মুজিব বর্ষ পালন প্রসঙ্গ

॥ শেখর দত্ত ॥

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেটে প্রাণ না হারাতেন তবে আজ তাঁর বয়স হতো ৯৮ বছর ৩ মাস ২৪ দিন এবং ২০২০ সালের ১৭ মার্চ তিনি শতায়ু হতেন। কিন্তু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালিকে জাতি হিসেবে আমরা মাত্র ৫৫ বছর ৪ মাস বাঁচতে দিয়েছি। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে শতায়ু তিনি হতেন না, তা কে বলতে পারে! যদি তিনি তাঁর অতি প্রিয় বাংলার মাটিতে শতবর্ষ বেঁচে থাকতেন তবে এই দিনটি জাতি তখন কীভাবে পালন করত, তা ভাবলে মনেপ্রাণে শিহরণ জাগে।

এখনো মনে পড়ে ১৯৭৪ সালের কথা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৫৪তম জন্মদিন পালিত হলো বাংলার আকাশে দুর্যোগের এক গভীর ঘনঘটার মধ্যে। তিনি তখন ছিলেন গুরুতর অসুস্থ। মাত্র ২ দিন পর চিকিৎসার জন্য মস্কো যাবেন, এই খবরটা মানুষ তখন জেনে গেছে। এই নিয়ে গভীর শঙ্কা মানুষের মনে। বঙ্গবন্ধুর সুস্থতা কামনা করে বয়স্ক মানুষ বিশেষত মা-দাদিরা রোজা রাখছেন, এই খবর তখন পত্রপত্রিকাসহ নানাভাবে জানা যাচ্ছিল। কিন্তু ঘোলা পানিতে মৎস্য শিকারের উদ্দেশ্যে তাঁর শরীর নিয়ে মহলবিশেষ তখন হীন উদ্দেশ্য নিয়ে নানা ধরনের গল্পগুজব প্রচার করে যাচ্ছিল। ওই দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন জাসদ ঘেরাও করে এবং তা উগ্র ও অরাজক হয়ে উঠলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে ২ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়। ওই দিনে এ ধরনের অনভিপ্রেত উত্তেজিত মিছিল কেন করা হয়েছিল, জাসদ কেন সশস্ত্র গণবাহিনী গঠন করেছিল, তা গভীর অনুসন্ধিৎসা ও গবেষণার বিষয়।

প্রসঙ্গত বলতেই হয়, তখনকার চলমান ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার উপায় নেই। এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় ও স্বাধীনতার পর দিন থেকে মহলবিশেষের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ। একটু নিরীক্ষা করলেই এটা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, দেশি-বিদেশি পরাজিত শক্তি স্বাধীনতার পর যতটা খেপেছিল; জাতীয় চারনীতির ভিত্তিতে সংবিধান রচনা ও নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়া, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে মাইন অপসারণসহ পুনর্বাসন-পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, খাদ্য সংকট সামাল দেয়া আর সবশেষে অন্য সব দেশ বাদ দিয়ে চিকিৎসার জন্য তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে যাওয়ার ফলে একটা কিছু অঘটন ঘটানোর জন্য আরো ক্ষিপ্ত ও উন্মাদ হয়ে উঠেছিল।

এটা ঠিক তখন দুই ধরনের ঘটনা মানুষকে ক্রমাগত হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। প্রথমটি হলো নাশকতামূলক কাজ আর দ্বিতীয়টা হলো দুর্নীতি। বেশি কথায় না গিয়ে কেবল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধুর মস্কো যাওয়ার আগে-পরের ঘটনাগুলো পাশাপাশি রাখলেই তার প্রমাণ মিলবে। বঙ্গবন্ধু বিদেশ যাওয়ার আগেই স্থির হয়েছিল, ২৪ মার্চ আওয়ামী লীগ দুর্নীতিবিরোধী গণপ্রতিরোধ দিবস পালন করবে। শাসক দল তা করছিল বিধায়ই অনুধাবন করা যাবে, দুর্নীতি তখন কোনো সুউচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আর নাশকতা! ১ মার্চ যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, ১৬ মার্চ গাজী ফজলুর রহমান এমপি আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়। ৯ মার্চ ঢাকার মোহাম্মদপুরে এবং ১৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জের জনতা ব্যাংকে দুঃসাহসিক ব্যাংক ডাকাতি হয়। ৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জের আলীজান জুটমিলে এবং ৫ মার্চ দৌলতপুরের জুটমিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৪ মার্চ ভেড়ামারায় এবং ১৬ মার্চ পাবনায় নাশকতামূলক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা হয়।

