বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় নয় সাম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্য হবে

॥ মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী ॥

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায়ই বলে থাকেন যে, বর্তমান স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে অচিরেই বিএনপির নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐক্য গঠিত হবে, সেই লক্ষ্যেই বিএনপি অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন নেতা ইদানীং প্রেসক্লাব কেন্দ্রিক অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় জাতীয় ঐক্য গঠনের জোর প্রচেষ্টার কথা বলছেন। উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আমরা টিভি সংবাদ শ্রোতা দর্শকরা তা শুনি এবং দেখিও। যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, সমর্থন করেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপিকে দেখতে চান তারা কে কীভাবে নেন জানি না। তবে তারা নিশ্চয়ই আশায় বুক বাঁধেন। তবে যারা রাজনীতির নানা মতাদর্শিক বিষয়-আশয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন তারা অট্টহাসি না দিলেও মুখে ফোকলা হাসি দিয়ে স্বগত উচ্চারণ করে হয়তো বলেন ‘ধরণী দ্বিধা হও’। ব্যারিস্টার মওদুদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম রাজনীতির মতাদর্শক জ্ঞান আমাদের অনেকের চাইতে ভালোই রাখেন। মওদুদ সাহেব গবেষক হিসেবে মন্দ নন, রাজনীতিবিদ হিসেবে উদারবাদী অবস্থান থেকে সত্তর দশকে সরে যাওয়ার পর বিএনপি-জাতীয় পার্টি বিএনপিতে তথা দক্ষিণ ঘরানার মতাদর্শেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। ফখরুল সাহেব মুসলিম লীগ থেকে ভাসানী ন্যাপের উগ্র হঠকারী বাম ঘরানা থেকে বিএনপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতেই নতুনভাবে ‘জীবন লাভের দীক্ষা’ নিয়েছেন। তারা উভয়েই রাজনীতির মতাদর্শিক দিকগুলো পড়াশোনা থেকেই জানেন। তবে দক্ষিণপন্থায় বিশ্বাসীরা নিজেদের কখনো রাজনৈতিকভাবে দক্ষিণপন্থার প্রদর্শন করতে চান না। নিজেদের উদারবাদী গণতান্ত্রিক শক্তি বলে দাবি করেন- যা ডাহা মিথ্যা কথা। অথচ কোনো উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলে নেতা কোনো দিনই বলতে শুনিনি যে তিনি বা তার দল রক্ষণশীল, ডানপন্থি মতাদর্শ বিশ্বাস করে। তাহলে বিএনপির নেতারা কেন নিজেদের আসল পরিচয় দিতে চান না? তারা কি জোর গলায় দাবি করতে পারবেন যে বিএনপি উদারতান্ত্রিক মতাদর্শে বিশ্বাসী দল? বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বীজ, গাছ, ডালপালা রয়েছে এমন রাজনীতি দেশে প্রবর্তন করে, দলের গঠনতন্ত্রেও এর নজির রয়েছে, ধর্মীয় বিভেদকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করে, জাতীয়তাবাদ নিয়ে সমতলে বাংলাদেশি নৃগোষ্ঠীর পার্বত্য অঞ্চলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলে, ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা পাল্টিয়ে যা করেছে তা গণতন্ত্রের মূল দর্শনেরই পরিপন্থী। দেশের অভ্যন্তরে বিএনপি ধর্মীয় বিভাজনের দৃশ্যত কৌশল, বাস্তবে নীতিরই পরিচর্যা করে থাকে। গণতন্ত্র চরিত্রগত এবং আদর্শগতভাবেই উদার এবং ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র সবার জন্যই সমান, বিশেষ কোনো ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। আমাদের দেশের নৃজাতি গোষ্ঠীকে বিএনপি কী দৃষ্টিতে দেখে তা তো সবারই জানা কথা, আবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কেমন আদরযতœ করে সেটি ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দেখিয়ে দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে