সাগর-রুনির খুনিদের দ্রুত ধরা হবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদনও জমা দিতে পারেননি- বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নজরে আনা হলে তিনি আশ্বাস দেন, খুনিরা দ্রুতই ধরা পড়বে। এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সরকার সব সময়ই আন্তরিক ছিল। সোমবার দুপুর ২টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) পক্ষ থেকে সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা এবং খুনিদের গ্রেফতার করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাংবাদিক নেতারা। মন্ত্রীকে তারা জানান, এ পর্যন্ত ৬২ বার প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ পেছাতে আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)। আগামী ১৭ ফেব্র“য়ারি ৬৩ বারের মতো প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ঠিক করা রয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘যে কোনো হত্যার বিচার পাওয়া নাগরিকের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় বড় হত্যার রহস্য উন্মোচন ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। সাগর-রুনি হত্যার কোনো কূল-কিনারা তারা করতে পারবে না এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কোন অদৃশ্য শক্তি বা বাঁধার কারণে এই হত্যাকান্ড তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হচ্ছে সেটাই এখন বড় রহস্য।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ ও সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার জামাল উদ্দিন। প্রসঙ্গত ২০১২ সালের ১১ ফেব্র“য়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনিকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের ধরার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। এরপর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিরা রয়ে গেছে নাগালের বাইরে।

 

আরো খবর...