পরিস্থিতি এমনই হয় যে, বঙ্গবন্ধুর যাত্রার দিন ১৯ মার্চ আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকারী ও সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করে। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য, শর্ষেতেই যে ছিল ভূত! বঙ্গবন্ধু সুস্থ হয়ে ফিরে আসার ৪ দিন আগে ব্রাশফায়ারে সূর্য সেন হলের ৭ জন ছাত্র নিহত হয়। এই হত্যাকান্ডের নায়ক ছিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান। প্রসঙ্গত এই ব্যক্তিটি জিয়া আমলে মুক্তি পায় এবং এখন তার দল আছে বিএনপি-জামায়াতের ২০ দলীয় জোটে। যাই হোক, দুর্নীতি ও নাশকতামূলক কাজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকলে বঙ্গবন্ধু সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর সরকার সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দমনের লক্ষ্যে সামরিক বাহিনী নামায়। কল্পনা করা যায়, পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ৮ মে থেকে টানা ৫ দিন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা এবং ওই সভায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে দল নির্বিশেষে দুর্নীতিবাজ, চোরাচালানি ও অসাধু ব্যবসায়ী এবং রাতের বাহিনী নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কিন্তু ওই যে ছিল শর্ষেতে ভূত! উল্লিখিত সভা চলাকালীনই কুমিল্লায় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে সামরিক বাহিনী গ্রেপ্তার করে এবং তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল করা হয়। দলের ভেতরে প্রচন্ড চাপে তখন তাকে মুক্তি দেয়া হয়। খাদ্য সংকট বিবেচনা করে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১.৫ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির চুক্তি সম্পাদন হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, মস্কো যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু খন্দকার মোস্তাককে বাণিজ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেন। তখন বাণিজ্য সচিব ছিল পরবর্তী সময়ে জিয়ার মন্ত্রী আব্দুল মোমেন খান। এখানে বলতেই হয় যে, তখনো কিন্তু ১৯৭৪-এর ভয়াবহ বন্যা ও শস্যহানি হয়নি এবং দ্রব্যমূল্য বাড়াকমা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। এই সময় সরকারবিরোধী সর্বদলীয় যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়, যার প্রধান ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান। এই জোট সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে, তিলকে তাল করে অপপ্রচার তুঙ্গে তোলে।

উল্লেখ্য, জাতীয় উল্লিখিত সব তৎপরতা বিবেচনায় নিয়েই কেবল দেশ জাতি ও জনগণবিরোধী ষড়যন্ত্র চক্রান্তের সবটা সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু মস্কো যাওয়ার আগে ফেব্র“য়ারিতে পাকিস্তান ইরান ও তুরস্ক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান যান এবং ইসলামি সম্মেলনে যোগ দেন। এ দিকে পাকিস্তান থেকে খবর আসতে থাকে, সেখানে আটকে পড়া বাঙালিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মূলত আটকে পড়া মানুষদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য থেকেই বঙ্গবন্ধু চিকিৎসাধীন থাকতেই বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের অনুকম্পা প্রদর্শনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। ইসলামি সম্মেলন থেকে বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পর দিনই ২৫ ফেব্র“য়ারি মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ঢাকা সফরে আসেন। পরে জুলাই মাসে আসে মিসরের উপহার ৩০টি ট্রাঙ্ক। এসব ট্রাঙ্ক নামিয়েই সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী এক ক্ষুদ্র অংশ ফারুক-রশীদ-ডালিম চক্র ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।

উল্লিখিত সব বলা আর না বলা ঘটনার মধ্যে কতটুকু যোগাযোগ ও পরিকল্পনা আছে, তা গভীর অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণের বিষয়। তবে ষাটের দশকের প্রথমদিক থেকে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে কমবেশি জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে মনে প্রশ্ন জাগে, জাসদের মিছিলকে যদি শুরুতেই ভেঙে দেয়া হতো, মমতাজ বেগমকে যদি জেল থেকে না ছেড়ে ‘চোর-চোট্টা-বদমাইশদের’ বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী দিয়ে অভিযান চালিয়ে যাওয়া হতো, মিসরের ট্রাঙ্ক উপহার যদি না নেয়া হতো তবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কি এ রকম হতো? বঙ্গবন্ধু কি জীবিত থাকতে পারতেন? সেই তো পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি আইন জারি ও এক দল করতেই হয়েছিল। আমাদের এই মানচিত্রে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার প্রথম রূপকার, প্রাণপুরুষ ও অগ্রনায়ক শেখ মুজিবকে তো সেই পরাজিত শক্তি ও মহলবিশেষের অপবাদ নিতেই হয়েছিল। পরের চাইতে আগে ওই সব পদক্ষেপ নেয়াটাই কি ভালো ছিল না? কথায় তো বিএনপির অনুসারীরাই পরবর্তী সময়ে বলেছে, প্রথম রাতেই বিড়াল মারা ভালো।

