সাংবাদিক শরীফ বিশ্বাসের মেজভাই ফারুক বিশ্বাসের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন

নিজ সংবাদ ॥ দি টিচার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল২৪’র কুষ্টিয়া স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শরীফ বিশ্বাসের মেজভাই ফারুক বিশ্বাস ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না এলাহে রাজিউন)। সোমবার বিকেল ৪টায় গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে (ঘোড়াশাল) একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে কর্মরত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর। মা, স্ত্রী, দুই কন্যা, নাতনী ভাই বোনসহ অসখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তার নিজ গ্রাম কুষ্টিয়া শহরের ঢাকা গোরস্থান ঈদগাহ ময়দানে জানাযা শেষে ঈদগাহ লাগোয়া গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযা অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল কাদের, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মারুফসহ মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় মুসল্লিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। পরে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি চাকরিজীবী ৫% সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা গৃহঋণ পাবেন

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি চাকরিজীবীরা মাত্র ৫ শতাংশ সরল সুদে (সুদের ওপর কোনো সুদ আদায় করা হবে না) সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন। গত সোমবার ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহ নির্মাণ ঋণ নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৬ বছর করা হয়েছে। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। নীতিমালায় সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। ঋণের সুদ গড়ে ১০ শতাংশ ধরে বলা হচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে সুদ নেওয়া হবে ৫ শতাংশ। বাকি অংশ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে সুদের ওপর সুদ, অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদ নেওয়া হবে না। এ ছাড়া কোনো ‘প্রসেসিং ফি’ বা আগাম ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ‘অতিরিক্ত ফি’ দিতে হবে না। ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ২০ বছর। শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নীতিমালা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও কর্তৃপক্ষগুলোয় যাঁরা স্থায়ী পদে চাকরি করেন, তাঁদেরই দেওয়া হবে এই ঋণসুবিধা। সামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রয় মালিকানাধীন কোম্পানি, পৃথক বা বিশেষ আইন দ্বারা তৈরি প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মচারীরা এ নীতিমালার বাইরে থাকছেন। সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক, খন্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কেউ এই ঋণ পাবেন না। তবে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকলে বা দুর্নীতি মামলার ক্ষেত্রে অভিযোগপত্র দাখিল হলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঋণের অযোগ্য হবেন। তবে ফ্ল্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে নিজেদের অন্তত ১০ শতাংশ টাকা থাকতে হবে। তৈরি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের পুরো অর্থ এক কিস্তিতে ছাড় করবে ব্যাংক। তবে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে ঋণের টাকা ছাড় করা হবে চার কিস্তিতে। জাতীয় বেতনকাঠামোর পঞ্চম থেকে প্রথম ধাপে (গ্রেড) বেতন-ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে বাড়ি তৈরিতে ঋণ পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। জেলা সদরে বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট কেনায় ঋণের অঙ্ক হবে ৬০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা। নবম থেকে ষষ্ঠ ধাপে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদর এলাকার জন্য ৬৫ লাখ, জেলা সদরে ৫৫ লাখ ও অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। দশম থেকে ত্রয়োদশ ধাপের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৫৫ লাখ, জেলা সদরে ৪০ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ ধাপের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৪০ লাখ, জেলা সদরে ৩০ লাখ ও অন্যান্য এলাকার জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। অষ্টাদশ থেকে বিংশতম ধাপের কর্মচারীরা পাবেন ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৩০ লাখ টাকা, জেলা সদরে ২৫ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ২০ লাখ টাকা ঋণ।

কুষ্টিয়ার পশ্চিম আব্দালপুরে যুবককে অপহরণ

৭ ঘন্টা পর মাঠ থেকে অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুরে এক যুবককে অপহরণের ৭ঘন্টা পর অর্ধতৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা শঙ্কটজনক। গত সোমবার রাত ৮টায় তাকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। পরে রাত ৩ টার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় এলাকার একটি মাঠে পাওয়া যায়। তার সারা শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ইবি থানাধীন পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের জের আলীর ছেলে খোকন গাইনকে বেধড়ক মারিপট করে একই গ্রামের চরমপন্থি নেতা আশরাফুল ও তার সহযোগিরা। পরে তাকে মৃত ভেবে পাশে ডুবা কাদা পানির মধ্যে ফেলে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে আসার পর খোকনের জ্ঞান ফিরলেও শরীরে জখম নিয়ে হাসপাতালের ১০নং ওয়ার্ডে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে । স্থানীয়রা জানান,‘ পুর্ব শক্রতার জের ধরে  সোমবার রাত ৮টার দিকে আব্দালপুর গ্রামের মৃত নায়েবের ছেলে আশরাফুল ও তার দলবল খোকনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতে তাকে আটকিয়ে রেখে চরম মারপিট করা হয়। পরে মৃত ভেবে তাকে এলাকার একটি মাঠে ফেলে রেখে যায়। এরপর পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

খোকন গাইনের পরিবারের লোকজন জানান, চরমপন্থি আশরাফুল ও তার লোকজন খোকনকে অপহরণে করে নিয়ে যায়। পরে তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার অবস্থা খারাপ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ বলেন,‘ রাতে খোকনকে এলাকার একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি কারনে তাকে অপহরণ করে মারপিট করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না – জয়

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নাম এখন মহাকাশে চলে গেছে, আর কেউ চাইলেও তা মুছতে পারবে না। ’৭৫-এর পর দেশের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ওই সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্রও হয়েছিল। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধুর নামে মহাকাশে স্যাটেলাইটে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। চাইলেও আর কেউ তা মুছে ফেলতে পারবে না।’ তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ উদযাপন ও ঢাকার গাজীপুর এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়াতে তার নামে প্রতিষ্ঠিত সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র নামে দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুর ও বেতবুনিয়াতে গ্রাউন্ড স্টেশন দুটির উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর জন্য গাজীপুরের তেলীপাড়ার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ব্যাকআপ গ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে কাজ করবে। সজীব ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন শুধু দেশের মধ্যে সীমাবন্ধ থাকবে না। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ, দ্বীপ ও নদী বা সমুদ্রের মধ্যে থেকে সারাবিশ্ব দেখবে। এটাই ছিল আমার মূখ্য উদ্দেশ্য। এ কারণেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, স্যাটেলাইট তৈরি করতে বাজেটের চেয়েও কম ব্যয় হয়েছে। এখন আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা স্যাটেলাইটের ওপর লেখাপড়া করে এক্সপার্ট হতে পারবে। তারা এটার ওপর ডিগ্রিও নেবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। এতে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

শাজাহান খান দুঃখিত ও বিব্রত

ঢাকা অফিস ॥ নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, তাঁর হাসি যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে তিনি দুঃখিত। বিষয়টিতে তিনি বিব্রত। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে (বিসিআইসি) শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। গত রোববার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। পরে শাজাহান খান ওই দুর্ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া দেনÑ যা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। শাজাহান খান বলেন, সেদিন তিনি মোংলা বন্দর নিয়ে এক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ছিলেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকেরা দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন করতে থাকলে তিনি সে ব্যাপারে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, সাংবাদিকদের বলা হয়েছে অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রশ্ন করতে। সাংবাদিকদের কথার ওপর ভিত্তি করেই তিনি হেসে ফেলেন। তাঁর হাসি যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে তিনি দুঃখিত। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ভুল হচ্ছে আমি হাসি। যারা হাসে তাদের মানুষ ও সৃষ্টিকর্তা ভালোবাসেন। এখন আমার হাসা যদি ভুল হয়, তাহলে আমি আর হাসব না।’

মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা ৫ অক্টোবর

ঢাকা অফিস ॥ এবার সারা দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে ৫ অক্টোবর; আর ৯ নভেম্বর হবে ডেন্টালে ভর্তির পরীক্ষা। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোয় শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মেডিকেলে এমবিবিএস কোর্সে  ভর্তি পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২৭ আগস্ট। আবেদন করা যাবে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ডেন্টালে বিডিএস কোর্সে ভর্তির আবেদন করা যাবে ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। শিগগিরই ভর্তির নিয়মাবলী ও যাবতীয় তথ্যসহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গত বছর এমসিকিউ পদ্ধতিতে এক ঘণ্টার পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশের ১২৬টি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। আর বেসিরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান, বিএমডিসির পরিচালক অধ্যাপক সহিদুল্লা, বিএমএ সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সালান, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সমিতির সভাপতি হাজী মকবুল আহমেদসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দু’টি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা সমগ্র বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারছি এবং আমাদের সন্তানরা মহাকাশ বিজ্ঞান, পরমাণু প্রযুক্তি, সমুদ্র বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্র, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে- যা দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন।’ শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে দু’টি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং তাঁর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে গাজীপুর ও বেতবুনিয়াতে দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের’ (স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন) উদ্বোধন করেছেন। গ্রাউন্ড স্টেশন দু’টির নামকরণ করা হয়েছে সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র গাজীপুর এবং সজীব ওয়াজেদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুুিনয়া। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ১৪ই জুন এই বেতবুনিয়াতে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন এবং সেখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হয় এবং তাঁরই পদাংক অনুসরণ করে আমরা এখন মহাকাশ জয় করেছি।  তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের বেতবুনয়াতে এই উপগ্রহ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি দিয়ে গেছেন। আর সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর পরামর্শ এবং উদ্যোগে আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছি। কাজেই সেই মুজিব থেকে সজীব- সেখানেই আমরা পৌঁছেছি।’ গত ১২ মে বাংলাদেশ সময় ভোর ২টা ১৪ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্যে দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট এবং পরমানু বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানের মাধ্যমে পরমানু ক্লাবের ৩৪তম সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ তার কার্যক্রম শুরু করেছে। এই দু’টি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে স্যাটেলাইট সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু হলো। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর গাজীপুরের তেলীপাড়ার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র প্রাইমারি গ্রাউন্ড স্টেশন এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যাকআপ গ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে যুগপৎ ব্যবহৃত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের কাছে দোয়া চাই। দোয়া করবেন যাতে দেশ ও জাতির সেবার আমরা সবসময় নিয়োজিত থাকতে পারি।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের সেবায় কাজ করে। জনগণের সেবায় কাজ করে যাবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের একমাত্র চিন্তা।’ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যম সুন্দর সিকদার বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন দু’টির নাম সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে নামকরণ করার প্রস্তাব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। পরে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের অন্যতম রূপকার বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাউন্ড স্টেশন দু’টির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানগন, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় এক হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেয়ার জন্য রাখা হবে। ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি হচ্ছে কেইউ ব্যান্ডের এবং ১৪টি সি ব্যান্ডের। গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় স্থাপিত দুটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট দূরত্বে দ্রাঘিমাংশে (প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে) স্যাটেলাইটটি অবস্থান করছে। ইতোপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স-ইতালি থেকে স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণভাবে কন্ট্রোল করা হলেও বর্তমানে গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে ট্র্যাকিং এবং কন্ট্রোলিং করা হচ্ছে। প্রকৌশলীরা এখান থেকে স্যাটেলাইটে সিগন্যাল পাঠিয়ে আবার তা রিসিভ করছে। প্রয়োজন হলে সিগন্যাল পাঠিয়ে স্যাটেলাইটটিকে (১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পজিশনে) নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখার জন্য যা যা করা দরকার তা করছে। নিয়মিত ট্র্যাকিং ও কন্ট্রোলিং করা হচ্ছে।

দেশের ১১ জেলায় নতুন ডিসি

কুষ্টিয়ার নয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় নির্বাচনের ছয় মাস আগে দেশের ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, মানিকগঞ্জ, ফেনী, খাগড়াছড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, শেরপুর, খুলনা, সুনামগঞ্জ ও বান্দরবানে নতুন ডিসি নিয়োগ দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এছাড়া দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের পরিচালক রাম চন্দ্র দাসকে বিভাগীয় কমিশনার করে পাঠানো হয়েছে রংপুরে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তন্ময় দাসকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নোয়াখালীতে, দুদক কমিশনারের একান্ত সচিব এস এম ফেরদৌসকে মানিকগঞ্জে এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে ফেনীতে বদলি করেছে সরকার। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম খাগড়াছড়ি, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডেজ এম নুরুল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিনকে নীলফামারী এবং আইএমইডির উপসচিব আনার কলি মাহাবুব শেরপুরের ডিসির দায়িত্ব পেয়েছেন।

খাদ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ হেলাল হোসেনকে খুলনা, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে সুনামগঞ্জ এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলামকে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক করা হয়েছে। আর বান্দারবানের ডিসি মো. আসলাম হোসেনকে একই দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়ার ডিসি মো. জহির রায়হানকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক এবং খাগড়াছড়ির ডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মো. মাহমুদুল হাসানকে রাজউকের পরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। নীলফামারীর ডিসি মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে জীবন বীমা করপোরেশনের জিএম, শেরপুরের ডিসি মল্লিক আনোয়ার হোসেনকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এবং সুনামগঞ্জের ডিসি মো. সাবিরুল ইসলামকে রাজউকের পরিচালক করেছে সরকার। নোয়াখালীর ডিসি মো. মাহবুব আলম তালুকদারকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব এবং মানিকগঞ্জের ডিসি নাজমুস সাদাত সেলিমকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব পদে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া ফেনীর ডিসি মনোজ কুমার রায়কে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব এবং খুলনার ডিসি মো. আমিন উল আহসানকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব পদে বদলি করে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সংবাদ সম্মেলনে আ’লীগ সম্পাদক কাদের

