মেসি-সুয়ারেসের গোলে শিরোপার পথে বার্সা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথমার্ধে দিয়েগো কস্তাকে হারিয়ে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া আতলেতিকো মাদ্রিদকে প্রচন্ড চাপে রাখে বার্সেলোনা। বিরতির পর লড়াই অনেকটা হয়ে ওঠে লিওনেল মেসি বনাম ইয়ান ওবলাক। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুর্বার প্রতিপক্ষকে আটকাতে পারেননি ম্যাচ জুড়ে দারুণ খেলা এই গোলরক্ষক। মেসি ও লুইস সুয়ারেসের গোলে দুর্দান্ত জয়ে লিগ শিরোপা ধরে রাখার পথে বড় এক লাফ দিল এরনেস্তো ভালভেরদের দল। কাম্প নউয়ে শনিবার রাতে ২-০ গোলে জিতে শিরোপাধারীরা। নভেম্বরে আতলেতিকোর মাঠে দুদলের মধ্যে লিগের প্রথম পর্বের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। লিগের সাত ম্যাচ বাকি থাকতে আতলেতিকোর চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে গেল কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করা বার্সেলোনা পঞ্চদশ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে জর্দি আলবার শট পোস্টে বাধা পায়। আসরে এই নিয়ে কাতালান ক্লাবটির সর্বোচ্চ মোট ১৮টি প্রচেষ্টা পোস্ট বা ক্রসবারে বাধা পেল। ছয় মিনিট পর লক্ষ্যে প্রথম শট নেয় অতিথিরা। দুরূহ কোণ থেকে অঁতোয়ান গ্রিজমানের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। দুই মিনিট পর ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা। কিন্তু এবার আর পারেননি লিগে গত তিন ম্যাচে সরাসরি ফ্রি-কিকে গোল করা মেসি। ২৮তম মিনিটে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খায় আতলেতিকো। রেফারির একটি সিদ্ধান্তে ক্ষেপে গিয়ে তার মুখের সামনের গিয়ে আপত্তিজনকভাবে প্রতিবাদ করেন কস্তা। এর প্রতিক্রিয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকারকে। বিরতির ঠিক আগে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফিলিপে কৌতিনিয়োর হেড ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রাখেন আতলেতিকোর গোলরক্ষক ওবলাক। দ্বিতীয়ার্ধের একাদশ মিনিটে একজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকেই শট নেন মেসি, ঝাঁপিয়ে ঠেকান ওবলাক। ৬২তম মিনিটে আবারও মেসি-জাদু। বল পায়ে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে অনেকটা এগিয়ে ডি-বক্সে অরক্ষিত সুয়ারেসকে পাস দেন আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু উরুগুয়ের স্ট্রাইকারের শট এগিয়ে এসে রুখে দেন স্লোভেনিয়ার গোলরক্ষক। পরের মিনিটে আবারও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বেঁচে যায় আতলেতিকো। এ দফায় কয়েক জনকে ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নিজেই শট নেন মেসি; কিন্তু ভাঙতে পারেননি ওবলাক-বাধা। ৬৯তম মিনিটে আরেক দফা মেসি-ওবলাক দ্বৈরথ এবং আবারও বিজয়ী গোলরক্ষক। সুয়ারেসের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বার্সেলোনা অধিনায়কের জোরালো শট ঠেকান ওবলাক। অবশেষে ৮৫তম মিনিটে অপেক্ষা শেষ হয় বার্সেলোনার। আলবার পাস ধরে খানিকটা এগিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন সুয়ারেস। আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার এটি ২০তম গোল। পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। ডি-বক্সে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে বাধা দিতে গিয়ে পড়ে যান ডিফেন্ডার হোসে হিমেনেস। সেই সুযোগে বিনা বাধা আরও কয়েক পা আড়াআড়ি গিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে আসরে ৩৩তম গোলটি করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোল হলো ৪৩টি। এই নিয়ে লিগে ঘরের মাঠে টানা আট ম্যাচে জালের দেখা পেলেন মেসি। আর আতলেতিকোর বিপক্ষে এই নিয়ে ২৯ গোল করলেন তিনি। কোনো এক দলের বিপক্ষে গোলের হিসেবে মেসির সর্বোচ্চ গোল সেভিয়ার বিপক্ষে, ৩৬টি। ৩১ ম্যাচে ২২ জয় সাত ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ৭৩। দুইয়ে থাকা দিয়েগো সিমেওনের দলের পয়েন্ট ৬২। দিনের প্রথম ম্যাচে করিম বেনজেমার জোড়া গোলে এইবারকে ২-১ ব্যবধানে হারানো রিয়াল মাদ্রিদ ৬০ পয়েন্ট নিয়ে আছে তৃতীয় স্থানে।

আরো খবর...