রাঘববোয়ালরা যেন ছাড় না পায়

বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার পেট্রোবাংলার পরিচালকের (অপারেশন) নেতৃত্বে যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেই কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি এরপর হস্তান্তর করা হয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে। এরপর প্রতিমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে কয়লা চুরির সঙ্গে সাবেক চার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য অবশ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওদিকে মঙ্গলবার রাতেই বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) বাদী হয়ে চুরির ঘটনায় খনির সদ্য অপসারণকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তিন সদস্যের একটি কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এই টিম খনির অভিযুক্তদের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তোলনকৃত ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা গায়েব হওয়ার ঘটনায় দেশবাসী বিস্মিত। এত বড় চুরি কীভাবে সংঘটিত হল, সেটাও এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলার তদন্ত কমিটির এক সদস্য বলেছেন, গত ১৩ বছরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে উপ-মহাব্যবস্থাপক পর্যন্ত পদে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এই অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। অর্থাৎ আমরা দেখছি, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে পুকুরচুরি নয়, হয়েছে সমুদ্রচুরি। এত উচ্চপদে দায়িত্ব পালনকারীরা এত বড় দুর্নীতি করতে পারে ভাবা যায় না। তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এদের রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিলেও অত্যুক্তি হবে না। এই মহা অন্যায় কাজটি করা হয়েছে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে। উত্তরাঞ্চলে ইতিমধ্যে বিদ্যুত সরবরাহে বিঘœ ঘটেছে। সেচ ব্যবস্থাসহ বিদ্যুতচালিত অন্যান্য কর্মকান্ডেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ এই কয়লা চুরি সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে এনেছে। অভিযুক্তদের বিচার হতে হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে দিতে হবে কঠোর শাস্তি। নিম্ন পর্যায়ের দোষীদের অন্যায়ের শাস্তি হবে, অথচ উচ্চপদস্থদের হবে না, এটা হতে পারে না। অপরাধী, তার সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক, অন্যায় করলে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে- এটাই আইনের শাসনের মূল কথা।

আরো খবর...