সকল আঞ্চলিক সম্প্রীতিবোধকে জাতীয় সম্প্রীতিতে রূপান্তরিত করতে হবে

ইবিতে রংপুর বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ সমিতির আয়োজনে পিঠা উৎসবে ড.রশিদ আসকারী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, সকল আঞ্চলিক সম্প্রীতিবোধকে জাতীয় সম্প্রীতিতে রূপান্তরিত করতে হবে।  তাহলে আঞ্চলিকতার বৈষম্য দূর করা সম্ভব। তিনি বলেন, বৃহত্তর রংপুর এখন বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। এটা ছিল অবহেলিত, উপেক্ষিত উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী। এ দাবী বাস্তবায়ন করায় রংপুরের গৃহবধু প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। তিনি বলেন, এই রংপুর মিঠাপুকুরের আসকারপুরে জন্ম গ্রহণ করে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। তিনি বলেন, একটি নিভৃত পল্লীতে জন্ম গ্রহন করলেও যদি কোন স্বপ্ন থাকে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের আবেগ থাকে, তাহলে সকল বাঁধাকে অগ্রাহ্য করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমাদের অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে। এখানে বৃটিশ আমলে জন্ম নিয়েছেন উইলিয়াম বেভারেজের মতো অর্থনীতিবীদ এবং তাঁর স্ত্রী লেডি বেভারেজ যিনি ‘বাবরনামা’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন এবং ‘হুমায়ুননামা’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করে বিশ্বখ্যাত হয়েছিলেন।  বাংলার প্রগতিশীল আন্দোলনের জনক রাজা রাম মোহন রায় রংপুরে প্রায় ১০ বছর সময় অতিবাহিত করেছেন। বিখ্যাত কবি শেখ আব্দুল হাকিম এবং সবচেয়ে বড় গৌরবের যিনি, বেগম রোকেয়া এই রংপুরে জন্ম গ্রহণ করেছেন। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ক্রিকেটার নাসিরও জন্ম নিয়েছেন এই রংপুর বিভাগে। তিনি বলেন, রংপুরের মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে অলস ও গৃহকাতর বলা হয়ে থাকে। তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান রাখবো আসুন, আমরা রংপুরবাসী আরও অধিকতর পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে নিজের বিভাগ এবং দেশের জন্য কিছু করি। তিনি এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করায় আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। গতকাল সোমবার দুপুরে ইবির বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, রংপুর বিভাগীয় ছাত্র কল্যাণ সমিতির আয়োজনে, পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। ইইই বিভাগের শিক্ষক, সাবেক প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন, লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ  আসাদুজ্জামান, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. শেখ এবিএম জাকির হোসেন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ ফিরোজ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, রংপুরের মানুষ অত্যন্ত সরল। আর সরল মানুষেরা হয় জ্ঞাণী, মহৎ ও শক্তিশালী। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরা সরল পথ দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং সর্বত্র জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিবে এই প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, আজকের এই পিঠা উৎসব অত্যন্ত আনন্দের। তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা নিজের পরিবারের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নের জন্য পিঠা তৈরী করে থাকেন। তাই পিঠার সাথে হৃদয়, ভালবাসা ও ¯েœহের মধুর সম্পর্ক রয়েছে। এ পিঠা উৎসবের আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ড. শাহিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পরস্পরের মধ্যে সহামর্মীতা ও সুসম্পর্ক বৃদ্ধি হয়। আশারাখি শুধু রংপুরের শিক্ষার্থীরাই নয়, প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। সাজেদা আক্তার জলি ও এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণরত ঠাকুরগাঁও জেলার আরাফত সরকার জীবন, নীলফামারী জেলার মোস্তাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা জেলার আশাদুজ্জামান আসাদ, বদিউজ্জমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম জেলার হাবিবুল্লাহ বিলালী, দিনাজপুুর জেলার ইরফান রানা, লাল মনির হাট জেলার গোলাম আযম প্রতীক ও রংপুর জেলার মশিউর রহমান। জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এ পিঠা উৎসবে রংপুর বিভাগের ঐতিহ্যবাহী জামাই আদর পিঠা, গোলাপ পিঠা, নকশি পিঠা, ডিম-কলা পিঠা, নুনিয়া পিঠাসহ প্রায় অর্ধশত রকমের পিঠা প্রদর্শন করা হয়।

আরো খবর...