসেই থাকে যারা নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়, নির্বাচন ঠেকাতে চায়। আমার প্রশ্ন হলো ড. কামাল নির্বাচন চায় কিনা? তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুটি দল আছে একটি হলো আওয়ামী লীগ আর আরেকটি হলো এন্টি আওয়ামী লীগ। এরপর তিনি জোটের অন্য শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সমালোচনা করে বলেন, ‘অসময়ে নীরব, সুসময়ে সরব, তিনি হলেন আ স ম রব’। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আসা সবাই হেসে ওঠেন। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে সরস মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে লিখতে বললেই উনি জুড়ে দেয় কান্না, তার নাম মান্না। প্রধানমন্ত্রী মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে বলেন, ‘মান্না একসময় আমাদের দলে (আওয়ামী লীগ) ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লেখেন। যখন আওয়ামী লীগে এলেন, আমি বললাম যখন অন্য দল করতেন তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশি বেশি লিখতেন। তো এখন আমাদের পক্ষেও কিছু লেখেন। এ কথা বললেই মান্না, জুড়ে দেয় কান্না।’

‘মান্না, জুড়ে দেয় কান্না’

‘মান্না, জুড়ে দেয় কান্না’ বলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে সরস মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে লিখতে বললেই উনি জুড়ে দেয় কান্না, তার নাম মান্না। সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি জোট গঠনের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ওই জোট এবং জোটের শরিকদের সম্পর্কে সরস মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঐক্য ভালো, সাধুবাদ জানাই। একটা ভালো জোট হোক, আমরা নির্বাচনে কনটেস্ট করি। এরপর একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে বলেন, ‘মান্না এক সময় আমাদের দলে (আওয়ামী লীগ) ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লেখেন। যখন আওয়ামী লীগে এলেন, আমি বললাম যখন অন্য দল করতেন তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশি বেশি লিখতেন। তো এখন আমাদের পক্ষেও কিছু লেখেন। এ কথা বললেই মান্না, জুড়ে দেয় কান্না।’ এ সময় বিকল্পধারা সভাপতি বি. চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব সম্পর্কেও সরস মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

আবারও শাকিব-মিশা একসঙ্গে

বিনোদন বাজার ॥ বর্তমান সময়ে ঢাকাই ছবির সেরা নায়ক হচ্ছেন শাকিব খান। আর মিশা সওদাগর হচ্ছেন সেরা খল নায়ক। কেবল খল চরিত্রে অভিনয় করেই দর্শকদের হৃদয়ে জনপ্রিয়তার স্থান দখল করে নিয়েছেন তিনি। ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর একই ছবিতে অভিনয় করেন তারা। এবার জানা গেলো ‘শাহেন শাহ’ নামের আরও একটি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করবেন এ দুই মহারথী। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কক্সবাজারে শুরু হবে সিনেমাটির শুটিং। সিনেমাটিতে শাকিবের বিপরীতে দেখা যাবে নুসরাত ফারিয়াকে। ফারিয়া ছাড়াও থাকছেন আরও একজন নায়িকা। যা জানা যাবে ছবিটির মহরতের দিন। ছবিটির প্রযোজক সেলিম খান জানিয়েছেন আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ছবিটি  মহরত হওয়ার কথা। ছবিটি পরিচালনা করবেন শামীম আহমেদ রনি।অন্যদিকে পায়ের লিগামেন্টে আঘাত পেয়ে  পুরনো ব্যাথা বেড়ে গেছে মিশা সওদাগরের। ফলে চিকিৎসক তাকে ১৫ দিনের বিশ্রাম নিতে বলেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এখন তিনি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। ফলে বন্ধ রয়েছে শুটিং।মিশা সওদাগর বলেন, ‘শাহেন শাহ ছবিতে আমি আমি আছি। তবে শুটিং শুরু করিনি। তার আগেই তো অসুস্থ হয়ে  বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। অন্য ছবির শুটিংয়ের ডেটও পিছিয়ে দিয়েছি। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠি।’মিশা সওদাগর এ পর্যন্ত প্রায় আট শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। মাঝখানে অভিনয় ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেও আবার ফিরেছেন তিনি।

মালিহাদ আবুরী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

মিলন আলী ॥ গতকাল বিকেল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আবুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যুব সমাজ কর্তৃক আয়োজিত যুব স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ইবনে মিজান নান্নুর সভাপতিত্বে ইউনিয়নে যুব সমাজের মাঝে ফুটবল ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা যুব লীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা যুব লীগের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হক স্বপন, মিরপুর উপজেলা যুব লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম বিশ্বাস, সহ সভাপতি দুলাল মন্ডল, কুষ্টিয়া শহর যুব লীগের আহবায়ক আরিফুজ্জামান সুজন, যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম বাবু, তালবাড়ীযা ইউপির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হান্নান বিশ্বাস, মিরপুর পৌর যুবলীগের আহবায়ক হাসানুজ্জামান খান তাপস, মিরপুর উপজেলা যুবলীগের নেতা তৌহিদুল ইসলাম তুফান, মালিহাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নোওয়াব আলী মেম্বর, যুবলীগের সাধারন সম্পাদক সাদিকুর রহমান টুটুল, যুবলীগ নেতা আহম্মেদ আলী, মিরপুর উপজেলা যুব লীগের সদস্য হাজী আশরাফ পারভেজ, যুবলীগ নেতা হারুন অর রশিদ, কুর্শা ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মাহাবুল মাস্টার, বদরুজ্জামান টুটুল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মিরপুর থানা যুব লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক রাজু। পরে প্রধান অতিথি ৩০টি ফুটবল ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরন করেন।