জামায়াত-বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তখন সরকারি চাকরিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পদোন্নতি, চাকরি প্রাপ্তিতে বৈষম্যের দৃষ্টিতে দেখা- এটি কোনো গোপনীয় বিষয় ছিল না। এই ঢাকা শহরেই বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষককে চাকরি হারাতে হয়েছে তাদের ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে, প্রগতিশীল মতাদর্শের কারণে, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অঙ্গীকার প্রদর্শনের কারণে। বিএনপি দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করে। তবে সেই আদর্শ হচ্ছে ১৯৭১-এ মেজর জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সংবলিত। এর প্রমাণ ২০০১-২০০৬ সালের পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস পঠন-পাঠনের, ২০০৪ সালে জিয়ার নামে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জাল একটি ঘোষণাপত্র সৃজন করে। প্রমাণ দেখতে চান- ২০০৫ সালে ১৬ খন্ডের দলিলপত্রের ৩য় খন্ডের নতুন সংস্করণে প্রবেশ করুন, দেখবেন বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাপত্রটি নেই, মেজর জিয়ার নামে নতুন ঘোষণাপত্র শোভা পাচ্ছে, সেটিকে আবার জায়েজ করতে ড. এমাজউদ্দিন আহমেদরা এক পাতার ফিরিস্তি দিয়েছেন। এমন কাজটি নিশ্চয়ই কোনো উদার গণতান্ত্রিক শক্তি করবে না।

ইউরোপ অথবা উন্নত গণতান্ত্রিক দুনিয়ায় গণতন্ত্রে দুটো ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। এক. উদারবাদী, দুই. রক্ষণশীল। রক্ষণশীলরা উদারতাকে কিছুটা কম চর্চা করে, রক্ষণশীল মনোবৃত্তির অধিকারী হিসেবে পরিচিত। তবে গণতন্ত্রের মূল দর্শনের সঙ্গে তাদের অবস্থানে মৌলিক কোনো সাংঘর্ষিকতা খুব একটা থাকে না। তারপরও উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজে রক্ষণশীল গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচয়টি বদলে যাচ্ছে, উদারবাদী অনেক নেতাই এসব দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের শাসনামলে দেশ উল্টোপথে হাঁটেনি, বরং গণতন্ত্রের মূলধারাতেই গতিশীল থেকেছে। বেশ কিছু পাশ্চাত্য দেশে উদারবাদী গণতান্ত্রিক বনাম রক্ষণশীল গণতান্ত্রিক দলের আদর্শগত দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে, কোথাও কোথাও নেই বললেই চলে। জার্মানিতে খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক দলের শাসনামলে নীতি ও কৌশলে বড় ধরনের পার্থক্য নির্ণয় করা বেশ কঠিন।

অথচ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির আদর্শগত পার্থক্য আকাশ ও পাতালসম দূরত্ব। প্রথমটি গণতন্ত্রের উদারবাদী ভাবাদর্শে বিশ্বাসী, অসাম্প্রদায়িকতার রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অর্থাৎ বিএনপি আগা-গোড়াই সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী দল। দলটির অন্যান্য নীতি ও কৌশল আগেই উল্লেখ করেছি। দলটি এ পর্যন্ত জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক দলসমূহের সঙ্গে জোটবদ্ধ থেকেছে, ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে ‘দ্বিতীয় পাকিস্তান’ রাষ্ট্রের নীতি ও কৌশলই প্রয়োগ করেছে। বিএনপি নিজে আচারে ধর্মকর্মের সংগঠন নয়, কিন্তু ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহারকারী দল। ২০০১ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির তৎকালীন নেতা বি. চৌধুরী একটি ভিডিও অনুষ্ঠানে এক হাতে কুরআন, অন্য হাতে গীতা নিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে বলেছিলেন কুরআনকে ভোট দিতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে, নৌকায় ভোট দিলে গীতায় ভোট দেয়া হবে। এমন ফতুয়া প্রচার-প্রচারণা