হজযাত্রীদের সঙ্গেও অসদাচরণ

হজ ক্যাম্প ও এর ডরমিটরি তৈরি করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আল্লাহর ঘরের মেহমানরা যেন ফ্লাইটে ওঠার আগে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় খোদ হজ ক্যাম্পেরই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সে ডরমিটরি দখল করে পরিবার নিয়ে বাস করছেন। বিপরীতে হজযাত্রীরা থাকছেন ক্যাম্পের মেঝে ও মসজিদের বারান্দায়। অথচ ডরমিটরি দখলকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মমাফিক বাড়ি ভাড়া নিচ্ছেন সরকারের কাছ থেকে। এতে একদিকে যেমন হজযাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ডরমিটরি ভাড়া বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।আমরা মনে করি, সার্বক্ষণিক সেবা দিতে হয় বিধায় ক্যাম্পেই অবস্থান- এমন অযৌক্তিক দাবি করে ক্যাম্পের ডরমিটরি দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে ডরমিটরি দখল করে রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে সেখানে হজযাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে দখলকারীদের কাছ থেকে সরকার কর্তৃক দেয়া ভাড়ার অর্থ ফেরত এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি-অনিয়ম জেঁকে বসার কারণে হজের মতো পবিত্র একটি ইবাদতের পথের যাত্রীদের কষ্ট দেয়ার মতো ন্যক্কারজনক বিষয়ও সংশ্লিষ্টদের উপলব্ধিতে আসছে না। এটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। ডরমিটরি দখলসহ হজ ক্যাম্পের সব ধরনের অনিয়ম এবং হজযাত্রীদের ফ্লাইট ও ভিসাসংক্রান্ত যে কোনো জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে অবিলম্বে। প্রতি বছরই হজের ফ্লাইট ও ভিসাসংক্রান্ত নানা জটিলতা তৈরি হয়। এমনকি এজেন্সিগুলোর প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক মানুষ শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ঘর জিয়ারতে পর্যন্ত যেতে পারেন না। এবারও এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার হজযাত্রী ভিসা পাননি। অথচ ৭ আগস্টের পর আর ভিসা দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সৌদি দূতাবাস। একদিকে যাত্রী সংকটে হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, অন্যদিকে ভিসা পাচ্ছেন না হজযাত্রীরা, এটি মেনে নেয়া যায় না। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে পবিত্র হজ একইসঙ্গে আর্থিক ও শারীরিক ইবাদতের সংমিশ্রণ হওয়ায় এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে মুসলিম মানসে। এ কারণে একজন মুসলিম যখন পবিত্র হজ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার সামনে কেবল আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার আকুতির বাইরে অন্যকিছু ভাবার অবকাশ থাকে না। এ সুযোগে তাদের নিয়ে একশ্রেণীর প্রতারক নানা ধান্দায় মেতে ওঠে। হজযাত্রীরা যেন হজ ক্যাম্পে, ফ্লাইটে ও সৌদি আরবে অবস্থানকালীন কোনো ধরনের সমস্যার মুখে না পড়েন, তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক হজযাত্রীর বাংলাদেশ ত্যাগ ও ফিরে আসা পর্যন্ত সুন্দর ও সাবলীল ব্যবস্থাপনা থাকবে, সে প্রত্যাশাই করছি আমরা।

আরো খবর...