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো বিতর্ক কাম্য নয়

সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ বিষয়ে খোদ ইসিতেই যে মতভেদ রয়েছে, তা প্রকাশ পেয়েছে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (লিখিত আপত্তি) দিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের সভাস্থল ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে। গত বৃহস্পতিবার কমিশনের মুলতবি সভার শুরুতে আইন সংস্কার কমিটির প্রধান হিসেবে একজন নির্বাচন কমিশনার ১৫টি সংশোধনীর প্রস্তাব পেশ করলে কমিশন অন্তত ৮ থেকে ১০টি ক্ষেত্রে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নেয়, যার মধ্যে ইভিএম গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সর্বশেষ সংলাপে যে ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল তার মধ্যে ১২টি ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিলেও আওয়ামী লীগ ও জোটভুক্ত দলগুলো পক্ষে মতামত দেয়। সংলাপের পর নির্বাচন কমিশনও বলেছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, নয়তো নয়। এ প্রেক্ষাপটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাস দু’য়েক আগে তড়িঘড়ি করে ইভিএম ব্যবহারের বিধান আইনে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে আরপিও সংশোধন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা মনে করি, নির্বাচনে ইভিএমসহ যে কোনো ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতৈক্য হওয়া দরকার। ইসি আয়োজিত সংলাপে বিএনপিসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল যেখানে ইভিএমের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, সেখানে তাদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই ইভিএমে ভোটগ্রহণে ইসির এত আগ্রহ কেন- এ প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়। আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেই তা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ইভিএমে ভোট গ্রহণের অতিউৎসাহী এ সিদ্ধান্ত কাউকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেবে না- এমন নিশ্চয়তা কি ইসি দিতে পারবে? ইভিএম নয়, বরং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেটা নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি। এটা সত্য, প্রযুক্তির কল্যাণে সহজে ও দ্রুততম সময়ে যে কোনো কাজ করা সম্ভব এবং জীবনের নানা ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায়। ইভিএমে তেমন অনেক সুবিধা হয়তো পাওয়া যাবে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের ঐকমত্য ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হবে বলেই মনে হয়। পূর্ববর্তী সংলাপে যেহেতু অনেক রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিরোধিতা করেছে, নতুন করে সংলাপ ডাকা হলে তারা এটির পক্ষে কথা বলবে- এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসি অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে, তবে তা যেন অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতি  তৈরি না করে এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে না ফেলে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। তাছাড়া নির্বাচনের প্রাক্কালে আরপিও সংশোধন, প্রকল্প পাস, সংলাপ ও ভোটগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষিত করে তোলা যাবে কিনা, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়। কোনো ধরনের ‘হ-য-ব-র-ল’ পরিস্থিতির জন্ম না দিয়ে বরং সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইসি সামনে অগ্রসর হবে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সচেষ্ট হবে, এটাই কাম্য।

॥ কুলদীপ নায়ার ॥

৭১ বছরেও বরফ গলেনি পাক-ভারত সম্পর্কের

ভারতের স্বাধীনতা লাভের তিনদিন আগের কথা। দিনটি ছিল ১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট। আমার বাবা একজন ডাক্তার। তিনি আমাদের তিনভাইকে ডেকে পাঠালেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জানতে চাইলেন আমাদের পরিকল্পনা কী? আমি বললাম, আমি পাকিস্তানেই থাকতে চাই। ভারতে মুসলমানরা যেভাবে থাকবেন আমরাও সেভাবে পাকিস্তানেই থাকব। আমার বড় ভাই সেসময় অমৃতসরে পড়ালেখা করতেন। তিনি কথার মাঝখানে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, পশ্চিম পাঞ্জাবে মুসলমানরা হিন্দুদের বাড়িঘর খালি করে দিতে বলবে। একইভাবে যেসব মুসলমান পূর্ব পাঞ্জাবে বসবাস করছেন, তাদের চলে যেতে বলা হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হিন্দুরা যদি নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে দিতে না চায়, তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব? জবাবে তিনি বললেন, প্রয়োজনে আমাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে।

তখন কী ঘটেছিল এটাই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। আগস্টের ১৭ তারিখ। ভারতের স্বাধীনতা লাভের মাত্র দুদিন পরের ঘটনা। কয়েকজন ভদ্র মুসলমান আমাদের কাছে এলেন। তারা আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। আমি তাদের একজনকে বললাম, তাহলে আমরা কোথায় যাব? তিনি ভারতের জলন্ধরে অবস্থিত তার বাড়ির চাবি আমাদের হাতে ধরিয়ে দিলেন। বললেন, আপনাদের তেমন কিছুই করতে হবে না। কেননা বাড়িটি বিভিন্ন আসবাবপত্রে সুসজ্জিত এবং দখলের জন্য প্রস্তুত। আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম।