যে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে করা হয় সে দলের হাতে ধর্মের অপব্যবহারই হতে পারে, গণতন্ত্রকে শবযাত্রায় পাঠাতে হয়। ২০০১-এর নির্বাচনের পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত যে শাসন দেশকে উপহার দিয়েছিল তার সঙ্গে ধর্ম অথবা গণতন্ত্রের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক ছিল বলার কোনো সুযোগ রয়েছে কি? বি. চৌধুরীর নিজেরই জীবন কতখানি অনিরাপদ হয়ে উঠেছিল- তা নতুন করে তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই না। তবে তার মতো নেতা কতখানি রাজনীতির বিশ্লেষণ কতখানি বস্তুনিষ্ঠতা প্রদর্শন করতে পেরেছেন- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে।

বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকে গণতন্ত্রের মূলধারা থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আওয়ামী বিরোধিতা থেকেই জিয়াউর রহমান এ কাজটি করেছেন। অথচ তিনি যদি প্রকৃত গণতন্ত্রের আদর্শের দল হিসেবে বিএনপিকে গড়ে তুলতেন তাহলে আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপি, বিএনপির বিপরীতে আওয়ামী লীগকে পছন্দ করতে ক্ষমতায় বসাতে রাষ্ট্রের মৌলিক কোনো স্খলন ঘটত না, গণতন্ত্রের মহাসড়কেই জনগণ থাকতে পারত। মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে রাজনীতি করার পরিণতি খুবই বিপজ্জনক। আমাদের মতো শিক্ষা-সংস্কৃতিতে পিছিয়ে থাকা দেশে বেশির ভাগ মানুষই রাজনীতির যথাযথ পাঠ নেয়ার সুযোগ সাধারণভাবে পায় না। দলগুলো জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে না। ফলে রাজনীতির জটিল জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারণা অনেকেরই লাভ করার সুযোগ ঘটে না। সেখানে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হলে ধর্মবিশ্বাসী বেশির ভাগ মানুষই দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয় তা রাজনীতি সচেতন না হওয়ার সম্ভাবনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম না করে দুর্গমই করতে সহায়ক হতে বাধ্য। বিএনপিসহ ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দলগুলো গত ৪৫ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকে সেভাবেই দিকভ্রান্ত করেছে, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সে কারণে দর্শনগতভাবে দুটো পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভক্ত হয়ে গেছে। অনেকেই তা অজ্ঞাতসারে, না বুঝেই অবস্থান নিয়েছে। এখানে বিএনপির ‘কৃতিত্ব’ হচ্ছে দলটি বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশকে তাদের সাম্প্রদায়িক, রাজনীতির অনুসারী করতে পেরেছে। কিন্তু দেশের অপর একটি বড় অংশ মানুষ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির অপরিহার্যতা ও গুরুত্ব কমবেশি অনুধাবন করতে পেরে বিএনপি এবং এর জোট রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত হয় না। এটি লক্ষ করলেই বোঝা যায় রাজনীতি সচেতন, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী মানুষ বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষ ধারা এখন বাংলাদেশে সোজাসুজি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে- যেখানে রাষ্ট্র ও জাতি গঠনের মতাদর্শগত বিভাজন একেবারেই স্পষ্ট। বিএনপির অবস্থানও স্পষ্ট। আওয়ামী লীগসহ কিছু ছোট ছোট বাম দলের অবস্থানও স্পষ্ট। বিএনপি যতই জামায়াতকে তাদের নির্বাচনী বন্ধু দল বলে দাবি করুক, বাস্তবে দুই দলের অবস্থান দক্ষিণ তথা ডানপন্থায়। বিএনপি ডানের কিছুটা বামে অবস্থান করে সত্য, জামায়াত ডানের অংশে অবস্থান করে, বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই বিশ্বাসগত কারণে ডানপন্থার যে কোনো জায়গাতেই নড়াচড়া করে