বেপরোয়া বাসচালকদের ঔদ্ধত্যের শেষ কোথায়?

এবার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর বাস উঠিয়ে দিল চালক। ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছে আরো ১২ জন। দুই বাসের রেষারেষিতে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রায়ই রাজধানীতে বেপরোয়া চালকদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। বলা যায়, গণপরিবহন এখন সাক্ষাৎ যমদূত হিসেবে আবির্ভূত। এসব মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হলেও অধিকাংশই বেপরোয়া পরিবহন চালকদের দায়হীন হত্যাকান্ড। পরিবহন শ্রমিকদের শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন ও মালিকদের তৎপরতার কারণে সড়কে নিহতদের পরিবার বিচার পায় না। চালকরাও দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি ছাড়াই বেরিয়ে আসে। আবারো তারা গাড়ি রেসের পাল্লায় মেতে ওঠে। কে থামাবে এদের দৌরাত্ম্য? এমন মৃত্যুর অবসান কি হবে না? গত রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ওই স্টপেজে এসে দাঁড়ালে সেটিতে শিক্ষার্থীরা উঠছিল। ঠিক একই সময় যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে একই পরিবহনের আরেকটি বাস দাঁড়ানো বাসটির পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়ে এবং দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যায় কলেজ শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম। এভাবে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার নামে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী ছিলেন সাইদুর রহমান পায়েল। বাস থেকে নামার পর আর উঠতে পারেননি পায়েল। দৌড়ে উঠতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় আহত হন। পরে বাসচালক ও তার সহকারীরা মিলে আহত রক্তাক্ত পায়েলকে পাশের খালের মধ্যে ফেলে দেয়। পানিতে ডুবে মারা যায় পায়েল। কোনো সাধারণ সুস্থ মানুষের পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা বাড়লেও চালকদের সতর্ক করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দিন দিন যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানীতে বাসে চলাচল বিপজ্জনক। এমন ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা। বেতনভুক্ত চালক দিয়ে লোকাল বাস চালালে মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে বের হতে নগরীর অধিকাংশ পরিবহন মালিক তাদের বাস-মিনিবাস চালককে চুক্তিতে চালাতে দিচ্ছে। চুক্তির কারণেই চালকরা বেপরোয়া। কারণ একই রুটের যে বাস আগে শেষ গন্তব্যে পৌঁছাবে সেই ফিরতি ট্রিপের সিরিয়াল পাবে আগে। এ কারণে একই রুটের বাসের মধ্যেই ভয়াবহ মরণ রেস দেখা যায়। এসব চালকদের অনেকেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। অনেক সময় চালকের পরিবর্তে বাস চালায় হেলপার। এরা কেউ আইনের তোয়াক্কা করে না। দেশে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন আছে, রয়েছে শাস্তির বিধান। কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ দেখা যায় না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাপটে দোষী চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রায় অসম্ভব। সড়কে নৈরাজ্যের কারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের পরামর্শ ও সুপারিশ করা হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে। এ জন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

আরো খবর...