তারা চলে যাওয়ার পর আমাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আমরা সবাই খাবার টেবিলে বসলাম। আমি ভাইদের বললাম, আমি কিন্তু পাকিস্তানেই ফিরে আসছি। তারা বললেন, তারা অমৃতসর যাচ্ছেন, গোলমাল থেমে গেলে আবার ফিরে আসবেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা ভারতে গিয়ে খুব জোর মাসখানেক থাকব। তারপর আবার ফিরে আসব। আমার মা আমাদের ঘরে তালা দেওয়ার সময় বললেন, আমার মন বলছে আমরা আর ফিরে আসতে পারব না। আমার বড় ভাইও তার সঙ্গে একমত হলেন।

আমি নীলরঙের একটা কাপড়ের ব্যাগে একটা শার্ট ভরে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বললাম, দিল্লির দরিয়াগঞ্জে মামার বাড়িতে আমাদের দেখা হচ্ছে। আমার মা আমাকে ১২০ রুপি দিলেন যাতে দিল্লিতে সবার সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত আমি চলতে পারি। আমার বাবা আমার এই সফরকে সহজ করে তুললেন। তিনি একজন ব্রিগেডিয়ারকে বলে দিলেন যাতে সীমান্তের ওপারে আমাদের তিনভাইকে গ্রহণ করা হয়। এই ব্রিগেডিয়ার ছিলেন আমার বাবার একজন রোগী। তিনি সব শুনে বললেন, তার জংগাটি (গাড়িবিশেষ) ছোট। সেখানে আমাদের একজনের জায়গা হতে পারে। পরের দিন সকাল বেলা আমাকে তার গাড়িতে ঠেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। আমি আমার চোখের জল লুকোতে পারলাম না। আবার সবার সঙ্গে দেখা হবে কিনা আমার সন্দেহ হলো।

শিয়ালকোট থেকে সাম্বিয়ালের যাত্রাপথটি ছিল খুব সাধারণ। কিন্তু এরপর দেখলাম দুই পাশে কেবল মানুষভর্তি এক একটা বৃহত্ শকট। এসব মরুর যানবাহনে হিন্দুরা যাচ্ছে ভারতে, আর মুসলমানরা যাচ্ছে পাকিস্তানে। হঠাৎ আমাদের জংগা গাড়িটি থেমে গেল। একজন বৃদ্ধ শিখ আমাদের পথ আগলে ধরলেন। তিনি তার নাতনিটিকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিক্ষা চাইলেন। আমি তাকে ভদ্রভাবে বললাম, আমি তো এখনো পড়াশুনা করছি। আমি আপনার নাতনিকে বহন করে নিয়ে যেতে পারি না। যাহোক, তিনি কাতরভাবে অনুনয়-বিনয় করছিলেন। বৃদ্ধ লোকটি তখন বললেন যে, তিনি তার পরিবারের সব সদস্যকেই হারিয়েছেন। এখন তার ওই নাতিটিই কেবল বেঁচে আছে। তিনি চান তার নাতিটি অন্তত বেঁচে থাকুক।

বৃদ্ধ লোকটির অশ্র“সিক্ত মুখ আজও আমার মনে পড়ে। কিন্তু আমি তাকে আমার বাস্তবতার কথাই বলেছিলাম। যেখানে আমার নিজেরই ভূত-ভবিষ্যতের ঠিক নেই, সেখানে একজন শিশুকে আমি কীভাবে লালন-পালন করব? তারপর আমরা এগিয়ে গেলাম। যাত্রাপথে আমরা দেখলাম এখানে-সেখানে মালপত্র পড়ে আছে। কিন্তু মৃতদেহগুলো যথাসময়েই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তারপরও বাতাসে পাওয়া যাচ্ছে মরা মানুষের উত্কট গন্ধ ।

সেসময় আমি প্রতিজ্ঞা করি, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এ কারণেই আমি ওয়াগাহ সীমান্তে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন শুরু করলাম। ২০ বছর আগে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাত্র ১৫-২০ জন লোক নিয়ে শুরু হয় এই ছোট আন্দোলন । এখন মোটামুটি এক লাখ লোক ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন। পাকিস্তান সীমান্তেও সীমিত সংখ্যক লোক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

জনগণের কৌতূহল ও আগ্রহের সীমা নেই। কিন্তু দুই দেশের সরকার আছেন তাদের মতো। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের পুরো এলাকায় জারি করা হয় কারফিউ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স উভয়ই যাতে আমাদের জিরো পয়েন্টে যাওয়ার অনুমতি দেয়, এইজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে আমি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছে চিঠি লিখেছি। মোমবাতি প্রজ্জ্বলন আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে এক দিকে রয়েছে স্টিল গেট।

এই ব্যবস্থার কারণে কিছু লোক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আমি আশা করি, এই সময় সীমান্ত শিথিল ও চারপাশের পরিবেশ থাকবে শান্ত যাতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘৃণা ও শক্রতার নিরসন হয়। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী যখন স্থলপথে দিল্লি থেকে লাহোর শোভাযাত্রা করেন, তখন সেই বাসে আমিও ছিলাম। দেখেছি দু’পাশে মানুষের হাস্যোজ্জ্বল চেহারা। ভেবেছিলাম এই যাত্রা দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্য, যৌথ উদ্যোগ ও জনগণ থেকে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে।