নেতিবাচক রাজনীতির জন্য বিএনপিকে জনগণ নির্বাচনে প্রত্যাখ্যান করেছে

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির জন্য দলটিকে জনগণ নির্বাচনে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, জনগণ নির্বাচনে যেমন তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তেমনিভাবে তাদের আন্দোলনকেও প্রত্যাখ্যান করবে। গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বুধবার তাদের (বিএনপি) বিক্ষোভ। এই বিক্ষোভে তাদের কর্মীরা নামবেন কী না আমি জানি না। কারণ কর্মীরা তো তাদের যার যার এলাকায় দেখেছে, কীভাবে নির্বাচন হয়েছে। কাজেই বলতে চাই নির্বাচনে তারা যেভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে আন্দোলনেও তারা তেমনিভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে। তিনি বলেন, আমরা আগেরবার ক্ষমতায় থাকতে ৫টি সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। এবার আমরা ৪টিতে জিতেছি, তারা জিতেছে একটিতে। তারা এবার ১/৫ অংশে জিতেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৯০ ভাগ জয় আমরা পেয়েছি। কাদের বলেন, এর অর্থ সিটি কর্পোরেশনগুলোর ৫ ভাগের ৪ ভাগ জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন ও অর্জনের রাজনীতিতে গ্রহণ করেছে। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিকে বর্জন করেছে। আসলে জনগণের ওপর বিএনপির কোনো আস্থাও নেই। কাজেই তারা কি করে প্রত্যাশা করে যে জনগণ তাদের ভোট দেবে। সিলেটে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের নামে বিএনপি গত কয়েক দিন নাটক আর তামাশা, তামাশা আর নাটক করেছে। ইভিএম সেন্টারগুলোতে বিএনপি-অধ্যুষিত এলাকায় নৌকার জয় প্রমাণ করে বরিশালে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন থেকে সরে পড়েছেন। তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির প্রার্থী পাস করেছে। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। সেখানে আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই তাদের প্রার্থী জয়লাভ করেছে। আমরা জানতে চাই বিএনপি প্রার্থী কি সেখানে পুনঃনির্বাচন চান? আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কুমিল্লা ও সিলেট সিটিতে আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে আমরা পরাজিত হয়েছি। সিলেটে আমরা প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিলাম। আমি বলেছিলাম ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের জয় নিশ্চিত। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন অর্জন শহরগুলোর জনমনে প্রভাব ফেলেছে। সিলেটকে আমরা হার মনে করছি না, কারণ আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিলাম। সেতুমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তখন সরকার কোনো মেজর পলিসি মেকিং ডিসিশনে অংশ নিতে পারবে না। রুটিন ওয়ার্ক করবে। সরকারের এখনকার যে ক্ষমতা তা অনেক সংকুচিত হয়ে যাবে, সীমিত হয়ে যাবে। তখন নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনের মূল দায়িত্ব, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিসহ সব কিছু। কাজেই এমন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ না করে সেটা তাদের ব্যাপার। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। যদি কোনো একটা রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, বিএনপি বর্জন করে, তবে আমাদের বিশ্বাস অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মন্তব্য করেন, বিএনপি নির্বাচনে নির্বাচন করার জন্য আসেনি। তারা নির্বাচনে এসেছিল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত করার জন্য। নীলনকশা তো তারা সরকারকে বলেছে, আমরা বলতে চাই তারাই এই নির্বাচনকে বিতর্কিত, প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যে নীলনকশা করেছিল। তিনি বলেন, তবে সেই নীলনকশা এ দেশের জনগণ ব্যর্থ করে দিয়েছে, ভন্ডুল করে দিয়েছে। এখন তারা সিলেটেরটাও পুনর্নির্বাচন দাবি করুক? শুধু দুটো কেন দাবি করছেন? এখন আর তারা সিলেটের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের কথাও বলেন না, পুননির্বাচনের কথাও বলেন না। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

 

শুনানিতে উত্তপ্ত আদালত

দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন

ঢাকা অফিস ॥ মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল তর্কাতর্কি ও হইচইয়ে উত্তাপ ছড়াল ঢাকার আদালতে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েসের আদালতে এই ঘটনা ঘটে। পরে তিনি মামলা দুটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে জামিন দেন। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে সাড়ে ৫ মাস ধরে কারাবন্দি খালেদার মুক্তি এই জামিন আদেশে মিলবে না। অন্য সব মামলায় জামিন হলেই কেবল তার মুক্তির পথ খুলবে। ভুয়া জন্মদিন পালন এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির দুই মামলায় খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি হয় ইমরুল কায়েসের আদালতে। জামিনের পক্ষে শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন শাহ আলম তালুকদার। শুনানি নিয়ে বিচারক বেলা ২টার দিকে আদেশ দেবেন জানানোর পর বিএনপির আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এজলাসে উপস্থিত আইনজীবী মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “শুনানির সময়ও দুই পক্ষের আইনজীবীদের বাদানুবাদ চলছিল। বিচারক পরে আদেশ দেবেন জানালে এজলাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।” খালেদার আইনজীবীরা তাৎক্ষণিকভাবে আদেশ দেওয়ার দাবি জানিয়ে হৈ চৈ শুরু করেন। পরে বিচারক জামিনের আদেশ দিয়ে বলেন, “জামিনযোগ্য ধারা বিধায় জামিন দিলাম। কিছু অবজারভেশন থাকবে, যেটি পরে লিখিত আদেশে উল্লেখ করব।” গত ৫ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম মানহানির ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলায় এবং মহানগর হাকিম আহসান হাবীব যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এই মামলায় ওই বছরই খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। অন্য মামলাটি হয় ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর, তা দায়ের করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে মামলাটি করেন তিনি। ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তেজগাঁও থানার ওসিকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ সেদিনই দিয়েছিলেন। গত বছরের ২৫ ফেব্র“য়ারি তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করলে তা আমলে নিয়ে খালেদাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করে আদালত। এদিকে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। খালেদার অনুপস্থিতিতে এ আদেশ দিয়ে তিনি ৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুনানির দিন রেখেছেন। এদিন আদালত ঘিরে জলকামান এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি দেখা গেলেও কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়নি বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

শিক্ষার্থীদের কাদের শান্ত হও, ক্লাসে ফিরে যাও

ঢাকা অফিস ॥ বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় গত রোববার দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে দুই দিন ধরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত এই শিক্ষার্থীদের শান্ত হতে বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন সিটির নির্বাচন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সেতুমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘প্লিজ, তোমরা শান্ত হও। ক্লাসে ফিরে যাও।’ গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার দিনভর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, ফার্মগেট, উত্তরা, মতিঝিল, মিরপুর, আগারগাঁওসহ কয়েকটি স্থানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দোষী ব্যক্তিদের ফাঁসি, নিরাপদ সড়কসহ নয়টি দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পুরো ঢাকা প্রায় স্থবির হয়ে যায়। সড়কে বাসও কম চলতে দেখা যায়।  শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ওবায়দুল কাদের নিজেও মর্মাহত জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছে বলে জানান তিনি।

 

২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় হতাহত পরিবারের কাছে সঞ্চয় সার্টিফিকেট হস্তান্তরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপি শুধু জানে কিভাবে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি করা যায়

