বিদ্যুৎ বিল নিচ্ছে না আমলার সোনালী ব্যাংক, গ্রাহক ভোগান্তি চরমে!

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা সোনালী ব্যাংকে পল্লী বিদ্যুতের বিল নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রাহকরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। উপজেলার আমলা, সদরপুর, মালিহাদ, আবুরী, আশাননগর, মালিহাদ, গোয়াবাড়ীয়া, সদরপুর বাগানপাড়া, হিদিরামপুর, বড়বাড়ীয়া, আজমপুর, নওদা আজমপুর, শিতলপাড়া, খয়েরপুর, নিমতলা কাতলামারী, দৌলতপুর উপজেলার আংদিয়া, ছাতারপাড়া, পাককোলা, বিলআমলা, লক্ষ্মিপুর, গাছেরদাইড়সহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের বিদ্যুতের গ্রাহকরা এই আমলা সোনালী ব্যাংকে বিল জমা দিতো। তবে সোনালী ব্যাংকের সাথে পল্লী বিদ্যুতের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। এতে বিদ্যুতের গ্রাহকদের বিল জমা দিতে যেতে হচ্ছে মিরপুর পল্লী বিদ্যুত অফিসে অথবা অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টে কাছে। এতে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে তেমনি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। সেই সাথে মোবাইল ব্যাংকিং এবং আমলায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং এর একটি শাখা রয়েছে। এতে ভোগান্তি রয়েছে। বিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা দিয়েও সেই বিলে আবার বকেয়া হিসাবে বিল যোগ করে দিচ্ছে পরের বিলে। এতে ভোগান্তি আরো চরমে। বিদ্যুৎ বিল দিতে আসা গ্রাহক হাবিবুর রহমান, রাকিবুল ইসলাম, জনিসহ অনেকে জানান, পল্লী বিদু্যুতের বিল ও বকেয়া বিল প্রদানে কঠোর নিয়ম-কানুন জারি করার কারণে হাজারো ভোগান্তি উপেক্ষা করে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে মিরপুরে যেয়ে  নির্ধারিত সময়েই বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। যদি ৫০ টাকাও বিল হয় আর কোন কারণে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা না হয় তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এরপর পুনরায় সংযোগ নিতে গেলে অতিরিক্ত টাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে বাধ্য হয়ে ৫০ টাকার বিল পরিশোধ করতে একশত থেকে দেড়শত টাকা ব্যয় করে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। হাবিবুর রহমান বলেন, বিশেষ করে বিল পরিশোধে শ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যান চালক ও মহিলারা  বেশি বেকায়দায় পরেছেন। দীর্ঘ লাইন ধরে অফিসে এসে বিল দিতে হচ্ছে। এতে করে বিল দিতে এসে দিনের বেশির ভাগ সময়ই নষ্ট হচ্ছে। এতে সব দিক দিয়েই চরম ক্ষতিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। তিনি আরো বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বিল দিলে সেটা আবার অনেক সময় অফিসে জমা না হয়ে পূণরায় বিলে যোগ হয়। আবার সেটাকে ঠিক করে আনতে মিরপুর পল্লী বিদ্যুত অফিসেই যেতে হয়।

আমলা সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আনিচুর রহমান জানান, পল্লী বিদ্যুতের সাথে সোনালী ব্যাংকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বিল নেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে এটা আবার চালু হওয়া না হওয়া নির্ভর করবে ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও পল্লী বিদ্যুতের পূনরায় চুক্তির মাধ্যমে। যতদিন চুক্তি না হয় ততদিন বিল নেওয়া হবে না। অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিং বা পল্লী বিদ্যুতের শাখা অফিসে বিল পরিশোধ করতে হবে। এদিকে উক্ত অঞ্চলের ভুক্তভূগি গ্রাহকরা অনতিবিলম্বে এসব গ্রাহক ভোগান্তি দুর করে পূণরায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করার জোর দাবী জানায়।

আরো খবর...