মুসলিম এইডের আর্থিক সহযোগিতায় আত্মপ্রত্যয়ী এ্যামিলির পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥  আমাদের দেশের গ্রাম বাংলার উন্নয়নে নারীরা গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এদের কেউ স্বামীর কাজে সহযোগিতা করে আবার কেউ নিজেরা  উদ্দোমী হয়ে। এমনই এক আত্মপ্রত্যায়ী নারীর নাম এ্যামিলি বেগম। কুষ্টিয় সদর উপজেলার টাকিমারা গ্রামের বাসিন্দা সে। স্বামী এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। স্বামী লালন শেখ পেশায় একজন দিন মজুর। স্বামীর আয়ের উপর নির্ভর করে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে চলত তাদের সংসার। কিন্তু আতœপ্রত্যায়ী এ্যামিলি বেগম মনবল হারাননি, তিনি সব সময় চিন্তা করতেন কিছু একটা করা দরকার কিন্তু কিছু করতে হলে অর্থের দরকার কে দেবে তাদের অর্থ। এমনি সময় প্রতিবেশী  দুর সম্পর্কের  ভাবিদের কাছ থেকে শুনতে পান মুসলিম এইড বাংলাদেশ এর নামমাত্র সার্ভিস চার্জ নিয়ে লোন প্রদানের কথা। স্বামীর সাথে পরামর্শ করে  ২০১০ সালের ফেব্র“য়ারী মাসে মুসলিম এইড বাংলাদেশ কুষ্টিয়া সদর শাখার টাকিমারা সমিতির সদস্য হন। পরপর ৪ সপ্তাহ সঞ্চয় করার পর  প্রথমে ৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে হাঁস মুরগী পালনের মাধ্যমে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করেন এবং স্বামী সামান্য বেতনে কাজ নেন কুষ্টিয়া শহরে এক দড়ি  তৈরীর কারখানায়। কিন্তু  এই সামান্য আয় দিয়ে তাদের সংসার ও ছেলে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া তাদের পক্ষে কষ্টকর ছিল। ২০১১ সালের মার্চ মাসে এ্যামিলি বেগম স্বামীর সাথে পরামর্শ করে বাড়িতে  দড়ি তৈরির কারখানা করতে স্বামীকে সাহস যোগায়। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী  এ্যমিলি বেগম মুসলিম এইড থেকে ১২ হাজার এবং বাবার বাড়ী থেকে আরো ৫ হাজার মোট ১৭ হাজার টাকা তুলে দেন স্বামী লালন শেখের হাতে। স্বামী লালন শেখ পূর্বাভিজ্ঞতার আলোকে ঐ টাকা দিয়ে একটি সুতার দড়ি তৈরীর মেশিন ও কিছু সুতা কিনে ছোট পরিসরে তাদের কারখানার কাজ শুরু করেন। এরপর থেকে তাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এ্যামিলি বেগম নিজেই কারখানার কাজ পরিচালনা করেন আর তার স্বামী লালন শেখ কুষ্টিায়া, ভেড়ামারা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের উৎপাদিত দড়ি বিক্রি করতে থাকেন। এভাবে তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় মুসলিম এইড থেকে ৭ বারে সর্ব  শেষ এপ্রিল মাসে ১ লক্ষ টাকাসহ ৭বারে মোট ২লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা লোন সুবিধা নিয়ে ৩ টি মেশিনের মাধ্যমে তাদের  কারখানার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান কারখানায়  সার্বক্ষনিক নারী-পুরুষ সহ ৬ জন এবং খন্ডকালীন সময় আরো ৪ জন কর্মচারী কাজ করেন। এ্যামিলি বেগম জানান, কর্মচারির বেতন দেয়ার পর ও প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকে যা দিয়ে তিনি তার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার পরও কিছু টাকা জমান। এ্যামিলিকে অনূসরণ করে এলাকার অনেকে মুসলিম এইড থেকে লোন নিয়ে মুরগী পালন, গরু ও ছাগল পালন, দর্জি ব্যবসা এবং মাছ চাষের মাধ্যমে সংসারের উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরো খবর...