বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

ঢাকা  অফিস ॥ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর শেখ হাসিনা প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটাতে বাধ্য হবার পর আওয়ামী লীগ তাকে সভাপতি নির্বাচন করলে ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তাঁর বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের নেতারা গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী ও ড. আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এবং আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এনামুল হক শামীম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে একে একে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতি লীগেরনেতা-কর্মীরা। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিকেলে আওয়ামী লীগ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে দেওয়া হয়নি। তিনি নির্বাসনে থাকা অবস্থায়ই আওয়ামী লীগ তাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। শেখ হাসিনাকে সেদিন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা সঠিক ছিল। সেদিন আওয়ামী লীগ যে কারণেই সভাপতি নির্বাচিত করুক না কেনো, আজ সেটা সঠিক প্রমাণ হয়েছে। আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ আজ আত্মমর্যাদা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক, এটাই আজকের দিনের প্রত্যাশা। সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, শুধু পিতৃহত্যার বিচার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশে ফিরে এসে মানুষের ভোটের ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেননি, বাংলাদেশকে উন্নয়নের উৎকর্ষের দিকে নিয়ে গেছেন, মানুষের উন্নত জীবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আজ যারা কথায় কথায় আইনের শাসনের কথা বলেন, তাদের নেতা খুনি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দিয়ে আইনের শাসন ধ্বংস করেছিলেন। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাকিস্তানের এজেন্ট, পাকিস্তানের সহযোগী শক্তি বিএনপি-জামায়াত আবারও গণতন্ত্রের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অশুভ তৎপরতা চালিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধার সৃষ্টি করেছেন। এই অশুভ তৎপরতাকে প্রতিহত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো, এটাই আজকের দিনের প্রত্যয়। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা এদশের মানুষের সঙ্গে আছেন, থাকবেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ বদলে গেছে। শেখ হাসিনা মানে গণতন্ত্র, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি। এটাকে আরও গতিশীল করতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে তারা রেহাই পান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয় ছোঁয়া ভালবাসার জবাবে তিনি এদিন বলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসাবে, মেয়ে হিসাবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

আরো খবর...