ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্ট্রিবায়টিক ছাড়াই ডায়ারিয়া রোগ থেকে সুস্থ হচ্ছে শিশুরা

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রকিউর রহমানের সফলতা

আল-মাহাদী ॥ ৭ মাসের শিশু কন্যা মোহনা। প্রচন্ড ডায়ারিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তাকে আনা হয় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রকিউর রহমান রকিব তার নাড়ি পরীক্ষা করে কোন এন্ট্রিবায়টিক ঔষুধ না দিয়ে সেবন করালেন জিংক, ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং খাওয়ার স্যালাইন। এরপর থেকেই ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন শিশু কন্য মোহনা। শিশুর মাতা শান্তা খাতুন জানিয়েছেন, মোহনাকে খুব খারাপ অবস্থায় আনা হয়েছিল হাসপাতালে। ডাক্তারদের নিবীড় পর্যবেক্ষনে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছে আমার কন্যা। শুধু মোহনা নয় গত ৬ দিনে ভেড়ামারা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, বমি, নিউমোনিয়া রোগ সহ ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা হাসি মুখেই বাড়ি ফিরেছে। এছাড়াও আউট ডোরে প্রায় ১২০ জন শিশু রোগী চিকিৎসা এসময়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত বছর ২২ শে অগাষ্ট ২০১৭ ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রকিউর রহমান রকিব। তার চিকিৎসার দ্রুতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। শিশু চিকিৎসায় অনেক জটিল রোগেরও চিকিৎসা করান এই হাসপাতালে। শিশু ওয়ার্ড ছাড়াও তিনি চালু করেছেন ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার ইউনিট। ২০০০ গ্রাম বা  কেজি’র কম ওজনের শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কাঙ্গারু মাদার কেয়ার ইউনিট মায়েদের কাছে আস্থার একটি ইউনিটে পরিনত হয়েছে। স্বল্প সময়ে প্রায় ৩৫ জন শিশুকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দিয়ে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডাঃ রকিউর রহমান। এ সেবায় সারা বাংলাদেশের মধ্যে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন টপ টেনে। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত ৬ দিনে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে শিশু ভর্তি হয়েছে ২৭ জন। এছাড়াও আউট ডোরে ডাঃ রকিউর রহমানের চিকিৎসাপত্র গ্রহন করেছেন প্রায় ১২০ জন শিশু। ২৭ ফেব্র“য়ারী ভয়াবহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাহাদুরপুর ইউনিয়নের গোসাইপাড়া গ্রামের মিন্টু’র ১ বছরের পুত্র জিসান, জুনিয়াদহের সাহেব আলী’র পুত্র আলমিন, ১৬ দাগ গ্রামের আজিম আলীর পুত্র নাঈম, ২৮ ফেব্র“য়ারী ভর্তি হন মওলাহাবাসপুর গ্রামের করিম’র ৯ মাসের পুত্র সিনহা, বাগগাড়িপাড়ার শ্যামল এর ৯ মাসের কন্যা সাম্মি, মির্জাপুর গ্রামের শহীদুলের সাড়ে ৩ বছরের কন্য জারা। ১ মার্চ ভর্তি হন মিরপুর উপজেলার ফজলু’র ১ বছরের পুত্র ফয়সাল, পারভেজ আলী, সাতবাড়ীয়ার শহীন এর পুত্র সজিব, ২মার্চ জুনিয়াদহ এলাকার রাজুর দেড় বছরের কন্যা নুপুর, লক্ষীধড়দিয়াড় গ্রামের আলী হাসান’র ৩ মাসের পুত্র আল হাদী, মসলেমপুর গ্রামের লালন দাসের চার মাসের পুত্র বিজয় দাস, পাবনা  জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর গ্রামের আবু মইমুন, জুনিয়াদহ গ্রামের ফেরদৌস এর পুত্র ইমাম হোসেন, ধুবইল গ্রামের করিম এর পুত্র জুনাইদ, চরদামুকদিয়ার সোহানুর রহমানের পুত্র মাঈন, ৩ মার্চ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন মিরপুর উপজেলার চক ধুবইল গ্রামের শান্তা খাতুনের কন্যা মোহনা, ১২ মাইল এলাকার বাবু’র কন্যা রুহানী, ভেড়ামারার গোডাউন মোড় এলাকার আব্দুর রশিদ এর পুত্র আল আরাফাত, দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা গ্রামের রতনের পুত্র শফিউল, মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের ওয়াসিম’র পুত্র ওমর ফারুক, ১২ মাইল গ্রামের শরিফুল ইসলামের পুত্র রুহুল আমীন। ৪ মার্চ ভর্তি হয় চন্ডিপুর গ্রামের মারফত আলীর পুত্র জিসান, ধরমপুর গ্রামের জামিরুল ইসলাম’র পুত্র আজিম,  ১২দাগ গ্রামের হামিদুল এর কন্যা অবিদা, দৌলতপুর উপজেলার চক মাদিয়া গ্রামের মুক্তা খাতুনের কন্য সাব্বির, ওবাইদুল ইসলামের কন্যা মৃত্তিকা।  ভেড়ামারা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স সেলিনা পারভীন ও সোনিয়া খাতুন জানিয়েছেন, ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন শিশু রুগীতে ভরপুর। দুর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছে নানা রোগে আক্রান্ত শিশুরা। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রকিউর রহমান রকিব’র আধুনিক চিকিৎসা ফর্মুলায় শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছে। আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের সেপট্রিয়াজন ১ গ্রাম অথবা ২ গ্রাম এন্ট্রিবায়টিক ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হতো। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিসহ নানা ঝুঁকি থাকতো। বর্তমানে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের জিংক, ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং খাওয়ার স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শিশুরা ডায়রিয়া থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ শরীরে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রকিউর রহমান রকিব জানিয়েছেন, বাচ্চাদের ওয়াটারি ডায়রিয়া  বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোটা ভাইরাস নামক জীবানু দিয়ে হয়। এই ভাইরাস এর বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিক এর কোন কাজ  নেই। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ৫-৭ দিনে এমনিতেই এ ডায়ারিয়া ঠিক হয়ে যায়। এই ৫-৭ দিন বাচ্চাকে খাবার স্যালাইন খাইয়ে পানি শুন্যতা রোধ করে সুস্থ্য রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন।

আরো খবর...