শেখ হাসিনা যথার্থই বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন

॥ মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী ॥

গত ২১ জুলাই শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় সভাপতি এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৪টি কারণে সংবর্ধনা দেয়া হয়। কারণগুলো হচ্ছে স্বল্পোন্নত থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ জয়, অস্ট্রেলিয়ায় গে¬াবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয় থেকে ডি লিট ডিগ্রি প্রদান। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বক্তব্যের শুরুতেই পিতা বঙ্গবন্ধুর মতোই রবীন্দ্রনাথের লেখা পঙিক্ত ‘এ মণিহার আমার নাহি সাজে’ আওড়িয়ে সংবর্ধনার আয়োজনকে দেশের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করে দেন।

সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের প্রবীণ নেত্রী, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী। এতে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই ভাষণ দেননি, ফলে স্তুতিচর্চায় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। দলের সাধারণ সম্পাদক লিখিত মানপত্র পাঠ করেন। শুরুতে সংক্ষিপ্ত নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশনার অনুষ্ঠানটি কেবলই শেখ হাসিনার একক বক্তৃতায় প্রাণবন্ত হয়েছে। লাখ লাখ শ্রোতা-দর্শক মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছে। যদিও অনেক কথাই তিনি আগেও বলেছেন, শনিবার আবার বললেন। তাতে একসঙ্গে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেরই ধারাবাহিক চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষত ১৯৭৫-এর পরবর্তী প্রজন্ম অনেক কিছুই আগের জানা-অজানায় মিলিয়ে নিতে পারার কথা, তুলনামূলক চিন্তাতেও খোরাক জোগানোর কথা। এখনো যুবসমাজের অনেকেই ১৯৭৫-এর হত্যাকান্ডের ভুল বর্ণনা শুনে প্রবীণ হওয়ার অপেক্ষায় আছে, উঠতি তরুণদেরও অনেকে আছে যারা বিকৃত ইতিহাস শুনে বড় হচ্ছে। এখানে বঙ্গবন্ধু তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অসংখ্য মিথ্যা, বানোয়াট গল্প বানানো হয়েছে, সেগুলো গ্রামগঞ্জে, শহরে কয়েক দশক ধরে প্রচার করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে অনেক তরুণ-তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় যাদের কথা ও প্রশ্ন শুনে বিস্মিত হই, কষ্ট পাই। এরা দেশে শুদ্ধ ইতিহাসের ক, খও জানে না, কিন্তু বিকৃত ইতিহাস বয়ান করে যেভাবে নিজের ‘জানা’কে আঁকড়ে ধরে আছে- তা থেকে তাদের মুক্তির পথ খুব সহজ নয় বলেই মনে হচ্ছে। আমাদের সমাজে মুখরোচক গল্পের প্রসার ব্যাপক, এটিকে যাচাই-বাছাই করে দেখার মানসিকতা প্রায় নেই বললেই চলে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসটি বারবার বলা ও শোনানোর উদ্যোগকে ভিন্নভাবে নিয়ে লাভ নেই। যারা জানেন তাদের সংখ্যা কম, যারা কম জানেন তাদের সংখ্যাও খুব বেশি না, তবে যারা বিকৃত তথ্য জানে, বিশ্বাস করে তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং তাদের জানার জন্য হলেও এসব বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি হওয়া প্রয়োজন। যে দেশে এক সময় বঙ্গবন্ধুর নামই ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাকে নিয়ে লেখালেখি বন্ধ ছিল, সেই দেশে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র দর্শন, রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি আরো বেশি বেশি আলোচনায় আসা উচিত। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, আমাদের তরুণদের বড় একটি অংশই নিজের দেশের গৌরবময় অধ্যায় সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে, খুব বেশি মৌলিক বই-পুস্তক পড়ার অভ্যাস তাদের মধ্যে দেখা যায় না। অথচ অগৌরবময় অধ্যায় সম্পর্কে তাদের রয়েছে উচ্চ ধারণা। একটি প্রতিসংস্কার তথা প্রতিবিপ্লবের ঢেউ এ দেশের সমাজ-রাষ্ট্র, রাজনীতির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। সেটির রেশ এখনো কাটেনি। তারা এখনো ১৯৭৫-এর হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদের খুব বেশি চেনে না, এই হত্যাকান্ডের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী ছিল- তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা মোটেও সুখকর ছিল না। কেন এমন হয়েছিল- তার  বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ জানা ও বোঝা মোটেও সহজ নয়। সেই কাজটি আমাদের রাজনীতিবিদরা খুব একটা করেননি। তাদের বেশিরভাগেরই বক্তৃতা-বিবৃতিতে দেশের রাজনীতির ইতিহাসনিষ্ঠ অবস্থানের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থাকে না। ফলে রাজনীতি হয়ে উঠেছে বেশিরভাগ নবাগতদের জন্য কেবইল গলাবাজি করা, প্রতিপক্ষকে গালাগাল করা, বিকৃত তথ্য, মিথ্যাচার ইদ্যাদিকে দলীয়ভাবে চলতে দেয়া। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত একভাবে চলেছে, ১৯৭৫-এর সাম্প্রদায়িকতাকে দেশের রাজনীতিতে ছড়িয়ে দেয়ার নীল নকশা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে যে সব দল চুটিয়ে রাজনীতি করেছে তাদের মিশন সফল হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণতন্ত্রের আদর্শ বাস্তবায়নের রাজনীতি। সেখানেই প্রয়োজন দেখা দিয়েছে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতির স্বরূপ উন্মোচন করা। কিন্তু কাজটি শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য দলের নেতারা করছেন না- এই সত্য স্বীকার করতে হবে।

