রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রফতানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে – বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা  অফিস ॥ রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রফতানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার বাজারে রফতানি করা বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য- তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ওষুধ, আলু এবং সবজির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এরইমধ্যে বর্তমানে রাশিয়ায় কিছু পরিমাণে তৈরি পোশাক, পাট, হিমায়িত চিংড়ি এবং আলু রফতানি হলেও এর মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। গত শুক্রবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অবস্থিত ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের (ইইসি) সদরদফতরে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ‘মেমোরেনডম অব করপোরেশন বিটুইন দি ইউরেশিয়া ইকোনোমিক কমিশন অ্যান্ড দি গভর্নমেন্ট অব দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কথা বলেন। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের পক্ষে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন মন্ত্রী পদমর্যাদার কমিশনটির বোর্ডের সদস্য মিজ তাতিয়ানা ভলোভিয়া। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর আশাবাদ ব্যক্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বাজারে রফতানি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে। কিন্তু দু’দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি না থাকায় এবং রাশিয়া ইইসি’র আওতায় গঠিত কাস্টমস ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় এককভাবে রাশিয়ার পক্ষে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রী বলেন, রাশিয়াসহ ইইসিভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি বাজার সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত-কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার লক্ষে প্রস্তাবিত সহযোগিতা চুক্তিটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া এই সহযোগিতা চুক্তির আওতায় একটি মেমোরেনডম অব করপোরেশন গঠিত হবে। যার মূল ভূমিকা হবে বাংলাদেশ ও ইইসি’র মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিহ্নিত ১৯টি সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করা। এর ফলে রাশিয়াসহ ইইসি দেশগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। টিপু মুনশি বলেন, স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তিটি কার্যকর করার লক্ষ্যে অতিদ্রুত উভয় দেশের অংশগ্রহণে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সহযোগিতার অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরেশিয়ান ইকোনোমিক কমিশনের সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে কাজ করবে। এছাড়া ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রী রাশিয়ার ফেডারেশন অব চেম্বারস অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বিজনেসম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন। সভায় রাশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্য রফতানির সম্ভাবনা এবং কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি পাবে। জানা গেছে, পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের (রাশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, আরমেনিয়া এবং কিরগিজস্তান) সমন্বয়ে ইউরেশিয়া ইকোনোমিক কমিশন গঠিত। যা ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

আরো খবর...