ভুটানকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ভালভাবেই টিকে থাকল নেপাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভুটানকে হারিয়ে সাফ সুজুকি কাপে বেশ ভালভাবেই টিকে থাকল নেপাল। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এ’ গ্র“পের ম্যাচে নেপাল ৪-০ গোলে হারিয়েছে ভুটানকে। পাকিস্তানের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা নেপালের এই বিশাল জয় দলটিকে টুর্নামেন্টে ভালভাবেই টিকিয়ে রেখেছে। তবে এজন্য নিজেদের শেষ গ্র“প ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারাতে হবে নেপালকে। অপরদিকে প্রথম গ্র“প ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত ভুটান টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারের কারণে এখন টুর্নামেন্ট থেকেই অনেকটা ছিটকে পড়েছে। প্রথম ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে আজ একাদশ গঠন করেছিলেন নেপালের কোচ বাল গোপাল মহার্জান। অধিনায়ক বিরাজ মহার্জান, স্ট্রাইকার ভারত খাওয়াজ ও নাওয়াজ শ্রেষ্ঠা। ম্যাচের শুরুতে ভুটান প্রথম পরিকল্পিত আক্রমণটি রচনা করেছিল। ৯ মিনিটে প্রায় ফাকা পোস্ট পেয়েও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন ভুটানী ফরোয়ার্ড চেনচো। ১৪ মিনিটে সুযোগ এসেছিলো নেপালেরও। ডান প্রান্ত দিয়ে বিমল গাত্রি মাগারের ক্রস অঞ্জন বিস্তা হেডের চেষ্টা করে ফ্লাইট মিস করেন, এরপর রোহিত চাদের শট পোস্টের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ১৭ মিনিটে তেসরিং দরজির ফ্রি-কিক খুঁজে পায়নি নেপালের জাল। পরের মিনিটে অদিতিয়া চৌধুরীর ফ্রি-কিক বারের উপর দিয়ে চলে যাওয়ায় গোল বঞ্চিত হয় নেপাল। ২০তম মিনিটে বা প্রান্ত দিয়ে সতীর্থের ক্রস বক্সের মধ্যে খুঁজে নেয় চেনচো গেইলশেনকে। ফাঁকায় পেয়েও বলে শট নিতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। ২১তম মিনিটে ম্যাচে লিড নেয় নেপাল। সুনিল বালের কর্ণারে মাথা ছুঁইয়ে ভুটানের জাল কাপান ডিফেন্ডার অনন্ত তামাং (১-০)। ৩০ মিনিটে ভুটানের মিডফিল্ডার কারমা বক্সের বাইরে থেকে ক্ষিপ্ত গতির যে শট নেন তা গোলরক্ষকের হাত ফসকে বের হয়ে যায়। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্রিবে নেন গোলরক্ষক কিরণ কুমার লিম্বু। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে নেপালের সুনিল বালের ডান পায়ের শট জড়ায়নি জালে। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় নেপাল। দ্বিতীয়ার্ধে আরো গোছানো খেলা নিয়ে মাঠে হাজির হয় নেপাল। ৫০তম মিনিটে সুনিল বালের কর্ণার বক্সের মাঝে পেয়ে হেড নিয়েছিলেন অঞ্জন বিসতা। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। ৬৫ মিনিটে নেপালের জালে একবার বল পাঠিয়েছিলো ভুটান। তবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে গোল বঞ্চিত হয় তারা। ৬৮ মিনিটে সুযোগ এসেছিলো নেপালের বিমল গাত্রি মাগারের পাসে বল পেয়ে শট নেন অঞ্জন বিসতা। বল অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। ৬৯ তম মিনিটে নিমা ওয়াংডি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে দশ জনের দলে পরিণত হয় ভুটান। নিজেদের বক্সে নিরঞ্জনকে ফাউল করেন নিমা। ফলে রেফারী তাকে হলুদ কার্ড এবং পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কীকে প্রথমে বিমল গাত্রির শট ফিরিয়ে দেন ভুটানি গোলরক্ষক কিরণ কুমার। তবে শেষ রক্ষা হলো না। ফিরতি বলে পোস্টের খুব কাছ থেকে ডান পায়ের বাকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন সুনিল বাল (২-০)। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে নিরঞ্জন খাড়কার ফ্রি-কিকের বল নিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন নেপালের বদলী ফরোয়ার্ড ভারত খাওয়াজ (৩-০)। ৮৭ মিনিটে সুনিল বালের কর্ণার থেকে বক্সে জটলায় বল পেয়ে দারুণ হেডে ভুটানকে আরো এক গোলের তিক্ত স্বাদ দেন বদলী মিডফিল্ডার নিরঞ্জন খাড়কা (৪-০)। দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ভুটানের।

আরো খবর...