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সুস্থধারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা শুধু জানে কিভাবে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি করা যায়। তিনি বলেন, বিএনপি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তারা সন্ত্রাস করে আমাদের অনেক নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় হতাহত ২৫ জনের পরিবারের কাছে সঞ্চয় সার্টিফিকেট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিশাল ষড়যন্ত্র হিসাবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এই হামলার কয়েকদিন আগে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন,আমি ভবিষ্যতে আর কখনো প্রধানমন্ত্রী, এমনকি বিরোধী দলীয় নেতাও হতে পারব না। বেগম জিয়ার এই বক্তব্যের পরই এই হামলা হয় এবং এ থেকে বোঝা যায় এই অপরাধে কে জড়িত। শেখ হাসিনা তাঁকে হত্যা করতে কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ও ৮৪ কেজি ওজনের দুটি বোম পুঁতে রাখার উল্লেখ করে বলেন, যখনি এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হলো তখনি আমার জীবনের ওপর হামলা হলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলেছিল আওয়ামী লীগ একশত বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। যখনি তারা এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছিল, তখনি আমরা বুঝতে পেরেছিলাম আমাদের ওপর হামলা হবে। গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগ এবং দলের অঙ্গসংগঠনের ২২ জন নেতাকর্মী নিহত এবং বোমার আঘাতে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের অনেকেই এখন দুর্বিসহ জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন। এই হামলায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেচেঁ গেলেও উপর্যুপরি বোমার শব্দে তিনি তাঁর কানের শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা.)-এর মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলাসহ সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে দলের কার্যালয়ের সামনে এক শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা যখন একটি সন্ত্রাস বিরোধি সমাবেশ করছিলাম, ঠিক তখনি সন্ত্রাসের শিকার হলাম। ঘাতকরা প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের অপরাধ করতে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। তিনি বলেন, ঘাতকরা ১৩টি গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতা কর্মী নিহত হন। শত শত নেতা কর্মী আহত হন। মেয়র মো. হানিফসহ দলের নেতাদের সৃষ্ট মানবঢালে আমি প্রাণে বেঁচে যাই। শেখ হাসিনা বলেন, এই হামলার পর থেকে তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে এবং তার দলের পক্ষ থেকে ২১ আগস্টে ক্ষতিগ্রস্তদের সাধ্যমত সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি যতদিন বেচে থাকব ততোদিন তাদেরকে সহায়তা দিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্ন হিসাবে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি তৃণমূলের নেতা কর্মীদেরকে আওয়ামীলীগের মূল শক্তি হিসাবে উল্লেখ করে বলেন তারা যে কোন দু:সময়ে দলের পাশে আছে এবং থাকবে।

বেপরোয়া বাসচালকদের ঔদ্ধত্যের শেষ কোথায়?

এবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর বাস উঠিয়ে দিল চালক। ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছে আরো ১২ জন। দুই বাসের রেষারেষিতে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রায়ই রাজধানীতে বেপরোয়া চালকদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বলা যায়, গণপরিবহন এখন সাক্ষাৎ যমদূত হিসেবে আবির্ভূত। এসব মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হলেও অধিকাংশই বেপরোয়া পরিবহন চালকদের দায়হীন হত্যাকান্ড। পরিবহন শ্রমিকদের শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন ও মালিকদের তৎপরতার কারণে সড়কে নিহতদের পরিবার বিচার পায় না। চালকরাও দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি ছাড়াই বেরিয়ে আসে। আবারো তারা গাড়ি রেসের পাল্লায় মেতে ওঠে। কে থামাবে এদের দৌরাত্ম্য? এমন মৃত্যুর অবসান কি হবে না? গত রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ওই স্টপেজে এসে দাঁড়ালে সেটিতে শিক্ষার্থীরা উঠছিল। ঠিক একই সময় যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে একই পরিবহনের আরেকটি বাস দাঁড়ানো বাসটির পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়ে এবং দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যায় কলেজ শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম। এভাবে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার নামে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী ছিলেন সাইদুর রহমান পায়েল। বাস থেকে নামার পর আর উঠতে পারেননি পায়েল। দৌড়ে উঠতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় আহত হন। পরে বাসচালক ও তার সহকারীরা মিলে আহত রক্তাক্ত পায়েলকে পাশের খালের মধ্যে ফেলে দেয়। পানিতে ডুবে মারা যায় পায়েল। কোনো সাধারণ সুস্থ মানুষের পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা বাড়লেও চালকদের সতর্ক করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দিন দিন যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানীতে বাসে চলাচল বিপজ্জনক। এমন ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা। বেতনভুক্ত চালক দিয়ে লোকাল বাস চালালে মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে বের হতে নগরীর অধিকাংশ পরিবহন মালিক তাদের বাস-মিনিবাস চালককে চুক্তিতে চালাতে দিচ্ছে। চুক্তির কারণেই চালকরা বেপরোয়া। কারণ একই রুটের যে বাস আগে শেষ গন্তব্যে পৌঁছাবে সেই ফিরতি ট্রিপের সিরিয়াল পাবে আগে। এ কারণে একই রুটের বাসের মধ্যেই ভয়াবহ মরণ রেস দেখা যায়। এসব চালকদের অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। অনেক সময় চালকের পরিবর্তে বাস চালায় হেলপার। এরা কেউ আইনের তোয়াক্কা করে না। দেশে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন আছে, রয়েছে শাস্তির বিধান। কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটে দোষী চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রায় অসম্ভব। সড়কে নৈরাজ্যের কারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের পরামর্শ ও সুপারিশ করা হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে। এ জন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

॥ মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী ॥

বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় নয় সাম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্য হবে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায়ই বলে থাকেন যে, বর্তমান স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে অচিরেই বিএনপির নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐক্য গঠিত হবে, সেই লক্ষ্যেই বিএনপি অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন নেতা ইদানীং প্রেসক্লাব কেন্দ্রিক অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় জাতীয় ঐক্য গঠনের জোর প্রচেষ্টার কথা বলছেন। উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আমরা টিভি সংবাদ শ্রোতা দর্শকরা তা শুনি এবং দেখিও। যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, সমর্থন করেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপিকে দেখতে চান তারা কে কীভাবে নেন জানি না। তবে তারা নিশ্চয়ই আশায় বুক বাঁধেন। তবে যারা রাজনীতির নানা মতাদর্শিক বিষয়-আশয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তারা অট্টহাসি না দিলেও মুখে ফোকলা হাসি দিয়ে স্বগত উচ্চারণ করে হয়তো বলেন ‘ধরণী দ্বিধা হও’। ব্যারিস্টার মওদুদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম রাজনীতির মতাদর্শক জ্ঞান আমাদের অনেকের চাইতে ভালোই রাখেন। মওদুদ সাহেব গবেষক হিসেবে মন্দ নন, রাজনীতিবিদ হিসেবে উদারবাদী অবস্থান থেকে সত্তর দশকে সরে যাওয়ার পর বিএনপি-জাতীয় পার্টি বিএনপিতে তথা দক্ষিণ ঘরানার মতাদর্শেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। ফখরুল সাহেব মুসলিম লীগ থেকে ভাসানী ন্যাপের উগ্র হঠকারী বাম ঘরানা থেকে বিএনপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতেই নতুনভাবে ‘জীবন লাভের দীক্ষা’ নিয়েছেন। তারা উভয়েই রাজনীতির মতাদর্শিক দিকগুলো পড়াশোনা থেকেই জানেন। তবে দক্ষিণপন্থায় বিশ্বাসীরা নিজেদের কখনো রাজনৈতিকভাবে দক্ষিণপন্থার প্রদর্শন করতে চান না। নিজেদের উদারবাদী গণতান্ত্রিক শক্তি বলে দাবি করেন- যা ডাহা মিথ্যা কথা। অথচ কোনো উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলে নেতা কোনো দিনই বলতে শুনিনি যে তিনি বা তার দল রক্ষণশীল, ডানপন্থি মতাদর্শ বিশ্বাস করে। তাহলে বিএনপির নেতারা কেন নিজেদের আসল পরিচয় দিতে চান না? তারা কি জোর গলায় দাবি করতে পারবেন যে বিএনপি উদারতান্ত্রিক মতাদর্শে বিশ্বাসী দল? বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বীজ, গাছ, ডালপালা রয়েছে এমন রাজনীতি দেশে প্রবর্তন করে, দলের গঠনতন্ত্রেও এর নজির রয়েছে, ধর্মীয় বিভেদকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করে, জাতীয়তাবাদ নিয়ে সমতলে বাংলাদেশি নৃগোষ্ঠীর পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলে, ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা পাল্টিয়ে যা করেছে তা গণতন্ত্রের মূল দর্শনেরই পরিপন্থী। দেশের অভ্যন্তরে বিএনপি ধর্মীয় বিভাজনের দৃশ্যত কৌশল, বাস্তবে নীতিরই পরিচর্যা করে থাকে। গণতন্ত্র চরিত্রগত এবং আদর্শগতভাবেই উদার এবং ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র সবার জন্যই সমান, বিশেষ কোনো ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। আমাদের দেশের নৃজাতি গোষ্ঠীকে বিএনপি কী দৃষ্টিতে দেখে তা তো সবারই জানা কথা, আবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কেমন আদরযতœ করে সেটি ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দেখিয়ে দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে জামায়াত-বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তখন সরকারি চাকরিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পদোন্নতি, চাকরি প্রাপ্তিতে বৈষম্যের দৃষ্টিতে দেখা- এটি কোনো গোপনীয় বিষয় ছিল না। এই ঢাকা শহরেই বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষককে চাকরি হারাতে হয়েছে তাদের ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে, প্রগতিশীল মতাদর্শের কারণে, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অঙ্গীকার প্রদর্শনের কারণে। বিএনপি দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে সেই আদর্শ হচ্ছে ১৯৭১-এ মেজর জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সংবলিত। এর প্রমাণ ২০০১-২০০৬ সালের পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস পঠন-পাঠনের, ২০০৪ সালে জিয়ার নামে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জাল একটি ঘোষণাপত্র সৃজন করে। প্রমাণ দেখতে চান- ২০০৫ সালে ১৬ খন্ডের দলিলপত্রের ৩য় খন্ডের নতুন সংস্করণে প্রবেশ করুন, দেখবেন বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাপত্রটি নেই, মেজর জিয়ার নামে নতুন ঘোষণাপত্র শোভা পাচ্ছে, সেটিকে আবার জায়েজ করতে ড. এমাজউদ্দিন আহমেদরা এক পাতার ফিরিস্তি দিয়েছেন। এমন কাজটি নিশ্চয়ই কোনো উদার গণতান্ত্রিক শক্তি করবে না।

