সুষ্ঠু ভোটের জন্য নিরপেক্ষদের নিয়োগ দিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন প্রভাবান্বিত করার উদ্দেশ্যে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা তথা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে নানা কারসাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষদের বাদ দিয়ে সরকারদলীয় পরিচয়ধারী এবং নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রভাবান্বিত করতে পারে এমন ব্যক্তিদের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে পছন্দের প্রার্থীকে জনগণের দেয়া ভোট নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আমরা মনে করি, দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিধায় এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া ও চিহ্নিত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দক্ষ ও নিরপেক্ষদের নিয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। অন্যথায় মানুষের ভোটাধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠতে পারে, তেমনি নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের পদ্ধতিটিও সমালোচনার মুখে পড়বে। জানা যায়, নির্বাচন কমিশন তথা ইসির নীতিমালা অনুযায়ী কর্মদক্ষ, নিরপেক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেয় ইসি। একইসঙ্গে সাহস, সততা, পদমর্যাদা ও জ্যেষ্ঠতা ইত্যাদি বিবেচনায় নেয়ার কথাও বলা হয় নির্দেশনায়। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপরিহার্য পূর্বশর্ত এগুলো। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রস্তাবিত তালিকার প্রত্যেকের বিষয়ে গোপনে খোঁজখবর নিয়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পরিচয় নিশ্চিত করে প্রতিবেদন তৈরি করে। তারপর সেখান থেকে সরকারদলীয় প্রার্থীর প্রতি সহনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতাধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করেছেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নিরপেক্ষ এবং সৎ কর্মকর্তাদের নানাভাবে হয়রানির বিভিন্ন খবর থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। এ অবস্থায় নির্বাচিত সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের নজির তৈরির কথা যেভাবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন কঠিন বৈকি। ভোটের বাকি আর বেশি দিন নেই। ফলে ইসি ও সরকারের উচিত যেসব আসনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, খতিয়ে দেখে সেখানে দক্ষ ও নিরপেক্ষদের নিয়োগ নিশ্চিত করা। গণতন্ত্রের মূলকথা মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ তথা প্রতিনিধি নির্বাচনের রায় মেনে নেয়া ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশে এখনও সে সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি। নিজেদের উন্নয়ন ও অতীত কর্মকান্ডের কারণে জনগণ তাদের পক্ষে- সরকারি ও বিরোধী সব পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হয়ে থাকে। অথচ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষ যাকে চায় এবং যিনি সত্যিকারার্থে জনগণের পক্ষে ও উন্নয়নের পক্ষে কাজ করেন, নির্বাচন প্রভাবান্বিত করার প্রচেষ্টা তো দূরের কথা; তার তো জনরায় নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাবে সৎ, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ কোনো প্রার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং পছন্দের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দিয়ে কারচুপির ব্যবস্থা করা না যায়, ইসিকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

আরো খবর...