সারাবছর সবজি আবাদ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ গত কয়েক দশকে নদীভাঙন ও অন্যান্য কারণে সর্বস্ব হারানো মানুষ অবস্থান নিয়েছেন চরাঞ্চলে। শুধু বেঁচে থাকার জন্যই নির্জন ধু-ধু বালুচরে দলে দলে গড়ে তুলেছেন মাথাগোঁজার ঠাঁই।  সেখানে অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যদিয়ে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় তাদের। নেই রাস্তাঘাট, নেই সুপেয় পানি ও সেচের পর্যাপ্ত সুবিধা। পরিবার পরিজন নিয়ে টিকে থাকার সংগ্রামে বসবাসের সুযোগ পেলেও  সেখানে তাদের জীবন যেন দুর্বিষহ সংগ্রামের। এক সময় চরের কৃষকরা মনে করলেন, চরে যদি কাশফুল জন্মে তাহলে শস্যও ফলানো যাবে। শুরু হলো সবজি ও ফসল ফলানোর পরীক্ষা-নীরিক্ষা। পরীক্ষা সফল প্রমাণিত হওয়ার পর প্রথম চরে বোনা হলো সরিষা, পরে ভুট্টা, ধনিয়া ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি শস্য ও মসলা। এভাবে কৃষকের প্রচেষ্টায়  দেশের একেকটি চর এখন যেন একেকটি শস্যভান্ডার। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার দেশের চরগুলোতে কৃষির উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ, কৃষিঋণ, বীজ ও সার সহায়তা পাচ্ছেন চরের কৃষকরা। এভাবেই গত প্রায় দুই দশকে সেসব চরাঞ্চলবাসিরা নিজেদের প্রয়োজনে চরের দৃশ্যপট এখন অনেকটাই পাল্টে দিয়েছেন। অথচ একদশক আগেও চরের মানুষ বলতে অতি দরিদ্রদের বোঝাতো। কারণ তখন তারা ছিল রিলিফ নির্ভর। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে  গেছে। চরাঞ্চলের জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ফসল। জমি  তৈরি, বীজ বপন, পরিচর্যা কিংবা ফসল তোলার ব্যতিব্যস্ততা চরাঞ্চলের  নৈমিত্তিক চিত্র। এর ফলে বেশির ভাগ চরেই দেখা দিয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে শাক সবজির চাষ করে বহু পরিবার সচ্ছলতা এসেছে। শুধু ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল কৃষিতে শাক-সবজির চাষ এনে দিয়েছে নতুন গতি। কৃষকদের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কৃষির এই সফল বিবর্তন। দেশের প্রায় সব চরাঞ্চলেই সবজি ও ফসলের উৎপাদন বেশ ভালো। কিছু ফসলের বাম্পার ফলন এবং প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ধরনের সবজি যেমন- ক্যাপসিকাম,  স্কোয়াস চাষে ব্যাপক সাফল্যে নতুন আশায় দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন চরাঞ্চলের জনগণ। দেশের সব চরাঞ্চলের উপযোগী ফসল চাষাবাদে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীত মৌসুমে রংপুরে চরাঞ্চলের ৩৫ থেকে ৫০ ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রংপুর অঞ্চলের ৮ জেলায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ টন সবজি। প্রতি কেজির দাম ২০ টাকা হিসেবে ৪ হাজার কোটি টাকা আয় করবে এখানকার কৃষকরা।

আরো খবর...