রাজনীতিতে সুবাতাসের ঘ্রাণ কাজে লাগানো হোক

॥ আবদুল লতিফ মন্ডল ॥

দেশের রাজনীতিতে সুবাতাসের ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবারও সংলাপে বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২৭ জুলাই বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেল প্রকল্প কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে টেলিফোনে কথা হতে পারে। ওয়ার্কিং আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের জন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা হতেই পারে।

রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে সৌজন্যমূলক যোগাযোগ থাকলে অনেক সমস্যাই সমাধান করা যায়।’ চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সংসদের বাইরে থাকা প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের যে প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন, সে জন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। জনগণ আশা করেন, টেলিফোনে আলোচনা ক্রমান্বয়ে টেবিলে আলোচনার পথ সুগম করবে এবং চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান বা হ্রাসের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব করে তুলবে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী দু’দশকে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ায় মানুষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি আশির দশকের শেষদিকে রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির শাসনামলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো উত্থাপন করে, নব্বইয়ের দশকের প্রথমদিকে বিএনপি সরকারের আমলে একটি উপনির্বাচনে কারচুপির কারণে তা অনেকটা গণদাবিতে পরিণত হয়।

এ দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এবং অন্য দুটি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালের মার্চে সংবিধান সংশোধন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে। এ সরকারব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি (সপ্তম, অষ্টম ও নবম) জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।

যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ১৯৯৩-৯৫ সালে বিএনপির শাসনামলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে এবং সংসদ থেকে পদত্যাগ করে, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাই বাতিল করে দেয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে আগে থেকে যে বৈরিতা বিরাজ করছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল সে বৈরিতাকে অনেকটা শক্রতায় পরিণত করে। একদল আরেক দলকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করে দেয়ার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়, যা আজও বহাল রয়েছে।

অথচ বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকাশের স্বার্থে বড় এ দুই দলের উচিত হবে সহাবস্থানে বিশ্বাসী হয়ে ওঠা এবং এক দল অন্য দলকে নির্মূল করে দেয়ার মনোভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকা।

তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের সহযোগী ১৮টি দল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে সরকারকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনেকটা এককভাবে সে নির্বাচন আয়োজন করে আবার ক্ষমতায় আসে। ভোটারবিহীন এ নির্বাচনে দেশের গণতন্ত্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির মধ্যে যে গুটিকয়েক বিষয় নিয়ে মতানৈক্য ও বৈরিতা বিরাজ করছে, তার একটি হল সংসদ নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর থেকে বিএনপি তা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে এবং সে দাবিতে তারা অনড় রয়েছে, যদিও দলটি মাঝখানে কিছু সময়ের জন্য সে দাবি থেকে সরে এসে নির্বাচনী সহায়ক সরকারের কথা বলেছিল।

দলটি দেশবাসীর কাছে সহায়ক সরকারের রূপরেখা উপস্থাপনের কথা বললেও এ যাবৎ তারা তা করেনি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সম্ভাবনাকে একাধিকবার নাকচ করে দিয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে একজন নির্বাচন কমিশনার জানান যে, আগামী অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। পরে ১০ জুলাই কমিশনের এক সভাশেষে প্রতিষ্ঠানটির সচিব সাংবাদিকদের জানান, আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে।

৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার পর নিজ দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ২ মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুর নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো সমঝোতা ছাড়া তফসিল হলে তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের পরদিন ৩ মে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল নয় বিধায় নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

এ ইস্যুতে সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোভাবে কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে তারা সংসদ নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে।

সংবিধানে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যার ‘অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন।’ সুতরাং মন্ত্রিসভার অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দশ শতাংশ কোটায় যোগদানের জন্য বিএনপির প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা পূর্ণতা লাভ করবে।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে তা হল- জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে সংসদ বহাল রাখা। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদ বহাল রেখে সংসদ নির্বাচনের বিতর্কিত বিধান প্রবর্তন করে।

এতে বলা হয়, মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে আরও বিধান করা হয়, সংসদের মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকালে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন।

এতে দশম সংসদের প্রায় একদলীয় নির্বাচনে কমবেশি ৯০ ভাগ আসনে জয়ী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা (তাদের অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন) ক্ষমতায় থাকবেন এবং তাদের অধিকাংশই একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হবেন। তা ছাড়া কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসি নিরপেক্ষভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বা মনোনীত প্রার্থীরা এসব নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এসব সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় আওয়ামী লীগের সমর্থন-মনোনয়নে অনেকটা একচেটিয়াভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রভাবমুক্ত হয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা ইসির পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসির সঙ্গে সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেয়। তারা যুক্তি দেখান, সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু রয়েছে এমন সব দেশে জাতীয় সংসদ বহাল রেখে সংসদ নির্বাচনের বিধান নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রের অনুসারী হয়ে বাংলাদেশ এমন কিছু করতে পারে না, যা বিশ্বে প্রচলিত সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে বেমানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের টেলিফোনে আলোচনার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে মাঠে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা ক্ষমতাসীন দলের এমন মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা যে কোনো সময় সংলাপে বসতে প্রস্তুত। এদিকে চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের টেলিফোনে আলোচনার প্রস্তাব এবং বিএনপি মহাসচিবের সেটি ইতিবাচক হিসেবে দেখাকে ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামতের বরাত দিয়ে ২৮ জুলাই যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংলাপ নিয়ে ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আলোচনায় বসতে নানা মহল থেকে প্রস্তাব দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। এক টেবিলে না বসায় তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়েই চলেছে। আগামী একাদশ নির্বাচন সন্নিকটে। নির্বাচন নিয়ে দু’দলের মধ্যে এখনও সমঝোতা হয়নি।

ভোট ইস্যুতে দু’দলই বিপরীতমুখী অবস্থানে। এ পরিস্থিতিতে সবার মধ্যেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাই বিশ্লেষকরা মনে করেন, টেলিফোনে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে আসা সম্ভব না হলেও ফোনালাপের মধ্য দিয়ে দু’দলের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব অনেকটা কমে আসতে পারে। যদি ফোনালাপও হয় সেটাও রাজনীতির জন্য ইতিবাচক, যা পরে এক টেবিলে বসতে সহায়তা করবে।

সবশেষে বলতে চাই, চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার শুভসূচনা হোক এবং তা সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের টেবিলে আলোচনার পথ সুগম করুক। দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়াসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য বিরোধী দল এবং সরকারি দল আওয়ামী লীগের মধ্যে ন্যূনতম সমঝোতা হতে হবে। এজন্য তাদের আলোচনার টেবিলে বসার বিকল্প নেই।

লেখক ঃ সাবেক সচিব

আরো খবর...