ভূমধ্যসাগরে কালো থাবা

॥ ড. আবদুল লতিফ মাসুম ॥

পৃথিবীর এক বিস্ময় ভূমধ্যসাগর। ইতিহাস-ভূগোলে প্রমাণ আফ্রিকা ও ইউরোপ মূলত একত্রিত ছিল। প্রাগ-ঐতিহাসিক আমলে ভূমিকম্প ও ভূ-পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় একসময়ে আফ্রিকা ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাঝখানে সৃষ্টি হয় এই বিচিত্র সাগরের। এ সাগর অবারিত নয়। দুই বিশাল ভূমিখন্ডের মধ্যস্থলে অবস্থিত বলে এর যথার্থ নাম ভূমির মধ্যে অবস্থিত সাগর। পৃথিবীর আর সব সাগর উপনীত মহাসাগরে। যেমন: আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর অথবা পীত সাগর। ভূমধ্যসাগর আবদ্ধ একদিকে কৃত্রিম সুয়েজ খাল আর অপরদিকে অকৃত্রিম জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা। স্পেন ও মরক্কোর মাঝখানের এই ক্ষীণ জলরাশিকে আরবরা বলে ‘জাবালুত তারেক’ বা তারেক প্রণালী। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের এক বিস্ময় যে এর উত্তর-দক্ষিণে ভৌগোলিক দূরত্ব খুব বেশি না হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দূরত্ব প্রকৃতপক্ষে এক মহাসাগরের মতো। উত্তরে অবস্থান পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জনপদের। আর দক্ষিণে অবস্থান পৃথিবীর সবচেয়ে অনগ্রসর মানুষের। একসময়ে সমৃদ্ধ ইউরোপ আফ্রিকার সম্পদের খোঁজে দখলের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। আফ্রিকার মানচিত্রের দিকে আজ তাকালে যে ঔপনিবেশিক বাস্তবতা বেরিয়ে আসে তাহলো ব্রিটিশ, ফরাসি, স্পেন ও পর্তুগাল বিভাজিত বিচ্ছিন্ন ও বিদীর্ণ জনপদ। এসব সাম্রাজ্যবাদ অবাধ লুণ্ঠনের দ্বারা নিঃশেষ করেছে আফ্রিকাকে। শুধু তাই নয়, আফ্রিকার কালো মানুষদের গায়ের জোরে নিকৃষ্ট ক্রীতদাসে পরিণত করেছে ইউরোপীয় শ্বেত সাম্রাজ্যবাদ। অবশেষে শতাব্দীর পর শতাব্দী শোষণ অবসানে আফ্রিকার হৃদয়ে উদিত হয়েছে নতুন সূর্য—স্বাধীনতা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ অবসানে সেখানে নতুন নতুন ‘জাতি রাষ্ট্রের’ সূচনা ঘটলেও সেই গতানুগতিক নির্ভরতা রয়ে গেছে পুরনো প্রভুদের কাছে। অবস্থা এতটাই নাজুক যে পুরনো সাম্রাজ্যবাদ যেকোনো অজুহাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করছে অনেক কালো মানুষের দেশে। আর গোত্রগত কলহ, স্বার্থের সংঘাত এবং হিংসা-প্রতিহিংসায় নিত্যদিন যুদ্ধরত আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত আফ্রিকান মানুষেরা। নিজ দেশে পরবাসী তারা। নাইজেরিয়ার তরল সোনা ‘তেল’ অথবা দক্ষিণ আফ্রিকার সোনা-রূপা ও হীরকখনি তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটায় না। এখানে রাজনীতিবিদরা জাতীয়তাবাদী হলেও ‘স্বার্থপর, সংকীর্ণ, পাশবিক, নিষ্ঠুর, দুর্নীতিবাজ ও হিংসা-প্রতিহিংসা’য় জর্জরিত। নেলসন মেন্ডেলার ‘এ লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ তাদের স্বাধীনতার পথে অনেকদূর নিয়ে যেতে পারেনি। নাসের, নক্রুমা ও লু মুমবা আজ কেবলই অতীত, শুধুই  দীর্ঘশ্বাস। এই অবস্থায় নয়া সাম্রাজ্যবাদের নতুন ষড়যন্ত্রে উত্তর আফ্রিকা বা ‘আল মাগরেব’-এ একরকম গৃহযুদ্ধ চলছে প্রায় সর্বত্র। মিশরে সামরিকতন্ত্রে দিশেহারা মানুষ। লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধে পলায়নপর মানুষ। আলজেরিয়ায় দুঃশাসনে দেশত্যাগী মানুষ। আরো অভ্যন্তরে কালো আফ্রিকার গহীন গভীরে রোগ-শোক, অনাহার-অর্ধাহারে দিগবিদিক ছুটছে মানুষ। আশ্রয়ের সন্ধানে, নিরাপদ জীবনের জন্যে এবং সুখী জীবনের আশায় তারা পাড়ি দিচ্ছে ভূমধ্যসাগর। প্রতিদিন শত শত মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। সমৃদ্ধ ইউরোপে অভিবাসনের প্রত্যাশায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আফ্রিকার মানুষ। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের নীলনকশায় আফ্রিকার পূর্বের মধ্যপ্রাচ্য এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত। সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে জীবনের সন্ধানে ছুটে চলেছে মানুষ ইউরোপের দিকে। অপরদিকে উন্নত ইউরোপের রাষ্ট্রসমূহও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অভিবাসী প্রতিরোধে।

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৩৩ হাজার মানুষ। মধ্যপ্রাচ্যে তথাকথিত আরব বসন্ত থেকে এই ইউরোপগামী অভিবাসন কাফেলা ব্যাপক আকার ধারণ করে। এখন এই অভিবাসী যাত্রা মহামারী আকার ধারণ করেছে। এমন কোনো দিন নেই যে, ভূমধ্যসাগরের উত্তর কিংবা দক্ষিণ, পূর্ব কিংবা পশ্চিম থেকে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যু ঘটছে না। এ বছরের এপ্রিল মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৬০০ লোক মৃত্যুবরণ করেছে। মে-জুন মাসে আরো ৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমধ্যসাগর যেন মৃত্যুকূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনের দিনগুলোতে নিঃসন্দেহে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে, ইউরোপীয় বদ্ধ দুয়ার নীতির কারণে। সেখানে মানবতার আবেদন খুবই ক্ষীণ। দুএকটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিও সামান্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। লজ্জার কথা ইতালি ও মাল্টা এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে এক্ষেত্রে জার্মানির আচরণ নমনীয়। অতি সম্প্রতি জার্মান এনজিও ‘লাইফ লাইন’ ২৩৪ জন অভিবাসী প্রত্যাশীকে সাগরে ডুবতে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে। যারা মৃত্যুবরণ করছে তাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। অথচ নারী ও শিশুদের প্রতি ইউরোপীয় দেশসমূহের ‘লিপ সার্ভিস’ সবচেয়ে জোরালো। কখনো কখনো ইজিয়ান সাগরের পাদদেশে শিশু আইলান কুর্দির লাশ পৃথিবীর মানুষকে অশ্র“সিক্ত করেছে। বছরওয়ারী পরিসংখ্যান দিলে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হবে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে গণগ্রোতের পথ তুরস্ক, গ্রিস তথা ইজিয়ান সাগর। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো খুবই কঠিন ও কঠোর আচরণ করে। এইদিকে অভিবাসী প্রবেশ একরকম নিষিদ্ধ করেছে। ফলে আরো চাপ বেড়েছে ভূমধ্যসাগরে। এ বছরের জুন মাসের মধ্যে অন্তত পাঁচশ’ লোকের সলিলসমাধি ঘটেছে ভূমধ্যসাগরে। ইউরোপীয় প্রান্তের প্রায় প্রতিটি দেশ বন্ধ করে দিয়েছে তার তীরভূমি। একরকম নিষিদ্ধ হয়ে গেছে অভিবাসীদের প্রবেশাধিকার। পারলে তারা মেক্সিকোর মতো দেয়াল তুলে দেয়। মাল্টা এবং ইতালি এক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্মম আচরণ করছে। উত্তরপাড়ের দেশগুলো এখন সম্মিলিতভাবে বেসরকারি কোম্পানিকে দায়িত্ব দিয়েছে গানবোট দিয়ে এসব আশ্রয়প্রার্থীকে দক্ষিণপাড়ে পৌঁছে দিতে। দক্ষিণপাড় থেকে যারা অভিবাসী প্রত্যাশী তারা গানবোটকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছতে চায় যথাস্থানে। এজন্য তারা ব্যবহার করছে ছোট ও নাজুক নৌযান। উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য মোটেই উপযুক্ত নয় ঐসব যানবাহন। একটুখানি ঢেউয়ের তরঙ্গে ডুবে যাচ্ছে এসব মানুষ। ইউরোপের