কিন্তু যখন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হলো, তখন আমি হতাশ হলাম। এর ফলে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াতে সৃষ্টি হলো প্রতিবন্ধকতা । ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হলো সীমাবদ্ধতা। অতীতে বুদ্ধিজীবী, সংগীত শিল্পী ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। পারতেন যৌথ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে। কিন্তু দুই দেশের সরকার ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলে। ফলে আজ তাও বন্ধ হয়ে গেল। বাস্তবে সরকারি বা এমনকি বেসরকারিভাবেও দুই দেশের মাঝে এখন কোনো যোগাযোগ নেই।

পাকিস্তানের নয়া প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, তিনি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য নিশ্চিত করবেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণে আমার আশঙ্কা হয় যে, তার এই অঙ্গীকার রক্ষার অনুমতি তাকে দেওয়া হবে না। আবার দেওয়া হতেও পারে। কারণ সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণকে অনেক সময় অতিরঞ্জিত করা হয়। সেনাবাহিনীও শান্তি চায়। কেননা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের লোককেই যুদ্ধ করতে হয়। দুঃখের বিষয় হলো, ভারতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও পাকিস্তানে তা হয় না। সেখানে সেনাবাহিনীই শেষ কথা বলে। এ কারণে সেখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই ব্যাপারে ইমরান খান সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হবেন কিনা তা কল্পনা করা কঠিন।

নয়াদিল্লির একটি উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কিন্তু মুম্বাই বোমা হামলায় যেসব সন্ত্রাসী জড়িত তাদের প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করা ও তাদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লি এ ব্যাপারে ইসলামাবাদের সঙ্গে কোনো প্রকার উদ্যোগ নেবে না বলে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দুই দেশের মাঝে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতের দাবি মেনে নিয়ে ইমরান খানের এই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। (কুলদীপ নায়ারের প্রকাশিত এটিই শেষ লেখা।)

ইংরেজি থেকে অনুবাদ : ফাইজুল ইসলাম

লেখক ঃ সদ্যপ্রয়াত ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক, রাজনীতিক ও কলামিস্ট

কুষ্টিয়া ফুটবল এসোসিয়েশন আয়োজিত ২য় বিভাগ ফুটবল লীগ

আড়–য়াপাড়া যুব সংঘ ও পাঠাগারকে পরাজিত করে সবুজ সংঘ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম বলেছেন, বিশ^ব্যাপি ফুটবল এখনও জনপ্রিয় খেলা। আমাদের দেশে এক সময় ফুটবলের ছিল স্বর্ণযুগ। সে সময় প্রতি বছর প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এবং জেলা-উপজেলায় নিয়মিত ফুটবল খেলার আয়োজন করা হতো। বিভিন্ন কারণে ফুটবলের সেই গৌরব গাঁথা ইতিহাস আজ হারাতে বসেছে। তাই প্রতিটি ফুটবল প্রেমিদের প্রতি আহবান রাখবো আপনারা ফুটবলের হারানো ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন। তিনি বলেন, এদেশের ফুটবল জগতে কুষ্টিয়ার অনেক সুনাম আছে। এক সময় কুষ্টিয়ার অনেক তারকা ফুটবলার জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখে কুষ্টিয়ার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আমরা তাঁদের মতো ফুটবলার তৈরী করতে চাই। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, এ লীগের আয়োজন করায় জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ লীগের চ্যাম্পিয়ন দলকে ২০ হাজার এবং রানার আপ দলকে ১০ হাজার টাকাসহ ফুটবল এসেসিয়েশনকে ১৫টি ফুটবল প্রদানের ঘোষণা দেন। গতকাল রবিবার বিকেলে কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম মাঠে কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আয়োজিত ২য় বিভাগ ফুটবল লীগ ২০১৮ চুড়ান্ত পর্বের খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাজী রবিউল ইসলাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান বলেন, দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে পেয়ে আমরা আনন্দিত। এজন্য আয়োজকদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। তিনি বলেন, আজকের খেলায় খেলোয়াড়রা যে ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখালো তাতে আমরা অভিভূত। আশারাখি এরা একদিন কুষ্টিয়ার মুখ উজ্জ্বল করবে। অপর বিশেষ অতিথি কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেন, আমরা যুব সমাজকে ঘরে বসে থাকতে দেখতে চাই না। আমরা চাই যুব সমাজ লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হবে। তারা বিশেষ করে বিকেল বেলায় খেলার মাঠে থাকবে। তিনি বলেন, একজন কৃতি খেলোয়াড় দেশের রাষ্ট্রদূতের সমান কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আমরা  অনেকেই একটি দেশের রাষ্ট্রপতির নাম জানি না অথচ সেই দেশের ভাল খেলোয়াড়কে আমরা চিনি ও জানি। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলার কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, খেলাধূলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। যারা পরাজিত হয়েছো তাদের মন খারাপের কিছু নেই, কারণ সকল পরাজয়ের মধ্যে আছে জয়ের সূচনা। তাই দু’টি দলকেই জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। তিনি জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনকে ১০টি ফুটবল প্রদানের ঘোষণা দেন। কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মকবুল হোসেন লাবলু সভাপতির বক্তৃতায় বলেন, আগামীতে আমরা নিয়মিতভাবে ফুটবল লীগের আয়োজন করতে চাই। তিনি বলেন, সকলের সার্বিক সহযোগিতায় ২য় বিভাগ ফুটবল লীগ সম্পন্ন হলো। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হতে ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু হবে। আশারাখি  প্রতি দিনের খেলা উপভোগ করতে আপনারা সবাই মাঠে আসবেন। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মজমপুর শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি এবং এক সময়ের খ্যাতিনামা ফুটবলার মোঃ মুসা (কালো মানিক)। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সাদাত উল আনাম পলাশ। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেব-উন-নিসা সবুজ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ, ২য় বিভাগ ফুটবল লীগের চেয়ারম্যান সেখ সুলতান আহমেদ, সদস্য-সচিব মোঃ আনিসুর রহমান আনিসসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের আয়োজনে কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম মাঠে গত ৩১ জুলাই থেকে ২য় বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু হয়। এলীগে ৬টি গ্র“পে ১৮টি দল অংশগ্রহণ করে। চুড়ান্ত পর্বের খেলায় সবুজ সংঘ ক্লাব বনাম আড়–য়াপাড়া যুব সংঘ ও পাঠাগার অংশগ্রহণ করে। ৭০ মিনিটের এ খেলার প্রথমার্ধে আড়–য়াপাড়া যুব সংঘ ২টি গোল করে এগিয়ে থাকলেও খেলার দ্বিতীয়ার্ধে সুবজ সংঘ ক্লাব গোল ২টি পরিশোধ করে। ফলে খেলাটি  টাইব্রেকারে গড়িয়ে যায়। টাইব্রেকারে সবুজ সংঘ ক্লাব ৩-২ গোলে আড়–য়াপাড়া যুব সংঘ ও পাঠাগারকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

