সকলের সহযোগিতায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে

কুষ্টিয়া জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন
কুষ্টিয়ার উন্নয়নে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, আগামীর উন্নয়নশীল বাংলাদেশ দেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা আজকের প্রজন্মকে বাচিয়ে রাখতে হবে। কারন তারাই আগামী দিনের কর্ণধার। অনেক উন্নয়নশীল দেশ আছে যারা আজো তাদের দেশকে ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনি। অথচ আমাদের এই তরুন প্রযুক্তিবিদরাই অতি অল্প সময়ে সোনার বাংলাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সুনাম অর্জন করেছে। দেশকে দারিদ্রের কষাঘাত থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে হাজারো প্রযুক্তির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে তারা কাজ করছে। এই উদ্দোমী প্রতিভাদের বিকাশে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে মাদক। মাদকদ্রব্য পরিবার, দেশ তথা রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করছে। আগামীর অগ্রসৈনিক প্রজন্মকে বাঁচাতে অবশ্যই মাদকদ্রব্য জেলা থেকে নির্র্মুল করা হবে। সকলের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে জেলাবাসী তথা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এ জেলায় আমি নতুন নই, তবে জেলা প্রশাসক হিসেবে নতুন। জেলার উন্নয়নে ও জেলার মান মর্যাদা বৃদ্ধি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসন সবাই যখন একযোগে কাজ করবো তখন আমরা আরও সামনে দিকে এগিয়ে যাবো। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন তিনি বলেন- আপনাদের জন্য আমার দার সর্বদা খোলা রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাসহ সকলের যে কোন ধরনের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাব। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন কুষ্টিয়ার উন্নয়নে আমি যেন আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সভায় উপস্থিত সবার সাথে পরিচিত হন এবং সবার পরিচয় জানেন।

তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি আপনাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর একার পক্ষে গোটা জেলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। কোনভাবেই জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।

সভায় পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, মাদকের মুল উৎপাটনে ও জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নিজেদের দায়িত্ববোধটাকে জাগ্রত করে তুলতে হবে। একজন মাদক ব্যবসায়ী পাঁচ শত পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। তাই কোন বহনকারীকে সাজা দেয়ার আগে তার তথ্য মতে মাদকের নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। জেলায় মাদকের ব্যবহার কমাতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর সহ আইনশংখলা বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে।  জেলার যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে আইনশংখলা পরিস্থিতি অনেক ভাল। আগের চেয়ে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড অনেকাংশে কমেছে।

বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান হাবিব। তাকে সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান, সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, ডিডিএলজি মোস্তাক আহমেদ, বিশিষ্ট লেখক কলামিষ্ট ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, জেলা জাসদের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মহসিন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, তৌফিকুর রহমান, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, জেল সুপার জাকের হোসেন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবু হাসানুজ্জামান, এনএসআই’র যুগ্ম-পরিচালক আমিনুজ্জামান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ জেড এম শফিউল হান্নান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নান, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক আজমল কবির, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেম, বিএফএ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, ইসলামীয়া কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল হক, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান, নারী নেত্রী আলম আরা জুঁই, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক শামসুল হক,  জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলামসহ জেলার সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...