মিরপুরে মাঠে বসেই কৃষক পাচ্ছেন ডিজিটাল কৃষি সেবা

কৃষকের বাঁচছে সময় ও অর্থ

কাঞ্চন কুমার ॥ কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে, কৃষককের দোড় গোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ কাজ করে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস। মিরপুরের কৃষির সার্বিক উন্নয়নের ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সাধারন কৃষকদের সেবা দিয়ে আস্থা অর্জন করেছে এই অফিসের কর্মকর্তাগণ। ফসলের রোগবলাই, কোন সময়ে বা কোন মাসে মাঠ ফসলের জন্য কি কি করনীয় সেটা তাৎক্ষনিক কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে তৈরী করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেজ খুলে প্রচারনা। তাদের ফেসবুক পেজে উপজেলা কৃষির সকল তথ্য কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছে খুব সহজেই। এতে কৃষককের একদিকে বাঁচছে সময় অন্যদিকে অর্থও।
সেই সাথে প্রতিনিয়িত কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা এবং ইউনিয়ন কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তাগণ কৃষকদের ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে পরাশর্ম দিচ্ছে। এতে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের শাহাপুর মাঠে দেখা যায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: সাদ্দাম হোসেন বেশ কয়েকজন কৃষকদের ডিজিটাল ট্যাবের মাধ্যমে কৃষি সেবা দিতে। সেখানে তিনি বোরো ধানের জমিতে যাতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন না হয় ও হলে কি কি লক্ষন দেখা দিতে পারে এবং তার প্রতিকার কি সে সম্পর্কে তিনি কৃষকদের আগাম সতর্কতা দিচ্ছেন। সেই সাথে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাপস এর মাধ্যমে ফসল ব্যবস্থাপনা, রোগ, পোকা-মাকড় সম্পর্কেও ধারণা দিচ্ছেন তিনি। মাঠে বসেই ডিজিটাল অ্যাপস এর মাধ্যমে নিজের ধানের জমিতে কোন রোগ দেখা দিয়েছে কিনা তা মিলিয়ে দেখছেন শাহাপুর এলাকার কৃষক খাইরুল মালিথা। তিনি জানান, “মোবাইলে নাকি কিভাবে ধানের চাষ করা দেখায়। পোকা লেগেছে কিনা দেখা যায়, রোগ হয়েছে কিনা তা দেখা যায়। সেটাই আজকে নিজে হাতে দেখলাম। এই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বড় এই মোবাইল এর মাধ্যমে আমাদের শেখালেন ধানের কোন সময় কি দিতে হবে। এবং ব্লাস্ট রোগের হওয়ার আগে আমাদের কি কি করতে হবে যাতে এ রোগ না হয়।” আরেকজন কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। তাই আমরাও এখন ডিজিটাল। কৃষি অফিসের লোকজন আমাদের মাঠে এসেই পরামর্শ দিচ্ছে। আমরাও আমাদের যে কোন অসুবিধা হলেই কৃষি অফিসে ফোন দিয়ে সমাধান পায়। এছাড়া এই আমাদের এখন আর টাকা খরচ করে কৃষি অফিসে যেতে হয় না। ফোন দিয়েও আমরা সেবা নিতে পারছি। এতে আমাদের সময় এবং টাকা দুটোই বেঁচে যাচ্ছে। আরেক কৃষক মনোয়ার মন্ডল জানান, আমার বেগুনের জমিতে পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছিলো। আমি কৃষি অফিসে গিয়ে তাদের বিষয়টি বলি তারপর তাদের পরামর্শ নিয়ে ভালো উপকার পেয়েছি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: সাদ্দাম হোসেন জানান, বিভিন্ন ফসল চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের যে কোন সমস্যা দেখা দিলে আমরা চেষ্টা করি তাৎক্ষনিক সেটার সমাধান করার জন্য। নিরাপদ উপায়ে চাষাবাদ এবং আধুনিক চাষাবাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কৃষি বিভাগ বর্তমানে কৃষকদের দোড় গোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দিতে জোর দিয়েছে। কৃষি কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন অ্যাপস এর মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল সেবা মানুষের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগও এগিয়ে রয়েছে। মিরপুর উপজেলায় ২৩টি ডিজিটাল ট্যাবে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে এবং উপজেলার সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্মাট ফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষনিক কৃষি সেবা নিশ্চিত করছি। এছাড়াও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা সেবা দিচ্ছি। তিনি আরো জানান, বতর্মানে অনেক কৃষক স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। আমরা তাদের কাছে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন অ্যাপস পৌঁছে দিচ্ছি সেই সাথে ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় এবং মাঠে গিয়ে কৃষকদের সেবা দেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। উপজেলায় কর্মরত প্রতিটি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ সকলেই মাঠে গিয়ে হাতে কলমেও কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। তিনি আরো বলেন, কৃষক আমাদের কাছে পরামর্শ চাইতে আসার আগেই আমরা চেষ্টা করছি তাদের কাছে গিয়ে পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার।

আরো খবর...