ভালো শুরুর পরও ২১১ রানে অলআউট বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ১ উইকেটে ১১৯ রান থেকে ২১১ রানে ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম ইনিংসে অলআউট হলো সফরকারী বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারনে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দু’দিন ভেস্তে যায়। তবে তৃতীয় দিন মাঠে গড়ায় খেলা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৬১ ওভারে ২১১ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। গতকালও বৃষ্টির কারনে দিনের পুরো সময় খেলতে পারেনি দু’দল। খেলা হেেয় মোট ৭২ দশমিক ৪ ওভার। বৃষ্টির কারনে প্রথম দু’দিন ভেস্তে যাবার পর তৃতীয় দিন সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় নিউজিল্যান্ড। ব্যাট হাতে ভালো শুরু এনে দেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলাম। ৭৫ রানের জুটি গড়েন তারা। ২০ দশমিক ৪ ওভার ব্যাট করেন দুই ওপেনার। নিউজিল্যান্ড সফরে এই নিয়ে টানা তিন ইনিংসে হাফ-সেঞ্চুরির জুটি করেছেন তামিম-সাদমান। চার বাউন্ডারিতে ৫৩ বলে ২৭ রান করা সাদমান মিডিয়াম পেসার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের শিকার হলে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এসময় ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। সাদমানের বিদায়ের দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বাঁেধন তামিম ও মোমিনুল হক। জুটি বাঁধার কিছুক্ষণ পরই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফ- সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তামিম। এরপর মোমিনুলকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজটা দায়িত্ব নিয়েই করছিলেন তামিম। তবে বেশ সর্তক ছিলেন তামিম- মোমিনুল উভয়েই। তারপরও দু’জনের কল্যাণে শতরানের কোটা পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে এই জুটি ৪৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ১৫ রান করা মোমিনুলকে নিজের প্রথম শিকার বানান নিউজিল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার নিল ওয়াগনার। মোমিনুলের এই বিদায়টা কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। এরপর দলীয় ১২৭ রানে মোহাম্মদ মিথুন, ১৩৪ রানে তামিম, ১৫২ রানে সৌম্য সরকার ও ১৬৮ রানে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে হারায় বাংলাদেশ। দলের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের এভাবে বিদায়ে ২শর নীচে গুটিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের। তবে সেটি হতে দেননি উইকেটরক্ষক লিটন দাস। এক প্রান্ত আগলে ৬টি বাউন্ডারিতে নিউজিল্যান্ড বোলারদের চাপে ফেলে দেন লিটন। এছাড়া সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৩৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। এতে ২শ রানের কোটা পার করে বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ২০৬ রানে তাইজুলকে বিদায় দিয়ে এই জুটি ভাঙ্গেন নিউজিল্যান্ডের বাঁ-হাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। অবশ্য এই উইকেট শিকারের পর বাংলাদেশের লেজ ছেটে ফেলেন বোল্টই। মুস্তাফিজুর রহমানকে শুন্য ও আবু জায়েদকে ৪ রানে থামান বোল্ট। আর লিটনকে ৩৩ রানে বিদায় দেন টিম সাউদি। লিটনের ৪৯ বলের ইনিংসে ৬টি চার ছিলো। শেষ পর্যন্ত ২১১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। হাফ-সেঞ্চুরি করা তামিম ১০টি চারের সহায়তায় ১১৪ বলে ৭৪ রান করেন। মোহাম্মদ মিথুন ৩, সৌম্য সরকার ২০ ও মাহমুদুল্লাহ ১৩ রান করেন। হ্যামিল্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌম্য-মাহমুদুল্লাহ। নিউজিল্যান্ডের নিল ওয়াগনার ২৮ রানে ৪টি ও ট্রেন্ট বোল্ট ৩৮ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন। তবে বাংলাদেশকে অলআউট করেও দিনের শেষভাগটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। স্কোর বোর্ডে ৩৮ রান তুলতেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। কিউইদের দুই ওপেনারকে বিদায় দেন বাংলাদেশের ডান-হাতি পেসার আবু জায়েদ। ৮ রানের মধ্যে জিত রাভাল ও টম লাথাম প্যাভিলিয়নে ফিরেন। রাভাল ৩ ও লাথাম ৪ রান করেন। এরপর দিনের শেষে আর কোন বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। উইলিয়ামসন ১০ ও টেইলর ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। জায়েদ ৬ ওভারে ১৮ রানে ২ উইকেট শিকার করেন । স্কোর কার্ড : বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : তামিম ইকবাল ক সাউদি ব ওয়াগনার ৭৪, সাদমান ইসলাম ক টেইলর ব গ্র্যান্ডহোম ২৭, মোমিনুল হক ক ওয়াটলিং ব ওয়াগনার ১৫, মোহাম্মদ মিথুন ক ওয়াটলিং ব ওয়াগনার ৩, সৌম্য সরকার ক ওয়াটলিং ব হেনরি ২০, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ক ডি গ্র্যান্ডহোম ব ওয়াগনার ১৩, লিটন দাস ক উইলিয়ামসন ব সাউদি ৩৩, তাইজুল ইসলাম এলবিডব্লু ব বোল্ট ৮, মুস্তাফিজুর রহমান বোল্ড ব বোল্ট ০

আবু জায়েদ বোল্ড ব বোল্ট ৪, এবাদত হোসেন অপরাজিত ০, অতিরিক্ত (বা-৪, লে বা-৭, নো-১, ও-২) ১৪। মোট (অলআউট, ৬১ ওভার) ২১১। উইকেট পতন : ১/৭৫ (সাদমান), ২/১১৯ (মোমিনুল), ৩/১২৭ (মিথুন), ৪/১৩৪ (তামিম), ৫/১৫২ (সৌম্য), ৬/১৬৮ (মাহমুদুল্লাহ), ৭/২০৬ (তাইজুল), ৮/২০৬ (মুস্তাফিজ), ৯/২০৭ (লিটন), ১০/২১১ (আবু জায়েদ)। নিউজিল্যান্ড বোলিং : ট্রেন্ট বোল্ট : ১১-৩-৩৮-৩, টিম সাউদি : ১৫-২-৫২-১ (ও-২, নো-১), কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম : ৭-০-১৫-১,

ম্যাট হেনরি : ১৫-০-৬৭-১, নিল ওয়াগনার : ১৩-৪-২৮-৪। নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস : জিত রাভাল ক সৌম্য ব আবু জায়েদ ৩, টম লাথাম ক লিটন ব আবু জায়েদ ৪, কেন উইলিয়ামসন অপরাজিত ১০, রস টেইলর অপরাজিত ১৯, অতিরিক্ত (লে বা-২) ২, মোট (২ উইকেট, ১১.৪ ওভার) ৩৮। উইকেট পতন : ১/৫ (লাথাম), ২/৮ (রাভাল)।

 

আরো খবর...