লীগে সবুজ সংঘ ক্লাবের খেলোয়াড় সাহাব সর্বোচ্চ গোল দাতা এবং আশিক সেরা গোল কিপার এবং আড়–য়াপাড়া যুব সংঘ ও পাঠাগারের খেলোয়াড় তরিকুল সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। চুড়ান্ত পর্বের এ খেলা পরিচালনা করেন জিল্লুর রহমান এবং তাকে সহযোগিতা করেন মোঃ হাবিবুর রহমান ও নাজমুল ইসলাম। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

এবার অভিনয়ে হাবিব

বিনোদন বাজার ॥ এই প্রথম অভিনয় করলেন দেশীর সংগীতের অন্যতম তারকা হাবিব ওয়াহিদ। মিউজিক ভিডিওতে গানে গানে রোমান্টিক লুকে ধরা দিলেও এবার হাবিব এলেন সরাসরি অভিনয়ে। তবে তার নতুনগান ‘আবার তুই’কে ঘিরেই নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি। ২২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই শর্টফিল্মটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। ইন্দোনেশিয়ার বালির বিভিন্ন লোকেশনে চিত্রায়িত হয়েছে এটি।হাবিব ওয়াহিদের সাথে এতে অভিনয় করেছেন আয়েশা মারজানা। হাবিবের সুর-সংগীতে ‘আবার তুই’ গানটির কথা লিখেছেন রঞ্জু রেজা।এ প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, “মিথ্যে নয় এবং ঝড় গান দুটির ভিডিওতে ডায়লগ না দিলেও আমি অভিনয় করেছি। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই এবার প্রথমবারের মতো শর্টফিল্মে অভিনয় করেছি। এটা আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। আইডিয়াটি এসেছে মূলত অংশু ভাইয়ের মাথা থেকে। গানটি শোনার পর তিনিই গল্পটি তৈরি করে আমার সঙ্গে শেয়ার করেন। গল্পটি আমার খুব ভালো লেগে যায়। যার ফলে অভিনয় করতে রাজি হই। আশা করি দর্শক-শ্রোতারাও কাজটি উপভোগ করবেন।”২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় গানচিল মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে।

পাগল বেশে তৌসিফ

বিনোদন বাজার ॥ শুধু টেলিভিশন বদলে যাওয়া সময়ে ইউটিউবের দর্শকদের জন্যও নির্মিত হচ্ছে নাটক। লায়নিক মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে ইউটিউবের জন্য নির্মিত নাটকটিতে ভিন্নধর্মী চরিত্রে হাজির হয়েছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব।এবারই প্রথম এমন রূপে আবির্ভুত হয়েছেন তৌসিফ। নোংরা জামা-কাপড় আর জটাধারী চুলে তাকে চেনাই দায় হয়ে পড়েছে। এমন তৌসিফকে দেখা যাবে ‘তারই অপেক্ষায়’ নামে একটি নাটকের চরিত্রে।মোহন আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটিতে তৌসিফের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার আরেক জনপ্রিয় মুখ টয়া।এমন ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তৌসিফ বলেন, “প্রথমবার এমন পাগলের ভূমিকায় কাজ করেছি। সত্যিকারের আবর্জনার মধ্যে শুয়েছি। নোংরা জামা কাপড় পরে শুট করেছি। মোট কথা পর্দায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য যারপরনাই পরিশ্রম করেছি। আশা করছি দর্শকরা আমাকে নতুন করে আবিষ্কার করবে।”দকে টয়া বলেন, “নাটকটির গল্পে ভিন্নতা আছে। এটি আমার এবারের ঈদের কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ তারই অপেক্ষায় নাটকটি ৩১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় লায়নিক মাল্টিমিডিয়ার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এক্সক্লুসিভলি অবমুক্ত হয়। লায়নিক মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নাটকটি ফ্যাক্টর থ্রি সল্যুশনের প্রোডাকশন হিসেবে নির্মিত।”নাটকটির স্পন্সর হিসেবে আছে রঙ বাংলাদেশ ও কিডস ডায়পার।তৌসিফ ও টয়া ছাড়াও নাটকটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুনিরা মিঠু, ফয়সাল হাসান, অমি ইসলাম, আলামিন সুমন, হাওলাদার সোহাগ, রানা প্রমুখ।