জাতিসমূহ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড়গলায় মানবাধিকারের কথা বলছে। অথচ আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তারা নির্মম আচরণ করছে। হাজার বছর ধরে যে জনপদে তারা ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ চালিয়েছে, এখন সে জনপদের কিছু মানুষকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করছে তারা। এটি যেকোনো আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। পৃথিবী এদেরকে হূদয়হীন বলে ভর্ত্সনা না করে পারে না। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বলা যায় ‘অভিবাসীদের রাষ্ট্র’, তারাই হয়ে উঠেছে এখন সবচেয়ে অভিজাত। শত শত বছর ধরে ইউরোপ থেকে আমেরিকার বিরান ভূমিতে আস্তে আস্তে যাদের বসতি গড়ে উঠেছে, তারা আজ খড়্গহস্ত। নতুন অভিবাসীদের প্রতি ট্রাম্প অনুসরণ করছেন সবচেয়ে নির্মম নীতি। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের প্রতি তার ক্রোধের শেষ নেই। ইতোমধ্যে ছয়টি মুসলিম দেশ থেকে সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ করেছেন তিনি। স্বার্থ-সুবিধে ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ বাড়ছে নতুন ও পুরনো সাম্রাজ্যবাদে। অথচ উভয়পক্ষ শতভাগ একমত অভিবাসী বিতাড়নের প্রশ্নে। বারাক ওবামার আমেরিকা উদারতা দেখিয়েছিল কয়েক হাজার ইউরোপীয় উদ্বাস্তু গ্রহণে। কিন্তু ট্রাম্পের জাতিবিদ্বেষ তা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

এই উদ্বাস্তু স্রোতের উৎসমূল খুঁজতে গিয়ে আমরা হাজার বছরের ঔপনিবেশিক অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-শাসন দেখেছি। নয়া ঔপনিবেশিক ব্যবস্থায় তৃতীয় বিশ্বের সম্পদ লুণ্ঠনের দীর্ঘ ইতিহাস দেখেছি। এইসব গরিব ও অনুন্নত দেশের সাম্রাজ্যবাদনির্ভরতা দেখেছি। এইসব বিধিবদ্ধ ও নীরব শোষণের পর বর্তমান বিশ্বে যা ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি করেছে তা হচ্ছে, বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ। কারা আফগানিস্তানকে ধ্বংসের জনপদে পরিণত করেছে? কারা তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের মিথ্যা অজুহাতে ইরাক আক্রমণ করেছিল? এখনও কৃত্রিম শিয়া-সুন্নি বিরোধ উসকে দিয়ে ইরাককে অস্থিতিশীল করে চলেছে? কারা তথাকথিত স্বৈরাচার উত্খাতের নামে সিরিয়ায় এগার বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে? সিরিয়ার একইঞ্চি জমি নেই যেখানে পাশ্চাত্যের মিত্রশক্তির বোমা বর্ষিত হয়নি। এদেরকে প্রতিহত করার নামে নতুন জারতন্ত্র সেখানে নির্মমতা প্রদর্শন করছে। কারা ইয়েমেনকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে? কারা এখন অবশেষে ইরান আক্রমণের পাঁয়তারা কষছে? এসব প্রশ্নের উত্তর একটিই। আর তা হচ্ছে মার্কিন-ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী মৈত্রী জোট। তাই যদি হয় তাহলে ক্ষত-বিক্ষত এসব অঞ্চল থেকে যেসব শরণার্থী উপনীত হয়েছে ইউরোপের বিবিধ সীমান্তে, তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার মানবিক আবেদন কী করে তারা অস্বীকার করতে পারে! আরো বিস্ময়ের ব্যাপার, যারা হাজার বছর ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবাধিকারের বাণী প্রচার করছে তারা আজ কী করে জিজ্ঞাসা করে ‘ডুবিছে কোন্ জন, খ্রিস্টান অথবা মুসলিম?’ নির্লজ্জের মতো তারা বলছে খ্রিস্টান হলে আশ্রয় আছে, মুসলিম হলে নেই। ইউরোপ-আমেরিকার সৃষ্ট এই সমস্যাকে তাদেরই মোকাবিলা করতে হবে। অতীত ও বর্তমানের দায় তাদেরই।