রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে

বৈদেশিক মুদ্রা আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি চলতি হিসাব পরিচালনা করে। সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে ওই হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৩৪৪ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এ সময়ে ঘাটতি ছিল ৩৪২ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ হিসাবে কোনো ঘাটতি ছিল না। দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়। টাকার মান কমলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের যেসব খাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে তা মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। বৈদেশিক অনুদান এবং রেমিটেন্স প্রবাহ যে কোনো সময় কমে যেতে পারে।এ অবস্থায় রফতানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় যাতে আমাদের দেশের রফতানিকারকরা টিকে থাকতে পারেন সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে রফতানির ক্ষেত্রে নানারকম সমস্যা সৃষ্টি হয়। সেসব সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাঙ্খিত মাত্রায় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। রফতানি খাতে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকের সুদের হার বেশি হলে ঋণ নিয়ে কোনো উদ্যোক্তার পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। দেশে শিল্পের প্রয়োজনে মানবসম্পদ তৈরি না হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রফতানির ক্ষেত্রে নানারকম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।কারণ এ ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের দেশগুলো যেসব সুবিধা পায়, উন্নতির পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হলে সেসব সুবিধা পায় না। দেশের প্রধান বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত।সেসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রফতানি খাতে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। বাজার ধরে রাখার জন্য পণ্যের গুণগত মান বাড়াতেও উদ্যোগ নিতে হবে। রফতানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। রফতানি খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি অল্প সময়ে নিশ্চিত করা কঠিন। এর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হয়।

আরো খবর...