বিজেপিবিরোধী মহাজোট হচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটাভুটি হয়েছে গতকাল। এটি সামনে রেখে দেশটিতে বিজেপিবিরোধী মহাজোট সরকার গঠনের উদ্যোগ জোরাল হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু, বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতীসহ বেশকিছু বিরোধীদলীয় নেতা ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিজেপিবিরোধী জোট গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। ঐক্য গঠনের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পদে ছাড় দিতেও রাজি থাকার কথা বলেছে কংগ্রেস। দলের সিনিয়র নেতারা বলেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রধানমন্ত্রী পদ দাবি করব। তবে ঐক্যের প্রয়োজনে এতে ছাড় দিতে কোনো আপত্তি নেই। ২৩ মে নির্বাচনী ফল ঘোষণার আগে বিরোধী দলগুলোকে কাছে আনার চেষ্টা জোরাল করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নাইডু। এ লক্ষ্যে গত শুক্রবার মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে  বৈঠক করেন তিনি। এদিকে এনডিটিভি জানায়, নাইডু গত ৮ মে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ২১ মে বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ডাকায় একমত পোষণ করেন। দক্ষিণ ভারতে সক্রিয় তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান নাইডু বলেন, গেরুয়া বিরোধী যেকোনো দলকেই বৃহত্তর জোটে স্বাগত জানানো হবে। গত শুক্রবার তিনি এমন ইঙ্গিতও দেন, প্রয়োজনে নিজেদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) সঙ্গেও জোট গঠন করবেন তিনি। নাইডু বলেন, সব দলকেই আমাদের বৃহত্তর জোটের অংশ হতে স্বাগত জানাব। তবে মহাজোট পরিকল্পনায় শরিক হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে টিআরএস। দলীয় প্রেসিডেন্ট চন্দ্রশেখর রাওয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আইনপ্রণেতা বিনোদ কুমার জানান, নির্বাচনের ফল পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করতে আগামী ২১ মে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য  বৈঠকের অংশ হবে না টিআরএস। বিনোদ কুমার বলেন, চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে কোনো বৈঠকের অংশ হতে পারব না আমরা। এদিকে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে রাজনৈতিক বিশে¬ষক দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী কংগ্রেসকে বাদ রেখে শুধু আঞ্চলিক দলগুলোর পক্ষে  জোট বেঁধেও অন্তত ২৭২ আসন নিয়ে সরকার গঠন যেমন কঠিন, তেমনই কংগ্রেস এবং তার ইউপিএ শরিকরা মিলে ২৭২ আসন জিতে সরকার গড়তে পারবে, তেমনটাও এখনই জোর দিয়ে বলা যায় না। এর আগে মমতার ডাকে ব্রিগেডে ২৩টি বিরোধী দলের সভায় যোগ দিয়েছে কংগ্রেস। তবু বলতেই হবে, যে সব রাজ্যে বিজেপির মোকাবেলায় কংগ্রেস প্রধান শক্তি, সেখানে তাদের এগিয়ে দিয়ে অন্যান্য রাজ্যে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলোকে প্রাধান্য দেয়ার তাত্ত্বিক ফর্মুলা সর্বত্র মসৃণভাবে কাজ করেনি। পশ্চিমবঙ্গে তো নয়ই, সবচেয়ে বেশি আসন যেখানে, সেই উত্তরপ্রদেশেও মায়াবতী-অখিলেশ জোটের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের লড়াই এড়ানো সম্ভব হয়নি।

আরো খবর...