অবশ্য কি হতো আর না হতো, তা এখন অনুমানের কোনো অবকাশ নেই। যদির কথা থাকে নদীতে। সর্বোপরি রাষ্ট্র ও সমাজ জীবন বিজ্ঞান গবেষণার ল্যাবরেটরি নয় যে, তাতে কয়েকটি টেস্টটিউবে নানাভাবে একই সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে। ইতিহাসে যা ঘটে তা একভাবে ঘটে এবং সেটাই অনিবার্য ও সত্য। তবে ইতিহাস হচ্ছে এমনই যে, এর পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং কখনো রঙ্গমঞ্চের বিয়োগান্তক নাটক আবার কখনো প্রহসন নাটকের মতো করে অগ্রসর হয়।

বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন শুভ-কল্যাণকর ইচ্ছা ছাড় দিলে অশুভ-অকল্যাণকর শক্তি ও মহল দেরি না করে প্রতিহিংসাপর কর্মকান্ড চালায়। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ও মহল লাজলজ্জা আইনকানুন ও মানবতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সময় সুযোগের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করে। বাংলাদেশে পাকিস্তানি ধারার ধারক-বাহক-রক্ষকরা পঁচাত্তরে সেটাই করেছে। আর এই ধারারই প্রতিনিধিত্ব বর্তমানে করছে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট।

বলাই বাহুল্য, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এবং বিয়োগান্তক ও প্রহসনের নাটক বিবেচনায় নিলেই বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার শাসনামলের তুলনা করা যাবে। পাঠকরা যদি উপরিল্লিখিত বঙ্গবন্ধুর অসুস্থতার আগে-পরের সঙ্গে বর্তমানের কোটাবিরোধী আন্দোলন, ভিসির বাসায় লুটপাট ও সরকারবিরোধী এ টু জেড ঐক্যের প্রচেষ্টার বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখেন, তবে প্রহসন নাটকের মতো অনেক মিলই চোখে পড়বে। কোটাবিরোধী আন্দোলন যে কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল ‘মুক্তিযোদ্ধাদের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে’ স্লোগান দিয়ে তা তো সবারই জানা। আন্দোলনকারী সবাই না বুঝলেও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতা এই আন্দোলনের নেপথ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে তুলনা করে দেখা যেতে পারে বর্তমানের ছাত্রলীগের ভূমিকা। সম্মেলনের এতদিন পর এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরও কমিটি না হওয়াটা কোন ধরনের নাটকের পর্যায়ে পড়ে, তা পাঠকরাই বিবেচনা করুন।

আজ যখন নানাভাবে নানা ক্ষেত্রে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে, তখন জাতির সামনে সমুস্থিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে ২০২০ ও ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষেই এই দুটি সাল জাতির জন্য অতীব তাৎপর্যমন্ডিত। বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষের পরের বছরই ২০২১ সালে পালিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব। আর এটা ভিশন ২০২১ সমাপ্তিরও বছর। প্রসঙ্গত সময়ের কারণে ব্যবধান থাকলেও প্রায় একইভাবে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দেয়ার ৪২ বছর পর ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যার দিন বদলের কর্মসূচি দেশ জাতি ও জনগণকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। এই দুই কর্মসূচি হচ্ছে আমাদের জাতীয় জীবনের মোড় পরিবর্তনের দিকনির্দেশক। স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে ৬ দফার মূল্যায়ন হয়ে গেছে। এখন ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের ভেতর দিয়ে নিঃসন্দেহে দিন বদলের কর্মসূচির মূল্যায়ন হবে।

কলামটি শেষ করছি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘোষিত দিন বদলের কর্মসূচির শেষ লাইনগুলো দিয়ে। তিনি বলেছিলেন, নতুন প্রজন্মের যে তরুণ-তরুণীদের ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রণীত ভিশন ২০২১ আমরা তাদেরই উৎসর্গ করছি। বিশ্বায়নের এ যুগে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য অপার সম্ভাবনাময় নতুন প্রজন্মের ভোটার তথা তরুণ-তরুণীদের শ্রম, মেধা, জ্ঞান ও মননকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। নতুন প্রজন্মকে তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ ও জাতি গঠনের এই মহৎ কর্মযজ্ঞে শামিল হওয়ার জন্য আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের বর্তমান তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য উৎসর্গ করছি। দেশবাসীর কাছে আমাদের আহ্বান, আসুন সব ভেদাভেদ ভুলে আবার আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠি, দিনবদলের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হই। শোষণ-বঞ্চনা, বৈষম্য ও দুঃশাসনের চির অবসান ঘটাই। একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও সহিষ্ণু সমাজ গড়ে তুলি। সুখী সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলা গড়ে তোলার সংগ্রামে নবজাগরণ সৃষ্টি করি।’ ‘মুজিব বর্ষ’ সামনে রেখে যদি এই ধরনের নবজাগরণ সৃষ্টি করা যায়, তবেই বর্ষটি পালন জাতির জীবনে সফল ও সার্থক হয়ে উঠবে।

শেখর দত্ত ঃ রাজনীতিক, কলাম লেখক।

আরো খবর...