রমজানের বৈশিষ্ট্য সমূহ

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে হুজুরে আকরাম সা: ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতকে রমজান শরিফের ব্যাপারে এমন পাঁচটি বিশেষ  বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো উম্মতকে প্রদান করা হয়নি। ১. রোজাদারের মুখ থেকে যে গন্ধ  বেরোয় তা আল্লাহ পাকের কাছে কস্তুরী থেকেও বেশি পছন্দনীয়। ২. রোজাদারের জন্য সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে এবং ইফতারের সময় পর্যন্ত তারা দোয়া করতে থাকে। ৩. প্রতিদিন জান্নাতকে রোজাদারের জন্য সুসজ্জিত করা হয়। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ‘আমার নেক বান্দারা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট পশ্চাতে  রেখে অতি শিগগিরই আমার কাছে আসবে’। ৪. রমজানে দুর্বৃত্ত শয়তানকে বন্দী করা হয়। ফলে সে রমজানে ওই সব অন্যায়ের দিকে ধাবিত হতে সক্ষম হয় না যা রমজান ছাড়া অন্য সময়ে করে। ৫. রমজানের শেষ রাতে আল্লাহ পাক রোজাদারদের মাগফিরাত দান করেন।  সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এ রাত কি শবে-মাগফিরাত না শবে কদর? হুজুর সা: ইরশাদ করলেন- ‘না বরং নিয়ম হলো এই যে, শ্রমিক যখন তার কাজ শেষ করে তখন তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়া হয়’। অপর হাদিসে হজরত মুহম্মদ সা: ইরশাদ করেছেন- ‘যদি মানুষ জানতো যে রমজানের সত্যিকার মাহাত্ম্য কি? তবে আমার উম্মত আকাংখা করত যেন সারা বছর রমজান হয়’। আর একটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজান মোবারকের রোজা অন্তরের খুঁত এবং সন্দেহ দূরীভূত করে। হজরত ওমর রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেছেন- ‘রমজানুল মোবারকে আল্লাহ পাকের স্মরণকারী ব্যক্তিকে মাফ করা হয়। আর আল্লাহ পাকের মহান দরবারে প্রার্থনাকারী বঞ্চিত হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, রমজানের প্রত্যেক রাত্রে একজন  ফেরেশতা এই ঘোষণা করে, ‘হে কলাণকামী এদিকে মন দাও, কল্যাণের পথে অগ্রসর হও। হে অন্যায়কারী এবার বিরত হও। চক্ষু খোল।’ এরপর সেই ফেরেশতা বলে : আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী যাকে ক্ষমা করা যায়? আছে কি কোনো তওবাকারী যার তওবা কবুল করা যায়? আছে কি  কোনো প্রার্থনাকারী যার প্রার্থনা মঞ্জুর করা যায়? অর্থাৎ রোজাদরের যেকোনো নেক দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করেন। যে সিয়াম সাধনায় রত, যে আল্লাহ পাকের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে পালন করছেন রোজার ব্রত, তার সব প্রার্থনা আল্লাহ পাকের দরবারে গ্রহণ করা হয়, তার যাবতীয় প্রয়োজনের আয়োজন করা হয়। এমনকি একখানি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- আল্লাহ পাক তাঁর আরশ বহণকারী  ফেরেশতাদের নির্দেশ দান করেন, ‘তোমাদের নিজস্ব ইবাদত মুলতবি রাখ এবং  রোজাদারদের দোয়ার সময় আমিন বলতে থাক’। রমজানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো : আল্লাহ নিজ হাতে রোজাদারের পুরস্কার দান করবেন। আল্লাহ পাকের ইরশাদ- ‘সকল নেক কাজের সওয়াবই দশগুন হারে হয়ে থাকে। কখনো তা পঁচিশ গুন পর্যন্ত হয়ে থকে। আবার একটি নেক কাজের বদলে ৭০০ গুন সওয়াবও লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু রোজা সকল নেককাজ থেকে স্বতন্ত্র। এই নেক কাজের সম্পর্ক বিশেষভাবে আমারই সাথে। তার বদলা আমিই দান করব। বান্দা তার পানাহারের আগ্রহ আমার জন্যই দমন করে থাকে। সুতরাং আমি নিজ হাতে তার মূল্য বা পুরস্কার দান করব’ ( হাদিসে কুদসি, মুসলিম শরিফ)। রমজানের আর একটি বৈশিষ্ট সম্পর্কে আবু হোরাইরা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়’ (বুখারি দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদ, ১৭৬৩ নম্বর হাদিস)। আবু  হোরাইরা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজান মাস শুরু হলে আসমানের দরজাগুলো উম্মুক্ত করে দেয়া হয়, দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের শিকলে বন্দী করা হয়’ (বুখারি দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদ, ১৭৬৪ নম্বর হাদিস)। রোজাদারদের আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, জান্নাতের রাইয়ান নামক দরজাটি তাদের জন্য নির্দিষ্ট। এ প্রসঙ্গে বোখারি শরিফের দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদের ১৭৬১ নম্বর হাদিসে সাহল রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন,  বেহেশতে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এটি দিয়ে রোজাদররা (বেহেশতে) প্রবেশ করবে। রোজাদার ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (কিয়ামতের দিন রোজাদরকে ডেকে) বলা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর একজন লোকও সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই তা বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে ওই দরজা দিয়ে আর  কেউ প্রবেশ করতে না পারে। উপরোক্ত আলেচনায় দেখা যায়, রমজান অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। এই বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে এ মাসকে সামর্থের প্রান্ত পর্যন্ত কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রত্যেকটি মুসলমান সচেষ্ট হলেই কামিয়াবি সম্ভব।

আরো খবর...