ইউরোপ অথবা উন্নত গণতান্ত্রিক দুনিয়ায় গণতন্ত্রে দুটো ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। এক. উদারবাদী, দুই. রক্ষণশীল। রক্ষণশীলরা উদারতাকে কিছুটা কম চর্চা করে, রক্ষণশীল মনোবৃত্তির অধিকারী হিসেবে পরিচিত। তবে গণতন্ত্রের মূল দর্শনের সঙ্গে তাদের অবস্থানে মৌলিক কোনো সাংঘর্ষিকতা খুব একটা থাকে না। তারপরও উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজে রক্ষণশীল গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচয়টি বদলে যাচ্ছে, উদারবাদী অনেক নেতাই এসব দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের শাসনামলে দেশ উল্টোপথে হাঁটেনি, বরং গণতন্ত্রের মূলধারাতেই গতিশীল থেকেছে। বেশ কিছু পাশ্চাত্য দেশে উদারবাদী গণতান্ত্রিক বনাম রক্ষণশীল গণতান্ত্রিক দলের আদর্শগত দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে, কোথাও কোথাও নেই বললেই চলে। জার্মানিতে খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দলের শাসনামলে নীতি ও কৌশলে বড় ধরনের পার্থক্য নির্ণয় করা বেশ কঠিন।

অথচ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির আদর্শগত পার্থক্য আকাশ ও পাতালসম দূরত্ব। প্রথমটি গণতন্ত্রের উদারবাদী ভাবাদর্শে বিশ্বাসী, অসাম্প্রদায়িকতার রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অর্থাৎ বিএনপি আগা-গোড়াই সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী দল। দলটির অন্যান্য নীতি ও কৌশল আগেই উল্লেখ করেছি। দলটি এ পর্যন্ত জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক দলসমূহের সঙ্গে জোটবদ্ধ থেকেছে, ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে ‘দ্বিতীয় পাকিস্তান’ রাষ্ট্রের নীতি ও কৌশলই প্রয়োগ করেছে। বিএনপি নিজে আচারে ধর্মকর্মের সংগঠন নয়, কিন্তু ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহারকারী দল। ২০০১ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির তৎকালীন নেতা বি. চৌধুরী একটি ভিডিও অনুষ্ঠানে এক হাতে কুরআন, অন্য হাতে গীতা নিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে বলেছিলেন কুরআনকে ভোট দিতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে, নৌকায় ভোট দিলে গীতায় ভোট দেয়া হবে। এমন ফতুয়া প্রচার-প্রচারণা যে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে করা হয় সে দলের হাতে ধর্মের অপব্যবহারই হতে পারে, গণতন্ত্রকে শবযাত্রায় পাঠাতে হয়। ২০০১-এর নির্বাচনের পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত যে শাসন দেশকে উপহার দিয়েছিল তার সঙ্গে ধর্ম অথবা গণতন্ত্রের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক ছিল বলার কোনো সুযোগ রয়েছে কি? বি. চৌধুরীর নিজেরই জীবন কতখানি অনিরাপদ হয়ে উঠেছিল- তা নতুন করে তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই না। তবে তার মতো নেতা কতখানি রাজনীতির বিশ্লেষণ কতখানি বস্তুনিষ্ঠতা প্রদর্শন করতে পেরেছেন- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে।

বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে গণতন্ত্রের মূলধারা থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আওয়ামী বিরোধিতা থেকেই জিয়াউর রহমান এ কাজটি করেছেন। অথচ তিনি যদি প্রকৃত গণতন্ত্রের আদর্শের দল হিসেবে বিএনপিকে গড়ে তুলতেন তাহলে আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপি, বিএনপির বিপরীতে আওয়ামী লীগকে পছন্দ করতে ক্ষমতায় বসাতে রাষ্ট্রের মৌলিক কোনো স্খলন ঘটত না, গণতন্ত্রের মহাসড়কেই জনগণ থাকতে পারত। মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে রাজনীতি করার পরিণতি খুবই বিপজ্জনক। আমাদের মতো শিক্ষা-সংস্কৃতিতে পিছিয়ে থাকা দেশে বেশির ভাগ মানুষই রাজনীতির যথাযথ পাঠ নেয়ার সুযোগ সাধারণভাবে পায় না। দলগুলো জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে না। ফলে রাজনীতির জটিল জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারণা অনেকেরই লাভ করার সুযোগ ঘটে না। সেখানে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হলে ধর্মবিশ্বাসী বেশির ভাগ মানুষই দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয় তা রাজনীতি সচেতন না হওয়ার সম্ভাবনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম না করে দুর্গমই করতে সহায়ক হতে বাধ্য। বিএনপিসহ ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দলগুলো গত ৪৫ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকে সেভাবেই দিকভ্রান্ত করেছে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সে কারণে দর্শনগতভাবে দুটো পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভক্ত হয়ে গেছে। অনেকেই তা অজ্ঞাতসারে, না বুঝেই অবস্থান নিয়েছে। এখানে বিএনপির ‘কৃতিত্ব’ হচ্ছে দলটি বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশকে তাদের সাম্প্রদায়িক, রাজনীতির অনুসারী করতে পেরেছে। কিন্তু দেশের অপর একটি বড় অংশ মানুষ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির অপরিহার্যতা ও গুরুত্ব কমবেশি অনুধাবন করতে পেরে বিএনপি এবং এর জোট রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত হয় না। এটি লক্ষ করলেই বোঝা যায় রাজনীতি সচেতন, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী মানুষ বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষ ধারা এখন বাংলাদেশে সোজাসুজি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে- যেখানে রাষ্ট্র ও জাতি গঠনের মতাদর্শগত বিভাজন একেবারেই স্পষ্ট। বিএনপির অবস্থানও স্পষ্ট। আওয়ামী লীগসহ কিছু ছোট ছোট বাম দলের অবস্থানও স্পষ্ট। বিএনপি যতই জামায়াতকে তাদের নির্বাচনী বন্ধু দল বলে দাবি করুক, বাস্তবে দুই দলের অবস্থান দক্ষিণ তথা ডানপন্থায়। বিএনপি ডানের কিছুটা বামে অবস্থান করে সত্য, জামায়াত ডানের অংশে অবস্থান করে, বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই বিশ্বাসগত কারণে ডানপন্থার যে কোনো জায়গাতেই নড়াচড়া করে থাকেন। এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রবণতা নয়। ডানপন্থার ঝোঁক এককোণায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নড়বেচড়বে না, প্রয়োজনে চরম প্রতিক্রিয়াশীলতায় গড়াবে না- তা ভাবার কোনো কারণ নেই। ২০০১-২০০৬ সালে আওয়ামী লীগকে নির্মূল করতে, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে বিএনপি-জামায়াত চরম অবস্থান নিতেও দ্বিধা করেনি। এসব নিকট-ঐতিহাসিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করেই বিএনপি রাজনীতির মতাদর্শগত অবস্থান সম্পর্কে মনগড়া নয়, বরং সুস্পষ্ট মত দেয়া কোনো সচেতন মানুষের পক্ষে অসম্ভব নয়। বিএনপি ২০১১-২০১৫ সালে বাংলাদেশে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে কম চেষ্টা করেনি, ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহত করতেও দ্বিধা করেনি। উদ্দেশ্য ছিল ৬ জানুয়ারির পর দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে ক্ষমতায় এককভাবে আসার পথ করা। অতি ডান, অতি বাম আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে এসব উল্লম্ফনবাদী চিন্তা-চেতনা থাকে- যা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। বিষয়গুলো সবার কাছে স্পষ্ট না হলেও সচেতন মানুষের কাছে স্পষ্ট। সে কারণেই ২০১৫ সাল থেকে বিএনপি সরকার বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলে আসলেও ২০ দলীয় জোটের বাইরে তেমন কেউ সাড়া দিচ্ছে না। বামরা আওয়ামী লীগকেই তাদের মিত্র মনে করে না, বিএনপিকে করার আশা করা কতটা সম্ভব তা বিএনপির নেতারা ও বামরা বলতে পারবেন। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পর্কে নানা সমালোচনা থাকলেও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার মিশনারি ভিশনারি নেতৃত্ব সচেতন মানুষদের অভিভূত করছে, এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। সে কারণে বিএনপির ডাকে সাড়া দেয়ার মতো কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি-জামায়াত মিলিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ২০১১-১৫ সালে যা করেছে তার চাইতে বেশি কিছু করার শক্তি এই দুই দলের আছে কিনা- সন্দেহ আছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে একাত্ম হয়ে কিছু করার বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির রাজনীতি, ২০০৬-০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বরূপ নির্বাচন সম্পন্ন করার নীল নকশার অভিজ্ঞতা খুব দূরের বিষয় নয়। সে কারণে আস্থার কোনো জায়গা বিএনপি-জামায়াত-২০ দলীয় জোট সৃষ্টি করতে পারছে। জাতীয় ঐক্যের জন্য যে ধরনের অভিন্ন কর্মসূচি, চিন্তা-ভাবনা ও দিকদর্শন থাকা প্রয়োজন তা ২০ দলীয় জোটের ধারেকাছেও নেই। সে কারণে জাতীয় ঐক্য গঠনের ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলকে বাদ দিলে জাতীয় ঐক্যের অর্ধেক অংশ থাকে না, বিএনপি-জামায়াত ২০ দলকে নিয়ে ঐক্যতো আগে থেকেই আছে। সেই ঐক্যের স্বরূপ আলোচিত হয়েছে, সেটি সাম্প্রদায়িক শক্তিসমূহের ঐক্য- যা তাদের রয়েছে। জাতীয় অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে, ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে এমন ঐক্য বাম, উদারবাদী মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী সংগঠন, গোষ্ঠী ও ব্যক্তি মানুষ সাড়া দেবে বলে মনে হয় না। বিএনপি সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে পরীক্ষিত শক্তি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের কাছে নয়। সে কারণেই বিএনপির ডাকে সাড়া মিলছে না, মেলার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

লেখক ঃ অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

রেড লেডি পেঁপে চাষ পদ্ধতি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পেঁপে একটি স্বল্পমেয়াদী ফল বা সবজি। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং ওষুধি গুণ সম্পন্ন। বাংলাদেশে পেঁপে খুবই জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়। এর মোট উৎপাদন প্রায় ৪৯ হাজার টন। আজ জেনে নিন রেড লেডি পেঁপে জাতের চাষ পদ্ধতি। বীজ সংগ্রহ ঃ বীজ কেনার সময় ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। চীন ও তাইওয়ানের রেড লেডি বীজ অনেক ভালো। দাম ঃ তাইওয়ানের রেড লেডি ২ গ্রাম বীজের প্রতি প্যাকেট ৫৫০-৬৫০ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়।
বীজের হার ঃ প্রতিগ্রামে বীজের সংখ্যা ৬০-৭০টি। হেক্টরপ্রতি ৭০-১০০ গ্রাম বীজ দরকার। সে হিসেবে ৩ হাজার-৩ হাজার ২০০ চারা দিয়ে ১ হেক্টর জমিতে পেঁপে চারা লাগানো যায়। চারা তৈরি ঃ বীজ থেকে বংশ বিস্তার করা যায়। বীজের প্যাকেট কেটে ২ ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে ঠান্ডা জায়গায় রেখে ১০-১২ ঘণ্টা পানিতে ভেজানোর পর পলিথিন ব্যাগে চারা তৈরি করতে হবে। পলিথিন ব্যাগে চারা তৈরি করলে রোপণের পর চারা দ্রুত বাড়ে। ৫ঢ৬ সে.মি আকারের ব্যাগে সমপরিমাণ বেলে দোআঁশ মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণ ভর্তি করে ব্যাগের তলায় ২-৩টি ছিদ্র করতে হবে। তারপর এতে সংগৃহীত বীজ হলে একটি এবং পুরাতন বীজ হলে ২টি বপন করতে হবে। ১টি ব্যাগে একের বেশি চারা রাখা উচিত নয়।
চারা রোপণ ঃ ১.৫ থেকে ২ মাস বয়সের চারা রোপণ করা যায়। ২ মিটার দূরে দূরে ৬০ঢ৬০ঢ৬০ সে.মি আকারে গর্ত করে রোপণের ১৫ দিন আগে গর্তের মাটির সার মেশাতে হবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ২ সারির মাঝখানে ৫০ সে.মি নালা রাখতে হবে। সার ঃ চারা লাগানোর পর নতুন পাতা এলে ইউরিয়া ও এমপি সার ৫০ গ্রাম করে প্রতি ১ মাস অন্তর প্রয়োগ করতে হবে। গাছে ফুল এলে এ মাত্রা দ্বিগুণ হবে। শেষ ফল সংগ্রহের আগেও সার দিতে হবে।
পরিচর্যা ঃ গাছের গোড়া থেকে আগাছা তুলে ফেলতে হবে। গোড়ার মাটি কোদাল দিয়ে হালকা করে দিতে হবে। গাছে অতিরিক্ত ফল হলে কিছু ফল ছিড়ে নিতে হবে। বাকি ফল এতে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে। পেঁপে গাছে বিভিন্ন হরমোন প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া যায়।
ফল সংগ্রহ ঃ পুষ্ট হওয়ার সময় কোনো কোনো ফলে হলুদ রং ধারন করে। পুষ্ট ফলে কিছু দিয়ে খোঁচা দিলে পানির মতো তরল আঠা বের হবে। অপুষ্ট ফল থেকে দুধের মতো ঘন আঠা বের হবে।