 

বিবারকে ভুলতে পারছেন না সেলেনা

বিনোদন বাজার ॥  মার্কিন পপ তারকা সেলেনা গোমেজ এখন পর্যন্ত যে কজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তাদের মধ্যে আবেগের জায়গায় সবচেয়ে জড়িয়ে আছে জাস্টিন বিবারের নাম। প্রায় ৭ বছর চুটিয়ে প্রেম করেছেন বিবার-সেলেনা।এরমধ্যে কয়েকবার সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়ে আবারো জোড়া লেগেছে। কিন্তু শেষবার বিচ্ছেদের পর বিবার তার নতুন সঙ্গিনীর সাথে রয়েছেন। আর এদিকে কষ্টে রয়েছেন সেলেনা। বিবারের সঙ্গে কাটানো প্রিয় মুহূর্তগুলো মনে করেই এখন সময় পার করছেন তিনি। তার কাছের বন্ধুদের কাছ থেকে এমনটাই জানা যায়। কিছুতেই বিবারকে ভুলতে পারছেন না সেলেনা।

 

সঞ্জয় লীলার সিনেমাকে ‘না’ বললেন ঐশ্বরিয়া!

বিনোদন বাজার ॥ এবার বিতর্কের তোপে পড়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। জানা গেছে, অনুরাগ কাশ্যপের নতুন ছবি ‘গুলাব জামুন’-এ অভিনয় করার জন্য সঞ্জয় লীলা বানসালির সিনেমায় না করে দিয়েছেন ঐশ্বরিয়া। প্রায় ৮ বছর পর স্বামী অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার জন্যই নাকি বানসালির সিনেমা ছেড়েছেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। এমনই গুঞ্জন রটেছে বলিউড পাড়ায়।আবার অন্যদিকে শোনা যাচ্ছে, সঞ্জয় লীলা বানসালি কখনোই ঐশ্বরিয়াকে তার আগামী সিনেমার জন্য প্রস্তাব দেননি। এসব বিষয়ে যা বলা হচ্ছে তা পুরোটাই গুজব বলেও দাবি করেছেন সঞ্জয় লীলা বানসালির মুখপাত্র।এই সিনেমার জন্য কখনো অন্য কোনো অভিনেত্রীর কথা ভাবা হয়নি বলেও দাবি করেছেন বানসালি। তবে বিতর্কিত এই বিষয় নিয়ে ঐশ্বরিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলেও তিনি কিছুই বলেননি।

পুষ্টিগুণে ভরপুর মাশরুম

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন মাশরুম। কেউ কেউ একে ব্যাঙের ছাতাও বলে থাকে। বর্তমানে খাবার হিসেবেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাশরুম। রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল উপাদান। দেহের রোগ- প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহায়ক অত্যাবশ্যকীয় ১০টি অ্যামাইনো এসিডও বিদ্যমান। চর্বির পরিমাণ খুবই কম থাকে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও ক্যান্সারসহ বেশকিছু মারাত্মক রোগব্যাধি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মাশরুম। নানা ধরনের খাবারও তৈরি করা হচ্ছে মাশরুম থেকে। বাংলাদেশের আবহাওয়া মাশরুম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। পুষ্টির ঘাটতি পূরণ, দারিদ্র বিমোচন, মাথাপিছু আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মাশরুম চাষ। বেকার তরুণ -তরুণীদের কর্মসংস্থানেরও দুয়ার খুলে দিতে পারে বিভিন্ন ভালো জাতের মাশরুম চাষ। এছাড়াও অনেকে বাসা বা বাড়ির আনাচে -কানাচে ছোট পরিসরে অনেকটা শখের বশেও মাশরুম চাষ করে থাকে। জানা যায়, সারাবিশ্বে প্রায় ১৪ হাজার প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার প্রজাতি খাবার উপযোগী এবং ৭০০ প্রজাতি ঔষধি হিসেবে খ্যাত। বাকিগুলোর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির মাশরুমই বিষাক্ত। সম্প্রতি জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র হতে ৯ প্রজাতির মাশরুম চাষের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সারা বছরই চাষ করা যায়, এমনকি চাষের ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়াও সাভারে অবস্থিত এ মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে মাশরুম চাষের ওপর প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। এ কার্যক্রম চলে প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। প্রতিদিন প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য আগ্রহীরা ভিড় জমান। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনেই রয়েছে বাহারি মাশরুম বিক্রির জন্য ছোট একটি হাট। মাশরুম বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন সাধারণত একেকজন প্রায় ১৫-২৫ কেজি মাশরুম বিক্রি করে থাকেন। প্রত্যেকের মাসিক আয় ২৫-৩০ হাজার টাকা। মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. নিরদ চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা বাংলাদেশে চাষের উপযোগী ৯টি জাত অবমুক্ত করেছি। মাশরুম চাষের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মাশরুম চাষ।

শাহরুখ কি খানদের যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন?