এক সময় ধারণা দেয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ মানে হিন্দুদের দল, ভারতের অনুগত দল, ধর্মবিরোধী দল। এ ধরনের প্রচারণায় এক সময় সাধারণ মানুষ, তরুণ সমাজ, এমনকি উচ্চ শিক্ষিত একটি গোষ্ঠীও বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু এমন জিগির তোলা রাজনীতি দেশ ও জাতিকে কোনো উন্নতি, অগ্রগতি দেয়নি বরং বাংলাদেশে তিমিরই আবদ্ধ ছিল। যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে রাজনীতি ও রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থেকেছে তারা ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি, সীমান্ত চুক্তি, সমুদ্র সীমানা, পর্বত চট্টগ্রামের সংকট ইত্যাদির কোনোটিই সমাধান চায়নি, বরং সমস্যাগুলো জিইয়ে রেখে ভারতবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা রেখে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখেছিল। এটি কোনো রাষ্ট্রকে আধুনিক চিন্তা- চেতনা ধ্যান-ধারণা ও অর্থনৈতিক উন্নতি দিতে পারে না। বাংলাদেশ যত বছর সাম্প্রদায়িকতা ও ভারতবিরোধিতার বৃত্তে আবদ্ধ থাকার সম্পর্ক ও রাজনীতি নিয়ে চলেছিল তত বছর আমাদের মাথাপিছু আয় খুব একটা বাড়েনি, দারিদ্র্য উল্লেখ করার মতো কমেনি, মধ্যবিত্তের বিকাশ ঘটেনি, বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব একটা মর্যাদার আসন স্পর্শ করতে পারেনি। এমন আত্মঘাতী রাজনীতির শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ এবং এর বৃহত্তর জনসাধারণ।