বিশ্বকাপ জয়ে পগবা ছিলেন রোল মডেল – দেশ্যম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ফ্রান্সের তারুন্যনির্ভর দলটির বিশ^কাপ জয়ে তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপেদের রোল মডেল হিসেবে কাজ করেছেন পল পগবা, এমনটাই মনে করেন কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। অথচ টুর্নামেন্টের শুরুতে পগবাকে নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। মাঠ ও মাঠের বাইরে প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দিয়ে পগবা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। কিন্তু ফ্রেঞ্চ দলকে ড্রেসিং রুমে উজ্জীবিত করে তুলতে পগবাই মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন বলে বিশ^কাপের পরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানা গেছে। ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের কিংবদন্তী দলটির পরে দ্বিতীয় কম বয়সী দল হিসেবে এবার রাশিয়ায় অংশ নিয়েছিল ফ্রান্স। আর সেই দলের শিরোপা জয়ের একেবারে মধ্যমণি হিসেবে কাজ করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার পগবা। দেশ্যম বলেন, ‘সে মোটেই আমাকে বিস্মিত করেনি। পল এমন একজন খেলোয়াড় যে কথা শুনে। যে সবার আগে দলের কথা চিন্তা করে। আমি তার সাথে অনেক কথা বলেছি। আমাদের দলে ২৫ বছর বয়সী পগবা একজন মধ্যবয়সী খেলোয়াড়। তরুনদের জন্য সে একজন রোল মডেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। সে ২০১৪ বিশ^কাপ ও ইউরো ২০১৬’এ খেলেছে। রাশিয়া বিশ^কাপে আগে আমাদের দল নিয়ে সমালোচনা ছিল, এই দলে যোগ্য নেতার অভাব রয়েছে। কিন্তু টুর্নামেন্টের পরে সব কিছু পাল্টে গেছে।’ পগবার নেতৃত্বের গুনাবলী নিয়ে দলের মধ্যে প্রশংসা হলেও এমবাপেকে নিয়ে পুরো বিশ^ব্যাপী আলোচনা হয়েছে। পিএসজির এই টিনএজ স্ট্রাইকার এতটাই মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন যে টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাকে ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড পেলের সাথেও তুলনা করা হয়েছে। পেলের পরে দ্বিতীয় কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ^কাপের ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এমবাপে। দেশ্যম বলেছেন, দেড় বছর আগে কেউ জানত না সে কে। অথচ এখন সে বিশ^ চ্যাম্পিয়ন। অন্যরা যা পারেনি এমবাপে তাই করে দেখিয়েছে। তারপরেও সে তার পা মাটিতেই রেখেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে অনেক বেশী পরিনত। দলের বড়দের প্রতি সে সেবসময়ই সম্মান দেখিয়েছে। তাকে দলে পেয়ে আমি দারুন খুশী। এমবাপের পাশপাশি চেলসি মিডফিল্ডার এন’গোলো কান্টের খেলাও দারুনভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের সাথে সমান তালে লড়াই করে তিনি ফ্রান্সকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। দেশ্যম বলেছেন, কান্টে বেশ শান্ত প্রকৃতির একজন খেলোয়াড়। কিন্তু টুর্নামেন্টে সে দলের প্রাণ ছিল। তাকে দলে পেয়ে আমি মধ্যমাঠ নিয়ে স্বস্তিতে ছিলাম।

জয়া-শাবনূরের আশীর্বাদে পূজা

বিনোদন বাজার ॥ কলকাতার দুটি প্রডাকশন থেকে অফার এসেছে নতুন চলচ্চিত্রের। কিন্তু এখনই ‘না’ বলেছেন। কারণ এমনিতেই পোড়ামন টু-এর সাফল্যের পর খানিকটা সংযত হয়েই ভালোমানের ছবির কাজ করবেন বলে পণ করেছেন। এদিকে এবারের ঈদে ‘দহন’ ছবিটি রিলিজ না হওয়ায় খানিকটা মন খারাপ হচ্ছে। অপরদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়া বুঝেশুনেই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই তার প্রতি আস্থা রেখেই নির্ভার থাকতে চান পূজা চেরি। ছবির প্রিমিয়ারে শাবনূর বলেছেন, তিনি পূজার ভেতরে তাকে দেখতে পান। অন্যদিকে, এ সময়ে দুই বাংলার সবচেয়ে দামি মেধাবী অভিনেত্রী জয়া আহসানও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন পূজার অভিনয় প্রতিভা দেখে। নিজের ক্যারিয়ার প্ল্যান নিয়ে বলতেই পূজা বলেন, ‘ওটা জাজ মাল্টিমিডিয়ায় ভাবছেন। আমি শুধু আমার অভিনয়টা আরো কতটা শানিত করা যায় সেদিকে নজর দিচ্ছি। এদিকে দহন ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করলেও অন্যতম আরো একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মম। সিনিয়র সহশিল্পী প্রসঙ্গে পূজা বলেন, ‘মম দির সাথে আমার দারুণ বোঝাপড়া। তবে দহন নিয়ে বারবার কাস্টিং পরিবর্তন নিয়ে খানিকটা ভীতই ছিলাম। এই ছবিটিতেও আমরা টোটাল পরিবার হয়েই কাজ করতে পেরেছি।’

রোনালদোর ‘শূন্যতা পূরণ করতে পারবে’ বেল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে গ্যারেথ বেল তা পূরণে সহায়তা করতে পারবে বলে মনে করেন ক্লাবটির নতুন কোচ হুলেন লোপেতেগি। সাবেক কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে গত মৌসুমে রিয়ালের শুরুর একাদশে বেল নিয়মিত জায়গা পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তার সান্তিয়াগো বের্নাবেউ ছাড়া নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। তবে সম্প্রতি রিয়ালের হয়ে দীর্ঘ নয় বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ১১ কোটি ২০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ইউভেন্তুসে পাড়ি জমান রোনালদো। অনেকের মতে, পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের চলে যাওয়াটা বেলের জন্য ইতিবাচক হবে। বেল প্রসঙ্গে লোপেতেগি বলেন, ‘গ্যারেথ রিয়াল মাদ্রিদে খেলে খুশি।’ “রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল এবং আমরা তাকে অনুমতি দেই।” “গ্যারেথ বেল অনেক মেধাসম্পন্ন দুর্দান্ত এক খেলোয়াড়। সে এই শূন্যতা পূরণে সহায়তা করতে পারবে।” ২০১৩ সালে টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে আট কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে রিয়ালে নাম লেখানো বেলের অর্জনের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। ক্লাবটির হয়ে চারবার জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। মে মাসে প্রতিযোগিতাটির সবশেষ ফাইনালে কিয়েভে লিভারপুলের বিপক্ষে রিয়ালের ৩-১ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেন এই উইঙ্গার। অনুশীলনে ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমার সঙ্গে বেল খুব ভালো করছে বলে জানালেন লোপেতেগি। বর্তমান দলটাকে মৌসুমের শুরু থেকেই পেতে চান তিনি। গুঞ্জন আছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরে যেতে পারেন ২৯ বছর বয়সী বেল। তবে তেমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন স্পেনের সাবেক কোচ লোপেতেগি। “এটা তার প্রতিভা দেখানোর দারুণ এক সুযোগ। সে দলের সঙ্গে আছে। সে সুখে আছে এবং আমাদের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেই আছে।”