বিনোদন বাজার ॥ শাহরুখ খান, আমির খান ও সালমান খানের বলিউড রাজত্বের কথা সবারই জানা। কিন্তু গত দু-বছরে তিন খানের মধ্যে শাহরুখের অবস্থান একদমই নিম্নমুখী। শাহরুখের শেষ কয়েকটি ছবি বক্স অফিসে খুব একটা সফলতা পায়নি। আলোচনার দিক থেকেও ছবিগুলো পিছিয়ে। কিন্তু আমির খান ও সালমান খান একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়ে চলছেন। তাদের দু-জনের প্রতিটি ছবি সমালোচকদের ইতিবাচক মন্তব্য পেয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শাহরুখের অবস্থান একদমই নিম্নমুখী। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বলিউড কিং কি খানদের যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন? কিন্তু পেছন ফিরে তাকালে দেখা যাবে, প্রতিভা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব আর রসবোধ দিয়ে শাহরুখ কোটি দর্শকের মন জয় করেছেন। নিজের সেরাটা দিয়েছেন সব সিনেমায়। আর তাই বলিউড কিং খেতাবও জুটেছে নামের আগে। তবে হঠাৎ করেই কেন শাহরুখের এ অবস্থা? ফ্যান, দিলওয়ালে কিংবা জাব হ্যারি মেট সেজাল দর্শকদের চমক দেওয়ার বদলে হতাশ করেছে। বক্স অফিসের অঙ্কটাও সুবিধার নয় খুব একটা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল জাব হ্যারি মেট সেজাল। সিনেমাটির প্রথম শো শেষ হওয়ার আগেই হল থেকে দর্শকরা নেতিবাচক মন্তব্য লিখে টুইট করেছেন। সেদিনই শাহরুখ বুঝে গিয়েছিলেন এই সিনেমাটির ফলাফল কি হবে! জাব হ্যারি মেট সেজাল মোট আয় করেছিল মাত্র দেড়শ’ কোটি রুপি, যার মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে আয় ছিল মাত্র ৮৯ কোটি রুপি। এদিকে, আগামী ২১ ডিসেম্বর শাহরুখের ‘জিরো’ সিনেমাটি মুক্তি পাবে। শাহরুখ এই সিনেমাটি নিয়ে বলেছেন, বড় চমক নিয়ে আসছেন তিনি। তাই তার কথার ওপর ভিত্তি করে অনেকে আশায় বুক বাঁধছেন। সবাই দেখতে আগ্রহী শাহরুখ নতুন করে কী উপহার দেন! কিন্তু সেটাও যদি দর্শকদের সময় অপচয়ের কারণ হয় তাহলে শাহরুখের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বলিউড সমালোচকরা। তবে অনেকে আবার বলছেন, বলিউডের দিকে খুব একটা নজর না দিয়ে হয়তো হলিউডের দিকে চোখ রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু শাহরুখ স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, তিনি মোটেও হলিউডমুখী হতে চান না। তাছাড়া ইরফান খান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, অনুপম খের কিংবা অমিতাভ বচ্চনের মতো তিনি কখনোই হলিউডের ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পাননি। শাহরুখ বলেন, ‘আমি জানি না হলিউডের জন্য আমি উপযুক্ত কি-না! আমার মনে হয়, ইংরেজিতে খানিকটা দুর্বলতা আছে আমার।’ তবে নিজেকে নিয়ে শাহরুখ অনেক আগে থেকেই স্বীকার করেছেন, তিনি হচ্ছেন এমন এক তারকা যিনি নিজের তারকাখ্যাতির তলে চাপা পড়েছেন। হিরো ইমেজ ভেঙে তারকাদের বেরিয়ে আসাকে অনেক সময় ইতিবাচক হিসেবে ধরা হয়। জিরোতে শাহরুখের এই উদ্যোগ ভালো ফল আনবে বলেই অনেকে আশা করছেন। শুধু শারীরিক আকৃতি পরিবর্তনই নয়, শাহরুখ জানিয়েছেন জিরোতে তার চরিত্রটি এক ছ্যাঁচড় প্রকৃতির মানুষের। অর্থাৎ শাহরুখ তার আগের যেকোনো চরিত্র থেকে এবার কিছুটা ভিন্নভাবে হাজির হতে যাচ্ছেন। সমালোচকরা বলেছেন, এটা নিশ্চিত যে, শাহরুখ তার স্টারডম ভাঙতে চাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফলটা কি হবে সেটা দেখা যাবে এ বছরের শেষেই!