থাকেন। এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রবণতা নয়। ডানপন্থার ঝোঁক এককোণায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নড়বেচড়বে না, প্রয়োজনে চরম প্রতিক্রিয়াশীলতায় গড়াবে না- তা ভাবার কোনো কারণ নেই। ২০০১-২০০৬ সালে আওয়ামী লীগকে নির্মূল করতে, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে বিএনপি-জামায়াত চরম অবস্থান নিতেও দ্বিধা করেনি। এসব নিকট-ঐতিহাসিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করেই বিএনপি রাজনীতির মতাদর্শগত অবস্থান সম্পর্কে মনগড়া নয়, বরং সুস্পষ্ট মত দেয়া কোনো সচেতন মানুষের পক্ষে অসম্ভব নয়। বিএনপি ২০১১-২০১৫ সালে বাংলাদেশে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে কম চেষ্টা করেনি, ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহত করতেও দ্বিধা করেনি। উদ্দেশ্য ছিল ৬ জানুয়ারির পর দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে ক্ষমতায় এককভাবে আসার পথ করা। অতি ডান, অতি বাম আদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে এসব উল্লম্ফনবাদী চিন্তা-চেতনা থাকে- যা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। বিষয়গুলো সবার কাছে স্পষ্ট না হলেও সচেতন মানুষের কাছে স্পষ্ট। সে কারণেই ২০১৫ সাল থেকে বিএনপি সরকার বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলে আসলেও ২০ দলীয় জোটের বাইরে তেমন কেউ সাড়া দিচ্ছে না। বামরা আওয়ামী লীগকেই তাদের মিত্র মনে করে না, বিএনপিকে করার আশা করা কতটা সম্ভব তা বিএনপির নেতারা ও বামরা বলতে পারবেন। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পর্কে নানা সমালোচনা থাকলেও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার মিশনারি ভিশনারি নেতৃত্ব সচেতন মানুষদের অভিভূত করছে, এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। সে কারণে বিএনপির ডাকে সাড়া দেয়ার মতো কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি-জামায়াত মিলিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ২০১১-১৫ সালে যা করেছে তার চাইতে বেশি কিছু করার শক্তি এই দুই দলের আছে কিনা- সন্দেহ আছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে একাত্ম হয়ে কিছু করার বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির রাজনীতি, ২০০৬-০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বরূপ নির্বাচন সম্পন্ন করার নীল নকশার অভিজ্ঞতা খুব দূরের বিষয় নয়। সে কারণে আস্থার কোনো জায়গা বিএনপি-জামায়াত-২০ দলীয় জোট সৃষ্টি করতে পারছে। জাতীয় ঐক্যের জন্য যে ধরনের অভিন্ন কর্মসূচি, চিন্তা-ভাবনা ও দিকদর্শন থাকা প্রয়োজন তা ২০ দলীয় জোটের ধারেকাছেও নেই। সে কারণে জাতীয় ঐক্য গঠনের ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলকে বাদ দিলে জাতীয় ঐক্যের অর্ধেক অংশ থাকে না, বিএনপি-জামায়াত ২০ দলকে নিয়ে ঐক্যতো আগে থেকেই আছে। সেই ঐক্যের স্বরূপ আলোচিত হয়েছে, সেটি সাম্প্রদায়িক শক্তিসমূহের ঐক্য- যা তাদের রয়েছে। জাতীয় অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে, ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে এমন ঐক্য বাম, উদারবাদী মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী সংগঠন, গোষ্ঠী ও ব্যক্তি মানুষ সাড়া দেবে বলে মনে হয় না। বিএনপি সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে পরীক্ষিত শক্তি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের কাছে নয়। সে কারণেই বিএনপির ডাকে সাড়া মিলছে না, মেলার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

লেখক ঃ অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো খবর...