কিন্তু ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অতীতের অপপ্রচার ভাঙার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে থাকে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে থাকে, বাংলাদেশের সমস্যা একে একে সমাধান হতে থাকে, দেশের বিদেশ নির্ভরশীলতা কমতে থাকে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানার সুযোগ আবার ফিরে আসে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের আসর থেকে বাংলাদেশ মুক্ত করা হয়, দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের ধারা চালু হয়, শিক্ষা-সংস্কৃতিতে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটার সুযোগ পায়। এর মূলে শেখ হাসিনার মিশন-ভিশনকে অনেকে ধরতে পারেনি। কিন্তু ২০০১-০৬ সালে জামায়াত-বিএনপির শাসনকাল বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের ভুল ভাঙতে সক্ষম হয় যে, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার কৌশল নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাকে ব্যবহার করছে। এরই প্রতিক্রিয়ায় মানুষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ভূমিধস বিজয় দিয়েছে। শেখ হাসিনা সেই নির্বাচনে ২০২১ সালকে উন্নয়নের লক্ষ্য বছর হিসেবে ‘দিন বদলের সনদ’ ঘোষণা করেন, সর্বক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল ঘোষণা করেন- যা রূপকল্প নামে পরিচিতি পায়। তখন বেশির ভাগ মানুষই বুঝতে পারেনি শেখ হাসিনার রূপকল্প কল্পনা, নাকি বাস্তবে রূপদানের সম্ভব হবে। অনেকেই ডিজিটাল শব্দ নিয়ে ব্যঙ্গ করত, কুইকরেন্টালে বিদ্যুত উৎপাদন নিয়ে নানা ধরনের কল্পকাহিনী ছড়িয়েছিল, কৃষি, সার, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে তার পরিকল্পনাকে অনেকেই গতানুগতিক ফাঁকিবাজি হিসেবে প্রচারও করেছিল, এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেছিল। পদ্মা সেতু নিয়ে তো দুর্নীতির নানা অপপ্রচারে দেশে এমন বাতাস ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল- তাতে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছিল। তাদের সবার সন্দেহ, অবিশ্বাস, অপপ্রচার এবং দ্বিধাদ্বন্দ্বকে মিথ্যা প্রমাণ করে শেখ হাসিনা রূপকল্প একের পর এক বাস্তবায়ন করেছেন। খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, বিদ্যুত, রেল, যোগাযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনেতিক উন্নতি অগ্রগতিতে দেশকে দ্রুতই উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে এসেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নে দেশ এখন গ্লানিকর কোনো অবস্থানে আবদ্ধ নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, জঙ্গিবাদ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ অনেক বেশি মর্যাদার আসন লাভ করেছে। বাংলাদেশ ১০ বছরে ৫/৬ গুণ বিদ্যুত উৎপাদনে সক্ষম হওয়ার কথা ভাবতেই পারেনি। এখন তা বাস্তব সত্য। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশে এনজিও নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা দুর্বল হয়ে গেছে, রাষ্ট্র বিনামূল্যে বই দিয়ে বেশির ভাগ শিশুকেই স্কুলমুখী করেছে। এখন বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত অবস্থান থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি লাভ করেছে, নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নের স্বীকৃতিও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পেয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে ডি লিট উপাধি দিয়ে বাংলাদেশকেই যেন নতুনভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এসব অর্জনের পেছনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বিশেষভাবে স্বীকার করতেই হবে। মনে রাখতে হবে, ইতিহাস জনগণ সৃষ্টি করে সত্য, তবে সেই ইতিহাস রচনার জন্য জনগণের প্রয়োজন প্রকৃত নেতার নেতৃত্বে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বই আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তিনি সদ্য স্বাধীন দেশকে আধুনিক একটি রাষ্ট্র চরিত্র দিতেই সংবিধান প্রণয়ন, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন, ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে একে একে উদ্যোগ নিলেন, জোট আন্দোলনে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর পরিচয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেতে থাকে, নতুন স্বপ্ন দেখানোর এক নেতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান যাকে বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছিল। সেই নেতাকে যারা হত্যা করেছে তারা বাংলাদেশকে পশ্চাৎপদ দেশে পরিণত করতেই তা করেছিল। তাদের সমগ্র শাসনকালে বাংলাদেশ ‘দ্বিতীয় পাকিস্তান’ নামে পরিচিত ছিল। প্রথম পাকিস্তান এখন দুনিয়া জুড়ে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় পাকিস্তান তথা পাকিস্তানের পদাঙ্ক অনুসারী জিয়া-এরশাদ-খালেদার বাংলাদেশও ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ারই তকমা লাভ করত। কিন্তু আমরা রক্ষা পেয়েছি ১৯৯৬-২০০১ সালের শেখ হাসিনার শাসন লাভের সুযোগ পাওয়ার কারণে। ২০০৯ থেকে মাত্র সাড়ে নয় বছরে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কীভাবে তা সম্ভব হয়েছে সেই গল্পই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়াজিত গণসংবর্ধনায় শেখ হাসিনা উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী, দর্শক-শ্রোতা এবং দেশবাসীকে শুনিয়েছেন। তিনি এই গল্প বলতে গিয়ে কোথাও কি মিথ্যা কথা বলেছেন? না, তেমন কিছু আমাদের কানে শোনা যায়নি। তবে তিনি তার এমন দৃঢ় অবস্থান নেয়ার পেছনে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ থেকে শিক্ষা নেয়ার কথা বলেছেন, বলেছেন নতুন জাতি রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগসমূহকে বুঝতে চেষ্টা করা, সেই নীতিকে অনুসরণ করা, বঙ্গবন্ধু যা শুরু করেছিলেন তিনি তার সব কিছুকেই নতুন বাস্তবতায় পুনর্মূল্যায়ন করে বাস্তবায়িত করতে প্রাণপণ লড়াই করে যাচ্ছেন।

তিনি বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কারণে তাকে প্রায় ১৮/১৯ ঘণ্টা দৈনিক পরিশ্রম করতে হয়। তিনি সব প্রকার দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। বলেছেন, তার হারাবার কিছু নেই, দেশকে কিছু দিতে কাজ করা ছাড়া, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা ছাড়া তার কোনো উদ্দেশ্য নেই। সেই লক্ষ্যে কাজ করে তিনি বাংলাদেশকে এখন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের গ্রাম, শহর সর্বত্র পরিবর্তন দৃশ্যমান, জনজীবনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এর পেছনে ও সম্মুখে আছেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সাল থেকে দলের হাল ধরে তিনি দলের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে দেশের নেতৃত্ব লাভ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রেও অসামান্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। এমন নেতার সংবর্ধনা হবে না তো কার হবে? তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাজ হওয়া দরকার তার ভাষণটি মনোযোগ দিয়ে শোনা, কীভাবে নেতা হতে হয়- তা শেখা, বোঝা এবং সেই শিক্ষা নেয়া। তাহলে বাংলাদেশ নেতৃত্বের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। নতুবা শেখ হাসিনার ভয় আছে, বাংলাদেশের জন্য ভয়ানক অবস্থাও অপেক্ষা করতে পারে। কেননা বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পেরেছিলেন ৪ জাতীয় নেতাকে তৈরি করতে- যারা তার অনুপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তাকে হত্যার পর শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুসারী হয়ে দেশকে বর্তমান উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা এর ধারাবাহিকতা দেখতে চাই, পেতে চাই। তবে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির শিখরে উঠতেই থাকবে।

লেখক ঃ অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো খবর...