সর্বোচ্চ বাজেট নিয়ে আসছেন অনন্ত দিন : দ্য ডে ছবির কাজ শুরু শিগগিরই

বিনোদন বাজার ॥ ওদশীয় চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বড় বাজেট নিয়ে চিত্রনায়ক, প্রযোজক অনন্ত জলিল শুরু করছেন তার নতুন ছবি ‘দিন : দ্য ডে’। তিনি জানিয়েছেন, এ যাবত বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে কিংবা যৌথ প্রযোজনায় যেসব ছবি নির্মিত হয়েছে, আমার ছবিটির বাজেট তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি। যেটা অন্যরা তো দূরে থাক, আমি নিজেও কল্পনা করিনি। এ পরিমাণ অর্থ খরচ করে ছবি নির্মাণের সাহস বাংলাদেশে কেউ দেখায়নি। যদিও আমার আগের ছবিগুলোও বিগ বাজেটের ছিল। যা ওই সময়ের আগে নির্মিত ছবির বাজেটের তুলনায় তিন থেকে চারগুণ বেশি। তবে নতুন ছবিটির বাজেট সত্যিই অকল্পনীয়।’ ঠিক কত টাকা বাজেটে ছবিটি নির্মিত হচ্ছে যে সম্পর্কে এখনই সব খোলাসা করতে রাজি নন অনন্ত। তবে ছবির বাজেট ১৫ বা ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এর কারণও উল্লেখ করেছেন অনন্ত। তিনি বলেন, ‘এ ছবির গল্পই মূলত বাজেট বেশি হওয়ার মূল কারণ।যে ধরনের গল্প নিয়ে আমরা কাজ করছি, সেটা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। এজন্য বিভিন্ন দেশে শুটিং করতে হবে। তাছাড়া এ ছবিতে কাজ করবেন অস্কার পাওয়া অভিনেতা ও কলা-কুশলীরা।যেটা এর মধ্যে আমাকে ইরান থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজেট আমার ধারণার বাইরে হতে পারে।’ তবে বিশাল অংকের বাজেট নিয়ে নির্মিত ছবিটির বাংলাদেশে প্রদর্শনী নিয়ে তিনি শংকা প্রকাশ করেছেন।কারণ, ভালো মানের সিনেপ্লেক্স ছাড়া এ ছবিটি দেখে মজা পাবেন না দর্শকরা। কারণ এর মেকিংয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দেশীয় সিনেমার বাজারও মন্দা। তবে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি দিয়ে এর খরচ পুষিয়ে আনার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন অনন্ত। যদিও ছবিটি ইরানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসে ইরান যান তিনি।সেখানে ফারাবি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এ ছবি নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা হয়। এবং সেখানে তাদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তা-ই তুলে ধরা হবে এ নতুন ছবিতে।পাশাপাশি জঙ্গি হামলা এবং সেটার প্রতিরোধ ব্যবস্থার অনেক কিছুই এ ছবিতে থাকবে বলে জানা গেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ছবিটির শুটিং শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছেন অনন্ত। এ মুহূর্তে চিত্রনাট্য তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন তিনি। ছবিতে বরাবরের মতো অনন্ত জলিলের পাশাপাশি তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা বর্ষাও অভিনয় করবেন।

আফগান স্পিনারদের ‘পরিকল্পনা মাফিক’ খেলবে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রশিদ খানের লেগ স্পিনে মুখ থুবড়ে পড়ার সাম্প্রতিক স্মৃতি আছে। অতীতেও রিস্ট স্পিন সামলানোয় নেই খুব বেশি সুখ স্মৃতি। সামনের পথচলায়ও এটি এড়িয়ে চলার উপায় নেই। এশিয়া কাপেও অপেক্ষায় এই চ্যালেঞ্জ। এবার পরিকল্পনামাফিক ব্যাটিংয়ে সেই চ্যালেঞ্জ জিততে চায় বাংলাদেশ, জানালেন দলে ফেরা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। গত জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ রশিদের স্পিনে ধুঁকেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপেও গ্র“প পর্বে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। গ্র“প পর্ব উতরালে পরের রাউন্ডে পড়তে হতে পারে সীমিত ওভারে সময়ের অন্যতম সেরা দুই ভারতীয় স্পিনার যুজবেন্দ্র চেহেল ও কুলদীপ যাদবকে। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণেও অন্যতম মূল অস্ত্র লেগ স্পিনার শাদাব খান। বাংলাদেশের এশিয়া কাপ প্রস্তুতি পর্বে রোববার থেকে শুরু হয়েছে স্কিল ট্রেনিং। যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে লেগ স্পিন সামলানোয়। ব্যাটসম্যানদের অনুশীলনের জন্য ডাকা হয়েছে লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেনকে। রিস্ট স্পিনের চ্যালেঞ্জ জিততে বাংলাদেশ দল অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি তাকিয়ে থাকবে মিঠুনের ব্যাটেরও দিকেও। তার দলে ফেরায় বড় ভূমিকা আছে স্পিন খেলার দক্ষতার। তবে রোববার মিরপুরে অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন মনে করিয়ে দিলেন অন্য একটি বাস্তবতা। “ দেখুন, আমরা যে লেগ স্পিনে খুব বেশি তৈরি হব, সেই অপশনও কিন্তু নেই। বাংলাদেশে খুব বেশি লেগ স্পিনারই নেই। আমরা লেগ স্পিনার খুঁজেও পাই না। এর মধ্যেই আমরা যতটুকু অনুশীলন করতে পারি, কাজে লাগাতে পারি, যেভাবে পরিকল্পনামাফিক খেলা যায়, সেটাই চেষ্টা করব।” তবে শুধু লেগ স্পিনেই যে মনোযোগ দিলে চলবে না, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন মিঠুন। “ভালো খেলতে হলে আসলে শুধু রিস্ট স্পিনার না, প্রত্যেকটি বোলারকেই ভালো খেলতে হবে। একজন ব্যাটসম্যানের জন্য একটি বলই যথেষ্ট আউট হতে। আমাকে যদি ভালো ইনিংস খেলতে হয়, তাহলে প্রতিটি বোলারকেই আমার ভালোভাবে খেলতে হবে।” “আমি যদি শুধু রিস্ট স্পিনারকে টার্গেট করি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় ব্যাপারটি অনেকটা নেতিবাচক হয়ে যায়। আমি যখন যে বোলারকে খেলব, তখন কিভাবে সামলাতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”