অভিবাসী সমস্যার একটি মানবিক ও আইনগত সমাধানের চিন্তা না করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বরং নেতিবাচক সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে গত জুন মাসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। কী করে তাদের প্রতিহত করা যায়, ইউরোপের বাইরে ঠেলে দেয়া যায় এটাই ছিল এজেন্ডা। প্রায় সব দেশই মহাক্ষিপ্ত। বিশেষ করে সমাজতন্ত্রের আদর্শ থেকে এই সেদিন স্বাধীন হয়েছে, সে সমস্ত পূর্ব ইউরোপীয় দেশের ভূমিকা খুবই ন্যক্কারজনক। ধর্মের জিকির পশ্চিমের চেয়ে পূর্বেই বেশি। এখানে একমাত্র ব্যতিক্রম অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের জার্মানি। একটি নমনীয় ও মানবিক দৃষ্টি পোষণের কারণে মার্কেল এখন শরিকদের সঙ্গে বিরোধে আছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাঁর অতিমানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি ক্ষমতাও হারাতে পারেন। জার্মানির অতি রক্ষণশীল বেভারিয়ান পার্টি তার পদত্যাগ দাবি করেছে। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোস্ট শিওফার পদত্যাগের ভয় দেখিয়েছে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রমন্ডলী যে কঠিন ও কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন, তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতাবিরোধী। ভূমধ্যসাগরে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর দায় তারা এড়াতে পারেন না। ইতালির নবগঠিত বাম-ডানের জগাখিচুড়ি সরকারও অভিবাসী বিরোধী কঠিন অবস্থানে রয়েছে। ফাইভ স্টার মুভমেন্ট বামঘেঁষা। আর লিগা নর্তে দক্ষিণপন্থি। আদর্শিক বৈপরীত্য সত্ত্বেও তারা অভিবাসী বিতাড়নে একমত। তারা সীমান্তবর্তী সাময়িক ক্যাম্প স্থাপন করতেও নারাজ। সমাজতন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রোর মুখেও একই কথা ‘নো-ভ্যাকেন্সি’। ২৮ জাতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন একরকম নেতিবাচক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই তাদের সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠক শেষ করেছে। তবে তারা ‘দয়ার সাগর’। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে তারা জাহাজ ফেরত উদ্ধারকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ত্রাণ শিবির খুলতে সদয় হয়েছে। তবে আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, মরক্কোসহ সকল উত্তর আফ্রিকার দেশ এ প্রস্তাবে না বলেছে। ইতোপূর্বে লিবিয়ায় এ ধরনের ক্যাম্প খোলা হয়েছিল। সেখানে এইসব লোকের সলিলসমাধির পরিবর্তে ‘স্থলসমাধি’ হয়েছে।বর্তমান বিশ্ব বলতে গেলে এক অভিবাসী আক্রান্ত বিশ্ব। পশ্চিমাদের সৃষ্ট দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও যুদ্ধাবস্থার দায় তারা গ্রহণ করছে না। তারা আইন ও বেআইনি পন্থায় যতই অভিবাসী প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক না কেন, চূড়ান্ত ফলাফল তাদেরই ভোগ করতে হবে। পাশ্চাত্য এবং কেবলমাত্র পাশ্চাত্যকে তৃতীয় বিশ্বে অন্যায়, অস্থিরতা ও যুদ্ধের জন্য দায়ী করা যায়। তারা যদি তৃতীয় বিশ্বের তেল, খনিজ ও মূল্যবান সম্পদ কুক্ষিগতকরণের জন্য বিবিধ রণকৌশল গ্রহণ করে থাকে তাহলে সে সবের দায়-দায়িত্ব তাদের গ্রহণ করতে হবে। এভাবে দীর্ঘকাল ধরে অন্যায় যুদ্ধ চলতে পারে না। এসবের ন্যায়ানুগ সমাধান না করলে তাদেরকে অচিরেই অবশ্যম্ভাবী ‘ন্যায় যুদ্ধের’ মোকাবিলা করতে হবে লেখক ঃ অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো খবর...