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে নেই গেইল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে প্রস্তুতিপর্বে প্রতিপক্ষ নিয়ে বাংলাদেশ দলের ভাবনায় বড় একটা অংশ জুড়ে নিশ্চয়ই ছিল ক্রিস গেইল। কিন্তু সিরিজের আগের দিন ঘোষিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে দেখা গেল নামই নেই তার! টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সফলতম ব্যাটসম্যানকে। ৩৮ বছর বয়সী গেইল সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেই খেলেছিলেন ৬৬ বলে ৭৩ রানের ইনিংস। এই ওপেনার না থাকলেও দলে আছেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। হাঁটুর চোটের কারণে ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন না এই ব্যাটসম্যান। ১৩ সদস্যের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন চাডউইক ওয়ালটন ও শেলডন কটরেল। দুজনকেই দলে ফিরিয়েছে কানাডার গে¬াবাল টি-টোয়েন্টি লিগের পারফরম্যান্স। ৮ ম্যাচে ১৬ উইটে নিয়ে বাঁহাতি পেসার কটলের ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। কিপার ব্যাটসম্যান ওয়ালটন ১৫৬.৪১ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ১৮৩ রান। সবশেষ টি-টোয়েন্টির দল থেকে গেইলের বিশ্রামের পাশাপাশি বাদ পড়েছেন পেসার রায়াদ এমরিট। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে খেলতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে আছেন আন্দ্রে রাসেল। কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের নেতৃত্বে দলে নেই অন্য দুই সংস্করণের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে সাড়ে ৬টায় সেন্ট কিটসে। পরের ম্যাচ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়, বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার ও সোমবার সকাল ৬টায়। টি- টোয়েন্টির ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), স্যামুয়েল বদ্রি, শেলডন কটরেল, আন্দ্রে ফ্লেচার, এভিন লুইস, অ্যাশলি নার্স, কিমো পল, রভম্যান পাওয়েল, দিনেশ রামদিন, আন্দ্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, চাডউইক ওয়ালটন, কেসরিক উইলিয়ামস।

‘চাঁদের চাঁদায়’ অন্য এক মোশারফ করিম

বিনোদন বাজার ॥ চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই। তবুও ধার করা আলো দিয়েই সে আলোকিত করে রাতের অন্ধকার পৃথিবী। মানুষের মনে জোয়ার তোলে ভালোবাসার। চাঁদের রূপোলী আলোতে মানুষ ভেসে যায় তার স্বপ্নজগতে। সেই চাঁদের এক প্রতিকৃতি যেন ‘চাঁদের চাঁদা’ নাটকের প্রধান চরিত্র চাঁদ। নিজের অঢেল সম্পত্তি নেই তো কি হয়েছে? চাঁদাবাজি করেই পাশে দাঁড়ায় গরীব দুঃখির! ভালো মন্দের হিসেবটা উল্টে মানবতায় যার কাছে প্রধান। এমনই এক চাঁদের গল্প আসছে ঈদুল আজহার নাটকে। অয়ন চৌধুরীর রচনা ও শাহনেওয়াজ রিপনের পরিচালনায় সাত পর্বের এ ধারাবাহিক নাটকের নাম ‘চাঁদের চাঁদা’। এখানে চাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম। তিনি ছাড়াও এ নাটকে আরো অভিনয় করেছেন রুবিনা রেজা জুঁই, ফারুক আহমেদ, রহমত আলী, সানজিদা তন্নী, তমাল মাহবুব প্রমুখ। টম ক্রিয়েশন প্রযোজিত সাত পর্বের এ ধারাবাহিকটি আসছে ঈদে কোনো একটি বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার করা হবে। নাটকের নির্মাতা শাহনেওয়াজ রিপন বলেন, ‘আসলে সমাজের নানা ক্রাইসিসগুলো যখন চোখের সামনে দেখতে পাই তখন দুইটা পথ থাকে যে, হয় চোখ বন্ধ করে দেখেও না দেখার ভান করা অথবা যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করা। নাটকে সেই ক্রাইসিস ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা কি ভুল করছি,অথচ আমাদের কি করা উচিত তাই দেখাতে চেয়েছি। মানুষ হাসানোর নামে এই সাত পর্বের নাটক নয়, এখানে শিক্ষামূলক গল্পও রয়েছে। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ কিছুদিন আগে ঢাকার সাভারে টানা চারদিন শুটিংয়ের পর শেষ হয়েছে নাটকটির কাজ।

বাংলাদেশের নিউ জিল্যান্ড সফরের সূচি চূড়ান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচিতে থাকা সিরিজের তারিখ চূড়ান্ত করেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট। ৩ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডের সিরিজ খেলতে আগামী ফেব্র“য়ারি মাসে নিউ জিল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। টেস্টের জগতে বাংলাদেশের দেড় যুগের পথচলায় এটি হবে মাত্র চতুর্থ তিন ম্যাচের সিরিজ। ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে প্রথমবার ৩ ম্যাচের সিরিজ খেলার স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে খেলেছিল শ্রীলঙ্কায়। আর সবশেষ ২০১৪ সালে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১৬-১৭ মৌসুমের নিউ জিল্যান্ড সফরের মতো মতো এবারও ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে হ্যামিল্টন। তবে সেই সফরে মতো এবারও সফর শুরু ওয়ানডে দিয়ে। ১৩ ফেব্র“য়ারি প্রথম ওয়ানডে হবে নেপিয়ারে। গতবারের সফরে এখানে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ। গতবার সফর শুরু হয়েছিল যেখানে, সেই ক্রাইস্টচার্চে এবার দ্বিতীয় ওয়ানডে, ১৬ ফেব্র“য়ারি। ২০ ফেব্র“য়ারি শেষ ওয়ানডে ডানেডিনে। নিউ জিল্যান্ডে বাংলাদেশের গতবারের সফর ছিল ৩ ওয়ানডে, ৩ টি-টোয়েন্টি ও ২ টেস্টের। এবার নেই কোনো টি- টোয়েন্টি। ২৮ ফেব্র“য়ারি টেস্ট সিরিজ শুরু হ্যামিল্টনে। ৮ মার্চ থেকে দ্বিতীয় টেস্ট ওয়েলিংটনে। ১৬ মার্চ থেকে তৃতীয় টেস্ট ক্রাইস্টচার্চে। ঠাসা সূচির আগামী ক্রিকেট মৌসুমে উপমহাদেশের আরও দুই দল শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে নিউ জিল্যান্ড। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও ১ টি- টোয়েন্টির সফরে যাবে শ্রীলঙ্কা। জানুয়ারি-ফেব্র“য়ারিতে ৫ ওয়ানডে ও ৩ টি-টোয়েন্টির সফরে যাবে ভারত।