সরকার আইনকানুনের কোনো ধার ধারছে না – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারের জন্য নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে আদালত বসানোর কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সরকার প্রধানের অদম্য প্রতিহিংসা দ্রুত চরিতার্থ করার জন্য আদালত স্থানান্তরের এই অসাংবিধানিক ন্যক্কারজনক কাজ করা হয়েছে। সরকার আইনকানুনের কোনো ধার ধারছে না। আদালতকে বন্দী করা হয়েছে কারাগারে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য দুটি। একটি হলো একের পর এক মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে সাজা বৃদ্ধি করা। আরেকটি উদ্দেশ্যÑ দিনের পর দিন আটকে রেখে শারীরিক অসুস্থতার আরও অবনতি ঘটিয়ে বেগম জিয়াকে বিপর্যস্ত করা। রিজভী বলেন, ‘গতকালও আপনারা দেখেছেন হুইলচেয়ারে করে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে। হাত-পা নড়াতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল। তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে রীতিমতো কাঁপছিলেন এবং চেয়ার থেকে দাঁড়াতে পারছিলেন না। বারবার দাবি করা সত্যেও তাঁর সুচিকিৎসায় সরকার অবহেলা করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শনুযায়ী তাঁর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়নি। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসার দাবি বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকলেও জোর করে হলেও আদালতে নিয়ে আসতে হবেÑ এই ধরনের এক আক্রোশের মনোবৃত্তি ফুটে ওঠে আইনি কার্যক্রমে। অন্ধকার কারাগারে আদালত গঠন খালেদা জিয়াকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার শামিল। বিএনপির নেতা রিজভী বলেন, নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের প্রতিবাদ দমন করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে ধ্বংস করে গণতন্ত্রের মৃতদেহের ওপর এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করা হয়েছে। সরকার এখনো আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সমাধানহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না। কারণ, এই ধরনের নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই একতরফা ভোটারশূন্য নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনা সারা দেশে বিরোধী দলশূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রিজভী অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িছাড়া, পরিবারছাড়া পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে। প্রতিদিন রাতেই পোশাকধারী ও সাদাপোশাকধারীরা বিএনপি নেতাদের বাসা ও বাড়িতে হানা দিচ্ছে, তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করা হচ্ছে দুর্ব্যবহার, গ্রেপ্তার করছে। রিজভী বলেন, ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৫ শতাধিক। মামলা হয়েছে ১২ শতাধিক, নাম উল্লেখ করে আসামি সংখ্যা ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা আসামি সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

আরো খবর...