ভর্তি নীতিমালা উপেক্ষিত কেন?

দেশের নামি-দামি স্কুলগুলোতে নতুন বছরে ভর্তির সময়টাতে বাড়তি ফি আদায়ের নৈরাজ্য দেখা যায়। কোনো কোনো বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নানা ধরনের ফি আদায়েরও উদাহরণ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা মহানগরীর স্কুলগুলোতে পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দিয়ে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০১৮’ প্রণয়ন করেছে। এর আগে বেসরকারি স্কুলের ভর্তি নীতিমালাও প্রকাশ করা হয়েছিল। দুটি নীতিমালার ভেতর সঙ্গত সামঞ্জস্য ও সমন্বয় লক্ষণীয়। সরকারি স্কুলে ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালায় ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সব মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা সদরেও কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তি করা হবে। এটাই যথাযথ। এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন  শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম। নীতিমালা অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। তবে আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিও বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতনভাতার জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ও ইংরেজি মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেয়া যাবে। সরকারের এই নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজধানীর নামি-দামি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিগুণ-তিনগুণ ফি আদায় করছে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য উন্নয়ন ফি বাবদই নেয়া হচ্ছে বাড়তি ২৫ হাজার টাকার মতো। অন্যান্য শ্রেণিতে আদায় করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর আগেও আমরা দেখেছি প্রতি বছর ভর্তি ফি নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা জারি করেন। কিন্তু এই নির্দেশনা কেউ মানে না। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ বাড়তি ফি আদায় নিয়ে নানা অজুহাত দাঁড় করায়। তাদের অজুহাতের কাছে অভিভাবকরা এক প্রকার অসহায়। উদ্বেগের ব্যাপার হলো- দেশে আইনকানুন আছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আইনকানুন, বিধিবিধান মেনে চলছে কিনা তা দেখার জন্যও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। আমরা দেখছি সেই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কাজ করে না। অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা কোথায়? এই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার শক্তির উৎসই বা কোথায়? আমরা চাই, স্কুল কর্তৃপক্ষ যাতে ইচ্ছেমতো বাড়তি বেতন-ফি আদায় না করতে পারে তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে সরকার কঠোর হোক। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

আরো খবর...